ডিএসই গেইনার বিশ্লেষণ, কোন খাতে বেশি লাভ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৫:১২:২৬
ডিএসই গেইনার বিশ্লেষণ, কোন খাতে বেশি লাভ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে দিনের লেনদেন শেষে শীর্ষ গেইনার তালিকায় বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারদরে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজারে ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইসের তুলনায় দেখা যায়, বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে, বিশেষ করে স্বল্পমূল্যের ও মাঝারি মূলধনী শেয়ারগুলোতে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে এসিএমই পিএলসি (ACMEPL), যার শেয়ারদর ৭.৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২১.২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। দিনভর লেনদেনে এই কোম্পানির শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ছিল ২১.৪ টাকা এবং সর্বনিম্ন ১৯.৪ টাকা, যা বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতিফলন।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস (SILVAPHL) ৬.৮০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে ১১ টাকায় লেনদেন শেষ করেছে। একইভাবে বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম (BDTHAI) প্রায় ৬.৪০ শতাংশ বেড়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এই দুটি কোম্পানির ক্ষেত্রে শিল্প ও উৎপাদন খাতের শেয়ারে পুনরায় আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

তালিকার পরবর্তী অবস্থানে থাকা ডিএসএসএল (DSSL), বিডি থাই ফুড (BDTHAIFOOD) এবং সালভো কেমিক্যাল (SALVO) যথাক্রমে ৫.৪৩ শতাংশ, ৪.৩৫ শতাংশ এবং ৪.২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি বিশেষ করে ফুড ও কেমিক্যাল সেক্টরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া ইস্টার্ন কেবলস (ECABLES), কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স (CLICL), জনতা ইন্স্যুরেন্স (JANATAINS) এবং টেকনো ড্রাগস (TECHNODRUG) তালিকার শেষদিকে থাকলেও ধারাবাহিকভাবে মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে ইতিবাচক প্রবণতা ধরে রেখেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের মূল্যবৃদ্ধি অনেক ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ প্রবণতা, ট্রেডিং কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং নির্দিষ্ট খাতে ইতিবাচক প্রত্যাশার ফল হতে পারে। বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যাল, কেমিক্যাল ও ইন্স্যুরেন্স খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার ফলে বাজারে একটি গতিশীলতা তৈরি হয়েছে।

তবে তারা সতর্ক করে বলেন, শুধুমাত্র দৈনিক মূল্যবৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কোম্পানির মৌলভিত্তি, আর্থিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

-রফিক


৩০ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৫:১৮:১৮
৩০ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখের লেনদেনে সামগ্রিকভাবে একটি নেতিবাচক প্রবণতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। দিনের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

দিনশেষে মোট ৩৯৩টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে অংশ নেয়, যার মধ্যে মাত্র ১১১টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ২৩১টির দর কমেছে এবং ৫১টি শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এই পরিসংখ্যান বাজারে বিক্রির চাপ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।ঢ়‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে এখানেও পতনের আধিক্য ছিল। ২০৫টি কোম্পানির মধ্যে ৪৭টির দর বেড়েছে, যেখানে ১২৯টির দর কমেছে।

‘বি’ ক্যাটাগরিতে কিছুটা ভারসাম্য দেখা গেলেও এখানেও পতনের প্রবণতা বিদ্যমান। ৭৯টি কোম্পানির মধ্যে ৩৩টির দর বেড়েছে এবং ৩৪টির দর কমেছে।

অন্যদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেতিবাচক প্রবণতা সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়েছে। এই ক্যাটাগরিতে ১০৯টি কোম্পানির মধ্যে ৬৮টির দর কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি এড়িয়ে চলার প্রবণতাকে নির্দেশ করে।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতেও উল্লেখযোগ্য দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। মোট ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে মাত্র ২টির দর বেড়েছে, যেখানে ২২টির দর কমেছে। এটি ফান্ডভিত্তিক বিনিয়োগে আস্থার ঘাটতির প্রতিফলন।

করপোরেট বন্ড খাতে খুব সীমিত লেনদেন হয়েছে, যেখানে ২টির মধ্যে ১টির দর বেড়েছে এবং ১টির কমেছে। অন্যদিকে সরকারি সিকিউরিটিজ খাতে লেনদেন হওয়া ৪টির সবগুলোরই দর কমেছে।

দিনের লেনদেনে মোট ২ লাখের বেশি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে মোট শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ৪৪ লাখ ইউনিট। আর্থিক মূল্যমানের দিক থেকে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৬৬৩৮ কোটি টাকা, যা বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিলেও প্রবণতা ছিল নেতিবাচক।

বাজার মূলধনও কিছুটা কমে এসেছে। দিনশেষে মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.৯১ লাখ কোটি টাকায়, যা পূর্ববর্তী দিনের তুলনায় নিম্নমুখী প্রবণতা নির্দেশ করে।

ব্লক ট্রেডে বেশ কিছু বড় কোম্পানির উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ দেখা গেছে। এর মধ্যে ওরিয়ন ইনফিউশন, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, গিকিউ বলপেন, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, এবং লাভেলো আইসক্রিম উল্লেখযোগ্য।

বিশেষ করে ওরিয়ন ইনফিউশনের ব্লক ট্রেডের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ছিল, যা বড় বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। একইসঙ্গে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লেনদেন হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে স্বল্পমেয়াদি মুনাফা উত্তোলন, তারল্য সংকট, এবং আর্থিক খাতের দুর্বল পারফরম্যান্স।

এছাড়া বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়িয়ে চলার প্রবণতা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তাও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নীতিনির্ধারণী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সার্বিকভাবে, ৩০ মার্চের ডিএসই লেনদেন বাজারে চাপপূর্ণ পরিবেশের প্রতিফলন, যেখানে গেইনারের তুলনায় লুজারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যদিও লেনদেনের পরিমাণ সন্তোষজনক, তবে বাজারের দিকনির্দেশ এখনো অনিশ্চিত এবং সতর্ক বিনিয়োগ কৌশল গ্রহণই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

-রাফসান


৩০ মার্চ ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৫:১৩:১৬
৩০ মার্চ ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখের লেনদেনে শীর্ষ দরপতনের তালিকা বিশ্লেষণ করলে বাজারে একটি সুস্পষ্ট নেতিবাচক প্রবণতা প্রতিফলিত হয়েছে। দিনের লেনদেনে বিশেষ করে আর্থিক ও নন-ব্যাংকিং খাতের শেয়ারগুলোতে ব্যাপক বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

সমাপনী মূল্য ও আগের দিনের সমাপনী মূল্য তুলনায় তালিকার শীর্ষে রয়েছে প্রাইম ফাইন্যান্স (PRIMEFIN), যার শেয়ারদর প্রায় ৯.২৬ শতাংশ কমে ৪.৯ টাকায় নেমে এসেছে। এটি দিনের সর্বোচ্চ দরপতন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এফএএস ফাইন্যান্স (FASFIN) প্রায় ৮.৫৭ শতাংশ দর হারিয়েছে। একইভাবে ফেয়ারইস্ট ফাইন্যান্স (FAREASTFIN) এবং পিএলএফএসএল (PLFSL) উভয়ই প্রায় ৮.৩৩ শতাংশ করে পতনের মুখে পড়েছে, যা আর্থিক খাতে একযোগে চাপের ইঙ্গিত দেয়।

তালিকার পঞ্চম স্থানে থাকা বিআইএফসি (BIFC) প্রায় ৮.০৬ শতাংশ দরপতন করেছে, যা দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল পারফরম্যান্স করা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার প্রতিফলন হতে পারে।

এছাড়া আইএলএফএসএল (ILFSL) প্রায় ৭.৮৯ শতাংশ এবং প্রিমিয়ার লিজিং (PREMIERLEA) প্রায় ৭.৬৯ শতাংশ দর হারিয়েছে, যা নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক দুর্বল অবস্থানকে সামনে নিয়ে আসে।

টেক্সটাইল খাতেও পতনের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। ফ্যামিলি টেক্স (FAMILYTEX) এবং রিং শাইন (RINGSHINE) উভয় কোম্পানির শেয়ারদর প্রায় ৭.৫ শতাংশ কমেছে, যা শিল্প খাতেও নেতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে বে লিজিং (BAYLEASING) প্রায় ৭.১৪ শতাংশ দরপতন করে তালিকার শেষ স্থানে রয়েছে, যা লিজিং খাতের ওপর বিক্রির চাপকে নির্দেশ করে।

বিশ্লেষকদের মতে, টপ লুজার তালিকায় আর্থিক ও লিজিং খাতের আধিপত্য বাজারে একটি কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে নন-ব্যাংকিং ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনগুলোর ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি এই পতনের প্রধান কারণ হতে পারে।

একইসঙ্গে স্বল্পমূল্যের শেয়ারে দ্রুত মুনাফা উত্তোলনের প্রবণতা এবং বাজারে তারল্য সংকটও দরপতনের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের ধারাবাহিক পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মৌলভিত্তি শক্তিশালী কোম্পানি নির্বাচন এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সার্বিকভাবে, দিনের লেনদেনে ডিএসইতে দরপতনের আধিক্য বাজারে একটি চাপপূর্ণ পরিবেশের প্রতিফলন, যা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

-রাফসান


৩০ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৪:৪২:২৭
৩০ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখের লেনদেনে শীর্ষ গেইনার তালিকা বিশ্লেষণ করলে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতার একটি সুস্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে। দিনের লেনদেনে বিভিন্ন খাতের শেয়ারে উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সমাপনী মূল্য ও আগের দিনের সমাপনী মূল্য তুলনায় তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে হাক্কানিপুল (HAKKANIPUL), যার শেয়ারদর প্রায় ৯.৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৮.৬ টাকায় পৌঁছেছে। শিল্প খাতভিত্তিক এই কোম্পানির উত্থান বাজারে শক্তিশালী চাহিদার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইনটেক (INTECH) প্রায় ৯.৪১ শতাংশ দরবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড (IFIC1STMF) প্রায় ৭.৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে, যা ফান্ডভিত্তিক বিনিয়োগে আস্থার পুনরুজ্জীবন নির্দেশ করে।

শিল্প ও উৎপাদন খাতের আইএসএন লিমিটেড (ISNLTD) এবং এপেক্স ট্যানারি (APEXTANRY) যথাক্রমে প্রায় ৫.৯৪ শতাংশ ও ৫.৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ইপিজিএল (EPGL)-এর শেয়ারদরও প্রায় ৫.৩৯ শতাংশ বেড়েছে, যা শিল্প খাতে বিস্তৃত অংশগ্রহণের প্রতিফলন।

ইন্স্যুরেন্স খাতে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স (SUNLIFEINS) প্রায় ৫.৩৪ শতাংশ দরবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা আর্থিক খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির একটি সূচক।

এছাড়া কপারটেক (COPPERTECH) এবং ডিএসএসএল (DSSL) উভয় কোম্পানির শেয়ারদর প্রায় ৪.৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্বল্পমূল্যের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে এশিয়াটিক ল্যাব (ASIATICLAB) প্রায় ৪.১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে তালিকার দশম স্থানে অবস্থান করছে, যা স্বাস্থ্যসেবা খাতে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির প্রতিফলন।

বিশ্লেষকদের মতে, টপ গেইনার তালিকায় শিল্প, প্রযুক্তি, ইন্স্যুরেন্স এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের সম্মিলিত উপস্থিতি বাজারে একটি বৈচিত্র্যময় ও গতিশীল বিনিয়োগ প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, স্বল্প সময়ের এই ধরনের দরবৃদ্ধির পেছনে অনেক ক্ষেত্রে স্পেকুলেটিভ ট্রেডিং কাজ করতে পারে। ফলে বিনিয়োগের আগে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আর্থিক স্থিতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।

সার্বিকভাবে, দিনের লেনদেনে ডিএসইতে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেলেও এর স্থায়িত্ব নির্ভর করবে বাজারের আস্থা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর।

-রাফসান


২৯ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১৫:১৫:২৮
২৯ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখের লেনদেন বিশ্লেষণ করলে বাজারে স্পষ্ট নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনের লেনদেনে অধিকাংশ শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় সামগ্রিক বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দিনের লেনদেনে মোট ৩৯৪টি কোম্পানি অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে মাত্র ১১৪টির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে ২৫০টি কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩০টি। এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায় যে বাজারে বিক্রির চাপ প্রাধান্য পেয়েছে।

বিশেষ করে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোতে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। এই ক্যাটাগরিতে ২০৬টি কোম্পানির মধ্যে ১৫৩টির শেয়ারদর কমেছে, যা বড় মূলধনী ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর ওপর চাপের ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে তুলনামূলকভাবে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে, যেখানে ৪০টি কোম্পানির দর বেড়েছে এবং ৩৪টি কমেছে। তবে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে আবারও নেতিবাচক প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে, যেখানে ৬৩টি কোম্পানির দরপতন হয়েছে।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা অনুপস্থিত ছিল। ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ১৬টির দর কমেছে, যা ফান্ডভিত্তিক বিনিয়োগে আস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত বহন করে। একইভাবে করপোরেট বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজ খাতেও উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায়নি।

লেনদেনের পরিমাণের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাজারে মোট ১ লাখ ৯৮ হাজারের বেশি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে। মোট শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩১ কোটি শেয়ার এবং লেনদেনের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকায়, যা বাজারে তারল্যের উপস্থিতি নির্দেশ করে।

তবে লেনদেনের পরিমাণ বেশি হলেও দরপতনের আধিক্য বাজারের ভেতরে একটি চাপপূর্ণ পরিবেশের প্রতিফলন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি সাধারণত বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি, মুনাফা উত্তোলনের প্রবণতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে তৈরি হয়।

বাজার মূলধনের দিক থেকে দেখা যায়, মোট মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন প্রায় ৬.৯৪ ট্রিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে ইকুইটি, মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং ঋণ সিকিউরিটিজ মিলিয়ে একটি বড় আকারের বাজার কাঠামো বিদ্যমান রয়েছে।

দিনের লেনদেনে ব্লক ট্রানজ্যাকশনেও উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেছে। মোট ৪৪টি কোম্পানির শেয়ারে ব্লক লেনদেন হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩২৩ কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ALARABANK, SAPORTL, GQBALLPEN এবং ASIATICLAB-এর মতো শেয়ারে বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লক ট্রানজ্যাকশনে বড় লেনদেন সাধারণত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ নির্দেশ করে, যা বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ইঙ্গিত দিতে পারে।

তবে সামগ্রিকভাবে বাজারে দরপতনের আধিক্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের উচিত বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি মূল্যায়ন করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং মৌলভিত্তি শক্তিশালী কোম্পানিগুলোর ওপর নজর রাখা।

-রাফসান


২৯ মার্চ ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১৫:০৯:০৩
২৯ মার্চ ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখের লেনদেনে শীর্ষ দরপতনের তালিকা বিশ্লেষণ করলে বাজারে একটি আংশিক নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনের লেনদেনে একাধিক খাতের শেয়ার দর কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সমাপনী মূল্য এবং আগের দিনের সমাপনী মূল্য (YCP) তুলনায় দেখা যায়, তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে PRIMETEX, যার শেয়ারদর প্রায় ৬.৮৬ শতাংশ কমে ১৯.০ টাকায় নেমে এসেছে। টেক্সটাইল খাতের এই পতন সংশ্লিষ্ট খাতে স্বল্পমেয়াদি চাপের ইঙ্গিত বহন করছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে SEAPEARL, যার শেয়ারদর প্রায় ৫.১৫ শতাংশ কমে ৩৮.৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতভিত্তিক এই কোম্পানির দরপতন বিনিয়োগকারীদের মুনাফা উত্তোলনের প্রবণতার প্রতিফলন হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

তৃতীয় স্থানে থাকা ORIONINFU-এর শেয়ারদর প্রায় ৪.৬২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা উচ্চমূল্যের শেয়ারে বিক্রির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতেও দরপতনের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। ICBAGRANI1, ICBSONALI1 এবং DBH1STMF যথাক্রমে প্রায় ৪.৩৫ শতাংশ, ৪ শতাংশ এবং ৩.৮৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা ফান্ডভিত্তিক বিনিয়োগে সাময়িক অনিশ্চয়তার প্রতিফলন।

ফিন্যান্স খাতের কোম্পানি PHOENIXFIN প্রায় ৪.২৬ শতাংশ দর হারিয়েছে, অন্যদিকে ACTIVEFINE-এর শেয়ারদর প্রায় ৩.৯০ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে শিল্প খাতের AIL এবং ব্যাংক খাতের PREMIERBAN-ও উল্লেখযোগ্য দরপতনের তালিকায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, টপ লুজার তালিকায় বিভিন্ন খাতের উপস্থিতি বাজারে একটি মিশ্র কিন্তু চাপযুক্ত প্রবণতা নির্দেশ করে। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিক্রির চাপ বৃদ্ধির ফলে এই পতন দেখা যেতে পারে।

এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা, বাজারে তারল্য সংকট এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানও দরপতনের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

-রাফসান


২৯ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১৫:০৫:৪৫
২৯ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখের লেনদেনে শীর্ষ গেইনার তালিকা বিশ্লেষণ করলে বাজারে একটি স্পষ্ট ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিনের লেনদেনে একাধিক খাতে শেয়ারের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।

সমাপনী মূল্য এবং আগের দিনের সমাপনী মূল্য (YCP) তুলনায় দেখা যায়, তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে BDAUTOCA, যার শেয়ারদর প্রায় ৯.৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৮৫.১ টাকায় পৌঁছেছে। এটি মূলত অটোমোবাইল সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে BDTHAIFOOD, যার শেয়ারদর প্রায় ৯.৩০ শতাংশ বেড়ে ১৮.৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে। খাদ্যপ্রক্রিয়াজাত খাতে এই উত্থান ভোক্তা চাহিদা ও মৌসুমভিত্তিক বিনিয়োগ প্রবণতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তালিকার তৃতীয় অবস্থানে থাকা PHPMF1 প্রায় ৯.০৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মিউচ্যুয়াল ফান্ডভিত্তিক বিনিয়োগে আগ্রহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। একইভাবে IFIC1STMF, POPULAR1MF, EXIM1STMF এবং ABB1STMF-এর মতো একাধিক মিউচ্যুয়াল ফান্ডও উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখিয়েছে।

ফার্মাসিউটিক্যাল খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। TECHNODRUG প্রায় ৮.৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে অবস্থান করেছে। পাশাপাশি ACMEPL-ও প্রায় ৫.৭৩ শতাংশ দরবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন।

তথ্যপ্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান DAFODILCOM প্রায় ৭.৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে তালিকার অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে। এই প্রবৃদ্ধি প্রযুক্তিনির্ভর খাতে দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে নির্দেশ করে।

বিশ্লেষকদের মতে, টপ গেইনার তালিকায় স্বল্পমূল্যের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আধিপত্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার প্রবণতা নির্দেশ করছে। অনেক ক্ষেত্রে এই ধরনের উত্থান স্বল্পমেয়াদি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে স্পেকুলেটিভ ট্রেডিংয়ের ফল হতে পারে।

একই সঙ্গে খাতভিত্তিক বৈচিত্র্য অটোমোবাইল, খাদ্য, ফার্মা, প্রযুক্তি এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ড বাজারে একটি বিস্তৃত অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়, যা সামগ্রিকভাবে বাজারের গতিশীলতাকে শক্তিশালী করছে।

তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত দরবৃদ্ধির পেছনে মৌলভিত্তি নয় বরং অস্থায়ী বিনিয়োগ প্রবণতা কাজ করতে পারে। তাই বিনিয়োগের আগে কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি, আয়, প্রবৃদ্ধি এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি।

-রাফসান


পেনি স্টকের দরপতনে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা

আরিফুল ইসলাম
আরিফুল ইসলাম
ডেস্ক রিপোর্টার (শেয়ার বাজার)
শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১৬:৪৪:০৫
পেনি স্টকের দরপতনে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ ২৫ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সূচকের ইতিবাচক উত্থান এবং লেনদেনের গতি বাড়লেও কিছু নির্দিষ্ট স্বল্প মূলধনী ও লোকসানি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন পরিলক্ষিত হয়েছে। দিনের লেনদেন শেষে সমাপনী মূল্যের (Closing Price) ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ দর হারানো প্রতিষ্ঠানের তালিকায় প্রথমেই উঠে এসেছে জেনেক্সট (GENNEXT); প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর গতকালের তুলনায় ৯.৩০% হ্রাস পেয়ে ৩.৯ টাকায় স্থির হয়েছে। এর পরেই যৌথভাবে অবস্থান করছে অ্যাপোলো ইস্পাত (APOLOISPAT) এবং সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল (CNATEX), যাদের উভয় প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দরই ৮.৮৯% কমেছে। এছাড়া তুং হাই, নিউ লাইন এবং ফ্যামিলি টেক্সটাইল ৭ শতাংশের বেশি দর হারিয়ে বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। মূলত বিনিয়োগকারীরা পেনি স্টক বা লোকসানি প্রতিষ্ঠান থেকে মূলধন সরিয়ে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগ করায় এই সংশোধন প্রক্রিয়া দেখা দিয়েছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

দিনের শুরুতে ওপেনিং প্রাইস এবং দিনের শেষে সর্বশেষ লেনদেন হওয়া মূল্যের (LTP) বিচ্যুতির দিক থেকেও সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল (CNATEX) সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে, যার বিচ্যুতি ছিল ১৬.৩২%। ৪.৯ টাকায় দিনের লেনদেন শুরু করলেও দিনশেষে এটি ৪.১ টাকায় নেমে আসে। এছাড়া ফ্যামিলি টেক্স ৯.৫২% এবং জেনেক্সট ৯.৩০% নেতিবাচক বিচ্যুতি প্রদর্শন করেছে। আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পিএলএফএসএল (PLFSL) এবং এফএএস ফিন্যান্স (FASFIN) যথাক্রমে ৫.৭১% ও ৫.৮৮% দর হারিয়েছে। বিমা খাতের মধ্যে প্রাইম লাইফ এবং পিএফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডও ৫ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে। বাজার মূলধনের দিক থেকে সূচক উর্ধ্বমুখী থাকলেও এসব ছোট শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহ বাজারের একটি 'সিলেক্টিভ মুভমেন্ট'কে নির্দেশ করছে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা এখন অনেক বেশি সচেতন ও বিশ্লেষণধর্মী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং দুর্বল শেয়ার থেকে মূলধন নিরাপদ করার চেষ্টা করছেন।


স্বল্পমূল্যের শেয়ারে হঠাৎ উল্লম্ফন: ডিএসইর টপ গেইনার তালিকায় কী বার্তা দিচ্ছে বাজার?

আরিফুল ইসলাম
আরিফুল ইসলাম
ডেস্ক রিপোর্টার (শেয়ার বাজার)
শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১৫:৪২:৩৪
স্বল্পমূল্যের শেয়ারে হঠাৎ উল্লম্ফন: ডিএসইর টপ গেইনার তালিকায় কী বার্তা দিচ্ছে বাজার?

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখের লেনদেনে শীর্ষ গেইনার তালিকা বিশ্লেষণ করলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে—স্বল্পমূল্যের মিউচ্যুয়াল ফান্ডভিত্তিক সিকিউরিটিজের ওপর বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইস (YCP) তুলনায় দেখা যায়, EBLNRBMF, PHPMF1 এবং POPULAR1MF প্রত্যেকটি ১০ শতাংশ করে মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। এই ধরনের সমন্বিত মূল্যবৃদ্ধি সাধারণত বাজারে স্পেকুলেটিভ ট্রেডিং বা স্বল্পমেয়াদি মুনাফা-কেন্দ্রিক বিনিয়োগ প্রবণতার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়, বিশেষ করে যখন সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজগুলোর মৌলভিত্তিক শক্তি সীমিত থাকে।

তালিকার চতুর্থ অবস্থানে থাকা BDTHAI শেয়ারটি আলাদা গুরুত্ব দাবি করে, কারণ এটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বাইরে একটি উৎপাদনভিত্তিক কোম্পানি হিসেবে ৯.৭৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে বাজারে কিছু নির্দিষ্ট কোম্পানিকে কেন্দ্র করে সেক্টরাল আগ্রহও তৈরি হচ্ছে। একইভাবে ১JANATAMF, EXIM1STMF, FBFIF এবং TRUSTB1MF প্রায় ৯.৬৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে দেখিয়েছে যে, ফান্ডভিত্তিক সিকিউরিটিজে একটি সমন্বিত বুলিশ প্রবণতা কাজ করছে। ABB1STMF ও IFIC1STMF-এর মতো ফান্ডগুলোও ৯ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা বাজারে স্বল্পমূল্যের ইউনিটগুলোর ওপর উচ্চ লেনদেনচাপের প্রতিফলন।

অন্যদিকে ওপেনিং প্রাইস ও লাস্ট ট্রেডেড প্রাইস (LTP) বিবেচনায় গেইনার তালিকা বিশ্লেষণ করলে বাজারের অন্তর্নিহিত গতিশীলতা আরও স্পষ্ট হয়। এখানে BDTHAI পুনরায় শীর্ষে উঠে এসেছে, যা নির্দেশ করে যে শেয়ারটি কেবল ক্লোজিং প্রাইস নয়, ইনট্রাডে ট্রেডিংয়েও শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। পাশাপাশি ASIAINS, ASIAPACINS এবং SUNLIFEINS-এর মতো বীমা খাতের শেয়ারগুলোর উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি বাজারে সেক্টরাল রোটেশনের একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত দেয়, যেখানে বিনিয়োগকারীরা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের পাশাপাশি বীমা খাতেও অবস্থান নিচ্ছেন।

FBFIF, GHAIL, TILIL, MEGHNAINS, NRBCBANK এবং CLICL-এর মতো শেয়ারগুলোর ৫ থেকে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে যে বাজারে একটি বিস্তৃত অংশগ্রহণমূলক প্রবণতা বিদ্যমান, যা কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি শেয়ারে সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষ করে ব্যাংক ও বীমা খাতের শেয়ারগুলোর উপস্থিতি বাজারে আংশিকভাবে ফান্ডামেন্টাল ও সেক্টরাল বিবেচনার প্রতিফলন হিসেবে দেখা যেতে পারে।

সমগ্র চিত্র বিশ্লেষণ করলে বলা যায়, বর্তমান বাজারে একদিকে স্বল্পমূল্যের মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটকে কেন্দ্র করে স্পেকুলেটিভ ট্রেডিং বাড়ছে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট কিছু সেক্টরে বিনিয়োগকারীদের কৌশলগত অবস্থান গ্রহণের প্রবণতাও দৃশ্যমান। এই দ্বৈত প্রবণতা স্বল্পমেয়াদে বাজারে তারল্য বৃদ্ধি ও লেনদেনের গতি বাড়াতে সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী মৌলভিত্তিক কোম্পানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো অপরিহার্য। অন্যথায় বাজারে অতিরিক্ত অস্থিরতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।


লেনদেন ছাড়াল ৬শ কোটি টাকা: উত্থানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ

আরিফুল ইসলাম
আরিফুল ইসলাম
ডেস্ক রিপোর্টার (শেয়ার বাজার)
শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১৫:১৫:৩৯
লেনদেন ছাড়াল ৬শ কোটি টাকা: উত্থানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ

আজকের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এক শক্তিশালী ইতিবাচক প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। সপ্তাহের এই কার্যদিবসে বাজারের সামগ্রিক লেনদেনে ক্রেতাদের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। ডিএসইতে আজ মোট ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেনে অংশ নেয়, যার মধ্যে বড় ব্যবধানে ২৪১টি প্রতিষ্ঠানের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে দর হারিয়েছে ১০২টি প্রতিষ্ঠান এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৭টি স্ক্রিপ্টের মূল্য। আজকের বাজারে লেনদেনের মোট আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০৩.৮১ কোটি টাকা (৬,০৩৮.১৫ মিলিয়ন টাকা), যেখানে মোট ১৮৪,২৪০টি ট্রেডের মাধ্যমে প্রায় ৩৫.৯৯ কোটি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

বাজারের গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায়, আজ 'এ' ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক ঝোঁক ছিল। এই ক্যাটাগরির ২০২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪২টি বা প্রায় ৭০ শতাংশেরই দর বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারের স্থিতিশীলতার একটি ইতিবাচক সংকেত। অন্যদিকে, 'বি' ক্যাটাগরিতেও ৬০টি প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে। তবে তুলনামূলক দুর্বল মৌলভিত্তির 'জেড' ক্যাটাগরিতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে; এখানে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের দর বাড়লেও ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের দর পতন ঘটেছে। এটি নির্দেশ করে যে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন মানসম্পন্ন ও লভ্যাংশ প্রদানকারী শেয়ারের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও আজ চাঙ্গাভাব ছিল, যেখানে ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ১৯টিরই ইউনিট দর বেড়েছে।

ব্লক মার্কেটের লেনদেন আজ ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মোট ২১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে, যার মোট আর্থিক মূল্য ছিল ২৪৪.৫৩৮ মিলিয়ন টাকা। এর মধ্যে এশিয়াটিক ল্যাব (Asiatic Lab) সর্বোচ্চ ৭২.৪২ মিলিয়ন টাকার লেনদেন সম্পন্ন করে শীর্ষে অবস্থান করছে। এছাড়া ওরিয়ন ইনফিউশন (Orion Infusion) এবং সিএলআইসিএল (CLICL) যথাক্রমে ৩৯.৬৯ মিলিয়ন এবং ৩৪.৯২ মিলিয়ন টাকার লেনদেন করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছে। সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং ফাইন ফুডস-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ব্লক মার্কেটে বড় অংকের হাতবদল লক্ষ্য করা গেছে।

দিনশেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬,৯৮১,৭২৪.৬৪ মিলিয়ন টাকা। এর মধ্যে ইক্যুইটি খাতের অবদান ৩,৪২১,১১৭.৫৭ মিলিয়ন টাকা এবং ডেট সিকিউরিটিজ বা ঋণপত্রের অবদান ৩,৫৩৪,০৪৭.৮১ মিলিয়ন টাকা। মূলত বড় মূলধনী শেয়ারগুলোর দর বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজার মূলধনে এই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। উল্লেখ্য যে, আজকের এই মূল্য পরিবর্তন সমাপনী মূল্যের (Closing Price) ভিত্তিতে নির্ণয় করা হয়েছে, যা লেনদেনের শেষ ৩০ মিনিটের গড় মূল্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত।

পাঠকের মতামত: