ইসরায়েলের আকাশ এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণে? যুদ্ধবিরতিতে ৬ কঠিন শর্ত তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধের জন্য কঠোর ছয় দফা পূর্বশর্ত দিয়েছে ইরান। রোববার (২২ মার্চ ২০২৬) মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই প্রধান শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়।
তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং বহুমুখী প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে, যা কয়েক মাস আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল। বর্তমানে উচ্চমাত্রার ‘কৌশলগত ধৈর্য’ নিয়ে তারা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে এবং লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা এবং রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করার পর এখন ইসরায়েলের আকাশসীমায় ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছে ইরান। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, আগ্রাসনকারীদের শাস্তি দেওয়ার নীতি ততক্ষণ চলবে, যতক্ষণ না ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির দাঁতভাঙা জবাব এবং তাদের একটি ‘ঐতিহাসিক শিক্ষা’ দেওয়া যায়। বিভিন্ন আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব পাঠালেও ইরান তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
ইরানের দেওয়া ছয় দফা প্রধান শর্তসমূহ
১. ভবিষ্যতে যেন পুনরায় কোনো যুদ্ধ না বাধে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা প্রদান।
২. মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থায়ীভাবে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে বন্ধ করা।
৩. চলমান যুদ্ধের ফলে ইরানের যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৪. পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সব ধরনের যুদ্ধ ও বৈরী সামরিক তৎপরতা চিরতরে বন্ধ করা।
৫. কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি নতুন আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো তৈরি করা।
৬. ইরানবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করা এবং তাদের ইরানের হাতে প্রত্যর্পণ করা।
ইরান সরকার মনে করছে, এই শর্তগুলো একটি নতুন আইনি ও কৌশলগত কাঠামোর অংশ, যা দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের মতো শর্তগুলো ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের জন্য মেনে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। বেলারুশের প্রেসিডেন্টের মতো মিত্র দেশগুলো ইরানের বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও, তেহরানের এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র: মেহের নিউজ
ইরান চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তোপ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বহু দশকের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক নতুন এক পরীক্ষার মুখে পড়েছে। ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নজিরবিহীন মতপার্থক্য প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বিশেষ করে ইসরাইলি রাজনৈতিক মহল, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত একাধিক সম্পাদকীয়তে ট্রাম্পকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি ইসরাইলকে তার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি একা ফেলে দিয়েছেন এবং যুদ্ধের মাঝপথে অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।
দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী দৈনিক ইসরাইল হায়োম ট্রাম্পের সমালোচনায় অত্যন্ত কড়া ভাষা ব্যবহার করেছে। পত্রিকাটির এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন এবং এমন একটি সমঝোতায় গিয়েছেন, যা ইসরাইলের নিরাপত্তা উদ্বেগকে উপেক্ষা করেছে।
ওই সম্পাদকীয়তে আরও দাবি করা হয়, এই সমঝোতা একটি নতুন আঞ্চলিক সংকটের বীজ বপন করেছে এবং এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হলো ‘বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি’। দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে দেখে আসা ইসরাইলি জনগণের একাংশ এখন সেই অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদদের মতে, কিছুদিন আগেও ট্রাম্প ইসরাইলের অন্যতম জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তবে ইরান চুক্তির পর তার জনপ্রিয়তায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বর্তমান সংকট শুধু একটি চুক্তিকে কেন্দ্র করে নয়; বরং এটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে দেশটির প্রধান মিত্র হিসেবে কাজ করেছে। সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তায় ওয়াশিংটন সব সময়ই তেল আবিবের পাশে থেকেছে। তবে সাম্প্রতিক এই মতবিরোধকে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বড় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। পাশাপাশি হিজবুল্লাহসহ ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়েও তেল আবিবের উদ্বেগ রয়েছে।
কিন্তু নতুন সমঝোতার আওতায় যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এই অংশটিই সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে ফেলেছে ইসরাইলি নেতৃত্বকে।
সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১১ শতাংশ ইসরাইলি মনে করেন যে তারা এই সংঘাতে সফল হয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ৭১ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ভবিষ্যতে ইসরাইলের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারবে বলে তারা আর বিশ্বাস করেন না।
ইসরাইল সরকারের ভেতরেও মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি, তার মন্ত্রিসভার কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেছেন।
বিশেষ করে কট্টরপন্থি রাজনৈতিক নেতারা এই চুক্তিকে দুর্বল অবস্থান হিসেবে বর্ণনা করছেন। তাদের দাবি, এটি ভবিষ্যতে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনও ইসরাইলের এই প্রতিক্রিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, নেতানিয়াহু লেবানন ইস্যুতে ‘অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ’ হয়ে পড়েছেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সরাসরি ইসরাইলি নেতাদের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে থাকা ইসরাইলের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থানে থাকা একমাত্র বড় শক্তি এখনো যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র: আল-জাজিরা
‘হরমুজ বন্ধ হলে মাসের পর মাস তেল পেতাম না’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার পেছনে শুধু কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশ নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, যুদ্ধ অব্যাহত রাখার পরিবর্তে আলোচনার পথে এগোনো ছাড়া কার্যত তার সামনে আর কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প ছিল না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় নজিরবিহীন সংকট তৈরি হতে পারত। তিনি বলেন হরমুজ বন্ধ হলে মাসের পর মাস তেল পেতাম না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, টানা বোমাবর্ষণ চলতে থাকলে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ অচল করে দিতে পারত।
ট্রাম্প বলেন, সামরিক অভিযান আরও দীর্ঘ হলে ইরান পুরো জলপথে মাইন পেতে দিতে পারত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যেত। সেই পরিস্থিতিতে বিলিয়ন ডলার মূল্যের তেলবাহী জাহাজগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে পড়ত এবং কোনো কোম্পানিই সেখানে জাহাজ পরিচালনার সাহস দেখাত না।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে কয়েক মাস ধরে বৈশ্বিক বাজারে তেলের প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো। এতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের প্রায় সব বড় অর্থনীতিই বড় ধরনের সংকটে পড়ে যেত।
ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে যারা মত দিয়েছেন, তাদের উদ্দেশেও সরাসরি জবাব দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুদ্ধ আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ বাড়িয়ে বোমাবর্ষণ চালানো সম্ভব ছিল, কিন্তু তাতে বাস্তবিক কোনো সুফল মিলত না।
ট্রাম্পের মতে, সামরিক চাপ বাড়ালেও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব হতো না। বরং দীর্ঘ সময় ধরে এই জলপথ অচল থাকত এবং বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে পারত।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর অধিকাংশ রপ্তানি এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রণালি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত অস্বাভাবিক মাত্রায় পৌঁছে যেতে পারত। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্য, সার, পরিবহন ব্যয় এবং শিল্প উৎপাদনেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতো।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব জ্বালানি মজুদের অবস্থাও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র কিউশিংয়ে অপরিশোধিত তেলের মজুদ কমে ২ কোটি ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি।
শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুদও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এর পরিমাণ প্রায় ৩৪ কোটি ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, যা ইতিহাসের অন্যতম নিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
মার্কিন জ্বালানি খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও কয়েক সপ্তাহ ধরে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন। তাদের আশঙ্কা, জুনের শেষ ভাগ থেকে জুলাইয়ের শুরুতে তেলের মজুদ এমন পর্যায়ে নেমে যেতে পারে, যেখানে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়বে।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত অবস্থানেও পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। শুরুতে কঠোর সামরিক অবস্থানের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিতে হয়েছে ওয়াশিংটনকে।
তাদের মতে, বর্তমান সমঝোতা কেবল যুদ্ধবিরতির একটি পদক্ষেপ নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির নতুন বাস্তবতার প্রতিফলন।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আগামী ৬০ দিনের আলোচনা কতটা সফল হয় এবং ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হয়ে ওঠে কি না। কারণ এই জলপথের নিরাপত্তা এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
হরমুজে টোল নিলে যুক্তরাষ্ট্রই আদায় করবে: ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরান কোনোভাবেই এই কৌশলগত জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে টোল বা শুল্ক আদায় করতে পারবে না। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই নিরাপত্তা ব্যয়ের অংশ হিসেবে শুল্ক আরোপ করতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
শনিবার (২০ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই অবস্থান তুলে ধরেন। তার বক্তব্যের পরপরই সম্প্রতি স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্প তার পোস্টে বলেন, যুদ্ধবিরতির আওতায় নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল আরোপ করা যাবে না। শুধু তাই নয়, এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও ইরানের একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের সুযোগ থাকবে না।
তবে তিনি একই সঙ্গে নতুন একটি অবস্থান সামনে আনেন। তার দাবি, যদি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’ বা নিরাপত্তা রক্ষকের ভূমিকা পালন করে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সেই নিরাপত্তা ব্যয়ের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন নিজস্ব ব্যবস্থায় শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
ট্রাম্প আরও বলেন, যদি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনায় আনতে পারে। যদিও তিনি এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক কাঠামো তুলে ধরেননি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত চাপ সৃষ্টির অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে জাহাজ চলাচল সীমিত করার হুমকি দিয়ে তেহরান আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
পরবর্তীতে গত বুধবার স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি সমঝোতার আওতায় ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে দুই পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়। সেই সময় শর্ত ছিল, এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ইরান কোনো জাহাজের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবে না।
তবে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে যখন শনিবার ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড দাবি করে, সমঝোতা স্মারকের শর্ত ভঙ্গ হওয়ায় তারা আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সামরিক কমান্ড সেন্টকম (CENTCOM) দ্রুত এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং প্রায় ৩০ শতাংশ সার এই সামুদ্রিক পথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে থাকে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই রুটে সামান্য বিঘ্নও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। এর প্রভাব সরাসরি পরিবহন খরচ, খাদ্য উৎপাদন, শিল্প খাত এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর পড়তে পারে।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ হিসেবেই তারা নতুন অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই বৈঠকে অংশ নিতে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে থাকছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠকের ফলাফলই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন স্থিতিশীলতা আসবে, নাকি আবারও বড় ধরনের সংঘাতের দিকে এগোবে অঞ্চলটি।
-রাফসান
ডিজিটাল স্বাক্ষরের পর এবার মাঠপর্যায়ের নজরদারি, সুইজারল্যান্ড যাচ্ছে ইরানি প্রতিনিধিদল
সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সুইজারল্যান্ড সফরে যাচ্ছে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই সফরের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, "এই যাত্রার মূল লক্ষ্য হলো অপর পক্ষের (যুক্তরাষ্ট্র) প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি নিশ্চিত করা।" অতীতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এবার চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে ইরান তার দাবির বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ও দৃঢ় অবস্থানে থাকবে।
বাঘাই আরও জানান, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রতিনিধিদলটির গতকালই সুইজারল্যান্ড যাওয়ার কথা ছিল। তবে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ডিজিটাল পদ্ধতিতে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে স্বাক্ষর করায় সেই মুহূর্তের বৈঠকটির প্রয়োজনীয়তা আর ছিল না। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে মূল আলোচনা শুরু করার আগে এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাস্তবায়ন করা জরুরি, যা বর্তমানে দৃশ্যমান নয়। এই সফরের মাধ্যমে ইরান অপর পক্ষকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য চাপ দেবে এবং তারা কীভাবে এগুলো কার্যকর করতে চায় সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করবে। চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হলে চূড়ান্ত সমঝোতার পথে এগোনো কঠিন হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান।
/আশিক
হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা ইরানের, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে চরম উত্তেজনা
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি জরুরি বিবৃতিতে সামরিক কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসন মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্প্রতি হওয়া দ্বিপাক্ষিক শান্তি চুক্তির চরম লঙ্ঘন। আর এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দাঁতভাঙা জবাব দিতেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ-পথটি অবরুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরানি সামরিক কমান্ড তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, "হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করা হলো। এটি শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিরুদ্ধে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ।" একই সাথে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ না হলে এবং শত্রুপক্ষ তাদের বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থ হলে আগামীতে আরও কঠোর ও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তেহরানের দাবি, লেবাননের সার্বভৌমত্বের ওপর ইসরায়েলের এই নগ্ন হামলা মূলত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সই হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতার মূল চেতনার পরিপন্থী। ইরান স্পষ্ট করে বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি মদদে কিংবা তাদের নীরব সম্মতি ও সবুজ সংকেত পেয়েই ইসরায়েল এই বেপরোয়া হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে এর দায় যুক্তরাষ্ট্রকেও নিতে হবে। ওল্ড ওয়ার্ল্ডের জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি বন্ধের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
/আশিক
ইরানকে ট্রাম্পের ৬০ দিনের আলটিমেটাম, চুক্তি না হলে ‘অসুখকর’ পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চূড়ান্ত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানকে নতুন করে আরও ৬০ দিনের কঠোর সময়সীমা (আলটিমেটাম) বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী ও সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলে ওয়াশিংটন এমন কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেবে, যা তেহরানের জন্য মোটেও সুখকর বা স্বস্তিদায়ক হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।
মার্কিন অঙ্গরাজ্য মেরিল্যান্ডের সামরিক ঘাঁটি ‘জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ’-এ কাতারের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে দেওয়া একটি অত্যাধুনিক বিমান উন্মোচনের বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম সামা টিভিসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তার তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
বক্তব্যের শুরুতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে যেকোনো আন্তর্জাতিক সংকটের ক্ষেত্রে সামরিক সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষপাতি। তবে ইরান যদি এই সুযোগের সঠিক ব্যবহার না করে এবং কূটনৈতিক আলোচনা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানকে সরাসরি সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, “আসন্ন ৬০ দিনের মধ্যে আমাদের অবশ্যই একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। অন্যথায়, আমরা এমন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হব—যা তাদের (তেহরানের) জন্য মোটেও ভালো লাগবে না।” তবে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়ানো এই সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি কিছুটা আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন। ট্রাম্প মনে করেন, দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত হয়তো সেই চরম ও অনাকাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যাবে না।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই প্রাথমিক সমঝোতাকে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী চুক্তিতে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা কারিগরি পর্যায়ের (Technical Level) গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দুই দেশের মধ্যে এই সংবেদনশীল ও কারিগরি আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কঠোর ও পরোক্ষ সামরিক হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে চাপ ও অস্থিরতা তৈরি করল।
/আশিক
তিব্বতে চীনের মেগা বাঁধ, নতুন দুশ্চিন্তায় ভারত
তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে চীন। অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিশাল প্রকল্পকে ঘিরে ভারতজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প নয়; বরং দক্ষিণ এশিয়ার জলনিরাপত্তা, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ ভূরাজনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের নির্মাণাধীন মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা হবে প্রায় ৬০ হাজার মেগাওয়াট, যা বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়বে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চীন শুধু জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে চায় না, বরং গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর ওপর নিজেদের কৌশলগত প্রভাবও আরও শক্তিশালী করতে চাইছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চীনের এই পদক্ষেপের জবাবে ভারত অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বাস্তবায়নের উদ্যোগ জোরদার করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এনএইচপির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপির সমান।
তবে দুই দেশের প্রকল্পের অগ্রগতির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। যেখানে চীনের মেডোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, সেখানে ভারতের প্রকল্প এখনও সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। এমনকি নির্মাণ-পূর্ব কার্যক্রমও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি।
ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতে প্রবেশের পর ‘সিয়াং’ নামে পরিচিত হয় এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নদে পরিণত হয়। এই নদী অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের লাখো মানুষের কৃষি, জীবিকা, পরিবেশ এবং অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে নদীর প্রবাহে যেকোনো পরিবর্তন বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এর প্রভাব কৃষিজমি, জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে হঠাৎ ও ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের সব ধরনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। লোকসভায় দেওয়া লিখিত জবাবে সরকার জানিয়েছে, নিম্ন অববাহিকার মানুষের জীবন, সম্পদ ও জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, তথ্য বিনিময় এবং আগাম পরামর্শের বিষয়ে বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তবে এ ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
-রাফসান
ইরান যুদ্ধে কৌশলগতভাবে পরাজিত ট্রাম্প: নিউইয়র্ক টাইমস
দীর্ঘ প্রায় চার মাসের সংঘাতের পর অবশেষে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুদ্ধবিরতির এই উদ্যোগকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও এর আড়ালে নতুন কিছু কৌশলগত বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই পরিবর্তন আনেনি, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকেও নতুন করে সাজিয়ে দিয়েছে।
যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক এই তিনটি ক্ষেত্রেই বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। ফলে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে ওয়াশিংটনকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সমালোচকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করা ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত। তাদের ভাষ্য, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং দ্রুত ফল পাওয়ার প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত সাফল্য এনে দিতে পারেনি।
যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্প প্রশাসন একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছিল যে, ইরানকে শর্তহীন আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা হবে। একই সঙ্গে দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা এবং রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তনের কথাও বলা হয়েছিল।
তবে যুদ্ধ শেষে দেখা যাচ্ছে, ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনও টিকে আছে এবং দেশটি আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এতে ওয়াশিংটনের পূর্বঘোষিত লক্ষ্যগুলোর বাস্তবতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু কঠোর শর্ত বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে অনেক বিশ্লেষক এটিকে পূর্ণ বিজয়ের পরিবর্তে একটি আপসনির্ভর সমঝোতা হিসেবে দেখছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামনের দুই মাসের আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠবে। অনেকেই মনে করছেন, আলোচনা শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির কাছাকাছি কোনো কাঠামোয় পৌঁছাতে পারে।
এ বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে কারণ ট্রাম্প ২০১৮ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার করা সেই চুক্তি বাতিল করেছিলেন। তখন তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল চুক্তিগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেছিলেন।
এখন সামরিক সংঘাতের পর প্রায় একই ধরনের সমঝোতার পথে হাঁটতে হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন মাত্রা পেয়েছে।
যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাকে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এটিকে নতুন কোনো অর্জন বলা যাবে না। বরং এটি যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার একটি প্রক্রিয়া মাত্র।
সংঘাতের সময় ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহার করে বিশ্ব অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় তেহরানের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।
চার মাসের সংঘাতে ইরানের সামরিক স্থাপনা, প্রতিরক্ষা অবকাঠামো এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। তবে রাজনৈতিকভাবে দেশটি ভেঙে পড়েনি। বরং অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, যুদ্ধ শেষে ইরান নতুন করে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ পেয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এখনও দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তারপরও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দর-কষাকষির সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে তেহরান।
একই সঙ্গে ইরান দেখিয়েছে, শক্তিশালী আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও তারা দীর্ঘ সময় টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে। এটিও দেশটির কৌশলগত অবস্থানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যকারিতা ও বৈশ্বিক প্রভাব নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল সামরিক শক্তি, উন্নত প্রযুক্তি ও অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের পরও ওয়াশিংটন প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেনি। ফলে বিশ্বের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোও এখন যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি সামরিক কৌশল ও প্রতিরক্ষা নীতিতেও পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হতে পারে।
যুদ্ধ শুরুর অনেক আগ থেকেই ইরান বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সংকটে ভুগছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ইসরায়েলের অভিযানে হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো ইরানপন্থি শক্তিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।
এছাড়া সিরিয়ায় ইরান-সমর্থিত কাঠামোও চাপে পড়ে। একই সময়ে অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা দেশটির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তবুও সংঘাত শেষে ইরান আবারও আলোচনার টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ফিরে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে।
যদি ভবিষ্যতে ইরান আবারও এই নৌপথ বন্ধ করার হুমকি দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাবে, সেটিই এখন বৈশ্বিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতের জন্য কঠোর বার্তা দিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে কঠোর অবস্থানের কথা জানাল পাকিস্তান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, ভবিষ্যতে ভারত যদি কোনো ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক দুঃসাহসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে ইসলামাবাদ আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।
সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। পাকিস্তানি গণমাধ্যম সামা টিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, খাজা আসিফ ভারতের সাম্প্রতিক নীতিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ভারতের যে কৌশলগত ব্যর্থতা দেখা গেছে, তা দেশটির জন্য দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা হয়ে থাকবে। তার ভাষায়, এই অভিজ্ঞতা ভারত বহু বছর ধরে স্মরণে রাখতে বাধ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খাজা আসিফ আফগানিস্তান প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তার অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ডে সক্রিয় কিছু ভারত-সমর্থিত গোষ্ঠী পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এসব কার্যক্রম মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সেখানে যেসব বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, তা পাকিস্তানি বা কাশ্মীরি জনগণের স্বাভাবিক অবস্থান নয়; বরং ভারতের কৌশলগত অবস্থানের প্রতিফলন বলেই মনে হচ্ছে।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তি এবং ভারত-সমর্থিত গোষ্ঠী এসব কর্মকাণ্ডে আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তা দিচ্ছে। যদিও তিনি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেননি।
পানি ইস্যুতেও কড়া অবস্থান নিয়েছে ইসলামাবাদ। খাজা আসিফ বলেন, সম্ভাব্য ‘পানি আগ্রাসন’ মোকাবিলায় সরকার পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, পাকিস্তানের পানিসম্পদ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
তার ভাষায়, পাকিস্তানের এক ফোঁটা পানিও অন্য কাউকে নিতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক আইন ও বিদ্যমান চুক্তির আলোকে দেশটির পানির অধিকার রক্ষা করা হবে।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- নানিয়ারচরে সেনা অভিযানে ১৩ লাখ টাকার সেগুন কাঠ উদ্ধার
- ২১ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ২১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ইরান চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তোপ
- ‘হরমুজ বন্ধ হলে মাসের পর মাস তেল পেতাম না’
- রোববার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে
- সংসদ থেকে সচিবালয়, আজ যেসব কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ
- আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ
- স্পেন-সৌদি আরবসহ আজ বিশ্বকাপের বড় ছয় লড়াই, এক নজরে পূর্ণ সূচি
- আজকের নামাজের সময়সূচি জেনে নিন
- বিশ্বকাপে গোলযুদ্ধে ব্রাজিল-জার্মানির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
- হরমুজে টোল নিলে যুক্তরাষ্ট্রই আদায় করবে: ট্রাম্প
- শিক্ষকের মর্যাদা ও প্রশাসনিক সংস্কৃতির সীমারেখা
- সুইডেনের ইসাক নাকি ডাচ প্রাচীর ভ্যান ডাইক? বিশ্বকাপে আজ দুই লিভারপুল তারকার দ্বৈরথ
- ডিজিটাল স্বাক্ষরের পর এবার মাঠপর্যায়ের নজরদারি, সুইজারল্যান্ড যাচ্ছে ইরানি প্রতিনিধিদল
- অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটারের নির্মাণকাজ শুরু
- ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নয়, জ্লাতানের চোখে এবার বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার অন্য দল!
- হিজাব ছাড়া গান গাওয়ার অপরাধ: ইরানি গায়িকাসহ ৯ জনকে ৭৪ দোররা মারার নির্দেশ
- ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর ও বেইজিং—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেগা সফরে যা কিছু থাকছে
- প্রতিমন্ত্রীর ছেলেদের নামে রাখা ৩ ইউনিয়নের নাম বদলের নির্দেশ সরকারের
- অবসরের ১১ বছর পর ফুটবল মাঠে ফিরছেন কিংবদন্তি রোনালদিনহো
- আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নিন, খুলনার সমাবেশ থেকে জামায়াত আমিরের ডাক
- নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত হিসাব: কার বেতন কত বাড়ছে দেখে নিন (১ম-২০তম গ্রেড)
- হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা ইরানের, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে চরম উত্তেজনা
- শীর্ষে থেকেও অস্বস্তিতে ব্রাজিল, শেষ ম্যাচের আগে মেলেনি দ্বিতীয় পর্বের টিকিট
- গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, খুদেদের সাথে ওড়ালেন জাতীয় পতাকা
- ইরানকে ট্রাম্পের ৬০ দিনের আলটিমেটাম, চুক্তি না হলে ‘অসুখকর’ পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
- উত্তরাঞ্চলের ৪ জেলায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্যার সতর্কতা
- আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি ‘মাফিয়া পার্টি’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- তিব্বতে চীনের মেগা বাঁধ, নতুন দুশ্চিন্তায় ভারত
- ইরান যুদ্ধে কৌশলগতভাবে পরাজিত ট্রাম্প: নিউইয়র্ক টাইমস
- ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬: টিভি ও মোবাইলে দেখার উপায়
- আনচেলত্তির সুখবর, যেদিন ফিরছেন ব্রাজিলের তারকা নেইমার
- ২০ জুনের নামাজের সময় প্রকাশ, দেখে নিন এখনই
- ভারতের জন্য কঠোর বার্তা দিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
- আবার কমল স্বর্ণের দাম, জেনে নিন আজকের নতুন দাম
- আষাঢ়ের শুরুতেই দেশজুড়ে বৃষ্টির দাপট, ঢাকার আকাশ মেঘলা
- শনিবার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে
- কসাইবাড়ী-আজমপুর-আবদুল্লাহপুরে বড় প্রকল্পের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- রিঙ্গিত ও রিয়ালের বাজারে সুখবর, একনজরে আজকের মুদ্রার রেট
- মাঠের লড়াইয়ে এবার জায়ান্টদের পরীক্ষা: নেদারল্যান্ডস-জার্মানি ও জাপানের নকআউটের লক্ষ্য
- বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সাম্বা ঝড়, নকআউটে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, মরক্কোর জয়
- শিলিগুড়ি করিডর ঘিরে নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তাপ: তিস্তা, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত বাস্তবতা
- পাঠ্যক্রমে ফুটবল-ক্রিকেট যুক্ত হচ্ছে, বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য যেসব সুবিধা বাড়ানো হয়েছে
- রঙিন খাবার কেন শরীরের জন্য জরুরি
- যুক্তরাষ্ট্রের সব শর্ত মানবে না ইরান: খামেনি
- জুমার দিনের ৫ বিশেষ আমল, যা বদলে দিতে পারে জীবন
- সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে সতর্ক করল পাকিস্তান
- শিক্ষকের মর্যাদা ও প্রশাসনিক সংস্কৃতির সীমারেখা
- আজকের খেলার সূচি: বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে ওভাল টেস্ট
- দুই দিনেই আবার বাড়ল সোনার দাম, জানুন আজকের নতুন দর
- দুবাইয়ে আটক বেনজীর, মিলেছে তিন দেশের পাসপোর্ট!
- ১৭ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- সুইডেন থেকে স্পেন, আজ জমজমাট বিশ্বকাপ সূচি
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে থাকছে যেসব ৯ বড় শর্ত
- ১৮ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৬ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য যেসব সুবিধা বাড়ানো হয়েছে
- ১৫ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- দিল্লিতে আড়াই ঘণ্টা আটকে থেকে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
- আজ মাঠে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা, জেনে নিন জমজমাট পূর্ণ সূচি
- ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম রিলসে বড় পরিবর্তন, মেটা আনছে নতুন ‘সিরিজ’ ফিচার








