ক্লাস্টার বোমায় লণ্ডভণ্ড ইসরায়েলের শহর: বাঙ্কারে আশ্রয় নিল লাখো মানুষ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৩ ০৯:২৬:১৫
ক্লাস্টার বোমায় লণ্ডভণ্ড ইসরায়েলের শহর: বাঙ্কারে আশ্রয় নিল লাখো মানুষ
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় ইরান কর্তৃক অত্যন্ত তীব্র ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী জেরুজালেম এবং মধ্য ইসরায়েলসহ দক্ষিণ ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে একাধিক সতর্ক সংকেত বা সাইরেন জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানার খবর আসার পরপরই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সাধারণ জনগণকে দ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে বা আন্ডারগ্রাউন্ড শেল্টারে যাওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।

বর্তমানে ইসরায়েলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের খবর আসছে। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, এই হামলায় ইরান বিশেষ ধরনের ‘ক্লাস্টার’ বা গুচ্ছ-বোমা ব্যবহার করেছে। এই ধরনের মারণাস্ত্র আকাশ থেকে পড়ার সময় শত শত ছোট ছোট বোমা চারদিকে ছড়িয়ে দেয়, যা ব্যাপক এলাকা জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম। ইতোমধ্যে ইসরায়েলের অন্তত আটটি পৃথক স্থানে এই ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বা বিস্ফোরক পড়ার ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অনেক জায়গায় আগুন ধরে গেছে এবং স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর আগে উত্তর ইসরায়েলের অনেক এলাকায় সতর্ক সাইরেন বাজানো হলেও পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হওয়ায় সেই নির্দেশ সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছিল। সেখানকার বাসিন্দাদের শেল্টার থেকে বেরিয়ে আসার অনুমতি দেওয়া হলেও পুনরায় হামলার শঙ্কায় আতঙ্ক কাটছে না। মূলত গত রোববার থেকেই ইসরায়েলে এই হামলার ধারা বিরতিহীনভাবে অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ইসরায়েল এখন এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে। কারণ এই এলাকাটি এখন কেবল ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলারই লক্ষ্যবস্তু নয়, বরং লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহরও নিয়মিত হামলার শিকার হচ্ছে। দুই দিক থেকে আসা এই সাঁড়াশি আক্রমণে পুরো ইসরায়েল এখন যুদ্ধকালীন এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: আল–জাজিরা


খামেনি হত্যাকে ‘নিষ্ঠুর’ আখ্যা দিয়ে ইরানের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুতিনের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৩ ০৯:০৯:২৮
খামেনি হত্যাকে ‘নিষ্ঠুর’ আখ্যা দিয়ে ইরানের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুতিনের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নতুন বছর নওরোজ উপলক্ষে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পুতিন ইরানি জনগণকে এই কঠিন পরীক্ষা মর্যাদার সঙ্গে মোকাবিলা করার শুভকামনা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, বর্তমানের এই সংকটময় সময়ে মস্কো তেহরানের পাশে এক বিশ্বস্ত বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে অটল রয়েছে।

রাশিয়া মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং এর ফলে তৈরি হয়েছে একটি বিশাল বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট। এমনকি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত 'নিষ্ঠুর' হিসেবে বর্ণনা করেছে রুশ পক্ষ।

তবে মস্কোর এই মৌখিক সমর্থনের গভীরতা নিয়ে খোদ ইরানি সূত্রগুলোতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেক ইরানি সূত্রের দাবি, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরান এখন তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটে থাকলেও রাশিয়ার কাছ থেকে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো বাস্তব বা সামরিক সাহায্য পাওয়া যায়নি। উল্টো পলিটিকো এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, মস্কো ওয়াশিংটনকে একটি গোপন প্রস্তাব দিয়েছিল—রাশিয়া যদি ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রকেও ইউক্রেনকে সহায়তা করা বন্ধ করতে হবে।

যদিও ক্রেমলিন এই প্রতিবেদনকে 'ভুয়া' বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে হামলার ফলে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে এবং রাশিয়া ও ইরানের বর্তমান কৌশলগত চুক্তিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার কোনো সুনির্দিষ্ট ধারা নেই। এমনকি মস্কো বারবার স্পষ্ট করেছে যে, তারা চায় না ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করুক, কারণ এতে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্রের নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।

/আশিক


হরমুজ নিয়ে আর কোনো আপস নয়: মার্কিন সামরিক অভিযানের নতুন লক্ষ্য স্থির

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৩ ০৯:০২:৫৪
হরমুজ নিয়ে আর কোনো আপস নয়: মার্কিন সামরিক অভিযানের নতুন লক্ষ্য স্থির
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলো পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে।

এনবিসি নিউজকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক সফলতা পেয়েছে এবং ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকাংশে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। বেসেন্ট আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের এই ঘাঁটিগুলো সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারণার কঠোর সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন যে মার্কিনিদের কাছে যুদ্ধের সঠিক চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে না।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী অবস্থানের বিপরীতে ইরানও বড় ধরনের পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। রোববার (২২ মার্চ ২০২৬) ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, যদি ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তবে তারা বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণরূপে’ বন্ধ করে দেবে।

তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, আক্রান্ত স্থাপনাগুলো পুনরায় নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আর খোলা হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির জবাবে ইরানের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে এক প্রলয়ংকরী যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

/আশিক


হরমুজ প্রণালী চিরতরে বন্ধের হুমকি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ২১:২০:৩৯
হরমুজ প্রণালী চিরতরে বন্ধের হুমকি ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ 'ব্ল্যাকআউট' বা অন্ধকারচ্ছন্ন ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামের জবাবে পাল্টা চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি তাদের দেশের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বা জ্বালানি স্থাপনাও আক্রান্ত হয়, তবে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এবং সেই পথ ততক্ষণ খোলা হবে না, যতক্ষণ না ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন হয়।

আইআরজিসি-র এই বার্তায় আরও ভয়াবহ কিছু লক্ষ্যবস্তুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো এবং তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এমনকি যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এই হুমকির সুর আরও চড়িয়ে বলেছেন, ইরানের ওপর আঘাত এলে পুরো অঞ্চলের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংসের মুখে পড়বে। ট্রাম্পের 'সম্পূর্ণ ধ্বংস' করার হুমকির বিপরীতে ইরানের এই 'মহাপ্রলয়' ডাকার সংকেত বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে।

/আশিক


ইসরায়েল ও আমিরাত লক্ষ্য করে ইরানের ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ২১:০৯:৪৫
ইসরায়েল ও আমিরাত লক্ষ্য করে ইরানের ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন চরম উত্তেজনার চূড়ায়। রোববার (২২ মার্চ ২০২৬) ইরান থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ফের বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরানের এই নতুন ধাপের হামলায় ইসরায়েলজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেরুজালেম ও তেল আবিবসহ ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

অন্যদিকে, ইরানের এই ‘প্রকাশ্য আগ্রাসন’ মোকাবিলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতও (ইউএই) বড় ধরনের সাফল্য দাবি করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার তারা ইরান থেকে ছোড়া ৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউএই-র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ৩৪৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১,৭৭৩টি ড্রোন ধ্বংস করেছে বলে এক্স (পূর্বের টুইটার) বার্তায় জানানো হয়েছে। ওদিকে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের দিমোনা ও আরাদ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে, যাতে অন্তত ২০০ জন আহত হয়েছেন।

/আশিক


নিজের রক্ষকই যখন ভক্ষক: বাহরাইনে মার্কিন প্যাট্রিয়ট বিপর্যয়ের গোপন খবর ফাঁস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১৭:৪৯:৫১
নিজের রক্ষকই যখন ভক্ষক: বাহরাইনে মার্কিন প্যাট্রিয়ট বিপর্যয়ের গোপন খবর ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান অসম যুদ্ধের দশম দিনে (৯ মার্চ ২০২৬) বাহরাইনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters) একদল একাডেমিক গবেষকের বিশ্লেষণ পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, ওই দিন বাহরাইনের সিত্রা দ্বীপের মাহাজ্জা এলাকায় যে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তাতে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত ‘প্যাট্রিয়ট’ (Patriot) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ।

দীর্ঘ নীরবতার পর বাহরাইন সরকার প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে, রাজধানী মানামার উপকণ্ঠে তেল শোধনাগার সংলগ্ন ওই এলাকায় বিস্ফোরণে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র জড়িত ছিল। তবে বাহরাইনের সরকারি মুখপাত্রের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশেই একটি ইরানি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছিল, যার ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তাদের মতে, ভূমিতে যে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা সরাসরি ড্রোনের আঘাত নয় বরং ধ্বংসাবশেষের কারণে হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চের ওই হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩২ জন বাহরাইনি নাগরিক আহত হয়েছিলেন, যাদের অনেকেরই অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। ঘটনার পরপরই বাহরাইন ও ওয়াশিংটন এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করলেও এখন পর্যন্ত এর স্বপক্ষে কোনো জোরালো প্রমাণ বা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ উপস্থাপন করতে পারেনি।

বিস্ফোরণ পরবর্তী ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, মাহাজ্জা এলাকার ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং রাস্তায় ধুলোর আস্তরণ ও বাসিন্দাদের আর্তনাদে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রযুক্তির এই মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম কেন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন বিপর্যয় ঘটাল, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

/আশিক


বিশ্ব তেলের বাজারে স্বস্তি না কি নতুন সংকট? ইরানের কূটনৈতিক চালে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১৭:৩২:১৭
বিশ্ব তেলের বাজারে স্বস্তি না কি নতুন সংকট? ইরানের কূটনৈতিক চালে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘শত্রু দেশ’ ছাড়া বিশ্বের অন্য সব দেশের জাহাজ চলাচলের জন্য এই সামুদ্রিক পথটি উন্মুক্ত থাকবে। তবে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ এই সুবিধা পাবে না।

ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির (Mehr News Agency) বরাতে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনে (IMO) নিযুক্ত ইরানি প্রতিনিধি আলি মুসাভি এই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাপেক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক চলাচল সচল রাখতে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বর্তমানে এই পথটি অচল হয়ে পড়ার জন্য তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘আগ্রাসন’কে দায়ী করেছেন।

মুসাভি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরান সবসময় কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেয়, তবে এর জন্য ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে তাদের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে এবং পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনে এগিয়ে আসতে হবে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম হওয়ায় ইরানের এই নতুন সিদ্ধান্তকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল।

তথ্যসূত্র : দ্য গার্ডিয়ান


তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ট্রাম্পের আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই শুরু মহাপ্রলয়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১০:৩০:৫১
তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ট্রাম্পের আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই শুরু মহাপ্রলয়
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরান ও এর আশপাশের শহরগুলোতে অত্যন্ত শক্তিশালী ও ‘ভয়াবহ বিস্ফোরণ’ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার (২২ মার্চ ২০২৬) সকালে ইরানি ব্লগার ওয়াহিদ অনলাইন জানিয়েছেন, রাজধানীর পূর্ব শহরতলী পারদিস এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দামাভান্দ শহরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা এই বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে।

ব্লগারদের অন্য একটি গোষ্ঠী ‘মামলেকাতে’ দামাভান্দ এলাকায় অন্তত তিনটি প্রচণ্ড শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই এই হামলাগুলো তেহরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের নিকটবর্তী দামাভান্দ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার মেরুদণ্ড, যার উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৮৬৮ মেগাওয়াট। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের কেরমান (১ হাজার ৯১০ মেগাওয়াট) এবং খুজেস্তান প্রদেশের রামিন স্টিম পাওয়ার প্ল্যান্ট (১ হাজার ৮৯০ মেগাওয়াট) দেশটির প্রধান বিদ্যুৎ উৎস।

ট্রাম্পের হুমকির পরপরই এই বিস্ফোরণগুলো আসায় ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পাওয়ার গ্রিড অচল করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তেহরানের বাসিন্দাদের মধ্যে বর্তমানে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং বিস্ফোরণের তীব্রতায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরান ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের বিদ্যুৎ বা জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন স্থাপনায় তারা পাল্টা ভয়াবহ আঘাত হানবে।

সূত্র: আল জাজিরা


হরমুজ প্রণালী না খুললে ধ্বংস হবে ইরান: ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১০:২১:৫৪
হরমুজ প্রণালী না খুললে ধ্বংস হবে ইরান: ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন এক চূড়ান্ত ও ভয়াবহ পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলা শুরু করা হবে দেশটির বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে।

ট্রাম্পের এই চরম হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানও অত্যন্ত কঠোর পাল্টা হুমকি দিয়েছে। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে কোনো আঘাত হানা হলে এর ফলাফল হবে ভয়াবহ। তিনি সতর্ক করে বলেন, মার্কিন হামলা শুরু হওয়া মাত্রই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব জ্বালানি অবকাঠামো, পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালাবে তেহরান।

এর আগে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক প্রধান আলী লারি জানি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, বিদ্যুৎ গ্রিড আক্রান্ত হলে আধা ঘণ্টার মধ্যেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য অন্ধকারে ডুবে যাবে।

এদিকে, এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদ ও দিমোনায় ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে অন্তত দুটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে।

এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফার্স নিউজ এজেন্সিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা পার হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করলে বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে মহাবিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


ইরানি কূটনীতিকদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: সৌদির কড়া পদক্ষেপে তোলপাড় মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ০৯:৫২:৪৯
ইরানি কূটনীতিকদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: সৌদির কড়া পদক্ষেপে তোলপাড় মধ্যপ্রাচ্য
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধ এবার চরম কূটনৈতিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। নিজ ভূখণ্ডে ‘বারবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার’ অভিযোগে ইরানের সামরিক অ্যাটাশে এবং দূতাবাসের চার কর্মীকে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে সৌদি আরব। শনিবার (২২ মার্চ ২০২৬) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতিতে এই বহিষ্কারের আদেশ নিশ্চিত করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters) এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রচার করেছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবে নিযুক্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাসের সামরিক অ্যাটাশে, সহকারী সামরিক অ্যাটাশে এবং মিশনের আরও তিন গুরুত্বপূর্ণ কর্মীকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে তেহরান এখন সরাসরি সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সমরাস্ত্র রয়েছে, সেখানে ইরান ক্রমবর্ধমান শক্তিশালী হামলা চালাচ্ছে। সৌদি আরব দাবি করেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা শত শত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে, যার বেশিরভাগই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে।

গত কয়েক দিনে এই উত্তেজনার পারদ আকাশচুম্বী হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার লোহিত সাগর তীরের ইয়ানবু বন্দরে তেল লোডিং মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যখন নিকটবর্তী আরামকো-এক্সন শোধনাগারের ওপর একটি ইরানি ড্রোন আছড়ে পড়ে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরটিই সৌদি আরবের তেলের একমাত্র রপ্তানি পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এর আগে রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসেও দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছিল। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ জানিয়েছেন, ইরানের ওপর থেকে তাদের আস্থা ‘চুরমার’ হয়ে গেছে এবং দেশ রক্ষায় সৌদি আরব তার বিশাল সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। উল্লেখ্য, গত বুধবার কাতারও একই পদ্ধতিতে ইরানি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছিল, যা পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল।

/আশিক

পাঠকের মতামত: