হরমুজ নিয়ে আর কোনো আপস নয়: মার্কিন সামরিক অভিযানের নতুন লক্ষ্য স্থির

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলো পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক সফলতা পেয়েছে এবং ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকাংশে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। বেসেন্ট আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের এই ঘাঁটিগুলো সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারণার কঠোর সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন যে মার্কিনিদের কাছে যুদ্ধের সঠিক চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে না।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী অবস্থানের বিপরীতে ইরানও বড় ধরনের পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। রোববার (২২ মার্চ ২০২৬) ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, যদি ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তবে তারা বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণরূপে’ বন্ধ করে দেবে।
তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, আক্রান্ত স্থাপনাগুলো পুনরায় নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আর খোলা হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির জবাবে ইরানের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে এক প্রলয়ংকরী যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
/আশিক
মার্কিন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পাল্টা জবাব? হরমুজ প্রণালিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন স্নায়ুযুদ্ধ
হরমুজ প্রণালিতে চলমান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদে কোনো ধরনের নৌ-টোল বা ফি আরোপ করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ব্যয় মেটাতে ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন নিজেই এই নৌপথে ফি বা ট্যাক্স আরোপ করতে পারে বলে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২০ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কোনো টোল থাকবে না। যদি না তা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আরোপ করা হয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৬০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন সময় শেষ হওয়ার পরও যদি কোনো স্থায়ী সমাধান বা চূড়ান্ত চুক্তি না হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিভাবকসুলভ ভূমিকা পালন করে আসছে, তার ব্যয় আদায়ের জন্য এই টোল বা ফি আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হতে পারে।
ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের একটি সাম্প্রতিক ঘোষণার পরই ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দিলেন। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে এবং লেবাননে ইসরায়েল কর্তৃক যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের কারণে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে।
তবে ইরানের এই দাবিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুক্তির সব শর্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সেন্টকম সতর্ক ও সক্রিয় রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স ইরানকে ইঙ্গিত করে সাফ জানিয়ে দেন, “হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে নেই।”
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জ্বালানি পরিবহন রুট। বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বিশাল অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই নৌপথকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বা অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ: ট্রাম্প-নেতানিয়াহু জোটে ফাটল ধরাতে লেবাননকে অস্ত্র বানাচ্ছে ইরান
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের চলমান সামরিক হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক জটিল কৌশলগত খেলা শুরু হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তেহরান মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অবিচ্ছেদ্য ও কৌশলগত জোটে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে। ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের মধ্যকার নীতিগত দূরত্ব তৈরি করতে ইরান লেবানন সংকটকে একটি প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
অস্ট্রিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুশতাই আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান বর্তমানে লেবানন পরিস্থিতিকে এমন একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে, যার লক্ষ্য ইসরাইলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যকার ফাটলকে আরও চওড়া করা। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) নিয়ে ইসরাইলি প্রশাসনের ক্ষোভ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বিঘ্নিত করার যে কোনো চেষ্টাই এই ফাটলকে স্পষ্ট করছে।
আপাতদৃষ্টিতে তেহরানের উদ্দেশ্য দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন সম্পূর্ণ বন্ধ করা মনে হলেও, পর্দার আড়ালের বাস্তবতা ভিন্ন। তেহরান, বৈরুত, হিজবুল্লাহ এবং খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও জানেন যে ইসরাইলি আক্রমণ পুরোপুরি থামানো এই মুহূর্তে বাস্তবসম্মত নয়। কারণ নিজেদের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়লে ইসরাইল অবশ্যই পাল্টা আঘাত করবে। তবে বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ ও কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখতে ইসরাইল সাময়িকভাবে শান্ত থাকার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু যেকোনো উসকানির মুখে তারা প্রতিশোধ নিতে দ্বিধা করবে না। এই জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক পরিস্থিতিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দুর্বল করার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে ইরান, যার মূল লক্ষ্য দুই পরম মিত্রের সামরিক ও রাজনৈতিক জোটে স্থায়ী চির ধরানো।
/আশিক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার পরমাণু আলোচনা সুইজারল্যান্ডে শুরু
কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার কূটনৈতিক আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে আলোচনায় অংশ নিতে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে পৌঁছায়।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, এই বৈঠকগুলো সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU)-এ অন্তর্ভুক্ত সমস্ত বিষয়কে কার্যকর করে একটি সর্বাত্মক ও স্থায়ী চুক্তি অর্জনের পথ সুগম করবে। বিবৃতিতে বলা হয়, "আমরা আশা করছি, এই বৈঠকগুলো সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত সমস্ত বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ব্যাপক ও স্থায়ী চুক্তি সম্পাদনের দিকে এগিয়ে যাবে।"
এর আগে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। ওই সমঝোতায় সব ফ্রন্টে পারস্পরিক শত্রুতা বন্ধ করা, ধাপে ধাপে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের এই নতুন দফার বৈঠককে সেই সমঝোতা বাস্তবায়ন এবং একটি চূড়ান্ত ও দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র : আল জাজিরা
ইরান চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তোপ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বহু দশকের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক নতুন এক পরীক্ষার মুখে পড়েছে। ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নজিরবিহীন মতপার্থক্য প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বিশেষ করে ইসরাইলি রাজনৈতিক মহল, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত একাধিক সম্পাদকীয়তে ট্রাম্পকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি ইসরাইলকে তার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি একা ফেলে দিয়েছেন এবং যুদ্ধের মাঝপথে অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।
দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী দৈনিক ইসরাইল হায়োম ট্রাম্পের সমালোচনায় অত্যন্ত কড়া ভাষা ব্যবহার করেছে। পত্রিকাটির এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন এবং এমন একটি সমঝোতায় গিয়েছেন, যা ইসরাইলের নিরাপত্তা উদ্বেগকে উপেক্ষা করেছে।
ওই সম্পাদকীয়তে আরও দাবি করা হয়, এই সমঝোতা একটি নতুন আঞ্চলিক সংকটের বীজ বপন করেছে এবং এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হলো ‘বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি’। দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে দেখে আসা ইসরাইলি জনগণের একাংশ এখন সেই অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদদের মতে, কিছুদিন আগেও ট্রাম্প ইসরাইলের অন্যতম জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তবে ইরান চুক্তির পর তার জনপ্রিয়তায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বর্তমান সংকট শুধু একটি চুক্তিকে কেন্দ্র করে নয়; বরং এটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে দেশটির প্রধান মিত্র হিসেবে কাজ করেছে। সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তায় ওয়াশিংটন সব সময়ই তেল আবিবের পাশে থেকেছে। তবে সাম্প্রতিক এই মতবিরোধকে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বড় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। পাশাপাশি হিজবুল্লাহসহ ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়েও তেল আবিবের উদ্বেগ রয়েছে।
কিন্তু নতুন সমঝোতার আওতায় যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এই অংশটিই সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে ফেলেছে ইসরাইলি নেতৃত্বকে।
সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১১ শতাংশ ইসরাইলি মনে করেন যে তারা এই সংঘাতে সফল হয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ৭১ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ভবিষ্যতে ইসরাইলের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারবে বলে তারা আর বিশ্বাস করেন না।
ইসরাইল সরকারের ভেতরেও মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি, তার মন্ত্রিসভার কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেছেন।
বিশেষ করে কট্টরপন্থি রাজনৈতিক নেতারা এই চুক্তিকে দুর্বল অবস্থান হিসেবে বর্ণনা করছেন। তাদের দাবি, এটি ভবিষ্যতে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনও ইসরাইলের এই প্রতিক্রিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, নেতানিয়াহু লেবানন ইস্যুতে ‘অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ’ হয়ে পড়েছেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সরাসরি ইসরাইলি নেতাদের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে থাকা ইসরাইলের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থানে থাকা একমাত্র বড় শক্তি এখনো যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র: আল-জাজিরা
‘হরমুজ বন্ধ হলে মাসের পর মাস তেল পেতাম না’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার পেছনে শুধু কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশ নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, যুদ্ধ অব্যাহত রাখার পরিবর্তে আলোচনার পথে এগোনো ছাড়া কার্যত তার সামনে আর কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প ছিল না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় নজিরবিহীন সংকট তৈরি হতে পারত। তিনি বলেন হরমুজ বন্ধ হলে মাসের পর মাস তেল পেতাম না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, টানা বোমাবর্ষণ চলতে থাকলে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ অচল করে দিতে পারত।
ট্রাম্প বলেন, সামরিক অভিযান আরও দীর্ঘ হলে ইরান পুরো জলপথে মাইন পেতে দিতে পারত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যেত। সেই পরিস্থিতিতে বিলিয়ন ডলার মূল্যের তেলবাহী জাহাজগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে পড়ত এবং কোনো কোম্পানিই সেখানে জাহাজ পরিচালনার সাহস দেখাত না।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে কয়েক মাস ধরে বৈশ্বিক বাজারে তেলের প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো। এতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের প্রায় সব বড় অর্থনীতিই বড় ধরনের সংকটে পড়ে যেত।
ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে যারা মত দিয়েছেন, তাদের উদ্দেশেও সরাসরি জবাব দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুদ্ধ আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ বাড়িয়ে বোমাবর্ষণ চালানো সম্ভব ছিল, কিন্তু তাতে বাস্তবিক কোনো সুফল মিলত না।
ট্রাম্পের মতে, সামরিক চাপ বাড়ালেও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব হতো না। বরং দীর্ঘ সময় ধরে এই জলপথ অচল থাকত এবং বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে পারত।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর অধিকাংশ রপ্তানি এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রণালি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত অস্বাভাবিক মাত্রায় পৌঁছে যেতে পারত। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্য, সার, পরিবহন ব্যয় এবং শিল্প উৎপাদনেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতো।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব জ্বালানি মজুদের অবস্থাও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র কিউশিংয়ে অপরিশোধিত তেলের মজুদ কমে ২ কোটি ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি।
শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুদও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এর পরিমাণ প্রায় ৩৪ কোটি ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, যা ইতিহাসের অন্যতম নিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
মার্কিন জ্বালানি খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও কয়েক সপ্তাহ ধরে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন। তাদের আশঙ্কা, জুনের শেষ ভাগ থেকে জুলাইয়ের শুরুতে তেলের মজুদ এমন পর্যায়ে নেমে যেতে পারে, যেখানে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়বে।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত অবস্থানেও পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। শুরুতে কঠোর সামরিক অবস্থানের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিতে হয়েছে ওয়াশিংটনকে।
তাদের মতে, বর্তমান সমঝোতা কেবল যুদ্ধবিরতির একটি পদক্ষেপ নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির নতুন বাস্তবতার প্রতিফলন।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আগামী ৬০ দিনের আলোচনা কতটা সফল হয় এবং ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হয়ে ওঠে কি না। কারণ এই জলপথের নিরাপত্তা এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
হরমুজে টোল নিলে যুক্তরাষ্ট্রই আদায় করবে: ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরান কোনোভাবেই এই কৌশলগত জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে টোল বা শুল্ক আদায় করতে পারবে না। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই নিরাপত্তা ব্যয়ের অংশ হিসেবে শুল্ক আরোপ করতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
শনিবার (২০ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই অবস্থান তুলে ধরেন। তার বক্তব্যের পরপরই সম্প্রতি স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্প তার পোস্টে বলেন, যুদ্ধবিরতির আওতায় নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল আরোপ করা যাবে না। শুধু তাই নয়, এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও ইরানের একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের সুযোগ থাকবে না।
তবে তিনি একই সঙ্গে নতুন একটি অবস্থান সামনে আনেন। তার দাবি, যদি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’ বা নিরাপত্তা রক্ষকের ভূমিকা পালন করে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সেই নিরাপত্তা ব্যয়ের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন নিজস্ব ব্যবস্থায় শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
ট্রাম্প আরও বলেন, যদি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনায় আনতে পারে। যদিও তিনি এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক কাঠামো তুলে ধরেননি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত চাপ সৃষ্টির অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে জাহাজ চলাচল সীমিত করার হুমকি দিয়ে তেহরান আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
পরবর্তীতে গত বুধবার স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি সমঝোতার আওতায় ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে দুই পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়। সেই সময় শর্ত ছিল, এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ইরান কোনো জাহাজের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবে না।
তবে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে যখন শনিবার ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড দাবি করে, সমঝোতা স্মারকের শর্ত ভঙ্গ হওয়ায় তারা আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সামরিক কমান্ড সেন্টকম (CENTCOM) দ্রুত এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং প্রায় ৩০ শতাংশ সার এই সামুদ্রিক পথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে থাকে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই রুটে সামান্য বিঘ্নও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। এর প্রভাব সরাসরি পরিবহন খরচ, খাদ্য উৎপাদন, শিল্প খাত এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর পড়তে পারে।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ হিসেবেই তারা নতুন অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই বৈঠকে অংশ নিতে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে থাকছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠকের ফলাফলই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন স্থিতিশীলতা আসবে, নাকি আবারও বড় ধরনের সংঘাতের দিকে এগোবে অঞ্চলটি।
-রাফসান
ডিজিটাল স্বাক্ষরের পর এবার মাঠপর্যায়ের নজরদারি, সুইজারল্যান্ড যাচ্ছে ইরানি প্রতিনিধিদল
সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সুইজারল্যান্ড সফরে যাচ্ছে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই সফরের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, "এই যাত্রার মূল লক্ষ্য হলো অপর পক্ষের (যুক্তরাষ্ট্র) প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি নিশ্চিত করা।" অতীতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এবার চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে ইরান তার দাবির বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ও দৃঢ় অবস্থানে থাকবে।
বাঘাই আরও জানান, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রতিনিধিদলটির গতকালই সুইজারল্যান্ড যাওয়ার কথা ছিল। তবে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ডিজিটাল পদ্ধতিতে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে স্বাক্ষর করায় সেই মুহূর্তের বৈঠকটির প্রয়োজনীয়তা আর ছিল না। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে মূল আলোচনা শুরু করার আগে এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাস্তবায়ন করা জরুরি, যা বর্তমানে দৃশ্যমান নয়। এই সফরের মাধ্যমে ইরান অপর পক্ষকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য চাপ দেবে এবং তারা কীভাবে এগুলো কার্যকর করতে চায় সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করবে। চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হলে চূড়ান্ত সমঝোতার পথে এগোনো কঠিন হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান।
/আশিক
হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা ইরানের, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে চরম উত্তেজনা
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি জরুরি বিবৃতিতে সামরিক কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসন মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্প্রতি হওয়া দ্বিপাক্ষিক শান্তি চুক্তির চরম লঙ্ঘন। আর এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দাঁতভাঙা জবাব দিতেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ-পথটি অবরুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরানি সামরিক কমান্ড তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, "হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করা হলো। এটি শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিরুদ্ধে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ।" একই সাথে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ না হলে এবং শত্রুপক্ষ তাদের বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থ হলে আগামীতে আরও কঠোর ও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তেহরানের দাবি, লেবাননের সার্বভৌমত্বের ওপর ইসরায়েলের এই নগ্ন হামলা মূলত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সই হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতার মূল চেতনার পরিপন্থী। ইরান স্পষ্ট করে বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি মদদে কিংবা তাদের নীরব সম্মতি ও সবুজ সংকেত পেয়েই ইসরায়েল এই বেপরোয়া হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে এর দায় যুক্তরাষ্ট্রকেও নিতে হবে। ওল্ড ওয়ার্ল্ডের জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি বন্ধের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
/আশিক
ইরানকে ট্রাম্পের ৬০ দিনের আলটিমেটাম, চুক্তি না হলে ‘অসুখকর’ পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চূড়ান্ত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানকে নতুন করে আরও ৬০ দিনের কঠোর সময়সীমা (আলটিমেটাম) বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী ও সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলে ওয়াশিংটন এমন কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেবে, যা তেহরানের জন্য মোটেও সুখকর বা স্বস্তিদায়ক হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।
মার্কিন অঙ্গরাজ্য মেরিল্যান্ডের সামরিক ঘাঁটি ‘জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ’-এ কাতারের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে দেওয়া একটি অত্যাধুনিক বিমান উন্মোচনের বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম সামা টিভিসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তার তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
বক্তব্যের শুরুতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে যেকোনো আন্তর্জাতিক সংকটের ক্ষেত্রে সামরিক সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষপাতি। তবে ইরান যদি এই সুযোগের সঠিক ব্যবহার না করে এবং কূটনৈতিক আলোচনা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানকে সরাসরি সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, “আসন্ন ৬০ দিনের মধ্যে আমাদের অবশ্যই একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। অন্যথায়, আমরা এমন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হব—যা তাদের (তেহরানের) জন্য মোটেও ভালো লাগবে না।” তবে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়ানো এই সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি কিছুটা আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন। ট্রাম্প মনে করেন, দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত হয়তো সেই চরম ও অনাকাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যাবে না।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই প্রাথমিক সমঝোতাকে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী চুক্তিতে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা কারিগরি পর্যায়ের (Technical Level) গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দুই দেশের মধ্যে এই সংবেদনশীল ও কারিগরি আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কঠোর ও পরোক্ষ সামরিক হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে চাপ ও অস্থিরতা তৈরি করল।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- এক হলুদ কার্ডেই ভাঙতে পারে বিশ্বকাপের স্বপ্ন; ফিফার নতুন টাইব্রেকার নিয়মে যা জানা গেল
- মার্কিন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পাল্টা জবাব? হরমুজ প্রণালিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন স্নায়ুযুদ্ধ
- সংসদ অধিবেশনে হঠাৎ উত্তাপ, হান্নান মাসুদের আচরণে ডেপুটি স্পিকারের কড়া হুঁশিয়ারি
- আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গুম করলাম: ট্রাইব্যুনালে সাবেক বডিগার্ডের চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য
- কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান
- মেসি বনাম নেইমার বিতর্ক: বার্সা তারকা ইয়ামালের চোখে কে সেরা, কে আদর্শ?
- রাশেদ খাঁনকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ গরুর সাথে গল্পের পরামর্শ এমপি হানজালার
- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ: ট্রাম্প-নেতানিয়াহু জোটে ফাটল ধরাতে লেবাননকে অস্ত্র বানাচ্ছে ইরান
- নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: সারা দেশে পুলিশ ও র্যাবের সর্বোচ্চ সতর্কতা
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার পরমাণু আলোচনা সুইজারল্যান্ডে শুরু
- কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: সিলেটের কানাইঘাটের ৫ প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত
- নানিয়ারচরে সেনা অভিযানে ১৩ লাখ টাকার সেগুন কাঠ উদ্ধার
- ২১ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ২১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ইরান চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তোপ
- ‘হরমুজ বন্ধ হলে মাসের পর মাস তেল পেতাম না’
- রোববার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে
- সংসদ থেকে সচিবালয়, আজ যেসব কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ
- আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ
- স্পেন-সৌদি আরবসহ আজ বিশ্বকাপের বড় ছয় লড়াই, এক নজরে পূর্ণ সূচি
- আজকের নামাজের সময়সূচি জেনে নিন
- বিশ্বকাপে গোলযুদ্ধে ব্রাজিল-জার্মানির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
- হরমুজে টোল নিলে যুক্তরাষ্ট্রই আদায় করবে: ট্রাম্প
- শিক্ষকের মর্যাদা ও প্রশাসনিক সংস্কৃতির সীমারেখা
- সুইডেনের ইসাক নাকি ডাচ প্রাচীর ভ্যান ডাইক? বিশ্বকাপে আজ দুই লিভারপুল তারকার দ্বৈরথ
- ডিজিটাল স্বাক্ষরের পর এবার মাঠপর্যায়ের নজরদারি, সুইজারল্যান্ড যাচ্ছে ইরানি প্রতিনিধিদল
- অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটারের নির্মাণকাজ শুরু
- ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নয়, জ্লাতানের চোখে এবার বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার অন্য দল!
- হিজাব ছাড়া গান গাওয়ার অপরাধ: ইরানি গায়িকাসহ ৯ জনকে ৭৪ দোররা মারার নির্দেশ
- ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর ও বেইজিং—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেগা সফরে যা কিছু থাকছে
- প্রতিমন্ত্রীর ছেলেদের নামে রাখা ৩ ইউনিয়নের নাম বদলের নির্দেশ সরকারের
- অবসরের ১১ বছর পর ফুটবল মাঠে ফিরছেন কিংবদন্তি রোনালদিনহো
- আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নিন, খুলনার সমাবেশ থেকে জামায়াত আমিরের ডাক
- নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত হিসাব: কার বেতন কত বাড়ছে দেখে নিন (১ম-২০তম গ্রেড)
- হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা ইরানের, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে চরম উত্তেজনা
- শীর্ষে থেকেও অস্বস্তিতে ব্রাজিল, শেষ ম্যাচের আগে মেলেনি দ্বিতীয় পর্বের টিকিট
- গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, খুদেদের সাথে ওড়ালেন জাতীয় পতাকা
- ইরানকে ট্রাম্পের ৬০ দিনের আলটিমেটাম, চুক্তি না হলে ‘অসুখকর’ পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
- উত্তরাঞ্চলের ৪ জেলায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্যার সতর্কতা
- আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি ‘মাফিয়া পার্টি’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- তিব্বতে চীনের মেগা বাঁধ, নতুন দুশ্চিন্তায় ভারত
- ইরান যুদ্ধে কৌশলগতভাবে পরাজিত ট্রাম্প: নিউইয়র্ক টাইমস
- ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬: টিভি ও মোবাইলে দেখার উপায়
- আনচেলত্তির সুখবর, যেদিন ফিরছেন ব্রাজিলের তারকা নেইমার
- ২০ জুনের নামাজের সময় প্রকাশ, দেখে নিন এখনই
- ভারতের জন্য কঠোর বার্তা দিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
- আবার কমল স্বর্ণের দাম, জেনে নিন আজকের নতুন দাম
- আষাঢ়ের শুরুতেই দেশজুড়ে বৃষ্টির দাপট, ঢাকার আকাশ মেঘলা
- শনিবার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে
- শিক্ষকের মর্যাদা ও প্রশাসনিক সংস্কৃতির সীমারেখা
- আজকের খেলার সূচি: বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে ওভাল টেস্ট
- ইরান চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তোপ
- দুই দিনেই আবার বাড়ল সোনার দাম, জানুন আজকের নতুন দর
- ১৭ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- সুইডেন থেকে স্পেন, আজ জমজমাট বিশ্বকাপ সূচি
- হরমুজে টোল নিলে যুক্তরাষ্ট্রই আদায় করবে: ট্রাম্প
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে থাকছে যেসব ৯ বড় শর্ত
- ১৮ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৬ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- বিশ্বকাপে গোলযুদ্ধে ব্রাজিল-জার্মানির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য যেসব সুবিধা বাড়ানো হয়েছে
- ১৫ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- দিল্লিতে আড়াই ঘণ্টা আটকে থেকে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা








