৬ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও ধস: সোনার দামে বাজুসের ঐতিহাসিক রেকর্ড পতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ১৯:০২:৫৬
৬ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও ধস: সোনার দামে বাজুসের ঐতিহাসিক রেকর্ড পতন
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণের বাজারে আজ এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে গেল। মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) বিকেলে এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ বিকেল থেকেই এই নতুন দাম সারা দেশে কার্যকর হচ্ছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। উল্লেখ্য যে, আজ সকালেই প্রথম দফায় ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল বাজুস, যা সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছিল। অর্থাৎ এক দিনেই দুই দফায় বড় অংকের দর পতনের ফলে সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায় বিক্রি হবে।

সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩২৪ টাকায়। বাজুস জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং স্থানীয় তেজাবি সোনার সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এই ঐতিহাসিক মূল্য সংশোধন করা হয়েছে।

/আশিক


নতুন বেতনকাঠামো: কাল যারা টাকা পাচ্ছেন, যাদের অপেক্ষা করতে হবে

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ২০:০৫:১৯
নতুন বেতনকাঠামো: কাল যারা টাকা পাচ্ছেন, যাদের অপেক্ষা করতে হবে
ছবি : সংগৃহীত

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী আগামীকাল রোববার (১ নভেম্বর) থেকে ৩ মাসের বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পাওয়ার কথা রয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের। তবে নতুন কাঠামোতে বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ না হওয়ায় এবং নানা অসংগতির কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্ধারিত সময়ে বর্ধিত বেতন পাচ্ছেন না। ফলে তাদের আপাতত পুরোনো কাঠামোতেই বেতন নিতে হবে এবং পরবর্তীতে বর্ধিত বেতন ও বকেয়া সমন্বয় করা হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী এবং ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের একটি বড় অংশ এখনো নতুন কাঠামোতে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি। গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড, বাড়িভাড়া ভাতা এবং পদোন্নতির পর আর্থিক সুবিধাদিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসংগতি দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ‘আইবাস++’-এর জটিলতা। এসব সমস্যার সুরাহার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পক্ষ থেকে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করা হলেও এখনো তার সমাধান হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রপ্রজ্ঞাপন তৈরি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জানাশোনার ঘাটতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

নতুন বেতনকাঠামোতে বেতন নির্ধারণের ফলে গ্রেডের স্বাভাবিক ক্রম উল্টে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যেমন—জাতীয় বেতনকাঠামো ২০২৬ অনুযায়ী ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ২৪ হাজার ৩০০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও, বেতন নির্ধারণের পর দেখা যাচ্ছে ১১তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৩৭ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডের কর্মচারীর মূল বেতন ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা হয়ে যাচ্ছে। ফলে নিচের গ্রেডের কর্মী বেশি মূল বেতন পাওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

পাশাপাশি বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব নিয়েও বড় ধরনের অসংগতি তৈরি হয়েছে। যেমন—দশম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা নবম গ্রেডে পদোন্নতি বা প্রথম উচ্চতর গ্রেড পেলে মূল বেতন সামান্য বাড়লেও, গ্রেড পরিবর্তনের কারণে বাড়িভাড়া ভাতার হার ৫০ শতাংশ থেকে কমে ৪৫ শতাংশ হয়ে যায়। এতে মূল বেতন বাড়লেও সামগ্রিক মাসিক আয় বেড়ে যাওয়ার পরিবর্তে উল্টো কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা ও সময় নির্ধারণের নিয়ম স্পষ্ট না থাকায় জুনিয়র কর্মকর্তার মূল বেতন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চেয়ে বেশি হয়ে যাওয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, আইবাস++ ব্যবস্থার মাধ্যমে বেতন নির্ধারণের কাজে অভিজ্ঞ জনবলের ঘাটতি ও নতুন কর্মকর্তাদের অনভিজ্ঞতার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমান সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।

/আশিক


চীন ও জাপানের বিনিয়োগে সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশের অর্থনীতি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৯:৪৪:৪২
চীন ও জাপানের বিনিয়োগে সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশের অর্থনীতি
ছবি : সংগৃহীত

স্বৈরাচারী শাসন অবসানের পর জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাপান সফর এবং জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে ‘বিগ-বি’ প্রকল্পের আওতায় এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের প্রত্যাশা দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন থেকে শুরু করে মেট্রোরেল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো মেগা প্রকল্পে জাপানের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে। তবে এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশের শুল্ক ব্যবস্থা, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির আধুনিকায়ন জরুরি।

জাপানের সঙ্গে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার দীর্ঘদিনের সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। চলতি বছরের জুনে চীনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও চট্টগ্রামে শিল্পাঞ্চল গড়ার চুক্তিগুলোও দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নতি ঘটলে চীনা সরঞ্জাম এবং জাপানি প্রযুক্তির সমন্বয়ে যেকোনো দেশের বিনিয়োগকারীরাই তার সুফল পাবেন।

অন্যদিকে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের আশ্রয় দেওয়া এবং সেখান থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি প্রদানকে কেন্দ্র করে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে বর্তমান টানাপোড়েন দৃশ্যমান। বিগত ১৭ বছরের পররাষ্ট্রনীতির একপাক্ষিক ঝোঁক কাটিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে জনগণের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকারের মূল দায়িত্ব হবে চুক্তির স্বচ্ছতা বজায় রাখা, নতুন প্রকল্পের ফাঁদ এড়ানো এবং বড় শক্তিগুলোর দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করা। জাপান ও চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং ভারতের সঙ্গে সমতার সম্পর্ক বজায় রাখতে পারলে তবেই দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

/আশিক


নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৯:৪৪:৩৭
নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন নভেম্বর মাসে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের নিয়ম থাকলেও, সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি বজায় রাখা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কথা মাথায় রেখে নভেম্বরের জন্য আগের নির্ধারিত হারেই সব জ্বালানি তেল বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে নভেম্বর মাসের এই নতুন ও অপরিবর্তিত মূল্যতালিকা প্রকাশ করা হয়। সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুরো নভেম্বর মাস জুড়ে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা দরেই বিক্রি হবে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারের বর্তমান গতিপ্রকৃতি ও মূল্যের ওঠানামা সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জনস্বার্থ বিবেচনায় আপাতত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি।

/আশিক


সংকটের মাঝেই এলপিজির কমিশন ২ থেকে ৩ গুণ বাড়ানোর দাবি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৯:০১:১৭
সংকটের মাঝেই এলপিজির কমিশন ২ থেকে ৩ গুণ বাড়ানোর দাবি
ছবি : সংগৃহীত

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে গত প্রায় দুই মাস ধরে তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে। পর্যাপ্ত সরবরাহের ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে অনেক স্থানেই বাড়তি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের চরম ভোগান্তির মুখে ফেলেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে এলপিজি বিক্রির কমিশন বর্তমান হারের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বাড়ানোর নতুন দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা তাঁদের এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন।

শুনানিতে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর আমদানিকারকদের কমিশন বর্তমান ১৯১ টাকা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা থেকে ৪৭৮ টাকা পর্যন্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে পরিবেশকদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়। এ ছাড়া যানবাহন চালকদের জন্য ব্যবহৃত অটোগ্যাসের প্রতি লিটারে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা করার আবেদন করেছেন ব্যবসায়ীরা। গণশুনানিতে বিভিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কোম্পানির এসব প্রস্তাব মূল্যায়নের পর বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি তাদের নিজস্ব প্রতিবেদন উপস্থাপন করে।

কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবনার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য বর্তমান ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে। নতুন প্রস্তাবনায় বেসরকারি এলপিজি বোতলজাতকরণ ও মজুত বাবদ খরচ প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৩ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কারখানার পরিচালনা ব্যয়, শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন খরচ এবং ব্যবসায়ী মূলধনের ওপর নির্দিষ্ট রিটার্ন বিবেচনায় নিয়ে এই সুপারিশ করা হয়েছে। শুনানির নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর বিধান থাকলেও, ধারণা করা হচ্ছে নভেম্বরের শুরুতেই বিইআরসি নতুন দাম ঘোষণা করতে পারে।

অপরদিকে যেসব প্রতিষ্ঠান বৈধ অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত মূলধন বা অন্যান্য জটিলতার কারণে গ্যাস আমদানি করতে পারছে না, তাদের পক্ষ থেকে পৃথক পাইকারি দাম নির্ধারণের জোরালো দাবি তোলা হয়। গণশুনানির সমাপ্তি বক্তব্যে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ আশ্বস্ত করে জানান, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ যৌক্তিকতা বজায় রেখেই এলপিজির নতুন দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

/আশিক


ফের ঊর্ধ্বমুখী মার্কিন মুদ্রা: খোলা বাজারে ও ব্যাংকে বাড়ছে ডলারের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৮:৫৪:২০
ফের ঊর্ধ্বমুখী মার্কিন মুদ্রা: খোলা বাজারে ও ব্যাংকে বাড়ছে ডলারের দাম
ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংক ও খোলাবাজার— উভয় ক্ষেত্রেই মার্কিন ডলারের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠায় তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার সরবরাহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রতি ডলার ১২৪ টাকা থেকে ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা দরে ব্যাংকগুলোকে এই অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর আগে গত গত ২০ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা দরে বিক্রি করেছিল।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোতে মার্কিন ডলারের গড় দাম প্রায় ১ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, খোলা বাজারে বা কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ২ টাকা। মূলত বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ক্রমবর্ধমান চাপ ও দামের ঊর্ধ্বগতি সামাল দিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে এই ডলারের জোগান দিচ্ছে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৮:১৩:২০
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং খাদ্যশস্য পরিবহনে নানান বাধার কারণে চলতি ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে সামগ্রিক পণ্যমূল্য প্রায় ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। বুধবার প্রকাশিত সংস্থাটির এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কা, চলমান যুদ্ধের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেলে এবং রুশ তেল অবকাঠামোর ক্ষতি অব্যাহত থাকলে বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম প্রায় ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পরের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ৫.২ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। ২০২০ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার বছরটি বাদ দিলে গত চার দশকের মধ্যে এটিই হবে জ্বালানি সরবরাহ হ্রাসের রেকর্ড পরিমাণ পতন।

অন্যদিকে, চলতি বছর বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম দশ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে এবং পরবর্তীতে ২০২৭ সালে তা আরও সাত শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেলে দুই বছরের ব্যবধানে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির হার প্রায় ১৮ শতাংশে দাঁড়াবে। এর পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনে অপরিহার্য উপাদান সারের দামও এ বছর ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণসাগর দিয়ে খাদ্যশস্য পরিবহনে প্রতিবন্ধকতা, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি খাদ্যপণ্যের বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে তীব্র এল নিনোর প্রভাবে খাদ্যসংকটের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে খাদ্যের দাম পূর্বাভাসের চেয়ে আরও ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও চরম দারিদ্র্যের হার বাড়িয়ে দিতে পারে।

এদিকে, সরবরাহে ধারাবাহিক বিঘ্ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইলেকট্রিক ভেহিকল বা বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং তথ্যকেন্দ্র বা ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে চলতি বছর ধাতুর দাম ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও টিনের মতো প্রয়োজনীয় ধাতুর দাম নতুন রেকর্ড গড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ভূরাজনৈতিক নানা অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের মতো মূল্যবান ধাতুর দাম প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে এই পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন যে, পণ্যের বৈশ্বিক বাজার বর্তমানে একসাথে একাধিক বড় ধরনের ধাক্কার মুখোমুখি হয়েছে।

জ্বালানির বর্ধিত খরচ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে নানাবিধ বিঘ্ন বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক চাপ তৈরি হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫টি দেশকে প্রায় ৮৭০ কোটি ডলারের স্বল্প সুদের ঋণসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।

সূত্র: রয়টার্স


সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় পতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৮:০৭:৪৮
সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির জোরালো সম্ভাবনার ফলে বিশ্ববাজারে স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামে বড় ধরনের পতন পরিলক্ষিত হয়েছে। মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এই দরপতন ঘটে, যা নিয়ে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো মূল্যবান এই ধাতু মন্দার মুখে রয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১.১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২২.১৯ ডলারে নেমে আসে এবং একই সময়ে ডিসেম্বরের ফিউচার মূল্য ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫ ডলারে দাঁড়ায়।

এর আগে বুধবার মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও মূল্যস্ফীতির আরও তথ্য এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরিস্থিতি মূল্যায়নের সুযোগ রাখতে ঋণ গ্রহণের খরচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রেখেছে। বাজারের মূল পরিমাপক হিসেবে বিবেচিত যুক্তরাষ্ট্রের পিসিই মূল্যসূচক প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা বিশ্লেষকদের মতে, এই ডাটা যদি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়, তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা আরও জোরালো হবে এবং স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের হিসাব অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ ধরে ট্রেড করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। সাধারণত সুদহার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এর আকর্ষণ হ্রাস পায়।

এদিকে ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ ও জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামাও বাজারের গতিপথকে প্রভাবিত করছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স কর্তৃক ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়িকে শান্তি আলোচনার চিঠি পাঠানোর পর জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে এবং তেলের দাম কমেছে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে আরও কঠোর মুদ্রানীতি নিতে হতে পারে, যা স্বর্ণের দামকে নতুন সর্বনিম্ন স্তরে ঠেলে দিতে পারে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য ধাতুর বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে; স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২.৪ শতাংশ কমে ৫২.৬৭ ডলার, প্লাটিনামের দাম ২.৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫০২.৬১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ২.৫৫ ডলারে নেমে এসেছে। সার্বিকভাবে পিসিই মূল্যস্ফীতি, ফেডের ভবিষ্যৎ নীতি এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিই আগামী দিনে এই বাজারের দিক নির্ধারণ করবে।

সূত্র: রয়টার্স


রমজানে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৭:৫৪:৪৫
রমজানে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানিয়েছেন, রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে পণ্যের কোনো ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়িক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল ও চিনির মতো আমদানিনির্ভর পণ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, পাইপলাইনের এই মজুত বাজার স্থিতিশীল রাখতে পুরোপুরি যথেষ্ট। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য এবং জাহাজভাড়ার ওঠানামা যে আমদানি ব্যয় ও দেশীয় বাজারের দাম নির্ধারণে প্রভাব ফেলে, সে কথা তিনি উল্লেখ করেন। আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানিকারকদের সাথে নিয়মিত আলোচনা চলছে এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে কোনো ব্যাংকিং জটিলতা দেখা দিলে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে আলোচনা করে সমাধান করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মালয়েশিয়ার সাথে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, ওমান, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো অংশীদারদের সাথেও বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে। এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতায় এসব চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

/আশিক


বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম, প্রভাবে অস্থিরতার আভাস

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৭:৩৮:৩০
বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম, প্রভাবে অস্থিরতার আভাস
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন সুদহারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য কমেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৫.৫৯ ডলারে নেমে আসে। অথচ আগের কার্যদিবসেও মূল্যবান এই ধাতুর দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর মাসের সরবরাহের চুক্তি অনুযায়ী স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭০.২০ ডলারে স্থির হয়।

মূলত সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে সাম্প্রতিক হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ২ ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জলবায়ু ও পণ্যবাজারবিষয়ক অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইন জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং এর ফলে বাজারের প্রত্যাশার তুলনায় ফেডের আরও বেশি কঠোর মুদ্রানীতি নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় স্বর্ণের দামের ওপর এই চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার চড়া রাখার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়, যা মূলত সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় (অপরচুনিটি কস্ট) বাড়িয়ে দেয় এবং স্বর্ণের বাজারদরের জন্য এটি নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে।

বুধবার গ্রিনিচ মান সময় সন্ধ্যা ৬টায় নিজেদের বহুল প্রতীক্ষিত সুদহারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের। বাজার বিশ্লেষকদের অধিকাংশের ধারণা, এবারের বৈঠকে নীতিগত সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে। তবে সিএমই (CME) ফেডওয়াচ টুলের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর মাসেই ফেড পুনরায় সুদহার বৃদ্ধি করতে পারে—এমন ৮৪ শতাংশ সম্ভাবনা ধরে নিয়ে বাজারে লেনদেন চালাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক’ (পিসিই)-এর হালনাগাদ তথ্য প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে এই পিসিই সূচকটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ফেডারেল রিজার্ভ, যেখানে তাদের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা হলো ২ শতাংশ। স্বাধীন আর্থিক বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাস মনে করেন, পিসিই-এর প্রকাশিত তথ্য যদি প্রত্যাশার তুলনায় ইতিবাচক আসে এবং ফেড যদি প্রত্যাশার চেয়ে কম কড়া অবস্থান নেয়, তবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

উচ্চ মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বা ইয়েল্ড, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার পূর্বাভাসের কারণে ২০২৬ সালে স্বর্ণের সম্ভাব্য দর নিয়ে নিজেদের পূর্বাভাস টানা দ্বিতীয় প্রান্তিকের মতো কমিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক সাম্প্রতিক জরিপে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, ২০২৭ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম পুনরায় বড় ধরনের পুনরুদ্ধারের মুখ দেখতে পারে। ওই একই জরিপে ২০২৬ সালের জন্য প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামের পূর্বাভাসও টানা তৃতীয় প্রান্তিকের মতো কমানো হয়েছে।

বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দর বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এদিন স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৪.০৪ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩৮.৫০ ডলারে। তবে এর বিপরীতে প্যালাডিয়ামের দাম ০.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৭.৮০ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

পাঠকের মতামত: