ঈদের ছুটিতে ব্যাংকিং সেবা কীভাবে পাবেন, জানুন বিস্তারিত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই দীর্ঘ ছুটির সময় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বিকল্প ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে ব্যাংকের শাখা বন্ধ থাকলেও গ্রাহকদের আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে না।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের সময় সাধারণত নগদ অর্থের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই এই সময়ে এটিএম বুথ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাই গ্রাহকদের প্রধান ভরসা হয়ে ওঠে। ব্যাংক বন্ধ থাকলেও গ্রাহকেরা এটিএম কার্ড ব্যবহার করে বুথ থেকে টাকা তুলতে পারবেন। পাশাপাশি পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা ও লেনদেন করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস যেমন বিকাশ, রকেট ও নগদ—এই সব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু থাকবে। ফলে ব্যাংক শাখা বন্ধ থাকলেও অনলাইন ও মোবাইলভিত্তিক আর্থিক লেনদেন অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
তবে দীর্ঘ ছুটির সময়ে অনেক সময় এটিএম বুথে নগদ অর্থের সংকট দেখা যায়। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ঈদের ছুটির সময় এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, শুধু এটিএম নয়—পিওএস, কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে হবে।
বর্তমানে দেশে ব্যাংকিং সেবার ডিজিটাল ব্যবস্থাও দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংক নতুন হিসাব খোলার সময় গ্রাহকদের এটিএম কার্ড প্রদান বাধ্যতামূলক করেছে। ফলে নতুন গ্রাহকদের প্রায় সবার কাছেই এটিএম কার্ড রয়েছে।
এ ছাড়া অনেক ব্যাংক এখন ক্যাশ রিসাইকেল মেশিন বা সিআরএম স্থাপন করছে, যার মাধ্যমে একই মেশিন ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন ও জমা—দুই ধরনের সেবাই পাওয়া যায়। ফলে গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বিভিন্ন ব্যাংকের মোট ১২ হাজার ৭১৩টি এটিএম বুথ এবং ৮ হাজার ৪৮৩টি ক্যাশ রিসাইকেল মেশিন রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৭৩টি পয়েন্ট অব সেল মেশিন ব্যবহার করে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করা যাচ্ছে।
দেশের ব্যাংকগুলো এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করেছে। যদিও একজন গ্রাহকের একাধিক ব্যাংকের কার্ড থাকতে পারে, তবুও ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসা গ্রাহকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
এ ছাড়া ব্যাংকগুলোর নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এখন তাৎক্ষণিকভাবে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের গ্রাহকের কাছে টাকা পাঠানো সম্ভব। ফলে ঈদের ছুটির সময় ব্যাংক শাখা বন্ধ থাকলেও অর্থ লেনদেনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার বিস্তার এবং এটিএম ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবার উন্নয়নের ফলে দীর্ঘ সরকারি ছুটির সময়েও আর্থিক লেনদেনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।
-রাফসান
পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর
একীভূত হওয়া চরম তারল্য সংকটে থাকা পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য অর্থ উত্তোলনের শর্ত আরও শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে শুধু গ্রাহকের নিজের চিকিৎসা নয়, বরং মা-বাবা, সন্তান, ভাই-বোন ও স্বামী-স্ত্রীর চিকিৎসা এবং বিয়েসহ অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা যাবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পর্ষদ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।
যে পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এই সংশোধিত স্কিম প্রযোজ্য হবে সেগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আমানতকারীদের আটকে থাকা অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়ার জন্য পূর্বঘোষিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায় কয়েকটি সংশোধনী পর্ষদে উত্থাপন করা হয়। সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ববর্তী নীতিমালায় শুধুমাত্র আমানতকারীর নিজের জরুরি চিকিৎসার ওপর বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা গেছে, আমানতকারীদের পরিবারের সদস্যদের অসুস্থতা কিংবা সন্তানের বিবাহের মতো অতীব জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনেও গচ্ছিত অর্থ তোলার প্রয়োজন পড়ে। নতুন নীতিমালায় এসব জরুরি মানবিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
মূলত বিগত সরকারের আমলে ব্যাংকগুলোতে অনিয়ম ও অনভিপ্রেত ঋণ বিতরণের ফলে এগুলো তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে অক্ষম হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যাংকগুলোকে একীভূতকরণ ও বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়।
বর্তমানে আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল ও সরকারের বিশেষ মূলধনি সহায়তায় এসব ব্যাংকের ক্ষুদ্র আমানতকারীদের অর্থ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিশোধ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ ২২ হাজার আমানতকারীকে ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে জটিল সমস্যায় থাকা অন্যান্য আমানতকারীরাও বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
/আশিক
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী, দেশের বাজারে উল্টো পতন
মার্কিন ডলারের আন্তর্জাতিক সূচকে কিছুটা পতন দেখা দেওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গ্রিনিচ মান সময় (GMT) সকাল ৬টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। মূল মান পরিবর্তনহীনতার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগস্টে সরবরাহযোগ্য স্বর্ণের ফিউচার্স মার্কেট লেনদেন পরিচালনা করছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতি ও সুদের হার সংক্রান্ত স্পষ্ট বার্তার অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা চোখ রাখছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পরবর্তী সভার ওপর। ফেড চেয়ারম্যানের বার্তা এবং ডলারের মানের তারতম্যই আগামী দিনে আন্তর্জাতিক মূল্যবান ধাতুর বাজারের দিক নির্ধারণ করবে।
এদিকে, বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মধ্যেও স্থানীয় চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশের বাজারে ফের কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) থেকেই দেশজুড়ে নতুন এই নির্ধারিত দর কার্যকর রয়েছে।
বাজুসের নতুন রেট অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা কমে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, দেশের স্থানীয় বাজারে তেজাবি (খাঁটি) স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার সমন্বয় করে দাম আবার পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান বিএসটিআইয়ের
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে বেসরকারি গবেষণার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট উদ্বেগের মাঝে জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে, পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কোনো ব্র্যান্ড বা টুথপেস্টকে নিরাপদ বা ক্ষতিকর হিসেবে সিদ্ধান্ত দেওয়া যৌক্তিক নয়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, তারা বাজার এবং উৎপাদন কারখানা উভয় স্থান থেকেই টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে দেশি ও বিদেশি স্বীকৃত ল্যাবে পুনরায় পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। এই পরীক্ষায় মানদণ্ড লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) নামক এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার দাবি করা হয়। এর প্রেক্ষিতে বিএসটিআই জানায়, ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট আকারের এই প্লাস্টিক কণার সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিশ্বব্যাপী এখনও চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা চলমান। ভারত, পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কাসহ বহু আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেই এর অনিচ্ছাকৃত উপস্থিতির সীমা বা পরীক্ষার অভিন্ন কোনো মানদণ্ড এখনও নির্ধারিত হয়নি।
বিএসটিআই আরও উল্লেখ করে, বাংলাদেশের জাতীয় মানদণ্ডে উৎপাদনে অনুমোদিত ৮১টি উপাদানের তালিকায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক নেই, ফলে অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছাকৃতভাবে এটি ব্যবহারের সুযোগ নেই। কোনো নমুনায় প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেলেই তা ক্ষতিকর বা ইচ্ছাকৃত প্রয়োগ বলা সঠি নয়; কণার উৎস ও ধরন জানতে বিশদ পরীক্ষা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে ইএসডিও-এর কাছে গবেষণা পদ্ধতি চাওয়া হয়েছে এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন, বিশেষজ্ঞ ও দন্তচিকিৎসকদের সমন্বয়ে টুথপেস্টের বর্তমান জাতীয় মানদণ্ড পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
/আশিক
এলসির চাপ ও তীব্র চাহিদায় ব্যাংকগুলোতে বাড়ল ডলারের দর
প্রবাসীদের পাঠানো আকর্ষনীয় রেমিট্যান্স কিনতে দেশীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রতিযোগিতা বেড়েছে, যার জেরে আমদানিকারক ও সাধারণ গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা ডলারের বিনিময় হারও ঊর্ধ্বমুখী। সোমবার ব্যাংকগুলো প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৮৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৯০ পয়সায়। একই দিনে আমদানি দায় নিষ্পত্তির এলসি খোলা ও সাধারণ গ্রাহকদের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে ডলারের দর ধরা হয়েছে ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব ও বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিল্পখাতের উদ্যোক্তা এবং সরকারি পর্যায়ে এলসি বা ঋণপত্র খোলার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে মার্কিন ডলারের তীব্র চাহিদা তৈরি হয়েছে। বাজারে অতিরিক্ত চাহিদার বিপরীতে প্রয়োজনীয় জোগানের সংকট তৈরি হওয়ায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো থেকে প্রতিযোগিতা করে বাড়তি দরে প্রবাসীদের ডলার সংগ্রহ করছে।
বাজার তথ্য বলছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডলারের দামে দৃশ্যমান ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। গত সপ্তাহে যেখানে রেমিট্যান্সের ডলার মিলত ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সায় এবং আন্তঃব্যাংক লেনদেনে যার গড় ছিল ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা, সেখানে চলতি সপ্তাহে দর বেড়ে আন্তঃব্যাংকেও প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।
রেমিট্যান্সের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে রপ্তানি বিল প্রত্যাবাসন বা রপ্তানি আয়ের ডলারের দরও সমান্তরালে বেড়েছে। সোমবার বাজারজুড়ে সিংহভাগ ব্যাংক প্রতি ডলার বিক্রি করেছে ১২৩ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা হারে, যেখানে এ দিন গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ১২৩ টাকা ৯২ পয়সা—যা আগের সপ্তাহের গড় দর ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সার চেয়ে লক্ষণীয়ভাবে বেশি।
টাকার বিপরীতে ডলারের এই মান বৃদ্ধিকে অর্থনীতির অন্য কোণ থেকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের ধারণা, রেমিট্যান্সে ডলারের উঁচুমূল্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাংকিং ও বৈধ চ্যানেলে বেশি বেশি অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি রপ্তানিকারকরা তাদের আয়ে বেশি টাকা ফেরত পাওয়ায় দেশটির সার্বিক রপ্তানি বাণিজ্যেও এটি গতি আনবে।
/আশিক
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা বাড়ল
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে আরো সময় লাগতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে সচিব কমিটির দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনিক জটিলতা ও নীতিগত পর্যালোচনার পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে আরো অন্তত দুই থেকে তিন মাস সময় লেগে যেতে পারে।
গত রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন সচিব কমিটির সদস্যরা। এতে নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন সুপারিশ, রাষ্ট্রের ওপর এর সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব, সরকারের বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, পে স্কেল-সংক্রান্ত ফোকাল কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক থেকে বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বর্তমান আর্থিক চাপ বিবেচনায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার জোর পরামর্শ দিয়েছে। সম্প্রতি আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরকালে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় পে স্কেলের সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরে। তবে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা আইএমএফের এই প্রস্তাব পুরোপুরি মানতে ইচ্ছুক নন। তাদের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশে সাময়িক বিলম্ব হলেও প্রক্রিয়াটি থামিয়ে না রেখে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী অক্টোবরের মধ্যেই নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে আরও দুই থেকে তিনটি বৈঠক করতে হতে পারে। সচিব কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ পেশের পর মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেলে অর্থ বিভাগ গেজেট জারি করবে। প্রাথমিকভাবে পে কমিশনের দেওয়া সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ভাবনা থাকলেও সে বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
রবিবারের বৈঠকে জাতীয় বাজেট ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়ের গতি এবং দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির চিত্র খতিয়ে দেখা হয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি, অভ্যন্তরীণ গ্যাস সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। সব দিক বিবেচনা করে বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় কতটা সঙ্গত হবে, তা পুনরায় খতিয়ে দেখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আইএমএফ চায় আগামী অক্টোবরে থাইল্যান্ডে তাদের বার্ষিক সভার পর এবং নভেম্বরে নতুন প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের সময় এ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা সম্পন্ন হোক।
/আশিক
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল নিয়ে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পূর্বাভাস
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো জুলাই মাস থেকে কার্যকরের ঘোষণা থাকলেও এখন পর্যন্ত এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেনি সরকার। বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা কেমন হবে, তা নিয়ে সরকারি পর্যালোচনা অব্যাহত থাকলেও চূড়ান্ত গেজেট না হওয়ায় একধরনের অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন চাকরিজীবীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বহুল আলোচিত নবম পে স্কেল কার্যকর করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সচিব কমিটির পর্যালোচনা শেষ করে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়া। তবে দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে এটি একবারে বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশের বর্তমান অর্থনীতি ও নতুন পে স্কেল নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করেছি এবং এটি অবশ্যই কার্যকর করা হবে। তবে দেশের সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি ক্রমান্বয়ে বা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশ বর্তমানে একটি চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক সময় পার করছে। ফলে পে স্কেল কার্যকর করার ক্ষেত্রে এমন একটি সুষম পন্থা অবলম্বন করা হবে, যাতে একদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপকৃত হন এবং অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর এককালীন কোনো অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়। সরকার এ ব্যাপারে পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা জরুরি।
অন্যদিকে, উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি এখনো মূল বেতন, বিভিন্ন ভাতা এবং আইটি ও সফটওয়্যার সংক্রান্ত প্রশাসনিক বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। জানা গেছে, কমিটি আরও দুই থেকে তিনটি বৈঠকের পর তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে উপস্থাপন করবে। পরবর্তীতে মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভ করলেই কেবল নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশিত হতে পারে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তাঁদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকায়। প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেল পুরোপুরি কার্যকর করতে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান রাজস্ব আদায়ের পরিস্থিতিতে বাজেটে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।
তা ছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হঠাৎ বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি বাজারে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ তৈরি করে উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। রাজস্ব আদায় প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে তা দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি করছে।
/আশিক
স্বর্ণ কিনবেন আজ? দেখে নিন ভরিপ্রতি সর্বশেষ দাম
দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম সর্বশেষ সমন্বয়ের পর শুক্রবারও অপরিবর্তিত রয়েছে। নতুন কোনো মূল্য ঘোষণা না আসায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সর্বশেষ নির্ধারিত দরেই মূল্যবান দুই ধাতু বিক্রি হচ্ছে। সর্বশেষ গত ২২ জুলাই স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা এবং রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে সংশোধিত মূল্য কার্যকর হয়।
বাজুসের সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। একই হিসাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায়।
মূল্য সমন্বয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই মূল্য কার্যকর থাকবে।
সর্বশেষ বৃদ্ধির আগে ২১ জুলাইও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। ওই দিন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ পরপর দুই দফা সমন্বয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে মোট ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বেড়েছে।
আগের মূল্যতালিকায় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৪৬৮ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য ছিল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ টাকা। সর্বশেষ সমন্বয়ের ফলে প্রতিটি ক্যাটাগরিতেই ক্রেতাদের এখন আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৭৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৯৭৪ টাকা।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম মোট ৯৩ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ দফা মূল্য বাড়ানো হয়েছে, ৪৭ দফা কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় হয়েছে। তুলনায় ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম ৯৩ বার পরিবর্তন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল।
রুপার ক্ষেত্রেও চলতি বছর ঘন ঘন মূল্য পরিবর্তন দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত ৫৭ দফা সমন্বয়ের মধ্যে ২৯ বার দাম বাড়ানো এবং ২৮ বার কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার মূল্য পরিবর্তন হয়েছিল মাত্র ১৩ বার; এর মধ্যে ১০ বার বৃদ্ধি এবং তিনবার হ্রাস পেয়েছিল।
-রাফসান
রেকর্ড ছোঁয়ার ২৪ ঘণ্টার মাথায় ধাক্কা: স্বর্ণের পাশাপাশি দর হারাল রুপা ও প্ল্যাটিনাম
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ডের পর দিনই অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বড় ধরণের পতন দেখা গেছে স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতুগুলোর বাজারে। মূল্যস্ফীতি এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ থেকে বাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হওয়ায় এ দরপতন ঘটে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকালের উচ্চমূল্যের পর স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,০৯১.২৪ ডলারে নেমে এসেছে। অথচ আগের দিন বুধবারেই এটি ৪,১৬৫.৮৭ ডলারে পৌঁছেছিল, যা ছিল গত ৭ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। পাশাপাশি আগামী আগস্টের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার্স গোল্ডের দাম ১.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,০৯৩.৮০ ডলারে স্থিতি পেয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি পতন ঘটেছে রুপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামেও
রুপা (Spot Silver): ১.৪ শতাংশ দর হারিয়ে প্রতি আউন্স ৫৮.৮৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
প্ল্যাটিনাম (Platinum): ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স দাঁড়ায় ১,৬২৯.৬৩ ডলারে।
প্যালাডিয়াম (Palladium): সবচেয়ে বেশি ১.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স বিক্রি হয়েছে ১,২৭২.০৩ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক টানাপোড়েন, জ্বালানি তেলের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফের সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা—সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্বে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ফলে তারা ধাতব বাজার থেকে মুনাফা তুলে নিতে শেয়ার বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন, যা এই নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি করেছে।
/আশিক
আবারও বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং লোহিত সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৯৩ ডলার বা প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে। এটি গত ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ মূল্য, যা বাজারে সরবরাহ নিয়ে বাড়তে থাকা শঙ্কার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সর্বশেষ লেনদেনে ডব্লিউটিআইয়ের মূল্য ১ দশমিক ৪৪ ডলার বা ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছেছে।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইরান-সম্পর্কিত সামরিক তৎপরতা এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। এই অনিশ্চয়তার কারণেই বিনিয়োগকারীরা তেলের বাজারে ঝুঁকি মূল্যায়ন নতুন করে করছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দামের ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এসব পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা সংকট দেখা দিলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং তেলের বাজার দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়।
এর আগের লেনদেনেও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। সে সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ ডলারের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ০৭ ডলারে ওঠে। একই সঙ্গে ডব্লিউটিআইয়ের মূল্য প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা টানা কয়েক দিনের মূল্যবৃদ্ধির ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
-রাফসান
পাঠকের মতামত:
- হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, মধ্যপ্রাচ্যকে কী বার্তা দিচ্ছে 'বাহরাইন শিল্ড'?
- বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করে বাহুবল পুলিশ ফাঁড়িতে এনসিপির লিখিত অভিযোগ
- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওয়ারেন্ট: লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
- একটি দেশের সুসম্পর্ক অন্য দেশের সাথে শত্রুতা নয়: পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বার্তা
- নেতৃত্বের রদবদল: বিসিবির বোর্ড সভায় নতুন ওয়ানডে অধিনায়কের ঘোষণা
- আর্জেন্টিনা ম্যাচে প্রটোকল ভেঙে এমবোলোকে লাল কার্ড: আইএফএবি
- পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর
- মাঠে ও সেটে সমান দাপট, শুটিং স্পটে মেসির 'ভামোস' রহস্য উন্মোচন
- উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের ৮ বিভাগেই মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা
- জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক হামলা, ভূপাতিত করল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
- শ্রীমঙ্গলের পর বাহুবলে আবার বাধা: সড়কের ওপরই বসে পড়লেন এনসিপি নেতারা
- যানজট নিরসন ও যাতায়াত সহজ করতে সমন্বিত গণপরিবহন নেটওয়ার্কের পথে বাংলাদেশ
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের আশ্বাস
- আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী, দেশের বাজারে উল্টো পতন
- পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের পথে এনসিপি নেতারা
- বিশ্ব-ব্যবস্থা তত্ত্ব: পুঁজিবাদী বিশ্ব-অর্থনীতি, নির্ভরতা ও বাংলাদেশের অবস্থান
- দুই যুদ্ধ একসূত্রে: ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত কি এখন মহাযুদ্ধে রূপ নিচ্ছে?
- যে ভুলের কারণে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ হতে পারে আপনার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট
- বৈঠকের আগেই চটলেন ট্রাম্প: তোপের মুখে নেতানিয়াহু
- হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় সারজিস ও নাসীরুদ্দীনের গাড়িবহরে হামলা
- টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান বিএসটিআইয়ের
- গোপন ভিডিও কাণ্ডে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে গাড়িচালকের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
- আন্তর্জাতিক মুক্তির একদিন আগেই স্টার সিনেপ্লেক্সে আসছে নতুন ‘স্পাইডার-ম্যান’
- চুক্তি না হলে ইরানের 'পিকেক্স মাউন্টেন' পরমাণু কেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের
- এলসির চাপ ও তীব্র চাহিদায় ব্যাংকগুলোতে বাড়ল ডলারের দর
- ছাত্রদলের পদ থাকাটাই এখন চাকরির প্রধান কোয়ালিফিকেশন
- রাত ১টার মধ্যে ১৩ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা, ১ নম্বর সংকেত
- পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে বদলাতে পারে, ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা ইসরায়েলের
- জাপানের ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, জারি সুনামি সতর্কতা
- দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ বার্তা পাঠাল সরকার
- মিরপুরে টিসিবির লাইনে মর্মান্তিক দেয়াল ধস, প্রাণ হারালেন ২ জন
- কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুরে টিসিবির ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি, উপকৃত ৭১৪ পরিবার
- যুক্তরাজ্যে ওয়াটফোর্ড বাংলাদেশী অ্যাসোসিয়েশনের ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম মেজবান অনুষ্ঠিত
- স্বৈরাচারের দুঃশাসনে ক্ষতবিক্ষত: ১০ নম্বর গুনাইঘর (দক্ষিণ) ইউনিয়ন বিএনপি
- ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ফেসবুকে নতুন অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন পদ্ধতি
- সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা বাড়ল
- ২০৩০ বিশ্বকাপ ঘিরে ফিফার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, খেলা হবে ৬ দেশে
- সুন্দর দেশ গড়ার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মকেই নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ২০৩৬ সালের মধ্যে অর্থের প্রয়োজনই ফুরিয়ে যাবে: ইলন মাস্ক
- জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে বিদেশের লিগে নতুন শুরুর সামনে শামীম
- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত না হলে বিনিয়োগ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইউক্রেন ও হুতিদের প্রবেশে নতুন অঞ্চলে বিস্তৃত ইরান যুদ্ধ
- শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনা দল টিকিয়ে রাখার রাজনৈতিক কৌশল: ব্যারিস্টার পার্থ
- লেবাননে হামলা না থামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নয়: মোজতবা খামেনি
- হজ ২০২৭: প্রাথমিক নিবন্ধনের বিস্তারিত নিয়ম জারি করল সরকার
- শর্ত সাপেক্ষে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর অনুমতি
- অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে সরকার: শামা ওবায়েদ
- পুলিশকে জনবান্ধব করতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি বহাল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন
- দেশের ২৬টি টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক, ইএসডিওর গবেষণায় উদ্বেগ
- ফরিদপুরে হাজী ডাঙ্গী কবরস্থানে সোলার লাইট চুরি, অন্ধকারে আচ্ছন্ন এলাকা
- আবারও বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম
- তেল রপ্তানি বন্ধ হলে কাউকেই ছাড় দেবে না ইরান
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
- স্বর্ণ কিনবেন আজ? দেখে নিন ভরিপ্রতি সর্বশেষ দাম
- কমনওয়েলথ গেমস থেকে দ্য হানড্রেড, আজকের সূচি
- গ্রেফতারের পর মোদিকে কড়া বার্তা রাহুল গান্ধীর
- বিশ্বকাপ ও গোল্ডেন বল জয়ের পরই রদ্রির জন্য বড় দুঃসংবাদ
- রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে যা জানিয়েছে রয়টার্স
- ইরানের জব্দ অর্থ এবার জাহাজের ক্ষতিপূরণে!
- শুক্রবার রাজধানীতে বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট
- নজরুলকে নিয়ে বেরিয়ে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য
- কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুরে টিসিবির ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি, উপকৃত ৭১৪ পরিবার
- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অটল সরকার: মির্জা ফখরুল
- আইনের ফাঁকফোকর নাকি সংবিধানের দোহাই? বহিষ্কৃত এমপির ভাগ্য নির্ধারণে জটিলতা
- দেবীদ্বার ইউসুফপুরে ভিডব্লিউবি সুবিধাভোগীদের প্রশিক্ষণ ও চাল বিতরণ








