পুরো দেশই অনিশ্চয়তায়: বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে লিটনের বিস্ফোরক বয়ান

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হতে আর মাত্র ১৮ দিন বাকি থাকলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অংশগ্রহণ নিয়ে এক নজিরবিহীন ও রহস্যময় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ দল আদৌ এই বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না, কিংবা অংশ নিলে তাদের ম্যাচগুলো কোথায় অনুষ্ঠিত হবে—এসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। এমনকি দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) এ বিষয়ে কোনো পরিষ্কার ধারণা দিতে পারছে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় পুরো পরিস্থিতি একটি গভীর অনিশ্চয়তার দিকে মোড় নিয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাসের বক্তব্যেও সেই অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তির স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে, যা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে সিলেট টাইটান্সের কাছে হেরে আসর থেকে ছিটকে গেছে রংপুর রাইডার্স। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রংপুর রাইডার্স তথা জাতীয় দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাসকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও ভেন্যু নিয়ে অগণিত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। সেখানে তিনি স্বীকার করেন যে, বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নিজেও পুরোপুরি অন্ধকারের মধ্যে রয়েছেন। বিসিবির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অধিনায়কের সাথে কোনো ধরণের আলোচনা বা যোগাযোগ করা হয়নি বলে তিনি স্পষ্টভাবে জানান। এ সংক্রান্ত সরাসরি এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি কেবল এক শব্দে বলেন, ‘নো।’ বিসিবির সাথে এই মুহূর্তে কোনো আলোচনা হওয়া উচিত ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন কিছুটা দায়সারাভাবে বলেন, “আমি জানি না। কিন্তু হয়নি আমার সাথে।” অধিনায়কের এই মন্তব্য থেকে বিসিবির সাথে দলের সমন্বয়ের অভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
এই অনিশ্চয়তার মূলে রয়েছে ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা শঙ্কা। আইপিএল চলাকালীন উগ্রবাদী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দেওয়া হুমকির প্রেক্ষিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তাঁকে দল থেকে বাদ দেয়। এই ঘটনার পর বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে জানিয়ে দেয় যে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা শঙ্কা থাকায় তারা ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে আগ্রহী নয়। এর পরিবর্তে তারা শ্রীলঙ্কায় ম্যাচগুলো স্থানান্তরের জন্য আইসিসিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। গত ১৫ দিন ধরে এই ভেন্যু স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা চললেও আইসিসি এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক সিদ্ধান্ত জানায়নি। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে লিটন দাসের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো বিতর্কে জড়াতে চাননি এবং সরাসরি বলেন, “নো কমেন্টস।”
বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে এ ধরণের অনিশ্চয়তা দলের মানসিক প্রস্তুতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে লিটন দাস এই পরিস্থিতির মধ্যেই নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখতে চান। তিনি জানান, ২৩ জানুয়ারি বিপিএল শেষ হওয়ার পর এবং ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে মাঝে যে ১৪ দিন সময় থাকবে, সেই সময়েই তিনি বিশ্বকাপের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। লিটন বর্তমান এই পরিস্থিতিকে মোটেও ‘আদর্শ’ মনে করেন না, তবে বাস্তবতা মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “লাইফে অনেক কিছুই আইডিয়াল না, কিন্তু সার্টেন টাইমে চলে আসলে তা গ্রহণ করতে হয়। বিপিএলও আইডিয়াল ছিল না, তবুও খেলতে হয়েছে।”
গত প্রায় দেড় বছর ধরে টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব পালন করা লিটন দাস একটি নির্দিষ্ট ১৫ জনের দলকে বিশ্বকাপের জন্য তিল তিল করে প্রস্তুত করেছেন। অথচ এখন সেই দলটিই জানে না তাদের গন্তব্য কোথায়। এ নিয়ে ক্ষোভ ও খারাপ লাগার বিষয়ে লিটন বলেন, বিপিএল চলায় খেলোয়াড়রা খেলার মধ্যেই আছেন, তবে গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষ এবং ভেন্যু জানা থাকলে তা অনেক বেশি সহায়ক হতো। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, “আপনারা তো ইতিমধ্যে জানেন কোন ১৫ জন যাবে। তো সেই ১৫ জনও এখনো জানে না যে আমরা কোন দেশে যাবো বা কাদের বিপক্ষে খেলবো। আমার জায়গা থেকে আমি যেমন অনিশ্চয়তার মধ্যে, সবাইও তাই। আমার মনে হয় পুরো বাংলাদেশই অনিশ্চয়তার মধ্যে এই মুহূর্তে।”
ট্রাম্প-ইয়ামাল কুশল বিনিময়ের খণ্ডিত ভিডিও নিয়ে ইন্টারনেটে তুমুল বিতর্ক ও আসল সত্য
২৩তম ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের মহাকাব্যিক ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে স্পেনের ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে এক অভূতপূর্ব ও আগ্রহোদ্দীপক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। ট্রফি জয়ের পর মাঠের অন্যতম নায়ক স্পেনের তরুণ ফুটবল বিস্ময় লামিন ইয়ামাল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হাসিমুখে হাত মিলিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় একটি প্রভাবশালী টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ‘ফক্স ফাইভ’ (Fox 5)-এর প্রকাশিত এক বিশেষ ভিডিও চিত্রে এই সুন্দর ও কুশল বিনিময়ের দৃশ্যটি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।
মহা-উৎসবের এই ফাইনাল ম্যাচ শেষে বিজয়ীদের পদক নেওয়ার সময় মঞ্চে উপস্থিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে হাত মেলান লামিন ইয়ামাল। তবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে এই ঘটনার কিছু খণ্ডিত ও সম্পাদিত (এডিটেড) ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নানা ভুল বোঝাবুঝি ও তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়।
পরবর্তীতে ‘ফক্স ফাইভ’ তাদের অফিশিয়াল হ্যান্ডেলে পূর্ণাঙ্গ ভিডিওটি প্রকাশ করলে বিতর্কের অবসান ঘটে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, তরুন ইয়ামাল মঞ্চে আসতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে নিজে আগে হাত বাড়িয়ে ইয়ামালের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং অত্যন্ত প্রফুল্ল চিত্তে তার গলায় বিশ্বজয়ের মহামূল্যবান স্বর্ণপদকটি পরিয়ে দেন। শুধু তা-ই নয়, বিদায় নেওয়ার সময় এই তরুণ তুর্কির পিঠ ও কাঁধ চাপড়ে তাকে মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য বিশেষ বাহবাও দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারিতে বসে সশরীরে উপভোগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ম্যাচ শেষে জমকালো সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ফিফা (FIFA) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যৌথভাবে তিনি বিশ্বজয়ী স্পেন দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের হাতে মেডেল তুলে দেন।
ফুটবল বিশ্বের এই সর্বোচ্চ শিরোপা জয় তরুণ লামিন ইয়ামালের ক্যারিয়ারে এক অবিনশ্বর ও চিরস্মরণীয় অর্জন হিসেবে যুক্ত হলো। মাত্র ১৯ বছর বয়সে নিজের অভিষেক বিশ্বকাপেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের অন্যতম মূল কাণ্ডারি ও সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ব্যক্তিগতভাবে একটি গোল করলেও, গতি ও নিখুঁত ড্রিবলিংয়ের মাধ্যমে স্পেনের উইং ও আক্রমণভাগে তার অবদান ছিল এককথায় অনন্য ও অনবদ্য।
বিশ্বমঞ্চের এই সাফল্যের আগে ঘরোয়া ফুটবলেও দুর্দান্ত সময় পার করেছেন এই বার্সা ফরোয়ার্ড। চলমান ২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে স্প্যানিশ লা লিগার শিরোপাও নিজের শোকেসে তুলেছেন ইয়ামাল। আর এবার বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি জেতার পর ফুটবল দুনিয়ায় তাকে ঘিরে ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মাননা ‘ব্যালন ডি'অর’ (Ballon d'Or) জয়ের আলোচনাও বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে। যদিও এবারের বিশ্বকাপে টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ (Golden Ball) জয়ী স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিও ২০২৬ সালের ব্যালন ডি'অর জয়ের দৌড়ে অন্যতম শক্তিশালী ও প্রধান দাবিদার হিসেবে ফুটবল বিশ্লেষকদের চোখে এগিয়ে রয়েছেন।
/আশিক
১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ফাইনালে এমন লজ্জাজনক রেকর্ডে জড়াল আর্জেন্টিনার নাম
বিশ্বকাপ ফুটবলের মেগা ফাইনালে ইউরোপীয় পরাশক্তি স্পেনের গতি ও নিখুঁত ট্যাকটিকসের সামনে মাঠের লড়াইয়ে একপ্রকার সম্পূর্ণ অসহায় ও দিশেহারা অবস্থায় ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পুরোটা সময় জুড়েই স্প্যানিশদের একের পর এক ক্ষুরধার আক্রমণের তোড়ে কোণঠাসা হয়ে থাকা আলবিসেলেস্তেরা পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে একটিও শট (Shot on Target) নিতে পারেনি। এমনকি পরবর্তীতে অতিরিক্ত সময়ে নেওয়া তাদের দুটি শটও ছিল সম্পূর্ণ লক্ষ্যভ্রষ্ট। বিশ্বকাপ ফাইনালের দীর্ঘ ইতিহাসে এমন হতশ্রী ও নিষ্ক্রিয় পরিসংখ্যান বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটির জন্য এক পরম বিব্রতকর ও লজ্জাজনক রেকর্ডই বটে।
মাঠের লড়াইয়ে লা ফুরিয়া রোজার একের পর এক আক্রমণের সুনামি ও ঢেউ সামলে কেবল নিজেদের রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা এবং গোলরক্ষকের অতিমানবীয় দক্ষতায় ম্যাচটি কোনোমতে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে পেরেছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অবশ্য ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধেকের একেবারে শেষ মুহূর্তে ইনজুরি টাইমে (ইঞ্জুরি টাইম) আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের তারকা এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়লে দলের বিপর্যয় আরও ঘনীভূত হয়। ম্যাচের বাকি সমীকরণ ও শেষ মুহূর্তের স্নায়ুযুদ্ধ আর্জেন্টিনা দলকে ১০ জন নিয়ে চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পার করতে হয়।
ম্যাচের সামগ্রিক পরিসংখ্যানই স্পষ্ট বলে দিচ্ছে মাঠের চিত্রটা ঠিক কতটা একতরফা ও স্পেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মূল লড়াইয়ে স্পেন যেখানে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ চূর্ণ করে ১৫টি বিপজ্জনক শট নিয়েছিল, সেখানে আর্জেন্টিনার নামের পাশে শটের সংখ্যা ছিল একদম ‘শূন্য’! ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বোঝাতে আরেকটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট—পুরো ম্যাচে স্প্যানিশরা কর্নার পেয়েছিল ৯টি, আর বিপরীতে আর্জেন্টিনা দলগতভাবে আদায় করতে পেরেছিল মাত্র ১টি কর্নার। মাঠের ভেতরে স্পেনের এমন একচ্ছত্র ও দানবীয় আধিপত্যের পরও অবশ্য আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের ডিফেন্স লাইনের কারণে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো গোলমুখ খুলতে পারেনি স্পেন।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুর দিকেই স্পেনের আক্রমণভাগ একবার বল আর্জেন্টিনার জালে জড়ালেও রেফারি ফাউলের কারণে বিতর্কিতভাবে তা বাতিল করে দেন, যা নিয়ে মাঠে সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়। তবে স্প্যানিশদের আটকে রাখা যায়নি; অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত জালের দেখা পায় স্পেন। দলের পক্ষে ফেরান তরেসের করা এই একমাত্র জয়সূচক গোলটি শেষ পর্যন্ত ধরে রেখেই বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় পরে তারা।
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসের অন্য সব আসরকে ছাড়িয়ে এবারের ফাইনালটি একটি চরম নেতিবাচক ও বিব্রতকর দিক থেকে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ক্রীড়া জগতের বিখ্যাত পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওপ্টা (Opta)-র অফিসিয়াল তথ্য ও উপাত্ত অনুযায়ী, ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিখুঁত রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে এই প্রথম কোনো দল নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় প্রতিপক্ষের গোলমুখ লক্ষ্য করে একটিও শট নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলো। আর ফুটবল ইতিহাসের এই নজিরবিহীন ও বিব্রতকর রেকর্ডের পাতায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে নাম উঠে গেল লিওনেলের মেসির আর্জেন্টিনার।
/আশিক
আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের বিশ্বজয়, অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসাল ইরান
ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালের মহাকাব্যিক মহাসমরে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলের ব্যবধানে স্তব্ধ করে দিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর নিজেদের ইতিহাসের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলেছে ইউরোপসেরা পরাশক্তি স্পেন। লা ফুরিয়া রোজার এই ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ের পর বিশ্বজুড়ে এখন লামিন ইয়ামাল ও মিকেল মেরিনোদের নান্দনিক ও গতিময় ফুটবলের জয়গান চলছে। স্পেনের বিশ্বজয়ের এই অভূতপূর্ব উন্মাদনা ও উদযাপনে এবার ভিন্ন মাত্রা যোগ করে শরিক হলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান।
সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করায় স্পেনের ফুটবল দল ও দেশটির জনগণকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে তেহরান প্রশাসন। তবে এই অভিনন্দনের পেছনে ফুটবলীয় দক্ষতার পাশাপাশি জড়িয়ে গেছে গভীর ভূরাজনৈতিক সমীকরণ। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্পেনের এই মহাকাব্যিক জয় বিশ্বজুড়ে সেই সব মুক্তিকামী মানুষের মনে পরম আনন্দ এনে দিয়েছে, যারা আন্তর্জাতিক মহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতিমালার ঘোর বিরোধী।
বৈশ্বিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও দেখা গেছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানানো এবং যুদ্ধের বিষয়ে মাদ্রিদ প্রশাসনের কঠোর ও সমালোচনামূলক অবস্থানের কারণে বিশ্বজুড়ে বহু মানুষ ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরিবর্তে বিজয়ী দল স্পেনের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন উজাড় করে দিয়েছে।
অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক এই মেরুকরণের উল্টো পিঠে, ইসরায়েলি শীর্ষ রাজনীতিবিদ এবং দেশটির সাধারণ ফুটবল ভক্তরা মাঠের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছিলেন। এর মূল কারণ হলো, আর্জেন্টিনার বর্তমান ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই বিশ্বমঞ্চে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ও সামরিক নীতিমালার একজন অত্যন্ত সোচ্চার এবং কড়া সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফের অফিশিয়াল বক্তব্য উদৃত করে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা (IRNA)-র এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান বৈশ্বিক সংকটে ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের মানবিক অবস্থান এবং ইরানের প্রতি দেশটির পরোক্ষ কূটনৈতিক সমর্থনই প্রমাণ করে যে—স্বাধীনতা, ন্যায়পরায়ণতা ও দৃঢ়তা হচ্ছে স্পেনের মতো একটি বুদ্ধিদীপ্ত ও শ্রদ্ধাশীল জাতির প্রধান বৈশিষ্ট্য।
স্পিকার ঘালিবাফ আরও যোগ করে বলেন, ফুটবল মাঠের এই ঐতিহাসিক জয়টি কেবল স্পেনের সাধারণ জনগণের হৃদয়কেই উদ্বেলিত ও আনন্দিত করেনি, বরং বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত বহু মুক্ত, স্বাধীন, শোষিত ও ন্যায়পরায়ণ জাতির হৃদয়কেও সমানভাবে আন্দোলিত ও আনন্দিত করেছে।
ইরানি স্পিকারের এই বার্তার আগে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই স্পেনের প্রশংসা করে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন, নির্বিচার গণহত্যা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্পেনের জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের ইতিবাচক আচরণ এবং সামগ্রিকভাবে দেশটির সরকারের গৃহীত রাজনৈতিক অবস্থান বিশ্ববাসীর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অনুকরণীয় বার্তা বহন করে।
/আশিক
ট্রফি হাতছাড়া, আবেগঘন বিদায়ে কাঁদলেন লিওনেল মেসি
দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হলো না আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির। বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত ছন্দে দেখা যায়নি আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই ফুটবল মহাতারকাকে। ম্যাচ শেষে গলায় রানার্সআপের পদক ঝুলিয়ে আবেগ সামলাতে পারেননি তিনি। চোখের জল লুকানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। তবে হতাশার মধ্যেও প্রতিপক্ষের অসাধারণ পারফরম্যান্সের প্রশংসা করতে ভোলেননি মেসি।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফাইনালের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতেই। বল দখল, আক্রমণ, পাসিং এবং সুযোগ তৈরির প্রায় প্রতিটি পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনাকে ছাড়িয়ে যায় ইউরোপের দলটি। ম্যাচের হিসাব বলছে, স্পেন গোলমুখে মোট ২০টি শট নেয়, যেখানে আর্জেন্টিনা নিতে পারে মাত্র ২টি। পাশাপাশি পাসের সংখ্যাতেও স্পেনের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট; তারা ৮৪৫টি সফল পাস সম্পন্ন করে, বিপরীতে আর্জেন্টিনার পাস ছিল ৪৩৩টি।
ফাইনাল শেষে দর্শকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মেসি। কণ্ঠ ভারী হয়ে তিনি বলেন, "আমি দুঃখিত। তবে আমি জানি, আমরা আমাদের সর্বস্ব দিয়ে লড়েছি। মাঠে হৃদয়ের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি।"
প্রতিপক্ষের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক আরও বলেন, "সত্যি বলতে, স্পেন আমাদের চেয়ে ভালো ফুটবল খেলেছে। আমরা পরাজিত হয়েছি এবং সেই বাস্তবতা মেনে নিচ্ছি। কিন্তু এই একটি ম্যাচ আমাদের পুরো যাত্রাকে মুছে দিতে পারে না। আমি আমার সতীর্থ, সমর্থক এবং পুরো দেশের প্রতি কৃতজ্ঞ।"
টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। তবে স্পেনের সংগঠিত ফুটবল, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা সম্ভব হয়নি দক্ষিণ আমেরিকার দলটির। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফাইনালেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখে স্প্যানিশরা।
পরাজয়ের পরও মেসির আচরণ আবারও ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। হতাশা ও অশ্রুর মাঝেও তিনি প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং নিজের দলের প্রচেষ্টার প্রতি গর্ব প্রকাশ করেছেন।
অনেকের ধারণা, এটি ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির শেষ উপস্থিতি। সে কারণে ফাইনাল শেষে তার চোখের জল শুধুই একটি ট্রফি হারানোর বেদনা নয়; বরং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ক্যারিয়ারের এক আবেগঘন অধ্যায়ের প্রতীক হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
-রফিক
বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তাপ টেনিস কোর্টে, স্পেনের জয় নিয়ে আশাবাদী নাদাল
স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার হাইভোল্টেজ বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তাপ এখন ফুটবল মাঠ ছাড়িয়ে টেনিস কোর্টেও আছড়ে পড়েছে। বিশ্ব কাঁপানো এই মহারণের ঠিক আগমুহূর্তে নিজের পছন্দের দল বেছে নিয়েছেন টেনিস কিংবদন্তি রাফায়েল নাদাল। নিজের জন্মভূমি স্পেনের জয় নিয়ে শতভাগ আশাবাদী হলেও, প্রতিপক্ষ ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতি বরাবরের মতোই গভীর সমীহ ও শ্রদ্ধা ঝরেছে এই মহাতারকার কণ্ঠে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের এই মহাকাব্যিক ফাইনালে বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১টায় মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি স্পেন ও আর্জেন্টিনা। বহুল প্রতীক্ষিত এই ট্রফি লড়াইয়ের আগে স্বাভাবিকভাবেই স্পেনের পক্ষে নিজের জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন টেনিস দুনিয়ার অন্যতম সেরা কিংবদন্তি রাফায়েল নাদাল। ক্যারিয়ারে ২২টি গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী এই স্প্যানিশ তারকা, যিনি ২০২৪ সালে পেশাদার টেনিসকে চিরতরে বিদায় জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন বর্তমান স্প্যানিশ দলটির বিশ্বকাপ জয়ের সব ধরনের সামর্থ্য রয়েছে। ফাইনাল নিয়ে নিজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে নাদাল স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমার মনে প্রাণে বিশ্বাস, এবার আমরাই জিতব।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় নাদাল ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্পেনের প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের সেই ঐতিহাসিক সোনালী স্মৃতিও রোমন্থন করেন। তিনি লিখেছেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ফুটবল আমার অন্যতম প্রিয় একটি খেলা। ফুটবল খেলতে, টেলিভিশনে ম্যাচ দেখতে এবং নিজের জাতীয় দলকে সমর্থন করতে আমি সবসময়ই দারুণ ভালোবাসতাম। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার স্টেডিয়ামে সশরীরে উপস্থিত থাকার সেই অসাধারণ অনুভূতি আমি আজও ভুলতে পারিনি। আগামীকাল আবারও তেমন একটি ঐতিহাসিক ম্যাচ উপভোগ করার দারুণ সুযোগ পাচ্ছি। ফাইনালের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা এবং এই দেশটিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি। আমার দেশের দলের জন্য রইল অনেক শুভকামনা। ভামোস এস্পানিয়া!’
ফুটবল খেলাটির সঙ্গে নাদালের পারিবারিক সম্পর্কও অত্যন্ত গভীর। তার আপন চাচা মিগেল অ্যাঞ্জেল নাদাল স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে অতীতে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন এবং ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনা ও মায়োর্কার জার্সিতেও বিপুল সাফল্য পেয়েছেন। স্প্যানিশ রেডিও ‘এল পার্তিদাসো দে কোপে’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নাদাল জানান, তিনি ফাইনাল ম্যাচটি পরিবারের সবার সঙ্গে একসঙ্গে বসে উপভোগ করবেন।
ফাইনালে প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার শক্তিমত্তা ও রণকৌশল সম্পর্কে বলতে গিয়ে টেনিস কিংবদন্তি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা দল হিসেবে নিজেদের শক্তির জায়গাগুলো খুব নিখুঁতভাবে কাজে লাগাতে পারে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও তাদের সেই সামর্থ্যের প্রমাণ দেখা গেছে। প্রথমার্ধের খেলা খুব একটা আকর্ষণীয় না হলেও, গোল হজম করার পর তারা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে অসাধারণ ফুটবল খেলেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’
তবে প্রতিপক্ষের রণকৌশল নিয়ে বেশি মাথা না ঘামিয়ে স্পেনের খেলোয়াড়দের নিজেদের স্বাভাবিক খেলায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। নাদাল বলেন, ‘মাঠে দুই দলই নিজেদের সেরা শক্তি দিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করবে। আমাদের দলেও যথেষ্ট শক্তি ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। প্রতিপক্ষ কী করছে বা তাদের কৌশল কী—সেটা ভুলে গিয়ে পুরো বিশ্বকাপজুড়ে আমরা যেভাবে আক্রমণাত্মক ও গোছানো ফুটবল খেলেছি, ফাইনালেও সেই মান ধরে রাখতে হবে। স্পেনের খেলোয়াড়রা যদি নিজেদের সেরা ছন্দ ধরে রাখতে পারে, তবে তাদের হারানো যেকোনো দলের জন্যই খুব কঠিন হবে।’
নাদালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চলতি টুর্নামেন্টে স্পেনের পারফরম্যান্সের উন্নতি ছিল অত্যন্ত ধারাবাহিক। তিনি উল্লেখ করেন, ‘গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ থেকে শুরু করে আজ ফাইনাল পর্যন্ত দলটি ধাপে ধাপে এবং ধারাবাহিকভাবে নিজেদের খেলার উন্নতি করেছে। আমি মনে করি, লা ফুরিয়া রোজা তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো সময়ে ও সেরা ছন্দে থেকেই ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছেছে।’
নিজের দেশ স্পেনকে সর্বশক্তি দিয়ে সমর্থন করলেও প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা এবং তাদের সফল কোচ লিওনেল স্কালোনির প্রশংসা করতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি নাদাল। তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টাইন কোচ লিওর (স্কালোনি) সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে খুব ভালো ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমি তাকে খুব কাছ থেকে চিনি। তিনি যেভাবে দল পরিচালনা করেন, তা এককথায় অসাধারণ। আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের সঙ্গে গত কয়েক বছরে তিনি যা করে দেখিয়েছেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এ ছাড়া আর্জেন্টিনায় আমার অনেক ভালো বন্ধুও আছেন।’
এমনকি ফাইনালে যদি স্পেন হেরেও যায়, তবে আর্জেন্টিনার কাছে সেই পরাজয়টি তিনি খুব সহজভাবে মেনে নিতে পারবেন বলেও অকপটে স্বীকার করেন নাদাল। টেনিস কিংবদন্তি বলেন, ‘অবশ্যই আমি মাঠের লড়াইয়ে সর্বশক্তি দিয়ে স্পেনকে সমর্থন করব। কিন্তু ফুটবলের ভাগ্যে যদি আমাদের হারতেই হয়, তবে আর্জেন্টিনার কাছে সেই হার মেনে নেওয়া আমার জন্য মানসিকভাব অনেক সহজ হবে। কারণ সেই দলে আমার অনেক বন্ধু ও পরিচিত মানুষ জড়িয়ে আছেন। যদি কারও কাছে ট্রফি হারতেই হয়, তবে আমি চাইব সেটা যেন আর্জেন্টিনা এবং তাদের অসাধারণ কোচের কাছেই হোক।’
/আশিক
ঘরে বসে যেভাবে সরাসরি স্মার্টফোনে দেখবেন বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণ
সমগ্র ক্রীড়াবিশ্বকে বুঁদ করে রাখা ২৩তম ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের মহারণের যাবতীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের এই শিরোপা নির্ধারণী চূড়ান্ত লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপসেরা পরাশক্তি স্পেন।
রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ও রোমাঞ্চকর এই মেগা ফাইনাল। আন্তর্জাতিক ফুটবলের দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের এই ব্লকবাস্টার দ্বৈরথ ঘিরে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা ও উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
বাংলাদেশের কোটি কোটি দর্শক যাতে ঘরে বসেই নিখুঁতভাবে এই মহাযুদ্ধ উপভোগ করতে পারেন, তার জন্য টেলিভিশন এবং অনলাইন—দুই মাধ্যমেই বিশেষ সম্প্রচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভির (বাংলাদেশ টেলিভিশন) পাশাপাশি খেলাটি সরাসরি ও স্পোর্টস কমেন্ট্রিসহ সম্প্রচার করবে স্যাটেলাইট চ্যানেল টি-স্পোর্টস এবং সময় টেলিভিশন।
টেলিভিশন পর্দার বাইরে যারা ডিজিটাল মাধ্যমে খেলা দেখতে চান, তাদের জন্যও রয়েছে নানা বিকল্প। নির্দিষ্ট সাবস্ক্রিপশন সুবিধার আওতায় সাধারণ স্মার্টফোন, ট্যাব কিংবা স্মার্ট টিভিতে মাই রবি অ্যাপ, বাংলালিংকের জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম টফি, গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপ এবং আইস্ক্রিন (iScreen) ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বিশ্বকাপের এই মেগা ফাইনালটি সরাসরি লাইভ স্ট্রিম করা হবে।
প্রথাগত এই সব বড় মাধ্যমের পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক আরও কয়েকটি বিশেষায়িত প্ল্যাটফর্মেও ফাইনাল ম্যাচটি দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকরা। ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্পোর্টসজিফাই (Sportsgify) এবং স্পোর্টজেডএক্স (SportzDX) মোবাইল অ্যাপ থেকেও ফুটবলপ্রেমীরা সহজেই উপভোগ করতে পারবেন বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী এই রোমাঞ্চকর ম্যাচটি।
/আশিক
১৬ বছরের অপেক্ষা শেষ: আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে স্পেন
দীর্ঘ ১৬ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ আসর ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপীয় পরাশক্তি স্পেন। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবার ফুটবলের সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার পর এবার নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার লক্ষ্যে মাঠে নামবে লা ফুরিয়া রোজা। ট্রফি জয়ের এই অন্তিম লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ইউরো কাপ বিজয়ী স্পেন এবং কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মধ্যকার এই হাইভোল্টেজ দ্বৈরথকে ফুটবল দুনিয়ার অনেকেই এখন একটি অঘোষিত ‘ফাইনালিসিমা’র আবহে দেখছেন।
লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল অবশ্য চলতি বিশ্বকাপের শুরুটা খুব একটা স্বপ্নের মতো করতে পারেনি। তবে প্রথম ম্যাচের সেই চরম হতাশা ও ধাক্কা কাটিয়ে উঠে একের পর এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে বিদায় করে এখন তারা বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত মঞ্চে এসে দাঁড়িয়েছে।
গ্রুপ পর্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, 'এইচ' গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল স্পেনকে। পুরো ম্যাচে প্রায় ৭৫ শতাংশ বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে ২৭টি শট নিয়েও গোলের দেখা পায়নি স্প্যানিশরা। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো পারফরম্যান্সের কাছে আটকে যায় ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের সব আক্রমণ।
তবে প্রথম ম্যাচের এই খরা কাটিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই নিজেদের চিরচেনা ও আক্রমণাত্মক রূপে ফেরে স্পেন। সৌদি আরবকে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের আত্মবিশ্বাস পুনরুত্থান করে তারা। তরুণ বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালের জাদুকরী গোলে শুরু হওয়া সেই ম্যাচে দলের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারিয়াসাবালের জোড়া গোল এবং একটি আত্মঘাতী গোলের ওপর ভর করে স্পেন বড় জয় তুলে নেয়। এরপর গ্রুপের শেষ ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে স্পেন। ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন আলেক্স বায়েনা।
নকআউট পর্বে পা রেখেই স্পেনের সামনে আসে একের পর এক বড় বাধা। প্রথম নকআউট ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামে তারা। দুর্দান্ত ও ক্ষুরধার আক্রমণ এবং ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগের মেলবন্ধনে অস্ট্রিয়ানদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় লা ফুরিয়া রোজা। দলের পক্ষে মিকেল ওয়ারিয়াসাবাল আবারও জোড়া গোল করেন এবং স্প্যানিশ রক্ষণভাগ পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষকে কার্যত কোনো গোলমুখী সুযোগই তৈরি করতে দেয়নি।
পরবর্তী রাউন্ডে অর্থাৎ শেষ ষোলোর লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগালের মুখোমুখি হয় স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের ম্যাচ গোলশূন্য থাকায় খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। সেখানে ৯১ মিনিটের মাথায় মিকেল মেরিনোর করা এক জাদুকরী গোলে ১-০ ব্যবধানের নাটকীয় জয় পায় স্পেন। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষেও একই রকম শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ ও নাটকীয়তা দেখা যায়। সেখানেও মিডফিল্ডার মেরিনোর সমীকরণ নির্ধারণী গোলেই ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে সেমিফাইনালের টিকিট কাটে দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
সেমিফাইনালের মেগা ম্যাচে শক্তিশালী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে স্তব্ধ করে দিয়ে ফাইনালের মঞ্চে আরোহণ করে স্পেন। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের পায়ে রাখা, নিখুঁত দ্রুত পাসিং ও সুসংগঠিত আক্রমণের মাধ্যমে ফরাসিদের ওপর পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করে খেলে দে লা ফুয়েন্তের দল। মিকেল ওয়ারিয়াসাবাল ও পেদ্রো পোরোর প্রথমার্ধের দুই গোলে ফ্রান্সকে আসর থেকে বিদায় করে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখে স্পেন। কিলিয়ান এমবাপ্পেদের বিশ্বসেরা আক্রমণভাগও সেদিন স্পেনের শক্তিশালী ডিফেন্স লাইনে ফাটল ধরাতে পারেনি।
বিশ্বকাপের এই মহাকাব্যিক শেষ লড়াইয়ে এবার স্পেনের সামনে অপেক্ষা করছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন ও বড় পরীক্ষা। শিরোপারক্ষার মঞ্চে তাদের প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, যার মাঠের ও মনের নেতৃত্বে রয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নায়ক লিওনেল মেসি।
একদিকে লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারিয়াসাবাল ও মিকেল মেরিনোদের নিয়ে গড়া স্পেনের টগবগে তরুণ ও গতিময় শক্তি, অন্যদিকে লিওনেল মেসির পর্বতসম অভিজ্ঞতা এবং আর্জেন্টিনার চেনা জয়ের লড়াকু মানসিকতা; সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের এই ফাইনাল ম্যাচটি হতে যাচ্ছে দুই ভিন্ন প্রজন্ম এবং দুই ঘরানার ফুটবল দর্শনের এক অনবদ্য মহারণ। ১৬ বছর পর শিরোপার এত কাছে এসে স্পেন কি তাদের দ্বিতীয় সোনালী ট্রফিটি ঘরে তুলতে পারবে, নাকি মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট অক্ষুণ্ণ রাখবে—তার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে রোববারের এই মেগা ফাইনাল শেষে।
/আশিক
১০৩ ম্যাচের গোলবন্যা ও লড়াকু ফুটবল: অনন্য এক বিশ্বকাপের রূপরেখা
বিশ্বকাপ ফুটবলের বৈশ্বিক শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত মহারণের বাঁশি বাজার ঠিক আগমুহূর্তে চলমান টুর্নামেন্টের সার্বিক গতিপ্রকৃতি, অভূতপূর্ব গোলবন্যা এবং মাঠের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে নিজের অত্যন্ত তথ্যসমৃদ্ধ ও খোলামেলা বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফুটবল কিংবদন্তি টোবিন হিথ।
২০০৮ ও ২০১২ সালের অলিম্পিক গেমসে স্বর্ণপদক বিজয়ী এবং ২০১৫ ও ২০১৯ সালের নারী বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ব্যাক-টু-ব্যাক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করা এই তারকা এবার পুরুষ বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনন্য এক নজির গড়েছেন। তিনি ২০২৬ পুরুষ বিশ্বকাপের ফিফা টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের একমাত্র নারী বিশ্লেষক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক একান্ত ও বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি চলতি বিশ্বকাপের বিভিন্ন চমকপ্রদ দিক নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
টোবিন হিথ তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন, চলতি ফুটবল মহাযজ্ঞের ১০৩টি ম্যাচ শেষে এখন পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে রেকর্ডসংখ্যক ৩০৭টি গোল হয়েছে, যার গাণিতিক গড় হিসাব করলে প্রতি ম্যাচে গোলসংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩টি। ফুটবল ইতিহাসের এই অভূতপূর্ব ও অবিশ্বাস্য গোলবন্যার পেছনে টুর্নামেন্টের পরিবর্তিত নতুন ফরম্যাট এবং দল সংখ্যা বৃদ্ধির যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটিকে প্রধান ও মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন হিথ।
তিনি জানান, আধুনিক ফুটবলের কৌশলগত বিবর্তন ও আধুনিকায়ন এই আসরে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। মাঠের দলগুলো এখন প্রথাগত ফুটবল ছেড়ে উইং এবং ফুল-ব্যাকদের অত্যন্ত নিখুঁত ও আক্রমণাত্মক ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের অনেক ওপর থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত গতিতে কাউন্টার-প্রেস করার কৌশল দলগুলোর খেলায় দেখা যাচ্ছে। বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের সম্পূর্ণ ভিন্ন ফুটবলশৈলী ও ঘরানা এই টুর্নামেন্টে একে অপরের মুখোমুখি হওয়াতেই আসরটি বিশ্বজুড়ে সাধারণ দর্শকদের জন্য ভীষণ রোমাঞ্চকর ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
এবারের ফুটবল আসরে আফ্রিকার মহাদেশের দলগুলোর প্রদর্শিত অদম্য সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এই মার্কিন নারী তারকা। বিশেষ করে কেপ ভার্দে, মিশর ও আইভরি কোস্টের লড়াকু ফুটবল শৈলী তাকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করেছে। টুর্নামেন্টের ফাইনালে নাম লেখানো দুই বিশ্ব পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও স্পেনের বিরুদ্ধে মাঠের লড়াইয়ে কেপ ভার্দে যেভাবে বুক চিতিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তা ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সত্যিই অবিশ্বাস্য ও অভাবনীয়।
তুলনামূলক নিম্ন সারির রক্ষণভাগ নিয়েও পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে আফ্রিকার দলগুলোর এমন ভয়ডরহীন ও সাহসী ফুটবল প্রদর্শন আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য নারী বিশ্বকাপেও অত্যন্ত ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকারে হিথ অকপটে স্বীকার করেন যে, এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের নান্দনিক ফুটবল তাকে সবচেয়ে বেশি মানসিক উত্তেজনা ও রোমাঞ্চের মধ্যে রেখেছে। ফরাসি শিবিরের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ওসমানে দেম্বেলেদের গতিশীল পাসিং ও আক্রমণভাগের নিখুঁত কম্বিনেশনকে তিনি আধুনিক ফুটবলের এক অভাবনীয় ও চমৎকার উদ্ভাবন হিসেবে আখ্যা দেন।
এর পাশাপাশি জুড বেলিংহাম, আর্লিং হালান্ড এবং লিওনেল মেসির মতো বিশ্বফুটবলের মহাতারকারা টুর্নামেন্টে নিজেদের নামের প্রতি শতভাগ পূর্ণ বিচার করেছেন বলে তিনি মনে করেন। মাঠের লড়াইয়ে তরুণ ও প্রবীণ—এই দুই প্রজন্মের ফুটবলারদের অসাধারণ মেলবন্ধনের কারণে বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ এখন অনেক বেশি নিরাপদ ও সঠিক হাতে রয়েছে বলে তার গভীর বিশ্বাস।
স্পেন দলের তরুণ তুর্কিদের চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের প্রশংসা করতে গিয়ে হিথ বিশেষভাবে স্প্যানিশ রক্ষণভাগের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করেন। এত কম বয়সে স্পেনের মূল রক্ষণভাগে কুবার্সির এমন ঠান্ডা মাথার ও পরিপক্ব পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্বের সবাইকে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
একই সঙ্গে মেগা ফাইনালের এই মহাসমর ও রণক্ষেত্রে স্পেনের আরেক তরুণ বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামালের বুট থেকে একটি জাদুকরী ও অতিমানবীয় মুহূর্ত দেখার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এর পাশাপাশি, ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে এসে ৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি যেভাবে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে সেরা খেলোয়াড় হওয়ার মতো অতিমানবীয় পারফরম্যান্স দেখিয়ে চলেছেন, তাকে ‘অতিপ্রাকৃতিক’ বা অলৌকিক ঘটনা বলে বর্ণনা করেন টোবিন হিথ।
/আশিক
ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগে মেসির আবেগঘন বার্তা: 'ট্রফি জেতাই সবকিছু নয়'
বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্তিম শিরোপা নির্ধারণী মহারণের বাঁশি বাজতে আর মাত্র হাতেগোনা কয়েক ঘণ্টা বাকি। ফুটবল ক্যারিয়ারের চিরকাঙ্ক্ষিত ও ঐতিহাসিক শেষ বিশ্বকাপ ফাইনালের আঙিনায় দাঁড়িয়ে তীব্র আবেগ ও অনুভূতিতে ভাসলেন আধুনিক ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। স্পেনের বিরুদ্ধে মেগা ফাইনালে মাঠে নামার ঠিক আগমুহূর্তে নিজের প্রিয় সতীর্থ, বিশ্বস্ত কোচিং স্টাফ এবং পুরো আর্জেন্টিনা দলকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৃদয়স্পর্শী ও অনুপ্রেরণাদায়ী একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন আলবিসেলেস্তেদের এই মহানায়ক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই আবেগঘন বার্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে দলের সব খেলোয়াড় ও স্টাফদের সঙ্গে কাটানো একটি সুন্দর মুহূর্তের ছবি পোস্ট করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসি লিখেছেন, দিনশেষে কেবল ট্রফি জেতা কিংবা চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাই জীবনের সবকিছু নয়; বরং ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মূল্যবান ও শ্রেষ্ঠ দিক ছিল এই দীর্ঘ পথচলা, মাঠ ও মাঠের বাইরে একসাথে লড়াই করা এবং একটি একান্নবর্তী পরিবারের মতো প্রতিটি আনন্দ-বেদনার মুহূর্ত নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া।
ফুটবল জাদুকর মেসি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় দলের হয়ে কাটানো এতগুলো বছরের সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষক বিষয়টি কখনোই শুধু ট্রফি বা মেডেলের তালিকায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং দলগতভাবে পাড়ি দেওয়া পুরো যাত্রাপথটাই ছিল তার জীবনের সেরা অনুভূতি। তিনি জানান, প্রতিদিন সকালে সতীর্থদের সাথে কঠোর অনুশীলন করা, কঠিন ও প্রতিকূল সময়গুলো এক হয়ে পার করা, জয় কিংবা পরাজয়ের অনুভূতি যৌথভাবে বুকে টেনে নেওয়া এবং প্রতিটি মুহূর্তকে মন থেকে উপভোগ করাই মূলত ফুটবলার হিসেবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারের এই অন্তিমলগ্নে এসে নিজের জাতীয় দলের সব সতীর্থ, পর্দার অন্তরালের কোচিং স্টাফ এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত প্রতিটি কর্মীর প্রতি গভীর ও বিনম্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই জীবন্ত কিংবদন্তি। মেসি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, যারা প্রতিদিন প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে নীরবে-নিভৃতে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে দলটিকে একটি অভিন্ন ও মজবুত পরিবারের রূপ দিয়েছেন, আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে তাদের অবদান চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
ফাইনালে ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল ঠিক কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে এই মুহূর্তে বাড়তি কোনো মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা নিজের মাথায় নিতে চান না মেসি। তার গভীর বিশ্বাস, বর্তমান এই আলবিসেলেস্তে দলটি ইতিমধ্যে বিশ্বফুটবলের মঞ্চে এমন এক গৌরবময় ইতিহাস রচনা করে ফেলেছে, যা সময়ের আবর্তে কখনো ম্লান বা মুছে যাবে না। দলের এই অদম্য যাত্রা এবং একে অপরকে ঘিরে তৈরি হওয়া মধুর স্মৃতিগুলো আর্জেন্টিনার ফুটবল ঐতিহ্যে চিরকাল অমলিন ও দেদীপ্যমান হয়ে থাকবে বলেও তিনি বিশেষ গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন।
ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি ভক্ত ও ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এই রোমাঞ্চকর ফাইনাল ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে ফুটবলার মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ; এমনকি এর মাধ্যমে তার আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের গৌরবময় অধ্যায়েরও চিরসমাপ্তি ঘটে যেতে পারে। তবে বহুল প্রতীক্ষিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অধিনায়ক মেসি নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে, বরং বর্তমানের এই সোনালী মুহূর্তটির ওপরই নিজের সম্পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ট্রাম্প-ইয়ামাল কুশল বিনিময়ের খণ্ডিত ভিডিও নিয়ে ইন্টারনেটে তুমুল বিতর্ক ও আসল সত্য
- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে লিপ্ত: প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান
- ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ফাইনালে এমন লজ্জাজনক রেকর্ডে জড়াল আর্জেন্টিনার নাম
- জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর মোজাফফরের বিচার হবে সেনা আইনে
- দিল্লিতে 'চলো সংসদ' অভিযানে তুলকালাম, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আটক
- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের বিশ্বজয়, অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসাল ইরান
- আর্জেন্টিনার হারে ভেঙে পড়েছেন? কীভাবে সামলাবেন মন
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বিশ্ববাজারে তেলের দামে নতুন রেকর্ড
- ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া, কোন কোন জেলায় সতর্কতা?
- আজ নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন পাঁচ ওয়াক্তের সময়
- ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেবে ইরান, সতর্ক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে
- ‘বিচারের মুখোমুখি হলে সাহসের প্রমাণ মিলত’- হাসিনাকে নিয়ে নাহিদের মন্তব্য
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র, পরমাণুকেন্দ্রে নতুন হামলা
- ট্রফি হাতছাড়া, আবেগঘন বিদায়ে কাঁদলেন লিওনেল মেসি
- ২২ ক্যারেট স্বর্ণ এখন কত? জেনে নিন সর্বশেষ দাম
- বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তাপ টেনিস কোর্টে, স্পেনের জয় নিয়ে আশাবাদী নাদাল
- ঘরে বসে যেভাবে সরাসরি স্মার্টফোনে দেখবেন বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণ
- গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- ১৭ ফেব্রুয়ারির গণভোট সাংবিধানিক ছিল না, ওটা ছলচাতুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরানের চুক্তি বাতিলের ঘোষণাকে পাত্তাই দিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
- আগাম ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশি পাসপোর্টে ঘোরা যাবে বিশ্বের ৩৬টি দেশ
- সংসদে দাবি আদায় না হলে রাজপথে সরকার ভাঙার আন্দোলন: ডা. শফিকুর রহমান
- যুক্তরাষ্ট্রকে কখনো ভুলতে না পারার মতো শিক্ষা দেওয়ার ঘোষণা মোজতবা খামেনির
- ঢাকাসহ ১৭ অঞ্চলে রাতের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- ইরানের নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
- ১৬ বছরের অপেক্ষা শেষ: আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে স্পেন
- ১০৩ ম্যাচের গোলবন্যা ও লড়াকু ফুটবল: অনন্য এক বিশ্বকাপের রূপরেখা
- ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগে মেসির আবেগঘন বার্তা: 'ট্রফি জেতাই সবকিছু নয়'
- ১৩ বছর পর আলোর মুখে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
- আইএইএ-র চোখ ফাঁকি দিয়ে রিয়াদ-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক পরমাণু চালের নেপথ্যে
- মেসি কী করলে জিতবেন গোল্ডেন বুট
- বিশ্বকাপে ৬ গোল হজম, ফ্রান্সের দুঃস্বপ্নের রাত
- আজ বের হওয়ার আগে দেখে নিন কোন মার্কেট বন্ধ
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে দেখে নিন আজকের দাম
- ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মূল্য নেই, দাবি খামেনির
- ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর
- অন্তরালে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, ইরানের ক্ষমতার শীর্ষে বড় বিভাজন
- কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাদক নির্মূলে ইমামদের ভূমিকা বিষয়ক আলোচনাসভা
- কুমিল্লার ৩ সড়কে লাখো মানুষের ভোগান্তি, ৫ বছরেও নেই সংস্কার
- ফাইনালের আগে স্পেনকে সতর্ক করলেন বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি ভিসেন্তে দেল বস্ক
- ইয়ামালকে থামানোর উপায় কী? স্কালোনি বললেন ‘রুমে তালা মেরে রাখা’
- ৮ গোলে মেসি-এমবাপ্পের সমতা, গোল্ডেন বুটের ফয়সালা হবে যেভাবে
- সম্ভাব্য বৃহত্তর যুদ্ধের জন্য মিত্রদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিল ইরান
- কুরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম বার্তা দিল ইরান
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিয়ে বিশ্লেষকদের রেকর্ড ভাঙা ভবিষ্যৎবাণী
- জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আইআরজিসির বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- প্রধানমন্ত্রী মুখে মধু আর অন্তরে ছলনা রাখছেন: নাহিদ ইসলাম
- তথ্য বিকৃত করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
- ১৫০ দিনেই জনগণের আস্থা অর্জন করেছে সরকার: মাহদী আমিন
- ঢাকার দূষণ ও যানজট রোধে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ
- ২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে
- ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর
- মেসি কী করলে জিতবেন গোল্ডেন বুট
- ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
- বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ কমল স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশেও কি কমবে?
- ট্যালকট পার্সন্সের Pattern Variable তত্ত্ব: আধুনিকতা ও উন্নয়ন ভাবনার রাজনীতি
- ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মূল্য নেই, দাবি খামেনির
- ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, একদিনেই বড় মূল্যহ্রাস
- সৌদি-হুথি সংঘাত ফের তীব্র, ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি
- বর্ষণ কমলেও সামনে অপেক্ষা করছে নতুন দফার বৃষ্টি
- ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, কোন এলাকাগুলো জানুন
- যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের রায়ে ৫৬ লাখ ডলার দিলেন ট্রাম্প
- ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, ‘আরও বড় হামলা আসছে’








