ইসলামী আন্দোলনের সাথে জামায়াতের অন্যরকম এক সমঝোতা,প্রকাশ পেল নতুন তথ্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ২১:০১:৪৩
ইসলামী আন্দোলনের সাথে জামায়াতের অন্যরকম এক সমঝোতা,প্রকাশ পেল নতুন তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে, বিশেষ করে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে এক নতুন ও অভাবনীয় সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের একটি বড় ধরণের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীমের সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রার্থী দেবে না। মূলত রাজনৈতিক সৌজন্য এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্রটি বদলে যাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানান যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির তথা চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। যেহেতু দলের শীর্ষ নেতা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না, তাই তাঁর দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা মুফতি ফয়জুল করীমের প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শনের প্রয়োজন অনুভব করেছে জামায়াতে ইসলামী। এই সম্মান ও সৌজন্যের অংশ হিসেবেই জামায়াত ফয়জুল করীমের আসন থেকে নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ডা. তাহের আরও উল্লেখ করেন যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরুতে একটি বৃহত্তর নির্বাচনী ঐক্য গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা সেই ঐক্যে থাকতে পারেনি, তবুও তাদের সেই শুভ উদ্যোগের প্রতি জামায়াতের শ্রদ্ধা রয়েছে এবং তারা ইসলামী আন্দোলনের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছে।

এই রাজনৈতিক সৌজন্যবোধ কেবল একতরফা নয়, বরং দুই দলের মধ্যেই একটি অলিখিত সমঝোতার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের জন্য নির্ধারিত নির্বাচনী আসনেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোনো প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বড় দুটি দলের এই পারস্পরিক ছাড় দেওয়ার বিষয়টি মূলত ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাঠে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যকার একটি কৌশলগত অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও দল দুটি একই জোটে থেকে নির্বাচন করছে না, তবুও একে অপরের শীর্ষ নেতাদের জয়ী হতে সহায়তা করার এই প্রবণতা ভবিষ্যতে বড় ধরণের কোনো রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের রাজনীতি। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর জামায়াতের এমন ঘোষণা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করা হচ্ছে।


ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বড় আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা সরকারের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৯:৩০:১৭
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বড় আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা সরকারের
ছবি : সংগৃহীত

টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা আজ থেকেই কার্যকর ধরা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বর্তমান বাজারদর ও বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় প্রতি ইউনিট ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে উৎপাদিত বিদ্যুতের ট্যারিফ বা ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা। নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে সিস্টেম স্থাপন করতে পারলে সাশ্রয়কৃত অর্থ গ্রাহকের অতিরিক্ত লাভ হিসেবে গণ্য হবে।

‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫’ অনুসারে, যেসব গ্রাহক ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই সিস্টেম স্থাপন করে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত) প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাবেন। তবে নির্ধারিত সময়সীমার পর স্থাপিত প্ল্যান্টের ক্ষেত্রে এই প্রণোদনা কার্যকর হবে না। বিতরণ সংস্থাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিডে আসা বিদ্যুতের হিসাব রাখবে এবং প্রণোদনার অর্থ সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পাঠানো হবে; কোনো অবস্থাতেই নগদ লেনদেন করা যাবে না।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার ও মিটারসহ সব যন্ত্রপাতিকে বিএসটিআই এবং স্রেডা (SREDA)-এর নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে। গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নীতিগত সহায়তা দিতে ইতিমধ্যে একটি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করা হয়েছে, যার সেবা পাওয়া যাবে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিতরণ কার্যালয়গুলো থেকেও।

/আশিক


বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বাড়াবে আইপিইউ: শামা ওবায়েদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৯:১৯:৩৭
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বাড়াবে আইপিইউ: শামা ওবায়েদ
ছবি : সংগৃহীত

তরুণ ও নতুন আইনপ্রণেতাদের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করতে এবং সংসদ সদস্যদের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা জোরদার করবে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সফররত আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

শামা ওবায়েদ জানান, আইপিইউ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রতিনিধিদলটি ইতিমধ্যে সরকারি ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ছাড়াও নারী এমপিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। নতুন সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ এবং প্রথমবারের মতো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তিকে আইপিইউ অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।

বৈঠকে বাংলাদেশি আইনপ্রণেতাদের নীতি প্রণয়ন ও সংসদীয় কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জেনেভায় আইপিইউ আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া গণতন্ত্র, মানবাধিকার, নারী ক্ষমতায়ন, এসডিজি এবং জলবায়ু সহনশীলতার মতো অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ে আইপিইউর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ঢাকা।

আগামী মাসে তানজানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আইপিইউ সম্মেলনে বাংলাদেশের স্পিকার ও সংসদ সদস্যরা অংশ নেবেন বলে প্রতিমন্ত্রী নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য, সরকারি সফরে এসে আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ জাতীয় সংসদ পরিদর্শন ছাড়াও শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখেন এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের আলোকচিত্র ও দলিলপত্র প্রত্যক্ষ করেন।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রীর কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বার্তা, দ্রুতই সরাসরি বৈঠকের আভাস

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৯:১৪:৫২
প্রধানমন্ত্রীর কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বার্তা, দ্রুতই সরাসরি বৈঠকের আভাস
ছবি : সংগৃহীত

শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে তিনি এই প্রত্যাশার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, নানা প্রতিকূলতা ও জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও এ দেশের জনগণের একটি অত্যন্ত উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। একই সঙ্গে চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর আন্তরিক ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা প্রকাশ করেন।

এছাড়া, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, বোয়িং কখনোই বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। একই সঙ্গে উড়োজাহাজ ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মনোযোগ ও ইতিবাচক উদ্যোগের কথা তিনি বিশেষভাবে মনে রাখবেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন।

সূত্র: বাসস


বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দুই বছর লাগবে না, সচিবালয়ে উপদেষ্টার বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৮:২১:৫৯
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দুই বছর লাগবে না, সচিবালয়ে উপদেষ্টার বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত সংকট পুরোপুরি নিরসনে অর্থমন্ত্রী দুই বছর সময়ের কথা উল্লেখ করলেও চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এত দীর্ঘ সময় লাগবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং জ্বালানি সরবরাহজনিত সাময়িক জটিলতা কাটলেই অল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তবে অর্থমন্ত্রী মূলত পুরো খাতের স্বনির্ভরতা ও স্থায়ী সমাধানের সময়সীমা নির্দেশ করেছিলেন। দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পুরোদমে চালু হতে দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে।

এর পাশাপাশি বাপেক্সের মাধ্যমে প্রায় ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখনন এবং ভোলার গ্যাস জাতীয় পাইপলাইনে যুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে চলতি সেপ্টেম্বরেই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু এবং আগামী বছর পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে এলএনজি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব দেশের ওপর পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে এবং ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের মানুষ বিদ্যুতের স্বাভাবিক সুবিধা পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

/আশিক


ভারত থেকে পালিয়ে আসা সন্ত্রাসীদের ঢাকায় আশ্রয় হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৮:১৬:২২
ভারত থেকে পালিয়ে আসা সন্ত্রাসীদের ঢাকায় আশ্রয় হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে যেমন ঢাকায় আশ্রয় দেওয়া হবে না, তেমনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসীও যেন ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডে আশ্রয় না পায়—এমন দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সমসাময়িক বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সফরের বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে পারস্পরিক সম্মান, জাতীয় স্বার্থ এবং উভয় দেশের সরকারপ্রধানের সুবিধাজনক সময় সমন্বয়ের ভিত্তিতে একটি উপযুক্ত সময়ে এই দ্বিপক্ষীয় সফর অনুষ্ঠিত হবে।

সফর নিয়ে সুনির্দিষ্ট তারিখ না থাকায় কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, তারিখ নির্ধারিত না হওয়া মানেই যোগাযোগ বা আলোচনা থমকে যাওয়া নয়; উভয় দেশের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এ সময় ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আলোচনার একটি পর্যায়ে ৫ আগস্টের মতো ঘটনা ঘটেছিল, যা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে গভীরভাবে আঘাত হানে। ঢাকা সেই উদ্বেগের বিষয়টি দিল্লির কাছে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে এবং সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনা নিয়েই বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা নতুন করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

/আশিক


অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়ন হবে না, সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৮:০৪:৫০
অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়ন হবে না, সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের বার্তা
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে পুরোপুরি ‘জনগণকেন্দ্রিক’ (পিপল টু পিপল) করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দুই দেশের পারস্পরিক চ্যালেঞ্জ ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে যৌথ উন্নয়নের স্বার্থে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীত নিয়ে আটকে থাকলে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার এসব কথা বলেন। এ সময় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষেও শুভেচ্ছা জানান তিনি।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও দুই দেশের বর্তমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে দীনেশ ত্রিবেদী স্পষ্ট করেন যে, একজন কূটনীতিক হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করা তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থনে নির্বাচিত সরকার এবং দেশের জনগণই ভালো বুঝবেন তাঁদের জন্য কোনটি কল্যাণকর। তিনি যোগ করেন, দিল্লির প্রতিনিধি হিসেবে ভারত সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও সমতার ভিত্তিতেই অংশীদারত্ব এগিয়ে নিতে চায়। ভৌগোলিক সীমানা ও যৌথ স্বপ্ন ভাগাভাগি করার কারণে প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের দায়িত্বও বেশি।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মুক্তবাণিজ্য আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অতীতে আটকে না থেকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, এটি মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। বৈঠকে স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ভারতের সাবেক মন্ত্রী হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদী তাঁর অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এসব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করা বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

/আশিক


জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি, বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ২১:৩৫:২০
জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি, বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশবাসী ও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে সোমবার (৩১ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।

বিবৃতিতে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি সবসময় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে চায়। দিনটিকে দেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার দিন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান দলটির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একটি যুগান্তকারী মাইলফলক ছিল। বাকশালের একদলীয় শাসন ব্যবস্থার পর শহীদ জিয়ার হাত ধরেই দেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল বলে তিনি স্মরণ করেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বিএনপিকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে যারা জীবন দিয়েছেন ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের অবদান চিরস্মরণীয়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিএনপি বারবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, অতীতে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন ও নারী শিক্ষার প্রসারের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ বিএনপি সরকারই নিয়েছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসনের পর নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আবারও বিএনপিকে দেশ গড়ার ম্যান্ডেট দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি একটি জনকল্যাণমূলক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

/আশিক


দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান, নতুন বেতন কাঠামোয় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ১৯:০৭:১২
দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান, নতুন বেতন কাঠামোয় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নতুন এই বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন বেতন কাঠামোর বিস্তারিত রূপরেখা সম্পর্কে জানাতে কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রেস ব্রিফিংয়ে আসছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত নতুন পে-স্কেলে গ্রেড-১-এর সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন নির্ধারিত হয়েছে ২০ হাজার টাকা। সার্বিকভাবে নতুন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলের বর্ধিত মূল বেতন ও ভাতাসমূহ মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের ৩০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে আরও ৩৫ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে পরবর্তী অর্থবছরের জুলাইয়ে মূল বেতনের অবশিষ্ট অংশ কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে; পাশাপাশি ভাতাসমূহ একই অর্থবছরের জানুয়ারিতে কার্যকর করার সুপারিশ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এখন পে-স্কেল কার্যকরের প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে, যার গেজেট প্রকাশে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে সরকারি কর্মচারীরা আগামী অক্টোবর থেকেই নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন উত্তোলন করতে পারবেন। তবে পে-স্কেলটি ১ জুলাই থেকেই ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর ধরা হওয়ায় জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বকেয়া বেতন পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।

উল্লেখ্য, অষ্টম পে কমিশন গঠনের দীর্ঘ এক দশক পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই আজ এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেল। এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

/আশিক


একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ১৮:২৫:০৭
একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
ছবি : সংগৃহীত

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি হিসাবের গ্রাহকদের মূল আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে গ্রাহকেরা তাঁদের হিসাবে জমা থাকা সম্পূর্ণ মূল অর্থ এককালীন উত্তোলন বা নগদায়ন করার সুযোগ পাবেন; তবে এ ক্ষেত্রে জমা অর্থের ওপর কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না। আমানত উত্তোলনের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে ব্যাংকের শাখা ও উপশাখাগুলোতে আবেদনপত্র গ্রহণ শুরু হবে।

ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অপারেশনসের প্রধান সমন্বয়ক এ এফ সাব্বির আহমদ স্বাক্ষরিত এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে সব বিভাগীয় প্রধান, জোনাল প্রধান ও শাখা ব্যবস্থাপকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাভাবিক লেনদেন চালুর কথা থাকলেও শাখাগুলোতে নগদ অর্থের চাহিদা নিরূপণ, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ ক্যাশ ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত কয়েক দিন সময় প্রয়োজন। ফলে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে অর্থ ফেরতের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আল-ওয়াদিয়া চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব এবং বিভিন্ন মেয়াদি আমানত প্রকল্প—যেমন এমটিডিআর ও ডিপিএস গ্রাহকেরা তাঁদের মূল টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে যেসব আমানতকারী হিসাব বন্ধ না করে বহাল রাখবেন, তাঁরা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে নিয়মিত মুনাফা পেতে থাকবেন এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে মুনাফাসহ যেকোনো পরিমাণ অর্থ অবাধে লেনদেনের সুযোগ পাবেন।

আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ১ সেপ্টেম্বরকে বিশেষ দিবস হিসেবে উদযাপনের নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিন শাখাগুলো দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো, কর্মকর্তাদের নির্ধারিত পোশাকে উপস্থিতি, গ্রাহকদের ফুল বা উপহার দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো এবং জ্যেষ্ঠ নাগরিক, নারী ও প্রতিবন্ধী গ্রাহকদের অগ্রাধিকারমূলক সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, আর্থিক সংকট ও অনিয়মের মুখে পড়া এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়। ব্যাংকটিতে বর্তমানে ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে, যার মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী আমানত প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। একীভূত এই ব্যাংকগুলোর ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা ঋণের মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশই খেলাপি এবং মূলধন ঘাটতি দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি। সরকারি মালিকানাধীন এই ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা; যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করেছে এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: