থার্টি ফার্স্ট নাইটে মুসলিমদের করণীয় নিয়ে যা বলেন ইসলামি স্কলাররা

খ্রিস্টীয় ক্যালেন্ডার বা গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে 'থার্টি ফার্স্ট নাইট' উদযাপন আধুনিক বিশ্বে একটি প্রচলিত সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। তবে ইসলামি জীবনদর্শনে এই বিজাতীয় সংস্কৃতি অনুসরণ করাকে সরাসরি 'হারাম' ও 'অপসংস্কৃতি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম ও গবেষকরা। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, অন্য কোনো ধর্মের ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক রীতিনীতি মুসলিমদের জন্য পালন করা সম্পূর্ণ অবৈধ।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি ইসলাম (ইসলামী রীতিনীতি) ছাড়া অন্যকোনো ধর্মের অনুসরণ করবে, কখনো তার সেই আমল গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সুরা আল ইমরান, আয়াত ৮৫)। এই আয়াতের আলোকে ইসলামি স্কলাররা বলছেন, থার্টি ফার্স্ট নাইটের মতো উৎসবগুলো মূলত পৌত্তলিক বা বিজাতীয় ধর্মবিশ্বাস থেকে উদ্ভূত, যা একজন মুমিনের বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, “যে ব্যক্তি অন্য জাতির সঙ্গে আচার-আচরণে, সভ্যতা-সংস্কৃতিতে সামঞ্জস্য গ্রহণ করবে, সে তাদের দলভুক্ত বলে বিবেচিত হবে।” (সুনানে আবু দাউদ, ৪০৩১)।
সম্প্রতি এক জুমার আলোচনায় জনপ্রিয় ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ এই উৎসবের ঐতিহাসিক ও নৈতিক ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরেছেন। তিনি জানান যে, প্রাচীন পারস্যের সম্রাট জামশিদ এবং পরবর্তীতে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের হাত ধরে এই নববর্ষের প্রচলন হয়। এটি মূলত খ্রিস্টীয় পোপ গ্রেগরির নামানুসারে প্রবর্তিত একটি উৎসব। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, “প্রাচীনকালে পারস্যের প্রকৃতি পূজারিরা বিশ্বাস করত যে বছরের প্রথম দিনটি আনন্দ-ফুর্তিতে কাটালে সারা বছর ভালো যাবে। অথচ এই ধরনের অযৌক্তিক কুসংস্কার আজও আমাদের বিজ্ঞানমনস্ক সমাজের মানুষের মধ্যে গেঁথে আছে।”
ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো উৎসব পালন করতে হলে কোরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের আমলের প্রামাণ্যতা থাকা জরুরি। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে শরিয়তের দুটি মৌলিক শর্ত চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়। প্রথমত, এটি একটি বিজাতীয় সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ। দ্বিতীয়ত, এর মাধ্যমে মানুষের হক বা নাগরিক শান্তি বিঘ্নিত হয়। বিকট শব্দে আতশবাজি ও সাউন্ডবক্স ব্যবহারের ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েন। এমনকি ফানুসের আগুনে দগ্ধ হওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও প্রতিবছর ঘটে থাকে। এছাড়া পবিত্র কোরআনে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলা হয়েছে, অথচ এই রাতে কোটি কোটি টাকা অনর্থক কাজে ব্যয় করা হয়।
নতুন বছরকে স্বাগত জানানো নিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, একটি নতুন বছর আসা মানে নতুন কিছু পাওয়া নয়, বরং আমাদের জীবন থেকে একটি বছরের পাতা ঝরে যাওয়া এবং মৃত্যুর দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। তিনি মুমিনদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, থার্টি ফার্স্ট নাইটের রাতে নেশা ও উন্মাদনায় মত্ত না হয়ে বরং বিগত জীবনের গুনাহের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে তওবা করা এবং আগামী দিনগুলোর জন্য নেক পরিকল্পনা করাই প্রকৃত বুদ্ধিমানের কাজ।
মক্কা-মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসন নিয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন নিয়ম
২০২৭ সালের হজ মৌসুমকে কেন্দ্র করে হজযাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা ও শ্রেণিবিন্যাসের মানদণ্ড অনুমোদন করেছে সৌদি আরবের পর্যটন মন্ত্রণালয়। নতুন এই নীতিমালায় আবাসন সুবিধাকে ‘ইকোনমি’ ও ‘ফার্স্ট ক্লাস’—এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করার পাশাপাশি মক্কা ও মদিনার আবাসন স্থাপনাগুলোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘনসংক্রান্ত তালিকাও প্রণয়ন করা হয়েছে।
সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসর আল-আনসারি জানান, সেবার নিয়ন্ত্রক ও পরিচালন কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন মানদণ্ডে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনাগত প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, অতিথি কক্ষ ও অভ্যর্থনা এলাকার মান এবং জরুরি সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিতের ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
সেবার মান বজায় রাখতে লাইসেন্স অনুমোদনের আগে, কার্যক্রম শুরুর প্রাক্কালে এবং পরিচালনাকালে—একাধিক ধাপে পরিদর্শন ও তদারকি চালানো হবে। ২০২৭ সালের হজে আবাসনসেবা দিতে ইচ্ছুক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবেদন জমা দেওয়ার আগেই যাবতীয় প্রস্তুতি ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
/আশিক
চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদে মিলাদুন্নবীর চূড়ান্ত তারিখ জানাল ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪৮ সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামী ২৬ আগস্ট (বুধবার) সারাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাশেম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আজ বৃহস্পতিবার দেশের আকাশে রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দৃশ্যমান না হওয়ায় আগামীকাল ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) পবিত্র সফর মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে। পরবর্তীতে ১৫ আগস্ট (শনিবার) থেকে হিজরি ১৪৪৮ সনের রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু করা হবে।
সেই হিসাব অনুসরণ করে আগামী ১২ রবিউল আউয়াল অর্থাৎ ২৬ আগস্ট (বুধবার) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ধর্মীয় এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
/আশিক
আজকের নামাজের সময়: ফজর থেকে ইশা একনজরে
ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দায়িত্ব। দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মধ্যেও যথাসময়ে নামাজ আদায়ের জন্য ওয়াক্তের সঠিক সময় জানা প্রয়োজন। আজ মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬; বাংলা পঞ্জিকায় ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ এবং হিজরি হিসাবে ২৭ সফর ১৪৪৮। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত সময়সূচির ভিত্তিতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় এখানে তুলে ধরা হলো।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আজ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়েছে ভোর ৪টা ১২ মিনিটে। জোহরের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে। মাগরিবের নামাজের সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট এবং ইশার ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টা ৫৯ মিনিটে। স্থানীয় অবস্থান ও মসজিদের জামাতের সময় ভিন্ন হতে পারে, তাই জামাতে নামাজ আদায় করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট মসজিদের নির্ধারিত সময় জেনে নেওয়া ভালো।
আজ ঢাকায় সূর্যোদয়ের সময় ভোর ৫টা ৩১ মিনিট এবং সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে। নামাজের সময় নির্ধারণে সূর্যের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ও মুসল্লিদের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
আগামীকাল বুধবার, ১২ আগস্ট ঢাকায় ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ১৩ মিনিটে। এদিন সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৩২ মিনিটে। অর্থাৎ আজকের তুলনায় আগামীকাল ফজরের সময় এক মিনিট এবং সূর্যোদয়ের সময়ও এক মিনিট পিছিয়ে যাবে।
ঢাকার সময়কে ভিত্তি ধরে দেশের কয়েকটি বিভাগীয় শহরে নামাজের সময় কিছুটা এগিয়ে বা পিছিয়ে হিসাব করতে হবে। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে ঢাকার নির্ধারিত সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটের ক্ষেত্রে ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে খুলনার জন্য ঢাকার সময়ের সঙ্গে ৩ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, রংপুরে ৮ মিনিট এবং বরিশালে ১ মিনিট যোগ করতে হবে।
তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে একই বিভাগ বা জেলার মধ্যেও সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত এবং নামাজের ওয়াক্তে সামান্য পার্থক্য হতে পারে। বিশেষ করে ফজর, মাগরিব ও ইশার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে অনুসরণ করা নির্ভরযোগ্য সময়সূচি এবং নিকটবর্তী মসজিদের ঘোষিত জামাতের সময় অনুসরণ করা যেতে পারে।
একনজরে ঢাকার আজকের সময়: ফজর ভোর ৪টা ১২ মিনিট, জোহর দুপুর ১২টা ৭ মিনিট, আসর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট, মাগরিব সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট এবং ইশা সন্ধ্যা ৭টা ৫৯ মিনিট। সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৩১ মিনিট এবং সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিট।
সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্তের সময়
ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের অন্যতম হলো সালাত বা নামাজ। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নর-নারীর ওপর নির্ধারিত সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। দৈনন্দিন জীবনের কর্মব্যস্ততার মধ্যেও সময়মতো নামাজ আদায়ের জন্য প্রতিটি ওয়াক্তের সঠিক সময় জানা গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা আন-নিসা: ১০৩)
হাদিসেও নামাজের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আল্লাহর কাছে কোন আমল সবচেয়ে প্রিয়? উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) যথাসময়ে নামাজ আদায়ের কথা বলেন। এ বর্ণনা থেকে নির্ধারিত ওয়াক্তের মধ্যে সালাত আদায়ের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।
আজকের সময়সূচি অনুযায়ী ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়েছে ভোর ৪টা ১১ মিনিটে। দিনের প্রথম ফরজ নামাজ ফজর। ভোরের নীরব সময়ে ইবাদতের মাধ্যমে একজন মুসলমানের দিনের সূচনা হয়। ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজের পাশাপাশি এর আগের দুই রাকাত সুন্নতেরও বিশেষ ফজিলত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার হওয়ায় জোহরের পরিবর্তে মসজিদে জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করবেন প্রযোজ্য মুসল্লিরা। প্রদত্ত সময়সূচি অনুযায়ী জোহরের ওয়াক্ত শুরু দুপুর ১২টা ৮ মিনিটে। তবে জুমার জামাতের সময় মসজিদভেদে আলাদা হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট মসজিদের নির্ধারিত খুতবা ও জামাতের সময় আগে থেকেই জেনে নেওয়া ভালো।
বিকেলের আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে ৪টা ৪১ মিনিটে। এরপর সূর্যাস্তের সঙ্গে শুরু হবে মাগরিবের সময়। আজ মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে। মাগরিবের সময় তুলনামূলকভাবে সীমিত হওয়ায় ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর অযথা বিলম্ব না করে নামাজ আদায় করা উত্তম।
দিনের সর্বশেষ ফরজ নামাজ এশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৮টা ২ মিনিটে। এশার নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে একজন মুসলমানের দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাতের ধারাবাহিকতা সম্পন্ন হয়। নিয়মিত নামাজ কেবল একটি ধর্মীয় কর্তব্যই নয়; বরং আল্লাহর স্মরণ, আত্মশুদ্ধি, শৃঙ্খলা ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
মঙ্গলবারের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি
আজ মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ২০ সফর ১৪৪৮ হিজরি। প্রতিদিনের মতো ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঢাকা ও আশপাশের এলাকার জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব ও ইশার নির্ধারিত সময়ের পাশাপাশি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ও জানানো হয়েছে।
আজকের সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকায় ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৪টা ৮ মিনিটে। জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ৮ মিনিটে। বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে শুরু হবে আসরের নামাজ। মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে এবং রাত ৮টা ৪ মিনিটে শুরু হবে ইশার নামাজ। আজ সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ২৮ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে।
পরদিন বুধবার (৫ আগস্ট) ঢাকায় ফজরের সময় অপরিবর্তিত থেকে ভোর ৪টা ৮ মিনিট থাকবে। তবে সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ২৯ মিনিটে, যা আগের দিনের তুলনায় এক মিনিট পরে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ঢাকার সময়কে ভিত্তি ধরে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের জন্য কিছু সময় যোগ বা বিয়োগ করতে হবে। চট্টগ্রামের মুসল্লিদের ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটের মুসল্লিদের ৬ মিনিট বিয়োগ করে নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে। অন্যদিকে খুলনায় ৩ মিনিট, বরিশালে ১ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট এবং রংপুরে ৮ মিনিট যোগ করতে হবে।
নামাজের সময় নির্ধারণে ভৌগোলিক অবস্থান, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পার্থক্যের কারণে বিভাগভেদে সামান্য সময়ের তারতম্য হয়ে থাকে। তাই নিজ নিজ এলাকার সঠিক সময় অনুযায়ী নামাজ আদায় করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত সময়সূচি অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইসলামে নামাজকে দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়। নির্ধারিত সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের মাধ্যমে একজন মুসলিম আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপনের অনুশীলন করতে পারেন। তাই প্রতিদিনের ওয়াক্তসূচি জেনে সময়মতো নামাজ আদায় করা ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তথ্যসূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
হজযাত্রীদের বড় সুখবর: হজের বিমান টিকিটের দাম আরও কমাল সরকার
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজ পালনের ব্যয় আরও সাশ্রয়ী করতে বিমান টিকিটের মূল্য এক লাফে ২৫ হাজার টাকা কমিয়েছে সরকার। এর ফলে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের জন্য বিমান টিকিটের নতুন মূল্য পুনর্নির্ধারণ করে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘জাতীয় হজ ও ওমরাহ ফেয়ার-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী পর্বে এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেওয়া হয়। হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এই মেলার আয়োজন করে।
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং একটি যৌক্তিক ও সহনশীল হজ প্যাকেজ উপহার দেওয়াকে সরকার সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত বছরে বিমান টিকিটের দাম প্রতি ক্ষেত্রে ১২ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হয়েছিল। এবার ধারাবাহিক ধারাবাহিকতায় টিকিটের মূল্য আরও ২৫ হাজার টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশি হাজিদের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমাতে সৌদি সরকারের কাছে বিমান টিকিটের ওপর আরোপিত সে দেশের বিমানবন্দর নির্মাণ কর কমানোর আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে হাজিদের আবাসন ব্যয় কমানোর বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বাংলাদেশের মোট হজযাত্রীদের প্রায় ৯৫ শতাংশই বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব সফর করেন, আর মাত্র ৫ শতাংশ যান সরকারি ব্যবস্থাপনায়। তাই সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন যেকোনো বিতর্কিত বা অসাধু কাজ থেকে বিরত থাকতে বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ রাজকীয় সৌদি দূতাবাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, হাবের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য হজপ্রত্যাশী উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
হজ ২০২৭: প্রাথমিক নিবন্ধনের বিস্তারিত নিয়ম জারি করল সরকার
২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে যে, এই সময়ের মধ্যেই হজে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রাথমিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। তবে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ও বয়সের বাধ্যবাধকতার কারণে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট জটিল বা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এবার হজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন না।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) মো. আবুবকর সিদ্দীকের স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুসরণ করেই নিবন্ধনের এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক নিবন্ধনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিতে হবে। তবে এর পূর্বে ৩০ হাজার টাকা ফি পরিশোধ করে প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্নকারীদের আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ঘোষিত হজ প্যাকেজের বাকি অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় ই-হজ সিস্টেমের পাশাপাশি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম কার্যালয় এবং ঢাকা হজ অফিস থেকে অনলাইনে নিবন্ধন করা যাবে। এই ক্ষেত্রে নিবন্ধনের অর্থ সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় জমা দিতে হবে। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অর্থ জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির অনুমোদিত ব্যাংক হিসাবে, যা হজ পোর্টালে প্রকাশ করা হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এবারও নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু ছাড়াও হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনির দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, গুরুতর মানসিক বা স্নায়ুবিক সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তি এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তরা নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন না। পাশাপাশি কেমোথেরাপি, বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন এমন ক্যান্সার রোগী, যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারের মতো সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাসে থাকা বা ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় থাকা নারীরা ফিটনেস সনদের অভাবে হজে যেতে পারবেন না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নিবন্ধনের সুবিধার্থে হজযাত্রীদের জন্য ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকা বৈধ পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে প্রাথমিক নিবন্ধনের সময়ই প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা এবং কাঙ্ক্ষিত হজ প্যাকেজ বাছাই করে নিতে হবে।
/আশিক
কোরআনের চোখে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কারা?
পবিত্র কোরআনে যেখানে ‘ক্ষতি’ (খুসরান)-এর কথা এসেছে, তা মূলত দ্বিনের ক্ষতিকেই নির্দেশ করে। কোরআনের পরিভাষায় ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ মূলত তারাই, যারা নিজেদের আখিরাত ও ঈমান হারিয়েছে।
কোরআনের আলোকে ক্ষতিগ্রস্তদের ধরন ও তাদের পরিচয় নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো
১. কুফরিতে নিমজ্জিত ব্যক্তি
আল্লাহ তাআলার প্রতি কুফরই মানবজীবনের সর্ববৃহৎ ক্ষতি। এটি এমন এক চিরস্থায়ী ব্যর্থতা, যা মানুষকে চিরতরে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
‘যারা মিথ্যায় বিশ্বাস করেছে এবং আল্লাহকে অস্বীকার করেছে, তারাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত।’
(সুরা : আল-আনকাবুত, আয়াত : ৫২)
২. সম্পদ ও সন্তানের কারণে বিভ্রান্তি
ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি অনেক মানুষের চরম ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নুহ (আ.) তাঁর জাতির কাফিরদের সম্পর্কে বলেছিলেন:
‘তারা আমার অবাধ্য হয়েছে এবং এমন লোকদের অনুসরণ করেছে, যাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তাদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করেছে।’
(সুরা : নুহ, আয়াত : ২১)
৩. সৃষ্টিগত নিদর্শন ও শরিয়ত অস্বীকার
যে কুফর মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, তার অন্যতম হলো আল্লাহর সৃষ্টিগত নিদর্শন ও শরিয়তের বিধানসমূহ প্রত্যাখ্যান করা। আল্লাহ বলেন:
‘যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করেছে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।’
(সুরা : আয-যুমার, আয়াত : ৬৩)
৪. মনগড়া কাজ ও আত্মমুগ্ধতা
কিছু মানুষ এমন অনেক আমল করে, যা তারা সৎকর্ম মনে করে। কিন্তু তাদের সব পরিশ্রম দুনিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকে; আখিরাতে তা কোনো কাজে আসে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:
‘বলুন, আমি কি তোমাদের এমন লোকদের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত? তারা হলো সেইসব মানুষ, যাদের সমস্ত প্রচেষ্টা দুনিয়ার জীবনেই ব্যর্থ হয়েছে, অথচ তারা মনে করে যে তারা খুব ভালো কাজ করছে।’
(সুরা : আল-কাহফ, আয়াত : ১০৩-১০৪)
৫. দুনিয়ার স্বার্থে ঈমান আনয়ন
কিছু মানুষের ঈমান কেবল পার্থিব স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল। ঈমানের মাধ্যমে ধন-সম্পদ বা পদমর্যাদা মিললে তারা দ্বিনের ওপর থাকে, কিন্তু কোনো পরীক্ষা বা বিপদে পড়লেই মুখ ফিরিয়ে নেয়। এরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত। আল্লাহ বলেন
‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছে, যারা দ্বিধাগ্রস্তভাবে আল্লাহর ইবাদত করে। যদি তার কোনো কল্যাণ হয়, তবে সে তাতেই সন্তুষ্ট থাকে; আর যদি কোনো পরীক্ষায় পড়ে, তবে সে মুখ ফিরিয়ে নেয়। সে দুনিয়া ও আখিরাত—উভয়ই হারায়। এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।’
(সুরা : হজ, আয়াত : ১১)
কোরআনে উল্লেখিত অন্যান্য ক্ষতির কারণসমূহ
অন্যায়ভাবে হত্যা
‘সে নিজের ভাইকে হত্যা করল, ফলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।’ (সুরা : আল-মায়িদা, আয়াত : ৩০)
দারিদ্র্য বা লজ্জার ভয়ে সন্তান হত্যা
‘নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা নির্বুদ্ধিতাবশত ও অজ্ঞতার কারণে নিজেদের সন্তানদের হত্যা করেছে।’ (সুরা : আল-আনআম, আয়াত : ১৪০)
আল্লাহর শাস্তি থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করা
‘আল্লাহর কৌশল থেকে শুধু ক্ষতিগ্রস্তরাই নিজেদের নিরাপদ মনে করে।’ (সুরা : আল-আরাফ, আয়াত : ৯৯)
আল্লাহর স্মরণে উদাসীনতা
‘হে মুমিনরা! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ না করে। আর যে এমন করবে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।’ (সুরা : আল-মুনাফিকুন, আয়াত : ৯)
আল্লাহ সম্পর্কে কুধারণা
‘তোমাদের প্রতিপ্রতিপালক সম্পর্কে তোমাদের এই কুধারণাই তোমাদের ধ্বংস করেছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছ।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ২৩)
কাফিরদের অন্ধ আনুগত্য
‘হে ঈমানদাররা! যদি তোমরা কাফিরদের আনুগত্য করো, তবে তারা তোমাদের পিছিয়ে দেবে, আর তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফিরে আসবে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৪৯)
অঙ্গীকার ভঙ্গ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা
কোরআনে আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা ও অন্যায়ভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করাকে ধ্বংসের মূল কারণ বলা হয়েছে
‘সেই সকল লোক, যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি পরিপক্ব করার পরও ভেঙে ফেলে এবং যেই সম্পর্ক রক্ষা করতে তিনি আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তার করে; বস্তুত এমন সব লোক অতি ক্ষতিগ্রস্ত।’
(সুরা : আল-বাকারা, আয়াত : ২৭)
এখানে আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার বলতে আলমে আরওয়াহে (রূহের জগতে) মানবজাতির কাছ থেকে নেওয়া তাওহীদের স্বীকৃতিকে বোঝায়, যা সুরা আরাফের ১৭২ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে:
‘যখন তোমার রব আদম সন্তানদের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের সন্তানদের বের করেছিলেন এবং তাদের নিজেদের সম্পর্কে সাক্ষী বানিয়েছিলেন—আমি কি তোমাদের রব নই? সবাই জবাব দিয়েছিল, কেন নয়? আমরা সবাই সাক্ষ্য দিচ্ছি...’
(সুরা : আল-আরাফ, আয়াত : ১৭২)
কোরআনের মূল শিক্ষা হলো—পার্থিব সম্পদ, পদমর্যাদা বা সুযোগ-সুবিধা হারানো প্রকৃত ক্ষতি নয়; বরং ঈমান ও আখিরাত হারানোই হলো সবচেয়ে বড় দেউলিয়াত্ব। আর প্রকৃত সফলতা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে আখিরাতে মুক্তি লাভের মধ্যেই নিহিত।
/আশিক
প্রতিদিনের ৫ সুন্নাহ আমল, জান্নাতের আশার পথ
ইসলামে এমন অনেক আমল রয়েছে, যেগুলো পালন করতে সময় খুব বেশি লাগে না, কিন্তু সওয়াব ও ফজিলতের দিক থেকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ ﷺ তাঁর উম্মতকে এমন কিছু দৈনন্দিন আমল শিখিয়েছেন, যেগুলো নিয়মিত পালন করলে আল্লাহর রহমত, নিরাপত্তা, ক্ষমা এবং আখিরাতে সফলতার আশা করা যায়। আলেমদের মতে, এসব আমল শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের অংশ নয়; বরং একজন মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনকে আল্লাহর স্মরণে পরিচালিত করার একটি সুন্দর পদ্ধতি।
দিনের শুরুতে ফজরের সালাত আদায়কে ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করে, সে আল্লাহর জিম্মায় (নিরাপত্তায়) থাকে।" (সহিহ মুসলিম: ৬৫৭)। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এই হাদিসের অর্থ হলো, ফজরের সালাত একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর বিশেষ হেফাজত ও অনুগ্রহের কারণ হতে পারে। তাই সম্ভব হলে জামাআতে ফজরের নামাজ আদায় করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ হলো প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করা। একটি সহিহ হাদিসে এসেছে, "যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।" (আমালুল ইয়াওমি ওয়াল-লাইলাহ, নাসাঈ: ১০০; শাইখ আল-আলবানী রহ. হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন)। অল্প সময়ের এই আমল একজন মুসলিমের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ বহন করে।
সাইয়্যিদুল ইস্তিগফারকে ক্ষমা প্রার্থনার সর্বোত্তম দোয়া হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সহিহ বুখারির বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে সকালে এই দোয়া পড়ে এবং সন্ধ্যার আগে মারা যায়, অথবা রাতে পড়ে সকালে মৃত্যুবরণ করে, সে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে (সহিহ বুখারি: ৬৩০৬)। তাই প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় এই দোয়াটি পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
এ ছাড়া সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার "বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু..." দোয়াটি পাঠ করার কথাও হাদিসে এসেছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া পাঠ করবে, আল্লাহর ইচ্ছায় তাকে আকস্মিক বিপদ-আপদ ক্ষতি করতে পারবে না (সুনান আবু দাউদ: ৫০৮৮; সুনান তিরমিযী: ৩৩৮৮)। ইসলামী স্কলারদের মতে, এটি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা ও তাঁর হেফাজত কামনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জিকির।
ভ্রমণে বের হওয়ার সময় বা প্রিয়জনকে বিদায় দেওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ একটি অর্থবহ দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলতেন, "আস্তাওদি'উল্লাহা দীনাকা ওয়া আমানাতাকা ওয়া খাওয়াতীমা আমালিকা" অর্থাৎ, "আমি তোমার দীন, তোমার আমানত এবং তোমার জীবনের শেষ আমলগুলো আল্লাহর জিম্মায় সোপর্দ করছি।" (সুনান আবু দাউদ: ২৬০০; সুনান তিরমিযী: ৩৪৪৩)। এই দোয়া শুধু ভ্রমণকারীর জন্য নয়, বরং নিজের ও পরিবারের জন্যও আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনার একটি সুন্দর মাধ্যম।
পাঠকের মতামত:
- ভোট না দিয়ে রুমিন ফারহানা বললেন, ‘এটা নির্বাচন নয়’
- সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে বড় খবর
- নতুন রাষ্ট্রপতিকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান চরমোনাই পীরের
- মারাকানাকে ঘিরে বিশ্বকাপের বিরল রেকর্ড, সামনে নতুন অধ্যায়
- বিপিএল নিয়ে সব ধোঁয়াশার অবসান, যা জানাল বিসিবি
- স্বামীর শেষ বিদায়ে অংশ নিয়ে আবার কারাগারে দীপু মনি
- মির্জা ফখরুলের জয়ে চীন ও যুক্তরাজ্যের অভিনন্দনবার্তা
- হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ, তেল পরিবহনে বড় পরিবর্তন
- আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়া নিয়ে নতুন পূর্বাভাস
- মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর বিএনপিতে নতুন দায়িত্ব পেলেন রিজভী
- দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে উঠে কমল স্বর্ণের দাম
- জামায়াত সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে: নুর
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি ছয় সংসদ সদস্য
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুল, অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন শফিকুর রহমান
- অলি আহমদকে হারিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী মির্জা ফখরুল
- সরকারি অনুদানের চেক গ্রহণ করলেন রেসডোর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ
- অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী টেস্টের আগে ডোনাল্ডের মূল্যায়ন
- গ্যাস সরবরাহে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয়
- ইসলাম গ্রহণের গুঞ্জনের মধ্যে কার্লোসের জন্য ড. ইয়াসির আদ-দোসারির দোয়া
- ইউটিউব কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য আসছে বড় পরিবর্তন
- অশ্রুসিক্ত বিদায়ী বক্তব্যে দল ও দেশের প্রতি অঙ্গীকার মির্জা ফখরুলের
- ট্রাম্প সীমা ছাড়লে রক্ষা পাবে না ইউরোপের লক্ষ্যবস্তুও: তেহরানের বার্তা
- ১৮০ দিনের কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের অ্যাপ্রুভাল রেটিং প্রকাশ
- চালকহীন পরিবহনে টেসলার নতুন পদক্ষেপ
- দুরেফিশানকে নিয়ে নেটপাড়ায় কটূক্তি, পাশে দাঁড়িয়ে বার্তা দিলেন হানিয়া
- ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: রিজভী
- ফেডের সুদের হার ও বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে বাড়ছে স্বর্ণের দাম
- ১ জুলাই থেকে কার্যকরের কথা থাকলেও পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে ধোঁয়াশা
- জাতীয় পর্যায়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের ব্যাপক উদ্যোগ
- দীর্ঘ তিন দশক পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রস্তুতি
- ছয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
- আইন পেশার উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের বার্তা
- আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়া নিয়ে অধিদপ্তরের নতুন বার্তা
- বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক ও জ্বালানি সরবরাহ পর্যালোচনার আশ্বাস ভারতের
- প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
- স্মার্টফোন চার্জে দেওয়ার সময় যেসব সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলবেন
- আবারও ‘ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো’: পাইরেটস ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ফিরছেন জনি ডেপ?
- পাঁচ দশকের সব রেকর্ড ভাঙল হরমুজ সংকট, জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা
- দুপুরের আকাশে জ্বলজ্বল করবে তারা: বিরল সূর্যগ্রহণে রেকর্ড গড়বে লুক্সর
- বিআরটিসির ‘পিংক বাসে’ এবার স্টারলিংকের হাই-স্পিড স্যাটেলাইট ইন্টারনেট
- মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে কিম জং উনের প্রতি ট্রাম্পের বার্তা
- তারেক রহমানের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই, দেশেই সব উৎসর্গ: রিজভী
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতুর দামের সর্বশেষ পরিস্থিতি
- শিক্ষকদের পে স্কেল পর্যালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন শিক্ষামন্ত্রী
- ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে এবার বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী
- ডলার সংকটের মুখে অবিশ্বাস্য সুখবর: রেমিট্যান্স বাড়ল ৩২ শতাংশেরও বেশি!
- নেতাদের জুয়ার মূল্য নগদে শোধ করছে মার্কিন পরিবারগুলো: ইরান
- সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা অসম্ভব: বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ
- বাণিজ্য বাধা দূর করতে ঢাকায় ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল
- ২০২৮-২৯ থেকে নতুন অর্থবছর: ৯ মাসের অন্তর্বর্তী বাজেট ২০২৭-২৮ অর্থবছরে
- ছয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
- কুষ্টিয়ায় জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ: এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা
- জননিরাপত্তা নিশ্চিতে রায়পুরা থানায় দুটি পুলিশ ভ্যান দিলেন এমপি বকুল
- কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে যেসব অভ্যাস বর্জনীয়
- মধ্যরাতের মধ্যে যেসব এলাকায় ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে
- সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে চরমোনাই পীরের ৬ দফা পরামর্শ
- ১৯৫৩ সালের পর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি? উত্তর কোরিয়ার কোর্টে বল ঠেলল দক্ষিণ কোরিয়া
- টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে বাংলাদেশের সামনে যে সমীকরণ
- বিএনপির জনপ্রিয়তার মূল কারিগর ছিলেন খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল
- ভারত-পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের বিশ্বরেকর্ড
- শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে ফেসবুকে শ্রদ্ধা জানালেন সাকিব আল হাসান
- সংগ্রামের পথ পেরিয়ে নেতৃত্বের সর্বোচ্চ শিখরে—ত্যাগ, যোগ্যতা ও আনুগত্যের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি
- গত ১৭ বছরের সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে: আইনমন্ত্রী
- ইরানকে পরমাণু অস্ত্রহীন রাখতে বাড়তি তেলের দামও মেনে নেওয়া যায়: ট্রাম্প
- বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটতে কমপক্ষে দুই বছর লাগবে: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী








