মাইগ্রেনের তীব্রতা কমাতে দৈনন্দিন জীবনে যে পরিবর্তন আনা জরুরি

প্রতিদিনের জীবনে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা আলো সহ্য না হওয়া এবং কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া মাইগ্রেন হাজারো মানুষের জীবন একেবারে থামিয়ে দেয়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন এই যন্ত্রণার পেছনে শুধু স্ট্রেস বা ঘুমের অভাব নয় বরং শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ভিটামিনের ঘাটতিই হতে পারে প্রধান অপরাধী। নতুন গবেষণা জানাচ্ছে ভিটামিন ডি রাইবফ্লাভিন ম্যাগনেশিয়াম ও কোএনজাইম কিউ১০ এর মাত্রা কমে গেলেই মাইগ্রেনের ঘনত্ব তীব্রতা ও সময়কাল নাটকীয়ভাবে বেড়ে যেতে পারে।
গবেষকদের মতে ভিটামিন ডি মস্তিষ্কে ব্যথা সংক্রান্ত সংকেত নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে প্রদাহ বৃদ্ধি পায় এবং নাইট্রিক অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায় যা সরাসরি মাইগ্রেন ট্রিগার করে। বিশেষত যাদের ভিটামিন ডি এর মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম তাদের মধ্যে মাইগ্রেন পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি অনেক বেশি। জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি গ্রহণের পরামর্শ দেয়।
ম্যাগনেশিয়াম শরীরের বৈদ্যুতিক সংকেত ও স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। এর ঘাটতি হলে স্নায়ু অতিরিক্ত উদ্দীপিত হয় এবং ফলে মাইগ্রেনের প্রবণতা বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত যথেষ্ট ম্যাগনেশিয়াম গ্রহণ করলে ব্যথার ঘনত্ব ও তীব্রতা কমে আসতে পারে। নারীদের জন্য দৈনিক ৩১০ থেকে ৩২০ মিলিগ্রাম এবং পুরুষদের জন্য ৪০০ থেকে ৪২০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম সুপারিশ করা হয়।
রাইবফ্লাভিন বা ভিটামিন বি২ কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াকে শক্তি যোগায়। গবেষণা দেখায় মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যকারিতা কমে গেলে মাইগ্রেনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। রাইবফ্লাভিন সাপ্লিমেন্টেশন অনেক ক্ষেত্রে মাথাব্যথার পুনরাবৃত্তি কমাতে সাহায্য করে। নারীদের জন্য প্রতিদিন ১ দশমিক ১ মিলিগ্রাম এবং পুরুষদের জন্য ১ দশমিক ৩ মিলিগ্রাম রাইবফ্লাভিন প্রয়োজন। তবে চিকিৎসা গবেষণায় ব্যবহৃত ডোজ আরও বেশি তাই সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কোএনজাইম কিউ১০ এর ঘাটতি কোষের শক্তি উৎপাদন কমিয়ে দেয় যা মাইগ্রেনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সীমিত গবেষণায় দেখা গেছে এই সাপ্লিমেন্ট কিছু মানুষের মাইগ্রেন প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে তবে এ নিয়ে আরও বড় গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
আন্তর্জাতিক হেডেক সোসাইটি মাইগ্রেনকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। অরা ছাড়া মাইগ্রেনে ৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা মাথাব্যথা আলো শব্দ সংবেদনশীলতা ও বমিভাব হয়। অন্যদিকে অরাযুক্ত মাইগ্রেনে অস্থায়ী স্নায়ুবিক সমস্যা দৃষ্টি ভাষা বা সংবেদনশীলতায় ব্যাঘাত ঘটে। ট্রিগার হতে পারে বিশেষ খাবার কম পানি চাপ তীব্র গন্ধ আবহাওয়া পরিবর্তন হরমোন অনিয়মিত ঘুম বা পুষ্টির ঘাটতি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন সমস্যা বাড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত ঘুম সময়মতো খাবার পর্যাপ্ত পানি হালকা ব্যায়াম এবং চাপ কমানোর অভ্যাস মাইগ্রেন কমাতে বড় ভূমিকা রাখে। যোগা বা ধ্যান এবং আকুপাংচার বা সাইকোথেরাপিও কিছু ক্ষেত্রে উপকার দিতে পারে। মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ওষুধের পাশাপাশি ভিটামিন ও খনিজের ভারসাম্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনধারার পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ছড়িয়ে পড়েছে নিপাহ ভাইরাস: মৃত্যুর হার ১০০ শতাংশে পৌঁছানোয় রেড অ্যালার্ট
দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং এর বিস্তার ও সংক্রমণের ধরনে উদ্বেগজনক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) আয়োজিত এক সভায় জানিয়েছে, গত বছর (২০২৫) শনাক্ত হওয়া চারজন নিপাহ রোগীর প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। অর্থাৎ দেশে এখন এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার ১০০ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড় মৃত্যুর হারের (৭২%) চেয়েও অনেক বেশি। বিশেষ করে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী জেলায় নিপাহর এই মরণকামড় লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবথেকে বড় উদ্বেগের কারণ হলো দেশে প্রথমবারের মতো ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’ শনাক্ত হওয়া। গত আগস্ট মাসে নওগাঁর ৮ বছরের এক শিশু নিপাহ আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, যা প্রচলিত শীতকালীন সংক্রমণের ধারণাকে বদলে দিয়েছে। ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল (কালোজাম ও আম), যা প্রমাণ করে যে নিপাহ ছড়ানোর জন্য শুধু খেজুরের রস দায়ী নয় বরং সারা বছরই যেকোনো দূষিত ফল থেকে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন এই পরিস্থিতিকে একটি বড় ‘ওয়ার্নিং সিগন্যাল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বর্তমানে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে নিপাহর প্রকোপ সবথেকে বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে নিপাহ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি তাঁর পরিবার বা স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। নিপাহর কোনো সুনির্দিষ্ট টিকা বা চিকিৎসা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। আইইডিসিআর-এর নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে কাঁচা খেজুরের রস ও পাখির আধা-খাওয়া ফল খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রস্রাবের রং কি বদলে যাচ্ছে? কিডনি বিকল হওয়ার আগাম লক্ষণ জানুন
প্রস্রাবকে অনেকেই কেবল বর্জ্য মনে করলেও চিকিৎসকদের মতে এটি কিডনি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। সুস্থ কিডনি রক্ত ছেঁকে যে প্রস্রাব তৈরি করে তার স্বাভাবিক রং হালকা হলুদ থেকে অ্যাম্বার বর্ণের হয়ে থাকে। এই রঙে কোনো দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলে তা কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ বা শরীরের অভ্যন্তরীণ গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে প্রস্রাবের রঙের সাথে কিডনির সুস্থতার নিবিড় সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান যে ইউরোক্রোম নামের এক ধরণের রঞ্জক পদার্থ প্রস্রাবকে হলুদ রং দেয়। তবে প্রস্রাব যদি চা বা গাঢ় বাদামি রঙের হয়, তবে বুঝতে হবে কিডনি ঠিকমতো বর্জ্য ছেঁকে বের করতে পারছে না। পর্যাপ্ত পানি পান করার পরেও যদি এই রং না বদলায় এবং সাথে ক্লান্তি বা শরীর ফোলার মতো উপসর্গ থাকে, তবে এটি কিডনি বিকলের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। আবার লাল বা গোলাপি রঙের প্রস্রাব, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'হেমাটুরিয়া' বলা হয়, তা কিডনির ফিল্টার নষ্ট হওয়া, পাথর বা সংক্রমণের সংকেত দেয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা দেখা দিলে তা 'প্রোটিনুরিয়া' বা প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন লিক হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের একটি প্রধান সংকেত হিসেবে ধরা হয়। অন্যদিকে গাঢ় হলুদ প্রস্রাব সাধারণত তীব্র পানিশূন্যতার ফল, যা দীর্ঘদিন বজায় থাকলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রঙ পরিবর্তনের সাথে সাথে যদি জ্বর, পিঠে ব্যথা বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।
সূত্র- টাইমস অব ইন্ডিয়া
শীতের সাধারণ সর্দি-কাশি কি বড় বিপদের সংকেত? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। অধিকাংশ মানুষ একে ঋতু পরিবর্তনের সাধারণ সমস্যা ভেবে গুরুত্ব না দিলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে দেখছেন গভীর উদ্বেগের চোখে। চিকিৎসকদের মতে, শীতকালীন এই সংক্রমণগুলো সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেলে তা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে স্থায়ী ও গুরুতর ক্ষতি সাধন করতে পারে। বিশেষ করে সর্দি থেকে শুরু হওয়া সমস্যা কানের সংক্রমণ কিংবা হাঁপানির তীব্র আক্রমণে রূপ নিতে পারে।
গলা ব্যথার মতো সমস্যাকেও অনেকে ঠান্ডা বাতাসের ফল হিসেবে অবহেলা করেন। কিন্তু চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এটি স্ট্রেপ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। যদি এর সঠিক চিকিৎসা না হয়, তবে উচ্চমাত্রার জ্বর ও জয়েন্টে ব্যথার পাশাপাশি বিরল ক্ষেত্রে বাতজ্বরের মতো জটিল হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী কাশিকে অবহেলা করলে তা ব্রঙ্কাইটিস বা সরাসরি ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, যা পরবর্তীতে নিরাময় করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
শীতকালে আরেকটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হলো মূত্রনালীর সংক্রমণ বা ইউটিআই (UTI)। ঠান্ডা আবহাওয়ায় তৃষ্ণা কম পাওয়ায় মানুষ পানি পান কমিয়ে দেয়, যার ফলে প্রস্রাবের সংক্রমণ দ্রুত কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এর পাশাপাশি শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক ফেটে গিয়ে সেখান দিয়ে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সামান্য ত্বকের সংক্রমণও শীতে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু সম্পর্কে চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, শরীর ব্যথা ও ক্লান্তিকে কেবল সাধারণ জ্বর ভেবে বসে থাকা ঠিক হবে না। ফ্লু থেকে দ্রুত নিউমোনিয়া ও পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেশি। তাই শীতকালীন যেকোনো অসুস্থতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা লক্ষণ বাড়তে থাকলে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
শীতে গলার ব্যথায় ভুগছেন? টনসিলের ঝুঁকি এড়ানোর সহজ উপায়
শীতের রুক্ষ আবহাওয়ায় গলা ব্যথা বা টনসিলের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, টনসিল মূলত আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অংশ, যা নাক ও মুখ দিয়ে প্রবেশ করা জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়ে। তবে এই টনসিলেই যখন জীবাণুর সংক্রমণ ঘটে, তখন তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘টনসিলাইটিস’ বলা হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শীতে টনসিলের সমস্যাকে কেবল সাধারণ ঠান্ডা মনে করে অবহেলা করলে তা দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা তৈরি করতে পারে।
টনসিলের সমস্যা সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে—অ্যাকিউট বা তীব্র এবং ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভাইরাসজনিত কারণে এই সংক্রমণ হয়। তবে স্ট্রেপটোকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে যদি টনসিল আক্রান্ত হয়, তবে তা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। এক্ষেত্রে গলা ব্যথার সঙ্গে প্রচণ্ড জ্বর, কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া এবং খাবার গিলতে মারাত্মক কষ্ট হতে পারে। ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এই সমস্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, টনসিলের সংক্রমণ ছোঁয়াচে হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি, লালা এমনকি একই পাত্রে খাবার খাওয়ার মাধ্যমেও এই জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন এই সমস্যা চলতে থাকলে টিস্যু শক্ত হয়ে যাওয়া (ফাইব্রোসিস) বা ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্টের মতো ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’র ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই সংক্রমণের শুরুতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং ঠান্ডা জাতীয় খাবার যেমন আইসক্রিম বা ফ্রিজের পানি পুরোপুরি এড়িয়ে চলা জরুরি।
উপশমের জন্য চিকিৎসকরা কিছু কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন। দিনে অন্তত দুবার কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে কুলি করলে গলার ফোলা ভাব দ্রুত কমে। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধে সামান্য হলুদ মিশিয়ে পান করলে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-সেপটিক হিসেবে তা কাজ করে। মধু ও গ্রিন-টি পানের মাধ্যমেও জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়া সম্ভব। তবে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শীতে শরীর ভেতর থেকে গরম রাখবে যেসব খাবার
শীতের আগমনে প্রকৃতিতে যেমন বদল আসে, তেমনি আমাদের শরীরেও দেখা দেয় নানা অস্বস্তি। হালকা কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসের এই সময়ে সর্দি-কাশি ও জ্বরের মতো রোগগুলো যেন ঘরের কোণে ওত পেতে থাকে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মৌসুমে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আমাদের দৈনন্দিন খাবারের থালায়। সঠিক ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে শরীর কেবল ভেতর থেকে উষ্ণই থাকে না, বরং এটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তিও জোগায়।
শীতকালে শরীর গরম রাখতে সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখে শুষ্ক ফল ও বাদাম। কাজু, কাঠবাদাম ও আখরোটে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিস্ময়কর কাজ করে। বিশেষ করে খেজুরে থাকা আয়রন শরীরকে দ্রুত শক্তি দেয়। সকালে বা বিকেলে হালকা নাশতা হিসেবে এক মুঠো বাদাম বা কয়েকটি খেজুর আপনার শরীরে উষ্ণতার পরশ বুলিয়ে দেবে। পাশাপাশি মধু হতে পারে আপনার শীতকালীন পরম বন্ধু। প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধু গরম পানির সাথে মিশিয়ে পান করলে ঠান্ডার সমস্যা থেকে মুক্তি মেলা সম্ভব।
তীব্র ঠান্ডায় এক বাটি গরম স্যুপ কেবল আরামই দেয় না, বরং সবজি ও ডালের পুষ্টি শরীরকে সতেজ রাখে। স্যুপে আদা, দারুচিনি বা জিরার মতো মসলা যোগ করলে তা রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে শরীরকে আরও উষ্ণ করে তোলে। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ পান করা ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের অভাব মেটানোর পাশাপাশি শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখতে সহায়ক। ওটস, গম বা যবের মতো সম্পূর্ণ শস্যজাত খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
শীতকাল মানেই কেবল গরম কাপড় আর লেপের নিচে থাকা নয়, বরং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে নিজেকে সক্রিয় রাখাই আসল সুস্থতা। ঠান্ডা পানির বদলে কুসুম গরম পানি ব্যবহার এবং তিল, আটা ও গুড়ের মতো খাবার খাদ্যতালিকায় রাখলে আপনি পুরো শীতজুড়ে থাকতে পারবেন প্রাণবন্ত। মনে রাখবেন, সঠিক পুষ্টিই হলো শীতকালীন সকল সাধারণ অসুখ থেকে আপনার সুরক্ষাকবচ।
সূত্র : Ganesh Diagnostic
শীতে মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায় জানুন
শীতকালে অনেকের কাছেই মাথাব্যথা এক যন্ত্রণাদায়ক সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য হাড়কাঁপানো ঠান্ডা বাতাস এবং ডিহাইড্রেশন বড় বিপদ ডেকে আনে। চিকিৎসকদের মতে শীতে তৃষ্ণা কম পাওয়ায় পানি পানের পরিমাণ কমে যায় যা শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে মাইগ্রেনকে ট্রিগার করে। এছাড়া শীতের দিন ছোট হওয়ায় সূর্যের আলো কম পাওয়া যায় যা শরীরে ভিটামিন ডি’র অভাব ঘটায়। গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন ডি এবং ম্যাগনেশিয়ামের অভাব মাইগ্রেনের অন্যতম প্রধান কারণ।
মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হলো মাথা ও কান ঢেকে রাখা। বাইরে বের হলে মাফলার, টুপি কিংবা হুডি ব্যবহার করা জরুরি যাতে সরাসরি ঠান্ডা বাতাস স্নায়ুতে আঘাত করতে না পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং খাদ্যতালিকায় ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন—বাদাম, পালংশাক ও কলা রাখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চা বা কফি পানের অভ্যাস সাময়িক আরাম দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি মাথাব্যথা বাড়াতে পারে। বিএসএমএমইউ-এর মতো বিশেষায়িত হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা জানান যে শীতে বদ্ধ ঘরে রুম ফ্রেশনার বা ধূপের তীব্র সুগন্ধিও মাইগ্রেনের অন্যতম কারণ হতে পারে।
ঘরোয়া উপায়ে স্বস্তি পেতে আদার রস বা আদার টুকরো পানিতে মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। এছাড়া গরম পানিতে লবণ ও লেবুর রস বা মেন্থল দিয়ে ভাপ নিলে শ্বাসনালী পরিষ্কার হয় এবং মাথাব্যথা দ্রুত কমে। রাতে নির্দিষ্ট সময়ে পর্যাপ্ত ঘুম এবং কম্পিউটার বা টিভির স্ক্রিনে কম সময় কাটানো মাইগ্রেন রোগীদের জন্য বাধ্যতামূলক। কোনো খাবারে বা পরিবেশে ব্যথা বাড়ছে তা নিয়মিত ডায়েরিতে নোট করলে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই নিজের সমাধান খুঁজে পেতে পারেন। তবে ব্যথা অসহনীয় হলে এবং ঘরোয়া উপায়ে না কমলে দ্রুত একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ বা নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
পেটের আলসার এমন একটি রোগ যা ধীরে ধীরে শরীরের ভেতরে বাসা বাঁধে, কিন্তু সময়মতো শনাক্ত না হলে মারাত্মক জটিলতার জন্ম দিতে পারে। এটি মূলত পাকস্থলীর ভেতরের আস্তরণে সৃষ্ট একটি বেদনাদায়ক ক্ষত, যা দীর্ঘদিন ধরে অ্যাসিডের ক্ষয়প্রক্রিয়ার ফলে গভীরতর হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্ব দেন না, ফলে পরে রক্তক্ষরণ বা তীব্র ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
পাকস্থলীর স্বাভাবিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পরিপাক অ্যাসিডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে। কিন্তু যখন এই সুরক্ষামূলক স্তর দুর্বল হয়ে যায়, তখন হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ও পেপসিন সরাসরি টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে শুরু করে। এর ফলেই পাকস্থলীতে তৈরি হয় খোলা ঘা, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় গ্যাস্ট্রিক বা পেটের আলসার বলা হয়।
পেটের আলসার কী এবং কেন এটি বিপজ্জনক
পেটের আলসার পেপটিক আলসারের একটি ধরন। এই শ্রেণির আলসারের মধ্যে খাদ্যনালীর আলসার ও ডুওডেনাল আলসারও অন্তর্ভুক্ত। পাকস্থলীর আস্তরণ একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং ধীরে ধীরে ক্ষত বড় হতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আলসার গভীর হলে রক্তপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা রক্তাল্পতা বা হঠাৎ গুরুতর অবস্থার কারণ হতে পারে।
কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করা যাবে না
পেটের আলসারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো পেটের মাঝখানে বা উপরের অংশে জ্বালাপোড়া ধরনের ব্যথা। অনেক সময় এই ব্যথা কুঁচকানো অনুভূতির মতো হয় এবং খাবার খেলে সাময়িকভাবে কমে আসে। আবার খালি পেটে বা গভীর রাতে ব্যথা বেড়ে যাওয়াও আলসারের একটি পরিচিত লক্ষণ।
এর পাশাপাশি রোগীদের মধ্যে পেট ফাঁপা, বদহজম, বমি বমি ভাব, বমি, ক্ষুধামান্দ্য ও সার্বিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন রক্তক্ষরণ চলতে থাকলে মাথা ঘোরা, অবসাদ ও শক্তি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দেয়।
পেটের আলসারের প্রধান কারণ কী
একসময় ধারণা করা হতো যে মানসিক চাপ, ঝাল খাবার বা অনিয়মিত জীবনযাপনই পেটের আলসারের প্রধান কারণ। তবে আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই রোগের পেছনে দুটি প্রধান জৈবিক কারণ দায়ী।
প্রথমত, এইচ পাইলোরি নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। এই জীবাণু পাচনতন্ত্রে বাস করে এবং দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকলে পাকস্থলীর আস্তরণে প্রদাহ সৃষ্টি করে। ধীরে ধীরে এই প্রদাহই আলসারের রূপ নেয়।
দ্বিতীয়ত, ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার। বিশেষ করে অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন ও নেপ্রোক্সেনের মতো NSAID দীর্ঘদিন সেবনে পাকস্থলীর প্রতিরক্ষামূলক স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে, যা আলসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
কিছু বিরল ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অ্যাসিড উৎপাদনজনিত রোগ, গুরুতর শারীরিক চাপ, বড় অস্ত্রোপচার বা সংক্রমণের পরও পেটের আলসার দেখা দিতে পারে।
কীভাবে পেটের আলসার নির্ণয় করা হয়
পেটের আলসার শনাক্ত করতে চিকিৎসক প্রথমে রোগীর উপসর্গ, ব্যথার ধরন, ওষুধ সেবনের ইতিহাস ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। এরপর রক্ত পরীক্ষা করে রক্তাল্পতা বা সংক্রমণের লক্ষণ খোঁজা হয়।
এইচ পাইলোরি শনাক্তের জন্য শ্বাস, রক্ত বা মলের নমুনা পরীক্ষা করা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে সরাসরি পাকস্থলীর ভেতর ক্যামেরা ঢুকিয়ে ক্ষত পর্যবেক্ষণ করা হয়। সন্দেহজনক হলে বায়োপসি নিয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকিও যাচাই করা হয়।
পেটের আলসারের চিকিৎসা কীভাবে হয়
পেটের আলসারের চিকিৎসায় মূল লক্ষ্য হলো অ্যাসিডের ক্ষয় কমানো এবং পাকস্থলীর ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করা। এজন্য সাধারণত কয়েক সপ্তাহের জন্য প্রোটন পাম্প ইনহিবিটার জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়, যা অ্যাসিড উৎপাদন কমায়।
যদি এইচ পাইলোরি সংক্রমণ ধরা পড়ে, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের সমন্বিত কোর্স দেওয়া হয়। পাশাপাশি রোগীদের ক্যাফিন, অ্যালকোহল, অতিরিক্ত মশলাদার ও অ্যাসিডিক খাবার এড়াতে বলা হয়।
ধূমপান পুরোপুরি বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ নিকোটিন আলসার নিরাময়কে বাধাগ্রস্ত করে। ব্যথানাশক হিসেবে NSAID এড়িয়ে বিকল্প ওষুধ ব্যবহারের দিকেও জোর দেওয়া হয়।
গুরুতর অবস্থায় কী হতে পারে
যদি আলসার থেকে রক্তপাত শুরু হয় বা পাকস্থলীতে ছিদ্র তৈরি হয়, তাহলে রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতিতে রক্তপাত বন্ধ করা বা প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার করা লাগতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দেরি হলে প্রাণঘাতী ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
ঘরোয়া যত্ন ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন
চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সহজপাচ্য ও কম অ্যাসিডিক খাবার খাওয়া, অল্প অল্প করে বারবার খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং মানসিক চাপ কমানো এতে সহায়ক।
ধ্যান, শ্বাস ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সাময়িকভাবে ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলাও আলসার নিরাময়ে ভূমিকা রাখে।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে
পেটের ব্যথা যদি দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র থাকে, বমিতে বা পায়খানায় রক্ত দেখা যায়, হঠাৎ অসহ্য ব্যথা শুরু হয় কিংবা মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান ভাব দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
প্রতিরোধই সবচেয়ে নিরাপদ পথ
নিয়মিত অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন পরিহার, ব্যথানাশক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন না খাওয়া, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে পেটের আলসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
পেটের আলসার একটি সাধারণ কিন্তু অবহেলাযোগ্য নয় এমন রোগ। সময়মতো শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা নিলে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। উপসর্গকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
স্ট্রোক হওয়ার কয়েক দিন আগেই পাওয়া যায় সিগন্যাল: ৫টি লক্ষণ চিনুন
আধুনিক জীবনযাত্রায় অনিয়ম ও অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে স্ট্রোক এখন একটি নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত। অনেক ক্ষেত্রে মনে হয় স্ট্রোক হঠাৎ করেই হয়েছে, কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন ভিন্ন কথা। নিউরোলজিস্টদের মতে, বড় ধরনের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার বেশ কিছু সময় আগেই মানুষের শরীর কিছু সুনির্দিষ্ট সতর্ক সংকেত দেয়। যদি সময়মতো এই লক্ষণগুলো চিনে চিকিৎসা নেওয়া যায়, তবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়া কিংবা মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো হঠাৎ করে শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া বা ঝিনঝিনি অনুভব করা। অনেক সময় রোগীর মুখ একদিকে বেঁকে যেতে পারে এবং হাসতে গেলে অসামঞ্জস্যতা ধরা পড়ে। এছাড়া কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ জড়িয়ে যাওয়া বা শব্দ খুঁজে না পাওয়া এবং অন্যের সহজ কথা বুঝতে সমস্যা হওয়াও স্ট্রোকের অন্যতম বড় ইঙ্গিত। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।
অস্বাভাবিক ও তীব্র মাথাব্যথা, যার কোনো স্পষ্ট কারণ নেই, সেটিও হতে পারে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্তপ্রবাহে বাধার লক্ষণ। এর পাশাপাশি হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, হাঁটতে গিয়ে পড়ে যাওয়া কিংবা চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া স্ট্রোকের আগাম পূর্বাভাস হিসেবে গণ্য হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগী প্রচণ্ড ক্লান্তি ও মানসিক বিভ্রান্তি অনুভব করতে পারেন, যা রক্ত সঞ্চালনের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে।
স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকরা রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়মিত নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন। ধূমপান বর্জন, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। শরীরের দেওয়া এই ছোট ছোট সিগন্যালগুলোকে গুরুত্ব দিলে জীবন বাঁচানো অনেক সহজ হয়। মনে রাখবেন, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ‘প্রতিটি সেকেন্ড মূল্যবান’; তাই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করা জরুরি।
মাত্র ৩০ দিনে কোলেস্টেরল কমানোর জাদুকরী উপায়
আধুনিক যুগের ব্যস্ত জীবনযাত্রা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে উচ্চ কোলেস্টেরল এখন একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি। আগে মনে করা হতো এটি কেবল বার্ধক্যজনিত সমস্যা, তবে বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যেও এই সমস্যা প্রকট হচ্ছে। মূলত প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত ভাজাভুজি, ধূমপান এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবই এর প্রধান কারণ। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো সতর্কতা অবলম্বন না করলে এটি হৃদরোগের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে আশার কথা হলো, সঠিক পরিকল্পনা মেনে চললে মাত্র এক মাসেই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা কোলেস্টেরল কমাতে চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রথমত, সুষম আহার নিশ্চিত করতে হবে। দৈনন্দিন তালিকায় ওটস বা লাল চালের মতো গোটা শস্য, সবুজ শাকসবজি এবং প্রচুর ফলমূল যেমন—আপেল, পেয়ারা, কমলা ও পেঁপে রাখতে হবে।
দ্বিতীয়ত, অবিলম্বে ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করা জরুরি, কারণ এগুলো সরাসরি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
তৃতীয়ত, নিয়মিত শরীরচর্চার বিকল্প নেই। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, যোগব্যায়াম বা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে এবং মেদ কমাতে সাহায্য করে। চতুর্থ এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা শরীরের হরমোন ভারসাম্য নষ্ট করে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায়। তাই পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধ্যানের মাধ্যমে মন শান্ত রাখা প্রয়োজন। এই নিয়মগুলো একটানা ৩০ দিন মেনে চললে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রায় অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
পাঠকের মতামত:
- বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত: ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ইরানে আইআরজিসির রেডলাইন ঘোষণা
- মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ায় বিপাকে আইসিসি: জয় শাহর জরুরি বৈঠক
- জেগে উঠেছে মিল্কিওয়ের দানব! নাসার মহাকাশযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য
- ঠান্ডা না কি বিষাক্ত বাতাস? শীতকালীন কাশির নেপথ্যের কারণ
- বয়স অনুযায়ী কার কতটা প্রোটিন দরকার? সঠিক তথ্য জানুন
- পাবনা-১ ও ২ আসনে নির্বাচন স্থগিত করল ইসি
- টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলি
- জিয়া ও খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান: জি এম কাদের
- এক গুলশানেই তিন শক্তি! তারেক রহমানের সাথে কূটনীতিকদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
- ভাঙছে তাহসান খানের দ্বিতীয় সংসার
- খামেনির ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা বনাম ট্রাম্পের হুমকি: গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে কি ইরান ?
- প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল কবে, যা বলছে অধিদপ্তর
- ঢাকা-৯ আসনে বড় চমক! যে প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চান তাসনিম
- ১৫ বছর ছিলাম পাকিস্তানের দালাল, এখন ভারতের: আসিফ নজরুল
- বিএনপি জাতিকে সঠিক পথ দেখাবে: তারেক রহমান
- অর্থনীতি, রাজনীতি ও প্রযুক্তির চাপ বিশ্বে অনিশ্চয়তা, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
- ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও ইরানে হামলার সম্ভাবনা কম: আরাগচি
- ঘরোয়া উপায়ে আঁচিল দূর করবেন যেভাবে
- রেমিট্যান্স ও ডলার বাজার: আজকের বৈদেশিক মুদ্রার দর
- শৈত্যপ্রবাহের কবলে পঞ্চগড়: সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড
- আ’লীগের ভোট কার বাক্সে? শুরু হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের নীরব লড়াই
- হাতিয়ায় মাটির নিচ থেকে বের হচ্ছে আগুন! গ্যাস রহস্যে তোলপাড় এলাকা
- সিলিন্ডার গ্যাস চলবে দ্বিগুণ সময়! খরচ বাঁচানোর জাদুকরী কৌশল
- গিজার লাগবে না! বিনা খরচে ছাদের ট্যাংকের পানি উষ্ণ রাখার ৫টি ঘরোয়া উপায়
- চালের গুঁড়া ছাড়াই ঝটপট পাটিসাপটা তৈরির সহজ গোপন টিপস
- জীবন বদলাতে ১০ মিনিটই যথেষ্ট! সকাল ১০টার আগের বিশেষ টিপস
- খামেনিকে চরম হুমকি! ইরানে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প
- রোগ প্রতিরোধে ডালিম পাতার যাদুকরী ব্যবহার
- প্রতিদিন কমলা খাওয়ার স্বাস্থ্যগত সুফল
- গ্রিনল্যান্ড দখল না নিলে রাশিয়া-চীন আসবে: ট্রাম্প
- ডিএসইতে সরকারি বন্ড সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
- কেন ৯১-এর পর বদলে গেল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা? জানুন খালেদা জিয়ার সাহসী ভূমিকা
- অডিট আপত্তি ও গুরুত্বের বিষয়, তিন প্রতিষ্ঠানের হিসাব
- ডিএসইতে মির সিকিউরিটিজের গুরুত্বপূর্ণ আপডেট
- সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ৪২৯ কোটি টাকার লেনদেন
- টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সূচি
- আজ ১০ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
- তরুণদের রক্তে ভাসছে তেহরান! মেশিনগানে ব্রাশফায়ার ও গণকবর? জ্বলছে ইরান
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- ফ্যাসিবাদের কবর খুঁড়তে গণভোট! জানুন কেন ‘হ্যাঁ’ জয়ী করতে মরিয়া সব দল
- স্বর্ণের পর রুপার দামেও বড় ছাড়! আজ থেকে কার্যকর নতুন মূল্য
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- দিন-রাত কখন সমান হয় জানেন কি, জানুন বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি ইউনিট পরীক্ষার চিত্র, ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কবে?
- ক্ষমতার মালিক হবে জনগণ, বললেন আমীর খসরু
- তিতাসের গ্যাস সরবরাহে গ্রাহকদের জন্য দুঃসংবাদ
- পাবনার দুই আসনে ভোট বন্ধের খবর ভুল: নির্বাচন কমিশন
- ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা কবে
- কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য লম্বা ছুটি ঘোষণা
- এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
- নতুন বছরে স্বর্ণের বাজারে বড় পরিবর্তন, আজ থেকে সোনার দর নিম্নমুখী
- বুধবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- ৮ জানুয়ারি ডিএসই মেইন বোর্ডের লেনদেন চিত্র
- ৪ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে আজ শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী তালিকা
- কাত্তালী টেক্সটাইলের শেয়ারে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর
- ০৫ জানুয়ারি আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- এক নজরে ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের সর্বশেষ NAV
- দৈনিক এনএভিতে কী বার্তা পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা
- শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি, শীর্ষ ২০ শেয়ারের তালিকা বিশ্লেষণ
- দুই কোম্পানির ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ, বাজারে প্রতিক্রিয়া
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- ওষুধের দরে বড় চমক! এবার ২৯৫টি ওষুধের দাম বেঁধে দিল অন্তর্বর্তী সরকার








