ইথিওপিয়ায় বিরল অগ্ন্যুৎপাতের দৃশ্য এবং ১২ হাজার বছরের নীরবতা ভাঙার গল্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৪ ২০:৫৬:৫১
ইথিওপিয়ায় বিরল অগ্ন্যুৎপাতের দৃশ্য এবং ১২ হাজার বছরের নীরবতা ভাঙার গল্প
ছবিঃ সংগৃহীত

ইথিওপিয়ার উত্তর পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১২ হাজার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি ঘুমিয়ে থাকা বা সুপ্ত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে। এর ফলে আকাশে ১৪ কিলোমিটার পর্যন্ত ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে যা বিজ্ঞানীদের অবাক করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে রোববার ২৩ নভেম্বর উত্তর পূর্বে ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলে অবস্থিত হায়লি গুব্বি আগ্নেয়গিরিতে কয়েক ঘণ্টা ধরে এই অগ্ন্যুৎপাত হয়।

প্রায় ৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরিটি রিফ্ট ভ্যালির মধ্যে অবস্থিত। বিজ্ঞানীরা বলছেন এখানে দুটি টেকটোনিক প্লেট মিলিত হয়ে তীব্র ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপ দেখা যায় যা এই ঘটনার অন্যতম কারণ। দেশটির আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে আগ্নেয়গিরি থেকে সৃষ্ট ছাইয়ের মেঘ ইয়েমেন ওমান ভারত এবং উত্তর পাকিস্তানের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিওগুলোতে সাদা ধোঁয়ার ঘন স্তম্ভ উঠতে দেখা গেছে যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।

স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের গ্লোবাল আগ্নেয়গিরি প্রোগ্রাম বলেছে হলোসিন উপযুগের সময় হেইলি গুব্বির কোনো অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেনি। এই যুগ প্রায় ১২ হাজার বছর আগে শেষ বরফ যুগের শেষে শুরু হয়েছিল। অর্থাৎ মানব ইতিহাসের লিখিত রেকর্ডে এই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কোনো তথ্য নেই। মিশিগান টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির একজন আগ্নেয়গিরিবিদ এবং অধ্যাপক সাইমন কার্ন ব্লুস্কিতে নিশ্চিত করেছেন যে এই আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের কোনো পূর্ব রেকর্ড নেই যা ভূতত্ত্ববিদদের জন্য নতুন গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


কলকাতায় বাংলাদেশ ভিসা কেন্দ্র খোলা, আবেদন জমা পড়ছে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১৪:৫০:৪৫
কলকাতায় বাংলাদেশ ভিসা কেন্দ্র খোলা, আবেদন জমা পড়ছে
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার সল্টলেক এলাকার সেক্টর ফাইভে অবস্থিত বাংলাদেশ ভিসা আবেদনকেন্দ্র থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটন ভিসা বন্ধের গুজব ছড়ালেও বাস্তবে সেখানে নিয়মিত ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

গত বৃহস্পতিবার কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সব বাংলাদেশ মিশন থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা প্রদান পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। ওইদিন সকাল থেকেই সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে অবস্থিত ভিসা আবেদনকেন্দ্রে অন্যান্য দিনের মতোই নতুন আবেদন গ্রহণ করা হয়।

ভিসা আবেদন করতে আসা একাধিক ভারতীয় নাগরিক জানান, তারা পর্যটন ভিসার জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন এবং কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই সেগুলো গ্রহণ করেছে। আবেদনকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মীরাও জানিয়েছেন, পর্যটন ভিসাসহ সব ধরনের ভিসা পরিষেবা বর্তমানে চালু রয়েছে।

এ বিষয়ে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপদূতাবাস–এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, পর্যটন ভিসা বন্ধ সংক্রান্ত কোনো লিখিত নির্দেশনা বা সরকারি আদেশ এখনো তাদের হাতে পৌঁছায়নি। ফলে পূর্ববর্তী নিয়ম অনুযায়ী ভিসা আবেদন গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, কলকাতার কয়েকটি গণমাধ্যম মিশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ না করেই পর্যটন ভিসা বন্ধের সংবাদ প্রকাশ করেছে, যার ফলে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে। শিলিগুড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ ভিসা আবেদনকেন্দ্রটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় প্রশাসনিক ও লজিস্টিক কারণে সাময়িকভাবে ওই কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিত থাকতে পারে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

-শরিফুল


ইরান সরকারকে হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১৩:৩৬:৪৫
ইরান সরকারকে হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আবারও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যদি হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, তবে তার জবাবে ইরানকে গুরুতর ও ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দেওয়া এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান–জুড়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান এই আন্দোলন দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানি কর্তৃপক্ষকে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন যে, জনগণের ওপর প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে। তার ভাষায়, “মানুষ হত্যা শুরু হলে আমরা চুপ করে থাকব না, বরং খুব শক্তভাবে আঘাত হানবো।”

সাক্ষাৎকারে হিউইট উল্লেখ করেন, বিক্ষোভ চলাকালে ইতোমধ্যে বহু প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, কিছু মৃত্যুর ঘটনা সরাসরি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে না-ও ঘটতে পারে; পদদলিত হওয়া বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতেও হতাহতের আশঙ্কা থাকে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় সহিংসতার কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।

এর আগেও গত শুক্রবার একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি বলেছিলেন, যদি ইরান সরকার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে তাদের পাশে দাঁড়াবে এবং প্রয়োজন হলে ‘উদ্ধারে এগিয়ে আসবে’।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বরাতে জানা গেছে, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত আটজন অপ্রাপ্তবয়স্ক, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

হিউ হিউইটের অনুষ্ঠানে ইরানের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে সমর্থনের বার্তা দিতে অনুরোধ করা হলে ট্রাম্প বলেন, স্বাধীনতার প্রশ্নে তাদের দৃঢ় থাকতে হবে। তিনি আন্দোলনকারীদের সাহসের প্রশংসা করে বলেন, তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে যে অবস্থান নিয়েছেন, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

-রাফসান


স্বাধীনতার নামে পতন, স্বপ্নের নামে ধ্বংস: গাদ্দাফি–পরবর্তী লিবিয়া কী পেল?

মনজুর হাসান
মনজুর হাসান
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১৯:৪৯:৩৬
স্বাধীনতার নামে পতন, স্বপ্নের নামে ধ্বংস: গাদ্দাফি–পরবর্তী লিবিয়া কী পেল?

১৯৬৯ সালে এক রক্তপাতহীন সামরিক বিপ্লবের মাধ্যমে মুয়াম্মার গাদ্দাফি লিবিয়ার ক্ষমতায় আসেন। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এমন এক রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, যাকে কেউ দেখেছে স্বৈরতন্ত্র হিসেবে, আবার কেউ দেখেছে আফ্রিকার সবচেয়ে স্থিতিশীল ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রগুলোর একটি হিসেবে। ২০১১ সালে আরব বসন্তের ঢেউ যখন **লিবিয়া**র ওপর আছড়ে পড়ে, তখন স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের নামে যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, বাস্তবে তার পরিণতি হয় ভয়াবহ, রক্তাক্ত এবং গভীরভাবে বেদনাদায়ক।

গাদ্দাফির আগে লিবিয়া ছিল দরিদ্র, পশ্চাৎপদ ও রাজনৈতিকভাবে নড়বড়ে একটি দেশ। ১৯৫১ সালে উপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়ে রাজা ইদ্রিসের অধীনে দেশটি রাজতন্ত্রে রূপ নেয়। কিন্তু তেল আবিষ্কারের পরও সাধারণ মানুষের জীবনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। দুর্নীতি, বৈষম্য ও অবহেলা ক্রমে জনঅসন্তোষকে বিস্ফোরণের দিকে ঠেলে দেয়। এই প্রেক্ষাপটেই গাদ্দাফির উত্থান, যিনি তেল সম্পদের জাতীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় আয়ের চাকা ঘুরিয়ে দেন এবং সেই অর্থ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করেন।

গাদ্দাফির শাসনামলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ছিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। বাসস্থান, জ্বালানি, খাদ্য এবং কর্মসংস্থানে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি সাধারণ নাগরিকের জীবনকে নিরাপত্তার এক ছায়ার নিচে রাখে। মরুভূমির বুকে গ্রেট ম্যান-মেড রিভার প্রকল্পের মতো উদ্যোগ লিবিয়াকে শুধু আফ্রিকার নয়, বিশ্বের বিস্ময়ের তালিকায় নিয়ে আসে। এই বাস্তব উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গাদ্দাফি হয়ে ওঠেন বিতর্কিত এক চরিত্র। আফ্রিকান ঐক্য, পশ্চিমা আধিপত্যের বিরোধিতা এবং স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থার ধারণা তাকে পশ্চিমাদের চোখে পরিণত করে “অস্বস্তিকর শাসকে”।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে লিবিয়ার ভেতরেও বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নে অসন্তোষ জমতে থাকে। এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো কৌশলে ব্যবহার করে। ২০১১ সালে আরব বসন্ত লিবিয়ায় পৌঁছালে ছোট বিক্ষোভ দ্রুত বড় আন্দোলনে রূপ নেয়। সরকার কঠোর হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে হতাহতের সংখ্যা বাড়ে। সেই মৃত্যুই হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক প্রচারণার প্রধান অস্ত্র। মানবিক হস্তক্ষেপের নামে ন্যাটো সামরিক অভিযান শুরু করে, যার পরিণতিতে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়ে।

২০১১ সালের ২০ অক্টোবর সিরতে শহরে নিজ দেশের বিদ্রোহীদের হাতে আটক হয়ে গাদ্দাফি নিহত হন। তার পতনের মুহূর্তে যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল—গণতান্ত্রিক, আধুনিক ও সমৃদ্ধ লিবিয়া—তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। বরং বিনামূল্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস হয়, অবকাঠামো ভেঙে পড়ে, কর্মসংস্থান নিশ্চিহ্ন হয়। শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ভেঙে যাওয়ায় দেশটি উপজাতি সংঘর্ষ, বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং বিদেশি শক্তির প্রক্সি যুদ্ধে পরিণত হয়।

আজকের লিবিয়া আর সেই কল্যাণরাষ্ট্র নয়। লক্ষাধিক মানুষ নিহত বা বাস্তুচ্যুত। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত অচল। অর্থনীতি বিপর্যস্ত, দারিদ্র ও নিরাপত্তাহীনতা নিত্যসঙ্গী। গাদ্দাফির আমলে যে রাষ্ট্রকে স্বৈরতন্ত্র বলা হতো, সেই রাষ্ট্রেই অন্তত সাধারণ মানুষের মৌলিক জীবনের নিশ্চয়তা ছিল। আর তথাকথিত নতুন স্বাধীনতা লিবিয়াকে দিয়েছে অনিশ্চয়তা, গৃহযুদ্ধ ও দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকট।

লিবিয়ার গল্প তাই শুধু একজন শাসকের উত্থান-পতনের গল্প নয়। এটি একটি রাষ্ট্রকে ভেঙে ফেলার মূল্য, একটি সমাজের স্বপ্নভঙ্গ এবং একটি জাতির দীর্ঘশ্বাসের ইতিহাস। প্রশ্ন থেকে যায়, স্বাধীনতার নামে যে পতন আসে, তা কি সব সময় মুক্তি বয়ে আনে, নাকি কখনো কখনো তা গোটা একটি জাতিকে আরও গভীর অন্ধকারে ঠেলে দেয়।


ডলারের আধিপত্য ও তেলের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের শুল্কের রাজনীতিতে কাঁপছে বিশ্ববাজার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১৭:৩২:৫৯
ডলারের আধিপত্য ও তেলের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের শুল্কের রাজনীতিতে কাঁপছে বিশ্ববাজার
ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার শাসন ক্ষমতা থেকে নিকোলাস মাদুরোর প্রস্থান এবং এর পেছনে হোয়াইট হাউসের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিশ্লেষণ চলছে। তবে ভূ-রাজনৈতিক এই সমীকরণে যে বিষয়টি সবথেকে কম আলোচিত হচ্ছে, তা হলো ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ। বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের একক প্রাধান্য কমে যাওয়া নিয়ে ওয়াশিংটন যে গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে, তার একটি বড় প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ভেনেজুয়েলার ঘটনাপ্রবাহে।

পরিসংখ্যান বলছে, ভেনেজুয়েলার বর্তমান তেল উৎপাদন দৈনিক মাত্র ১ মিলিয়ন ব্যারেলের আশেপাশে হলেও দেশটির মাটির নিচে সংরক্ষিত রয়েছে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের এক বিশাল মজুত। এটি একক কোনো দেশ হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ এবং বৈশ্বিক মোট মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অকল্পনীয় সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, শীর্ষস্থানীয় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার জরাজীর্ণ তেল শিল্পকে পুনর্গঠন করবে এবং এর বিনিময়ে বিশাল অংকের লভ্যাংশ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের তহবিলে জমা হবে।

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, লাতিন আমেরিকার এই রাষ্ট্রটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ৫ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ পাবে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হলো, এই তেল বিক্রির পুরো অর্থ ট্রাম্প নিজেই নিয়ন্ত্রণ করবেন। এর মাধ্যমে মূলত যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর ভিত্তি করে পেট্রোডলারের সেই হারানো আধিপত্য পুনরুদ্ধার করতে, যা দীর্ঘকাল ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার প্রধান ভিত্তি ছিল।

পেট্রোডলারের উত্থান-পতন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থার ইতিহাস শুরু হয়েছিল ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝিতে, যখন তেলের বৈশ্বিক বাণিজ্য ডলারের মাধ্যমে করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা হয়। এই ব্যবস্থার ফলেই বিশ্বজুড়ে ডলারের নতুন চাহিদা তৈরি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা সুসংহত হয়। ২০০২ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে যখন তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে উঠেছিল, তখন পেট্রোডলারের দাপট ছিল তার চূড়ান্ত পর্যায়ে। সে সময় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো তাদের উপার্জিত উদ্বৃত্ত অর্থের বড় অংশ মার্কিন ট্রেজারি মার্কেটে বিনিয়োগ করতো।

তবে ২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। ‘শেল’ তেলের বিপ্লব ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজেই বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারকে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের মতো অনেক বড় উৎপাদক দেশ এখন তাদের বাণিজ্যের উদ্বৃত্ত অর্থ মার্কিন ট্রেজারিতে রাখার পরিবর্তে নিজেদের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যয় করছে। অন্যদিকে চীনের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে ডলারের পরিবর্তে ইউরো বা চীনা ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এখন ডলার ছাড়াই বেচাকেনা হচ্ছে। জেপি মরগানের তথ্যানুযায়ী, ডলারের মান ও তেলের দামের মধ্যকার প্রথাগত বিপরীতমুখী সম্পর্ক এখন উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা পেট্রোডলারের ক্ষমতা হ্রাসের এক স্পষ্ট সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্পের ‘শুল্ক রাজনীতি’ ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভগুলোতে বর্তমানে ডলারের পরিমাণ গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর ও আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করেছে। হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে আসার পর ট্রাম্প ডলারের প্রভাব বাড়াতে ‘স্টেবলকয়েন’ বা ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রসারেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি ভারত, রাশিয়া ও চীনের মতো ব্রিকস সদস্য দেশগুলোকে সরাসরি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন, যারা ডলারের বিকল্প মুদ্রা তৈরির চেষ্টা করছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের অনাবাসিক সিনিয়র ফেলো হাং ট্রান এবং যুক্তরাজ্যের উইনচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিচার্ড ওয়ার্নারের মতো বিশ্লেষকদের মতে, কারাকাসে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক তৎপরতা মূলত পেট্রোডলার ব্যবস্থাকে জোরদার করারই একটি বড় কৌশল। তবে তেলের বাজার ও মুদ্রার মান ধরে রাখতে আমেরিকার এই সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের প্রবণতা ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে তীব্র বিরক্তির সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি ব্রিকস দেশগুলোকে ডলার বর্জনের দিকে আরও দ্রুত ঠেলে দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের এই ‘তেল মিশন’ পেট্রোডলারকে শক্তিশালী করবে নাকি এর পতনের গতি বাড়িয়ে দেবে, তা এখন বিশ্ব রাজনীতির বড় প্রশ্ন।


ভেনেজুয়েলাকে শুধু মার্কিন পণ্য কেনার নির্দেশ ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১৪:৩২:১৯
ভেনেজুয়েলাকে শুধু মার্কিন পণ্য কেনার নির্দেশ ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে অর্জিত অর্থ শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত পণ্য কেনার ক্ষেত্রেই ব্যয় করা হবে—এমন শর্তের কথা জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social–এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম TRT World এই বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার বর্তমান ক্ষমতাসীন নেতা Nicolás Maduro ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটির তেল সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তি কার্যকর হয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে অর্জিত মুনাফা দিয়ে কেবলমাত্র ‘আমেরিকায় তৈরি’ পণ্য কেনা হবে, যা কার্যত দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক করে তুলছে।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, নতুন তেল চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা যে অর্থ পাবে, তা দিয়ে কৃষিপণ্য, শিল্পযন্ত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং জ্বালানি খাতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি কিনতে পারবে—তবে সবকিছুই যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই শর্ত ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি মার্কিন শিল্প ও রপ্তানি খাতকে দীর্ঘমেয়াদে লাভবান করার কৌশল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী Chris Wright বুধবার জানান, ওয়াশিংটন অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখবে। তিনি বলেন, শুরুতে দেশটির সংরক্ষিত অপরিশোধিত তেল এবং পরবর্তীতে ভবিষ্যতে উৎপাদিত সব তেল যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতৃত্বকে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের বিপণন দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়ার ঘোষণার পরই এই বক্তব্য আসে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ বিশ্বের যেকোনো স্থানে কার্যকর রয়েছে। ক্যারিবীয় সাগর ও উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে একাধিক তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।

-শরিফুল


ভারতীয় শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি: বিপাকে পড়তে পারেন ভারতীয় শিক্ষার্থীরা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১০:২৯:৫৮
ভারতীয় শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি: বিপাকে পড়তে পারেন ভারতীয় শিক্ষার্থীরা
ছবি : সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গমনকারী এবং বর্তমানে সেখানে থাকা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ওপর কঠোর নজরদারি ও সতর্কবার্তা জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন। ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রকাশিত এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আমেরিকার যেকোনো আইন ভঙ্গ করলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হতে পারে। নির্দেশিকায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে যে, কোনো অপরাধের কারণে গ্রেফতার হওয়া বা আইন লঙ্ঘন করা শিক্ষার্থীর স্টুডেন্ট ভিসায় মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। এতে কেবল বর্তমান ভিসাই বাতিল হবে না, বরং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং ভবিষ্যতে যাতে তিনি আর কোনো মার্কিন ভিসা না পান, সেই বার্তাও দিয়েছে প্রশাসন।

মার্কিন দূতাবাসের এই নির্দেশিকাটি এমন এক সময়ে এল যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর করেছেন। নির্দেশিকায় শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মার্কিন ভিসা পাওয়া কোনো নাগরিক অধিকার নয়, এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত একটি বিশেষ সুবিধা মাত্র। নিয়ম মেনে না চললে বা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকি তৈরি করলে সেই সুবিধা যেকোনো সময় কেড়ে নেওয়া হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের কারণে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কয়েক লাখ ভারতীয় শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির অধীনে অভিবাসন সংক্রান্ত প্রতিটি নিয়ম আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। এর আগে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণেও সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তবে এবারের নির্দেশিকাটি সরাসরি আইনি পরিণতির কথা উল্লেখ করে বড় ধরণের রেড সিগন্যাল হিসেবে দেখা হচ্ছে। দূতাবাস থেকে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন তাঁরা স্থানীয় সকল নিয়ম মেনে চলেন এবং কোনো ধরণের আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়েন। আমেরিকার আইন অনুযায়ী ছোটখাটো ট্রাফিক আইন বা সাধারণ শৃঙ্খলা ভঙ্গও এখন স্টুডেন্ট ভিসার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস।


বাংলাদেশ-পাকিস্তান সামরিক সম্পর্ক এখন তুঙ্গে: রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ২১:৩৯:০৬
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সামরিক সম্পর্ক এখন তুঙ্গে: রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে পাকিস্তান ও চীনের যৌথভাবে তৈরি ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ যুদ্ধবিমানকে ঘিরে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই বৈঠকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তি এবং দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তান বর্তমানে তার এই বহুমুখী যুদ্ধবিমানটি বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করছে, তাতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে যে, পাকিস্তান বাংলাদেশকে কেবল যুদ্ধবিমান নয়, বরং ‘সুপার মুশশাক’ প্রশিক্ষণ বিমানের দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা এবং পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণের বিষয়েও দুই দেশের প্রধানদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। যদিও জেএফ-১৭ বিক্রির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হয়নি, তবে বাংলাদেশ এই যুদ্ধবিমানের ব্যাপারে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে বলে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সফর দুই দেশের মধ্যকার শক্তিশালী ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর জোর দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার যৌথ সংকল্পকে প্রতিফলিত করে।

জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানটি মূলত চীন ও পাকিস্তানের যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ‘মাল্টি-রোল’ বা বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে ভূমিতে নিখুঁতভাবে আক্রমণ চালাতে সক্ষম। পাকিস্তান বিমানবাহিনী গত বছরের মে মাসে ভারতের সাথে আকাশ যুদ্ধের সাফল্যে এই বিমানটির কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে বলে মনে করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বিমানবাহিনী তাদের ফ্লিট আধুনিকায়নের যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, সেখানে জেএফ-১৭ একটি সাশ্রয়ী ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিরক্ষা ভারসাম্যে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।


স্যার আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি?: মোদির অনুরোধে যা বললেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১৮:১৬:১০
স্যার আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি?: মোদির অনুরোধে যা বললেন ট্রাম্প
ফাইল ছবি : রয়টার্স

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জেরে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ শুল্ক নিয়ে ওয়াশিংটন ও দিল্লির মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এখন প্রকাশ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন যে, তাঁর প্রশাসনের আরোপ করা শুল্ক নীতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি 'তেমন একটা খুশি নন'। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার অর্থনীতিকে সহায়তা করার অভিযোগে ভারত থেকে আসা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্পের দাবি, এই শুল্কের ফলেই ভারত সম্প্রতি রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে।

ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে মোদির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের একটি চমকপ্রদ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে মোদি সরাসরি তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। মোদি তাঁকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করে আক্ষেপ জানিয়েছিলেন যে, ভারত ৬৮টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার অর্ডার দিয়েও পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষায় আছে। ট্রাম্প মোদির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গভীরতার কথা স্বীকার করলেও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, জাতীয় স্বার্থ ও বাণিজ্য নীতির প্রশ্নে তিনি কোনো ছাড় দেবেন না। শুল্কের পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, এই ট্যাক্সের কারণে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে সরাসরি লাভবান হচ্ছে।

তবে ট্রাম্প কেবল শুল্ক নিয়ে কথা বলেই থামেননি; তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের উৎপাদন গতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এফ-৩৫ ফাইটার জেট কিংবা অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিদেশি ক্রেতাদের হাতে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে, যা কাম্য নয়। ওয়াশিংটন সতর্ক করে দিয়েছে যে, ভারত যদি রাশিয়ার তেল আমদানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ পুরোপুরি দূর না করে, তবে আগামীতে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্কের হার আরও বাড়ানো হতে পারে। মোদি-ট্রাম্পের এই 'বন্ধুত্ব বনাম বাণিজ্য' যুদ্ধ এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির বড় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

সূত্র : এনডিটিভি


আকাশের সুরক্ষায় পাকিস্তানের সাথে হাত মেলাচ্ছে বাংলাদেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ২০:০৩:২৬
আকাশের সুরক্ষায় পাকিস্তানের সাথে হাত মেলাচ্ছে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা আলোচনায় বসেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মহাকাশ প্রযুক্তিতে সহযোগিতার পাশাপাশি জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ‘সম্ভাব্য ক্রয়’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

সফরকালে এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানকে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বৈঠকে পাক বিমান প্রধান সিধু বাংলাদেশের বিমান বাহিনীকে মৌলিক ও উন্নত উড্ডয়ন প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত কোর্সে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া বাংলাদেশের অর্ডার দেওয়া সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমানগুলো দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি টেকনিক্যাল সাপোর্টের আশ্বাসও দেন তিনি।

বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধান পাকিস্তান বিমান বাহিনীর গৌরবময় পরিচালনাগত অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার সিস্টেম একীভূতকরণে পাকিস্তানের কারিগরি সহায়তা চান। বিশেষ করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিদ্যমান পুরোনো যুদ্ধবিমান বহরের রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে এবং একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে উঠবে বলে আশা করছে আইএসপিআর। প্রতিনিধি দলটি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিমান ঘাঁটি ও কারিগরি স্থাপনাও পরিদর্শন করেছে।

সূত্র: ডন

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত