পাকিস্তান সেনার দাবি: ভারতীয় ৩০ হারপ ড্রোন ধ্বংস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ মে ০৯ ১৭:০৩:৩১
পাকিস্তান সেনার দাবি: ভারতীয় ৩০ হারপ ড্রোন ধ্বংস

সত্য নিউজ:পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ভারতের পাঠানো ৩০টি ইসরায়েলি ‘হরপ’ ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে। দেশটির আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এসব ড্রোন পাকিস্তানের বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল, যা রাওয়ালপিন্ডি, গুজরানওয়ালা, লাহোর, করাচিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরের আকাশে দেখা গেছে।

আইএসপিআর-এর বিবৃতি অনুযায়ী, পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ড্রোনগুলো শনাক্ত ও ভূপাতিত করে। এতে বলা হয়, এসব ড্রোন ছিল ইসরায়েলের তৈরি ‘হারপ’ মডেল, যা 'লোইটারিং মিউনিশন' নামে পরিচিত—অর্থাৎ, টার্গেট শনাক্ত করে ঘুরতে থাকে এবং হামলার সময় নিজেকেও ধ্বংস করে দেয়। ড্রোনগুলোতে ব্যবহৃত ইঞ্জিন যুক্তরাজ্যের UAV Engines Limited-এর তৈরি।

পাকিস্তান দাবি করেছে, ভারতের সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রণরেখার পান্ডো সেক্টরে কোনো উসকানি ছাড়াই গুলি ছুড়েছিল। জবাবে পাকিস্তানের সেনারা পাল্টা আঘাতে নাঙ্গা তাক এলাকায় ভারতীয় সেনার ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর ধ্বংস করেছে বলে জানায় আইএসপিআর।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আরও দাবি করে, গত সপ্তাহে তাদের পাল্টা হামলায় ভারতীয় বেশ কয়েকটি ড্রোন, বিমান এবং সীমান্তচৌকি ধ্বংস হয়। তার প্রতিক্রিয়াতেই দিল্লি এই ড্রোন হামলার চেষ্টা চালায় বলে দাবি ইসলামাবাদের।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনায় ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে এবং এতে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা সামরিক প্রযুক্তির ভূরাজনৈতিক ব্যবহারের দিকটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন এবং দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধনীতির বিকাশের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।


গাম্বিয়ার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে ব্যারিস্টার নাজির আহমদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ২০:৩৫:৩৩
গাম্বিয়ার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে ব্যারিস্টার নাজির আহমদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার গাম্বিয়ার ন‍্যাশনাল পার্লামেন্টের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার সিডি এস.কে. এনজি এমপি’র সাথে বর্তমানে গাম্বিয়া সফররত লন্ডন বারা অব নিউহ্যামের টানা তিন বারের সাবেক ডেপুটি স্পীকার ও ইক্বরা ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান ব‍্যারিস্টার নাজির আহমদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

ব‍্যারিস্টার নাজির আহমদ আজ সকালে নির্ধারিত সময়ে পার্লামেন্টে পৌঁছলে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার সিডি এস.কে. এনজি এমপি তাকে স্বাগত জানান। সৌজন্য সাক্ষাত ও মতবিনিময়কালে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার গাম্বিয়ায় ইক্বরা ইন্টারন্যাশনালের বহুমুখী চ‍্যারিটি কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ব‍্যারিস্টার নাজির আহমদ গাম্বিয়াসহ অন্যান্য আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলোতে ইক্বরা ইন্টারন্যাশনালের চ‍্যারিটি কার্যক্রম প্রসারিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ব‍্যারিস্টার নাজির আহমদ আরো বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর মায়ানমার সরকার কর্তৃক চালানো ইতিহাসের নির্মম গণহত্যা নিয়ে বিশ্ব যখন নীরব তখন গাম্বিয়া সরকার মায়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে ঐতিহাসিক ও সাহসী ভূমিকা রেখেছে। এজন্য ব‍্যারিস্টার নাজির আহমদ গাম্বিয়ার জনগণ ও গাম্বিয়া সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

পরে ইক্বরা ইন্টারন্যাশনাল গাম্বিয়ার টীম প্রধান ও পার্লামেন্টের সদস্য মদৌ লামি বি. বাহ এমপি ব‍্যারিস্টার নাজির আহমদকে পূরো পার্লামেন্টে ঘুরে ঘুরে দেখান। এরপরে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের আমন্ত্রণে ব‍্যারিস্টার নাজির আহমদ পার্লামেন্টের অধিবেশন পর্যবেক্ষণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার সিডি এস.কে. এনজি এমপি অধিবেশনের শুরুতে ঘোষণা করেন “We have an important guest from London Barrister Nazir Ahmed with us who will be observing our session today” অর্থাৎ “লন্ডন থেকে আগত ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ আমাদের মাঝে একজন গুরুত্বপূর্ণ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন; তিনি আমাদের আজকের এই অধিবেশন পর্যবেক্ষণ করবেন”।

উল্লেখ্য, গাম্বিয়ার বর্তমান স্পিকার ফাবাকারি তোমবং জাতা এমপি রাষ্ট্রীয় কাজে সাউথ আফ্রিকা সফরে থাকায় ডেপুটি স্পিকার সিডি এস.কে. এনজি ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


মক্কার ড্রোন হামলার ভিডিও নিয়ে তোলপাড় নেটদুনিয়া, যা জানা গেল ফ্যাক্ট চেকে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৯:২০:৫৩
মক্কার ড্রোন হামলার ভিডিও নিয়ে তোলপাড় নেটদুনিয়া, যা জানা গেল ফ্যাক্ট চেকে
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই একটি হুতি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে এ ঘটনার ভিডিও দাবি করে আকাশ থেকে আলোকিত বস্তু নিচে ভেঙে পড়ার যে ৩৫ সেকেন্ডের দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, তা সত্য নয়। অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, প্রচারিত ভিডিওটি মক্কার বর্তমান ঘটনার নয়; বরং এটি এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মদিনার আকাশে ঘটা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ঘটনার পুরোনো ফুটেজ।

সামাজিক মাধ্যমে শতাধিক পেজ ও প্রোফাইল থেকে দাবি করা হয়, মক্কার আকাশে হুতি ড্রোন প্রতিহতের দৃশ্য এটি, যা একটি পেজেই ছয় লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। কিন্তু রিভার্স ইমেজ সার্চ ও অনলাইন তথ্য বিশ্লেষণে বেরিয়ে এসেছে, ভিডিওটি ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকেই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে রয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে, ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভোরে মদিনায় একটি অননুমোদিত ড্রোন শনাক্তের পর তা ভূপাতিত করা হলে আকাশে বিস্ফোরণ ও উজ্জ্বল বস্তু পড়ে যাওয়ার ওই দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার প্রমাণও মেলেনি। ফলে মক্কার সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে প্রচারিত ভিডিওটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্যে ছড়ানো হয়েছে।

/আশিক


সুন্দরবনে ফাইভ-স্টার ‘ট্রি-হাউস’ ও আকাশপথে বাঘ দর্শনের মেগা পরিকল্পনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ২০:০২:২০
সুন্দরবনে ফাইভ-স্টার ‘ট্রি-হাউস’ ও আকাশপথে বাঘ দর্শনের মেগা পরিকল্পনা
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অংশে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একগুচ্ছ উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারতের রাজ্য সরকার। এর অংশ হিসেবে সুন্দরবনের জনবসতিহীন দ্বীপগুলোতে পরিবেশবান্ধব ফাইভ-স্টার ‘ট্রি-হাউস’ রিসোর্ট নির্মাণ এবং উড়োজাহাজে করে আকাশপথে বাঘ দর্শনের মতো ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সাজানো হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সুন্দরবনের গোসাবা সফরকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব রূপরেখার কথা তুলে ধরেন পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন ও সাংস্কৃতিকবিষয়ক উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী।

মিঠুন চক্রবর্তী জানান, সুন্দরবনের প্রায় ৮ থেকে ১০টি জনমানবহীন দ্বীপে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে উচ্চমানের পরিবেশবান্ধব ট্রি-হাউস রিসোর্ট নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে। এ জন্য আগ্রহী বেসরকারি সংস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে জমি ইজারা কিংবা স্থায়ী বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে; তবে সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান রক্ষায় কোনো অবস্থাতেই কংক্রিটের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হবে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে এসব রিসোর্টে ৮০ শতাংশ কর্মীই স্থানীয়দের মধ্য থেকে নিয়োগ করা বাধ্যতামূলক থাকবে, যার মাধ্যমে প্রতিটি রিসোর্টে গড়ে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ জন স্থানীয় যুবকের নিশ্চিত কর্মসংস্থান তৈরি হবে। সাধারণ হেলিকপ্টারের বিকট শব্দ বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করে বিধায় কম শব্দের বিশেষ উড়োজাহাজ ব্যবহার করে পর্যটকদের আকাশ থেকে বাঘ দেখানোর পরিকল্পনা করছে সরকার, যা বন ও পরিবেশ আইন পুরোপুরি মেনেই বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকৃতি পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজ ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্থানগুলোকে ঘিরে একটি ‘ট্রি-সার্কিট’ গড়ে তোলার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর আওতায় ‘মা মনসা’ ও ‘বনবিবি’র মন্দির সংস্কার, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী হাট স্থাপন, সুন্দরবনের খাঁটি মধু ও হস্তশিল্প বিক্রির প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ এবং পর্যটকদের জন্য সন্ধ্যায় নিয়মিত লোকসংগীত পরিবেশনের ব্যবস্থা থাকবে। তা ছাড়া ডলফিন দেখার সুবিধার জন্য দুটি নতুন জেটি নির্মাণ, একটি অত্যাধুনিক ম্যানগ্রোভ পরিচিতি কেন্দ্র এবং একটি জীববৈচিত্র্য জাদুঘর গড়ে তোলার উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গোসাবায় আয়োজিত এই সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পর্যটন দপ্তরের সচিব, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক এবং সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে ম্যানগ্রোভ বনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে পরিবেশবিদদের পরামর্শ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীদের একাংশ।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণে বড় মোড়, হুতি ঠেকাতে এক টেবিলে সৌদি ও ইসরায়েল?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৯:৪২:১৪
মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণে বড় মোড়, হুতি ঠেকাতে এক টেবিলে সৌদি ও ইসরায়েল?
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক সামরিক আগ্রাসন মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় নিয়ে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রভাবশালী দৈনিক ‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’। হুতিদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে রিয়াদের পক্ষ থেকে জানানো অনুরোধের ভিত্তিতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

মঙ্গলবার এক আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যকার সাম্প্রতিক বৈঠকের পরপরই রিয়াদ ও তেল আবিবের মধ্যে এই কার্যকর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, হুতিদের তীব্র আক্রমণের মুখে থাকা সৌদি বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তা দিতে সেন্টকমের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এএফপির প্রতিবেদনে সৌদি-ইসরায়েল সরাসরি বৈঠক বা সেন্টকমের মধ্যস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি এবং জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনেও রিয়াদ কিংবা তেল আবিবের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার সরাসরি উদ্ধৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে ইসরায়েলের অপর সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’ জানিয়েছে, হুতিদের বিরুদ্ধে সংঘাতে সরাসরি সামনের সারিতে না জড়ানোর জন্য নিজ দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) শীর্ষ কর্মকর্তারা। বিশেষ করে হুতিরা ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা মনে করছেন, এ হুমকি একা মোকাবিলা না করে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সামরিক জোট গঠনের মাধ্যমে প্রতিহত করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

জেরুজালেম পোস্টের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, লোহিত সাগর অঞ্চলে হুতিদের সঠিক অবস্থান চিহ্নিতকরণ ও পাল্টা সামরিক অভিযানের নিখুঁত রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যেই মূলত ইসরায়েলের কাছে উন্নত গোয়েন্দা সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার অনুমতি দেওয়ায় তেল আবিবের নিরাপত্তা মহলে গভীর অস্বস্তি ও শঙ্কা বিরাজ করছে, কেননা সৌদি সীমান্ত থেকে ইসরায়েলের নিকটতম দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটার।

ট্রাম্প প্রশাসন রিয়াদের এই পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তিকে যুক্ত করার চেষ্টা করলেও রিয়াদ অনড় অবস্থান নিয়ে জানিয়েছে যে স্বাধীন ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান ছাড়া তেল আবিবের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব নয়। এ ছাড়া মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালী থেকে হুতিদের হঠাতে যুক্তরাজ্যের সহায়তাও চেয়েছিল রিয়াদ; যার জবাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম কেবল সামরিক উপদেষ্টা পাঠাতে সম্মত হলেও অতিরিক্ত কোনো প্রকার সামরিক রসদ বা সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

/আশিক


ভারত ও চীনসহ ১০ দেশকে নিশানা করে মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৮:৫৮:৪৯
ভারত ও চীনসহ ১০ দেশকে নিশানা করে মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিল
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়া ও ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতা আরও কঠোর করতে ভারত ও চীনসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রেখে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত ধাপ অতিক্রম করেছে নতুন একটি বিল। ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ শীর্ষক এই বিলটি মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২১৪-২১১ ভোটে প্রাথমিক অনুমোদন পায়, যেখানে দুই ডেমোক্র্যাট সদস্য রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট দিয়ে বিলটি পাসের পথ সুগম করেন। এর আগে গত মাসে মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ বিশাল ব্যবধানে এটি অনুমোদন পেয়েছিল এবং বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে বিলটির ওপর চূড়ান্ত ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত এই আইনে রাশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনে যুক্ত তথাকথিত ‘ছায়া বহর’ (শ্যাডো ফ্লিট)-এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, বিলটিতে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের নির্বাহী ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্যানুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত এক সংশোধনীতে সম্ভাব্য শুল্কের আওতায় আসা ১০টি দেশের তালিকায় রয়েছে—ভারত, চীন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান।

তবে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এটি কোনো পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ বা জবাবদিহি ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত শুল্ক আরোপের একচ্ছত্র ক্ষমতা দেবে। মূলত ওয়াশিংটনের দাবি, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বিক্রি থেকে আসা রাজস্বই ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে; ফলে ক্রেতা দেশগুলোর ওপর বাণিজ্য চাপ সৃষ্টি করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। এদিকে ‘ইউক্রেন অ্যাকশন সামিট’-এর ব্যানারে ইউক্রেনপন্থি সংগঠনগুলো কিয়েভকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা অব্যাহত রাখতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ওপর জোর লবিং চালাচ্ছে। প্রতিনিধি পরিষদের আসন্ন অবকাশের আগেই বিলটি পাস হলে এটি কার্যকর করার জন্য প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত স্বাক্ষরের অপেক্ষায় পাঠানো হবে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, রয়টার্স


হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ মুসলিমদের জন্য বন্ধ করল ইসরায়েল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৮:০০:২৩
হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ মুসলিমদের জন্য বন্ধ করল ইসরায়েল
ছবি : সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশাধিকার পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইহুদি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে নিরাপত্তার অজুহাতে বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা দুই দিন মসজিদটিতে মুসলিমদের নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধের এই পদক্ষেপে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ধর্ম মন্ত্রণালয়। পবিত্র এই স্থাপনার ওপর ইসরায়েলের অব্যাহত ‘পদ্ধতিগত লঙ্ঘন’ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে তারা। একই সঙ্গে মুসলিমদের নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইব্রাহিমি মসজিদের পরিচালক মোতাসেম আবু স্নেইনেহ এই পদক্ষেপকে মসজিদের অবশিষ্ট অংশ গ্রাস করার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মসজিদের প্রতিটি কক্ষ ও প্রাঙ্গণ ঐতিহাসিকভাবে সম্পূর্ণ ইসলামী পবিত্র স্থান এবং ইসরায়েলের এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক সনদে স্বীকৃত ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।

মসজিদ বন্ধ করার পাশাপাশি পুরো এলাকায় সামরিক তৎপরতা ব্যাপক জোরদার করেছে দখলদার বাহিনী। মসজিদে প্রবেশের একাধিক চেকপয়েন্ট ও ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা ফটক বন্ধ করে দেওয়ায় নিকটস্থ ইব্রাহিমি বালক প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আল-ফাইহা বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, ফলে প্রতিষ্ঠান দুটিতে শিক্ষাকার্যক্রম সম্পূর্ণ থমকে গেছে।

হেবরনের পুরোনো শহরে অবস্থিত এই এলাকাটি বর্তমানে ইসরায়েলের পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যেখানে প্রায় দেড় হাজার ইসরায়েলি সেনার কঠোর পাহারায় প্রায় ৪০০ অবৈধ বসতি স্থাপনকারী বসবাস করে। উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে এক চরমপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীর গুলিতে ২৯ জন মুসল্লি শহীদ হওয়ার পর ইসরায়েল একতরফাভাবে মসজিদটিকে বিভক্ত করে এর ৬৩ শতাংশ ইহুদিদের এবং মাত্র ৩৭ শতাংশ মুসলমানদের জন্য বরাদ্দ করে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লণ্ডভণ্ড পশ্চিম উপকূল, ইয়েমেনে তৈরি হচ্ছে বড় মানবিক বিপর্যয়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৭:৫৬:৪২
রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লণ্ডভণ্ড পশ্চিম উপকূল, ইয়েমেনে তৈরি হচ্ছে বড় মানবিক বিপর্যয়
বাস্তুচ্যুত ইয়েমেনিরা। ছবি: আল জাজিরা

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর মধ্যকার সংঘাত মারাত্মক রূপ নেওয়ায় এক লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের বরাতে এই মানবিক সংকটের তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সংঘাতের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকলে দেশটি এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।

ইউএনএইচসিআর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় দেশের অভ্যন্তরে এক লাখের বেশি মানুষ বসতভিটা ত্যাগ করে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালিয়েছেন। জীবন বাঁচাতে আরও হাজার হাজার মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল বাব আল-মান্দাব প্রণালী পাড়ি দিয়ে পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছেন। হঠাৎ সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বেশিরভাগ পরিবার জরুরি জিনিসপত্র ছাড়াই কোনোমতে প্রাণ নিয়ে পালিয়েছে। ফলে এসব বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী আশ্রয়, খাদ্য, সুপেয় পানি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর সীমিত সম্পদের ওপর চরম চাপ তৈরি করছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইয়েমেনের ভেতরে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক সহায়তা নিশ্চিত করতে আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের নতুন জরুরি তহবিলের প্রয়োজন। পাশাপাশি জিবুতিতে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের জন্যও বাড়তি আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন হবে। এই সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে পূর্ব থেকে অবস্থানরত সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া থেকে আসা নিবন্ধিত ৬৫ হাজারেরও বেশি বিদেশি শরণার্থী নতুন করে চরম জীবনঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতি বিদ্রোহীদের দ্রুত সামরিক অগ্রযাত্রার ফলে এই তীব্র বাস্তুচ্যুতির ঘটনা শুরু হয়েছে। হুতিরা মূলত লোহিত সাগর উপকূলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে বাব আল-মান্দাব প্রণালীর ওপর নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার কৌশল নিয়েছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্তকারী এই কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশ্বিক সামুদ্রিক পথ; হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যের বিকল্প হিসেবে বর্তমানে এ জলপথের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা


প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস আমন্ত্রণ নিয়ে ধোঁয়াশার অবসান, যা জানাল নয়াদিল্লি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ২১:৪২:১৮
প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস আমন্ত্রণ নিয়ে ধোঁয়াশার অবসান, যা জানাল নয়াদিল্লি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সদ্য সমাপ্ত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই আমন্ত্রণের একটি ছিল আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য এবং অন্যটি ছিল বঙ্গোপসাগরীয় বহু-খাতভিত্তিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের (বিমসটেক) সভাপতি হিসেবে ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনে যোগদানের। মঙ্গলবার ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণ ও আমন্ত্রণ নিয়ে কূটনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া অস্পষ্টতা প্রসঙ্গে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আগেই একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য তাকে আরেকটি আমন্ত্রণ পাঠানো হয়; ফলে তিনি মূলত দুটি পৃথক আমন্ত্রণপত্র পেয়েছিলেন। গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে সদস্য, অংশীদার দেশ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জোটের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিমসটেকের বর্তমান প্রধান হিসেবে বাংলাদেশকে আউটরিচ সেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছিল যে ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এককভাবে কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও স্পষ্ট করেছিলেন যে আমন্ত্রণটি কেবল বিমসটেক প্রধান হিসেবেই এসেছে। ঢাকা থেকে এমন অবস্থানের প্রেক্ষাপটেই নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো। রণধীর জয়সওয়াল পুনরায় নিশ্চিত করেন যে, গত ফেব্রুয়ারি মাসেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরের যে আলাদা আমন্ত্রণ ভারত জানিয়েছিল, তা এখনো কার্যকর ও বহাল রয়েছে।

/আশিক


চলমান সামরিক সংঘাতকে 'পবিত্র যুদ্ধ' আখ্যা দিয়ে যা বললেন উত্তর কোরিয়ার নেতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ২০:০৫:১৮
চলমান সামরিক সংঘাতকে 'পবিত্র যুদ্ধ' আখ্যা দিয়ে যা বললেন উত্তর কোরিয়ার নেতা
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ কর্মকাণ্ড ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও নিবিড় ও সম্প্রসারিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়ার বর্তমান সামরিক তৎপরতাকে ‘পবিত্র যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চূড়ান্ত বিজয়ের প্রতি পিয়ংইয়ংয়ের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ এই তথ্য প্রকাশ করে।

উত্তর কোরিয়ার ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেই বার্তার প্রত্যুত্তরেই মস্কোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন কিম জং উন। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, সহযোগিতা ও প্রতিষ্ঠিত জোটের ওপর ভিত্তি করে রাশিয়ার সঙ্গে সব ধরনের যৌথ তৎপরতা সুসমন্বিতভাবে আরও এগিয়ে নিতে পিয়ংইয়ং সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

রাশিয়ার চলমান যুদ্ধকে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক ‘পবিত্র যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দেন কিম। এই লড়াইয়ে মস্কোর নিশ্চিত বিজয় আসবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং জানান যে ভ্লাদিমির পুতিন ও রাশিয়ার জনগণের প্রতি তাঁর দেশের অকৃত্রিম সমর্থন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিবৃতির মাধ্যমে মূলত ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অবস্থানের প্রতি জোরালো সমর্থন প্রকাশ করলেন কিম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার কৌশলগত ঐক্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে; বিশেষ করে ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার সেনা পাঠানোর পশ্চিমা অভিযোগ এবং পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তির পর এই সামরিক সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

মস্কোর পাশাপাশি বেইজিংয়ের সঙ্গেও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক জোরদার করার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন কিম জং উন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাঠানো অভিনন্দন বার্তার জবাবে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক বন্ধুত্বকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং সমাজতান্ত্রিক আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে পিয়ংইয়ং যৌথভাবে বেইজিংয়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত ৯ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ার ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পুতিন ও শি উভয়েই অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছিলেন, যার প্রেক্ষিতে পৃথক দুই বার্তায় রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে নিজেদের দ্বিপাক্ষিক ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরলেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা।

সূত্র : রয়টার্স

পাঠকের মতামত: