প্রকাশ হলো ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ

এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হতে পারে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান বলেছেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ১৪৪৭ হিজরির রমজান মাসের চাঁদ ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, সেদিন খালি চোখে চাঁদ দেখা কঠিন হতে পারে।
এই হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের রমজান মাস ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হতে পারে। এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি আরও পূর্বাভাস দিয়েছে যে, এ বছর রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি তা-ই হয়, তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী ঈদের ছুটি একদিন বাড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হলে ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে ২২ মার্চ (রোববার) পর্যন্ত টানা চার দিনের ঈদ ছুটি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। সেক্ষেত্রে, ২৩ মার্চ (সোমবার) থেকে দেশটিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
যদিও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই পূর্বাভাস দিয়েছেন, তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঈদের আনুষ্ঠানিক তারিখ সেদেশের 'মুন-সাইটিং কমিটি' বা চাঁদ দেখা কমিটিই চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করবে। তা সত্ত্বেও, হিসাব অনুযায়ী ২০ মার্চ তারিখেই শাওয়াল মাসের প্রথম দিন বা ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঈদুল ফিতর মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এর সঙ্গে যেহেতু ধর্মীয় অনুভূতি গভীরভাবে জড়িত, তাই চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রীয়ভাবে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করবে না।
চিকেন্স নেকে ভূগর্ভস্থ রেলপথ: উত্তর-পূর্বে ভারতের বড় কৌশলগত চাল
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখা অতি গুরুত্বপূর্ণ সরু স্থলপথ শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেন্স নেক’ নামে পরিচিত, সেখানে ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে আসামে ব্রহ্মপুত্র নদ-এর নিচ দিয়ে দীর্ঘ রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ নির্মাণ প্রকল্পেও অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
শিলিগুড়ি করিডরে ৩৬ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেলপথ
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার তিন মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ি হয়ে রাঙাপাণি পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্ব রেলের মুখপাত্র কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত হলেও এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি। তবে কেন্দ্রীয় বাজেট-পরবর্তী সময়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব প্রকাশ্যে প্রকল্পটির উল্লেখ করায় অনুমোদন এখন সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে।
গড়ে মাত্র ২০–২২ কিলোমিটার চওড়া এই করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র স্থলসংযোগ। পূর্বে বাংলাদেশ, উত্তরে চীন, পশ্চিমে নেপাল ও ভুটানের সান্নিধ্যে থাকায় এলাকা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের ক্ষেত্রেও এই পথ ব্যবহৃত হয়।
নতুন পরিকল্পনায় প্রায় ৩৫.৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বৈত সুড়ঙ্গ নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। টানেল বোরিং মেশিন ব্যবহার করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সুড়ঙ্গ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান দুই লাইনের রেলপথ চার লাইনে উন্নীত করার উদ্যোগও রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি রুপি।
বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন বিহারের কিশানগঞ্জ ও পশ্চিমবঙ্গের চোপড়ার কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দুটি নতুন ঘাঁটি নির্মাণাধীন, যার পাশ দিয়েই যাবে এই প্রস্তাবিত সুড়ঙ্গপথ। তৃতীয় ঘাঁটি তৈরি হচ্ছে আসামের ধুবড়িতে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভূগর্ভস্থ রেলপথ এমনভাবে নির্মাণ করা হবে যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা সম্ভাব্য আক্রমণের মধ্যেও যোগাযোগ সচল রাখা যায়। মোটা কংক্রিট কাঠামোয় নির্মিত সুড়ঙ্গ ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণেও টিকে থাকতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার প্রবীর সান্যালের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল। তার ভাষায়, সুড়ঙ্গ চালু হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা শত্রুপক্ষের জন্য কঠিন হবে।
কৌশল বিশ্লেষক প্রতিম রঞ্জন বসু বলেন, বর্তমানে ভারতের অবকাঠামো পরিকল্পনায় সামরিক প্রয়োজন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। চিকেন্স নেক দিয়ে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট কেবল, তেল ও গ্যাস পাইপলাইন যাওয়ায় মাটির ওপর নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ঝুঁকিপূর্ণ; তাই ভূগর্ভস্থ ব্যবস্থা বেশি নিরাপদ।
ব্রহ্মপুত্রের নিচে ভারতের প্রথম রেল–সড়ক সুড়ঙ্গ
১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ দিয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বৈত সুড়ঙ্গ নির্মাণে অনুমোদন দেয়।
সমান্তরাল দুটি সুড়ঙ্গের একটিতে চলবে ট্রেন এবং অন্যটিতে থাকবে চার লেনের সড়ক। এতে গোহপুর ও নুমালিগড় সরাসরি যুক্ত হবে। বর্তমানে এই দুই এলাকার মধ্যে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দূরত্ব ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
মোট ৩৩.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ ব্যবস্থার মধ্যে প্রায় ১৫.৭৯ কিলোমিটার অংশ থাকবে ব্রহ্মপুত্রের নিচ দিয়ে। সরকারি বিবৃতিতে একে ভারতের প্রথম ভূগর্ভস্থ রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ প্রকল্প বলা হয়েছে।
এই সংযোগের মাধ্যমে বিশ্বনাথ ঘাট ও তেজপুর যুক্ত হবে। পাশাপাশি তেজপুর ও অরুণাচল প্রদেশের ইটানগর বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। তেজপুরের ভারতীয় বিমানবাহিনীর ঘাঁটি চীন সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ; সেখানে সুকই যুদ্ধবিমানের বহর রয়েছে। সম্প্রতি ঘাঁটি সম্প্রসারণে ৩৮৩ একর জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে।
সরকারের দাবি, ব্রহ্মপুত্রের নিচে রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ নির্মাণ কেবল কৌশলগত নয়, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
মাত্র ১৩ বছরের কিম জু অ্য হতে পারেন উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী প্রধান
উত্তর কোরিয়ায় ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে পারিবারিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, কিম জং উনের কিশোরী কন্যা কিম জু অ্যকে দেশের পরবর্তী নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করার প্রস্তুতি চলছে। এ পদক্ষেপ ভবিষ্যতে তার প্রভাবশালী খালা কিম ইয়ো জং-এর সঙ্গে ক্ষমতার লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) জানিয়েছে, আনুমানিক ১৩ বছর বয়সী কিম জু অ্যের উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উত্তর কোরিয়া এ মাসের শেষে তাদের বৃহত্তম রাজনৈতিক সম্মেলনের আয়োজন করছে। সেখানে কিম জং উন নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করবেন এবং নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করবেন।
এনআইএসের কর্মকর্তারা বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টি কংগ্রেসে হাজারো প্রতিনিধির সামনে কিম জু অ্য তার বাবার সঙ্গে উপস্থিত হবে কি না, তা তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কিম জু অ্য প্রথমবার জনসমক্ষে আসেন ২০২২ সালের নভেম্বরে এক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায়। এরপর থেকে তিনি অস্ত্র পরীক্ষা, সামরিক কুচকাওয়াজ, কারখানা পরিদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিয়মিতভাবে বাবার সঙ্গে দেখা দিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বর তিনি বেইজিং সফরে গিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে চীনের নেতার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন।
আগে সিউলের কর্মকর্তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে, পুরুষ-প্রাধান্য ও রক্ষণশীল নেতৃত্বের দেশে কোনো মেয়েকে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হবে কি না। তবে কিম জু অ্যের ঘন ঘন উপস্থিতি এই মূল্যায়নকে বদলে দিয়েছে। এনআইএস মনে করছে, চীনে নেওয়া সফর সম্ভাব্য উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় সহায়ক হয়েছে।
সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং-কে। ৩৮ বছর বয়সী তিনি দেশটির দ্বিতীয় সর্বাধিক ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত এবং শক্ত রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন রয়েছে। বর্তমানে তিনি ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটিতে জ্যেষ্ঠ পদে রয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা রাহ জং ইল মনে করেন, কিম ইয়ো জং সুযোগ পেলে শীর্ষ পদ দখলের চেষ্টা করতে পারেন। তিনি বলেন, “নিজের রাজনৈতিক প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকার কোনো কারণ তার নেই।”
কিম ইয়ো জং দেশে ও বিদেশে কঠোর ভাষণের জন্য পরিচিত। ২০২২ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, সিউল “প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংসের সমান করুণ পরিণতি” ভোগ করতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাংক স্টিমসন সেন্টারের ওয়েবসাইট ৩৮নর্থ-এ সতর্ক করেছেন, কিম জং উনের হঠাৎ মৃত্যু হলে ক্ষমতার লড়াইয়ে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে কিম জু অ্য এবং তার দুই ভাইসহ অন্যান্য সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীরা এখনো খুবই অল্পবয়সী ও রাজনৈতিকভাবে অপ্রতিষ্ঠিত। কিম ইয়ো জং রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থনের কারণে তারাৎক্ষণিকভাবে অন্যদের ছাড়িয়ে যাওয়ার সুবিধা রাখেন।
উত্তর কোরিয়ার ইতিহাসে অভ্যন্তরীণ নির্মম শুদ্ধি অভিযানও ঘটেছে। ২০১১ সালে কিম জং উন তার চাচা ও পরামর্শদাতা জ্যাং সং থেককে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০১৭ সালে তার সৎভাই কিম জং নাওকেও মালয়েশিয়ায় হত্যা করা হয়।
আজ উত্তর কোরিয়া বিশ্বের অন্যতম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে বিবেচিত। ২০২৪ সালের জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী দেশটির কাছে প্রায় ৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, এবং আরও ৭০–৯০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির মতো পদার্থ মজুত আছে। পাশাপাশি দেশটির রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র কর্মসূচি উন্নত অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
জন্মহার কমায় রোবটনির্ভর উৎপাদনে ঝুঁকছে চীন
জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমে আসা এবং কর্মক্ষম জনশক্তি সংকুচিত হওয়ায় চীন এখন উৎপাদন খাতে রোবট ও অটোমেশনের ওপর দ্রুত নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন সস্তা শ্রমনির্ভর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা দেশটি এখন প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জন এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পশক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছে।
বিয়ে সহজ করা, নগদ সহায়তা বা কর ছাড়ের মতো বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়েও জন্মহার বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এই বাস্তবতায় শি জিনপিং প্রশাসন শিল্পখাতে রোবট ব্যবহারের গতি বাড়িয়েছে। লক্ষ্য—কম কর্মী দিয়েও উৎপাদনশীলতা ধরে রাখা এবং অর্থনীতির গতি সচল রাখা।
জনসংখ্যাগত এই পরিবর্তন চীনের পেনশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক উৎপাদন কাঠামোর ওপর চাপ তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো শ্রমনির্ভর মডেলে স্থির থাকলে পরিস্থিতি বড় অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের কার্যকর প্রয়োগ সেই ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে।
Hong Kong University of Science and Technology–এর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোবোটিক্স ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো গেলে কম শ্রমশক্তি নিয়েও শিল্প উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব।
বর্তমানে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শিল্প রোবট বাজার। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী যত শিল্প রোবট স্থাপন করা হয়েছে, তার অর্ধেকেরও বেশি বসানো হয়েছে চীনে। অনেক কারখানায় এখন মানুষের বদলে রোবোটিক বাহু দিয়ে ওয়েল্ডিং, রং করা ও যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানোর কাজ চলছে। এমনকি ‘ডার্ক ফ্যাক্টরি’ ধারণাও জনপ্রিয় হচ্ছে—যেখানে মানুষের উপস্থিতি প্রয়োজন না হওয়ায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলো পর্যন্ত জ্বালানো হয় না।
উচ্চমাত্রার অটোমেশনের ফলে চীন কম খরচে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সোলার প্যানেল তৈরি করে বিশ্ববাজারে সরবরাহ করতে পারছে। এতে রপ্তানি প্রতিযোগিতায় দেশটি শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।
শিল্প রোবটের পাশাপাশি মানবসদৃশ বা হিউম্যানয়েড রোবট উন্নয়নেও জোর দিচ্ছে চীন। সরকারি সহায়তা নিয়ে দেশটির ১৪০টির বেশি কোম্পানি এই খাতে কাজ করছে। তবে ১৪০ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশে দ্রুত প্রযুক্তিগত রূপান্তর স্বল্পমেয়াদে কর্মসংস্থানে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই পরিবর্তন সামাল দেওয়া বেইজিংয়ের জন্য বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থা, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে চীন জনসংখ্যাগত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে কি না।
সূত্র: সিএনএন
বুধবার না কি বৃহস্পতিবার থেকে রোজা? সৌদিতে চাঁদ দেখা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বার্তা
পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এ লক্ষ্যে হিজরি ১৪৪৭ সালের পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখার জন্য দেশটির নাগরিকদের প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়েছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। আজ সোমবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে যে, আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হিজরি ২৯ শাবান তারিখে রমজানের চাঁদ পর্যবেক্ষণের জন্য সুপ্রিম কোর্ট এই আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি সুপ্রিম কোর্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যদি রমজানের চাঁদ দেখা যায়, তবে পরদিন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। তবে যদি ওইদিন কোথাও চাঁদ দেখা না যায়, তবে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে এবং সে ক্ষেত্রে আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশটিতে প্রথম রোজা শুরু হবে। বিবৃতিতে আরও অনুরোধ করা হয়েছে যে, দেশের কোথাও কেউ যদি খালি চোখে বা দূরবীনের মাধ্যমে চাঁদ দেখতে পান, তবে তারা যেন অতিদ্রুত নিকটস্থ আদালতে গিয়ে তাঁদের সাক্ষ্য নথিভুক্ত করেন।
তবে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, এবার শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও মিসর অঞ্চলে চাঁদ দেখা প্রায় অসম্ভব হবে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এদিন চাঁদ সূর্যের আগেই অস্ত যাবে এবং সূর্য ও চাঁদের মধ্যকার কৌণিক দূরত্ব ‘ড্যানজন সীমার’ নিচে থাকবে। ফলে খালি চোখে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা একেবারেই নেই বললেই চলে।
এই কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোসহ যারা সরাসরি চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রমজান শুরু করে, তাদের জন্য বৃহস্পতিবারই রমজানের প্রথম দিন হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য, যা আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর জানা যাবে।
/আশিক
কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে ইমরান খানকে
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পিটিআই সমর্থকদের জোরালো দাবির মুখে পাকিস্তান সরকার এই ঘোষণা দেয়। এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, ইমরান খান সম্প্রতি তাঁর দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার অভিযোগ তুলছিলেন, কিন্তু উপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তাঁর সমর্থকরা পার্লামেন্টের বাইরে বড় ধরনের অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার নিশ্চিত করেছেন যে, ইমরান খানের চোখের সমস্যার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তাঁকে বিশেষায়িত হাসপাতালে পরীক্ষা করবেন। তাঁর চিকিৎসার সব আপডেট বিস্তারিতভাবে সুপ্রিম কোর্টেও জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এদিকে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জানিয়েছেন, একজন কারাবন্দি হিসেবে ইমরান খানকে মানবাধিকার অনুযায়ী সকল প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হবে এবং দ্রুতই তাঁকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে।
/আশিক
হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা: দক্ষিণ লেবাননে তুমুল উত্তেজনা
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার দক্ষিণ লেবাননের বেসলায়া, হুমিন আল-তাহতা ও দেইর আল-জাহরানসহ বেশ কিছু এলাকায় বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বিশেষ করে মেইস আল-জাবাল এলাকায় একটি ইসরায়েলি ‘কোয়াডকপ্টার’ ড্রোনের আঘাতে একটি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে এই হামলার সত্যতা স্বীকার করে দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করছে।
গত বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে মার্কিন মধ্যস্থতায় সাময়িক অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান থামেনি। ইউএনআইএফআইএল (UNIFIL)-এর শান্তিরক্ষী সদস্যরা জানিয়েছেন, চুক্তির পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ১০ হাজারেরও বেশিবার যুদ্ধবিরতির নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৩৪০ জন নিহত এবং ৯৭০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে।
শান্তি চুক্তির তোয়াক্কা না করে বেইরুতের দক্ষিণাঞ্চল ও বাকা উপত্যকায় নিয়মিত ইসরায়েলি ড্রোন ও বিমান হামলা চলমান থাকায় পুরো অঞ্চলে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। লেবানন সরকার এখনো এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না দিলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক চরমে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মহলের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করেই ইসরায়েল তাদের ‘টার্গেটেড অপারেশন’ চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
/আশিক
শপথে থাকছেন কি না মোদি জানা গেল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান আগামী মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বঙ্গভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কেবল দেশীয় নয়, আঞ্চলিক কূটনৈতিক মহলেও তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রতিবেশী কূটনীতির প্রেক্ষাপটে এই শপথ অনুষ্ঠান তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগতভাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Hindustan Times–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ–এর পূর্বনির্ধারিত ভারত সফরের সূচির কারণে মোদির ঢাকা সফর সম্ভব হচ্ছে না।
তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে মোদি ও ম্যাক্রোঁর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। পরবর্তীতে দিল্লিতে ‘এআই ইমপ্যাক্ট কনফারেন্স’সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট, যা ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। ফলে একই সময়ে ঢাকায় উপস্থিত থাকা মোদির পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
তবে নয়াদিল্লি শপথ অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র বলছে, ভারতের উপরাষ্ট্রপতি অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে একজন বঙ্গভবনের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। এটি নতুন সরকারের প্রতি কূটনৈতিক সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পরপরই মোদি টেলিফোনে বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান–কে অভিনন্দন জানান। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, নির্বাচনে অনন্য বিজয়ের জন্য উষ্ণ শুভেচ্ছা এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মোদির বার্তায় প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শপথ অনুষ্ঠানে মোদির অনুপস্থিতি কৌশলগত দূরত্বের ইঙ্গিত নয়; বরং কূটনৈতিক সময়সূচির সমন্বয়জনিত বিষয়। একই সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্তটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতীক।
দুই দেশের বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সহযোগিতা ও আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পগুলোর প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের শপথ দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
-রফিক
মোদি-তারেক ফোনালাপ ও মমতার ভাই’ ডাক: ওপার বাংলার মিডিয়ায় তোলপাড়!
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস জয় কেবল দেশের ভেতরেই নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক বিশাল কম্পন সৃষ্টি করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথাগত সৌজন্যের বাইরে গিয়ে একধাপ এগিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলায় পোস্ট দেওয়ার পাশাপাশি সরাসরি টেলিফোন করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘আনন্দবাজার’ থেকে শুরু করে ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’—সবার হেডলাইনেই এখন তারেক রহমানের এই অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন। আনন্দবাজারের ভাষায়, ২০ বছর ধরে ক্রমশ পিছিয়ে পড়া বিএনপি এখন ‘সবার আগে’। আর অন্যদিকে, দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে দাবি করলেও বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন বার্তার ভিড়ে তাঁর সেই দাবি কার্যত ঢাকা পড়ে গেছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পিছিয়ে নেই; তিনি তারেক রহমানকে ‘তারেকভাই’ সম্বোধন করে সুসম্পর্কের বার্তা পাঠিয়েছেন। তবে ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোর একটি বড় অংশ জামায়াতে ইসলামীর উত্থান নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। ‘সংবাদ প্রতিদিন’ বা ‘দ্য হিন্দু’-র বিশ্লেষণে উঠে এসেছে—শফিকুর রহমানদের এই জয় কি দিল্লির জন্য কোনো বাড়তি চাপের কারণ হবে? পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিও তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতা প্রমাণ করছে যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের এই নতুন পথচলা ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক বিশাল প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোতে চীনের অবস্থান নিয়েও বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর দাবি, ড্রাগনের নজর এখন ভারতের ‘চিকেনস নেক’ করিডোরের দিকে, তাই বিএনপি জিততেই চীন দ্রুত তাদের সাথে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে। সামগ্রিকভাবে, ভারতীয় মিডিয়াগুলো এটিই প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে যে, বাংলাদেশে খালেদা-হাসিনা বলয়ের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা ছাত্ররা করলেও শেষ পর্যন্ত জনগণ চেনা ‘ধানের শীষের’ ওপরই আস্থা রেখেছে। এখন সবার নজর তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা গঠন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে তাঁর সম্পর্কের রসায়ন ঠিক করার দিকে।
তারেক রহমানকে মোদির ফোন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় অর্জনের পর তারেক রহমান-কে সরাসরি ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার বিষয়টি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিশ্চিত করেন মোদি। তিনি জানান, তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে তিনি আনন্দিত এবং বাংলাদেশের নির্বাচনে অসাধারণ বিজয়ের জন্য তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
মোদি তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনগণের আশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে তারেক রহমানের প্রচেষ্টার প্রতি ভারত সমর্থন জানায়। তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনে আবদ্ধ দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
এর আগে একই দিনে সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও অভিনন্দন বার্তা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এই বিজয় বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের অংশবিশেষ
- নামাজ ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত সময় জানুন আজ
- প্রাথমিকে রোজার ছুটি নিয়ে নতুন তথ্য জানাল অধিদপ্তর
- ভিসা ছাড়াই ৩৭ দেশে ভ্রমণ সুবিধা বাংলাদেশিদের
- আজ নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াবেন যিনি
- শপথ ঘিরে ঢাকায় বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা
- মঙ্গলবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিতে এসেছি: প্রধান উপদেষ্টা
- দেশে আবার ভূমিকম্প অনুভূত
- সংসদীয় রাজনীতির নবযুগের অপেক্ষায় দেশ: জামায়াত আমির
- রাষ্ট্র সংস্কারের দলিলে চূড়ান্ত সই: নতুন সূর্যের অপেক্ষায় বাংলাদেশ
- বিভেদ ভুলে রাজপথে সক্রিয় হওয়ার শপথ নিলেন কালিগঞ্জের বিএনপি নেতারা
- মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্বের শক্তিশালী প্রমাণ পেল নাসা
- ব্রণমুক্ত ত্বক পেতে ঘরোয়া ৪টি সহজ টিপস
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় দরপতন
- মুসলিমদের জন্য রমজান মাসের সূচনা: চাঁদ দেখার নিয়ম ও তারিখ
- বগুড়া-৬ আসন ত্যাগ করলেন তারেক রহমান
- বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বয়সে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তারেক রহমান
- ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ, বদলে যাবে সমীকরণ
- বিদায় নিলেন উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন
- রমজানজুড়ে ছুটি নিয়ে আইনি টানাপোড়েন, উচ্চ আদালতে বড় পরিবর্তন
- চিকেন্স নেকে ভূগর্ভস্থ রেলপথ: উত্তর-পূর্বে ভারতের বড় কৌশলগত চাল
- কুমিল্লা চান্দিনার নজর কাড়ছে তিন গম্বুজ মসজিদ
- ১৬ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
- ১৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- হান্নান, আসিফ ও সাদিকদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে
- প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বিএনপির পছন্দে নির্ধারণ হবে
- নতুন মন্ত্রীদের জন্য ৩৭টি সরকারি বাসা ও ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত
- তারেক রহমান জামায়াত আমিরকে দিলেন নির্দিষ্ট ৩টি গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস
- রমজানে শক্তি ধরে রাখার সেরা খেজুর–জানুন পুষ্টিবিদের পরামর্শ
- রমজানের আগে শারীরিক প্রস্তুতি: মাথাব্যথা ও ক্লান্তি এড়ানোর সহজ উপায়
- মাত্র ১৩ বছরের কিম জু অ্য হতে পারেন উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী প্রধান
- বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশকে জাপানের অভিনন্দন
- বিশ্ববাজারের প্রভাব পড়ল দেশের স্বর্ণবাজারে: আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- জন্মহার কমায় রোবটনির্ভর উৎপাদনে ঝুঁকছে চীন
- অন্তর্বর্তী অধ্যায়ের শেষ: ইউনূস সরকারকে কীভাবে মনে রাখবে বাংলাদেশ
- নির্বাচনের ফলাফল গণমাধ্যমে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে: জামায়াত আমির
- সিন্ডিকেট বনাম নতুন সরকার: জনমনে স্বস্তি ফেরানোই পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ
- বুধবার না কি বৃহস্পতিবার থেকে রোজা? সৌদিতে চাঁদ দেখা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বার্তা
- টাকার মান কত? দেখে নিন ১৬ ফেব্রুয়ারির বৈদেশিক মুদ্রার সর্বশেষ রেট
- সোমবার কেনাকাটায় সতর্কতা জরুরি, বহু মার্কেট বন্ধ আজ
- আজ বিকেলেই শুরু হচ্ছে বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ: বাংলাদেশ থেকে কি দেখা যাবে?
- আজকের নামাজের সময়সূচি জানুন এক নজরে
- ড. সাইমুম পারভেজ ও বিএনপির ন্যারেটিভ রূপান্তর: ডিজিটাল রাজনীতির নতুন অধ্যায়
- দেড় বছরের সাধনা ও অধ্যবসায়ের ফল নিয়ে হাজির শায়খ আহমাদুল্লাহ
- খুলনায় খুলল আওয়ামী লীগ অফিস: জানাজানি হতেই রণক্ষেত্র শঙ্খ মার্কেট
- ড. ইউনূস বাংলাদেশে জালেম দের পুনর্বাসন করছেন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- চোখে দেখেন না, কিন্তু অন্তরে পুরো কোরআন: ১২ বছরের কিশোরীর অবিশ্বাস্য কৃতিত্ব
- সাকিব-মাশরাফি কি নির্দোষ? হত্যার মামলা নিয়ে ইশরাক হোসেনের চাঞ্চল্যকর বক্তব্য
- আবার বাড়ছে স্বর্ণের দাম, কী কারণ?
- ২০০৮–এর পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন: গণতন্ত্রের গুণগত মানের এক ঐতিহাসিক পরীক্ষা
- জুয়েলারি দোকানে যাওয়ার আগে সাবধান: স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর
- বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- স্বর্ণের বাজারে নতুন অস্থিরতা: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন চড়া দাম
- নির্বাচনে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে লন্ডনে উদ্বেগ: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
- বাজুসের নতুন দর! ২ লাখ ১৩ হাজারে মিলবে ১ ভরি সোনা
- ১০ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- রমজানে স্কুল খোলা নিয়ে হাইকোর্টের বড় রায়: বদলে গেল ছুটির পুরো ক্যালেন্ডার
- কালিগঞ্জের ফতেপুরে দখলমুক্ত হল দুই দোকান, মালিক পরিবারের হাতে চাবি
- ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের শুভ সূচনা: প্রথম কেন্দ্রের ফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে
- এবার সোনার দামে রেকর্ড উত্থান
- বিশ্ববাজারের প্রভাব পড়ল দেশের স্বর্ণবাজারে: আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- রুপা স্থির, তবে কেন অস্থির শুধু সোনা
- ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের দাপুটে সূচনা: প্রথম কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে লিড








