উত্তর গাজার প্রবেশপথ এখনো বন্ধ,যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিদের কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে বাধা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ০৫ ১০:৪২:৩২
উত্তর গাজার প্রবেশপথ এখনো বন্ধ,যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিদের কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে বাধা
উত্তর গাজার জাবালিয়ায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের মধ্যে একজন ফিলিস্তিনিখাবার তৈরি করছেন। ছবি: আল জাজিরা

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও, ত্রাণ প্রবেশে ইসরায়েলের অব্যাহত বিধিনিষেধের কারণে গাজাবাসীর মধ্যে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি এখন ক্ষুধা ও চরম দুর্ভোগে কাতর হচ্ছেন। জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, সীমিত সীমান্ত খোলা থাকার কারণে ত্রাণ সরবরাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে। বৈশ্বিক এই সংস্থাটি এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফিলিস্তিনিদের কাছে জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে।

ত্রাণ অপ্রতুল ও উত্তর গাজা বিচ্ছিন্ন

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) মুখপাত্র আবির ইতেফা মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গত মাসে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সীমিতভাবে সীমান্ত খোলা থাকার কারণে ত্রাণের পরিমাণ এখনো 'অত্যন্ত কম'।

ইতেফা জোর দিয়ে বলেন, "আমাদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দরকার। দ্রুতগতিতে ত্রাণ সরানো জরুরি। আমরা সময়ের সঙ্গে দৌড়াচ্ছি। শীত চলে আসছে, অথচ মানুষ এখনো ক্ষুধায় ভুগছেন।" তিনি জানান, ডব্লিউএফপি গাজাজুড়ে ৪৪টি স্থানে খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে।

তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, যে পরিমাণ খাদ্য গাজায় প্রবেশ করছে তা প্রয়োজনের তুলনায় মোটেও যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে উত্তর গাজায় ত্রাণ পৌঁছানো এখনো কঠিন, যেখানে গত আগস্টেই বৈশ্বিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি শনাক্ত করেছিল। ইতেফা বলেন, "উত্তর গাজার প্রবেশপথ এখনো বন্ধ। ফলে আমাদের ত্রাণ কাফেলাগুলোকে দক্ষিণ দিকের দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় ঘুরে যেতে হচ্ছে। কার্যকর ত্রাণ বিতরণের জন্য সীমান্ত পারাপারের সব পয়েন্ট খোলা দরকার, বিশেষ করে উত্তর দিকেরগুলো।"

চুক্তির শর্ত ভঙ্গ ও হামলা অব্যাহত

গাজার সরকারি তথ্য অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুযায়ী দৈনিক ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করার কথা। কিন্তু ১০ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে গাজায় প্রবেশ করেছে মাত্র ৩ হাজার ২০৩টি বাণিজ্যিক ও ত্রাণবাহী ট্রাক, অর্থাৎ গড়ে দিনে মাত্র ১৪৫টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে, যা চুক্তির শর্তের অর্ধেকেরও কম।

এর পাশাপাশি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে। মঙ্গলবার গাজা সিটির তুফাহ এলাকায় ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার হামলায় একজন নিহত ও একজন আহত হন। উত্তর গাজার জাবালিয়াতেও সেনাদের গুলিতে একজন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে স্থানীয় হাসপাতাল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪০ জন নিহত ও ৬০৭ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে, ইসরায়েলি সেনারা 'ইয়েলো লাইন'-এ পিছু হটার পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি উত্তর গাজার বাড়িতে ফিরে গেছেন। কিন্তু তাদের অধিকাংশই ফিরে দেখেন, তাদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

সূত্র: আল জাজিরা


ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে: ট্রাম্পের নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১১:৪৫:৩৩
ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে: ট্রাম্পের নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন স্বার্থে কোনো প্রকার আঘাত এলে ইরানকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ফক্স নিউজের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই কড়া বার্তা প্রদান করেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ওই অঞ্চলে চলমান মার্কিন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর আওতাধীন কোনো জাহাজে হামলা চালানো হলে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে। প্রেসিডেন্টের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

সাক্ষাৎকার চলাকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক শক্তি ও সক্ষমতার বিষয়ে ব্যাপক আত্মবিশ্বাস প্রদর্শন করেন। তিনি দাবি করেন, বিগত কয়েক বছরে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত এবং বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা বিশ্বের সেরা সক্ষমতার অধিকারী।

ইরান থেকে আসতে পারে এমন যেকোনো হুমকি রুখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, সাগরে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একমাত্র পথ হলো শক্তিশালী সামরিক অবস্থান নিশ্চিত করা। প্রেসিডেন্ট জানান, মার্কিন রণতরি এবং কৌশলগত সামরিক সরঞ্জামগুলো ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট অবস্থানে মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রয়োজন পড়লে এর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এবং ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন যেকোনো চরম পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।

কঠোর হুমকির পাশাপাশি ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নিজ ধারণা ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের মতে, ক্রমাগত অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে তেহরান এখন আগের তুলনায় কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছে। তিনি মনে করেন, এই চাপের কারণেই হয়তো ইরান এখন শান্তি আলোচনার বিষয়ে কিছুটা নমনীয় হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আলোচনার পথ খোলা রাখার অর্থ এই নয় যে কোনো প্রকার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হোয়াইট হাউসের এই কঠোর অবস্থান তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধকে সরাসরি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য হুমকির জবাবে ইরান পাল্টা কোনো সামরিক মহড়া বা কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখায় কি না।

সূত্র: আলজাজিরা


মার্কিন হামলায় ইরানের ছয় যুদ্ধযান ধ্বংসের দাবি, উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১১:৩৯:০৭
মার্কিন হামলায় ইরানের ছয় যুদ্ধযান ধ্বংসের দাবি, উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানের ছয়টি ছোট যুদ্ধযান ধ্বংস করেছে এবং বেশ কিছু ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, ইরান এর আগেই দাবি করেছিল যে তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স এই উত্তেজনার খবরটি নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় সচল করতে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশেষ নৌ অভিযান শুরু করার পর ইরান তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে এই অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান এই প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল, যা পুনরায় মুক্ত করতেই ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপ।

বর্তমানে উভয় দেশের মধ্যে কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে কি না, সে বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি মার্কিন অভিযানে বিঘ্ন ঘটাতে অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। কুপারের ভাষ্যমতে, আইআরজিসি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন পাহারায় থাকা জাহাজগুলোতে আক্রমণের চেষ্টা চালিয়েছিল, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নস্যাৎ হয়ে যায়।

এই বিশাল সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৫ হাজার সেনা, নৌবাহিনীর শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ার, শতাধিক যুদ্ধবিমান এবং উন্নত ডুবো সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কমান্ডারদের যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার হরমুজ প্রণালিতে একটি দক্ষিণ কোরীয় জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন যে সেই জাহাজটি মার্কিন অভিযানের অংশ ছিল না। একই সাথে তিনি সাতটি ইরানি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার দাবিও করেন।

বিপরীত দিকে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিগুলো ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, গত কয়েক ঘণ্টায় কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেনি এবং ইরানি নৌযান ধ্বংস হওয়ার খবরটিও তারা অস্বীকার করেছে। এদিকে মার্কিন বাহিনী প্রণালিটি সচল করতে ধাপে ধাপে এগোচ্ছে। প্রথমে সমুদ্রের মাইন অপসারণ করে পথ নিরাপদ করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ সেই পথ দিয়ে সফলভাবে পার করা হয়েছে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই রুটে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে তেল ও এলপিজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই সম্পন্ন হয়ে থাকে। অ্যাডমিরাল কুপার জানিয়েছেন, ইরানের হুমকির মুখে বর্তমানে অন্তত ৮৭টি দেশের জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছে। তবে মার্কিন প্রশাসন জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন দেশের শিপিং কোম্পানিগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতে মার্কিন অবরোধ বহাল থাকায় সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক যাতায়াত আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।

/আশিক


মমতার পতন না কি বিজেপির উত্থান? পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদলে ৫টি বড় কারণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১১:১৮:১৩
মমতার পতন না কি বিজেপির উত্থান? পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদলে ৫টি বড় কারণ
ছবি : সংগৃহীত

প্রায় দেড় দশক ধরে চলা তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের ইতি টেনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। প্রাথমিক ফলাফলের ইঙ্গিত বলছে, এক সময় বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের এই পরাজয়ের পেছনে অন্যতম কারণ ছিল নির্বাচনী কৌশলে অতিরিক্তভাবে আই-প্যাকের ওপর নির্ভরতা।

অতীতে এই সংস্থার পরিকল্পনা দলকে সুবিধা দিলেও, এবার কার্যকর দিকনির্দেশনার অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। এছাড়া মুসলিম ভোটব্যাংকে ভাঙনও বড় একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগে এই ভোটের বড় অংশ তৃণমূলের দখলে থাকলেও, এবার ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট ও অন্যান্য ছোট দলের উত্থানে তা বিভক্ত হয়ে যায়, যার প্রভাব সরাসরি নির্বাচনের ফলে পড়ে। অন্যদিকে হিন্দু ভোটের একটি বড় অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি গ্রামীণ ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। বিজেপির এই সাফল্যের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গত কয়েক বছরে দলটি নীরবে নিজেদের সংগঠন শক্তিশালী করেছে এবং এবারের নির্বাচনে বহিরাগত নেতাদের বদলে স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা গেছে।

এছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ‘ভুয়া’ ও ‘বহিরাগত’ ভোটার বাদ পড়াও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নতুন সরকার গঠনের পর সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সমন্বয় এবং সীমান্তসংক্রান্ত নানা ইস্যুতে কী ধরনের অবস্থান নেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? ধারণা করা হচ্ছে, যদি শুভেন্দু অধিকারী গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পান, তাহলে তিনি এই দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারেন। এছাড়া রাজ্য বিজেপির আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রায়ই চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেয়। তাই চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

/আশিক


আমিরাতের তেল স্থাপনায়  ইরানের হামলা: প্রতিশোধ নিতে মরিয়া আমিরাত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১০:৩৪:০৫
আমিরাতের তেল স্থাপনায়  ইরানের হামলা: প্রতিশোধ নিতে মরিয়া আমিরাত
ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা পেট্রোলিয়াম ইন্ডাস্ট্রিজ জোনে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) এই হামলায় তেল স্থাপনায় ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হন। আমিরাত এই ঘটনাকে 'বিশ্বাসঘাতকতা' হিসেবে আখ্যায়িত করে এর কড়া জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে বলে হুঙ্কার দিয়েছে। এই হামলার মধ্য দিয়ে ৮ এপ্রিল ঘোষিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চরম হুমকির মুখে পড়ল।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে আসা একঝাঁক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ফুজাইরার স্পর্শকাতর অর্থনৈতিক অঞ্চলে আঘাত হানে। যদিও তারা দাবি করেছে যে, ১২টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ৩টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪টি ড্রোন তারা আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে, কিন্তু কিছু ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আহত তিন ভারতীয়কে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইরান এই হামলার বিষয়ে সরাসরি দায় স্বীকার না করলেও তাদের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সামরিক দুঃসাহসিকতার’ ফল হতে পারে। তাদের দাবি, তেল স্থাপনায় হামলার কোনো পূর্ব পরিকল্পনা তাদের ছিল না। এদিকে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানে থাকা মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের পথরোধ করার চেষ্টাকালে তারা ইরানের ৬টি ছোট সামরিক নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে থাকার পর এই যুদ্ধবিরতি কিছুটা স্বস্তি দিলেও নতুন এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

/আশিক


গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর সর্বত্র পদ্ম! দিল্লির সদর দপ্তরে মোদির বিজয়োল্লাস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ২১:১৮:১৪
গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর সর্বত্র পদ্ম! দিল্লির সদর দপ্তরে মোদির বিজয়োল্লাস
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে উচ্ছ্বসিত ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (৪ মে) আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশাল এই জয়ের পর দলীয় কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে মোদি বলেন, “গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর—সর্বত্র পদ্ম ফুটেছে। বিহার নির্বাচনের দিনই বলেছিলাম, গঙ্গা বিহার হয়ে গঙ্গাসাগরে যায়, আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের ৯৩ শতাংশ ভোটদানের হারকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এটি গণতন্ত্র এবং সংবিধানের জয়। এই জয়ের মধ্য দিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেয়েছে। আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হলো এবং সেখানে পরিবর্তনের সূচনা হলো।” নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিজেপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে।

এদিকে ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ১৯৮টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করায় এখন সবার নজর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮৯টি আসনে থমকে যাওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন ভূমিপুত্র। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে সবচাইতে এগিয়ে আছেন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তালিকায় আরও রয়েছেন সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ এবং স্বপন দাশগুপ্তর মতো নেতারা।

বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মানবিক রাজনীতি’ এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প সত্ত্বেও তৃণমূলের এই ভরাডুবির মূলে রয়েছে মাঠপর্যায়ের পুঞ্জীভূত জনঅসন্তোষ। ২০১১ সাল থেকে ‘বাংলার ঘরের মেয়ে’ হিসেবে মমতার যে আবেগ কাজ করত, এবার তার বিপরীতে বিজেপির সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক গণিত কাজ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো অ-আঞ্চলিক দল হিসেবে বিজেপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, যা ভারতীয় রাজনীতিতে ‘পদ্মফুলের উত্থান’ হিসেবে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

/আশিক


হরমুজে ট্রাম্পের প্রজেক্ট ফ্রিডম: মানবিক উদ্ধার না কি যুদ্ধের উসকানি?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১৯:৩৫:৫৮
হরমুজে ট্রাম্পের প্রজেক্ট ফ্রিডম: মানবিক উদ্ধার না কি যুদ্ধের উসকানি?
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের সবচাইতে স্পর্শকাতর জলপথ হরমুজ প্রণালি এখন এক বিশাল রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায়। সোমবার (৪ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে এক বিশেষ অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এটি একটি ‘মানবিক পদক্ষেপ’, যার মাধ্যমে এই অবরুদ্ধ জলপথে আটকে পড়া জাহাজ ও সাধারণ নাবিকদের নিরাপদে বের করে আনা হবে। তবে আলোচনার আড়ালে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বিশাল সামরিক প্রস্তুতি ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে দাবি করেছেন, এই অভিযানে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব পক্ষেরই স্বার্থ রয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘যারা কোনো সংঘাতে জড়িত নয়, তাদের জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’ কিন্তু এই ‘মানবিক’ কাজের জন্য ১৫ হাজার সেনা সদস্য, ১০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান এবং একঝাঁক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করার বিষয়টি বিশ্লেষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। অনেকেই একে ‘শান্তি মিশন’-এর আড়ালে ইরানের ওপর চরম সামরিক চাপ প্রয়োগ হিসেবে দেখছেন।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া মানেই বিশ্ব অর্থনীতির হৃদপিণ্ডে রক্তক্ষরণ। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও এলএনজি এই রুট দিয়ে প্রবাহিত হয়। ইতিমধ্যে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। দীর্ঘমেয়াদে এই অবরোধ ও সামরিক উত্তেজনা বজায় থাকলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে ইরানকে সহযোগিতার কথা বললেও, একইসাথে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে কোনো বাধার সৃষ্টি হলে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে। অন্যদিকে ইরান ইতিমধ্যে এই জলপথে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। ট্রাম্পের এই ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ কি শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে সমাধান আনবে, না কি পারস্য উপসাগরকে আগুনের কুণ্ডলীতে পরিণত করবে—তা নিয়ে এখন পুরো বিশ্ব চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করছে।

/আশিক


পুরো হরমুজ প্রণালি এখন ইরানের কবজায়! নতুন মানচিত্র প্রকাশ ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১৯:২০:২৫
পুরো হরমুজ প্রণালি এখন ইরানের কবজায়! নতুন মানচিত্র প্রকাশ ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা দীর্ঘ উত্তেজনার মাঝে এবার নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী। সোমবার প্রকাশিত এই মানচিত্রে ইরানের নিয়ন্ত্রিত এলাকার নির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই জলসীমায় তেহরানের অনুমতি ছাড়া যেকোনো বিদেশি সামরিক চলাচলকে সরাসরি ‘আগ্রাসন’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

প্রকাশিত নতুন মানচিত্র অনুযায়ী, ইরানের নিয়ন্ত্রিত এলাকাটি পশ্চিমে কেশম দ্বীপের পশ্চিম প্রান্ত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্ম আল কোয়াইন পর্যন্ত বিস্তৃত। অন্যদিকে, পূর্ব দিকে এই সীমানা ইরানের মাউন্ট মোবারক থেকে ফুজাইরাহ আমিরাত পর্যন্ত একটি রেখা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ভৌগোলিক অবস্থানের মাধ্যমে ইরান কার্যত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই করিডোরের প্রবেশ ও বের হওয়ার মুখ পুরোপুরি নিজেদের কবজায় রাখার বার্তা দিয়েছে।

ইরানের ‘খাতামুল আনাম্বিয়া (স.) কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর’-এর কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি এক কঠোর বিবৃতিতে বলেছেন, “হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। যেকোনো নৌ-চলাচল অবশ্যই ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ের মাধ্যমে হতে হবে।” তিনি বিশেষভাবে মার্কিন সেনাবাহিনীকে সতর্ক করে বলেন, কোনো আগ্রাসী শক্তি যদি এই প্রণালির কাছে আসার বা প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে তাদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।

ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণার পর ইরানের এই নতুন মানচিত্র প্রকাশ এবং সরাসরি মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি পারস্য উপসাগরে এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল মানচিত্র নয়, বরং ওয়াশিংটনকে তেহরানের দেওয়া এক চূড়ান্ত ‘রেড লাইন’।

/আশিক


তেহরানের হাতে বিশ্ব অর্থনীতির চাবি: ৬৭ দিনে বদলে গেল ভূ-রাজনীতির মানচিত্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১৮:১২:০৩
তেহরানের হাতে বিশ্ব অর্থনীতির চাবি: ৬৭ দিনে বদলে গেল ভূ-রাজনীতির মানচিত্র
ছবি : সংগৃহীত

আধুনিক ইতিহাসে নজিরবিহীন এক বাস্তবতার মুখোমুখি বিশ্ব। গত ৬৭ দিন ধরে হরমুজ প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে থাকায় বিশ্ব জ্বালানি ব্যবস্থা এখন কার্যত পঙ্গু। পারস্য উপসাগরের এই সংকীর্ণ জলপথটি এখন আর কেবল একটি নৌপথ নয়, বরং তেহরানের হাতে থাকা বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী রাজনৈতিক অস্ত্র। এই অবরোধ প্রমাণ করেছে যে, অস্ত্রের চেয়েও ভৌগোলিক অবস্থান ব্যবহার করে বিশ্ব অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

টানা দুই মাসের বেশি সময় ধরে তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়েছে। সমুদ্রপথে বিমা খরচ এবং জাহাজ ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিটি পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ খরচ বেড়েছে। তেলবাহী জাহাজের দীর্ঘ সারি আর দীর্ঘ বিকল্প পথে যাতায়াতের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) এখন ভেঙে পড়ার উপক্রমে।

এই সংকট সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। একদিকে নৌবহর মোতায়েন রাখার বিশাল খরচ, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন এখন দিশেহারা। দীর্ঘদিনের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলো এখন দেখছে যে, আমেরিকার সামরিক সুরক্ষা তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ।

এই সুযোগটিকেই কাজে লাগাচ্ছে চীন। বেইজিং এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে নতুন ভরসা হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে, যা দেশগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির মাধ্যমে চীনের ওপর আরও নির্ভরশীল করে তুলছে।

হরমুজের এই নিয়ন্ত্রণ বিশ্বকে এক বহুমেরু ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। উপসাগরীয় দেশগুলো এখন নিরাপত্তার জন্য কেবল পশ্চিমের দিকে না তাকিয়ে পূর্বমুখী হচ্ছে। ইরানের এই ‘অর্থনৈতিক–ভূরাজনৈতিক সংঘাত’ প্রমাণ করেছে যে, সামরিক শক্তি দিয়ে সব সময় জয়ী হওয়া যায় না। যদি এই অবরোধ আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্ব বাণিজ্যের কাঠামো, বিনিয়োগের ধারা এবং কৌশলগত জোটগুলো চিরতরে বদলে যাবে। বিশ্ব এখন কেবল একটি নৌপথ বন্ধ হওয়া দেখছে না, দেখছে নতুন এক বিশ্বব্যবস্থার জন্ম।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি


হরমুজে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১৭:৪৪:৫৬
হরমুজে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা!
ছবি : সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরে উত্তেজনার এক নতুন ও ভয়ংকর অধ্যায় শুরু হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সোমবার (৪ মে) হরমুজ প্রণালির জাস্ক দ্বীপের কাছে ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি’র থামার নির্দেশ উপেক্ষা করে নৌ-নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করায় জাহাজটিতে হামলা চালানো হয় এবং এর ফলে জাহাজটি পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

ইরানের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেনি। আমেরিকার পক্ষ থেকে একে ইরানের পক্ষ থেকে ছড়ানো ‘ভুল তথ্য’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের সতর্কবার্তা অমান্য করলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই হামলার খবরটি এমন সময় এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সকাল থেকেই ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ (Project Freedom) শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই প্রকল্পের আওতায় হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া প্রায় ৮৫০টি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে বের করে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিযান সফল করতে ১৫ হাজার সেনা সদস্য, ১০০টির বেশি যুদ্ধবিমান এবং গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করেছে মার্কিন সেন্টকম।

হরমুজ প্রণালিতে এই উত্তেজনার খবরের সাথে সাথেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। প্রণালীটি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের সামরিক সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। ট্রাম্প যেখানে দাবি করছেন যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ইতিবাচক’ হচ্ছে, সেখানে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি পরিস্থিতিকে আবারও যুদ্ধের কিনারে নিয়ে দাঁড় করিয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা।

পাঠকের মতামত:

৪ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

৪ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

দেশের পুঁজিবাজারে সপ্তাহের শুরুতে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে একাধিক শেয়ার দামের উল্লেখযোগ্য উত্থান বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। সোমবারের লেনদেনে... বিস্তারিত