উত্তর গাজার প্রবেশপথ এখনো বন্ধ,যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিদের কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে বাধা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ০৫ ১০:৪২:৩২
উত্তর গাজার প্রবেশপথ এখনো বন্ধ,যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিদের কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে বাধা
উত্তর গাজার জাবালিয়ায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের মধ্যে একজন ফিলিস্তিনিখাবার তৈরি করছেন। ছবি: আল জাজিরা

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও, ত্রাণ প্রবেশে ইসরায়েলের অব্যাহত বিধিনিষেধের কারণে গাজাবাসীর মধ্যে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি এখন ক্ষুধা ও চরম দুর্ভোগে কাতর হচ্ছেন। জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, সীমিত সীমান্ত খোলা থাকার কারণে ত্রাণ সরবরাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে। বৈশ্বিক এই সংস্থাটি এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফিলিস্তিনিদের কাছে জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে।

ত্রাণ অপ্রতুল ও উত্তর গাজা বিচ্ছিন্ন

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) মুখপাত্র আবির ইতেফা মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গত মাসে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সীমিতভাবে সীমান্ত খোলা থাকার কারণে ত্রাণের পরিমাণ এখনো 'অত্যন্ত কম'।

ইতেফা জোর দিয়ে বলেন, "আমাদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দরকার। দ্রুতগতিতে ত্রাণ সরানো জরুরি। আমরা সময়ের সঙ্গে দৌড়াচ্ছি। শীত চলে আসছে, অথচ মানুষ এখনো ক্ষুধায় ভুগছেন।" তিনি জানান, ডব্লিউএফপি গাজাজুড়ে ৪৪টি স্থানে খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে।

তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, যে পরিমাণ খাদ্য গাজায় প্রবেশ করছে তা প্রয়োজনের তুলনায় মোটেও যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে উত্তর গাজায় ত্রাণ পৌঁছানো এখনো কঠিন, যেখানে গত আগস্টেই বৈশ্বিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি শনাক্ত করেছিল। ইতেফা বলেন, "উত্তর গাজার প্রবেশপথ এখনো বন্ধ। ফলে আমাদের ত্রাণ কাফেলাগুলোকে দক্ষিণ দিকের দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় ঘুরে যেতে হচ্ছে। কার্যকর ত্রাণ বিতরণের জন্য সীমান্ত পারাপারের সব পয়েন্ট খোলা দরকার, বিশেষ করে উত্তর দিকেরগুলো।"

চুক্তির শর্ত ভঙ্গ ও হামলা অব্যাহত

গাজার সরকারি তথ্য অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুযায়ী দৈনিক ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করার কথা। কিন্তু ১০ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে গাজায় প্রবেশ করেছে মাত্র ৩ হাজার ২০৩টি বাণিজ্যিক ও ত্রাণবাহী ট্রাক, অর্থাৎ গড়ে দিনে মাত্র ১৪৫টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে, যা চুক্তির শর্তের অর্ধেকেরও কম।

এর পাশাপাশি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে। মঙ্গলবার গাজা সিটির তুফাহ এলাকায় ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার হামলায় একজন নিহত ও একজন আহত হন। উত্তর গাজার জাবালিয়াতেও সেনাদের গুলিতে একজন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে স্থানীয় হাসপাতাল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪০ জন নিহত ও ৬০৭ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে, ইসরায়েলি সেনারা 'ইয়েলো লাইন'-এ পিছু হটার পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি উত্তর গাজার বাড়িতে ফিরে গেছেন। কিন্তু তাদের অধিকাংশই ফিরে দেখেন, তাদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

সূত্র: আল জাজিরা


‘মানুষ হত্যা চাই না’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১০:৫৮:৪৬
‘মানুষ হত্যা চাই না’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সোমবার বিকেলে আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে। তবে সম্ভাব্য সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেননি তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক পথে সংকটের সমাধান হলে নতুন যুদ্ধ এড়ানো এবং বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি নয়, বরং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় যোগাযোগ চলছে। আলোচনার ফল কী হবে, সেটি এখনই বলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পছন্দ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত একটি বড় সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য সময় চাওয়ার পর তিনি হামলা থেকে সরে আসেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অচলাবস্থা নিরসন এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করাই আলোচনার প্রধান লক্ষ্য।

সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং কাতারি কর্মকর্তারা সামরিক সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে উপসাগরীয় মিত্রদের অবস্থান পুরোপুরি এক নয়। সৌদি আরব ও কাতার সংযমের পক্ষে থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু কর্মকর্তা ইরানের ওপর আরও কঠোর চাপ প্রয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের এই সরু নৌপথ দিয়ে বিশ্বের তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাত ও জাহাজে হামলার কারণে সেখানে নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, প্রণালির সব নৌপথ কোনো ফি ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকুক। অন্যদিকে ইরান প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নিজেদের সার্বভৌম কর্তৃত্ব বজায় রাখার দাবি করছে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের নতুন ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্য ব্যবস্থায় ওমানের দিকের একটি নৌপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। তেহরানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো ট্রাম্পের কিছু দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চললেও সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে বলা যাবে না।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়েছিল। এর আওতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করা এবং বৃহত্তর শান্তিচুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, নৌ চলাচলের নিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে সেই ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরে উভয় পক্ষ আবারও সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়ে।

সম্ভাব্য নতুন আলোচনায় হরমুজের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হবে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যেকোনো সমঝোতায় ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বন্ধ করার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। তবে তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং নিজেদের বেসামরিক পারমাণবিক অধিকার পরিত্যাগ করবে না।

-রফিক


ইরানের কঠোর অবস্থানের পর হামলা থেকে সরে এলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ১৮:১৪:৩৬
ইরানের কঠোর অবস্থানের পর হামলা থেকে সরে এলেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও কঠোর অবস্থানের মুখে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি বাস্তবায়ন থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

লেবানিজ সংবাদমাধ্যম আল-আহেদ প্রকাশ করেছে, ইরানের সামরিক শক্তি এবং মার্কিন যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জোরালো জবাব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে ওয়াশিংটনের ভেতরে কাজ করা নিরাপত্তাহীনতা ও আশঙ্কাই মূলত ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বদলের পেছনে কাজ করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের নীতিগত দৃঢ়তা এবং মার্কিন আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি হুমকির পর ট্রাম্প ইরানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেন। তিনি নিজে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিতের প্রক্রিয়াটিতে তিনি সায় দিয়েছেন।

আল-আহেদ তাদের প্রতিবেদনে আরও জানায়, হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর সৃষ্ট রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামাল দিতে ট্রাম্প দাবি করেছেন—ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতেই তিনি সামরিক হামলা না চালানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সূত্র: পার্সটুডে


ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরে ড্রোন তাণ্ডব: আন্তর্জাতিক ষড়যন্তের দিকে আঙুল ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ২০:৩৩:১৪
ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরে ড্রোন তাণ্ডব: আন্তর্জাতিক ষড়যন্তের দিকে আঙুল ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

মিশরের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ইরানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয় বলে জানিয়েছেন তেহরানের শীর্ষ কূটনীতিক আব্বাস আরাঘচি। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরির লক্ষ্যে ইসরায়েল কর্তৃক ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ (নিজের পরিচয় গোপন রেখে বিভ্রান্তিকর) হামলা চালানের বিষয়েও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের মিশরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় গ্যাসবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে ঘটে যাওয়া ড্রোন হামলার পেছনে কোন কোনো পক্ষের উসকানিমূলক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

আরাঘচি লেখেন, "মিশর মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও ভৌগোলিক অংশীদার। দেশটির নিরাপত্তা আমাদের কাছে বিশেষ অগ্রাধিকার পায়। পুরো অঞ্চলে শান্তি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে পরিচালিত যেকোনো গোপন চক্রান্ত বা চালবাজির বিষয়ে আমাদের সবাইকে যৌথভাবে সতর্ক হতে হবে।"

উল্লেখ্য, গত বুধবার মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরে ড্রোন হামলায় দুটি মার্কিন ও আন্তর্জাতিক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণাধীন এলএনজি সংক্রান্ত ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা বিশ্লেষণ সংস্থা ‘অ্যামব্রে’র তথ্যমতে, ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ সংস্থাকে লক্ষ্য করে ড্রোনটি চালানো হয়। তবে ঘটনায় লোহিত সাগরের হুথি গোষ্ঠী কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে।

ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবুলি জানান, উদ্ধারকৃত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ফরেনসিক ও সামরিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত তথ্য ও প্রমাণ ছাড়া কায়রো অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কোনো পক্ষকে দায়ী করবে না। এই মুহূর্তে পুরো অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা রক্ষায় মিশর যৌথভাবে বৈশ্বিক শক্তির সাথে কাজ করছে বলে জানান প্রেসিডেন্ট সিসি।

সূত্র: আনাদোলু


যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন, প্রভাবিত হবে বাংলাদেশও

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ২০:০৭:৪৩
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন, প্রভাবিত হবে বাংলাদেশও
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বাইরের অংশ। ১১ জুলাই ২০২৫, ওয়াশিংটন ডিসিছবি: রয়টার্স

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এই মার্কিন ভিসা নীতির ফলে ব্যবসা ও পর্যটন ক্যাটাগরির (বি১/বি২) আবেদনকারীদের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য বন্ড জমা দিতে হতে পারে।

গতকাল শুক্রবার অনলাইনে প্রকাশিত মার্কিন প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো নিশ্চিত করা হয়েছে।

ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোনো কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তারা ভিসা মঞ্জুরের শর্ত হিসেবে পাঁচ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড নির্ধারণ করবেন। কর্মকর্তাদের হাতে আবেদনকারীর সার্বিক ক্ষেত্র মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই বন্ডের পরিমাণ ঠিক করার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে জানানো হয়, ইতিপূর্বে পরিচালিত পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটক বা ব্যবসায়ীদের ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ঠেকাতে এই নিয়মটি বেশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। নতুন প্রক্রিয়ায় পুরোনো নিয়ম সংশোধন করে সর্বনিম্নের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে এবং বন্ডের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ডলারে। আগামী ৩ আগস্ট থেকে এই চূড়ান্ত ও স্থায়ী নিয়মটি আনুষ্ঠানিকভাবে বলবৎ হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এই নীতির আওতায় থাকা ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা ও বেআইনিভাবে স্থায়ী হওয়া রোধের তাগিদ দেওয়া হলেও এটি অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞের দাবি, বন্ডের মাত্রাতিরিক্ত অর্থের কারণে বৈধ ভ্রমণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে নিরুৎসাহিত হবেন। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের এমন কঠোর অভিবাসন নীতির দরুন মুক্তবাক ও ন্যায্য সুযোগ বিঘ্নিত হতে পারে বলেও তাঁরা সংশয় প্রকাশ করেছেন।

/আশিক


৩ লাখ ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সম্মত: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ২১:৩৩:৩৫
৩ লাখ ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সম্মত: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ৫ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই বিষয়ে নীতিগত সম্মতি এসেছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য স্টার'-এর এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর মিয়ানমার অবশেষে মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। তিনি বলেন, "প্রতিবেশী বা আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এটি তারই প্রমাণ। আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে যেকোনো সংবেদনশীল সমস্যার সমাধান অত্যন্ত সতর্ক কূটনীতির মাধ্যমেই করতে হয়।"

দেশটির চেন্নাহ এলাকায় সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আনোয়ার ইব্রাহিম আরও স্পষ্ট করেন যে, মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কেউ জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। এ বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া পুলিশ প্রধানকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি পূর্ববর্তী পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, "অনেকে আগে রোহিঙ্গাদের তৎক্ষণাৎ ফেরত পাঠানোর দাবি জানাতেন। কিন্তু মিয়ানমার তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার না করে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয় তা সম্ভব হয়নি। ফলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় তাদের সাময়িকভাবে রাখতে বাধ্য হয়েছিলাম।"

মালয়েশিয়ায় বসবাসরত রোহিঙ্গাদের স্থানীয় আইন ও নিয়ম মেনে চলার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, "এটি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। এখানে এসে অন্য দেশের কোনো নাগরিক বিশৃঙ্খলা বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে—তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।"

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে রোহিঙ্গারা বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সূত্র : দ্য স্টার


মধ্যপ্রাচ্যে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ২০:০৪:৫০
মধ্যপ্রাচ্যে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনার মাঝে মার্কিন বাহিনীর গোলাবারুদ ও সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকট তৈরি হতে পারে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ।

বুধবার (২৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা এই সতর্কবার্তার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক বিখ্যাত গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনেও একই ধরনের সামরিক সংকটের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকেই মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি—‘প্যাট্রিয়ট’ এবং ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষ ক্ষেপণাস্ত্রের আন্তর্জাতিক মজুত আশঙ্কাজনক হারে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এই সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে আধুনিক অস্ত্রের এই চরম ঘাটতি মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন সেনা সদস্য ও বিভিন্ন ঘাঁটির সুরক্ষাকে বড় ধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


কেশম দ্বীপে স্বজন হত্যার প্রতিশোধ: জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ আইআরজিসির

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ১৮:১০:০১
কেশম দ্বীপে স্বজন হত্যার প্রতিশোধ: জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ আইআরজিসির
ছবি : সংগৃহীত

জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।

আইআরজিসির এক বিজ্ঞপ্তির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, কৌশলগত কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলায় এক পরিবারের তিন সদস্য নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই জর্ডানের ওই বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

আইআরজিসি দাবি করেছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আল-আজরাক সামরিক ঘাঁটির মূল রানওয়ে ও প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। এই হামলায় ঘাঁটিতে থাকা তিনটি সর্বাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও তিনটি যুদ্ধবিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া হামলায় কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা এবং প্রযুক্তিবিদ নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করে ইরানি বাহিনী।

বিবৃতিতে কঠোর বার্তা দিয়ে আইআরজিসি স্পষ্ট জানায়, নিরীহ পরিবার ও বেসামরিক মানুষদের ওপর হামলা চালিয়ে এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী অবস্থান ধরে রাখতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম ভূখণ্ড থেকে শেষ মার্কিন সেনাকে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত তাদের সশস্ত্র প্রতিরোধ ও আক্রমণ অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: আল জাজিরা


হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, মধ্যপ্রাচ্যকে কী বার্তা দিচ্ছে 'বাহরাইন শিল্ড'?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৯ ২১:৫৪:৫০
হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, মধ্যপ্রাচ্যকে কী বার্তা দিচ্ছে 'বাহরাইন শিল্ড'?
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উত্তেজনা ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাহরাইনে শুরু হয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর তিন দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়া ‘বাহরাইন শিল্ড’। ২৮ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত আয়োজিত এই যৌথ মহড়ায় জোটভুক্ত ছয় দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান এবং আয়োজক দেশ বাহরাইনের সশস্ত্র বাহিনী সরাসরি অংশ নিচ্ছে।

বাহরাইনের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধিয়াব বিন সাকর আল-নুয়াইমি মহড়া উদ্বোধনের পর এক বার্তায় জানান, যৌথ এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো জোটভুক্ত সামরিক দলগুলোর সমন্বিত যুদ্ধ প্রস্তুতি বাড়ানো, আন্তর্জাতিক অপারেশনাল কৌশলের দক্ষতা উন্নত করা এবং জিসিসি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় আরও জোরদার করা।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল আল-নুয়াইমি বলেন, জিসিসি সদস্য দেশগুলোর এ ধরনের সক্রিয় অংশগ্রহণ মূলত একটি শক্তিশালী, স্বাবলম্বী ও যৌথ উপসাগরীয় সামরিক সক্ষমতারই প্রতিফলন। বাহরাইন শিল্ড মহড়াটি যেকোনো ধরনের আকস্মিক হামলা কিংবা শত্রুভাবাপন্ন তৎপরতা মোকাবিলায় জিসিসির ঐক্যবদ্ধ ও দ্রুত প্রতিরক্ষা দেয়াল গড়ে তুলতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্রসীমায় বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার মাঝে এই যৌথ আয়োজনকে উপসাগরীয় দেশগুলোর আত্মরক্ষা কৌশল ও নিরাপত্তা জোট শক্তিশালী করার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

/আশিক


জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক হামলা, ভূপাতিত করল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৯ ১৮:৩৮:০২
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক হামলা, ভূপাতিত করল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

বুধবার (২৯ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। একই সময়ে রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম ও বৈশ্বিক সতর্কবার্তা অমান্য করায় তিনটি বহুজাতিক তেলবাহী ট্যাংকার আটকে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করে ইরানি বাহিনী।

অন্যদিকে, জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে ইরান থেকে তাদের সীমান্ত ও আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির উন্নত সামরিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। বুধবার ভোরে এসব হামলা ব্যর্থ করে দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট আঘাতের লক্ষ্যবস্তু বা কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণের পেছনে মূল সূত্রপাত ঘটে ইরাকের পূর্বাঞ্চলে। সৌদি আরবের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন হামলা প্রতিরোধে রিয়াদ ও ওয়াশিংটন যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম ও সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক যৌথ বার্তায় নিশ্চিত করে যে, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতেই ওই ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) এই বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ইরাকের একক সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। তবে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে তেহরান সতর্ক বার্তা দিয়েছে যে, অহেতুক ইরানকে জড়িয়ে পদক্ষেপ নিলে অঞ্চলটিতে বড় ধরনের হিসাব-নিকাশের ভুল তৈরি হবে যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস

পাঠকের মতামত: