ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশমালায় ক্ষুব্ধ বিএনপি: দেখছে জামায়াত ও এনসিপির মতের প্রতিফলন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ৩০ ১১:২২:৫৩
ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশমালায় ক্ষুব্ধ বিএনপি: দেখছে জামায়াত ও এনসিপির মতের প্রতিফলন
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কর্তৃক অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া সুপারিশমালা নিয়ে চরম বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির নেতারা মনে করছেন, এই সুপারিশমালায় বিএনপি, যারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান অংশীদার, তাদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। উল্টো, এতে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মতো দুটি দলের প্রস্তাবের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে এসব আলোচনা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কমিশন সুপারিশমালা জমা দেওয়ার পরই রাত ১০টা থেকে দেড় ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক চলে। পরদিন বুধবার রাতেও মুলতুবি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে আপত্তি:

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশমালায় বলা হয়েছে, আগামী সংসদ নিয়মিত কাজের পাশাপাশি প্রথম ২৭০ দিন (৯ মাস) 'সংবিধান সংস্কার পরিষদ' হিসেবে কাজ করবে। এই সময়ের মধ্যে গণভোটে পাশ হওয়া প্রস্তাবগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে, যদি পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, তবে বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা এই 'স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত' হওয়ার বিধানকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিমত, এই প্রক্রিয়াটি পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জারীকৃত লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার (এলএফও) এবং আইয়ুব খানের প্রবর্তিত মৌলিক গণতন্ত্র (বেসিক ডেমোক্রেসি)-এর মতো একনায়কতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনীয়।

এলএফও ও মৌলিক গণতন্ত্রের সঙ্গে তুলনা:

নেতারা বলেন, যেমন করে আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র (১৯৫৯ সালে প্রবর্তিত পরোক্ষ নির্বাচনভিত্তিক ব্যবস্থা) বা ইয়াহিয়ার এলএফও (১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের নীতি সংক্রান্ত ফরমান) দ্বারা জাতির ওপর চিন্তা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ঠিক তেমনি কমিশনের এই সুপারিশে দুটি দলের প্রস্তাব ও ঐকমত্য কমিশনের নিজস্ব চিন্তাভাবনা জাতির ওপর চাপানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের মতে, এটি জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একধরনের প্রতারণা।

দলটির নীতিনির্ধারকদের অভিযোগ, এই সুপারিশমালা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অংশীদারদের মধ্যে ঐক্যের পরিবর্তে অনৈক্য সৃষ্টি করছে। বিএনপির এখন মনে করছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, অন্তর্বর্তী সরকার এবং জামায়াত ও এনসিপি একই পক্ষ বা একই এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে। তারা ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন সঠিক সময়ে না করার একটি অপচেষ্টা হিসেবে পুরো বিষয়টিকে দেখছে।

নোট অব ডিসেন্ট এবং পরবর্তী পদক্ষেপ:

বিএনপির অভিযোগ, দলটি সবচেয়ে বড় 'স্টেকহোল্ডার' হওয়া সত্ত্বেও তাদের মতামতকে সুপারিশমালায় উপেক্ষা করা হয়েছে। এমনকি বৈঠকে তাদের পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) লিপিবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, চূড়ান্ত সুপারিশমালা থেকে সেটিও বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তারা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মন্তব্য করেন, ১৭ অক্টোবর দেশের ২৫টি রাজনৈতিক দল যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল, কমিশনের সুপারিশ তার সঙ্গে মেলেনি। তিনি মনে করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "রেফারিকে আমরা কখনো গোল দিতে দেখিনি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, ঐকমত্য কমিশন, সরকার এবং আরও দু-তিনটি রাজনৈতিক দল একই পক্ষ।"

স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বিএনপির যা প্রস্তাবনা, সেগুলোর কিছুই ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে রাখা হয়নি। বরং বিএনপি যেগুলো চায়নি, সেগুলোই রাখা হয়েছে।" তিনি ঐকমত্য কমিশনকে কার্যত ‘অনৈক্য কমিশন’ বলেও আখ্যা দেন।

এই সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা দ্রুত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের উদ্বেগ জানাবে। পাশাপাশি, দলটি একটি সংবাদ সম্মেলন করে এই সুপারিশমালার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও জানাবে।


দিল্লিতে সরাসরি বৈঠকের তথ্য ফাঁস! নেতাদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন শেখ হাসিনা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ১৭:৫৪:১৮
দিল্লিতে সরাসরি বৈঠকের তথ্য ফাঁস! নেতাদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন শেখ হাসিনা
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা প্রকাশ্যে চলে আসায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে দিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি দলের অভ্যন্তরীণ কোনো তথ্য ও কর্মসূচি যাতে বাইরে ফাঁস না হয়, সে বিষয়ে নেতাদের কঠোরভাবে সতর্ক করেন। মূলত দিল্লিতে শেখ হাসিনার বাসভবনে কয়েকজন শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে সরাসরি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল এবং কয়েকজন নেতা সেখানে পৌঁছেও গিয়েছিলেন; কিন্তু তথ্যটি আগেই জানাজানি হয়ে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বদলে বৈঠকটি অনলাইনে করা হয় বলে দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনা আবারও আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং এ বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে জোরালো আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। বৈঠকে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ছাড়াও দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক, আইনি ও সাংগঠনিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ ছাড়া বৈঠকে শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীতে (প্রেসিডিয়াম) অন্তর্ভুক্ত করে দলীয় নেতৃত্বে নিয়ে আসার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাঁর কোনো পদ নেই। অনলাইন এই বৈঠকে সম্প্রতি একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দলটির শীর্ষ কয়েকজন নেতাও যুক্ত হয়ে নিজেদের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। দিল্লিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে বাংলাদেশে তীব্র সংবেদনশীলতা ও কূটনৈতিক প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটে এ বৈঠকের তথ্য প্রকাশ্যে এলো।

সূত্র: ডেইলি ওয়াদা


শনিবার রাজপথে নামছে ১১ দলীয় ঐক্য, চূড়ান্ত হলো লংমার্চের দিনক্ষণ ও পথনকশা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ২১:৪০:০৮
শনিবার রাজপথে নামছে ১১ দলীয় ঐক্য, চূড়ান্ত হলো লংমার্চের দিনক্ষণ ও পথনকশা
ছবি: সমকাল

সংবিধান সংস্কারে বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যজোট। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর আয়োজিত ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই অভিযোগ করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় জাতিকে দেওয়া ওয়াদা ভঙ্গ করে দেশ পরিচালনা করলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ সংকট তৈরি হবে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ নিতে তিনি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে আগামী শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত রাজপথে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জোটটি। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ কর্মসূচির রুট চূড়ান্ত করা হয়। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৭টায় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জমায়েত শেষে সকাল ৮টায় লংমার্চের যাত্রা শুরু হবে। এরপর টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালি এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ধারাবাহিক পথসভা শেষে সন্ধ্যা ৭টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হবে।

ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অহমিকায় সরকার ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করছে এবং পবিত্র কোরআন-সুন্নাহর বিধান উপেক্ষা করে হেবা আইনের ওপর হস্তক্ষেপ চালিয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনী আইন সংশোধনের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলেও তিনি দাবি করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কর্তৃত্ববাদী পথে না হেঁটে সরকারের প্রতি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আগামী শনিবারের শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক লংমার্চে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করতে প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি জানান জোটের নেতারা।

/আশিক


বিদেশের আরাম নয়, দেশে ১০ বছর জেল খাটাই বেছে নেব: আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৯:১৬:৫৮
বিদেশের আরাম নয়, দেশে ১০ বছর জেল খাটাই বেছে নেব: আসিফ মাহমুদ
ছবি : সংগৃহীত

কোনো অপরাধে দোষী প্রমাণিত হলে বিদেশের আরাম-আয়েশের জীবনের পরিবর্তে দেশেই ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করাকে বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

ভিডিওবার্তায় তিনি বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিদেশের মাটিতে তাঁর এক টাকার বিনিয়োগ কিংবা এক কণা ধূলিকণা কেনার প্রমাণ কেউ দেখাতে পারলে তিনি সেই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের বাইরে বিলাসবহুল জীবন কাটানোর চেয়ে নিজের শক্তিশালী জাতীয়তাবোধের কারণে তিনি নির্দ্বিধায় ১০ বছর দেশে জেল খাটাকেই বেছে নেবেন।

আসিফ মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই কেবল একটি স্বার্থান্বেষী ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ক্ষমতার অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি দেশের গণমাধ্যমের তথ্য পরিবেশনকেও সতর্ক ও বিশ্লেষণমূলক দৃষ্টিতে দেখার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

/আশিক


ওয়াদা অস্বীকার করে উল্টো পথে হাঁটছে সরকার: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৮:০২:২৯
ওয়াদা অস্বীকার করে উল্টো পথে হাঁটছে সরকার: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

দেশবাসীকে দেওয়া পূর্বের প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ‘সিন্ডিকেট ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যে জামায়াত আমির অভিযোগ করে বলেন, গণভোটের আহ্বান জানানো হলেও তা মানা হচ্ছে না এবং তথাকথিত জুলাই চার্টার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও কার্যত তার কিছুই করা হচ্ছে না।

সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মানবাধিকার কমিশন ও নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন রাখার কথা বলা হয়েছিল। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশনে দলীয় অনুগত ও বহু আগেই অবসরে যাওয়া এক ব্যক্তিকে অতিরিক্ত সচিবের (এডিশনাল সেক্রেটারি) গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে।

/আশিক


ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর ওবায়দুল কাদেরের কথোপকথন ফাঁস

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৮:০১:৩১
ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর ওবায়দুল কাদেরের কথোপকথন ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে কথোপকথনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও মারধরের প্রত্যক্ষ উসকানি দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। এই ঐতিহাসিক রায়ের পর আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মামলার বিভিন্ন তথ্য ও আসামিদের ভূমিকা তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দামকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘তোমরা মারো না কেন? মারো।’ এভাবে তিনি বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে ছাত্রলীগকে সহিংসতায় প্ররোচিত করেন। এর পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের ‘দেখা মাত্রই গুলি’ করার কঠোর নির্দেশনাও জারি করেছিলেন ওবায়দুল কাদের। আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, গত ১১ জুলাই সাদ্দামকে ওই নির্দেশ দেওয়ার পরপরই ১৬ জুলাই ওয়াসিম ও আবু সাঈদসহ কয়েকজন আন্দোলনকারী নির্মমভাবে নিহত হন।

পরবর্তী পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করে এবং এই সহিংসতার শিকার হয়ে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন। এর আগে ওবায়দুল কাদের প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে আন্দোলন দমনের জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব উসকানি ও দমনমূলক তৎপরতার ফলেই দেশজুড়ে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আসামিদের সহিংস বক্তব্য ও দিকনির্দেশনার ওপর ভর করেই তৎকালীন সরকারের অনুগত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা যৌথভাবে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাযজ্ঞ চালায়।

/আশিক


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়বে জামায়াত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৯:৩৫:৫৭
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়বে জামায়াত
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নির্বাচনে এবং নির্বাচন-পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জোটভুক্ত অবস্থানে থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পুরোপুরি এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মতো স্থানীয় সরকারের সব স্তরেই দলটির নিজস্ব প্রার্থীরা দলীয় ব্যানারে লড়াই করবেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে আয়োজিত সীরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্সের সমাপ্তি পর্বে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে দলের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সাংগঠনিক প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি ধাপের জন্য সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ এখন চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে এবং অনেক অঞ্চলেই ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করে তাদের মাঠপর্যায়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর নির্বাচনী পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা উল্লেখ করেন যে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—উভয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনেই জামায়াত এককভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং দলীয় ফোরামে প্রার্থীদের নাম মনোনীত করা হয়েছে। উপযুক্ত সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রকাশ করা হবে, যদিও গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তরে সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে সাদিক কায়েমের নাম সামনে এসেছে।

স্থানীয় নির্বাচনে জোটগত সমীকরণের বিষয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার ব্যাখ্যা দেন যে, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের যে ১১ দলীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, নির্বাচনের পরও বিভিন্ন আন্দোলনের কর্মসূচি তারা সেই জোটের আওতাতেই পালন করে আসছেন। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া হয়েছে যে প্রতিটি দলই নিজস্ব প্রতীকে ও একক প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে, ফলে স্থানীয় সরকারের কোনো স্তরেই জোটগত কোনো প্রার্থী থাকছে না।

/আশিক


দেশে অতীতের মতো অন্ধকার যেন আর না আসে: নেতা-কর্মীদের রিজভীর কড়া বার্তা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ২১:২৬:৩২
দেশে অতীতের মতো অন্ধকার যেন আর না আসে: নেতা-কর্মীদের রিজভীর কড়া বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

দেশে অতীতের মতো অন্ধকার ও দুঃসময় যাতে আর ফিরে না আসে, সে বিষয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের ভোরবাজার এলাকায় ওমরিয়া ফারুকিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ২০১৩ সালে নিহত যুবদল কর্মী মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। রিজভী অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দলীয় পুলিশ বাহিনী সরাসরি গুলি চালিয়ে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা করেছে; সেই রক্তক্ষয়ী দুর্দিনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রেখে কাজ করতে হবে।

স্মরণসভায় হারুনুর রশিদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে রিজভী বলেন, কোনো লুটপাট বা ব্যাংক দুর্নীতির সুবিধাভোগী হয়ে নয়, বরং নির্ভেজাল বহুদলীয় গণতন্ত্রের আদর্শ রক্ষার লড়াইয়ে শামিল হয়ে তিনি প্রাণ দিয়েছেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদীন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম এবং নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বক্তব্য দেন। স্মরণসভা শেষে ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গুলিতে নিহত হওয়া হারুনের স্ত্রী জোহরা আক্তার ও সন্তানদের হাতে একটি নতুন নির্মিত ঘরের চাবি ও আর্থিক অনুদান তুলে দেন রিজভী।

/আশিক


ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করল এনসিপি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৯:৪৮:০০
ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করল এনসিপি
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দুই প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত ঘোষণা করেন।

মেয়র প্রার্থী ঘোষণার পাশাপাশি একই দিনে ঢাকার দুই মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে এনসিপির একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করতে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন। তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্তকরণ, স্থানীয় নাগরিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক নিবিড় যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খল তৎপরতা প্রতিহত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার আহ্বান জানান।

/আশিক


দেড় বছরেই অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার: দুর্নীতির পোস্টার বয় আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৮:৫৫:০৬
দেড় বছরেই অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার: দুর্নীতির পোস্টার বয় আসিফ মাহমুদ
ছবি : সংগৃহীত

ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে এসে অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হওয়া আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, পদায়ন বাণিজ্য এবং বিদেশে অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এর আগে গত ৪ মার্চ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাঁর ব্যাংক হিসাব তলব করলে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে নিজের ও পরিবারের অ্যাকাউন্টের বিবরণ তুলে ধরেন, যেখানে তাঁর দুটি হিসাবে প্রায় পৌনে দশ লাখ টাকা থাকার তথ্য জানানো হয়। তবে বিশ্লেষক ও অভিযোগকারীদের দাবি, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে দুর্নীতির অর্থ রাখা হয় না, বরং বিভিন্ন অপ্রচলিত ও গোপন মাধ্যমে এই অর্থ সরানো হয়েছে।

দুদকে জমা পড়া অভিযোগগুলোর মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো—স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি, ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনে শীর্ষ পদ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন (যার মধ্যে ওয়াসা এমডি নিয়োগে ১০ কোটি ও ডিএনসিসি প্রশাসক নিয়োগে ২০ কোটি টাকার অভিযোগ রয়েছে), এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে পদোন্নতি ও বদলি সিন্ডিকেট পরিচালনা।

এ ছাড়া সারাদেশে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন, সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার টেন্ডার থেকে ১০-৩০ শতাংশ কমিশন গ্রহণ এবং তাঁর এপিএস মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার লেনদেন করে সেই অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় তাঁর পিতার নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদান এবং দুর্নীতির অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও দুবাইয়ের সম্পদে রূপান্তরের বিষয়টিও রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সাবেক এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এনে দ্রুত বিচার ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জোর দিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো এসব গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অপরিহার্য।

/আশিক

পাঠকের মতামত: