সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্ত শেষ করতে আর কত বছর লাগবে, ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত দীর্ঘ দিনেও শেষ না হওয়ায় হাইকোর্ট উষ্মা প্রকাশ করেছেন। আদালত রাষ্ট্রপক্ষ ও উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “সাগর-রুনির হত্যার ১৩ বছর পার হয়ে গেছে। এখনও তদন্ত শেষ হয়নি। তদন্ত শেষ করতে আর কত বছর লাগবে?”
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন।
ছয় মাসের আল্টিমেটাম
আদালত বলেন, “দুইজন মানুষ হত্যা হয়েছেন। তাদের কে হত্যা করল, কিছুই জানা যায়নি। সারাদেশের মানুষ এই মামলার দিকে তাকিয়ে আছে।”
হাইকোর্টের নির্দেশ: আদালত উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য শেষবারের মতো ছয় মাস সময় দিয়ে আদেশ দেন।
তদন্তের অগ্রগতি: পিবিআই কর্মকর্তা আজিজুল হক আদালতকে তদন্তের অগ্রগতি জানান।
পরিবারের উদ্বেগ: সাগর-রুনির পরিবারের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির আদালতকে বলেন, “এই মামলার তদন্ত দীর্ঘ দিনেও শেষ না হওয়ায় আমরা বাইরে মুখ দেখাতে পারছি না। সবাই জানতে চায় তদন্ত কবে শেষ হবে। এই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।”
টাস্কফোর্স কমিটি
গত বছরের ২৩ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তের জন্য পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদমর্যাদার একজন পুলিশ প্রতিনিধি, সিআইডি ও র্যাবের একজন করে প্রতিনিধি রাখা হয়।
ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কর মামলায় চেম্বার আদালতের নতুন আদেশ
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে ২০১২ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত পাঁচ করবর্ষের ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের একক বেঞ্চ আবেদনটি শুনানির কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার (ডিলিট) এই আদেশ দেন। শুনানিকালে আদালত মন্তব্য করেন, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পর্যবেক্ষণ না করে ওই রায়ের ওপর হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা আয়করের বৈধতা নিয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। সেই রায়ের কারণে গ্রামীণ কল্যাণকে বকেয়া এই আয়কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতার মুখে পড়তে হয়। হাইকোর্টের আদেশের চার দিনের মাথায় এর কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদন নিয়ে চেম্বার আদালতের দ্বারস্থ হন গ্রামীণ কল্যাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। শুনানিতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন অংশ নেন এবং রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ আজাদ।
শুনানি শেষে আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন সাংবাদিকদের জানান, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও প্রকাশ না হওয়ায় নিয়মানুযায়ী লিভ টু আপিল দায়ের করা সম্ভব হচ্ছে না। সে কারণে পূর্ণাঙ্গ রায় ও আপিল করার পূর্ব পর্যন্ত রায়ের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, সেজন্যই স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছিল। তবে চেম্বার আদালত জানিয়েছেন, লিখিত রায় প্রকাশের আগে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া আদালতের পক্ষে সম্ভব নয়। অন্যদিকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, চেম্বার কোর্ট গ্রামীণ কল্যাণের বিবিধ আবেদনটি তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকার ১৪ নম্বর কর অঞ্চল পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ টাকার বেশি কর দাবি করে এবং শুনানির দিন ধার্য করে। প্রতিষ্ঠানটি নথিপত্র প্রস্তুতের জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করলেও তা খারিজ করে কর অফিস। পরবর্তীতে পুনর্বিবেচনার আবেদনও নাকচ হলে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং কর দাবির বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা কয়েক দফায় স্থগিত রাখা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের আরেকটি দ্বৈত বেঞ্চ কর অঞ্চলের আদেশ বাতিল করে পর্যবেক্ষণসহ রুল নিষ্পত্তি করেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এনবিআর আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করলে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল বিভাগ হাইকোর্টে মূল বিষয়ের ওপর পুনরায় শুনানির আদেশ দেন। সেই নির্দেশের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের আগস্টে রিট খারিজ করে রায় হলেও অক্টোবরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সর্বশেষ প্রধান বিচারপতি নতুন বেঞ্চ গঠন করে দেওয়ার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর সেই বেঞ্চই গ্রামীণ কল্যাণের রুল চূড়ান্তভাবে খারিজ করে রায় প্রদান করেন।
/আশিক
ড. ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। হামের টিকা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বাইরে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
রোববার (১৬ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতি এই লিগ্যাল নোটিশটি প্রেরণ করেন।
নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম জানান, হামের টিকাদান কার্যক্রমকে রাষ্ট্রীয় আওতা থেকে বেসরকারি খাতে স্থানান্তরের মতো জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় ড. ইউনূসের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে এই আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তবে নোটিশে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা তাঁর প্রতিনিধির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
/আশিক
সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও কাড়তে পারবে না অধিকার: সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের নতুন খসড়া
বাবা-মা বা দাতা কোনো সম্পত্তি দান করার পরও যেন তাদের নিজ জীবদ্দশায় সেটি নির্বিঘ্নে ভোগ ও ব্যবহার করতে পারেন, সে বিধান রেখে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংশোধনীটি অনুমোদন পায়। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
আইন ও বিচার বিভাগের উদ্যোগে প্রণীত এই আইনটির মাধ্যমে ১৮৮২ সালের মূল ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’-এ দাতার জীবদ্দশায় ভোগাধিকার (লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট) সুরক্ষার নতুন ধারা সংযোজন করা হলো। ইতিপূর্বে বলবৎ আইনে এ নিয়ে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা না থাকায় বাবা-মা বা বয়োবৃদ্ধরা সন্তান বা নিকটাত্মীয়দের জমি বা ঘরবাড়ির মালিকানা হস্তান্তর করার পর অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের সম্পত্তিতে অধিকার হারিয়ে চরম আর্থিক ও সামাজিক অসহায়ত্বের মুখোমুখি হতেন। প্রস্তাবিত আইনি কাঠামোর ফলে এই জটিলতার একটি স্থায়ী আইনি ভিত্তি ও সুরক্ষা বলয় তৈরি হয়েছে।
বিদ্যমান হেবা বা অন্যান্য উপায়ে সম্পত্তি দানের ফলে দাতা তাৎক্ষণিকভাবে তার স্বত্ব হারাতেন। সরকারের নতুন প্রস্তাবিত ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ বা জীবনস্বত্বের নিয়ম অনুযায়ী, সন্তান বা গ্রহীতাকে সম্পত্তি উপহার হিসেবে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পরও দাতা বেঁচে থাকা পর্যন্ত সেটির ভোগদখল ও ব্যবহারের পূর্ণ এখতিয়ার নিজ হাতে রেখে দিতে পারবেন। একই সঙ্গে বিধান রাখা হয়েছে যে, দাতার জীবদ্দশায় কোনো পক্ষই—সন্তান বা দাতা এককভাবে—উক্ত সম্পত্তি অন্য কারও কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবে না।
/আশিক
১৩ বছর পর আলোর মুখে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্তে ৬১ জনের মৃত্যুর অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। নিহতদের মধ্যে ৫৮ জনের সুনির্দিষ্ট পরিচয় ইতিমধ্যেই শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম তার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে তদন্তের এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রসিকিউশনের খসড়া তালিকায় এখন পর্যন্ত মোট ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিবদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের বিস্তারিত পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও বাকি ৩ জনের পরিচয় এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি, যা নিয়ে কাজ চলছে।
তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে হেফাজত নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, তারা রিপোর্টের খসড়া বিবরণী নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছেন। প্রসিকিউশনের মূল লক্ষ্য হলো অপরাধের সাথে জড়িত প্রকৃত কোনো আসামি যেন বাদ না পড়ে এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক বা প্রশাসনিকভাবে বলির পাঁঠা না হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত আইনি সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই হত্যাযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র বা ফরমাল চার্জ দাখিল করা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক তদন্ত প্রতিবেদনের সীমাবদ্ধতা ও তৎকালীন বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন, ঘটনার শুরু থেকেই তারা দাবি করে আসছেন যে নিহতের প্রকৃত সংখ্যার একটি বড় অংশ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা শাপলা চত্বরের শহীদদের লাশ গুম ও তথ্য গোপনের অপচেষ্টা চালিয়েছিল, যার ফলে অনেক ভুক্তভোগীর বিবরণ এই প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসেনি। তবে তথ্যগতভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে যে ৬১ জনের তালিকা তাদের কাছে সংরক্ষিত ছিল, এই প্রতিবেদনে মূলত তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল। তাদের মধ্যে দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এবং মুফতি হারুন ইজহারসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, একই দিন অর্থাৎ রোববার সকালে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে চালানো ওই নৃশংস সামরিক ও পুলিশি অভিযানের ওপর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তৈরি করা মূল তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশন টিমের হাতে এসে পৌঁছায়। স্পর্শকাতর এই মামলায় দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থা বর্তমানে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তৎকালীন বিতর্কিত সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ মোট ৪১ জনকে প্রধান আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
এ ছাড়া এই মামলার আসামির তালিকায় তৎকালীন সরকারের নীতিনির্ধারক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের পাশাপাশি বিতর্কিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদেরও যুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বেসরকারি একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, একই টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম নেতা ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির। সেই সঙ্গে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের অভিযানে মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়া তৎকালীন পুলিশ প্রধান (আইজিপি), র্যাবের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারকেও এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।
/আশিক
বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন সুপ্রিম কোর্টের ১৭ সরকারি আইনজীবী
জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা এবং বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে তীব্র মতপার্থক্যের জের ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ১৭ জন পদস্থ আইন কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে ১০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ৭ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তারা সবাই মূলত জামায়াতপন্থি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো পৃথক পদত্যাগপত্রের মাধ্যমে তারা নিজেদের দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে সরে দাঁড়ানোর এই ঘোষণা দেন। পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভূঁইয়া, আসাদ উদ্দিন এবং মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এ ছাড়া সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির এবং রেজাউল ইসলাম।
রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা পদত্যাগপত্রে এই আইন কর্মকর্তারা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাদের সুনির্দিষ্ট আপত্তির কথা তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, সাধারণ জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই চার্টার পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না করা, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য একটি পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে সরকারের অনীহা এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, সরকারের এসব সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কারণে দেশের সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পদত্যাগপত্রে তারা আরও স্পষ্টভাবে জানান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার এই বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের পেশাগত বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে সরকারের পক্ষে আইনি দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা তাদের জন্য আর সম্ভব নয়। এই নৈতিক অবস্থান থেকেই তারা অবিলম্বে কার্যকর করার শর্ত সাপেক্ষে নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সরকারের আইনি কর্মকর্তাদের এই একযোগে পদত্যাগের ঘটনা দেশের উচ্চ আদালত ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
লাল-সবুজ খাতায় নাম রাখছি, কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারক ও আইনজীবীদের হুমকি ইনুর
আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও বিচারকদের হুমকি দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে শুনানির একপর্যায়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এ হুমকি দেন।
আজ জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর বংশাল এলাকায় মো. মোখলেছিনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হয়। বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফ হোসেনের করা এই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হারুন অর রশিদ।
শুনানি শেষে আদালতের অনুমতি নিয়ে হাসানুল হক ইনু দীর্ঘ চার ঘণ্টা হাজতখানায় আটকে রাখার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জেলে আছি। কোন আদালতের কোন বিচারক, কোন আইন কর্মকর্তা কী করতেছে, তা কারাগারের একটা লাল খাতা ও একটা সবুজ খাতায় সংরক্ষণ করে রাখছি।’ বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘বর্তমানে বিচার ব্যবস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটা শাখা হিসেবে কাজ করছে।’
ইনুর এমন বক্তব্যের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ তাকে থামাতে বললে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে ‘আপনি চুপ করেন’ বলে ধমক দেন এবং বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালে আদালত এ বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান। এরপর শুনানির প্রক্রিয়া শেষে ইনু ও মেননকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক এমপি আসামি হাসানুল হক ইনু রীতিমতো আজ আদালতসহ আমাদের সবাইকে হুমকি দিয়েছেন। বিচার ব্যবস্থা নাকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি শাখা। তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে আমরা আদালত অবমাননার অভিযোগ এনেছি।’
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল মোড়ের নাজিমউদ্দীন রোড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিল চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন মো. মোখলেছিন। পরে এ ঘটনায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি তিনি বাদী হয়ে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ইনু ও মেনন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
/আশিক
শিশু মৃত্যুর দায়ে ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
হামের টিকা যথাসময়ে আমদানি না করায় দেশে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি মামলার আবেদন করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৮ জুন ২০২৬) ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জসিতা ইসলামের আদালতে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ইকবাল এই আবেদনটি করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ মামলার আবেদন জমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আবেদনটি জমা হলেও এখনো তা নিয়ে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।
মামলায় ড. ইউনূস ও নূর জাহান বেগম ছাড়াও অন্য যে তিনজনকে আসামি করার আবেদন করা হয়েছে তারা হলেন— স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্তারা তৎকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে চরম অবহেলা এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে যথাসময়ে হামের ভ্যাকসিন আমদানি না করে শাস্তিযোগ্য ও অমানবিক অপরাধ করেছেন, যা কার্যত হত্যাকাণ্ডের শামিল। এতে রাষ্ট্রের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ ও প্রতারণা করা হয়েছে বলেও আরজিতে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ইউনিসেফের (UNICEF) মাধ্যমে নিয়মিত হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের টিকা আমদানি করে আসছিল। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউনিসেফের মাধ্যমে এই টিকা আমদানি বন্ধ করে দিয়ে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেয়, যা দেশে তীব্র টিকা সংকট তৈরি করে। ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের গত ২০ মে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে মামলায় দাবি করা হয়, টিকার সম্ভাব্য সংকট ও আমদানির বিদ্যমান ব্যবস্থা চালু রাখার বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও সংশ্লিষ্টরা তা সম্পূর্ণ আমলে নেননি।
এরই খেসারত হিসেবে দেশে নির্ধারিত সময়ে বিপুল-সংখ্যক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয় এবং দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। মামলার তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ হাজার ৭০৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে এবং সরকারি হিসাবেই অন্তত ৬১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের বাইরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। আবেদনে বলা হয়, বর্তমান সরকার পরবর্তীতে জরুরি ভিত্তিতে টিকার ব্যবস্থা করলেও আগের সময়মতো টিকা না পাওয়ার কারণে যে অপূরণীয় ক্ষতি ও লাখো শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তার দায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার এড়াতে পারে না। এই ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের আর্জি জানিয়েছেন আবেদনকারী।
/আশিক
অবৈধ ঘোড়ার মাংস বাণিজ্যে হাইকোর্টের রুল
দেশে ঘোড়ার মাংস ভক্ষণ, বিপণন ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের বৈধতা এবং এ সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
রবিবার এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। আলোচিত এ রিটটি দায়ের করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও প্রাণী অধিকারকর্মী জয়া আহসান। আবেদনে অসুস্থ ও উদ্ধারকৃত ঘোড়ার মাংস প্রতারণামূলকভাবে মানুষের খাদ্য হিসেবে বাজারজাত করার অভিযোগ তুলে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
আদালত একই সঙ্গে ঘোড়ার মাংসের উৎপাদন, বিপণন, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা বা গাইডলাইন ৯০ দিনের মধ্যে প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ মে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রাণী কল্যাণের প্রশ্নে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়েছেন আবেদনকারীরা।
আবেদনে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে গাজীপুরে অসুস্থ, দুর্বল ও উদ্ধারকৃত ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়েছে।
রিটকারীরা আদালতের কাছে গাজীপুরে উন্মোচিত ঘোড়ার মাংস বাণিজ্য নিয়ে নিরপেক্ষ, পূর্ণাঙ্গ এবং সময়সীমাবদ্ধ তদন্তের নির্দেশনা চেয়েছেন। পাশাপাশি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের আবেদনও করা হয়েছে।
শুধু তদন্ত নয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও নির্দেশিকা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। রিটে বলা হয়েছে, উদ্ধারকৃত বা বাজেয়াপ্ত প্রাণী পুনর্বাসনের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র, অভয়ারণ্য এবং প্রাণী কল্যাণভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
আবেদনে আরও অনুরোধ করা হয়েছে, অসুস্থ বা উদ্ধারকৃত ঘোড়া নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করার প্রচলিত পদ্ধতি বন্ধ করতে হবে। কারণ এসব প্রাণী পরবর্তীতে অবৈধ মাংস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আইনজীবীরা বলছেন, এ মামলাটি কেবল ঘোড়ার মাংস ভক্ষণসংক্রান্ত বিতর্ক নয়; বরং এটি জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, ভোক্তা অধিকার এবং প্রাণী কল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে এ খাতের জন্য একটি স্পষ্ট নীতিগত কাঠামো তৈরি করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশে খাদ্য হিসেবে কী বিক্রি হচ্ছে, তার উৎস কতটা নিরাপদ এবং প্রাণী কল্যাণের ন্যূনতম মানদণ্ড মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে জনসচেতনতা ও সরকারি নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাব এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার দিকেই সবার নজর।
-রফিক
মিরপুরের পর এবার নজর হবিগঞ্জের মামলায়: কারামুক্তির আশায় সুপ্রিম কোর্টে ব্যারিস্টার সুমন
২০২৪ সালের চব্বিশের জুলাই গণ-আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনায় নিজ জেলা হবিগঞ্জে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই জামিন আবেদনগুলোর ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, গত ১১ মে রাজধানীর মিরপুর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ব্যারিস্টার সুমনের হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন। একই সাথে এই সংক্রান্ত রুল দ্রুত নিষ্পত্তি করারও নির্দেশ দেন আদালত। আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে এ আদেশ দিয়েছিলেন। আদালতে তখন সুমনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম লিটন আহমেদ।
উল্লেখ্য, বিগত ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকার একটি বাসা থেকে যুবলীগ নেতা ও সাবেক এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়ার ঠিক ১০ মিনিট আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে সুমন লিখেছিলেন, ‘আমি পুলিশের সঙ্গে যাচ্ছি। দেখা হবে আদালতে। দোয়া করবেন সবাই।’
পটপরিবর্তনের পর ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে রাজধানীর মিরপুর, আদাবরসহ বিভিন্ন থানা এবং তাঁর জন্মস্থান হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ও মাধবপুরে একাধিক হত্যা ও সহিংসতার মামলা দায়ের করা হয়। মিরপুরের মামলায় ইতিপূর্বে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও হবিগঞ্জের মামলাগুলোর কারণে তাঁর কারামুক্তি মেলেনি। ফলে আজ হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে হবিগঞ্জের দুই মামলায় জামিন লাভের মরিয়া চেষ্টা চালাবেন তাঁর আইনজীবীরা।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- পরমাণু শক্তির নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ, ভিয়েনায় তুলে ধরলেন মন্ত্রী
- ব্যাট হাতে রূপকথার ঝড়, রেকর্ড বই তছনছ করে এলিট ক্লাবে তরুণ ভারতীয় তারকা
- শনিবার রাজপথে নামছে ১১ দলীয় ঐক্য, চূড়ান্ত হলো লংমার্চের দিনক্ষণ ও পথনকশা
- গেজেট প্রকাশের আগেই সামনে এলো নতুন পে-স্কেলের বিস্তারিত, কার কত বাড়ছে?
- এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাল্টে গেল চিত্র, ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে দুই তারকার সরাসরি লড়াই
- টানা ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না রাজধানী ও আশপাশের যেসব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়
- সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারের মেগা ঋণ কর্মসূচি, মিলবে সাশ্রয়ী সুদে
- গাম্বিয়ার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে ব্যারিস্টার নাজির আহমদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুলের ভুষি: সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা
- মক্কা চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের বড় ঘোষণা, সতর্কবার্তা তেহরানের উদ্দেশে
- বাড়বে না হজের নিবন্ধনের সময়, চূড়ান্ত সময়সীমা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা
- মক্কার ড্রোন হামলার ভিডিও নিয়ে তোলপাড় নেটদুনিয়া, যা জানা গেল ফ্যাক্ট চেকে
- বিদেশের আরাম নয়, দেশে ১০ বছর জেল খাটাই বেছে নেব: আসিফ মাহমুদ
- ‘শুধু পুরুষেরই কি তওবার অধিকার?’ এক সংলাপেই তোলপাড় পাকিস্তানি নাটক
- বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ও কাদের সিদ্দিকীর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ, যা আলোচনা হলো
- নিম্নমুখী প্রবণতার পরেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় লাফ, বাড়ল রুপার দামও
- ৮ অঞ্চলের নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত, ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস
- ওয়াদা অস্বীকার করে উল্টো পথে হাঁটছে সরকার: জামায়াত আমির
- ৬ জুনের মধ্যে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার ভোট সম্পন্ন করার লক্ষ্য ইসির
- আগামী মাসে রূপপুর থেকে গ্রিডে আসবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত
- সেপ্টেম্বরের শেষভাগে রাতের আকাশে চোখ জুড়ানো মহাজাগতিক দৃশ্য
- শেষ হতে চলেছে স্মার্টফোনের যুগ? রহস্যময় ডিভাইস নিয়ে আসছে ওপেনএআই
- তাপপ্রবাহের মাঝে বৃষ্টির পূর্বাভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা
- এলএনজি, জ্বালানি তেল ও টিসিবির পণ্য কেনায় সরকারের মেগা অনুমোদন
- একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ
- সুন্দরবনে ফাইভ-স্টার ‘ট্রি-হাউস’ ও আকাশপথে বাঘ দর্শনের মেগা পরিকল্পনা
- মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণে বড় মোড়, হুতি ঠেকাতে এক টেবিলে সৌদি ও ইসরায়েল?
- ২০৩১ সালের মধ্যে চালু হচ্ছে নতুন ইলেকট্রিক ট্রেন, মেগা বরাদ্দ একনেকে
- বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের গর্জন, আইসিসির নতুন র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের চমক
- ১ মিনিটের বিজ্ঞাপনে তোলপাড় নেটদুনিয়া, তীব্র সমালোচনার মুখে তারকা অভিনেত্রী
- নিম্নমুখী ধারার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় লাফ, কোন পথে হাঁটছে বাজার?
- ভারত ও চীনসহ ১০ দেশকে নিশানা করে মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিল
- মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টার তীব্র নিন্দা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজের
- ডেঙ্গুর প্রকোপে নতুন রেকর্ড, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি ও আক্রান্তের নতুন তথ্য
- হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ মুসলিমদের জন্য বন্ধ করল ইসরায়েল
- রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লণ্ডভণ্ড পশ্চিম উপকূল, ইয়েমেনে তৈরি হচ্ছে বড় মানবিক বিপর্যয়
- রাজধানীতে আধুনিক যোগাযোগের মহাবিপ্লব, একনেক সভায় বিপুল অর্থ বরাদ্দ
- ভরদুপুরে সেলুনে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ও কোপ, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল রোমহর্ষক দৃশ্য
- প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস আমন্ত্রণ নিয়ে ধোঁয়াশার অবসান, যা জানাল নয়াদিল্লি
- স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন বার্তা
- আগামী কয়েক দিন কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া, জানাল অধিদপ্তর
- গ্যাস-বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর মুখে দেশের পোশাক শিল্প
- চলমান সামরিক সংঘাতকে 'পবিত্র যুদ্ধ' আখ্যা দিয়ে যা বললেন উত্তর কোরিয়ার নেতা
- বিশ্বকাপ বর্জনের নেপথ্যে কী ঘটেছিল? চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল তদন্ত কমিটি
- গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই প্রধান কাজ: রাষ্ট্রপতি
- ফজরের পর অল্প লোক নিয়ে ভিডিওর জন্য মিছিল করে নিষিদ্ধ লীগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান কবে শুরু? সামনে এলো সম্ভাব্য তারিখ
- প্রস্তুতির ঘাটতি নয়, বাংলাদেশ দুর্দান্ত খেলেই জিতেছে: প্যাট কামিন্স
- পশ্চিমাঞ্চলীয় তিন শহরে প্রশাসনের জরুরি বার্তা, যা ঘটল সৌদি আরবে
- ঢাকার যানজট ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপ
- দেশে শ্রমশক্তি ও কর্মসংস্থানের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ
- কালিগঞ্জে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রস্তুতি সভা
- শেখ হাসিনা ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ ও গুমের নির্দেশদাতা: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
- ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করল এনসিপি
- ‘শত্রুদের কোনো হুমকিকেই গুরুত্ব দেয় না ইরান’: প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইবনুর রেজা
- ইন্টারনেট বা ডেটা ছাড়াই গুগল ম্যাপ ব্যবহারের ৫টি সহজ উপায়
- টানা দরপতনের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল ১ শতাংশের বেশি
- আমদানি ঘাটতির মুখে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি
- দেড় বছরেই অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার: দুর্নীতির পোস্টার বয় আসিফ মাহমুদ
- কোনো নাগরিক যেন আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে ব্যবস্থা করেছি: আইনমন্ত্রী
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সারা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর: ব্রিকস সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা
- যোগ্যতা ছিল না, দুর্নীতির গন্ধ রয়েছে: পুতুলের নিয়োগ নিয়ে তোপ উপদেষ্টার
- ইরান-আমিরাত দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য: বড় জয় দিল্লির
- দুর্গাপূজায় ইলিশ চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দিল ভারতের আমদানিকারকরা
- ডিসেম্বরে না ফিরলে শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু ঘটবে








