প্রকৌশলীদের রেষারেষির নেপথ্যে ‘চাকরি সংকট’

দেশের প্রকৌশলীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে বৈষম্য ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন করছেন। এক পক্ষে আছেন বিএসসি ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীরা, যাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) সহ অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অন্য পক্ষে আছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা, যারা দেশের বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাস করেছেন। উভয় পক্ষই নিজ নিজ দাবি নিয়ে আন্দোলন করায় তাদের এই দ্বন্দ্ব এখন চরমে পৌঁছেছে।
বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের দুর্দশা
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে চার বছরের স্নাতক কোর্স সম্পন্ন করেছেন আবু সুফিয়ান। ২০২০ সালে পড়ালেখা শেষ করেও পছন্দমতো চাকরি না পাওয়ায় বর্তমানে তিনি একটি দেশীয় অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, যেখানে তিনি সন্তুষ্ট নন। তিনি সরকারি চাকরির চেষ্টা করছেন, এমনকি দশম গ্রেডের পদেও। তবে এই গ্রেডের অনেক পদ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য সংরক্ষিত থাকায় তাদের সুযোগ খুবই সীমিত।
আবু সুফিয়ান বলেন, “বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির নিরাপত্তা নেই। আমাদের জন্য সরকারি চাকরির পদসংখ্যা খুবই সীমিত। দশম গ্রেডে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে অনেক জনবল প্রয়োজন হয়, যা সব ডিপ্লোমাধারীরা পাচ্ছেন। একচেটিয়াভাবে তাদের দশম গ্রেড দিয়ে দেওয়ায় বুয়েট-রুয়েট-চুয়েট-কুয়েট থেকে পড়েও অনেকে বেকার।”
বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা যেসব পদে চাকরি পান, তার মধ্যে নবম গ্রেডের সহকারী প্রকৌশলী পদটি বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ হয়। কিন্তু ৩১ থেকে ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে মাত্র ৪৬৮টি সহকারী প্রকৌশলী পদ ছিল। অথচ প্রতি বছর প্রায় এক লাখ বিএসসি গ্র্যাজুয়েট বের হন।
তাদের তিনটি প্রধান দাবি হলো:
১. নবম গ্রেডের সহকারী প্রকৌশলী পদে শুধু পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ এবং ন্যূনতম যোগ্যতা বিএসসি ডিগ্রি করা।
২. দশম গ্রেডে ডিপ্লোমাধারীদের পাশাপাশি বিএসসি ডিগ্রিধারীদেরও আবেদনের সুযোগ দেওয়া।
৩. শুধু বিএসসি সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীরাই যেন নামের সঙ্গে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ লিখতে পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া।
প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি এম ওয়ালীউল্লাহ বলেন, “বুয়েটে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীরা সুযোগ পান। অথচ তাদের চাকরির পরীক্ষায় আবেদনই করতে দেওয়া হচ্ছে না। উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদটি শুধু ডিপ্লোমাধারীদের জন্য বরাদ্দ করে দেওয়া অন্যায়।”
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ৭ দফা দাবি
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা হাতে-কলমে শেখার কারণে নিজেদের কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ জনশক্তি দাবি করেন। তাদের পেশাজীবী সংগঠন ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) এর নেতৃত্বে তারা ৭ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন।
তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
১. উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদগুলো শুধু ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য বরাদ্দ রাখা।
২. সহকারী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির জন্য ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা রাখা।
৩. তাদের ‘ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
বাংলাদেশ কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য আব্দুল আহাদ বলেন, “ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররাই প্রকৃত প্রকৌশলী। আমরা হাতে-কলমে শিখছি। বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা কর্মক্ষেত্রে গিয়ে আমাদের কাছে ধরনা দেন, কারণ তারা তত্ত্বীয় বিষয়গুলো পড়লেও কাজে পারদর্শী নন।”
আইডিইবির অন্তর্বর্তী আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. কবীর হোসেন বলেন, “ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররাই মাঠে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। অথচ বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা তাদের সব খাত থেকে বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। এটা মেনে নেওয়া হবে না।”
সংকটের কারণ ও সমাধান
শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিএসসি ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের এই রেষারেষির মূল কারণ চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা। এটি একটি ‘ইগো’র লড়াইও বটে। বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা ডিপ্লোমাধারীদের ‘ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে সম্বোধন করতে চান না, বরং তাদের ‘ডিপ্লোমা টেকনোলজিস্ট’ হিসেবে দেখতে চান।
অন্যদিকে ডিপ্লোমাধারীদের দাবি, বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করেন, কিন্তু হাতে-কলমে কাজে পারদর্শী নন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৌশল খাতে সব ধরনের প্রকৌশলীকেই প্রয়োজন। ভিন্ন ভিন্ন দক্ষতার কারণে তারা ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে পারদর্শী হবেন। একটি পদে শুধু এক ধরনের প্রকৌশলী চাকরি পাবে—এই নীতি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “সবার দৃষ্টি সরকারি চাকরির দিকে। সবাই শর্টকাট খুঁজছে, দক্ষ জনশক্তি হয়ে ওঠার দিকে নজর দিচ্ছে না। এটিই আজকের এই সংকটের মূল কারণ।”
সরকারের উদ্যোগ
এই সংকট সমাধানের জন্য সরকার চারজন উপদেষ্টার সমন্বয়ে ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সভাপতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, উভয় পক্ষের কথা শুনে একটি ন্যায্য সমাধান করা হবে।
/আশিক
সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারের মেগা ঋণ কর্মসূচি, মিলবে সাশ্রয়ী সুদে
বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটাতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি বড় অর্থায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। গৃহস্থালি, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে এ অর্থ ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, সুবিধাভোগী পর্যায়ে সব ধরনের ফি ও চার্জসহ ঋণের কার্যকর বার্ষিক সুদের হার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের দিক থেকে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বার্ষিক ৩ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ১০ বছর মেয়াদে এই ঋণ দেওয়া হবে, যার মধ্যে গ্রেস পিরিয়ড থাকবে এক বছর।
অর্থায়নের কাঠামো অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এমএসএমই খাতের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল পুনর্বিন্যাস করে ১ হাজার কোটি টাকা এবং পরিচালন ঋণ থেকে বাকি ৫০০ কোটি টাকা সংস্থান করা হবে। এই অর্থায়ন সমানভাবে পাবে তিনটি নির্দিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান—ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ৫০০ কোটি টাকা করে পাবে এবং তারা সরাসরি কিংবা সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। তবে গ্রাহকের ঋণখেলাপির সমুদয় ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে।
অনুমোদিত এই ঋণের অর্থ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, নেট মিটারিং সংযোগ, সোলার হোম সিস্টেম, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সৌরচালিত সেচপাম্প, ইনভার্টার, আধুনিক মিটার ও ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা স্থাপন বা আধুনিকায়নে ব্যবহার করা যাবে। তবে জমি বা শেয়ার কেনা, পুরোনো ঋণ পরিশোধ, পুনঃঅর্থায়ন, ব্যক্তিগত ভোগ কিংবা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক খরচে এই তহবিল ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
/আশিক
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ও কাদের সিদ্দিকীর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ, যা আলোচনা হলো
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান কাদের সিদ্দিকী।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অভিনন্দনের জন্য কাদের সিদ্দিকীকে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেন। সাক্ষাৎকালে তাঁরা পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় করেন এবং সমসাময়িক দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন।
/আশিক
৬ জুনের মধ্যে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার ভোট সম্পন্ন করার লক্ষ্য ইসির
আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে দেশের সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে ২৬টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক সমন্বয় সভা শেষে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. সানাউল্লাহ।
নির্বাচন কমিশনার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলেই পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। আগামী নভেম্বর মাস থেকেই নির্বাচন শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সমন্বয় সভা থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পরবর্তী কমিশন সভায় মূল্যায়নের পর চূড়ান্ত দিনক্ষণ প্রকাশ করা হবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দেশব্যাপী বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা রয়েছে।
পরবর্তীতে জানুয়ারিতে কিছুটা ফাঁকা সময় মিললেও এর পরপরই পবিত্র মাহে রমজান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের মতো বড় পাবলিক পরীক্ষাগুলো শুরু হবে। ফলে এই আঁটসাঁট সময়সূচির মধ্যে উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন কীভাবে সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়ে কমিশন কৌশলগত কাজ করছে।
এদিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, অর্থ, আইন, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ বাংলাদেশ ব্যাংক, সিআইবি, বিএফআইইউ, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর (ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এর আগে চলতি মাসে তফসিল ঘোষণা করে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।
/আশিক
আগামী মাসে রূপপুর থেকে গ্রিডে আসবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে আগামী মাসের মধ্যে প্রথম ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে পুরোদমে কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। রাষ্ট্রদূত জানান, প্রকল্পের যাবতীয় কারিগরি বিষয় দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বর্তমানে প্রায় চার হাজার রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও প্রসারিত করতে মস্কো চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে যৌথ ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এর পাশাপাশি মস্কোতে একটি ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগামী নভেম্বরের শুরুতে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠকে আসতে পারে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। এই ফোরামে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য সরাসরি বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) বৈঠকসহ বিশেষ নেটওয়ার্কিং সেশনের ব্যবস্থা থাকবে।
বৈঠকে এফবিসিসিআই প্রশাসক তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, সিরামিক এবং দক্ষ মানবসম্পদ রাশিয়ায় রপ্তানির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে রুশ রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির প্রক্রিয়াগত ও আইনি দিকগুলো দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করছে এবং রাশিয়ার আবহাওয়োপযোগী ভারী জুতো ও চামড়াজাত পণ্যেরও বিপুল চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া কৃষি, মৎস্য, জাহাজ নির্মাণ ও সেবা খাতে সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে রাশিয়ার ভিসা প্রদান করা হয়েছে। উভয় পক্ষই সরকারি ও বেসরকারি সমন্বয়ে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
/আশিক
২০৩১ সালের মধ্যে চালু হচ্ছে নতুন ইলেকট্রিক ট্রেন, মেগা বরাদ্দ একনেকে
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রাজধানীর তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে একটি আধুনিক ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর মেগা প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সরকারের ভবিষ্যৎ যোগাযোগ পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ঢাকা, এর আশপাশের অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরও মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে, যা সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩১ সালের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। ডলারের অবমূল্যায়নের ফলে বিভিন্ন প্রকল্পের মোট ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করেন যে, দ্রুত এসব প্রকল্পের কাজ শেষ না করা গেলে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের পরই জাইকা তাদের ঋণের সুদের হার পরিবর্তন করতে পারে।
একনেক সভায় ইলেকট্রিক ট্রেনের পাশাপাশি একই সঙ্গে তিনটি বৃহৎ মেট্রোরেল প্রকল্পের সংশোধন ও নতুন অনুমোদন দেওয়া হয়, যা বাস্তবায়নে সব মিলিয়ে ব্যয় হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। প্রকল্পগুলো হলো—এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুট। এর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে চলমান এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর) এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দান (হেমায়েতপুর-ভাটারা) অংশের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পটিও একনেকের পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন লাভ করেছে।
/আশিক
রাজধানীতে আধুনিক যোগাযোগের মহাবিপ্লব, একনেক সভায় বিপুল অর্থ বরাদ্দ
রাজধানীর তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প এবং বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটের ইলেকট্রিক ট্রেনসহ মোট ১২টি গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। অনুমোদিত এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাহী কমিটির নিয়মিত সভায় এই বৃহৎ অর্থায়ন ও প্রকল্পগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার খোলস বদলে দেওয়ার মতো তিনটি পৃথক মেট্রোরেল প্রকল্প। এগুলো হলো—এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুট। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, দীর্ঘমেয়াদে এই তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়নে সব মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।
এর আওতায় জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর অর্থায়নে চলমান এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের আওতাধীন বিমানবন্দর-কমলাপুর অংশ এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুটের হেমায়েতপুর-ভাটারা অংশের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভ করেছে। পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পটিরও পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকার চারপাশের শহরতলিকে আধুনিক গণপরিবহন নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে দ্রুতগতির ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটি একনেক বৈঠকে ছাড়পত্র পেয়েছে। ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত এই যুগান্তকারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যে উক্ত রুটে সর্বসাধারণের জন্য নিয়মিত ইলেকট্রিক ট্রেন চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
/আশিক
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন বার্তা
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে জানিয়ে তিনি সবাইকে সেদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানান। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক ও আইনি এখতিয়ার মেনেই কাজ করে; তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো দেশব্যাপী বৃহৎ আয়োজনে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও মাঠপর্যায়ের সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় অপরিহার্য। এর আগে ইসির সম্ভাব্য সূচি ঘোষণা ও তা নিয়ে বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী এই অবস্থান পরিষ্কার করলেন। উল্লেখ্য, আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরুর প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছিল।
ব্রিফিংয়ের মূল বিষয়বস্তু ছিল ঢাকা মহানগরীতে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কারণে সৃষ্ট যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখা। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো নগরবাসীর ভোগান্তি কমিয়ে স্বস্তি নিশ্চিত করা এবং সময় ও অর্থের অপচয় রোধ করা। বিশেষ করে বর্ষাকালে যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির ভোগান্তি এড়াতে আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে একই সঙ্গে বিভিন্ন ইউটিলিটি স্থানান্তর বা নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মেগা প্রকল্পের কাজগুলোর সঠিক তদারকির সুবিধার্থে এমআরটি, সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক বিভাগ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা এবং ডেসাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সংস্থার জন্য পৃথক ‘ফোকাল পয়েন্ট’ কর্মকর্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। কাজের অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য প্রতি ১৫ দিন পরপর এই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রয়োজনে সাব-কমিটি গঠন করে সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক যোগাযোগ রক্ষা করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
/আশিক
গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই প্রধান কাজ: রাষ্ট্রপতি
বিপুল রক্তপাত ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ফিরিয়ে আনা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে টিকিয়ে রাখা এবং একে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ প্রদান করাই বর্তমান সময়ের প্রধান জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এক দীর্ঘ সংগ্রাম ও অগণিত তরুণের চরম আত্মাহুতির পথ বেয়ে কর্তৃত্ববাদী সরকারকে অপসারণ করে দেশে পুনরায় গণতন্ত্রের পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় একটি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। বিগত সময়ের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া রাষ্ট্রকাঠামোকে অতিদ্রুত পুনর্গঠনের মাধ্যমে সচল করতে বর্তমান প্রশাসন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
গণতন্ত্রকামী জনগণের ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য ক্ষমতাকে পৌরাণিক ফিনিক্স পাখির সঙ্গে তুলনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যাবতীয় ধ্বংসাবশেষের মধ্য থেকে বারবার মাথা তুলে দাঁড়িয়ে এগিয়ে যাওয়াই বাংলাদেশের মানুষের চিরন্তন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। অর্জিত এই গণতান্ত্রিক ধারাকে স্থায়ী রূপ দিতে জাতীয় সংসদকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর রাখা সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষেরই প্রধান কর্তব্য। রাজনৈতিক যেকোনো মতপার্থক্য বা বিরোধ রাজপথের বদলে আলোচনার টেবিলে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সিলেট অঞ্চলের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত নানা সমস্যা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি আশ্বস্ত করে জানান, বর্তমান মন্ত্রিসভায় অত্যন্ত দক্ষ ও যোগ্য প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং সিলেটের সমস্যাগুলো নিরসনে ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। মেগা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সবশেষে তিনি অতীতের মতোই দেশ পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক লড়াইয়ে শামিল হয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বসবাসযোগ্য রাষ্ট্র বিনির্মাণে অর্জিত এই সুযোগকে কোনোভাবেই অবহেলায় নষ্ট না করার জন্য সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
/আশিক
ফজরের পর অল্প লোক নিয়ে ভিডিওর জন্য মিছিল করে নিষিদ্ধ লীগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মাঝে মাঝে অপতৎপরতার অংশ হিসেবে ফজরের নামাজের পর সামান্য কিছু লোক জড়ো করে মিছিল করে এবং সেগুলোর ভিডিও তৈরি করে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই পর্যবেক্ষণের কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত এই দলটির অল্পসংখ্যক লোক নিয়ে ভোরে মিছিল করা এবং তা প্রচারের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং এসব মিছিলের কিছু দৃশ্যমান প্রমাণও দেখা গেছে।
রাজধানীর গুলশানে দলটির সাম্প্রতিক মিছিল প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, দিনের বেলা বেলা ১১টার দিকে জুমার নামাজ আদায়ের কথা বলে কিছু লোক সেখানে জড়ো হয়েছিল; পরবর্তীতে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, পুলিশের কাছে এ সংক্রান্ত কিছু গোয়েন্দা তথ্য থাকলেও শুক্রবারের সেই সময়টিতে জুমার নামাজের নাম করে তারা এমন অপতৎপরতা চালাতে পারে, তা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে আঁচ করতে পারেনি। তবে একে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ঘটনার পরই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
একই ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক ও আইনি এখতিয়ার মেনেই দায়িত্ব পালন করে, তবে মাঠপর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচন কমিশন যে সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে তা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সচিব পর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সামগ্রিক মতামতের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে এবং ততদিন পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- পরমাণু শক্তির নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ, ভিয়েনায় তুলে ধরলেন মন্ত্রী
- ব্যাট হাতে রূপকথার ঝড়, রেকর্ড বই তছনছ করে এলিট ক্লাবে তরুণ ভারতীয় তারকা
- শনিবার রাজপথে নামছে ১১ দলীয় ঐক্য, চূড়ান্ত হলো লংমার্চের দিনক্ষণ ও পথনকশা
- গেজেট প্রকাশের আগেই সামনে এলো নতুন পে-স্কেলের বিস্তারিত, কার কত বাড়ছে?
- এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাল্টে গেল চিত্র, ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে দুই তারকার সরাসরি লড়াই
- টানা ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না রাজধানী ও আশপাশের যেসব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়
- সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারের মেগা ঋণ কর্মসূচি, মিলবে সাশ্রয়ী সুদে
- গাম্বিয়ার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে ব্যারিস্টার নাজির আহমদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুলের ভুষি: সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা
- মক্কা চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের বড় ঘোষণা, সতর্কবার্তা তেহরানের উদ্দেশে
- বাড়বে না হজের নিবন্ধনের সময়, চূড়ান্ত সময়সীমা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা
- মক্কার ড্রোন হামলার ভিডিও নিয়ে তোলপাড় নেটদুনিয়া, যা জানা গেল ফ্যাক্ট চেকে
- বিদেশের আরাম নয়, দেশে ১০ বছর জেল খাটাই বেছে নেব: আসিফ মাহমুদ
- ‘শুধু পুরুষেরই কি তওবার অধিকার?’ এক সংলাপেই তোলপাড় পাকিস্তানি নাটক
- বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ও কাদের সিদ্দিকীর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ, যা আলোচনা হলো
- নিম্নমুখী প্রবণতার পরেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় লাফ, বাড়ল রুপার দামও
- ৮ অঞ্চলের নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত, ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস
- ওয়াদা অস্বীকার করে উল্টো পথে হাঁটছে সরকার: জামায়াত আমির
- ৬ জুনের মধ্যে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার ভোট সম্পন্ন করার লক্ষ্য ইসির
- আগামী মাসে রূপপুর থেকে গ্রিডে আসবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত
- সেপ্টেম্বরের শেষভাগে রাতের আকাশে চোখ জুড়ানো মহাজাগতিক দৃশ্য
- শেষ হতে চলেছে স্মার্টফোনের যুগ? রহস্যময় ডিভাইস নিয়ে আসছে ওপেনএআই
- তাপপ্রবাহের মাঝে বৃষ্টির পূর্বাভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা
- এলএনজি, জ্বালানি তেল ও টিসিবির পণ্য কেনায় সরকারের মেগা অনুমোদন
- একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ
- সুন্দরবনে ফাইভ-স্টার ‘ট্রি-হাউস’ ও আকাশপথে বাঘ দর্শনের মেগা পরিকল্পনা
- মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণে বড় মোড়, হুতি ঠেকাতে এক টেবিলে সৌদি ও ইসরায়েল?
- ২০৩১ সালের মধ্যে চালু হচ্ছে নতুন ইলেকট্রিক ট্রেন, মেগা বরাদ্দ একনেকে
- বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের গর্জন, আইসিসির নতুন র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের চমক
- ১ মিনিটের বিজ্ঞাপনে তোলপাড় নেটদুনিয়া, তীব্র সমালোচনার মুখে তারকা অভিনেত্রী
- নিম্নমুখী ধারার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় লাফ, কোন পথে হাঁটছে বাজার?
- ভারত ও চীনসহ ১০ দেশকে নিশানা করে মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিল
- মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টার তীব্র নিন্দা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজের
- ডেঙ্গুর প্রকোপে নতুন রেকর্ড, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি ও আক্রান্তের নতুন তথ্য
- হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ মুসলিমদের জন্য বন্ধ করল ইসরায়েল
- রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লণ্ডভণ্ড পশ্চিম উপকূল, ইয়েমেনে তৈরি হচ্ছে বড় মানবিক বিপর্যয়
- রাজধানীতে আধুনিক যোগাযোগের মহাবিপ্লব, একনেক সভায় বিপুল অর্থ বরাদ্দ
- ভরদুপুরে সেলুনে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ও কোপ, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল রোমহর্ষক দৃশ্য
- প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস আমন্ত্রণ নিয়ে ধোঁয়াশার অবসান, যা জানাল নয়াদিল্লি
- স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন বার্তা
- আগামী কয়েক দিন কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া, জানাল অধিদপ্তর
- গ্যাস-বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর মুখে দেশের পোশাক শিল্প
- চলমান সামরিক সংঘাতকে 'পবিত্র যুদ্ধ' আখ্যা দিয়ে যা বললেন উত্তর কোরিয়ার নেতা
- বিশ্বকাপ বর্জনের নেপথ্যে কী ঘটেছিল? চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল তদন্ত কমিটি
- গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই প্রধান কাজ: রাষ্ট্রপতি
- ফজরের পর অল্প লোক নিয়ে ভিডিওর জন্য মিছিল করে নিষিদ্ধ লীগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান কবে শুরু? সামনে এলো সম্ভাব্য তারিখ
- প্রস্তুতির ঘাটতি নয়, বাংলাদেশ দুর্দান্ত খেলেই জিতেছে: প্যাট কামিন্স
- পশ্চিমাঞ্চলীয় তিন শহরে প্রশাসনের জরুরি বার্তা, যা ঘটল সৌদি আরবে
- ঢাকার যানজট ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপ
- দেশে শ্রমশক্তি ও কর্মসংস্থানের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ
- কালিগঞ্জে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রস্তুতি সভা
- শেখ হাসিনা ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ ও গুমের নির্দেশদাতা: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
- ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করল এনসিপি
- ‘শত্রুদের কোনো হুমকিকেই গুরুত্ব দেয় না ইরান’: প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইবনুর রেজা
- ইন্টারনেট বা ডেটা ছাড়াই গুগল ম্যাপ ব্যবহারের ৫টি সহজ উপায়
- টানা দরপতনের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল ১ শতাংশের বেশি
- আমদানি ঘাটতির মুখে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি
- দেড় বছরেই অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার: দুর্নীতির পোস্টার বয় আসিফ মাহমুদ
- কোনো নাগরিক যেন আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে ব্যবস্থা করেছি: আইনমন্ত্রী
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সারা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর: ব্রিকস সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা
- যোগ্যতা ছিল না, দুর্নীতির গন্ধ রয়েছে: পুতুলের নিয়োগ নিয়ে তোপ উপদেষ্টার
- ইরান-আমিরাত দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য: বড় জয় দিল্লির
- দুর্গাপূজায় ইলিশ চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দিল ভারতের আমদানিকারকরা
- ডিসেম্বরে না ফিরলে শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু ঘটবে








