ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ হচ্ছে আজ

আজ, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট), ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল, বুধবার (২৭ আগস্ট), নির্বাচন কমিশনের এক বৈঠকে এই রোডম্যাপটি অনুমোদন করা হয়।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে চার কমিশনারের বৈঠকে এই কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন পেয়েছে। রোডম্যাপে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগের ও পরের কার্যক্রম, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সংলাপের সময়, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নতুন দলের নিবন্ধন, নির্বাচনী আইন সংস্কার, আসন পুনর্বিন্যাস, প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের সময়সীমা উল্লেখ থাকবে।
এর আগে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের খসড়া প্রস্তাবের ওপর দাবি-আপত্তির শুনানি বুধবার (২৭ আগস্ট) শেষ হয়েছে। ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, চার দিনে মোট ৩৩ জেলার ৮৪টি আসনের জন্য ১,৮৯৩টি দাবি ও আপত্তির ওপর শুনানি হয়। এর মধ্যে ১,১৮৫টি আবেদন ছিল প্রস্তাবের বিপক্ষে এবং ৭০৮টি ছিল পক্ষে। পাবনা ও সিরাজগঞ্জের আসনবিন্যাস নিয়েও এই শুনানিতে দাবি উত্থাপিত হয়েছে। পাবনার পক্ষ সাঁথিয়া ও বেড়া-সুজানগরকে পৃথক আসনে ভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছে, আর সিরাজগঞ্জের পক্ষ আগের আসন পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে।
/আশিক
পে-স্কেল নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান: সরকারি চাকুরেদের ভাগ্যবদল কি আসন্ন?
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল সংক্রান্ত চূড়ান্ত সুপারিশমালা আগামীকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সুপারিশমালা চূড়ান্ত হওয়ার ফলে সরকারি প্রশাসনের সর্বস্তরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
সচিবালয়ে ব্রিফিংকালে অর্থ উপদেষ্টা জানান, পে কমিশনের এই প্রতিবেদন জমার সময় তিনি নিজেও উপস্থিত থাকবেন। জাতীয় বেতন কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান কমিশনের অন্য সকল সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপস্থিত হবেন এবং তাঁর কাছে বিস্তারিত সুপারিশমালা তুলে ধরবেন। কমিশনের পক্ষ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বেতন বৃদ্ধি ছাড়াও বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদনটি জমার দেওয়ার পর সরকার এর বিভিন্ন দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
যদিও প্রতিবেদনের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি অর্থ উপদেষ্টা, তবে তিনি সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত প্রদান করেছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “সরকারি চাকরিজীবীরা পে-স্কেল পেয়ে খুশি হবেন। এমন সুপারিশই প্রতিবেদনে থাকবে।” তাঁর এই মন্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা বিবেচনা করে বেতন কমিশনের সুপারিশে উল্লেখযোগ্য কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বেতন কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান আগামীকাল প্রধান উপদেষ্টার সামনে প্রতিবেদনের নানা দিক ও যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করবেন। সরকারি প্রশাসনের কর্মচারীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই প্রতিবেদনের অনুমোদনের ওপর, যা তাঁদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সচ্ছলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
পে কমিশনের রিপোর্ট জমার সময় জানাল অর্থ উপদেষ্টা
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল সংক্রান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পে কমিশন আগামী বুধবার বিকেল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র হস্তান্তর করবে।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, পে কমিশন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং আর্থসামাজিক বাস্তবতা পর্যালোচনা করে এই সুপারিশ প্রস্তুত করেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বুধবারই এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হবে।
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই সুপারিশের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পে কমিশনের সুপারিশ জমা পড়ার পর তা পর্যালোচনা করে সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। এরপর ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন পে-স্কেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহ ও প্রত্যাশা বিরাজ করছে। বুধবারের এই রিপোর্ট জমা দেওয়াকে সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
-শরিফুল
চাকুরিজীবীদের জন্য সুখবর: বৈশাখী ভাতায় বড় চমক দিচ্ছে পে কমিশন
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আসন্ন পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে আরও আনন্দময় ও উৎসবমুখর করে তোলার লক্ষ্যে বৈশাখী ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশন। নবম পে স্কেলের আওতায় বর্তমানের এই ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে এক লাফে ৫০ শতাংশ করার জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করা হচ্ছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পে কমিশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এ সংক্রান্ত যাবতীয় দাপ্তরিক ও কারিগরি কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে পে কমিশন। মূলত সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং জাতীয় উৎসবের আমেজকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও প্রাণবন্ত করাই এই নতুন সুপারিশের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি চাকুরিজীবীরা তাদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পেয়ে থাকেন। দীর্ঘ সময় ধরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং উৎসবের খরচের তুলনায় এই হার অপ্রতুল বলে দাবি আসছিল বিভিন্ন পর্যায় থেকে। এরই প্রেক্ষিতে জাতীয় বেতন কমিশন তাদের নতুন সুপারিশে এটিকে মূল বেতনের অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রেখেছে। কমিশনের একজন সদস্য জানিয়েছেন, বৈশাখী ভাতার ক্ষেত্রে এই বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হলেও পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার বোনাসের ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, ঈদ বোনাসের কাঠামোতে আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। বুধবার প্রধান উপদেষ্টার দফতরে প্রতিবেদনটি পেশ করার পর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন পেলেই এটি কার্যকর হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
পে কমিশনের সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে যে, নবম পে স্কেলের সামগ্রিক কাঠামোর অংশ হিসেবে এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশে উন্নীত হলে তা সরকারি কর্মচারীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের অর্থনীতি চাঙা হওয়া এবং রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রবণতার প্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবারের বৈঠকের পর এই ভাতার চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি পরিষ্কার হবে এবং এর পরেই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। সরকারি প্রশাসনের সকল স্তরে এখন পে কমিশনের এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের দিকে নজর রয়েছে, যা দেশের লাখ লাখ সরকারি চাকুরিজীবীর আর্থিক সচ্ছলতার সাথে সরাসরি যুক্ত।
নিরপেক্ষ সরকার কি ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইতে পারে? গণভোট ঘিরে আইনি জটিলতা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন দিন হতে যাচ্ছে, যেখানে একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত গণভোট। এই গণভোট মূলত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করে আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে নাগরিকদের রায় নেওয়া হবে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে যে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা নিয়ে দেশের বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও রাজনৈতিক মহলে এক বিশাল আইনি ও নৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। সরকারের উপদেষ্টা ও কর্মকর্তারা জেলায় জেলায় সফর করে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত তৈরি করছেন এবং সব সরকারি-আধাসরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই প্রচারের জোরদার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের প্রধান প্রশ্ন হলো—একটি নিরপেক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে গঠিত প্রশাসন কোনো বিশেষ ফলের পক্ষে প্রচার চালাতে পারে কি না।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ এই প্রচারের পক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রধানতম এজেন্ডাই ছিল রাষ্ট্র সংস্কার ও বিচার সুনিশ্চিত করা। তাঁর মতে, এই সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হলে জুলাই সনদকে গণভোটে জয়যুক্ত করা অপরিহার্য। একইভাবে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল মন্তব্য করেছেন যে, এটি কোনো ভনভিতা নয় বরং সংস্কারের প্রতি সরকারের যে অঙ্গীকার রয়েছে, সেখান থেকেই তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গণভোটের মাধ্যমে কোনো নতুন সরকার গঠিত হয় না এবং অতীতেও বাংলাদেশে সব গণভোটের সময় সরকার একটি পক্ষ নিয়েছিল। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক এই ধরণের কর্মকাণ্ডকে সরাসরি ‘আইন ও নীতিবহির্ভূত’ এবং ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, নির্বাচন আয়োজনকারী কোনো নিরপেক্ষ সরকার এর আগে কখনো এভাবে পক্ষ নিয়ে ভোট চাইতে দেখা যায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক রিদওয়ানুল হকের মতেও, অন্তর্বর্তী সরকারের স্পিরিট হওয়া উচিত ছিল অরাজনৈতিক, কিন্তু এই প্রচার রাজনৈতিক দলগুলোর কাজের মতো হয়ে যাচ্ছে।
আইনি জটিলতার দিকটি আরও গভীর হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নিয়ে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ডিসি ও ইউএনও-রা নির্বাচন কমিশনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন এবং তাদের নিরপেক্ষ থাকা আইনত বাধ্যবাধকতা। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না একে ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন যে, সরকার জনগণের করের টাকায় একটি পক্ষের প্রচার চালাচ্ছে, যেখানে ‘না’ সমর্থকদেরও অর্থ জড়িত রয়েছে। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন যে, যে শিক্ষকদের বা ব্যাংক কর্মকর্তাদের সরকার এখন ‘হ্যাঁ’ প্রচার করতে বলছে, তাদের মাধ্যমেই যদি নির্বাচনের দিন নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়, তবে সেই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হবে। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ অবশ্য জানিয়েছেন যে, সরকার চাইলে গণভোট সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে পারে, তবে সেটি যেন প্ররোচনামূলক না হয়।
আসন্ন গণভোটে মূলত চারটি বিষয়ের ওপর রায় চাওয়া হচ্ছে: নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও ইসি গঠন প্রক্রিয়া, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ গঠন ও উচ্চকক্ষের ক্ষমতা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা (সর্বোচ্চ ১০ বছর), বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব। জুলাই সনদে বিএনপি ও জামায়াতসহ ২৬টি দল স্বাক্ষর করলেও বিএনপি তাদের ৯টি পয়েন্টে ভিন্নমত দিয়েছে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) চারটি দল এতে এখনো স্বাক্ষর করেনি। বিশেষ করে চারটি ভিন্ন প্রশ্নের ওপর কেবল একটি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের বিধান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, কারণ কোনো একটি প্রস্তাবে দ্বিমত থাকলেও আলাদাভাবে মত প্রকাশের সুযোগ রাখা হয়নি। এই বিতর্ক ও প্রশ্নবিদ্ধ আইনি আবহের মধ্যেই দেশ ১২ ফেব্রুয়ারির সেই ঐতিহাসিক ক্ষণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
ভোটে বাধা দিলে আপনি শেখ হাসিনা হয়ে যাবেন: আসিফ নজরুল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে এক নতুন ধরণের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির রূপরেখা ঘোষণা করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন যে, বর্তমান সরকার দেশে একটি ‘অসাধারণ’ নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিজের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন। তবে এই ভোটদান প্রক্রিয়ায় যদি কেউ অন্য কোনো ভোটারের অধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তবে তার আচরণ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমতুল্য হয়ে যাবে বলে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। আসিফ নজরুলের মতে, আমরা কোনোভাবেই ‘শেখ হাসিনা’ হতে চাই না এবং এই লক্ষ্যেই আগামী নির্বাচনে সবার ভোটাধিকার সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা হবে। ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি এবং গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
বিগত সরকারের শাসনামলের সমালোচনা করে আইন উপদেষ্টা বলেন যে, গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার এদেশের জনগণকে তাদের মৌলিক ভোটাধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রেখেছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, একবার রাতের আঁধারে ভোট চুরি করা হয়েছে, আরেকবার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই এককভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে এবং সবশেষে ‘আমি-ডামি’ নামক ভুয়া প্রার্থীর নাটক সাজিয়ে নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করা হয়েছিল। এই ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর যে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা ভোগ করার জন্য দেশকে যেভাবে অন্য দেশের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল, সেই অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে এখন একটি স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে দেশ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অসীম আত্মত্যাগের ফলেই আজ এদেশের ১৮ কোটি মানুষ পুনরায় নিজের জনপ্রতিনিধি কে হবেন, তা নির্ধারণ করার সুযোগ ফিরে পেয়েছেন। আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বলেন যে, আগে জনপ্রতিনিধি কে হবেন তা ঠিক করতেন শেখ হাসিনা, কিন্তু এখন থেকে সেই ক্ষমতা জনগণের হাতেই থাকবে।
আসন্ন গণভোটের যৌক্তিকতা তুলে ধরে ড. আসিফ নজরুল একে কোনো বিশেষ দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে রেখে ‘দেশের স্বার্থ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এদেশ থেকে যদি বৈষম্য, শোষণ, নিপীড়ন, অবিচার এবং দীর্ঘদিনের দুর্নীতির অবসান ঘটাতে হয়, তবে সাধারণ মানুষকে সচেতনভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। তিনি মনে করেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অর্থই হলো একটি নতুন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশে প্রবেশ করা। অন্যদিকে, যারা অন্যায় ও অবিচারের ধারাকে সমর্থন করবেন তারা ‘না’ ভোট দেবেন। এবারের নির্বাচনের একটি ঐতিহাসিক দিক উল্লেখ করে তিনি জানান যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভাইয়েরা সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন এবং একই সাথে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিনটি প্রধান অগ্রাধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন যে, রাষ্ট্র সংস্কার, গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা এবং একটি অবাধ নির্বাচন সম্পন্ন করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
মতবিনিময় সভায় বগুড়ার স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাউল করিমসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও ছাত্র-জনতা এই সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বগুড়ার অধ্যক্ষ এসএম প্রকৌশলী ইমদাদুল হক স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। সভায় আগতদের উদ্দেশে আসিফ নজরুল বলেন যে, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে প্রাপ্ত এই সুযোগ কোনোভাবেই হারানো চলবে না এবং ভোট দেওয়ার মাধ্যমেই নাগরিকদের তাঁদের আকাঙ্ক্ষিত সরকার ও জনপ্রতিনিধি নির্ধারণ করতে হবে। তিনি বগুড়ার মানুষকে গণভোটের গুরুত্ব উপলব্ধি করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
নতুন বাংলাদেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন জরুরি? জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঐতিহাসিক গণভোটে দেশের নাগরিকদের ‘হ্যাঁ’ বাক্সে সিল দেওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের এই চূড়ান্ত পর্বে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এই ভাষণে তিনি দেশের বিদ্যমান শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরেন। ড. ইউনূস স্পষ্ট করে বলেন যে, একটি বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত এবং নিপীড়নহীন বাংলাদেশ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নের চাবি এখন সাধারণ মানুষের হাতে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দেওয়ার মাধ্যমেই সেই নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা শুরু হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, এই রায়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ঐকমত্যের একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি হবে। এর ফলে কোনো ক্ষমতাসীন সরকার আর একক সিদ্ধান্তে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারবে না। এছাড়া সংবিধানের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এখন থেকে কেবল জনগণের সরাসরি সম্মতির ভিত্তিতেই সম্ভব হবে, যা সংসদীয় স্বৈরাচার বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ড. ইউনূস এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, আগামীতে কোনো ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন থাকতে পারবেন না। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতার দাপট ও স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে প্রধান উপদেষ্টা বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতি নির্বাচিত করার বিধান চালু করা হবে, যা রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে বিরোধী দলের গঠনমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে এবং পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে তিনি জানান যে, আর সব ক্ষমতা একজন প্রধানমন্ত্রীর হাতে পুঞ্জীভূত থাকবে না। এমনকি রাষ্ট্রপতি চাইলেই আর দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো বড় অপরাধীকে নিজের ইচ্ছামতো ক্ষমা করতে পারবেন না, যা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিশেষ সহায়ক হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীকে আবেগঘন কণ্ঠে আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, রাষ্ট্রকে আপনার প্রত্যাশামতো গড়ে তোলার জন্য এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দিতে ‘হ্যাঁ’-তে সিল দেওয়া অপরিহার্য। তিনি মনে করেন, এই গণভোট কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি নাগরিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকে মুক্তির এক বড় হাতিয়ার। প্রতিটি ভোটারকে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পবিত্র ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি তাঁর ভাষণ শেষ করেন। তাঁর এই ভাষণটি এমন এক সময়ে এলো যখন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার দফায় দফায় আলোচনা চলছে।
এক ব্যক্তির শাসন রুখতে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন জরুরি? জানালেন আলী রীয়াজ
আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও জনমত গঠনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। সোমবার সকালে ময়মনসিংহের টাউন হল অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবশ্যই গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন এবং এ ক্ষেত্রে আইনি বা প্রশাসনিক কোনো বাধা নেই। মূলত গণভোটের পক্ষে সাধারণ ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং প্রচারণার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই বিভাগীয় সভায় তিনি সরকারি প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দেশে যেন অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করার জন্য এই গণভোট একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই কেবল সেই গণতান্ত্রিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ তাঁর বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর অর্পিত সুনির্দিষ্ট দায়িত্বগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এক ব্যক্তির ইচ্ছায় যেন দেশ পরিচালিত না হয়—সেই পবিত্র আমানত ও দায়িত্ব এদেশের শহীদরা বর্তমান প্রজন্মের ওপর দিয়ে গেছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এই সরকারকে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে তার মধ্যে প্রধান কাজগুলো হলো রাষ্ট্রের সামগ্রিক সংস্কার করা, মানবতাবিরোধীদের বিচার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা এবং একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ‘জুলাই সনদ’ সংবিধানে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যা ভবিষ্যতের বাংলাদেশের শাসনপদ্ধতির রূপরেখা নির্ধারণ করবে। একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলা, স্বাধীন বিচারবিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যেই নাগরিকদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিভাগের চার জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরাসরি অংশ নেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল গণভোটের প্রয়োজনীয়তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরকে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। অধ্যাপক রীয়াজ কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন যে, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা কেবল পালনীয় নয় বরং এটি রাষ্ট্রকে নতুন করে সাজানোর একটি নৈতিক দায়িত্ব। সভার সমাপ্তিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য উপস্থিত কর্মকর্তাদের যার যার অবস্থান থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সেনাবাহিনী থেকে কোস্ট গার্ড: শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কড়া বার্তা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান যে, এবারের নির্বাচনে দেশজুড়ে মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
এই বিশাল বাহিনীর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ সদস্য সরাসরি মাঠে থাকবেন। এছাড়া নৌ-বাহিনীর ৫ হাজার, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন (যার মধ্যে স্থলভাগে থাকবেন ১ হাজার ২৫০ জন), পুলিশের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন, র্যাবের ৭ হাজার ৭০০ জন এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের লক্ষ্য হলো একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা, যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো প্রক্রিয়াকে দুই পর্বে ভাগ করে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম পর্বে বর্তমানে যারা মোতায়েন রয়েছেন তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবেন এবং দ্বিতীয় পর্বে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ৭ দিন ভোটকেন্দ্রিক বিশেষ মোতায়েন কার্যকর থাকবে। পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে পরিচালিত হবে এবং ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করবে।
এছাড়া পুলিশ, আনসার, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ গঠন করা হবে যেখানে প্রতিটি বাহিনীর একজন করে প্রতিনিধি সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একটি বিশেষ টিম গঠন করে এই সমন্বয় সেলের সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যাতে নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাগুলোতে টহল কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি ব্যালট পেপার ও অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহনের জন্য বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে এবারের নির্বাচন এক নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করে আকাশপথ থেকে নজরদারি চালানো হবে, যার মধ্যে সেনাবাহিনী ২০০টি এবং বিজিবি ১০০টি ড্রোন পরিচালনা করবে। এছাড়া পুলিশ, নৌ-বাহিনী, কোস্ট গার্ড, র্যাব এবং আনসার বাহিনীর কাছেও নির্দিষ্ট সংখ্যক ড্রোন থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন বাহিনী তাদের প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করবে। তবে এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত 'নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬'। এই অ্যাপের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসার থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম পর্যন্ত সবাই যুক্ত থাকবেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত প্রতিকারে সহায়তা করবে। এছাড়া প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষ নির্বাচনী প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে যা আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হবে।
সারাদেশে এবারের জাতীয় নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২,৭৬১টি, যার মধ্যে ৮,৭৮০টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ১৬,৫৪৮টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে থাকছে ১৭,৪৩৩টি কেন্দ্র। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের জন্য ২৫ হাজার বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে এমন দুষ্কৃতকারীদের দমনে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনপূর্ব চার দিন সারাদেশে নিবিড় টহল পরিচালনার পাশাপাশি চেক পয়েন্ট বা তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে তল্লাশি চালানো হবে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকাভিত্তিক বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে একটি নিবিড় নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
সবশেষে, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ অভিযানের সর্বশেষ ফলাফল তুলে ধরেন উপদেষ্টা। তিনি জানান যে, ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এই অভিযানে মোট ১৯ হাজার ৮৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময়ে ৩৪৬টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, গ্রেনেড, মর্টারের গোলা এবং বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। নিয়মিত মামলা ও ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আরও ৩৩ হাজার ৫১৩ জনসহ সর্বমোট ৫৩ হাজার ৩৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং দুষ্কৃতকারীদের দমনে এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে নির্বাচনের সময় কোনো ধরণের অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি না থাকে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো প্রকার অপতৎপরতা বা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টাকে কঠোর হস্তে দমনের হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা চলমান, তিন লক্ষ্য একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সম্পদ ও তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা অব্যাহত আছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা রেলসেতু পয়েন্ট এবং নিজপাড়া গাজীরহাট সংলগ্ন তিস্তা ১০ নম্বর ঘাট এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা একটি বহুমাত্রিক ও কারিগরি দিক থেকে অত্যন্ত জটিল উদ্যোগ। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনা সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনার মধ্য দিয়ে সরকার ধাপে ধাপে একটি কার্যকর কাঠামো দাঁড় করাতে কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে তিস্তা অববাহিকার পাঁচটি জেলার জনগণের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রকল্পের বাস্তবতা, পরিবেশগত প্রভাব ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করে একটি সমন্বিত প্রস্তাব চীনা সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন চীনা সরকার তাদের নিজস্ব বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা সফল করতে একযোগে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জন করতে হবে—নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করা। আঁকাবাঁকা তিস্তা নদীর প্রবাহকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই এই তিনটি কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
এ সময় সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত চীনের রাষ্ট্রদূত মি ইয়াও হোয়েন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে চীন সরকার এই সহযোগিতা প্রকল্পে কাজ করছে। প্রকল্পটি যাতে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে লক্ষ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে চীনা প্রকৌশলীরা কারিগরি বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় জনগণের সমর্থন, অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব পক্ষের সম্মিলিত সমর্থন পেলে চলতি বছরের মধ্যেই প্রকল্পের বাস্তব কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ, রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক, উপদেষ্টার একান্ত সচিব আবু নঈম মোহাম্মদ মারুফ খান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম এবং কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া আক্তার।
-শরিফুল
পাঠকের মতামত:
- ভালুকায় পৌর বিএনপির ১নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদারে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত
- ছুটি বাড়ল মাদ্রাসায়, কমল স্কুলে: ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জিতে বড় পরিবর্তন
- গ্যাস সংকটে ত্রাতা ইলেকট্রিক চুলা; ইনডাকশন না ইনফ্রারেড, কোনটি সেরা?
- কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিউটি পার্লার থেকে যুবতীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
- মিরপুরে বিএনপি জামাত সংঘর্ষ
- নীরব ঘাতক কোলেস্টেরল; শরীরে যে ৫টি সংকেত দেখলে দ্রুত সতর্ক হবেন
- পুরো দেশই অনিশ্চয়তায়: বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে লিটনের বিস্ফোরক বয়ান
- রমজান ২০২৬: সেহরি ও ইফতারের চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করল ইফা
- আরেকবার যুবক হয়ে লড়তে হবে: জামায়াত আমির
- ২০২৬-এই গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার: ট্রাম্পের রহস্যময় ছবি ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে জল্পনা
- ৩৪ মিনিটে বিয়ে ও ৭৫ মিনিটে তালাক: সম্পদশালী দেশে পারিবারিক জীবনের অস্থির চিত্র
- বস্তিবাসীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ফ্ল্যাটের স্বপ্ন দেখালেন তারেক রহমান
- পে-স্কেল নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান: সরকারি চাকুরেদের ভাগ্যবদল কি আসন্ন?
- ফরাসি প্রেসিডেন্টের ওপর ট্রাম্পের ক্ষোভ: ২০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি
- সরাসরি নারী প্রার্থী নেই কেন? ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির
- কুমিল্লায় বাসে তল্লাশি, বিদেশি পিস্তলসহ দুই সন্ত্রাসী আটক
- প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে হেভিওয়েটদের মুখোমুখি লড়াই
- ডিএসই মূল বোর্ডে আজকের লেনদেনের পূর্ণ চিত্র
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আজকের বাজারচিত্র বিশ্লেষণ
- শেয়ারবাজারে দরপতনের চাপ, শীর্ষ দশ লোকসানি শেয়ার প্রকাশ
- ডিএসইতে আজকের টপ গেইনার তালিকায় কারা
- এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪ নির্দেশনা জারি
- পে কমিশনের রিপোর্ট জমার সময় জানাল অর্থ উপদেষ্টা
- ধর্মের নামে রাজনীতি নয়, ভোটে বেহেস্তের লোভ দেখানো মুনাফিকি: মির্জা ফখরুল
- সাভারে ছদ্মবেশী ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাট; ৭ মাসে ৬ খুনের রোমহর্ষক কাহিনী
- বিকেলের নাস্তায় নতুন চমক: ঘরেই তৈরি করুন লাল টুকটুকে টার্কিশ ডিলাইট
- আমাকে স্বাধীনভাবে বাঁচতে দিন: ক্যামেরা ও গ্ল্যামার থেকে কেন দূরে সরছেন নেহা?
- নির্বাচনে জয়ী হলে বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করবে জামায়াত: ডা. শফিক
- ২০ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন ডলার থেকে রুপি, জানুন আজকের বিনিময় হার
- সুস্থ গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করতে ৫টি মারাত্মক ভুল এড়িয়ে চলুন
- ইসবগুল না কি চিয়া সিড? ফাইবারের ঘাটতি মেটাতে কোনটি বেশি কার্যকর?
- উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন; পুড়ে ছাই তিন শতাধিক ঘর
- লিটন না কি ওকস? এলিমিনেটরের মহাযুদ্ধে শেষ হাসি হাসবে কে?
- কুচক্রী মহল থেকে সাবধান: ফেসবুক পোস্টে জরুরি বার্তা দিলেন আজহারি
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- নামাজের সময়সূচি: ২০ জানুয়ারি ২০২৬
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- চাকুরিজীবীদের জন্য সুখবর: বৈশাখী ভাতায় বড় চমক দিচ্ছে পে কমিশন
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে স্বর্ণের দাম: মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- নিরপেক্ষ সরকার কি ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইতে পারে? গণভোট ঘিরে আইনি জটিলতা
- পাহাড় খেকোদের প্রতিরোধে প্রাণ দিলেন র্যাব কর্মকর্তা
- ভোটে বাধা দিলে আপনি শেখ হাসিনা হয়ে যাবেন: আসিফ নজরুল
- এই প্রথম! উদ্ভিদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া চর্মচক্ষে দেখল মানুষ
- এলপিজি সংকটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ; রান্নায় গ্যাস বাঁচানোর উপায়
- গুড়ে মিশছে চিনি ও ক্ষতিকর রং; ভেজাল এড়িয়ে চলবেন যেভাবে
- নদী ভাঙন ও মানুষের দুর্ভোগ; তিস্তা প্রকল্পে নতুন আশার আলো দেখছে চীন
- পে স্কেল নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন অর্থ উপদেষ্টা
- নতুন বাংলাদেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন জরুরি? জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে স্বর্ণের দাম: মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য
- বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ থেকে টানা ৩ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ডিএসই পরিদর্শন/ডোমিনেজ চালু, অন্য চার কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর আইনি সতর্কতা
- ওষুধের বাজারে উত্তাপ: কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণনে লাগাম টানছে সরকার
- সরকারি বন্ড বাজারে স্থগিতাদেশ ও ডিলিস্টিং একসঙ্গে
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- বিনিয়োগকারী অভিযোগে ডিজিটাল সমাধান জোরদার ডিএসইর
- ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কোথায় সুযোগ
- রেকর্ড ডেট শেষে সরকারি বন্ড ও দুই কোম্পানীর লেনদেন শুরু
- কুমিল্লা ৪ এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দরকার - নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস
- জেফার বললেন ‘জানি না’, অথচ আমিনবাজারে চলছে বিয়ের রাজকীয় প্রস্তুতি!








