প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে পাস হলো জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ১৮:৫০:২৭
প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে পাস হলো জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

দেশে জুয়া ও প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন গ্যাম্বলিংয়ের থাবা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ব্রিটিশ আমলের আইন বাতিল করেছে সরকার। জুয়া প্রতিরোধে ১৮৬৭ সালের অত্যন্ত পুরোনো ‘The Public Gambling Act, 1867’ আনুষ্ঠানিকভাবে রহিতকরণ করা হয়েছে। পুরোনো এই আইনের পরিবর্তে সময়ের দাবির প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে যুগোপযোগী ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে। নতুন এই আইনি কাঠামোতে জুয়া, অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, বেটিং (বাজি বা পণ), বাজিকর (Bookmaker), ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, মিরর সাইট ও ভিপিএনসহ আধুনিক যুগের মোট ২৪ ধরনের বিষয়কে সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই ঐতিহাসিক বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এর আগে গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে বিলটি প্রথম উত্থাপন করেছিলেন। পরে বিলটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ ও প্রতিবেদনের পরই মঙ্গলবার বিলটি পাস করা হয়। পাস হওয়া নতুন আইনে অপরাধের তীব্রতা ও ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের কঠোর কারাদণ্ড, বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিশেষ বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যমান ‘The Public Gambling Act, 1867’ আইনটি দেড়শ বছরেরও বেশি পুরোনো এবং বর্তমান সময়ের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার নিত্যনতুন ধরন মোকাবিলায় এটি আর কোনোভাবেই যথেষ্ট ছিল না। এছাড়া দেশের মূল সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে জুয়া নিরোধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনেও এই আইনটি যুগোপযোগী করে অপরাধীদের শাস্তির পরিমাণ বহুগুণ বাড়াতে জোরালো সুপারিশ করা হয়েছিল।

তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমানে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভুয়া সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থপাচার ও সাইবার প্রতারণা দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা এবং সামগ্রিকভাবে তরুণ সমাজের ভবিষ্যতের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধ কঠোরভাবে প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রের নৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার্থেই এই আধুনিক ও সমন্বিত আইন প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল।

পাস হওয়া নতুন আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে সুনির্দিষ্টভাবে ১৪ ধরনের অপরাধ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে— প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যেকোনো জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া পরিচালনা, অনলাইন বেটিং বা বাজি ধরা, জুয়ার নির্দিষ্ট স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণাবেক্ষণ বা ব্যবহার করা, জুয়ার সামগ্রী প্রস্তুত, সংরক্ষণ, বিক্রি, বিতরণ বা ব্যবহার করা, বাজিকর হিসেবে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং করা, জুয়ার বিজ্ঞাপন তৈরি, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা। এছাড়া ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস বা ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা করা, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট ও বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া খেলা এবং জুয়ার অর্থ লেনদেন, অর্থপাচার ও লেনদেনে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করাকেও অপরাধের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইনে শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, সাধারণ জুয়ার অপরাধের জন্য অপরাধীকে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। তবে অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে শাস্তি অনেক বেশি কঠোর— সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড। অন্যদিকে অনলাইন বেটিং বা বাজির জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশাল অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও চার লাখ টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি আদালতের আদেশে সংশ্লিষ্ট ভবন, কক্ষ, যানবাহন, সার্ভার অবকাঠামো বা যেকোনো সম্পত্তি সরাসরি বাজেয়াপ্ত করা যাবে। জুয়ার সামগ্রী সংরক্ষণ, প্রস্তুত, সরবরাহ, বিক্রি, বিতরণ, আমদানি বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং আদালতের মাধ্যমে এসব সামগ্রী বাজেয়াপ্ত বা ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখা হয়েছে। এছাড়া বাজিকর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

ক্রীড়া ক্ষেত্রে কলঙ্ক লেপনকারী ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য আইনে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে আদালত দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অথবা স্থায়ীভাবে যেকোনো ধরনের খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা বা ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণে সম্পূর্ণ অযোগ্য ঘোষণা করতে পারবেন। একইভাবে জুয়ার বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, মিথ্যা লাভের প্রলোভন, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনার জন্য কোনো ব্যক্তি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড় বা সেলিব্রিটিকে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার স্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে।

আইন অমান্য করে ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস, ক্লাউড অবকাঠামো বা কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ can সাত বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং এই অপরাধ যদি সংঘবদ্ধভাবে বা সরাসরি অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়, তবে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। জুয়ার অর্থ যদি কোনো ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওয়ালা, হুন্ডি বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন, গোপন বা বৈধ করার চেষ্টা করা হয়, তবে তা ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২’-এর অধীন সম্পৃক্ত অপরাধ (Predicate Offence) হিসেবে গণ্য হবে এবং সেই আইনেই বিচার করা হবে।

আইনে করপোরেট অপরাধের বিষয়ে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি, করপোরেট সংস্থা, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং প্রোভাইডার, পেমেন্ট গেটওয়ে বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জুয়ার অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, অংশীদার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সরাসরি দায়ী করা যাবে; যদি না তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে অপরাধটি তার সম্পূর্ণ অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে এবং তা প্রতিরোধে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটিকেও পৃথকভাবে অভিযুক্ত করা যাবে এবং আদালত প্রয়োজনে তাদের ব্যবসায়িক নিবন্ধন, লাইসেন্স বা সামগ্রিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত, বাতিল বা স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে পারবেন। একই অপরাধ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পুনরায় সংঘটিত করলে তাকে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির দ্বিগুণ পরিমাণ দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে অপরাধে ব্যবহৃত বা অপরাধ থেকে অর্জিত সব ধরনের অর্থ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম ও ডিজিটাল ডিভাইসসহ অন্যান্য সম্পদ সরকারিভাবে বাজেয়াপ্ত করার পূর্ণ ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে। অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং এবং সাইবার স্পেসে সংঘটিত যাবতীয় অপরাধের বিচার করা হবে দেশের বিশেষায়িত সাইবার ট্রাইব্যুনালে, আর অন্যান্য সাধারণ অপরাধের বিচার হবে এখতিয়ারসম্পন্ন ফৌজদারি আদালতে।

আইনের অধীনে আনা সব ধরনের অপরাধ আমলযোগ্য (Cognizable), জামিন অযোগ্য (Non-Bailable) এবং আপস অযোগ্য (Non-Compoundable) হিসেবে গণ্য হবে। অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) নিচের পদমর্যাদার কোনো পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এবং তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট বা ক্রিপ্টো ওয়ালেট সাময়িকভাবে ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করতে পারবে।

এছাড়া সরকার বা সরকার-নির্ধারিত যেকোনো কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে জুয়া বা বেটিং-সংশ্লিষ্ট যেকোনো ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ডোমেইন, আইপি অ্যাড্রেস, ইউআরএল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ, গ্রুপ, চ্যানেল এবং ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম সরাসরি ব্লক, অপসারণ বা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে পারবে। জুয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস, পেমেন্ট গেটওয়ে, ডিজিটাল ওয়ালেট ও ক্রিপ্টো ওয়ালেট চিরতরে বন্ধের নির্দেশও আদালত দিতে পারবেন।

এর পাশাপাশি জুয়া, অনলাইন জুয়া, বেটিং, অর্থপাচার ও সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে একটি ‘জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ’ প্রণয়ন, এনআইডি-সিম-এমএফএস লিংকিং সিস্টেম বাস্তবায়ন, বায়োমেট্রিক ও ফেসিয়াল রিকগনিশনভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় যাচাই ব্যবস্থা চালু এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠনের আইনি বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, নতুন এই কঠোর আইনটি দেশজুড়ে পুরোপুরি কার্যকর হলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া, অনলাইন বেটিং, ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণা ও অর্থপাচার প্রতিরোধে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তা দেশের সামগ্রিক সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

/আশিক


দেশজুড়ে বিশেষ নজরদারি! ১৫ আগস্ট ঘিরে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করছে র‍্যাব

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৩ ২১:৪৩:৪৮
দেশজুড়ে বিশেষ নজরদারি! ১৫ আগস্ট ঘিরে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করছে র‍্যাব
ছবি : সংগৃহীত

১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে যেকোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্যের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব উল্লেখ করে, জননিরাপত্তা রক্ষা ও অপরাধ দমনে বাহিনীটি সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা সহিংসতা প্রতিরোধে প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে কোনো অশুভ চক্র যেন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে জন্য প্রতিটি ব্যাটালিয়ন আলাদা পর্যালোচনা করে নিরাপত্তা নিশ্চিতের কৌশল গ্রহণ করেছে।

সংবেদনশীল এলাকাগুলো চিহ্নিত করে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রবিরোধী কুচক্রী মহল যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য কড়া নজরদারি চালু রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় রেখে নিজস্ব কৌশলে কাজ করছে র‍্যাব।

অনুষ্ঠানস্থল ও গমনাগমনের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে সাদা পোশাকে সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকাভিত্তিক সোর্স নিয়োগের পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে করে নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে কেউ অনুপ্রবেশের সুযোগ না পায়।

একই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, ছবি কিংবা গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা থামাত সাইবার স্পেসে বাড়ানো হয়েছে সাইবার পেট্রোলিং। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামলাতে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকেও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেছে র‍্যাব।

/আশিক


লোডশেডিং মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই: জ্বালানি মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৩ ১৯:১৯:১৬
লোডশেডিং মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই: জ্বালানি মন্ত্রী
গ্রাফিক্স ইত্তেফাক

দেশে চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) মেরামত না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনা করা এবং ধৈর্য ধরা ছাড়া বর্তমানে বিকল্প কোনো উপায় নেই।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, তীব্র এই সংকটের মুহূর্তে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন করে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব নয়। আবার এফএসআরইউ সচল না থাকায় বিদ্যমান গ্যাসও খালাস করে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া যাচ্ছে না, যার ফলে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ কিছুটা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

সংকটের মূল কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী জানান, ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে হঠাৎ আগুন লাগার ফলেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরের প্রকৌশলীরা টার্মিনালটি মেরামতের কাজ করছেন। এখন তারা কাজ শেষ না করা পর্যন্ত দিন গোনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বজায় রেখে সার্বিক লোডশেডিং পরিস্থিতি যথাসম্ভব সহনীয় রাখা।

তিনি আরও সতর্ক করে জানান, কারিগরি মেরামতের পর দুটি নতুন বয়লার একসাথে চালু করার প্রয়োজনে পুরো সিস্টেমটি টানা ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। এই কারিগরি সমন্বয়ের কারণে ওই নির্দিষ্ট সময়ে দেশজুড়ে গ্যাসের তীব্র সংকট তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে নতুন একটি এফএসআরইউ-এর কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০২৯ সালের মধ্যে পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে আরও তিনটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

শিল্প খাতে গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এর অংশ হিসেবে ভোলা থেকে বিশেষ কনটেইনার ট্রাকে করে কারখানায় গ্যাস সরবরাহের জন্য একটি কোম্পানিকে ৩০টি ট্রাক চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একইসাথে সরাসরি কনটেইনারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সুবিধা গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

/আশিক


২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৩ ১৮:২৫:২২
২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আমেরিকান ব্যবসায়ীদের সার্বিক সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপদ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আয়োজিত বিশেষ মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সফররত প্রতিনিধিদলটির যৌথ নেতৃত্বে ছিলেন এক্সিলারেট এনার্জির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তাদের দূরদর্শী সরকার চায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে মূলধন ও আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে বিনিয়োগে এগিয়ে আসুক। ব্যবসা সহজ করতে বিদ্যমান নিয়মকানুন শিথিল করা, লঘুকরণ, ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন এবং উদার অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

বেসরকারি খাতনির্ভর ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত একটি অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, ডিজিটাল সেবা, কৃষি ও স্বাস্থ্যসহ নানা সম্ভাবনাময় খাতে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বড় সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও জানান, কর-ভ্যাট ব্যবস্থার উন্নয়ন, মুনাফা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রশাসনিক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে কাজ করা হচ্ছে।

বক্তব্যে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যমাত্রার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করায় বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন ও সঠিক নীতির গুরুত্ব তিনি ভালোভাবেই উপলব্ধি করেন।

আমেরিকান ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী পুরো সরকারকে তাদের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। মার্কিন বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্য ছাড়াও অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ সরকারের একাধিক শীর্ষপর্যায়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সুযোগ ভারতের কাজে লাগানো উচিত: শামা ওবায়েদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৩ ১৮:১৮:৪৫
দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সুযোগ ভারতের কাজে লাগানো উচিত: শামা ওবায়েদ
ছবি : সংগৃহীত

দুই দেশের সরকারপ্রধানদের মধ্যে প্রত্যক্ষ বৈঠক ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে বিদ্যমান বহু সমস্যার সমাধানের পথ উন্মোচিত হয় এবং ভারতের উচিত এই সুযোগকে কাজে লাগানো বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের চলমান পারস্পরিক টানাপোড়েন কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে কি না—এমন এক প্রশ্নের উত্তরে শামা ওবায়েদ বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব যখন আলোচনায় বসেন, তখন বহু জটিল বিষয় সমাধানের একটা বড় সুযোগ তৈরি হয়। এই সুযোগ সবসময়ই বিদ্যমান এবং ভারতের পক্ষ থেকেও এই সুযোগটির সঠিক ব্যবহার করা উচিত।

জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ভারতের মাটিতে অবস্থান করে বক্তব্য প্রদান করলে তা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে না এবং করবেও না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের স্মৃতি মানুষের হৃদয়ে এখনো তাজা এবং সেই আত্মত্যাগের দাগ এখনো শুকায়নি। ফলে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তবে এর পাশাপাশি তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসলে অনেক সমস্যার সুরাহা সম্ভব এবং ভারত বিষয়টি স্মরণে রাখবে বলেই বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান ও ভারত সফরের দিনক্ষণ নিয়ে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সফরগুলোর তারিখ এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি।

তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সুবিধাজনক সময়ে সফরের সূচি ঠিক করা হবে। এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী দেশের অভ্যন্তরীন নানা কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং ভারতসহ অন্যান্য দেশে তার সম্ভাব্য সফরের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

/আশিক


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র দাখিল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৩ ১৮:০৬:২৪
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র দাখিল
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সর্বমোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলার সময় তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

ইসি সচিব জানান, জমা হওয়া তিনটি মনোনয়নপত্রের মধ্যে একটি উপস্থাপন করা হয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে। অন্যদিকে, কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রমের পক্ষে জমা দেওয়া হয়েছে বাকি দুটি মনোনয়নপত্র।

এর আগে গত ২৪ জুলাই দেশের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক ও আইনি নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের সময়সীমার মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের ওপর।

সেই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি বা তফসিল প্রকাশ করে ইসি। ঘোষিত তফসিল অনুসরণ করে আগামী ২০ আগস্ট এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

/আশিক


বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে নতুন পদক্ষেপ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১২ ১৯:৪৫:৫৯
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে নতুন পদক্ষেপ
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশবের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করা, পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বহুমাত্রিক। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে মূল ভূমিকা রাখছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উপদেষ্টা আরও জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক রূপান্তর ও নতুন সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময় মার্কিন বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি বিনিময়ে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগ পরিবেশের প্রশংসা করেন। দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে ব্যবসায়িক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাউন্সিলের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে শিল্প, অবকাঠামো, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে মতামত বিনিময় করা হয়। উভয় পক্ষই দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব আরও গভীর করার ওপর জোর দেয়।

/আশিক


জ্বালানি সংকট নিরসনে মধ্যমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনার কথা জানালেন মাহ্দী আমি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১২ ১৮:৩০:৫৫
জ্বালানি সংকট নিরসনে মধ্যমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনার কথা জানালেন মাহ্দী আমি
ছবি : সংগৃহীত

বিগত ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে দেশের জ্বালানি খাত বর্তমানে চরম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। দীর্ঘদিনের এই জটিল সমস্যা মাত্র পাঁচ বা ছয় মাসে শতভাগ নিরসন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যমেয়াদে এই সংকটের একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধান নিশ্চিত করা হবে।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন: নীতি, অংশীদারিত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

মাহ্দী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনায় বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশীয় প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দেশের সার্বিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর ঘোষণা দেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে স্থানীয় নিয়োগকর্তা ও চাকরিপ্রার্থীদের অনলাইন ও অফলাইন উভয় প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হবে। কারিগরি প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা বাড়াতে বেসরকারি খাতকে এর সঙ্গে একীভূত করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিভাগীয় শহরে শুরু হলেও পরবর্তীতে তা প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারিত হবে।

সমাজের কোনো নাগরিক যেন জাতীয় উন্নয়ন প্রবাহ থেকে পিছিয়ে না পড়ে, সরকার সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুবিধা বঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় পূর্ণাঙ্গভাবে একীভূত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। যেহেতু জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের ভিত্তিতে এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তাই সর্বস্তরের নাগরিকদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও আটাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে কর ও ভ্যাট কমানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে কোনো অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও কঠোর তদারকির মাধ্যমে দেশীয় বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়নে শিগগিরই ১ লাখ নতুন পদ সৃষ্টি করে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজার পদেই নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে মাহ্দী আমিন জোর দিয়ে বলেন, পাহাড় বা সমতল, ধর্ম-বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রের চোখে সমান। বৈচিত্র্যকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার, স্বাধীনতা ও উন্নয়নের অংশীদারিত্ব সুনিশ্চিত করতেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্র : বাসস


চার প্রজ্ঞাপনে বদলে গেল পুলিশের ২৩ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দায়িত্ব

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১২ ১৮:২৫:২০
চার প্রজ্ঞাপনে বদলে গেল পুলিশের ২৩ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দায়িত্ব
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত উপমহাপুলিশ পরিদর্শকসহ (ডিআইজি) বিভিন্ন পদমর্যাদার ২৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করে নতুন দায়িত্বে পদায়ন করেছে সরকার। বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক চারটি প্রজ্ঞাপনে এই প্রশাসনিক রদবদলের নির্দেশ জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনগুলোর একটির মাধ্যমে ঢাকার হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ফরিদা ইয়াসমিনকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মীর মোদ্‌দাছ্‌ছের হোসেনকে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমির (বিপিএ) অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়।

এ ছাড়া হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খানকে ঢাকা এসবির পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি), হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিমকে এপিবিএনের পুলিশ সুপার, পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার, এপিবিএনের পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতি খীসাকে হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার এবং র‌্যাবের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ছালেহ উদ্দিনকে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি পদে বদলি করা হয়েছে।

পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়। পাশাপাশি গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিনকে হাইওয়ে পুলিশে, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. আমিরুল ইসলামকে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার পদে, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীকে হাইওয়ে পুলিশে, খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে এপিবিএনে এবং ঢাকা পুলিশ স্টাফ কলেজের পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুককে খুলনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বাকি দুটি প্রজ্ঞাপনে ডিআইজি, উপ-পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার ও বিশেষ পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আরও ১০ কর্মকর্তাকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে রদবদল ও নতুন পদে পদায়ন করা হয়।

/আশিক


সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশা জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১২ ১৮:১২:১৫
সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশা জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

সন্ধ্যা থেকে দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হতে পারে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল সন্ধ্যা থেকেই বিশেষ একটি কৌশলগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যার সুফল আজ সন্ধ্যা নাগাদ পাওয়া শুরু হবে বলে তারা আশা করছেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

মালয়েশিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, সেখান থেকে অন্তত এক কার্গো এলএনজি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আনার প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ, কারণ বাজারে এই ট্যাংকের প্রাপ্ততা বেশ সীমিত। তা সত্ত্বেও সরকার হাতে থাকা সমস্ত বিকল্প ব্যবস্থাগুলো কাজে লাগাতে সচেষ্ট রয়েছে।

জনভোগান্তির কথা স্বীকার করে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য সরকারের তরফ থেকে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষও মাঠপর্যায়ের উদ্যোগ ও সদিচ্ছা প্রত্যক্ষ করছেন। তবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দেশের গ্যাস ও জ্বালানি উৎপাদন রাতারাতি বাড়িয়ে তোলা সম্ভব নয় বিধায় বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও এলএনজি সরবরাহে সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকট সৃষ্টির পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, বিগত সরকারগুলোর ভুল ও সাময়িক নীতি গ্রহণের মাশুলই আজ জাতিকে দিতে হচ্ছে। তৎকালীন সময়ে কোনো টেকসই বা মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না খুঁজে কেবল তাৎক্ষণিক পথ বেছে নেওয়ার ফলেই বর্তমান কাঠামোগত সংকটের তৈরি হয়েছে, যা এড়ানো কঠিন ছিল।

/আশিক

পাঠকের মতামত: