হিউস্টনে আজ ব্রাজিলের স্বপ্নভঙ্গ করতে পারে জাপানের যে ৫টি মারাত্মক কৌশল

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ২০:২৮:৩৩
হিউস্টনে আজ ব্রাজিলের স্বপ্নভঙ্গ করতে পারে জাপানের যে ৫টি মারাত্মক কৌশল
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর অতিগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ রাতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এশিয়ার পরাশক্তি জাপান। আপাতদৃষ্টিতে ফিফা র‍্যাঙ্কিং, ফুটবল ইতিহাস এবং স্কোয়াডের সামগ্রিক শক্তিতে লাতিন আমেরিকার সেলেসাওরা বেশ এগিয়ে থাকলেও, জাপানের সাম্প্রতিক খেলার ধরন ও সুনিপুণ কৌশল ম্যাচটিকে ব্রাজিলের জন্য চরম কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে কৌশলগত দিক থেকে জাপানের কাছে ব্রাজিলের পরাস্ত হওয়ার পাঁচটি প্রধান কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

প্রথমত, জাপানের হাই-প্রেসিং ফুটবল ও মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করার ক্ষমতা ব্রাজিলের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে। মাঠের প্রতিটি প্রান্তে প্রতিপক্ষকে ক্রমাগত চাপের মুখে রাখা জাপানিদের অন্যতম প্রধান শক্তি। উইং-ব্যাকদের দারুণ কার্যকারিতা ও মাঝমাঠের আগ্রাসী প্রেসিংয়ের কারণে ব্রাজিলের চেনা ছন্দের স্বাভাবিক বিল্ড-আপ খেলা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। বলের দখল বা পজেশন কম রেখেও যে ম্যাচ নিজেদের পকেটে পোরা যায়, তা আধুনিক ফুটবলে বারবার প্রমাণ করেছে ব্লু সামুরাইরা।

দ্বিতীয়ত, কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর অধীনে জাপানের মূল শক্তি হলো তাদের অবিশ্বাস্য স্ট্যামিনা এবং বিধ্বংসী কাউন্টার-অ্যাটাকিং গতি। ডিফেন্সিভ ব্লকে পজিশন ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার সুযোগ দিয়ে বল কেড়ে নেওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যে তারা পাল্টা আক্রমণে ওঠে। ব্রাজিলের আক্রমণাত্মক ফুল-ব্যাকরা যখন ওপরে উঠে আসেন, তখন তাদের পেছনে যে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, জাপান বল উইন করার পর মাত্র ৩০ শতাংশ পজেশন নিয়ে সেই খালি জায়গা ব্যবহার করে দ্রুত আক্রমণে উঠতে পারে। রিতসু দোয়ান এবং কেইতো নাকামুরার মতো গতিময় উইঙ্গাররা এই কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে যেকোনো মুহূর্তে গোল আদায় করে নিতে পারেন, যা তারা পূর্বে ইংল্যান্ড ও খোদ ব্রাজিলের বিরুদ্ধে করে দেখিয়েছে।

তৃতীয়ত, ব্রাজিলের প্রধান শক্তি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং লুকাস পাকেতার মতো তারকাদের ড্রিবলিং ও ক্রিয়েটিভিটি রুখতে জাপান রক্ষণভাগে একটি জমাট ‘লো-ব্লক’ তৈরি করে খেলে। মিডফিল্ডার কাইশু সানো এবং আও তানাকা বক্সের সামনের হাফ-স্পেস ও পাসিং লেনগুলো এমন নিখুঁতভাবে বন্ধ করে রাখেন যে, ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডদের জন্য বক্সে ঢোকা বা শট নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

চতুর্থত, জাপানের কোচ সাধারণত ৩-৪-২-১ ফরমেশনের ‘ট্যাকটিক্যাল ট্র্যাপ’ বা কৌশলগত ফাঁদ ব্যবহার করেন, যা ব্রাজিলের ৪-২-৩-১ বা আক্রমণাত্মক ডায়মন্ড ফরমেশনের বিরুদ্ধে ডিফেন্সে বাড়তি সুবিধা দেয়। ব্রাজিলের স্ট্রাইকারদের বিপরীতে জাপানের তিনজন সেন্টার-ব্যাক থাকায় রক্ষণভাগ সুরক্ষিত থাকে। এমতাবস্থায় ব্রাজিল হাই-প্রেস করতে গেলে তাদের নিজেদের মিডফিল্ড ফাঁকা হয়ে যায়, যা জাপান সহজেই কাজে লাগাতে পারে।

পঞ্চমত, ব্রাজিলের আক্রমণভাগ অনেকটাই ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর নির্ভরশীল হলেও জাপান কোনো একক তারকা নির্ভর দল নয়। ইনজুরির কারণে তাকেফুসা কুবো বা কাওরু মিতোমার মতো বড় তারকারা দলে না থাকলেও তাদের দলগত বোঝাপড়া এবং ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলার কারণে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। প্রত্যেকে ডিফেন্স ও অ্যাটাকে সমান পরিশ্রম করায় প্রতিপক্ষের জন্য নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়কে মার্ক করে জাপানের আক্রমণ থামানো অসম্ভব। এছাড়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা ও বুন্দেসলিগার মতো ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলার অভিজ্ঞতা তাকুমি মিনামিনো ও রিতসু দোয়ানদের মানসিক ও ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে আরও শক্তিশালী করেছে। ফলে সব মিলিয়ে ইতিহাস ও শক্তিতে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও জাপানের এই সুশৃঙ্খল কৌশল আজকের ম্যাচে সেলেসাওদের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

/আশিক


জাপানের বিরুদ্ধে নামার আগে দাদির ভিডিও দেখে ক্যামেরার সামনেই কাঁদলেন ভিনিসিয়ুস

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ২০:২২:০৩
জাপানের বিরুদ্ধে নামার আগে দাদির ভিডিও দেখে ক্যামেরার সামনেই কাঁদলেন ভিনিসিয়ুস
ছবি : সংগৃহীত

মাঠে তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া এক নির্ভীক যোদ্ধা, আর মাঠের বাইরে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক আপসহীন কণ্ঠস্বর। তবে রিয়াল মাদ্রিদের সেই তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভেতরেও যে এক আবেগপ্রবণ ও সংবেদনশীল মানুষ লুকিয়ে আছে, তারই প্রমাণ মিলল এবার। বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ নকআউট পর্বে জাপানের মুখোমুখি হওয়ার ঠিক আগের দিন একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ক্যামেরার সামনেই আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেললেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।

ব্রাজিলের অত্যন্ত জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান ‘দোমিঙ্গাও কম হাকে’-তে সঞ্চালক হুলিয়ানো হাকের মুখোমুখি হয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। আড্ডার একপর্যায়ে আচমকাই স্টুডিওর পর্দায় ভেসে ওঠে ভিনির প্রিয় দাদি নিলজার একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা। দাদির সেই ভালোবাসা ও আবেগঘন কথা শোনার পর আর নিজেকে সামলাতে পারেননি তিনি। রিও ডি জেনিরোর সাও গনসালোয় কেটে যাওয়া নিজের শৈশব আর দাদির সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর কথা মনে করে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। বিদায়বেলায় আবেগ জড়ানো কণ্ঠে ভিনিসিয়ুস বলেন, ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি তার দাদির সঙ্গেই বড় হয়েছেন এবং তার জীবনে দাদির অবদান কতটা গভীর, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ঠিক আগমুহূর্তে ভিনির এই আবেগপ্রবণ রূপ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমগুলোরও বেশ নজর কেড়েছে। স্পেনের খ্যাতনামা ক্রীড়া দৈনিক ‘এএস’ তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে লিখেছে, সাক্ষাৎকারে নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে পুরোপুরি ভেঙে পড়েন ভিনিসিয়ুস। স্প্যানিশ পত্রিকাটি আরও মনে করিয়ে দেয়, এই মুহূর্তে সেলেসাওদের হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের মিশনের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি ও আশা-ভরসার প্রতীক হলেন ভিনি। সেই সঙ্গে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তার চলমান সাহসী লড়াই এবং মাঠ ও মাঠের বাইরে তিনি মানসিকভাবে কতটা পরিণত, সেই প্রশংসাও ঝরেছে তাদের প্রতিবেদনে।

অন্যদিকে স্পেনের আরেক জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী দৈনিক ‘মার্কা’ এই ঘটনাকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের প্রস্তুতির অন্যতম ‘সবচেয়ে শক্তিশালী ও মানবিক মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, পরিবারের কথা বলতে গিয়ে ভিনিসিয়ুস সাময়িকভাবে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেও, বিশ্বকাপ জয় নিয়ে নিজের ভেতরের প্রবল আত্মবিশ্বাসের কথা জানাতে মোটেও ভুলেননি। বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা নিয়ে আফসোস করে ভিনি বলেন, ব্রাজিলের জার্সিতে ষষ্ঠ তারকাটি বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফিটি আসতে বড্ড বেশি সময় নিয়ে নিচ্ছে, যা এবার তারা ঘোচাতে চান।

লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’ ভিনির এই কান্নার ভিডিওটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। তারা বিষয়টিকে বিশ্বকাপের মতো একটি মেগা টুর্নামেন্টের চরম মানসিক চাপের মাঝে ‘পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য ও গভীর দৃষ্টান্ত’ হিসেবে পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছে। উল্লেখ্য, টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামে আজ শেষ ষোলোর টিকিটের লড়াইয়ে এশিয়ার পরাশক্তি জাপানের মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, যেখানে সবার চোখ থাকবে ছন্দে থাকা এই ভিনিসিয়ুসের ওপরই।

/আশিক


২ গোলের লিড হারিয়েও হারের ক্ষত বুকে নিয়ে জাপানের মুখোমুখি হচ্ছে সেলেসাওরা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ১৮:৩৫:১৪
২ গোলের লিড হারিয়েও হারের ক্ষত বুকে নিয়ে জাপানের মুখোমুখি হচ্ছে সেলেসাওরা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের দুই ভিন্ন ঘরানার ও শক্তির দল ব্রাজিল ও জাপান ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আবারও একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। অতীত ইতিহাস এবং মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিল বেশ এগিয়ে থাকলেও, এশীয় পরাশক্তি জাপানের বিপক্ষে তাদের সর্বশেষ ম্যাচের স্মৃতিটি সেলেসাওদের জন্য মোটেও সুখকর নয়। সেই ম্যাচে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ব্রাজিলকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছিল ব্লু সামুরাইরা। দুই গোলের স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ম্যাচটি হেরে যাওয়া এখনও ব্রাজিলের ফুটবলারদের জন্য একটি বড় হতাশার স্মৃতি হয়ে আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৯ জুন) রাত ১১টায় শুরু হবে। বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে গ্রুপ ‘সি’ থেকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে পা রাখা ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ দল জাপান। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, এই ম্যাচের জয়ী দলটি কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে এবং পরবর্তী ধাপে আইভরি কোস্ট অথবা নরওয়ের মুখোমুখি হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পাবে।

দুই দলের অতীত পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৮৯ সালে রিও ডি জেনেরিওতে প্রথমবারের মতো একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল ও জাপান। সেই প্রথম দেখায় ১-০ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে মোট ১৪ বার দল দুটি পরস্পরের মোকাবিলা করেছে। এর মধ্যে ব্রাজিল একক আধিপত্য দেখিয়ে জিতেছে ১১টি ম্যাচে, দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং জাপানের ঝুলিতে গেছে মাত্র একটি জয়।

তবে জাপানের সেই একমাত্র ঐতিহাসিক জয়টি এসেছে তাদের সর্বশেষ মুখোমুখি দেখাতেই। গত বছরের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল এশিয়ান দলটি। তবে দ্বিতীয় রুদ্ধশ্বাস প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয় লপ্তে তারা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে এক স্মরণীয় জয় তুলে নেয়। জাপানের পক্ষে সেই ম্যাচে গোল করেছিলেন তাকুমি মিনামিনো, কেইতো নাকামুরা ও আয়াসে উয়েদা। অন্যদিকে ব্রাজিলের হয়ে জালের দেখা পেয়েছিলেন পাওলো হেনরিক এবং গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি।

এই অবিশ্বাস্য জয়ের মাধ্যমে ব্রাজিলের বিপক্ষে দীর্ঘদিনের টানা হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয় জাপান। এর আগে ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপের একটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ব্রাজিল ৩-০ ব্যবধানের সহজ জয় তুলে নিয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেই টুর্নামেন্টের শিরোপাও ঘরে তুলেছিল।

বৈশ্বিক ফুটবল বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এই দুই দলের দেখা হয়েছে মাত্র একবার। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে সেই একমাত্র লড়াইয়ে জাপানের হয়ে কেইজি তামাদা প্রথম গোল করে চমক দিলেও, ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি রোনালদোর জোড়া গোল এবং জুনিনহো ও গিলবার্তোর গোলে শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল সেলেসাওরা।

ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে ব্রাজিলের বিপক্ষে জাপানের সামগ্রিক রেকর্ড কিছুটা দুর্বল মনে হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বমঞ্চে সামুরাই ব্লুরা একের পর এক বড় বড় পরাশক্তিকে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল জার্মানি, স্পেন এবং ইংল্যান্ডের মতো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারানোর অকাট্য নজির রয়েছে জাপানিদের ঝুলিতে।

অন্যদিকে, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পরিসংখ্যানে জাপানের বিপক্ষে বরাবরই উজ্জ্বল ব্রাজিলের বর্তমান ফুটবল তারকারা। বিশেষ করে দলের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র এই জাপানের বিপক্ষেই ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ৯টি গোল করেছেন। এমনকি জাপানিদের বিরুদ্ধে এক ম্যাচেই একাই চার গোল করার অনন্য কীর্তিও রয়েছে এই পিএসজি তারকার।

পরিসংখ্যান ও অতীত ঐতিহ্যের বিচারে ব্রাজিল কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও, সর্বশেষ ম্যাচের হারের স্মৃতি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বেশ সতর্ক রাখছে। তাই হিউস্টনের এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে অতীতের কোনো হিসাব নয়, বরং মাঠের ৯০ মিনিটের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে বিশ্বকাপের পরবর্তী পর্বে যাওয়ার যোগ্যতা কার রয়েছে।

/আশিক


একাদশ গোপন রেখে জাপানের বিরুদ্ধে রহস্য জিইয়ে রাখলেন ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ১৮:১৭:৫৭
একাদশ গোপন রেখে জাপানের বিরুদ্ধে রহস্য জিইয়ে রাখলেন ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের প্রথম নকআউট পর্বে এশিয়ার পরাশক্তি জাপানের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের শুরুর একাদশ সম্পূর্ণ গোপন রাখার কৌশল বেছে নিয়েছেন ব্রাজিল দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিগ ম্যাচের আগের অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলনেও প্রথম একাদশ নিশ্চিত করেননি অভিজ্ঞ এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। তবে ‘ডন’ কার্লোর কথাবার্তায় সংবাদমাধ্যম আভাস পেয়েছে যে, মায়ামিতে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া বিজয়ী একাদশটিই হয়তো এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও ধরে রাখতে পারেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে ম্যাচটি বেশ কঠিন ও রোমাঞ্চকর হবে বলেই পূর্বাভাস দিয়েছেন এই ইতালিয়ান ট্যাকটিশিয়ান। জাপানকে সমীহ করে আনচেলত্তি বলেন, জাপান অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি দল এবং তারা বর্তমানে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ১৭ নম্বরে অবস্থান করছে।

এমনকি গত মার্চেই তারা শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে পরাজিত করেছে। লাতিন পরাশক্তিদের কাছে এই ম্যাচটি একদম ফাইনাল ম্যাচের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। জাপান যথেষ্ট শক্তিশালী এবং ব্রাজিল খুব ভালো করেই জানে যে এই ম্যাচে তাদের সেরা ফুটবলটাই মাঠে ঢেলে দিতে হবে। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, গত নভেম্বরের ম্যাচে জাপান ব্রাজিলকে হারিয়েছিল, বিশেষ করে খেলার দ্বিতীয়ার্ধে তারা দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে জয় তুলে নিয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই সেলেসাওরা সেই হারের বিষয়টি মাথায় রাখছে এবং প্রতিপক্ষকে সম্মান জানিয়ে সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করেই মাঠে নামবে।

শুরুর একাদশ নিয়ে কোচের এই লুকোছাপার কারণে নানা গুঞ্জন থাকলেও ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, স্কটল্যান্ড ম্যাচের ‘উইনিং কম্বিনেশন’ ভাঙার ঝুঁকি নেবেন না আনচেলত্তি। কারণ সেই ম্যাচেই চলতি বিশ্বকাপে সেলেসাওদের সেরা পারফরম্যান্স দেখা গিয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক কৌতূহলবশত প্রশ্ন করেন যে, একাদশ আগে থেকে না জানলে ফুটবলারদের রাতে ঘুমাতে কোনো সমস্যা হবে কিনা। এমন প্রশ্নে বেশ মজার ছলে উদ্বেগটি উড়িয়ে দেন চতুর এই কোচ।

রসিকতার সুরে আনচেলত্তি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি নিজেই তো ঘুমাতে যাচ্ছিলেন। একাদশ না জানলে খেলোয়াড়দের ঘুমাতে কষ্ট হয়—এমন ধারণা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যে খেলবে সে ঠিকই নিজের দায়িত্ব জানে, আর যে খেলবে না, সে হয়তো জানে না। এটি সম্পূর্ণ দলের অভ্যন্তরীণ ও ব্যক্তিগত ব্যাপার। খেলোয়াড়রা খুব ভালো ঘুমায়, এমনকি কোচের চেয়েও অনেক নিশ্চিন্তে ও ভালো ঘুমায় তারা।

শুরুর একাদশ নিয়ে সাংবাদিকদের পরবর্তী প্রশ্নের জবাবে আনচেলত্তি আরেক দফা কৌতুক করেন। ফর্মেশন নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট আভাস না দিয়ে ম্যাচ শুরুর ঠিক আগমুহূর্ত পর্যন্ত পুরো রহস্য জিইয়ে রাখার পক্ষে মত দেন এই বর্ষীয়ান কোচ। তিনি হেসে বলেন, এখনই লাইনআপ ফাঁস করে তিনি সাংবাদিকদের স্বস্তিতে রাখতে চান না। সোমবারের ম্যাচের পারফেক্ট একাদশ কী হবে, তা নিয়ে তিনি আরও চিন্তাভাবনা করবেন। এখনই যদি সব পরিকল্পনা বলে দেওয়া হয়, তবে সাংবাদিকরা তো শান্তিতে থাকবেন, তাই কোচের তাদের ব্যস্ত রাখার কথাও ভাবতে হবে।

শুরুর একাদশ নিয়ে কোচের মনে যতই রহস্য থাকুক না কেন, সব ইঙ্গিত বলছে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফর্ম করা মূল স্কোয়াডটিকেই অক্ষুণ্ন রাখছে ব্রাজিল। দারুণ ছন্দে থাকা জাপানের বিপক্ষে শেষ ১৬-র বাধা পার হতেই মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, যাদের ইতিমধ্যে বেশ শক্তিশালী ও চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক প্রতিপক্ষ হিসেবে সমীহ করে রেখেছেন ডন কার্লো।

/আশিক


ষষ্ঠ বিশ্বকাপের স্বপ্নে আজ বড় পরীক্ষায় ব্রাজিল

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ১২:৩৫:৪৩
ষষ্ঠ বিশ্বকাপের স্বপ্নে আজ বড় পরীক্ষায় ব্রাজিল
ছবি : সংগৃহীত

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের জন্য শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়। গ্রুপপর্বের হিসাব-নিকাশ শেষ, এখন প্রতিটি ম্যাচই বাঁচা-মরার লড়াই। একবার হেরে গেলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায়—এমন সমীকরণ সামনে রেখে সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে জাপানের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে মাঠে নামবে কার্লো আনচেলত্তির দল। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন ধরে রাখতে হলে এই পরীক্ষায় উতরে যাওয়ার বিকল্প নেই সেলেসাওদের।

ম্যাচের আগে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নকআউট পর্বে কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তার মতে, জাপান একটি অত্যন্ত সংগঠিত, পরিশ্রমী ও দ্রুতগতির দল, যারা যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দিতে সক্ষম। তাই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নিয়ে না ভেবে আপাতত পুরো মনোযোগ জাপানকে হারানোর দিকেই রাখছে ব্রাজিল শিবির।

দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষায় রয়েছে ব্রাজিল। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে সর্বশেষ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেলেসাওরা। এরপর চারটি বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে। কেবল ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে সেমিফাইনালে উঠলেও জার্মানির কাছে ঐতিহাসিক ৭-১ গোলের পরাজয় সেই স্বপ্ন ভেঙে দেয়। এবার ৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপ কাঠামোয় শিরোপা জিততে হলে ব্রাজিলকে আরও বেশি ম্যাচ জয়ের কঠিন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে।

আজকের ম্যাচে জয় পেলে ব্রাজিল নিশ্চিত করবে শেষ ষোলোর টিকিট। সেখানে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্ট। এই দুই দলের মধ্যকার শেষ ৩২-এর ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার। সেই ম্যাচের বিজয়ী দল মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-জাপান ম্যাচের বিজয়ীর।

নকআউটের পথ আরও কঠিন হতে পারে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই। শেষ আটে উঠতে পারলে ব্রাজিলের সামনে আসতে পারে ইংল্যান্ড অথবা গণতান্ত্রিক কঙ্গো। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, শক্তির বিচারে ইংল্যান্ডেরই এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা বেশি। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল-ইংল্যান্ড মহারণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে সেমিফাইনালে অপেক্ষা করতে পারে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটি—ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা গ্রুপপর্বে শতভাগ সাফল্য নিয়ে নকআউটে উঠেছে এবং শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নিজেদের ম্যাচ জিততে পারলে সেমিফাইনালে হতে পারে বহু প্রতীক্ষিত সুপার ক্লাসিকো। সে ক্ষেত্রে ফাইনালে ওঠার আগেই বিদায় নিতে হবে দুই লাতিন পরাশক্তির একটি দলকে।

বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, শেষ ৩২-এর ম্যাচগুলো চলবে ৪ জুলাই পর্যন্ত। এরপর ৫ থেকে ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে শেষ ষোলোর লড়াই। কোয়ার্টার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৯ থেকে ১২ জুলাই, সেমিফাইনাল ১৫ ও ১৬ জুলাই এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হবে ১৮ জুলাই। বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই দিবাগত রাতে।

গ্রুপপর্বে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স ছিল আত্মবিশ্বাস জাগানিয়া। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও পরের দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে একই ব্যবধানে ৩-০ গোলে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করে নকআউট নিশ্চিত করে আনচেলত্তির দল। আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও মাতেউস কুনিয়ার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নেইমারের ফিটনেস উন্নত হওয়ায় ব্রাজিল শিবিরে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ভুলের কোনো সুযোগ নেই জাপানকে হারিয়েই পরবর্তী ধাপে চোখ রাখতে চায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

-রফিক


নেইমারকে নিয়ে সুখবর দিলেন আনচেলত্তি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ১০:০২:১২
নেইমারকে নিয়ে সুখবর দিলেন আনচেলত্তি
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জাপানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তির খবর এনে দিয়েছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দলের অন্যতম তারকা নেইমারের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। কোচের আশা, এবার আগের ম্যাচের তুলনায় অনেক বেশি সময় মাঠে থেকে দলকে সহায়তা করতে পারবেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচকে সামনে রেখে রোববার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন কার্লো আনচেলত্তি। সেখানে তিনি জানান, গত এক সপ্তাহে নেইমারের ফিটনেসে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। পায়ের মাংসপেশির চোট কাটিয়ে তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ এবং দীর্ঘ সময় খেলার মতো শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পেয়েছেন।

আনচেলত্তি বলেন, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে নেইমার মাত্র ১৫ মিনিট খেলতে পেরেছিলেন, যা দলের জন্য হতাশাজনক ছিল। তবে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। চিকিৎসক ও ফিটনেস বিভাগের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার পুনর্বাসন সফল হয়েছে এবং জাপানের বিপক্ষে তাকে আরও বড় ভূমিকা পালন করতে দেখা যেতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চোটের কারণে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকা নেইমার স্কটল্যান্ড ম্যাচের মাধ্যমে প্রায় আড়াই বছর পর আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফেরেন। যদিও ওই ম্যাচে সীমিত সময় খেলেছেন, তবুও তার উপস্থিতি দলের আক্রমণভাগে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। এবার নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে শুরুর একাদশে কিংবা দীর্ঘ সময় মাঠে দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পারফরম্যান্সও ছিল আত্মবিশ্বাস জাগানিয়া। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১–১ গোলে ড্র করার পর টানা দুটি ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে ৩–০ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ সি-এর শীর্ষ দল হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করে সেলেসাওরা।

দলের আক্রমণভাগে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও মাতেউস কুনিয়া। এখন পর্যন্ত ভিনিসিয়ুস চারটি এবং মাতেউস কুনিয়া তিনটি গোল করে ব্রাজিলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তবে নকআউট পর্বে অভিজ্ঞ নেইমারের উপস্থিতি ব্রাজিলের আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

-রাফসান


বাংলাদেশ টেস্টসহ আজকের সব খেলার পূর্ণ সূচি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ০৯:৪২:৩০
বাংলাদেশ টেস্টসহ আজকের সব খেলার পূর্ণ সূচি
ছবি : সংগৃহীত

আজকের দিনটি ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে ব্যস্ত ও উত্তেজনায় ভরপুর। ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠে নামছে তিনটি জনপ্রিয় দল ব্রাজিল, জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হারারে টেস্টের দ্বিতীয় দিনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে খেলবে বাংলাদেশ। একই দিনে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় টেস্টের শেষ দিনের লড়াইও সম্প্রচার হবে।

সব মিলিয়ে ফুটবল ও ক্রিকেট দুই অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ নিয়ে দর্শকদের জন্য থাকছে টানা ক্রীড়া উপভোগের সুযোগ।

ফুটবল বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে আজ রাতে জাপানের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। দুই দলের এই লড়াই শুরু হবে রাত ১১টায়। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, সময় টিভি ও টি স্পোর্টস।

এরপর রাত ২টা ৩০ মিনিটে মাঠে নামবে ইউরোপের শক্তিশালী দল জার্মানি। তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আমেরিকার প্যারাগুয়ে। ম্যাচটি একই তিনটি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি দেখা যাবে।

বিশ্বকাপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মঙ্গলবার সকাল ৭টায় মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস ও মরক্কো। নকআউট পর্বের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এই লড়াইও।

ক্রিকেট

হারারেতে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু হবে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। সফরকারীরা প্রথম ইনিংসে শক্ত অবস্থান গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস।

অন্যদিকে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় ও শেষ টেস্টের পঞ্চম দিনের খেলা শুরু হবে বিকেল ৪টায়। ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে সনি স্পোর্টস ২-এ।

আজকের টিভি সূচি

ফুটবল বিশ্বকাপ

ব্রাজিল বনাম জাপান

সময়: রাত ১১টা

সরাসরি: বিটিভি, সময় টিভি, টি স্পোর্টস

জার্মানি বনাম প্যারাগুয়ে

সময়: রাত ২টা ৩০ মিনিট

সরাসরি: বিটিভি, সময় টিভি, টি স্পোর্টস

নেদারল্যান্ডস বনাম মরক্কো

সময়: মঙ্গলবার সকাল ৭টা

সরাসরি: বিটিভি, সময় টিভি, টি স্পোর্টস

ক্রিকেট

বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে

হারারে টেস্ট, দ্বিতীয় দিন

সময়: দুপুর ১টা ৩০ মিনিট

সরাসরি: টি স্পোর্টস

ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড

তৃতীয় টেস্ট, পঞ্চম দিন

সময়: বিকেল ৪টা

সরাসরি: সনি স্পোর্টস ২

ফুটবল বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ লড়াই এবং আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ মিলিয়ে আজকের ক্রীড়া সূচি দর্শকদের জন্য দারুণ এক উপভোগ্য দিন উপহার দিতে যাচ্ছে।

-রাফসান


ফাইনালের পথে সহজ সমীকরণ: আর্জেন্টিনার সামনে কি টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার হাতছানি?

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ২১:৫৮:৫২
ফাইনালের পথে সহজ সমীকরণ: আর্জেন্টিনার সামনে কি টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার হাতছানি?
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মঞ্চে বর্তমান চ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় নিয়েই এবারের আসরে মাঠে নেমেছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন দলটি। গত আসরের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিশ্বকাপের এবারের আসরেও অন্যতম হট ফেভারিট হিসেবে খেলছে আলবিসেলেস্তেরা। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দুর্দান্ত পারফর্ম করে দলকে একাই নকআউট পর্বে টেনে তুলেছেন মহাতারকা লিওনেল মেসি।

চলতি আসরে আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্স—দুই দলই গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই দাপুটে জয় তুলে নিয়ে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করেছে। আর্জেন্টিনার জন্য লিওনেল মেসি যেমন ত্রাতা হয়ে উঠেছেন, ঠিক তেমনি ফ্রান্সকে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠাতে মাঠ কাঁপানো পারফর্ম করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে।

এবারের আসরের নকআউট পর্বের সূচি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার সামনে সমীকরণটি বেশ সহজ। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ফুটবল দুনিয়াকে চমকে দেওয়া ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে দলটি। গ্রুপ পর্বে তারা স্পেন ও উরুগুয়ের মতো বিশ্বসেরা দলগুলোকে আটকে দিয়ে জয়বঞ্চিত করেছে। তবে শক্তির বিচারে মেসিদের চেয়ে তারা অনেকটাই পিছিয়ে।

রাউন্ড অব ৩২-এর বাধা টপকাতে পারলে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে লড়তে হবে মিশর বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে। কায়রো ও ক্যাঙ্গারুদের দুই দলই এবার বেশ খোঁড়াতে খোঁড়াতে নকআউটে পা রেখেছে। ফলে মহাতারকা মেসির দলের জন্য প্রি-কোয়ার্টারের এই লড়াইও খুব একটা কঠিন বা চ্যালেঞ্জিং হবে না বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।

এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে সুইজারল্যান্ড, কলম্বিয়া, ঘানা অথবা আলজেরিয়ার মধ্যে যেকোনো একটি দল। এই দলগুলোর সাম্প্রতিক ফর্ম ও স্কোয়াডের গভীরতা আর্জেন্টিনার চেনা শক্তির তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। সেই হিসেবে শুরু থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত হিসাব কষলে ফাইনালে যাওয়ার রাস্তাটি আর্জেন্টিনার জন্য বেশ মসৃণ ও সহজ বলা চলে।

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের আসল ও কঠিন পরীক্ষা দিতে হতে পারে সেমিফাইনালের মঞ্চে গিয়ে। শেষ চারের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের তালিকায় রয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল, নরওয়ে, আইভরি কোস্ট কিংবা শক্তিশালী ইংল্যান্ডের মতো দল। এছাড়া পানামা এবং ইকুয়েডরও যেকোনো মুহূর্তে বড় চমক দেখিয়ে সেমির লড়াইয়ে চলে আসতে পারে। ফলে সেমিফাইনালের মহারণের আগে মেসিবাহিনীকে খুব একটা বড় বা কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না।

/আশিক


দীর্ঘ ১০ বছরের লিভ-ইন সম্পর্কের পর অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ২০:৩৫:২৪
দীর্ঘ ১০ বছরের লিভ-ইন সম্পর্কের পর অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
ছবি : সংগৃহীত

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপ আসর শেষ হওয়ার পরপরই দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন পর্তুগিজ ফুটবল মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। স্পেনের বেশ জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী সাময়িকী ‌‘হোলা’–এর সাম্প্রতিক একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।

খেলোয়াড়ি জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও ২০১৬ সাল থেকে একে অপরের হাত ধরে আছেন রোনালদো ও জর্জিনা। সুদীর্ঘ প্রায় এক দশকের এই পথচলায় বর্তমানে তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। এছাড়া রোনালদোর মোট পাঁচ সন্তানের সবাই জর্জিনার সঙ্গেই মাতৃস্নেহে একই ছাদের নিচে বসবাস করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা এই তারকা জুটি এবার অবশেষে তাদের সম্পর্ককে আইনি ও সামাজিক স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছেন বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই তাদের এই রাজকীয় বিয়ের জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। ইতোমধ্যে বিয়ের প্রাথমিক ও প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে এই গুঞ্জনের বিষয়ে এখনো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কিংবা জর্জিনা রদ্রিগেজের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা নিশ্চিতকরণ বার্তা দেওয়া হয়নি।

এর আগে গত বছরের আগস্ট মাসে জর্জিনাকে জমকালো এক আয়োজনে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন রোনালদো। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জর্জিনা নিজেই সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ার কথা ভক্তদের জানান এবং রোনালদোর উপহার দেওয়া বহুমূল্য হীরার আংটির ছবি প্রকাশ করে নিজেদের আনন্দের মুহূর্তটি ভাগ করে নিয়েছিলেন।

বিয়ের এই বিষয়টি নিয়ে অতীতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো অবশ্য রসিকতা করে বলেছিলেন যে, বিশ্বকাপের পর বিয়েটা করবেন এবং তিনি আশা করেন বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেই বিয়ের মূল অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন। চলতি বিশ্বকাপ চলাকালে ‘হোলা’ সাময়িকীর এই প্রতিবেদনটি নিয়ে সিআরসেভেন বা জর্জিনা কেউ মুখ না খুললেও, খবরটির কোনো প্রতিবাদ বা অস্বীকারও করেননি তারা। ফলে ফুটবলপ্রেমী ও এই জুটির ভক্তদের মনে এখন প্রবল বিশ্বাস জন্মেছে যে, দীর্ঘদিনের এই রোমান্টিক সম্পর্কের পর এবার সত্যিই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন ফুটবলের এই পোস্টার বয়।

/আশিক


টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত জাপান কি পারবে ব্রাজিলের জয়রথ থামাতে?

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ২০:০৬:৫৪
টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত জাপান কি পারবে ব্রাজিলের জয়রথ থামাতে?
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও এশিয়ার পরাশক্তি জাপান। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের জয়ী দল শেষ ষোলোর পরের ধাপে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাবে।

খেলার মাঠের লড়াই শুরুর আগে পরিসংখ্যান ও শক্তিমত্তার বিচারে ব্রাজিল বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। অপটা সুপার কম্পিউটারের ২৫ হাজার সিমুলেশনের গাণিতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় ব্রাজিলের ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে ৫৭.৭ শতাংশ। বিপরীতে জাপানের জয়ের সম্ভাবনা ১৮ শতাংশ এবং ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে অমিমাংসিত থেকে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৪.৩ শতাংশ।

টুর্নামেন্টের গ্রুপ 'সি' থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। আসরের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারালেও, পরের ম্যাচগুলোতে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সেলেসাওরা। হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে টানা ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা মাঠ কাঁপাতে প্রস্তুত। প্রথম ম্যাচে গোল হজম করার পর থেকে দলটি টানা সাতটি গোল করেছে এবং নিজেদের জাল অক্ষত রেখেছে। ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারই প্রথম এতো দীর্ঘ সময় গোল না খেয়ে টানা গোল করার অনন্য ধারাবাহিকতা বজায় রাখল দলটি।

দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর চোট কাটিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফিরেছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। এই ম্যাচে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের ইতিহাসে মাত্র চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিশেষ কীর্তি গড়লেন তিনি। তবে গ্রুপ পর্বে টানা সাফল্য পেলেও নকআউটের সাম্প্রতিক ইতিহাস ব্রাজিলের জন্য কিছুটা চিন্তার কারণ। নিজেদের শেষ ছয়টি নকআউট ম্যাচের চারটিতেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। অবশ্য একটি ইতিবাচক দিক হলো, ১৯৯০ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের প্রথম নকআউট ম্যাচে আর কখনও হারেনি সেলেসাওরা।

অন্যদিকে বৈশ্বিক ফুটবলের এই সর্বোচ্চ আসরে নিজেদের ইতিহাস নতুন করে লিখতে চায় জাপান। বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন পর্যন্ত নকআউট পর্বের কোনো ম্যাচ জিততে না পারা হাজিমে মোরিয়াসুর দল এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। গ্রুপ 'এফ'-এ নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে ড্র করার পর তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে শেষ ১৬ নিশ্চিত করে ব্লু সামুরাইরা।

দলের অন্যতম দুই চালিকাশক্তি অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো এবং উইঙ্গার কাওরু মিতোমা ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন, যা জাপানের জন্য বড় ধাক্কা। তবে এই প্রতিকূলতার মধ্যেও টানা ১০ ম্যাচে অপরাজিত থাকার আত্মবিশ্বাস রয়েছে জাপানি শিবিরে। বিশেষ করে, এই অপরাজিত যাত্রার মধ্যেই একটি প্রীতি ম্যাচে তারা ব্রাজিলকে হারিয়েছিল।

জাপানি স্ট্রাইকার আয়াসে উয়েদা চলতি আসরে ইতোমধ্যে তিন গোল করে দেশের হয়ে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল-অবদানের যৌথ রেকর্ডে নিজের নাম লিখিয়েছেন। এছাড়া এবারের বিশ্বকাপে জাপানের ১০ জন ভিন্ন খেলোয়াড় গোল কিংবা অ্যাসিস্টের খাতায় নাম তুলেছেন, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে নতুন জাতীয় রেকর্ড।

ব্রাজিলের আক্রমণভাগও রয়েছে ফর্মের তুঙ্গে। ফরোয়ার্ড মাথেউস কুনিয়া লক্ষ্য বরাবর নেওয়া চারটি শট থেকে তিনটি গোল আদায় করে নিয়েছেন। পাশাপাশি উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গ্রুপ পর্বে চার গোল করে রোনালদো (২০০২), নেইমার (২০১৪) ও জাইরজিনহোর (১৯৭০) মতো কিংবদন্তিদের পাশে নিজের নাম লিখিয়েছেন। রাফিনিয়ার চোটের কারণে সুযোগ পাওয়া ১৯ বছর বয়সী তরুণ রায়ান স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাসিস্ট করে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সর্বকনিষ্ঠ অ্যাসিস্টদাতার রেকর্ড গড়েন।

দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের অতীত ইতিহাস ব্রাজিলের পক্ষে কথা বলছে। এখন পর্যন্ত ১৪ বারের দেখায় ব্রাজিল জিতেছে ১১টি ম্যাচে, দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং জাপান জয় পেয়েছে মাত্র একটিতে। তবে জাপানের সেই একমাত্র জয়টি এসেছিল দল দুটির সর্বশেষ দেখায়। গত অক্টোবরে টোকিওতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ব্রাজিল ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে যায়, যেখানে জাপানের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন আয়াসে উয়েদা। এছাড়া বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র সাক্ষাত হয়েছিল ২০০৬ সালে, যেখানে ৪-১ ব্যবধানে বড় জয় পেয়েছিল লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: