আর থাকবে না দীর্ঘ লোডশেডিং, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টার ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ১৮:৪১:১৮
আর থাকবে না দীর্ঘ লোডশেডিং, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টার ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া দুটি প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র পুনরায় পুরোদমে চালু হওয়ায় সামগ্রিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেকটাই কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধির আওতায় দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে দেশবাসীকে এই স্বস্তির খবর জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রী তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, আকস্মিকভাবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে গতকাল দেশের কিছু কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে লোডশেডিং দিতে হয়েছিল, যা জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তবে দ্রুত মেরামতের পর আজ উৎপাদন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে জানিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, আজকে দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। এর বিপরীতে বর্তমানে সারা দেশে বিদ্যুতের মোট চাহিদা রয়েছে ১৪ হাজার ৮৩৯ মেগাওয়াট। উৎপাদন ও চাহিদার এই হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ মাত্র ৩৩৯ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে, যা গতকালের তুলনায় অনেক কম।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমানে যে সামান্য অবশিষ্ট ঘাটতি রয়েছে, সেটিও দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুরোপুরি কমিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উৎপাদন ও সরবরাহের সমন্বয়ের কারণে কিছু কিছু এলাকায় এখনও হয়তো অত্যন্ত সীমিত আকারে লোডশেডিং থাকতে পারে, তবে দেশ থেকে লোডশেডিং সম্পূর্ণভাবে দূর করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মন্ত্রী আরও যোগ করেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে গতকালের সার্বিক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশ কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে আজ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে এবং সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

/আশিক


সংসদে অর্থমন্ত্রীর আশ্বাসের বাণী: দেশ ও জনগণের ক্ষতি হয় এমন কোনো চুক্তি নয়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ১৮:৩১:১০
সংসদে অর্থমন্ত্রীর আশ্বাসের বাণী: দেশ ও জনগণের ক্ষতি হয় এমন কোনো চুক্তি নয়
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশ সরকার ‘শূন্য হাতে’ ফিরে আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া আইএমএফ কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময় নেওয়া সেই কর্মসূচির বেশ কিছু শর্ত দেশ ও সাধারণ জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী ছিল। সেগুলো আমাদের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে না হওয়ায় আমরা সম্পূর্ণ নিজস্ব সিদ্ধান্তে উক্ত প্রোগ্রাম থেকে বেরিয়ে এসেছি।

তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সংসদকে আশ্বস্ত করেন যে, ভবিষ্যতে যদি আইএমএফের সঙ্গে নতুন কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়, তবে তা অবশ্যই দেশ ও জনগণের স্বার্থকে শতভাগ অগ্রাধিকার দিয়ে এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই করা হবে।

/আশিক


তরুণরা নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, চাকরির জন্য বছর পার করতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ১৮:০৬:১৬
তরুণরা নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, চাকরির জন্য বছর পার করতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

তরুণদের দীর্ঘকাল ধরে কর্মসংস্থানের জন্য অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তারা যেন নিজেরাই স্বাবলম্বী হতে পারে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, তেমন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারের এই দূরদর্শী ভাবনার কথা প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান।

সংসদে দেওয়া নিজের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের নেতার অর্থনৈতিক সংক্রান্ত বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটকে আড়াল বা অস্বীকার করার কোনো মানসিকতা সরকারের নেই। তবে এই সংকটকে কোনোভাবেই কাজের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। বরং দেশের সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান দায়িত্বশীল সরকারের যাত্রালগ্ন থেকেই বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যেন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, সেজন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চলমান তেল সংকটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে বিশাল চাপ তৈরি হয়েছিল, তার নেতিবাচক প্রভাব দেশের সাধারণ মানুষও খুব কাছ থেকে অনুধাবন করতে পেরেছে।

এমন একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বহুমুখী অভ্যন্তরীণ সংকটকে সামনে রেখেই এবারের নতুন বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের আপামর জনগণ তাদের পবিত্র আমানত ও যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা রক্ষা করতে সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর মতে, বর্তমান সরকারের মূল দর্শনই হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে সংসদে উপস্থাপিত এবারের বাজেটটি কেবলই কোনো প্রথাগত বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং দেশের অর্থনীতিকে একটি সুদৃঢ় ও নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় কিছু সুবিধাভোগী মানুষের হাত থেকে মুক্ত করে এনে দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করা।

দেশের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন ও বিনিয়োগের চাকাকে আরও গতিশীল করতে উন্নয়ন ব্যয় ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি করে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকল্পের পেছনে কত টাকা খরচ হলো তা সরকারের কাছে বড় বিষয় নয়, বরং সেই প্রকল্প সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কী ধরনের ভূমিকা রাখবে এবং কতটা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, সেটিই সরকারের মূল বিবেচ্য বিষয়।

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারের তিন ধাপের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, প্রথম ধাপে বাজারমূল্য ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে সরকারের লক্ষ্য থাকবে রাজস্ব খাতের সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের প্রয়োজনীয় পুনর্গঠন এবং রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ করা। আর চূড়ান্ত ধাপে উৎপাদনশীল ও নতুন নতুন উদ্ভাবননির্ভর একটি শক্তিশালী প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্থনীতির ভিত সুদৃঢ় করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে স্পষ্ট করে বলেন, শুধু জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়লেই দেশে প্রকৃত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আসে না। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই নিশ্চিত হয়, যখন দেশের সাধারণ মানুষের ঘরে স্বস্তি ফেরে এবং শিক্ষিত তরুণ সমাজ তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পায়। ঋণনির্ভর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে নয়, বরং দেশীয় উৎপাদন ও বিনিয়োগের ওপর ভিত্তি করে এমন একটি কর্মসংস্থানবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে তরুণদের চাকরির আশায় বছরের পর বছর ঘুরে বেড়াতে হবে না। দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটানো, বন্ধ ও রুগ্ন শিল্প কারখানাগুলোকে পুনরায় সচল করা এবং নতুন শিল্পাঞ্চল ভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি রপ্তানিমুখী ও উদ্ভাবননির্ভর স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

/আশিক


সংসদে অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ১২:২৩:১৯
সংসদে অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অতীতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে আটকে না থেকে এখন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ব্যাপক অর্থ পাচারের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল, যার প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাজেট অধিবেশনে তিনি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের নীতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি সময়ে বাজেট প্রণয়ন করেছে, যখন অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অর্থ পাচার, দুর্নীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো বাস্তবতা সামনে রেখেই এবারের বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে। তবুও সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে তাৎক্ষণিক কোনো ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়নি। তার ভাষায়, এটি সরকারের পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার এমন একটি বাজেট উপস্থাপন করেছে, যা মানুষের জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে কেন্দ্র করে প্রণয়ন করা হয়েছে। এ কারণেই তিনি এবারের বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক স্বস্তি নিশ্চিত করাই এই বাজেটের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, অতীতের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ পাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে ধীরে ধীরে উত্তরণের চেষ্টা করছে সরকার। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বাজেট আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশে এখন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। অতীতের বিরোধ ও সংকটকে পেছনে ফেলে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।


প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে সবুজায়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ০৯:৫৯:১৬
প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে সবুজায়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা
ছবি : সংগৃহীত

দেশব্যাপী পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবুজ সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে আজ সোমবার (২৯ জুন) শুরু হচ্ছে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষাভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি শিশুকে পরিবেশ সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ উদ্যোগ। এই কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা মিলিয়ে মোট ৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান থেকে ভার্চুয়ালি দেশের সব অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এর আগে সকাল ১০টায় উদ্বোধনের সময় নির্ধারণ করা হলেও বিশেষ কারণে সময় পরিবর্তন করে দুপুর ২টা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে দেশের ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, ১ হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি মাদরাসা। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ বছর অন্তত একটি ফলদ, একটি বনজ এবং একটি ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে। পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা ও পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

জলবায়ু সচেতনতা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রতি বছর ৫ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদান দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই অর্থ বৃক্ষরোপণ, পরিচর্যা এবং পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি দেশের প্রতিটি অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেবেন। উদ্বোধনের পর প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ ক্যাম্পাসে একযোগে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, পুরো অনুষ্ঠানটি অংশগ্রহণমূলকভাবে আয়োজন করা হবে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।

-রফিক


ঢাকাসহ দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের আসল কারণ সংসদে জানালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ২১:৪১:৩৬
ঢাকাসহ দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের আসল কারণ সংসদে জানালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক কারিগরি জটিলতা এবং বঙ্গোপসাগরের চরম বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজ থেকে কয়লা খালাস প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এর ফলে সঞ্চালন লাইনে হঠাৎ করেই প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। উৎপাদন কম হওয়ার এই বিশেষ পরিস্থিতির কারণেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে বিধি-৩০০ এর আওতায় দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে এ তথ্য জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।

সংসদে দেওয়া বিবৃতিতে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, দেশের একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারের টিউবে হঠাৎ লিকেজ বা ছিদ্র ধরা পড়ায় কেন্দ্রটিকে জরুরি ভিত্তিতে সম্পূর্ণ বন্ধ (ফোর্সড শাটডাউন) করতে হয়েছে। ঠিক একই সময়ে বঙ্গোপসাগর প্রচণ্ড উত্তাল ও আবহাওয়া বৈরী থাকার কারণে কয়লাভিত্তিক আরেকটি প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্রে আমদানি করা কয়লা খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। কয়লার তীব্র সংকটের কারণে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি উৎপাদন ইউনিটও বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই দুটি প্রধান ও আকস্মিক কারণে জাতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থায় একযোগে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে, যা দেশের বর্তমান চাহিদার তুলনায় বড় ঘাটতি। আর এই বিশাল ঘাটতির সরাসরি প্রভাব হিসেবেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক অঞ্চলের পাশাপাশি খোদ রাজধানী ঢাকাতেও জরুরি ভিত্তিতে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বাড়াতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের পদক্ষেপের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চলমান এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমানের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিকে একটি সাময়িক জাতীয় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জাতীয় সংসদের সব সদস্য এবং দেশের সাধারণ জনগণের প্রতি বিশেষভাবে ধৈর্য ধারণের জোরালো আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এই সংকটকালীন সময়টি সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে তিনি সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

তবে এই ভোগান্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না জানিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দুই দিনের মধ্যে দেশের এই জরুরি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। প্রকৌশলীদের চেষ্টায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কারিগরি মেরামত শেষ করে উৎপাদন পুনরায় স্বাভাবিক করা সম্ভব হলে লোডশেডিংও ধীরে ধীরে একদম কমে আসবে।

মন্ত্রী কর্তৃক দেশের এই সংকটকালীন বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বিবরণী পেশ করার পর, অধিবেশনের সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিদ্যুৎমন্ত্রীর দেওয়া এই বিবৃতিটি সংসদের কার্যবিধি-৩০০ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কার্যবিবরণীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করেন।

/আশিক


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের 'মাস্টারমাইন্ড' কে? জাতীয় সংসদে বিএনপি-জামায়াতের তুমুল বিতর্ক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ২১:২৯:২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের 'মাস্টারমাইন্ড' কে? জাতীয় সংসদে বিএনপি-জামায়াতের তুমুল বিতর্ক
ছবি : সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল নেতৃত্ব ও এর নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ কে ছিলেন—তা নিয়ে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সরকারি দল বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। রোববার (২৮ জুন) সংসদ অধিবেশনে এই দুই দলের শীর্ষ নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

অধিবেশনে অংশ নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের একটি পূর্ববর্তী বক্তব্যের সূত্র ধরে দাবি করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট নেতৃত্বেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সফলতার মুখ দেখেছে। তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্ধৃত করে বলেন, শফিকুর রহমান নিজেই অতীতে আন্দোলনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তারেক রহমানের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সফল নেতৃত্বের অবদানের কথা স্বীকার করেছিলেন। বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের দূরদর্শী নির্দেশনায় এই ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান সফল হয়েছে বলেই আজ দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়ে এই পর্যায়ে আসতে পেরেছে, তাই নতুন বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সংকটের কোনো কারণ নেই।

প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর পরই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ কক্ষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পেছনে একক কোনো 'মাস্টারমাইন্ড' বা পরিকল্পনাকারী থাকার তত্ত্বে তিনি মোটেও বিশ্বাসী নন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই একই অবস্থানে অনড় রয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, সেই কঠিন সময়ে জীবন বাজি রেখে যেসব ছাত্র-জনতার সুনির্দিষ্ট নেতৃত্বে আন্দোলন সফল হয়েছে, দেশের মানুষ তাদের সবাইকে অন্তর থেকে সম্মান ও ভালোবাসার চোখে দেখে। তাই অহেতুক একক কৃতিত্ব দাবি করে তাদের সেই অনন্য অবস্থানকে ক্ষুণ্ন না করা এবং বিতর্কিত না রাখা অত্যন্ত জরুরি।

শফিকুর রহমান আরও মনে করিয়ে দেন যে, এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রে এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে মাহফুজ আলমকে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। জামায়াত আমির দাবি করেন, সেই ঘটনার পরপরই তিনিই দেশের প্রথম রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে এই আন্দোলনের একক কোনো মাস্টারমাইন্ড নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব ও গৌরব এককভাবে দেশের বিপ্লবী তরুণ সমাজ এবং ১৮ কোটি সাধারণ জনগণের।

জাতীয় সংসদের এই বাজেট অধিবেশনে দুই পক্ষের এই বিপরীতমুখী অবস্থান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস, এর দায়বদ্ধতা এবং সাফল্যের কৃতিত্বের দাবিদার নিয়ে প্রধান দুটি দলের ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকেই স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরেছে। সরকারি দল যেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ওপর পুরো কৃতিত্ব ন্যস্ত করতে চাইছে, সেখানে বিরোধী দল এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনকে একটি স্বতঃস্ফূর্ত গণ-আন্দোলন হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর মূল গৌরব সাধারণ ছাত্র-জনতার হাতের মুঠোতেই সুরক্ষিত রাখতে চাচ্ছে।

/আশিক


১৩তম থেকে সরাসরি ৯ম গ্রেড! প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য সংসদে বড় সুখবর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ১৯:৫৫:২২
১৩তম থেকে সরাসরি ৯ম গ্রেড! প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য সংসদে বড় সুখবর
ছবি : সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড ১৩তম থেকে সরাসরি ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার যে পরিকল্পনা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তা আপাতদৃষ্টিতে বড় একটি সংস্কার মনে হলেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং আর্থিক হিসাবের মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য ও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই তথ্য জানান।

প্রথমত, প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা হলে সরকারের অতিরিক্ত মাত্র দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা (অথবা জনপ্রতি দেড়-দুই হাজার টাকা, যা বক্তব্যে অস্পষ্ট) ব্যয় হবে, যা প্রস্তাবিত বাজেটে রাখা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সারা দেশে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি প্রাথমিক শিক্ষক রয়েছেন। ১৩তম গ্রেড (মূল বেতন ১১,০০০ টাকা) থেকে সরাসরি ৯ম গ্রেডে (মূল বেতন ২২,০০০ টাকা) উন্নীত করলে মূল বেতনই দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এর সাথে যুক্ত হবে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা। ফলে প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া এই সরল আর্থিক হিসাব মাঠপর্যায়ের প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে অনেক কম এবং এটি একটি বড় গাণিতিক ব্লিন্ড স্পট।

দ্বিতীয়ত, যোগ্যতা ও পদোন্নতির নীতিমালা নির্ধারণ না করে রাতারাতি এই গ্রেড পরিবর্তন করা হলে তা সিভিল সার্ভিসের অন্যান্য স্তরে বড় ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা ও অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদার দূরত্ব কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা এই পরিকল্পনায় স্পষ্ট নয়। আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের যে আশাবাদ প্রতিমন্ত্রী ব্যক্ত করেছেন, তা কেবল বাজেট বরাদ্দ বা গ্রেড ঘোষণার মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

/আশিক


পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনে বড় বদল: বাড়ছে শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানার পরিমাণ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ১৯:৪৭:৫৩
পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনে বড় বদল: বাড়ছে শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানার পরিমাণ
ছবি : সংগৃহীত

পিতা-মাতার আইনি সুরক্ষা বাড়াতে ২০১৩ সালের ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ সংশোধনের যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, তা নীতিগতভাবে ইতিবাচক মনে হলেও মূল আইনের কাঠামোগত ব্লিন্ড স্পটগুলো দূর করতে না পারলে এটি কেবল কাগজে-কলমে শাস্তির মেয়াদ বাড়ানোর একটি নিষ্ফল চেষ্টায় পরিণত হবে। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাজমুন নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এই তথ্য জানান।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানার পরিমাণ বাড়ানোর কথা বলা হলেও, প্রবীণ পিতা-মাতারা নিজেদের সন্তানদের বিরুদ্ধে থানায় বা আদালতে গিয়ে মামলা করার মতো সামাজিক ও মানসিক অবস্থায় থাকেন কি না—সেই মনস্তাত্ত্বিক দিকটি এই আইনি কাঠামোতে পুরোপুরি উপেক্ষিত। কেবল শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে প্রবীণদের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, যদি না রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে কাউন্সিলিং, পারিবারিক সালিশ বা কোনো সামাজিক ট্রাইব্যুলালের মাধ্যমে বিষয়টির দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়। আইনি জটিলতা ও সামাজিক লজ্জার কারণে অনেক ভুক্তভোগী ব্যবস্থাপনাই নিতে চাইবেন না, ফলে সাজার মেয়াদ বৃদ্ধি কেবল কাগজের বাঘ হয়েই থাকবে।

একই অধিবেশনে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতার তালিকায় বিগত আমলের রাজনৈতিক বিবেচনা ও অনিয়মের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে গত ১৯ এপ্রিল থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে যে উচ্চপর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালানো হচ্ছে, তা তাত্ত্বিকভাবে প্রশংসনীয়।

তবে মাঠপর্যায়ে এর প্রকৃত বাস্তবায়ন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। গ্রামীণ বা স্থানীয় পর্যায়ে এখনও যারা ডেটা এন্ট্রি এবং প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের সাথে যুক্ত, তাদের রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি পুরোপুরি দূর করা না গেলে এই উচ্চপর্যায়ের কমিটির পক্ষেও কেন্দ্র থেকে নিখুঁত তালিকা করা অসম্ভব। ভুয়ো সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত প্রান্তিক ও নিরক্ষর মানুষ যেন জটিল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণে তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন মন্ত্রণালয়ের আসল প্রশাসনিক পরীক্ষা।

/আশিক


ই-চালান ও ভ্যাট সংস্কারে কি মিটবে রাজস্ব ঘাটতি? সংসদে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর বড় আশ্বাস

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ১৮:৪৮:৩৫
ই-চালান ও ভ্যাট সংস্কারে কি মিটবে রাজস্ব ঘাটতি? সংসদে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর বড় আশ্বাস
ছবি : সংগৃহীত

উন্নয়ন ব্যয়ের হার বৃদ্ধি এবং অনুন্নয়ন খাতের খরচ কমিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে একটি বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ রূপ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তবে বাজেটের খাতা-কলমের এই বিশাল পরিসংখ্যানের পেছনে কিছু বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও ব্লিন্ড স্পট রয়ে গেছে, যা সরকার কতটা সামলাতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে তিনি এই বক্তব্য পেশ করেন।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ অর্থাৎ প্রায় ১৩.৬% চলে যাচ্ছে অতীত সরকারের ঋণের সুদ পরিশোধে, যা উন্নয়ন বাজেটের ওপর একটি বড় ধরনের কাঠামোগত চাপ। এর বাইরে ভর্তুকি বাবদ ১১% বরাদ্দ রাখা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সাধারণ মানুষের জন্য এই ভর্তুকি কতটুকু সুফল আনবে—তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। যদিও সরকার অনুন্নয়ন ব্যয় ৭২.৭% থেকে কমিয়ে ৬৬.৩% করার এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের মাধ্যমে উন্নয়নমুখী মানসিকতা দেখিয়েছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের মন্থর গতি এবং অপচয় রোধ করার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট কঠোর রূপরেখা এই বক্তব্যে স্পষ্ট নয়।

রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ই-চালান এবং ভ্যাট সংস্কারের ওপর ভরসা করে কোনো ঘাটতি হবে না বলে মন্ত্রী আশ্বস্ত করলেও, এনবিআরের কাঠামোগত দুর্বলতা ও কর ফাঁকি রোধের অতীত ট্র্যাক রেকর্ড এই আশাবাদের সাথে পুরোপুরি মেলে না। ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের চেয়ে কিছুটা কমানো হলেও, ঘাটতি বাজেট পূরণে দেশীয় ব্যাংকিং খাতের ওপর এই বিশাল নির্ভরতা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহকে সংকুচিত করতে পারে। পরিশেষে, ৬.৫% প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে কেবল অতীত অভিজ্ঞতা বা নীতিগত সহযোগিতার আহ্বানের চেয়েও বাস্তব অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কঠোর অর্থ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের আসল পরীক্ষা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: