জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের 'মাস্টারমাইন্ড' কে? জাতীয় সংসদে বিএনপি-জামায়াতের তুমুল বিতর্ক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ২১:২৯:২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের 'মাস্টারমাইন্ড' কে? জাতীয় সংসদে বিএনপি-জামায়াতের তুমুল বিতর্ক
ছবি : সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল নেতৃত্ব ও এর নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ কে ছিলেন—তা নিয়ে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সরকারি দল বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। রোববার (২৮ জুন) সংসদ অধিবেশনে এই দুই দলের শীর্ষ নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

অধিবেশনে অংশ নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের একটি পূর্ববর্তী বক্তব্যের সূত্র ধরে দাবি করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট নেতৃত্বেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সফলতার মুখ দেখেছে। তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্ধৃত করে বলেন, শফিকুর রহমান নিজেই অতীতে আন্দোলনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তারেক রহমানের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সফল নেতৃত্বের অবদানের কথা স্বীকার করেছিলেন। বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের দূরদর্শী নির্দেশনায় এই ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান সফল হয়েছে বলেই আজ দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়ে এই পর্যায়ে আসতে পেরেছে, তাই নতুন বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সংকটের কোনো কারণ নেই।

প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর পরই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ কক্ষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পেছনে একক কোনো 'মাস্টারমাইন্ড' বা পরিকল্পনাকারী থাকার তত্ত্বে তিনি মোটেও বিশ্বাসী নন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই একই অবস্থানে অনড় রয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, সেই কঠিন সময়ে জীবন বাজি রেখে যেসব ছাত্র-জনতার সুনির্দিষ্ট নেতৃত্বে আন্দোলন সফল হয়েছে, দেশের মানুষ তাদের সবাইকে অন্তর থেকে সম্মান ও ভালোবাসার চোখে দেখে। তাই অহেতুক একক কৃতিত্ব দাবি করে তাদের সেই অনন্য অবস্থানকে ক্ষুণ্ন না করা এবং বিতর্কিত না রাখা অত্যন্ত জরুরি।

শফিকুর রহমান আরও মনে করিয়ে দেন যে, এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রে এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে মাহফুজ আলমকে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। জামায়াত আমির দাবি করেন, সেই ঘটনার পরপরই তিনিই দেশের প্রথম রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে এই আন্দোলনের একক কোনো মাস্টারমাইন্ড নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব ও গৌরব এককভাবে দেশের বিপ্লবী তরুণ সমাজ এবং ১৮ কোটি সাধারণ জনগণের।

জাতীয় সংসদের এই বাজেট অধিবেশনে দুই পক্ষের এই বিপরীতমুখী অবস্থান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস, এর দায়বদ্ধতা এবং সাফল্যের কৃতিত্বের দাবিদার নিয়ে প্রধান দুটি দলের ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকেই স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরেছে। সরকারি দল যেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ওপর পুরো কৃতিত্ব ন্যস্ত করতে চাইছে, সেখানে বিরোধী দল এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনকে একটি স্বতঃস্ফূর্ত গণ-আন্দোলন হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর মূল গৌরব সাধারণ ছাত্র-জনতার হাতের মুঠোতেই সুরক্ষিত রাখতে চাচ্ছে।

/আশিক


১৩তম থেকে সরাসরি ৯ম গ্রেড! প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য সংসদে বড় সুখবর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ১৯:৫৫:২২
১৩তম থেকে সরাসরি ৯ম গ্রেড! প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য সংসদে বড় সুখবর
ছবি : সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড ১৩তম থেকে সরাসরি ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার যে পরিকল্পনা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তা আপাতদৃষ্টিতে বড় একটি সংস্কার মনে হলেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং আর্থিক হিসাবের মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য ও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই তথ্য জানান।

প্রথমত, প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা হলে সরকারের অতিরিক্ত মাত্র দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা (অথবা জনপ্রতি দেড়-দুই হাজার টাকা, যা বক্তব্যে অস্পষ্ট) ব্যয় হবে, যা প্রস্তাবিত বাজেটে রাখা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সারা দেশে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি প্রাথমিক শিক্ষক রয়েছেন। ১৩তম গ্রেড (মূল বেতন ১১,০০০ টাকা) থেকে সরাসরি ৯ম গ্রেডে (মূল বেতন ২২,০০০ টাকা) উন্নীত করলে মূল বেতনই দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এর সাথে যুক্ত হবে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা। ফলে প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া এই সরল আর্থিক হিসাব মাঠপর্যায়ের প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে অনেক কম এবং এটি একটি বড় গাণিতিক ব্লিন্ড স্পট।

দ্বিতীয়ত, যোগ্যতা ও পদোন্নতির নীতিমালা নির্ধারণ না করে রাতারাতি এই গ্রেড পরিবর্তন করা হলে তা সিভিল সার্ভিসের অন্যান্য স্তরে বড় ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা ও অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদার দূরত্ব কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা এই পরিকল্পনায় স্পষ্ট নয়। আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের যে আশাবাদ প্রতিমন্ত্রী ব্যক্ত করেছেন, তা কেবল বাজেট বরাদ্দ বা গ্রেড ঘোষণার মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

/আশিক


পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনে বড় বদল: বাড়ছে শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানার পরিমাণ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ১৯:৪৭:৫৩
পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনে বড় বদল: বাড়ছে শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানার পরিমাণ
ছবি : সংগৃহীত

পিতা-মাতার আইনি সুরক্ষা বাড়াতে ২০১৩ সালের ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ সংশোধনের যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, তা নীতিগতভাবে ইতিবাচক মনে হলেও মূল আইনের কাঠামোগত ব্লিন্ড স্পটগুলো দূর করতে না পারলে এটি কেবল কাগজে-কলমে শাস্তির মেয়াদ বাড়ানোর একটি নিষ্ফল চেষ্টায় পরিণত হবে। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাজমুন নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এই তথ্য জানান।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানার পরিমাণ বাড়ানোর কথা বলা হলেও, প্রবীণ পিতা-মাতারা নিজেদের সন্তানদের বিরুদ্ধে থানায় বা আদালতে গিয়ে মামলা করার মতো সামাজিক ও মানসিক অবস্থায় থাকেন কি না—সেই মনস্তাত্ত্বিক দিকটি এই আইনি কাঠামোতে পুরোপুরি উপেক্ষিত। কেবল শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে প্রবীণদের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, যদি না রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে কাউন্সিলিং, পারিবারিক সালিশ বা কোনো সামাজিক ট্রাইব্যুলালের মাধ্যমে বিষয়টির দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়। আইনি জটিলতা ও সামাজিক লজ্জার কারণে অনেক ভুক্তভোগী ব্যবস্থাপনাই নিতে চাইবেন না, ফলে সাজার মেয়াদ বৃদ্ধি কেবল কাগজের বাঘ হয়েই থাকবে।

একই অধিবেশনে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতার তালিকায় বিগত আমলের রাজনৈতিক বিবেচনা ও অনিয়মের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে গত ১৯ এপ্রিল থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে যে উচ্চপর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালানো হচ্ছে, তা তাত্ত্বিকভাবে প্রশংসনীয়।

তবে মাঠপর্যায়ে এর প্রকৃত বাস্তবায়ন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। গ্রামীণ বা স্থানীয় পর্যায়ে এখনও যারা ডেটা এন্ট্রি এবং প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের সাথে যুক্ত, তাদের রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি পুরোপুরি দূর করা না গেলে এই উচ্চপর্যায়ের কমিটির পক্ষেও কেন্দ্র থেকে নিখুঁত তালিকা করা অসম্ভব। ভুয়ো সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত প্রান্তিক ও নিরক্ষর মানুষ যেন জটিল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণে তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন মন্ত্রণালয়ের আসল প্রশাসনিক পরীক্ষা।

/আশিক


ই-চালান ও ভ্যাট সংস্কারে কি মিটবে রাজস্ব ঘাটতি? সংসদে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর বড় আশ্বাস

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ১৮:৪৮:৩৫
ই-চালান ও ভ্যাট সংস্কারে কি মিটবে রাজস্ব ঘাটতি? সংসদে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর বড় আশ্বাস
ছবি : সংগৃহীত

উন্নয়ন ব্যয়ের হার বৃদ্ধি এবং অনুন্নয়ন খাতের খরচ কমিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে একটি বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ রূপ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তবে বাজেটের খাতা-কলমের এই বিশাল পরিসংখ্যানের পেছনে কিছু বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও ব্লিন্ড স্পট রয়ে গেছে, যা সরকার কতটা সামলাতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে তিনি এই বক্তব্য পেশ করেন।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ অর্থাৎ প্রায় ১৩.৬% চলে যাচ্ছে অতীত সরকারের ঋণের সুদ পরিশোধে, যা উন্নয়ন বাজেটের ওপর একটি বড় ধরনের কাঠামোগত চাপ। এর বাইরে ভর্তুকি বাবদ ১১% বরাদ্দ রাখা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সাধারণ মানুষের জন্য এই ভর্তুকি কতটুকু সুফল আনবে—তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। যদিও সরকার অনুন্নয়ন ব্যয় ৭২.৭% থেকে কমিয়ে ৬৬.৩% করার এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের মাধ্যমে উন্নয়নমুখী মানসিকতা দেখিয়েছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের মন্থর গতি এবং অপচয় রোধ করার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট কঠোর রূপরেখা এই বক্তব্যে স্পষ্ট নয়।

রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ই-চালান এবং ভ্যাট সংস্কারের ওপর ভরসা করে কোনো ঘাটতি হবে না বলে মন্ত্রী আশ্বস্ত করলেও, এনবিআরের কাঠামোগত দুর্বলতা ও কর ফাঁকি রোধের অতীত ট্র্যাক রেকর্ড এই আশাবাদের সাথে পুরোপুরি মেলে না। ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের চেয়ে কিছুটা কমানো হলেও, ঘাটতি বাজেট পূরণে দেশীয় ব্যাংকিং খাতের ওপর এই বিশাল নির্ভরতা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহকে সংকুচিত করতে পারে। পরিশেষে, ৬.৫% প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে কেবল অতীত অভিজ্ঞতা বা নীতিগত সহযোগিতার আহ্বানের চেয়েও বাস্তব অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কঠোর অর্থ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের আসল পরীক্ষা।

/আশিক


বাংলাদেশে চীনের মেগা বিনিয়োগের ছক: বাণিজ্যমন্ত্রীর মুখে নতুন পথ ও পরিকল্পনার কথা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৭ ১৮:৪৪:৫৯
বাংলাদেশে চীনের মেগা বিনিয়োগের ছক: বাণিজ্যমন্ত্রীর মুখে নতুন পথ ও পরিকল্পনার কথা
ছবি : সংগৃহীত

চীন-মিয়ানমার করিডোরে বাংলাদেশ যুক্ত হতে পারলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাকে করে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি চীনে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আজ শনিবার (২৭ জুন) সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগদানকারী নবীন আইনজীবীদের কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই সম্ভাবনার কথা জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কৌশলগত অবস্থানের কারণে আগামী দিনে বাংলাদেশে চীনের বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চীন ইতোমধ্যে আমাদের সব ধরনের পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে আমাদের সামনে এখন একটাই বড় ও সম্ভাব্য উপায় রয়েছে, যা আমরা বর্তমানে সফলভাবে অনুসরণ করছি; আর তা হচ্ছে বাংলাদেশে বেশি বেশি চাইনিজ বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।

এদিকে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়ে তৈরি হওয়া এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, মাজারের নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে স্থান দেওয়া হয়নি। সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক পথ ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাই এই কমিটি নিয়ে নতুন করে কোনো ধরনের বিতর্কের অবকাশ নেই।

এর আগে, নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালার মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, একটি রাষ্ট্রে যদি কোনো কারণে বিচারহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তবে সেখানকার সামাজিক চুক্তি ও আইনের শাসন চরমভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। দেশের সংবিধানে সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত মৌলিক অধিকার—যেমন সমতা, বৈষম্যহীনতা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ নাগরিকদের সার্বিক অধিকার বাস্তবায়নে আইনজীবীদের সবসময় অগ্রণী ও সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে।

/আশিক


মানুষ নিজেদের স্বার্থ দেখার জন্যই আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৭ ১৮:১৯:০২
মানুষ নিজেদের স্বার্থ দেখার জন্যই আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সার্বিক স্বার্থকে অন্য যেকোনো কিছুর ওপরে স্থান দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ তাদের নিজেদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষা করার জন্যই বর্তমান সরকার এবং সংসদ সদস্যদের পবিত্র দায়িত্ব প্রদান করেছে। শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।

বক্তব্যে নিজের সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ ও অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি সর্বদা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই সুমহান স্লোগানটি ধারণ ও ব্যবহার করে থাকে। তিনি নিজের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সবসময় দেশ এবং দেশের আপামর মানুষের মৌলিক স্বার্থ নিয়ে কথা বলা এবং তা সর্বোচ্চ উপায়ে রক্ষা করার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

সংসদ নেতা তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বিষয় বা স্বার্থ জড়িত নেই। যেকোনো ভালো আন্তর্জাতিক অর্জন বা সফল দ্বিপক্ষীয় সফরের মাধ্যমে যদি দেশের জন্য ইতিবাচক কোনো কিছু অর্জিত হয়ে থাকে, তবে তা একান্তই সমগ্র বাংলাদেশ এবং এই দেশের সাধারণ মানুষের যৌথ অর্জন হিসেবে গণ্য হবে। সংসদে তাঁর বক্তব্যের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন এবং উৎসাহ জোগানোর জন্য তিনি বিরোধীদলীয় নেতাসহ সংসদের সকল সদস্যকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার এই চলমান যাত্রায় আইনসভার সবার এই ইতিবাচক ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবকে তিনি আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানান।

/আশিক


১৭ এমওইউর পর সংসদে ধন্যবাদ পেলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৭ ১৪:২৬:৪৬
১৭ এমওইউর পর সংসদে ধন্যবাদ পেলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।

প্রস্তাব উত্থাপনকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ও সফল একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ। তাঁর মতে, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা ও স্বার্থের ভিত্তিতে আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম দিকের এই বিদেশ সফর শুধু আনুষ্ঠানিক নয়; বরং বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানের বার্তাও বহন করে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশ বিনিয়োগ, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। তিনি মনে করেন, এই সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে বাস্তববাদী ও স্বার্থভিত্তিক সহযোগিতার নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

সফরের চীন অংশকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে চীনের সঙ্গে ১৭টি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ সই হয়েছে। এসব সমঝোতার মাধ্যমে অবকাঠামো, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, উন্নয়ন, মানবসম্পদ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন খাতে ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তাঁর মতে, এসব আলোচনা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে যাওয়া ও দেশে ফেরার সময় জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনার প্রচলিত সংস্কৃতি পরিহার করে রাজনৈতিক আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর মতে, এটি রাষ্ট্র পরিচালনায় সংযম, শালীনতা এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নতুন বার্তা দিয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। দেশের মানুষের মধ্যেও তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তিনি জনগণের কল্যাণে দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করছেন এবং অতীতের অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি বাদ দিয়ে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন।

ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর সফরকে দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ পরিবেশ, শ্রমবাজার এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরা হয়।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সফরের অর্থনৈতিক দিকগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা জরুরি। তাঁর মতে, মালয়েশিয়া ও চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে নতুনভাবে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সাফল্যকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেন। তিনি বলেন, বিদেশ সফরের অর্জন তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন সই হওয়া সমঝোতা ও আলোচনার ফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ধন্যবাদ প্রস্তাবটি ভোটে দেন। সংসদে উপস্থিত সদস্যদের সমর্থনে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

সংসদীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনো বিদেশ সফর নিয়ে ধন্যবাদ প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এটি সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপের প্রতি সংসদের আনুষ্ঠানিক সমর্থনকে নির্দেশ করে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬ জুনের সফর শুরু হয় মালয়েশিয়া দিয়ে। সেখানে শ্রমবাজার, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর চীন সফরে তিনি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, বিনিয়োগ আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের কর্মসূচিতে অংশ নেন।

চীন সফরে ১৭টি এমওইউ সই, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে সহযোগিতার আশ্বাস, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত সংলাপের সম্ভাবনা সব মিলিয়ে সফরটি কূটনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

-রফিক


প্রতিটি শিশুর চিকিৎসা নিশ্চিত করবে সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৭ ১২:২৭:২২
প্রতিটি শিশুর চিকিৎসা নিশ্চিত করবে সরকার
ছবি : সংগৃহীত

প্রতিটি শিশুকে তার প্রয়োজন ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে সরকার। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সেবা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনে সরকার আরও সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

শনিবার সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে প্রতিবন্ধী ও সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য নতুন পুনর্বাসন কেন্দ্র সিএসএফ সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি বিশেষ মানুষকে অন্য সব নাগরিকের মতো সমঅধিকার ও রাষ্ট্রীয় সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। বাজেট কর্মসূচি, নীতি প্রণয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ড. এম এ মুহিত জানান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যাতায়াত সহজ করতে মেট্রোরেলে ৫০ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর মতে, শুধু চিকিৎসা নয়, চলাচল, শিক্ষা, পুনর্বাসন ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি—সব ক্ষেত্রেই বিশেষ মানুষের জন্য সুযোগ বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য প্রতিটি জেলায় শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা পরিবার বা সমাজের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকার বদলে নিজস্ব সক্ষমতা অনুযায়ী বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।

কড়াইল বস্তিতে উদ্বোধন হওয়া নতুন সিএসএফ সেন্টারকে বিশেষ শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ও সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের নিয়মিত চিকিৎসা, থেরাপি, পুনর্বাসন সহায়তা এবং প্রয়োজনভিত্তিক সেবা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আলাদা মনোযোগ, প্রশিক্ষিত সেবাদাতা, পরিবারভিত্তিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা নয়, কমিউনিটি পর্যায়ের সেবা জোরদার করাও জরুরি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের পরিবারগুলো অনেক সময় আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক চাপের মধ্যে থাকে। তাই স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, যাতায়াত সুবিধা এবং পুনর্বাসন—এই চারটি ক্ষেত্রকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার চায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা যেন সমাজের মূলধারায় যুক্ত হতে পারে। তাদের জন্য চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো হলে তারা পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সম্পদে পরিণত হতে পারবে।

কড়াইলের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও নিম্নআয়ের এলাকায় এমন পুনর্বাসন কেন্দ্র চালু হওয়াকে স্থানীয়রা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বিশেষ করে যেসব পরিবার নিয়মিত থেরাপি বা বিশেষায়িত চিকিৎসা নিতে অর্থনৈতিকভাবে সমস্যায় পড়ে, তাদের জন্য এই ধরনের কেন্দ্র বড় সহায়তা হতে পারে।

সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের নিয়মিত ফিজিওথেরাপি, ভাষা ও যোগাযোগ সহায়তা, পুষ্টি পরামর্শ এবং দৈনন্দিন চলাচলের প্রশিক্ষণ দরকার হতে পারে। তাই পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো শুধু চিকিৎসা নয়, জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিশেষ মানুষদের কল্যাণে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বাড়াচ্ছে। তাঁর মতে, প্রতিবন্ধিতা কোনো অক্ষমতা নয়; বরং সঠিক সেবা, শিক্ষা ও সামাজিক সহযোগিতা পেলে প্রতিটি শিশুই তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পেতে পারে।

অনুষ্ঠানে সরকারি নীতি, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কড়াইলের এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের অন্য এলাকাতেও বিশেষ শিশুদের জন্য একই ধরনের সেবা মডেল সম্প্রসারণের পথ তৈরি হতে পারে।

-রফিক


চীন সফরে ১৭ এমওইউ, কী পেল বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৬ ১৯:৩৮:৫৯
চীন সফরে ১৭ এমওইউ, কী পেল বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ সই হয়েছে। শুক্রবার বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলের কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সফরের বিস্তারিত তুলে ধরে এ তথ্য জানান।

মাহদী আমিন বলেন, বৃহস্পতিবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং চীনা নেতৃত্বের মধ্যে হওয়া বোঝাপড়ার ভিত্তিতে এসব সমঝোতা স্মারক সই হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সফরের অন্যতম বড় অর্জন হলো সরকার, বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ এবং রাজনৈতিক দলীয় পর্যায়ে একসঙ্গে সহযোগিতার নতুন কাঠামো তৈরি হওয়া।

মোট ১৭টি এমওইউর মধ্যে ১৩টি সই হয়েছে দুই দেশের সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে। এসব সমঝোতা স্মারক দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়। অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উন্নয়ন, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা খাত এতে অন্তর্ভুক্ত বলে জানানো হয়েছে।

এর বাইরে আরও তিনটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও অংশীজনদের মধ্যে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তিনটি এমওইউ বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, শিল্পায়ন, উৎপাদন খাত এবং সম্ভাব্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরেকটি এমওইউ হয়েছে রাজনৈতিক দলীয় পর্যায়ে। বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনাকারী রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং চীনের ক্ষমতাসীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়। এটিকে দুই দেশের দলীয় যোগাযোগ, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সম্পর্ক সম্প্রসারণের নতুন উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর শুরু হয় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে। সোমবার রাতে তিনি চীনের উদ্দেশে রওনা হন। সফরের প্রথম পর্বে প্রধানমন্ত্রী দালিয়ানে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন। এরপর বুধবার রাতে তিনি দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ে পৌঁছান।

বেইজিং সফরপর্বে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠক হয়। দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, এসব সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর পর্যায়ে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে। তাঁর মতে, সফরটি শুধু কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বাস্তব অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চীন বাংলাদেশের অন্যতম বড় উন্নয়ন অংশীদার এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সহযোগী। ফলে এই সফরে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকগুলো ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, চীনা বিনিয়োগ, শিল্পাঞ্চল, রপ্তানি সম্ভাবনা এবং কর্মসংস্থান তৈরির প্রশ্নে এই সফরের ফলাফল নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রের ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুর ইসলাম রনি। সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিভিন্ন দিক, সই হওয়া সমঝোতা স্মারক এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ১৭টি এমওইউর কাঠামোই দেখাচ্ছে, সফরটি একাধিক স্তরে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। সরকার-টু-সরকার সহযোগিতা, বিনিয়োগ-ভিত্তিক অংশীদারত্ব এবং রাজনৈতিক দলীয় যোগাযোগ এই তিন ধারায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুনভাবে বিন্যস্ত করার ইঙ্গিত রয়েছে এতে।

-রফিক


তিস্তার ঢেউয়ে কূটনীতির নতুন গল্প: ঢাকার পাশে বেইজিং

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৬ ১৮:৪৩:০৩
তিস্তার ঢেউয়ে কূটনীতির নতুন গল্প: ঢাকার পাশে বেইজিং

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দুই দেশ। সফর শেষে প্রকাশিত ১৫ দফা যৌথ ঘোষণায় তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সহায়তা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে সম্ভাব্য ‘২+২ সংলাপ’ চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।

শুক্রবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে ১৫ দফা যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা হয়। ঘোষণায় বলা হয়, ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ ও চীন ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক আস্থা, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা জোরদার করেছে। এবার সেই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে ‘নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’ গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীন সফর করেন। সফরকালে তিনি দালিয়ানে অনুষ্ঠিত নিউ চ্যাম্পিয়নসের ১৭তম বার্ষিক সভা, যা সামার দাভোস নামে পরিচিত, সেখানে অংশ নেন। এ ছাড়া তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, উন্নয়ন সহযোগিতা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

যৌথ ঘোষণার সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহায়তার বিষয়টি। ঘোষণায় বলা হয়েছে, সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পানি পরিকল্পনা, জলবিদ্যাগত পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নদী খনন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ে দুই দেশ সহযোগিতা বাড়াবে। চীন তার সক্ষমতা অনুযায়ী তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে সহায়তা দেবে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে কাজ করবেন।

তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃষি সেচ, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে এ প্রকল্প সরাসরি জড়িত। যৌথ ঘোষণায় প্রকল্পটির উল্লেখ থাকায় ঢাকার পানি কূটনীতি এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় বেইজিংয়ের ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে কৌশলগত সংলাপের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে ‘২+২ সংলাপ’ চালুর সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। এ ধরনের সংলাপ সাধারণত পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতির সমন্বিত আলোচনার একটি কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বিষয়টি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নিরাপত্তা ও কৌশলগত মাত্রাকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উভয় দেশ একে অপরের মৌলিক স্বার্থ ও প্রধান উদ্বেগের বিষয়ে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশ আবারও ‘এক চীন নীতি’র প্রতি অঙ্গীকার জানিয়ে তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্বে একটিই চীন রয়েছে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বেইজিং সরকারই সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ সরকার। অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

অর্থনীতি ও বিনিয়োগ সহযোগিতাও যৌথ ঘোষণার বড় অংশজুড়ে রয়েছে। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা জোরদার, বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে চীনা সহায়তার সমন্বয়, বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নমূলক ছোট প্রকল্পে সহায়তার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। শিল্পায়ন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে দুই দেশ।

বাণিজ্য, ই-কমার্স, শিল্প, সরবরাহ শৃঙ্খল ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশকে শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা দেওয়ার জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ চীনা বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে।

সংযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি, সৌর প্রযুক্তি, দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে নতুন সরাসরি যোগাযোগের সম্ভাবনাও অনুসন্ধান করা হবে বলে যৌথ ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও সম্পর্ক আরও বিস্তারের ইঙ্গিত রয়েছে। সফর, প্রশিক্ষণ এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে পারস্পরিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। পাশাপাশি গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক, শিক্ষা, চলচ্চিত্র, প্রকাশনা, যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদারের কথাও বলা হয়েছে। চীন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

বহুপাক্ষিক কূটনীতিতেও দুই দেশ পারস্পরিক সমর্থনের কথা জানিয়েছে। বাংলাদেশ ‘মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ’ গঠনের ধারণা এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রস্তাবিত বৈশ্বিক উদ্যোগসমূহের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে চীন জাতিসংঘসহ বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের বৃহত্তর ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়ে ব্রিকস এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অংশীদার হওয়ার বাংলাদেশের আবেদনকে সমর্থন করেছে।

রোহিঙ্গা সংকটও যৌথ ঘোষণায় স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জনগোষ্ঠীর সংকট সমাধানে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছে। চীনও রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধানের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সফরকালে উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীরা উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য চীন সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। চীন সফরের আগে ২১ জুন তিনি প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যান। এরপর ২২ জুন চীন সফর শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে ২৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ছিল।

পর্যবেক্ষকদের মতে, তিস্তা প্রকল্প, ২+২ সংলাপের সম্ভাবনা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থন, সব মিলিয়ে এই সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন কৌশলগত মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে তিস্তা ইস্যু ও আঞ্চলিক সংযোগের প্রশ্নে এই যৌথ ঘোষণা আগামী দিনগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

পাঠকের মতামত: