২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ভ্যাটের আওতায় আসছে নতুন ১৬ ব্যবসা খাত: অর্থমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৪ ১৮:২০:৪২
২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ভ্যাটের আওতায় আসছে নতুন ১৬ ব্যবসা খাত: অর্থমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার ১৬টি খাতকে সুনির্দিষ্ট মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে সরকার। এই তালিকায় মুদি দোকান থেকে শুরু করে তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিক্স ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো যুক্ত হচ্ছে। বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং চলতি বছরের প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্দশতম দিনে লিখিত প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের এই বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরটি টেবিল উত্থাপিত হয়।

সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫ এর সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা অর্থমন্ত্রীর কাছে বিগত অর্থবছরের ভ্যাট আদায়ের পরিমাণ এবং ভবিষ্যতে নতুন কোনো খাতকে এই রাজস্ব ব্যবস্থার আওতাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে কিনা, তা জানতে চান। একই সঙ্গে নতুন সম্ভাব্য খাতগুলোর একটি তালিকাও লিখিত প্রশ্নের মাধ্যমে আহ্বান করেন তিনি। এই প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান যে, সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট বাবদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হয়েছে।

ভ্যাটের পরিধি সম্প্রসারণের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী সংসদে স্পষ্ট করেন যে, রাজস্ব আদায়ের ভিত্তি মজবুত করতে নতুন ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে যে ১৬টি খাতকে নির্দিষ্ট হারে ভ্যাটের আওতায় আনা হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সাধারণ মুদি দোকান, তৈরি পোশাক ও কাপড়ের দোকান, কনফেকশনারি, প্রসাধন সামগ্রী বা কসমেটিকসের দোকান এবং প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্যের বিক্রয়কেন্দ্র। এছাড়া জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা, ডেকোরেটরস, মোবাইল ফোন এবং এসি, ফ্রিজ ও ওভেনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর দোকানও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে পেইন্ট, স্যানিটারি ও ফিটিংস, টাইলস, ঢেউটিন, রড-সিমেন্টের ব্যবসা, ফার্নিচারের শোরুম, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভান্ডার এবং রেস্টুরেন্ট খাতকেও এই নতুন ভ্যাট ব্যবস্থার অধীনে আনা হচ্ছে।

/আশিক


পাসপোর্ট খোয়া গেলে বা নষ্ট হলে যেসব নিয়ম মানতে হবে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ২১:৫৪:১৭
পাসপোর্ট খোয়া গেলে বা নষ্ট হলে যেসব নিয়ম মানতে হবে
ছবি : সংগৃহীত

হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যু করার প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পাসপোর্ট হারানো বা চুরির বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত অনলাইনে রির্পোট করার পাশাপাশি নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা বাধ্যতামূলক।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে উপসচিব মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষরে এই সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নির্ধারিত ফি দিলেই চলবে, কোনো বাড়তি জরিমানা বা দণ্ড ফি দিতে হবে না। তবে একই ঘটনা দ্বিতীয়বার বা পরবর্তীতে পুনরায় ঘটলে, সাধারণ পাসপোর্ট ফির পাশাপাশি প্রতিবার ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত দণ্ড ফি প্রদান করতে হবে।

পরিপত্রে সতর্ক করে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট একটি স্পর্শকাতর জাতীয় ভ্রমণ দলিল যা খোয়া গেলে মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সম্প্রতি হারানো বা নষ্টের অজুহাতে পুনঃইস্যুর আবেদন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটামাত্র বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে অনলাইন প্রতিবেদন দিতে হবে। পাশাপাশি থানায় জিডি করার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সত্যতা যাচাই করে রিপোর্ট পাঠাবে। তবে নির্ধারিত সময়ে পুলিশি রিপোর্ট না এলেও জিডির কপি জমা দিয়ে পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে এবং কর্তৃপক্ষ ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

কোনো ট্রাভেল এজেন্সি বা ব্যক্তি যদি ভিসা প্রক্রিয়ার অজুহাতে পাসপোর্ট অবৈধভাবে আটকে রাখে এবং ফেরত না দেয়, সে ক্ষেত্রে আগের পাসপোর্টটি বাতিল বা ‘রিভোক’ করে নতুন পাসপোর্ট নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া হারানো পাসপোর্টের তথ্য ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আইএমএস) এবং প্রয়োজনবোধে ইন্টারপোলে আপডেট করা হবে। বিদেশে থাকাকালীন এই ধরনের ঘটনা ঘটলে স্থানীয় বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট অফিসে অবহিত করে নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।

পুনঃইস্যুকৃত নতুন পাসপোর্টের ডাটাবেজে স্পষ্টভাবে ‘Previous Passport is Reported to be Lost’ লেখা থাকবে। আবেদনকারীর সুবিধার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, আংশিক নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টের সনাক্তযোগ্য অংশ থাকলে তা জমা দিয়ে নতুন পাসপোর্ট মিলবে, তবে পুরো নষ্ট হলে হারানো পাসপোর্টের নিয়ম প্রযোজ্য হবে। আবেদনকালে নাম, পিতা-মাতার নাম কিংবা জন্মতারিখ পুরোপুরি পরিবর্তন করা যাবে না, কেবল আইনি বিধিসম্মত আংশিক সংশোধন বিবেচনা করা হবে।

একবার হারানো বা চুরি যাওয়া পাসপোর্ট বাতিলের (রিভোক) পর যদি পুনরায় তা ফেরতও পাওয়া যায়, তবে সেটিকে আর সক্রিয় করা যাবে না বা বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করা যাবে না। অকার্যকর পাসপোর্টটি উদ্ধারের খবর দ্রুত পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানিয়ে দিতে হবে। পূর্বের পরিপত্র ও নির্দেশনাসমূহ সংশোধন করে নতুন এই নিয়ম জারি করা হয়েছে এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

/আশিক


বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক প্রসার নিয়ে চীন সরকারের নতুন ভাবনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ২১:৪৪:৫৯
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক প্রসার নিয়ে চীন সরকারের নতুন ভাবনা
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, চীন বাংলাদেশকে এ অঞ্চলে পণ্য উৎপাদনভিত্তিক প্রধান কেন্দ্র বা প্রোডাকশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষভাবে আগ্রহী। তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিকস সামগ্রী উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করতে পারে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূত এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, শুরু থেকেই ঘনিষ্ঠ ও পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে চীন বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে ধারাবাহিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার নিজ দেশে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় চীন সরকারের কার্যকর ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতা কামনা করেন স্পিকার।

জবাবে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর দ্বিপাক্ষিক মৈত্রী ও যৌথ সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, অবকাঠামোগত মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি বর্তমানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারে পরিণত হয়েছে।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর স্থাপন, চলমান রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কূটনৈতিক আলোচনার একপর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ‘ওয়ান চায়না পলিসি’ বা এক চীন নীতিকে সমর্থন করে আসছে এবং ভবিষ্যতে এই নীতিতে অবিচল থাকবে। ভোলাসহ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে চীনা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীর প্রার্থিতায় চীন সরকারের সমর্থন প্রত্যাশা করেন স্পিকার।

উক্ত সৌজন্য সাক্ষাৎকালে চীনা দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উর্ধ্বোতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


জাতিসংঘের অধিবেশনে বিশ্ব নেতাদের সামনে জলবায়ু সংকট নিয়ে কড়া বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ২০:৫৯:০১
জাতিসংঘের অধিবেশনে বিশ্ব নেতাদের সামনে জলবায়ু সংকট নিয়ে কড়া বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতের কঠোর সমালোচনা করেছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মঙ্গলবার তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় খনিজ তেল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বায়ুমণ্ডলকে বর্জ্য ফেলার স্থান বা নর্দমার মতো ব্যবহার করে চলেছে।

গুতেরেস উল্লেখ করেন যে, খনিজ জ্বালানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী মহলগুলো স্বেচ্ছায় এই পথ থেকে সরে আসবে না। বহু দশক ধরে বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো পরিবেশ ও বায়ুমণ্ডলকে দূষিত করে একদিকে যেমন ক্ষতিসাধন করেছে, অন্যদিকে নিজেরা পকেটস্থ করেছে বিপুল অংকের অর্থ।

জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি পশ্চিমা তেল কোম্পানি প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জন করেছে। অথচ অন্যদিকে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের সঙ্গে মানিয়ে নিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গঠিত তহবিলে সংগৃহীত হয়েছে মাত্র ৩৪ বিলিয়ন ডলার।

খনিজ জ্বালানি শিল্পের এমন একচেটিয়া প্রভাবকে অতীতে তামাক কোম্পানিগুলোর জনস্বাস্থ্যবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করেন গুতেরেস। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পরিবেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে যারা সর্বোচ্চ মুনাফা লুটছে, পরিবেশ পুনরুদ্ধারের আর্থিক দায়ভারও মূলত তাদেরই বহন করতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে ইতিহাসের রেকর্ড সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি হিমবাহ ধসে সৃষ্ট হঠাৎ বন্যায় নেপালে প্রাণ হারিয়েছেন শত শত মানুষ। পরিবেশের এমন সংকটময় মুহূর্তে জাতিসংঘ প্রধান পরিবেশ দূষণের জন্য সরাসরি তেল কোম্পানিগুলোকে অভিযুক্ত করলেন।

সামনে আশার আলো রয়েছে উল্লেখ করে গুতেরেস বিশ্বজুড়ে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য শক্তির দ্রুত প্রসারের প্রতি জোর দেন। তিনি জানান, পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চলে বর্তমানে সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ শক্তির উৎস হিসেবে উঠে এসেছে এসব নবায়নযোগ্য শক্তি।

/আশিক


দল থেকে বহিষ্কৃত তবুও এমপি! গাজী নজরুলের ঘটনায় সংসদে নতুন আইনের দাবি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ২০:৫৩:৩০
দল থেকে বহিষ্কৃত তবুও এমপি! গাজী নজরুলের ঘটনায় সংসদে নতুন আইনের দাবি
ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের প্রসঙ্গ টেনে সংসদ সদস্যদের জন্য অবিলম্বে বাধ্যতামূলক নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়নের জোর দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি উল্লেখ করে, দলীয় তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তার সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকা নিয়ে নৈতিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংস্থাটি মরিয়মের মৃত্যু এবং পূর্বে উত্থাপিত যৌন ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে কাউকেই অপরাধী বলা যায় না। তবে একজন আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে এমন ধারাবাহিক অভিযোগ ও নৈতিক প্রশ্ন ওঠা জাতীয় সংসদের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। ফৌজদারি অপরাধের বিচার আদালত করলেও সংসদ সদস্যের নৈতিকতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সংসদের দায়িত্ব।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, গাজী নজরুলের পদমর্যাদা নিয়ে জাতীয় সংসদ ও নির্বাচন কমিশন কী আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জনগণের সামনে দ্রুত স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে ন্যূনতম দুই বছরের কারাদণ্ড হলে তবেই সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়। সে কারণে শুধু গ্রেপ্তার, রিমান্ড বা দলীয় সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাংবিধানিক অযোগ্যতা তৈরি করে না। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার বা সংসদের মর্যাদা নষ্টকারী আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা থাকা জরুরি।

সংস্থাটি জানায়, সংসদ সদস্যদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়নের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। ২০১০ সালে একটি বিল উত্থাপিত হলেও তা আইনে পরিণত হয়নি, যদিও সাম্প্রতিক নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট কন্ডাক্ট অ্যাক্ট’ প্রণয়নের জোর সুপারিশ করেছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি থাকার পরও কেন বাধ্যতামূলক আচরণবিধি প্রণয়ন করা হচ্ছে না, তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

/আশিক


অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ৭টি নীরব লক্ষণ যা সাধারণ ভেবে ভুল করেন অনেকেই

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ২০:০০:৪৬
অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ৭টি নীরব লক্ষণ যা সাধারণ ভেবে ভুল করেন অনেকেই
ছবি : সংগৃহীত

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারকে একটি নীরব ঘাতক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো অত্যন্ত মৃদু ও সাধারণ হওয়ায় শুরুতে অনেকেই তা সাধারণ শারীরিক অসুস্থতা মনে করে অবহেলা করেন। চিকিৎসকদের মতে, রোগটি শনাক্ত হতে হতে এটি অনেক সময় শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে সময়মতো সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

মানবদেহের পাকস্থলীর ঠিক পেছনে ও পেটের উপরিভাগে অবস্থিত ক্ষুদ্র এই অঙ্গটি হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এবং ইনসুলিন হরমোন নিঃসরণের মাধ্যমে রক্তে শর্করার ভারসাম্য রক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালন করে। তবে অগ্ন্যাশয়ে যখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধি পায় এবং টিউমার গঠন করে, তখনই ক্যানসারের রূপ নেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ড. সৌরভ শেঠি অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের এমন ৭টি পূর্বলক্ষণ তুলে ধরেছেন, যা সাধারণ মানুষ প্রায়ই গুরুত্ব দেন না।

প্রথমত, ৫০ বছর বয়সের পর কোনো পূর্বকারণ ছাড়া হঠাৎ ডায়াবেটিস দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, কারণ অগ্ন্যাশয়ের টিউমার ইনসুলিন নিঃসরণে সরাসরি বাধা তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, খাদ্যভ্যাস বা ব্যায়াম ব্যতিরেকে হঠাৎ দ্রুত ওজন হ্রাস পাওয়া শরীর খাদ্য থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণে ব্যর্থ হওয়ার সংকেত দেয়।

তৃতীয়ত, অগ্ন্যাশয় চর্বি হজমকারী এনজাইম তৈরিতে বাধাগ্রস্ত হলে মলের রঙ ফ্যাকাশে হওয়া, তৈলাক্ত ভাব দেখা যাওয়া কিংবা মলে চর্বি ভেসে ওঠার মতো পরিবর্তন ঘটে। চতুর্থত, আঘাত বা পেশির টান ছাড়াই পিঠের মাঝখানে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা দেখা দেওয়াও একটি বড় লক্ষণ; অগ্ন্যাশয় পেটের গভীরে থাকায় এর যন্ত্রণা প্রায়শই পিঠে প্রতিফলিত হয়।

পঞ্চমত, চোখ ও ত্বক হঠাৎ হলুদ হয়ে জন্ডিসের উপসর্গ দেখা দেওয়া ক্যানসারের একটি প্রাথমিক ইঙ্গিত, যা মূলত অগ্ন্যাশয়ের মাথায় তৈরি হওয়া টিউমার পিত্তনালি অবরুদ্ধ করলে ঘটে থাকে। ষষ্ঠত, পছন্দের খাবারের প্রতি হঠাৎ অনিচ্ছা, গা গুলানো বা অল্প খেতেই পেট ভরে যাওয়ার মতো অনুভূতিকে খাটো করে দেখা উচিত নয়।

সর্বশেষ, ত্বকে কোনো ধরনের ফুসকুড়ি বা অ্যালার্জি না থাকা সত্ত্বেও সারা শরীরে একটানা তীব্র চুলকানি হওয়ার অর্থ হলো পিত্তনালি বন্ধ হয়ে রক্তে পিত্তলবণের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ক্যানসারের একটি আড়াল হওয়া লক্ষণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উল্লিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলেই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, কারণ এগুলো অন্য কোনো সাধারণ শারীরিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। তবে একাধিক উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

/আশিক


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৯:৪৯:৫০
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা
ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সকালে আয়োজিত বিশ্বনেতাদের এই বৈশ্বিক সম্মেলনে তিনি অংশ নেন।

বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এটিই তার প্রথম অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত একটি বিশেষ স্বাগত প্রাতরাশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও তাদের সফরসঙ্গীদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব এই আনুষ্ঠানিক প্রাতরাশের আয়োজন করেন।

/আশিক


'হাসিনার সময় পদত্যাগ চাইতাম, এখন চাওয়া ঠিক হবে না': জাহেদ উর রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৯:১৬:৪০
'হাসিনার সময় পদত্যাগ চাইতাম, এখন চাওয়া ঠিক হবে না': জাহেদ উর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে জনগণের সহানুভূতি ও সহমর্মিতার দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে জ্বালানির দাম বাড়লে সরকার উৎখাত বা পদত্যাগের দাবি তোলা হতো, তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের ক্ষেত্রে তেমন দাবি করা সমীচীন হবে না।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এ কথা বলেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজার ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধি করে, যা কার্যকর হয়েছে।

তেলের দাম বৃদ্ধিতে সরকারের ভাবমূর্তি ও জনপ্রিয়তায় কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জনগণের সহানুভূতি প্রত্যাশা করে বলেন, এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে এবং সামনেও হতে পারে। বিগত আমলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পূর্বে অনির্বাচিত সরকারের সময় যেকোনো পণ্য বা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটলে সরকারে থাকা ব্যক্তিদের পদত্যাগ দাবি করা হতো, কারণ জনগণ সে সরকারকে নিজেদের বলে গণ্য করত না। কিন্তু বর্তমান সরকার একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকার হওয়ায় জনগণের উচিত বিষয়টিকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করা।

মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পর সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, কীভাবে পরিস্থিতি আরও সহনীয় রাখা যেত বা মূল্য বৃদ্ধি কিছুটা কম করা যেত—তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা আসতেই পারে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও জ্বালানির দর নিয়ন্ত্রণ একটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, যা নির্বাচনেও প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় অজনপ্রিয় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকি সৃষ্টি করলেও, সরকার কোনো ধরনের অসাধু পথ অবলম্বন না করে বাস্তবতা মেনে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

একই সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের শর্ত প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সরাসরি কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। আইএমএফ সাধারণত অতিরিক্ত ভর্তুকি কমানোর পরামর্শ দিলেও সরকার সর্বদা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো নিজেদের বিবেচনাতেই পরিচালনা করে আসছে।

সাম্প্রতিক বাসে আগুন ও ককটেল হামলার কঠোর সমালোচনা করে তিনি জানান, দেশে কোনো রাজনৈতিক সংকট নেই এবং নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকার সবার রয়েছে। তবে সহিংসতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

/আশিক


দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার নিয়োগে ভারতের সবুজ সংকেত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৮:৪১:৩৬
দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার নিয়োগে ভারতের সবুজ সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগ প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে মঞ্জুর করেছে ভারত সরকার। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনের পক্ষ থেকে সরকারের ইতিবাচক সম্মতিপত্র বা ‘অ্যাগ্রিমেন্ট’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠন ও ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই নয়াদিল্লি এই অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নতুন হাইকমিশনার নিয়োগের বিষয়টি বিলম্বিত হওয়া নিয়ে চলা সমস্ত জল্পনা-কল্পনা ও অস্পষ্টতার অবসান ঘটল।

পেশাদার কূটনীতিক আসাদ আলম সিয়াম দিল্লিতে বর্তমান হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। একই পদে রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলে পরিবর্তনের পর তাকে জেনেভায় জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি পদে বদলি করা হয়েছে।

১৯৯৫ সালে বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগদানকারী আসাদ আলম সিয়াম গত বছরের জুনে পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তার পূর্বে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পদে কর্মরত ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি ফিলিপাইন ও অস্ট্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত, ইতালির মিলানে কনসাল জেনারেল এবং যুক্তরাজ্যসহ ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে বিভিন্ন কূটনৈতিক পদে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রটোকল প্রধান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অনুবিভাগের মহাপরিচালক এবং পররাষ্ট্র সচিবের দপ্তরের পরিচালক হিসেবেও তিনি নিযুক্ত ছিলেন।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারত সরকার সাবেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দিনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশও তাদের সবচেয়ে প্রবীণ ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে নয়াদিল্লিতে পদায়নের পথ বেছে নেয়।

২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের ফলে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা দেখা দেয়।

পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিচালনায় নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর উভয় পক্ষই পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। তবে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এখনো ঢাকার জন্য আলোচনার একটি প্রধান সংবেদনশীল বিষয় হয়ে রয়েছে।

/আশিক


দাম বাড়ার পরও প্রতি লিটার ডিজেলে ৭০ টাকা লোকসান গুণতে হবে: রিজভী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ২১:৩১:২৩
দাম বাড়ার পরও প্রতি লিটার ডিজেলে ৭০ টাকা লোকসান গুণতে হবে: রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হলেও সরকারকে এখনো লিটারপ্রতি প্রায় ৭০ টাকা করে লোকসান গুনতে হবে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতি লিটার ডিজেল প্রায় ২০৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, দাম বাড়ানোর আগে সরকারের লোকসান ছিল লিটারপ্রতি প্রায় ৯০ টাকা। বছরে দেশে প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ প্রায় ৪৫ লাখ টন। সাধারণ মানুষের ওপর এর চাপ বাড়ার কথা স্বীকার করলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর জটিল পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের বাধ্যবাধকতায় মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া সরকারের সামনে আপাতত কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কম দামে জ্বালানি সরবরাহের উপায় নিয়ে বিরোধীদের সুনির্দিষ্ট বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান রিজভী। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস ও জ্বালানি সংগ্রহ করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোকে পরিকল্পিত দাবি করে তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচিত সরকারের উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষামূলক কার্যক্রম থেকে জনগণের মনোযোগ সরাতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা তাদের সহযোগীরা এই নাশকতার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে তাদের দ্রুত শনাক্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। অপপ্রচার ও সহিংসতার প্রতিবাদে দলের অঙ্গ, সহযোগী ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধনের মতো নানা কর্মসূচি পালন করার পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

/আশিক

পাঠকের মতামত: