পতিত শক্তিকে আর ফিরতে দেওয়া হবে না: রিজভী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ১০:৫৩:৫২
পতিত শক্তিকে আর ফিরতে দেওয়া হবে না: রিজভী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক প্রতিবাদ মিছিল থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তি নতুন করে সংগঠিত হয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এসব তৎপরতার মোকাবিলা করা হবে।

মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে বিএনপি এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মিছিলে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি নয়াপল্টন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নাইটিংগেল মোড় ঘুরে আবারও দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

রিজভী তার বক্তব্যে বলেন, দেশবিরোধী শক্তি বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ ব্যবহার করে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ব্যবহার করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে এবং এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে বাংলাদেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার কোনো সুযোগ নেই। জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের স্বাধীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর বাইরের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা অতীতেও ছিল এবং এখনও কিছু শক্তি সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তবে জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণে বাংলাদেশকে আর কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাববলয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও তারা নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবেন। পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করে যেকোনো সহিংসতা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তারা জানিয়েছেন।

-রফিক


স্বর্ণ খাতে বড় সংস্কার, বদলাতে পারে আমদানি-রপ্তানি নিয়ম

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৭ ১৪:২৮:৫১
স্বর্ণ খাতে বড় সংস্কার, বদলাতে পারে আমদানি-রপ্তানি নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের দীর্ঘদিনের অনানুষ্ঠানিক স্বর্ণ ব্যবসাকে ধীরে ধীরে বৈধ, স্বীকৃত ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। খসড়াটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন ও অন্যান্য অংশীজনকে আগামী রোববারের মধ্যে লিখিত মতামত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত খসড়া নীতিমালা পর্যালোচনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সংশ্লিষ্টদের মতামত দ্রুত জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে অংশীজনদের সঙ্গে আরও একটি পরামর্শসভা করা হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব সংশোধিত নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবসাবান্ধব কাঠামোর আওতায় আনতে নীতি সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এনামুল হক খান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং স্বর্ণ খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। খসড়া নীতিমালায় স্বর্ণ আমদানি, সংরক্ষণ, পাইকারি ও খুচরা বেচাকেনা, রপ্তানি এবং কর-শুল্ক কাঠামো—সবগুলো বিষয় নতুনভাবে সাজানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বর্ণ ও অলংকার খাত বহু বছর ধরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর একটি বড় অংশ এখনো পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আসেনি। এই অবস্থার দায় শুধু ব্যবসায়ীদের নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর নীতিমালা, নজরদারি এবং বাস্তবসম্মত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার ঘাটতিও এর জন্য দায়ী। তাঁর মতে, ব্যবসায়ীদের এমন একটি পরিবেশ দিতে হবে যেখানে বৈধভাবে ব্যবসা করা সহজ হবে এবং অনিয়মের সুযোগ কমে আসবে।

সরকারের উদ্দেশ্য নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি করা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বর্ণ ব্যবসাকে অন্য শিল্পখাতের মতো নিয়মতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থায় আনা হলে একাধিক ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। বৈধ পথে আমদানি বাড়বে, সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, ব্যবসায়ীদের আইনি নিরাপত্তা তৈরি হবে এবং স্বর্ণের উৎস, মজুত ও বিক্রির হিসাব আরও পরিষ্কার হবে। সরকার সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, রপ্তানিমুখী শিল্প ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

খসড়া নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো বৈধভাবে আমদানি করা স্বর্ণের প্রতিটি ধাপ হিসাবের আওতায় আনা। কোথা থেকে স্বর্ণ এসেছে, কোন ব্যবসায়ীর কাছে কত পরিমাণ মজুত রয়েছে, কতটুকু অলংকার উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়েছে এবং কী পরিমাণ বিক্রি হয়েছে—এ ধরনের তথ্য একটি নির্ভরযোগ্য হিসাব ও তদারকি ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে। এতে অঘোষিত স্বর্ণ, অবৈধ লেনদেন এবং উৎস গোপনের প্রবণতা কমতে পারে বলে আশা করছে সরকার।

শুল্ক ও কর কাঠামোও নতুনভাবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, স্থানীয় বাজারের সঙ্গে দুবাইসহ আন্তর্জাতিক প্রধান স্বর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোর দামের ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বেশি হলে বৈধ আমদানি নিরুৎসাহিত হতে পারে এবং চোরাচালান বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সে কারণে এমন কর ও শুল্কহার দরকার, যাতে বৈধ ব্যবসা প্রতিযোগিতামূলক থাকে এবং অবৈধ পথে স্বর্ণ আনার আর্থিক প্রণোদনা কমে যায়।

সরকার শুধু স্বর্ণ আমদানি নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং এই খাতকে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনাও দেখছে। দেশে দক্ষ স্বর্ণকার ও দীর্ঘদিনের অলংকার তৈরির ঐতিহ্য রয়েছে। যৌক্তিক শুল্কে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ, মান নিয়ন্ত্রণ, ডিজাইন উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে বাংলাদেশ মূল্য সংযোজিত স্বর্ণালংকার রপ্তানির মাধ্যমে নতুন বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস তৈরি করতে পারে।

বাণিজ্যমন্ত্রী এর আগে জাতীয় সংসদে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন। দেশের রপ্তানি এখনো তৈরি পোশাকনির্ভর হওয়ায় নতুন উচ্চমূল্যের পণ্য ও শিল্পখাতকে বৈশ্বিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার ওপর সরকার জোর দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে স্বর্ণালংকার রপ্তানিকেও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

-রাফসান


গণমাধ্যম শক্ত হলে গণতন্ত্রও টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৭ ১৪:২৩:০৭
গণমাধ্যম শক্ত হলে গণতন্ত্রও টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

শক্তিশালী, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে টিভি এডিটরস কাউন্সিলের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কোনো পক্ষের প্রতি অনুগত না হয়ে তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে সত্য তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে দেশের সংবাদমাধ্যমের মালিকানা কাঠামো, আর্থিক দুর্বলতা এবং পেশাগত অনিশ্চয়তাকে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবেও চিহ্নিত করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং তা কোনো স্বল্পমেয়াদি প্রক্রিয়া নয়। পাশ্চাত্যের দেশগুলোর গণতান্ত্রিক বিকাশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বহু শতকের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সেখানে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ধৈর্য, সহনশীলতা এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যম যত স্বাধীন ও কার্যকর হবে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতাও তত শক্তিশালী হবে। এর আগেও জুলাইয়ের শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি বলেছিলেন, সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব হলো ভালো কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ভুল, অনিয়ম ও দুর্নীতিকে নির্ভয়ে সামনে আনা।

তবে দেশের টেলিভিশন টকশো ও রাজনৈতিক আলোচনার ধরন নিয়েও সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব। তাঁর মতে, অনেক আলোচনায় এমন একটি চিত্র তুলে ধরা হয়, যেন সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংসের মুখে। তিনি বলেন, সমালোচনা গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ হলেও তা তথ্যভিত্তিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে সরাসরি চাপ নেই দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারপরও অনেক সাংবাদিক নিজেরাই আত্মনিয়ন্ত্রণ বা আত্মসংযমের মধ্যে থাকেন। তাঁর মতে, এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও সাহসী হতে হবে। সত্য সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের স্বাধীনতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি নিজেদের অধিকার রক্ষায় পেশাজীবীদের ঐক্যও জরুরি।

সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের অনেক সংবাদকর্মী ন্যূনতম চাকরির নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়, বেতন কাঠামো অনিশ্চিত থাকে এবং শ্রম অধিকারের প্রশ্নেও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায় না। অথচ এ ধরনের ঘটনায় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রতিবাদ সবসময় দৃশ্যমান নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণমাধ্যমের মালিকানা কাঠামোকেও স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন মির্জা ফখরুল। তাঁর মতে, একটি সংবাদপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বার্থ, ব্যবসায়িক নির্ভরতা কিংবা মালিকের রাজনৈতিক অবস্থান যদি সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে, তাহলে একজন সাংবাদিকের পক্ষে পূর্ণ স্বাধীনতায় কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই মালিকানা, সম্পাদকীয় স্বাধীনতা এবং সংবাদকর্মীদের পেশাগত অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক শর্ত হচ্ছে ভিন্নমতকে সম্মান করা। রাজনৈতিকভাবে একমত না হলেও প্রতিপক্ষকে কথা বলার অধিকার দিতে হবে এবং জনপরিসরে ভিন্ন মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা বাড়লে গণমাধ্যম যেমন দুর্বল হয়, তেমনি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার ইতিহাস নিয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর দেশে দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতান্ত্রিক চর্চার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন এবং পরে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেও সেই ধারা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই অংশটি বিএনপির নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন দলের ভিন্ন ব্যাখ্যার অংশ।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও গণমাধ্যমকে গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরে মির্জা ফখরুল একাধিকবার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়েছেন। জুলাইয়ে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, সাংবাদিকদের কাজ হলো ব্যক্তি নয়, কাজকে মূল্যায়ন করা এবং রাজনীতিবিদদের ভুলত্রুটি তথ্যভিত্তিকভাবে তুলে ধরা।

-রফিক


আগস্টের শেষে চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৭ ১৪:১৭:৪১
আগস্টের শেষে চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ
ছবি : সংগৃহীত

আগস্ট মাসের শেষ দিকে চাকরিজীবীদের সামনে টানা চার দিনের ছুটি উপভোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারি ছুটির সঙ্গে মাত্র এক দিনের নৈমিত্তিক বা অনুমোদিত ছুটি সমন্বয় করতে পারলে ২৬ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ অবকাশ পাওয়া যেতে পারে। তবে পুরো পরিকল্পনাই নির্ভর করবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর সরকারি ছুটির চূড়ান্ত তারিখের ওপর।

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে। ইসলামি ধর্মীয় দিবসের তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটির দিন প্রয়োজন হলে পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে—আগের বছরও চাঁদ দেখার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ছুটির তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছিল।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকলে চাকরিজীবীরা পরদিন ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার এক দিনের নৈমিত্তিক বা অনুমোদিত ছুটি নিতে পারেন। এরপর ২৮ আগস্ট শুক্রবার এবং ২৯ আগস্ট শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় সব মিলিয়ে টানা চার দিনের বিরতি পাওয়া যাবে।

অর্থাৎ ২৬ আগস্ট সরকারি ছুটি, ২৭ আগস্ট ব্যক্তিগত বা নৈমিত্তিক ছুটি এবং ২৮ ও ২৯ আগস্ট সাপ্তাহিক ছুটি—এই সমন্বয়ই দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ তৈরি করবে। যারা পরিবার নিয়ে ভ্রমণ, গ্রামের বাড়ি যাওয়া বা ব্যক্তিগত বিশ্রামের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এটি সুবিধাজনক হতে পারে।

তবে ২৭ আগস্টের ছুটি স্বয়ংক্রিয় নয়। সংশ্লিষ্ট অফিস বা প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত ছুটি নীতিমালা অনুযায়ী অনুমোদন নিতে হবে। সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নৈমিত্তিক ছুটি বা অন্য প্রযোজ্য ছুটি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও নিজস্ব এইচআর নীতি ও সাপ্তাহিক ছুটির কাঠামো অনুযায়ী সুবিধার পার্থক্য থাকতে পারে।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি পালিত হয়। তবে হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, পানি, আইনশৃঙ্খলা, অগ্নিনির্বাপণ, পরিবহন ও অন্যান্য জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ক্ষেত্রে সাধারণ ছুটির সুবিধা একইভাবে কার্যকর নাও হতে পারে।

এ কারণে দীর্ঘ ছুটির পরিকল্পনা করার আগে দুটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি—প্রথমত, চাঁদ দেখার পর ২৬ আগস্টের ছুটি বহাল থাকে কি না; দ্বিতীয়ত, ২৭ আগস্টের ব্যক্তিগত ছুটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করে কি না। সরকার ধর্মীয় ছুটির তারিখ পরিবর্তন করলে পুরো চার দিনের হিসাবও বদলে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে সরকারি ছুটির বর্তমান সূচি অপরিবর্তিত থাকলে আগস্টের শেষ সপ্তাহে চাকরিজীবীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় দীর্ঘ বিরতির সুযোগ রয়েছে। মাত্র এক দিনের ছুটি সমন্বয় করতে পারলেই বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত টানা চার দিনের অবকাশ মিলতে পারে।

-রফিক


দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আসছে বড় পরিবর্তন, নতুন আইনের রূপরেখা প্রকাশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ২১:৩৯:০২
দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আসছে বড় পরিবর্তন, নতুন আইনের রূপরেখা প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া ইতোমধ্যে জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালকের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে এসআরবি। পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে প্রেষণে (ন্যূনতম দুই বছর মেয়াদে) সদস্য এনে এই বাহিনী গঠিত হতে পারে। এসআরবির মূল দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক ও সাইবার অপরাধ দমন, মানবপাচার রোধ এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ, গ্রেপ্তার ও মামলার তদন্ত পরিচালনার জন্য এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ইউনিটটিকে।

নতুন এই বাহিনীর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এসআরবির অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর এবং মানবাধিকার বা বিচার প্রশাসনের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা সদস্য হিসেবে থাকবেন, যারা নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ করতে পারবেন। পাশাপাশি বাহিনীর সদস্যদের জন্য সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনটি চূড়ান্ত ও কার্যকর হওয়ার পর র‌্যাবের বিদ্যমান সব সম্পদ, জনবল, তহবিল, চলমান মামলা ও দায়-দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে।

/আশিক


গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নতুন আশার খবর দিলেন জ্বালানিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ১৮:০৬:০২
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নতুন আশার খবর দিলেন জ্বালানিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) দেখা দেওয়া যান্ত্রিক গোলযোগ সমাধান শেষে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল থেকেই পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে, যার ইতিবাচক প্রভাবে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে সারা দেশের গ্যাস সংকট কেটে যাবে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে এসব কথা বলেন।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, এফএসআরইউ সংস্কারের কাজ বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। মেরামত কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সঞ্চালন ফের চালু করা হবে।

বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় গ্যাসের সরবরাহ না থাকলে সাধারণ গ্রাহকের পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও চাপ তৈরি হয়। গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক করা যায়।

/আশিক


নদীদূষণ দূর করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জবাব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ১৮:০১:৫১
নদীদূষণ দূর করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জবাব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের নদীদূষণ মারাত্মক ও দুর্বিষহ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, এই মুহূর্তে কঠোর ও টেকসই কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে নদী দূষণ ঠেকাতে সার্বিক এবং সমন্বিত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বিন্দুমাত্র অবহেলা বা শিথিলতা দেখানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি কেবল নতুন কর্মপরিকল্পনা তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, তা যেন দ্রুত ও সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অবস্থিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকা শহরের চারপাশের নদ-নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে একটি বিস্তৃত সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা দাঁড় করানো এবং তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।

এই বিশেষ বৈঠকে রাজধানীর কোলঘেঁষে বয়ে যাওয়া নদীসমূহ—বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যাসহ আশপাশের জলাশয়গুলোর বিদ্যমান পরিবেশগত বিপর্যয়, বর্জ্য ও দূষণের প্রধান প্রধান উৎস, বর্তমানে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং এসব সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে বিস্তারিত ও গভীর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, নদীকে বাঁচাতে হলে শিল্পকারখানাসমূহে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) নিয়মিত ও কার্যকর রাখা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শহরের খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন এবং নদী দূষণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

/আশিক


ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তির জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি: মাহদী আমিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ২১:৫৮:০৫
ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তির জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি: মাহদী আমিন
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে সংঘটিত আন্দোলনকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক পর্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, মুক্তিকামী মানুষের কাছে ৫ আগস্ট কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এটি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক উজ্জ্বল মাইলফলক।

আজ বুধবার (৫ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিশেষ বার্তায় মাহদী আমিন বলেন, আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের এই দিনে সব রাজনৈতিক শক্তি ও সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনীতিতে নতুন বার্তা নিয়ে আসে। তীব্র গণমানুষের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন শাসকশ্রেণি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক যাত্রায় পথচলা শুরু করে। এই স্মরণীয় অবদানকে সম্মান জানাতে দিবসটি জাতীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।

মুখপাত্র তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আত্মত্যাগ এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তির আন্দোলনই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আসল পটভূমি তৈরি করেছিল। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন অবস্থান সাধারণ মানুষকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, কৃষক, পোশাকশ্রমিক ও নারীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ছিল এই বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি। মানুষের এই স্রোতকে থামিয়ে দিতে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে নির্মম নির্যাতন ও আকাশপথ থেকে গুলি চালানো হলেও রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ কিংবা চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরামদের মতো বীরদের অদম্য সাহস জাতিকে মুক্তির পথ দেখায়।

তিনি গভীর বেদনার সাথে স্মরণ করেন যে, জুলাই-আগস্টের লড়াইয়ে হাজার হাজার মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। শত শত মানুষ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ কিংবা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। গণতান্ত্রিক দলগুলো দল-মত ভুলে ‘ফ্যাসিবাদ বনাম বাংলাদেশ’ এই এক অভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই ঐতিহাসিক ঐক্য গড়ে উঠেছিল।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে একক অর্জন হিসেবে দাবি করতে গিয়ে একটি রাজনৈতিক দল যেমন পরবর্তীতে জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে, তেমনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব নেওয়ার কোনো প্রতিযোগিতা দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ভিন্নমত ও ইতিবাচক সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে একত্রিত থাকার আহ্বান জানান, যেন রাজপথে বয়ে যাওয়া রক্ত ও আত্মত্যাগ বৃথা না যায়।

মাহদী আমিন আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সাল ছিল আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ এবং ২০২৪ সাল হলো সেই স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। একাত্তর, নব্বই এবং চব্বিশের লড়াইয়ের শিক্ষাকে পাথেয় করেই আগামীর পথ নির্ধারণ করবে দেশ। রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচিত বিএনপি সরকার বিগত সময়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত রূপকল্প, ৩১ দফা কর্মসূচি, নির্বাচনী ইশতেহার, জুলাই সনদ এবং প্রয়োজনীয় সংবিধান সংস্কারের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শকে ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মেধাভিত্তিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

/আশিক


জুলাইয়ের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে, যেন তা হারিয়ে না যায়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ২১:৪৩:০১
জুলাইয়ের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে, যেন তা হারিয়ে না যায়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অভ্যুত্থানের চেতনাকে কোনোভাবেই হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।

বুধবার (৫ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্তৃক আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি। সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে দীর্ঘ ১৬ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের নিরবচ্ছিন্ন আত্মত্যাগের ফলেই স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছে। এটিকে জাতির ইতিহাসের এক অনন্য ও গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। দুপুরের একটি আবেগঘন ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দৃষ্টিশক্তি হারানো এক সন্তানকে নিয়ে এক মায়ের আকুতি তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণ উৎসর্গকারী ও অঙ্গহানির শিকার হওয়া বীরদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান সরকার ও জাতীয় সংসদের অন্যতম প্রধান দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার।

সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জাতীয় জীবনে ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরের মতো ৫ আগস্টও এক ঐতিহাসিক বিজয়ের দিন। তিনি মন্তব্য করেন, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরে বিদেশি শত্রুকে পরাজিত করা হয়েছিল, আর ৫ আগস্ট অর্জিত হয়েছে দেশীয় ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটিয়ে। স্বাধীনতার পর ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অভাবে জনগণ যে বঞ্চিত হয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে সহনশীল ও উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে আইন বা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মানুষের মনোজগতে প্রকৃত সংস্কার আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মৌলিক সংস্কার শুরু হতে হবে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে। চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ৫ আগস্টের অর্জনকে স্বাধীনতার গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে সুসংহত করার নতুন অধ্যায় বলে অভিহিত করেন। তিনি বিগত সরকারের অর্থপাচার, বাকস্বাধীনতা হরণ ও 'আয়নাঘর'-এর মাধ্যমে কায়েম করা ভয়ের রাজত্বের তীব্র সমালোচনা করেন এবং রূপান্তরে সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে সংসদের বিভিন্ন হুইপ, সংসদ সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


জুলাই কার-এ নিয়ে বিভাজন করলে অর্জন হারিয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ২০:০৯:১৫
জুলাই কার-এ নিয়ে বিভাজন করলে অর্জন হারিয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব দাবি করে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভাজন সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি মন্তব্য করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের একার প্রাপ্তি নয়; বরং দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলন, গুম, খুন, নির্যাতন ও হাজারো মানুষের অকাতরে প্রাণদানের ধারাবাহিকতার ফসল এটি।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের হাত থেকে দেশ মুক্ত হওয়ার পর যদি এটিকে নির্দিষ্ট সীমানায় ভাগ করার চেষ্টা করা হয়, তবে জুলাইয়ের মূল চেতনা নষ্ট হয়ে যাবে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক জাতি স্বাধীনতার জন্য শতাব্দী ধরে আন্দোলন করলেও তা অর্জন করতে পারেনি, অথচ সঠিক সময়ে মাত্র কয়েক দিন বা সপ্তাহের লড়াই শতাব্দীর পরিবর্তন এনে দেয়। জুলাই অভ্যুত্থানকে এই ধরনের এক ঐতিহাসিক রূপান্তর হিসেবে উল্লেখ করে তিনি একে দলীয়করণের ঊর্ধ্ব রাখা এবং এর মূল দর্শন বাস্তবায়নে সকলকে এক হয়ে কাজ করার অনুরোধ জানান।

নিজের গুম হওয়ার দুঃসহ স্মৃতির কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত জমানার চড়া মূল্য দেওয়ার ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কেবল বিএনপির নেতাকর্মী নয়, সমাজ ও রাজনীতির অসংখ্য মানুষ দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন। চৌধুরী ইলিয়াস আলীর মতো অনেক নেতা গুম হয়ে আর ফিরে আসেননি। তাই দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ত্যাগ ও সংগ্রামকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র জুলাইয়ের শেষ ৩৬ দিনের হিসাব কষলে এই অভ্যুত্থানের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আন্দোলন অহিংস থাকবে নাকি সহিংস রূপ নেবে তা বিক্ষোভকারীরা ঠিক করে না; বরং যখন গণতান্ত্রিক ও শান্তিময় পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়, তখনই আন্দোলন রক্তক্ষয়ী হয়ে ওঠে। এছাড়া তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান।

জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারসমূহ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, তা কেবল সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই কার্যকর করা সম্ভব। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংস্কার পরিষদ বা জাতীয় সংস্কার পরিষদ—নাম যেটাই দেওয়া হোক না কেন, সংসদে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়েই একেকটি সংস্কার বাস্তবে রূপ নেবে।

সংগঠিত অন্যায়ের বিচারে আইনি কাঠামোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দেশে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আলাদা আইন তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতির মাত্রা বিবেচনা করে ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণিতে ভাগ করে সহায়তা দেওয়া হবে। যাতে গুরুতর আহতদের এবং কর্মক্ষমদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। এখনো যারা তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন, তাঁদের নিবন্ধনের অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাসও দেন তিনি।

ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো একক ব্যক্তির পাশাপাশি রাজনৈতিক দলও যদি মানবতাবিরোধী অপরাধ করে থাকে তবে তাদেরও আইনি কাঠামোর মুখোমুখি দাঁড় করানো সম্ভব। তবে তিনি প্রশাসনিক নির্দেশে বা নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে নন; বরং আদালতই এ বিষয়ে চুড়ান্ত ফয়সালা দেবেন বলে মনে করেন।

আগামীতে যাতে দেশে আর কোনো স্বৈরাচারের জন্ম না হতে পারে সে বিষয়ে সতর্ক করে তিনি জানান, ইতিহাসের এই আত্মত্যাগকে ধরে রাখতে জুলাই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা আগামীর সরকারকে ফ্যাসিবাদী আচরণ থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করবে। জুলাইয়ের অর্জনকে বাংলাদেশ ও সাধারণ মানুষের যৌথ জয় বলে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

/আশিক

পাঠকের মতামত: