অসুস্থতার খবর ভুয়া! ইরানের শীর্ষ নেতার সক্রিয়তার প্রমাণ দিলেন ভ্লাদিমির পুতিন

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা এবং রাজনৈতিক সক্রিয়তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো যে নেতিবাচক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করছিল, তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সোমবার সেন্ট পিটার্সবার্গের বোরিস ইয়েলৎসিন প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকে পুতিন প্রকাশ করেন যে, তিনি গত সপ্তাহে বিপ্লবের নতুন নেতার কাছ থেকে একটি বিশেষ বার্তা পেয়েছেন।
ক্রেমলিন প্রকাশিত বৈঠকের বিবরণ অনুযায়ী, পুতিন আরাঘচিকে বলেন, “দয়া করে সর্বোচ্চ নেতার বার্তার জন্য আমার গভীর কৃতজ্ঞতা তাঁর কাছে পৌঁছে দেবেন। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনায় আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল।” পুতিন আরও যোগ করেন যে, ইরানের জনগণ যেভাবে সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে নিজেদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লড়াই করছে, তা প্রশংসনীয়। মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ইরানের স্বার্থ রক্ষায় রাশিয়া সব ধরণের সহযোগিতা করবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
উল্লেখ্য, রয়টার্সসহ বেশ কিছু পশ্চিমা গণমাধ্যম দাবি করেছিল যে নতুন সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য উপযুক্ত নয়। তবে পুতিনের এই বক্তব্য এবং রয়টার্সেরই পরবর্তী এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সর্বোচ্চ নেতা সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুদ্ধ ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন আলোচনা সংক্রান্ত সব বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। পুতিন-আরাঘচি এই বৈঠকটি প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ইরান ও রাশিয়ার কৌশলগত মিত্রতা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
সূত্র: ফার্স নিউজ এজেন্সি
দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে প্রতিবেশী দেশে সফরে যাচ্ছেন পরাশক্তির শীর্ষ নেতা
কয়েক দিনের কূটনৈতিক ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস জোটের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চীন ও ভারত উভয় দেশের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘাতের পর বেইজিং ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে তীব্র অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। সেই তিক্ত সংঘাতের দীর্ঘ সাত বছর পর এটিই হতে যাচ্ছে শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। এর আগে ২০১৯ সালে তামিলনাড়ুর মামাল্লাপুরমে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিতে সর্বশেষ ভারত সফর করেছিলেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের নানামুখী জটিলতা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার পটভূমিতে বেইজিং-নয়াদিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য বরফ গলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভারতীয় বাজারে চীনা বিনিয়োগের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় ইলেকট্রনিকস ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে বাণিজ্যিক লেনদেন পুনরায় সচল হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে কিরগিজস্তানে এক আঞ্চলিক সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিং এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকে একমত হন যে উভয় দেশ ‘প্রতিযোগী নয়, বরং একে অপরের অংশীদার’। তবে আধুনিক ও সংবেদনশীল প্রযুক্তির বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের অভ্যন্তরীণ কড়া নজরদারি বহাল থাকলেও দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য গত বছর রেকর্ড ১৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে এবং চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে তা আরও ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স
ইরান যুদ্ধ কবে থামবে, দিনক্ষণ নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প
আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান হচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আগামী নভেম্বরে এই নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই সংঘাতের ইতি ঘটবে এবং এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য দ্রুত হ্রাস পেতে শুরু করবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) টেক্সাসে রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তেহরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক সামর্থ্য প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে মার্কিন চাপের মুখে ইরান আর বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না, ফলে নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধের অবসান ঘটবে। পরবর্তীতে টেক্সাসের মঞ্চেও একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে তিনি জানান, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার স্বার্থে স্বল্পমেয়াদে এই অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যৌক্তিক।
যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করবে। তবে দাম সাধারণের নাগালের ভেতর পৌঁছাতে সামান্য সময় লাগতে পারে বলেও তিনি স্বীকার করেন। সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাবে গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম তিন দফায় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। উপসাগরীয় তেলক্ষেত্রে অচলাবস্থা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে সামরিক বাধার কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। বুধবারও অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে স্পর্শ করে, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়। জবাবে তেহরানও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো নিশানা করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন নিক্ষেপ শুরু করলে যুদ্ধ আঞ্চলিক রূপ নেয়।
সংঘাত শুরুর প্রাক্কালে এটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন ট্রাম্প, কিন্তু প্রায় সাত মাস পেরিয়ে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ওয়াশিংটনের ভেতরে তাঁর ওপর রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে খোদ রিপাবলিকান শিবিরের কট্টরপন্থী অংশের বড় একটি পক্ষ এখন এই ব্যয়বহুল যুদ্ধ দ্রুত থামানোর পক্ষে জোর দিচ্ছে। চলমান এই যুদ্ধ অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি ডিজেলের দাম রেকর্ড মাত্রায় নিয়ে গেছে, যা মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার পুনরায় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এদিকে নির্বাচনের পটভূমিতে তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তেহরান নির্বাচনে এমন একটি শক্তিকে জয়ী দেখতে চায় যারা মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে নমনীয় হবে এবং তাদের পারমাণবিক শক্তি অর্জনে ছাড় দেবে।
যদিও এই দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি, তবে তাঁর এই তির্যক মন্তব্য মূলত ডেমোক্র্যাট শিবিরের বিরুদ্ধেই অভিযোগ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তেহরান অবশ্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সর্বদাই শান্তিপূর্ণ দাবি করে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে। আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণ যখন তুঙ্গে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ রাজনৈতিক সমীকরণ ছাপিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রধান চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে।
সূত্র: বিবিসি।
পর্যটকদের জন্য বিশাল সুখবর: শিগগিরই আসছে মধ্যপ্রাচ্যের একীভূত ভিসা
মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে ভ্রমণের প্রক্রিয়া সহজ করতে শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’। ইউরোপের শেনজেন ভিসার আদলে প্রণীত এই একক ভিসার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটকরা একটিমাত্র ভিসা ব্যবহার করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউইয়ের বরাতে সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর রিয়াদে অনুষ্ঠিত ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড হিস্ট্রি ডায়ালগ ২০২৬’-এর বিশেষ অধিবেশনে এই ভিসা চালুর বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন জিসিসি মহাসচিব। তিনি জানান, একীভূত এই ভিসা ব্যবস্থা খুব দ্রুতই আলোর মুখ দেখবে এবং বর্তমানে এটি বাস্তবায়নের কাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করছে। তবে এই ভিসা ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, এর ফি কত নির্ধারণ করা হবে কিংবা আবেদনের প্রক্রিয়া ও মেয়াদের বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
একক উপসাগরীয় পর্যটন ভিসার এই উদ্যোগটি গত কয়েক বছর ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবরে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পর্যটনমন্ত্রীরা সর্বসম্মতভাবে এই প্রস্তাব অনুমোদন করেন এবং পরের মাসেই তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পায়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তৌক আল মাররি জানিয়েছিলেন, আঞ্চলিক সংহতি জোরদার এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে একটি অখণ্ড পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বিশ্বের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পর্যটন ভিসার পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর নাগরিকদের নিজস্ব যাতায়াত আরও সহজ করতে ‘সিঙ্গেল-পয়েন্ট এয়ার ট্রাভেল’ নামক আরেকটি প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন আল-বুদাইউই। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মধ্যে এই ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর ফলে যাত্রীরা ফ্লাইটে ওঠার আগেই ইলেকট্রনিক সংযোগ ও বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে একবারেই অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছেন এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তাদের আর কোনো তল্লাশির মুখে পড়তে হচ্ছে না। তবে জিসিসি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, একক স্থানে ভ্রমণ প্রক্রিয়াটি মূলত উপসাগরীয় নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য, আর একীভূত পর্যটন ভিসাটি শুধুমাত্র বিদেশি পর্যটকদের অবাধ চলাচলের সুবিধা দেওয়ার জন্য নকশা করা হয়েছে।
/আশিক
জাতীয় সংসদে গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা উপস্থাপন
দেশে বিদ্যমান জ্বালানি সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে সুদূরপ্রসারী ও বহুমুখী একগুচ্ছ নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই রূপরেখার আওতায় ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে মোট ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খনন, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ২ডি ও ৩ডি সাইসমিক জরিপ পরিচালনা এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর ও অগভীর সমুদ্রাঞ্চলের মোট ২৬টি ব্লকে জোরালো হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের এসব জ্বালানি কৌশল তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশনটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে দেশের অভ্যন্তরে আকৃষ্ট করতে স্থলভাগের জন্য আধুনিক ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ প্রণয়নের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বর্তমানে দেশে কার্যকর থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মাধ্যমে গড়ে দৈনিক ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্রমবর্ধমান ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে আরও একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি বৃহৎ আকারের স্থলভিত্তিক বা ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ পুরোদমে চলছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, কুতুবজোমের নতুন টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে এবং মাতারবাড়ীর স্থলভিত্তিক টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর পাশাপাশি দেশের শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে গ্যাস সঞ্চালন ও সরবরাহ নেটওয়ার্কে নতুন বৈচিত্র্য আনার কথা জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে একটি নতুন ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে।
একই সাথে ভোলা দ্বীপের প্রাকৃতিক গ্যাসকে কম্প্রেসড বা এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডের শিল্পকারখানায় দ্রুত সরবরাহের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত গ্যাসের সরবরাহ সাপেক্ষে অর্থনৈতিক অঞ্চল, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পপার্কগুলোতে কারখানা স্থাপনকারী শিল্পোদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
/আশিক
আন্তর্জাতিক চাপে পশ্চিম তীর নিয়ে ইসরায়েলি নেতৃত্বের বড় সিদ্ধান্ত
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের তীব্র চাপের মুখে পড়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে অনুমোদন ছাড়া গড়ে ওঠা অবৈধ ইহুদি বসতিগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বার্তা সংস্থা রয়টার্স সংশ্লিষ্ট দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। মূলত প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো কূটনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপের কারণেই নেতানিয়াহু এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিতে উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের ধারাবাহিক হামলা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক নিন্দার জন্ম দিয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়াই রাতারাতি দাঁড়িয়ে যাওয়া অন্তত ১০০টি অবৈধ চৌকি বা আউটপোস্ট উচ্ছেদের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তবে এই ভাঙার কাজ ঠিক কবে নাগাদ মাঠপর্যায়ে শুরু হবে, সে সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত সময়সীমা এখনো খোলাসা করা হয়নি।
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘পিস নাউ’-এর পরিসংখ্যান অনুসারে, পশ্চিম তীরে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় অনুমোদিত ১৪৬টি বড় আকারের বসতির বাইরেও ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় জমিতে প্রায় ৩৪০টি অননুমোদিত আউটপোস্ট তৈরি করা হয়েছে। অস্থায়ী ও হালকা অবকাঠামো দিয়ে গড়ে তোলা এসব আস্তানায় মূলত উগ্রপন্থী কট্টর ইহুদিরা অবস্থান নিয়ে থাকে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) তাদের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই এসব বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৬টি করে সহিংস হামলার ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ শিকার হয়ে এক হাজারের বেশি নিষ্পাপ শিশুসহ দুই হাজার ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিজেদের ভিটামাটি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সংকটজনক এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তেল আবিবকে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি উগ্র ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। আসন্ন অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তীব্র বিরোধ ও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।
/আশিক
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে মধ্যরাতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। রিয়াদের অভিযোগ, এসব হামলায় বেসামরিক আবাসিক এলাকা ও কৌশলগত অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে হামলার তীব্র নিন্দা জানান সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ।
সৌদি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, রাতভর আভা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরকে লক্ষ্য করে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বিদ্রোহীরা। এসব হামলায় বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি নিশ্চিত করেছেন, এই হামলায় মোট ৭৩ জন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
বিপরীতে হুথি বিদ্রোহীদের দাবি, তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে সমন্বিত অভিযান চালিয়েছে। তাদের বিবরণ অনুযায়ী, জাজান, নাজরান, আভা এবং খামিস মুশাইতের সুনির্দিষ্ট কৌশলগত কেন্দ্রগুলোই ছিল তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য।
হামলার প্রত্যক্ষ প্রভাবে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি তেল ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, এই পরিস্থিতির কারণে জাজান এলাকায় অবস্থিত দেশটির একটি বৃহৎ তেল শোধনাগারে সাময়িকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। সৌদি সামরিক জোট একে একটি ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে চিহ্নিত করে হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুস্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
২০২২ সালের পর থেকে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার সংঘাত অনেকটাই শিথিল হয়ে এলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্তজুড়ে সহিংসতা আবার নতুন মাত্রা পেয়েছে। সর্বশেষ এই বড় ধরনের হামলার ঘটনা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতটিকে পুনরায় এক ভয়াবহ সংঘাতের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এদিকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি অবকাঠামোয় নতুন করে আঘাত হানার ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে, যা চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।
/আশিক
৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য: ইসরায়েলে রাজনৈতিক তোলপাড়
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নজিরবিহীন আক্রমণের প্রায় এক সপ্তাহ আগেই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সম্ভাব্য বিপদের কথা জানিয়ে সতর্ক করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে সেই আগাম বার্তা পাওয়ার পরও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি দেশের নিরাপত্তা প্রধানদের অবহিত করেননি এবং কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।
মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছে। আসন্ন ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকাশিত এই তথ্যের জেরে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুর অবিলম্বে পদত্যাগের জোরালো দাবি উঠেছে।
৭ অক্টোবরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে হারেৎজের সাংবাদিকদের আসন্ন একটি গবেষণামূলক গ্রন্থের অংশবিশেষ নিয়ে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান স্বয়ং নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট জানান যে হামাস অত্যন্ত বড় মাত্রার একটি সামরিক অভিযান পরিচালনার ছক কষছে।
সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি জানায়, তৎকালীন হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার ফিলিস্তিনের সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে হামাস যোদ্ধাদের আসন্ন ‘ভূমিকম্পতুল্য’ অভিযানের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন। ওই কর্মকর্তা ঘটনাটি আমিরাতের এক উপদেষ্টাকে জানালে তা প্রেসিডেন্ট নাহিয়ানের নজরে আসে এবং তিনি তৎক্ষণাৎ নেতানিয়াহুকে অবহিত করেন। তবে হারেৎজের দাবি, এত বড় সতর্কবার্তা পেয়েও নেতানিয়াহু দৃশ্যত উদাসীন ও শান্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর অবশ্য পুরো প্রতিবেদনটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে একে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য’ বলে আখ্যায়িত করেছে। হারেৎজকে বামপন্থী মনোভাবাপন্ন সংবাদমাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দাবি করেছে, ওই সময়ে আমিরাতি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নেতানিয়াহুর এমন কোনো সতর্কবার্তা সংক্রান্ত ফোনালাপই হয়নি। তবে বেনামি সূত্রের বরাতে তৈরি এই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
দেশটির সাবেক সামরিক কমান্ডার গাদি আইজেনকট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করে লিখেছেন, দফায় দফায় সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় নেতানিয়াহু এই পদের যোগ্যতা হারিয়েছেন এবং হামলার সকালে যথাসময়ে ঘুম থেকে না ডাকার মতো দুর্বল অজুহাত দিয়ে নিজের নিরাপত্তা ব্যর্থতা এড়াতে পারেন না। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট মন্তব্য করেছেন, ৭ অক্টোবরের ব্যাপক প্রাণহানির জন্য নেতানিয়াহু সরাসরি ও ব্যক্তিগতভাবে দায়ী, ফলে তাঁর এক মুহূর্তের জন্যও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।
উল্লেখ্য, সীমান্ত অঞ্চলের একটি উন্মুক্ত সংগীত উৎসবসহ আশপাশের বসতিতে চালানো হামাসের সেই প্রাথমিক আক্রমণে ১ হাজার ২২১ জন ইসরায়েলি নিহত হন এবং প্রায় ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নেওয়া হয়, যাদের মধ্যে পরবর্তীতে ৪৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। এর প্রতিশোধ নিতে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী নির্বিচার সামরিক আগ্রাসনে পুরো ভূখণ্ডটি এখন ধ্বংসস্তূপে রূপ নিয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৬৫৮ জনে।
/আশিক
যুদ্ধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, আর বিল দিচ্ছে পুরো বিশ্ব: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যুদ্ধ শুরু করে এখন সেই যুদ্ধের খরচের ‘বিল’ পুরো বিশ্বের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা।
বাঘায়ি উল্লেখ করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর আগপর্যন্ত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ ছিল। কিন্তু ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে বেআইনি ও বর্বর যুদ্ধ শুরু করার ফলেই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাবে তেলের ট্যাংকার আটকে গেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানি মুখপাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ও সংকটের সম্পূর্ণ দায় ইরানের ওপর চাপাতে চাইছে। ওয়াশিংটন যুদ্ধকে এমন একটি বয়ানে হাজির করছে যেন চলমান পরিস্থিতি তেহরানের পদক্ষেপেরই ফল। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ শুরু করেছে ওয়াশিংটন, অথচ সেই সংঘাতের যাবতীয় আর্থিক ও কৌশলগত খেসারত দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বিশ্ববাসীকে।
সূত্র : ইরনা
ইসরায়েলি দূতাবাসের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রিতে খামেনির নাম যেভাবে সামনে এল
যুক্তরাজ্যের লন্ডনের কেনসিংটন এলাকায় ইসরায়েলি দূতাবাসের মাত্র ৫০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সংশ্লিষ্ট দুটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডের সম্মিলিত ক্রয়মূল্যের এই সম্পত্তি দুটি বন্ধকী ঋণের কিস্তি খেলাপি হওয়ায় ব্রিটিশ সরকারের অনুমোদনে রিসিভারশিপের আওতায় নিলামে তোলা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সানডে টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, কেনসিংটনের প্যালেস গ্রিনের ৩-এ নম্বর ভবনের নিবন্ধিত মালিক ইরানি ব্যাংকার আলি আনসারি, যাঁকে মোজতবা খামেনির গোপন আন্তর্জাতিক সম্পদ নেটওয়ার্কের মূল অর্থদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ।
বিক্রির তালিকায় ওঠা পাঁচ বেডরুমবিশিষ্ট ৩ হাজার ৯৪৪ বর্গফুটের একটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটের বর্তমান দর চাওয়া হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের কিছু কম, যা ২০১৬ সালে আনসারি ১ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ডে কিনেছিলেন। অন্য অ্যাপার্টমেন্টটি এখনো প্রকাশ্যে তালিকায় না আসলেও দুটি ফ্ল্যাটের অবস্থান নিয়েই মূল কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
প্রিন্স অব ওয়েলসের সরকারি বাসভবনের কাছাকাছি এবং ইসরায়েলি দূতাবাসের পেছনের অংশের ঠিক মুখোমুখি হওয়ায় তাত্ত্বিকভাবে এই ফ্ল্যাটগুলো থেকে নজরদারি বা তথ্য সংগ্রহের ঝুঁকি ছিল বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন; যদিও এমন ব্যবহারের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ও যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া আনসারির আইনজীবী অবশ্য খামেনি বা আইআরজিসির সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক যোগাযোগের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঋণদাতা ও সংশ্লিষ্ট বকেয়া পরিশোধের পর বিক্রির অবশিষ্ট অর্থ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত জব্দ থাকবে বলে জানা গেছে।
সূত্র : দ্য সানডে টাইমস
পাঠকের মতামত:
- ইন্টারনেট বা ডেটা ছাড়াই গুগল ম্যাপ ব্যবহারের ৫টি সহজ উপায়
- দেশে শ্রমশক্তি ও কর্মসংস্থানের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ
- যুক্তরাজ্যের এনফিল্ডে জমজমাট ব্রিটিশ বাংলাদেশি কাপ ও কমিউনিটি ডে অনুষ্ঠিত
- পালিয়ে গিয়েও সমাজকে অস্থির করার চেষ্টা করছেন হাসিনা: ডা. শফিকুর রহমান
- লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হলে বিএনপিই সবার আগে করত: তারেক রহমান
- দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে প্রতিবেশী দেশে সফরে যাচ্ছেন পরাশক্তির শীর্ষ নেতা
- বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়েই জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে র্যাবের মতো শক্তিশালী ফোর্স অপরিহার্য: লুৎফুজ্জামান বাবর
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চীনের মুদ্রা নীতি: ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের নতুন দর
- আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে মিশ্র প্রবণতা, নজর মার্কিন মূল্যস্ফীতিতে
- ব্যালন ডি’অর ইয়ামালেরই প্রাপ্য: ফেইনুর্ড জয়ের পর বললেন হান্সি ফ্লিক
- ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের কর দাবি নিয়ে হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা
- বক্তব্যের পর আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে: সংসদে বিস্ফোরক রুমিন
- ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা, মুসলিম ঐক্যের ডাক দিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- জুলাই বিপ্লবের ভঙ্গুর দশা কাটিয়ে পূর্ণ শক্তিতে ফিরছে পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরান যুদ্ধ কবে থামবে, দিনক্ষণ নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প
- নাম বদলিয়ে নতুন বাহিনী গঠন বিশ্ব সম্প্রদায় মেনে নেবে না: জামায়াত আমির
- সংসদ সদস্যদের নম্বর হ্যাক করে টাকার দাবি: অধিবেশনে সতর্ক করলেন চিফ হুইপ
- তিন অভিষিক্ত নিয়েও কাজ হলো না, ইংল্যান্ডের পেস তোপে বিধ্বস্ত পাকিস্তান
- ডিএমপির সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার দুর্নীতি মামলায় দুদকের বড় পদক্ষেপ
- মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি: সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ রুমিন ফারহানার
- গ্যাস-বিদ্যুৎ বাদ দিয়ে সরকার আশির দশকে ফিরতে চাইছে: নাহিদ ইসলাম
- পর্যটকদের জন্য বিশাল সুখবর: শিগগিরই আসছে মধ্যপ্রাচ্যের একীভূত ভিসা
- জামায়াতকে ছাড়া একাই লড়বে এনসিপি: ঢাকা উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন
- কৃষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা
- কালীগঞ্জে কুশুলিয়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ডা. শফিকুল ইসলাম বাবুর গণসংযোগ
- কৃষিমন্ত্রীর মায়ের জানাজা বুধবার বেলা দুইটায় বিজয়পুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে
- এসএসসি পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ কাল, জানা যাবে ৩টি উপায়ে
- ওষুধ বা সিরাম নয়, খাদ্যাভ্যাসে এই পাঁচ খাবারেই মিটবে চুল পড়ার সমস্যা
- মহানগরের উড়াল সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার টেকসই সমাধানের রূপরেখা
- আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের পর নতুন নেতা বেছে নিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা
- জাতীয় সংসদে গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা উপস্থাপন
- ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ: কারাগারে এনসিপি নেত্রী সাদিয়া
- বাঁধনের ওপর হামলার জেরে ভিসায় প্রভাব পড়বে কি? যা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- রাজধানীতে টানা ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না কাল: কোন কোন এলাকা বন্ধ?
- ঐতিহাসিক দলিল ও আলোকচিত্র দেখে অশ্রুসিক্ত রাষ্ট্রপতি
- প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির ৯টি মূল কারণ জাতীয় সংসদে জানালেন প্রধানমন্ত্রী
- ব্যাংক খাতের সাবেক শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধান
- আন্তর্জাতিক চাপে পশ্চিম তীর নিয়ে ইসরায়েলি নেতৃত্বের বড় সিদ্ধান্ত
- রোনালদোকে ছাড়া ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের তালিকা ঘোষণা
- প্রত্যর্পণে দেশে ফেরা মাত্রই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে: শামা ওবায়েদ
- রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের বিষয়ে যা জানাল নয়াদিল্লি
- র্যাব অতীত, নতুন স্বচ্ছতায় আসছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি
- ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজে বড় ছাড়: প্যাকেজ-১ ও ২-এ যত টাকা সাশ্রয় হচ্ছে
- বল হাতে আলো ছড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি তারকার নতুন মাইলফলক
- নিজের জীবনের অজানা অধ্যায় প্রকাশ্যে আনলেন ব্ল্যাকপিংকের তারকা
- ব্যালন দ’রের সেরা গোলরক্ষকের সংক্ষিপ্ত তালিকায় বিশ্বকাপের নায়ক ভজিনিয়া ও সিমন
- ব্যালন দ’রের সেরা গোলরক্ষকের সংক্ষিপ্ত তালিকায় বিশ্বকাপের নায়ক ভজিনিয়া ও সিমন
- হয়রানি করে কোনো কর আদায় নয়, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা অর্থমন্ত্রীর
- বিশ্ববাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম
- আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে গ্যাস-বিদ্যুতের বিকল্প পরিকল্পনা দিন: রিজভী
- মধ্যপ্রাচ্যে সেনা নিরাপত্তা জোরদারে পেন্টাগনের নতুন পদক্ষেপ
- ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- তিন দফা পতনের পর স্বর্ণের দামে বড় লাফ
- ২৪ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখল: এস আলমের শেয়ার অবরুদ্ধ
- মামলার ৮ দিন পর মাদরাসায় অভিযান, কেন হয়নি কেউ গ্রেপ্তার
- লিপজিগে ড্রোন হামলা: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ অভিযোগ জার্মানির
- শেখ হাসিনার বক্তব্য ইস্যুতে ‘নো কমেন্ট’, তারেক রহমানের সফর নিয়ে যা বলল ভারত
- মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে তেল আবিবের বড় লক্ষ্য প্রকাশ
- নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ
- কারণ ছাড়া ওজন কমছে বা ক্লান্ত লাগছে? ক্যানসারের ৫ সংকেত জানাল জনস হপকিন্স
- দলবদলের বাজারে নতুন চমক, ইউরোপ ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যে তরুণ উইঙ্গার
- ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে রেখে আইসিসির বহুজাতিক সিরিজের পরিকল্পনা
- ওয়াশিংটনকে ‘যন্ত্রণাদায়ক জবাবের’ নতুন হুঁশিয়ারি শীর্ষ নেতার
- যানজট কমাতে নৌপথে আসছে নতুন গণপরিবহন ব্যবস্থা








