ইসরায়েলি প্রভাবের খবর নাকচ! ইরানের বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১১:২৪:০২
ইসরায়েলি প্রভাবের খবর নাকচ! ইরানের বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বা ইসরায়েল সরকার তাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে প্ররোচিত করছে—এমন দীর্ঘদিনের জল্পনা ও সংবাদমাধ্যমের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইসরায়েল তাকে কখনোই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রভাবিত করেনি।

ট্রাম্পের এই দাবি এমন এক সময়ে আসলো যখন ওমান সাগরে জাহাজ জব্দ ও ড্রোন হামলা নিয়ে ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা তুঙ্গে। ট্রাম্প জানান, ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখার বিষয়ে তিনি আরও কঠোর হয়েছেন ঠিকই, তবে যুদ্ধের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এই মর্মে একটি সমঝোতার দিকে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে। এমনকি প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক উপকরণ নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ভূমিকার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যকে স্রেফ ‘রাজনৈতিক চাল’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, ফাঁকা বুলিতে নয় বরং হরমুজ প্রণালিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ইরানের অবস্থান নির্ভর করবে বাস্তব পরিস্থিতির ওপর। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং ইসরায়েলের দ্বারা প্রভাবিত নন।

সূত্র : শাফাক নিউজ


‘বিধ্বংসী জবাব’ দেবে ইরান, সতর্ক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ১০:০৩:৪২
‘বিধ্বংসী জবাব’ দেবে ইরান, সতর্ক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের দারখোভিন অঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। হামলার পর ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’, ‘বর্বরোচিত আগ্রাসন’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। একই সঙ্গে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো নতুন আগ্রাসনের জবাব হবে ‘চূড়ান্ত ও বিধ্বংসী’।

ইরানের রাষ্ট্রীয় আণবিক শক্তি সংস্থা এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, একটি বেসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তাবিষয়ক আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিপন্থী। সংস্থাটির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে সামরিক শক্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং সর্বশেষ হামলাও তারই ধারাবাহিকতা।

আল জাজিরা প্রকাশিত বিবৃতির উদ্ধৃতি অনুযায়ী, ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সন্ত্রাসী ও অপরাধী সরকার’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, ওয়াশিংটনের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনকে অগ্রাহ্য করে পরিচালিত একটি ‘আগ্রাসী ও বর্বরোচিত’ সামরিক অভিযান। সংস্থাটির দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও দুর্বল করছে।

এদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, দারখোভিনের বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। সংস্থাটি হামলার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণে তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা। তাঁর দাবি, ওয়াশিংটনের সামরিক পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং সম্ভাব্য সামরিক ঝুঁকি মোকাবিলা করা।

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, শনিবার রাতের অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর বিরুদ্ধে জবাবমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।

মার্কিন হামলার পর ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি বলেছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা বর্বরোচিত হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, যদি যুক্তরাষ্ট্র আবারও একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে ‘চূড়ান্ত, কঠোর এবং বিধ্বংসী’।

-রফিক


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র, পরমাণুকেন্দ্রে নতুন হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ০৯:৫১:১১
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র, পরমাণুকেন্দ্রে নতুন হামলা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। টানা অষ্টম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সর্বশেষ অভিযানে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দারখোভিন এলাকায় নির্মাণাধীন একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর জবাবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে তেহরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিপর্যয়কর জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। নতুন করে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি। তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটন শুরু থেকেই ওই সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করে আসছিল। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তেহরান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের এই সিদ্ধান্তে তাঁর প্রশাসনের কোনো উদ্বেগ নেই। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য এখনো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে সেই লক্ষ্য অর্জনে সামরিক পদক্ষেপও অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার মূল কারণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিরোধ। সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত রুট ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলের কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। ইরানি নৌবাহিনীর দাবি, সম্প্রতি চারটি জাহাজ ‘অনিরাপদ’ রুট ব্যবহার করছিল। সতর্কবার্তার পর দুটি জাহাজ ফিরে গেলেও অপর দুটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে সেগুলোতে সরাসরি হামলা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

শনিবার রাতে চালানো মার্কিন হামলায় দারখোভিন অঞ্চলের নির্মাণাধীন পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, স্থাপনাটির নির্মাণকাজ প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও হামলার ঘটনা তারা তদন্ত করছে। অন্যদিকে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, একটি বেসামরিক পরমাণু স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও পারমাণবিক নিরাপত্তাবিষয়ক আন্তর্জাতিক নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)-কে জবাব দেওয়া। একই রাতে দারখোভিন ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এবং ইরাক সীমান্তসংলগ্ন শাদেগান এলাকার সামরিক স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, কুয়েতের আল আদিরি ক্যাম্প এবং আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তাদের একটি পানি পরিশোধনাগার হামলার শিকার হয়েছে। অন্যদিকে জর্ডানের আকাশেও সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। দেশটির সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা একাধিক ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে।

-রয়টার্স, আল জাজিরা


ইরানের চুক্তি বাতিলের ঘোষণাকে পাত্তাই দিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৯ ২১:৪৭:১১
ইরানের চুক্তি বাতিলের ঘোষণাকে পাত্তাই দিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) থেকে ইরানের বের হয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাকে মোটেও আমল বা পাত্তা দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থানের জবাবে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইরানের এমন একপাক্ষিক ঘোষণায় ওয়াশিংটনের ‘কিছুই যায় আসে না’। তবে সমঝোতা চুক্তিটি ভেঙে গেলেও ইরান যাতে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক মারণাস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প।

শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সব মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক এবং পরবর্তীতে সেটি আর কার্যকর না রাখার বিষয়ে তেহরানের সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া সাম্প্রতিক ঘোষণার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সুরে বলেন, এতে আমার বিন্দুমাত্র কিছু যায় আসে না।

হোয়াইট হাউজের এই প্রধান নীতি নির্ধারক দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের চেয়ে ওয়াশিংটনের মূল কৌশলগত লক্ষ্য একটাই—আর তা হলো ইরান যেন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে এবং মার্কিন প্রশাসন সেই লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এখানে উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী কর্তৃক শুরু করা দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ওই বিশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে অতি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে বিরোধের জেরে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে আবারও উত্তেজনার পারদ হু হু করে বেড়েছে এবং দুই পক্ষই বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

এদিকে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের এলিট সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা ইরাক সীমান্তবর্তী ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা একটি মার্কিন ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) ড্রোন নিখুঁতভাবে ভূপাতিত করেছে। ইরানের স্বনামধন্য রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ড্রোন ধ্বংসের সামরিক তথ্যটি প্রকাশ করেছে।

মার্কিন বিমান বাহিনীর অফিশিয়াল টেকনিক্যাল তথ্য ও বিবরণী অনুযায়ী, এমকিউ-৯ রিপার হলো অত্যন্ত আধুনিক ও দূরনিয়ন্ত্রিত একটি চালকবিহীন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান (ড্রোন)। এটি মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে অতি গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা, শত্রুর গতিবিধি নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ করা এবং সুনির্দিষ্ট নিখুঁত লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার গাইডেড মিসাইল হামলা চালানোর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশ্বজুড়ে ব্যবহার করে থাকে।

সূত্র: ইকোনমিক টাইমস


ইরানের নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৯ ১৮:৩৮:৪৯
ইরানের নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এবং বর্তমানে নির্মাণাধীন কৌশলগত ‘ডারখোভিন’ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক নিয়ম ও সমস্ত রক্ষাকবচের অধীনে থাকা সম্পূর্ণ বেসামরিক ও একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বাহিনীর এই আগ্রাসী হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম ও নজিরবিহীন লঙ্ঘন বলে কড়া ক্ষোভ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেহরান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা স্পষ্ট করে জানায়, ডারখোভিন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এখনো প্রাথমিক ও নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। তবে মার্কিন যুদ্ধবিমানের এই আকস্মিক হামলায় পারমাণবিক স্থাপনাটির ঠিক কী ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে কিংবা ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ কতটুকু, সে বিষয়ে তেহরান প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য বা পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরাজমান চরম বৈরিতার পারদ যখন দিন দিন আকাশচুম্বী হচ্ছে, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটল। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন। আর মার্কিন এই আগ্রাসনের কড়া জবাবে তেহরানের সশস্ত্র বাহিনীও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, গত জুন মাসে প্রতিবেশী পাকিস্তানের সরাসরি মধ্যস্থতায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির রূপরেখা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া মাঠপর্যায়ে চলমান থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের সামরিক বাহিনী কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না এবং দফায় দফায় এই ভয়াবহ গোলাগুলি ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের একটি নির্মাণাধীন পারমাণবিক কেন্দ্রে সর্বশেষ এই মার্কিন হামলা দুই দেশের চলমান উত্তেজনাকে আরও বেশি সংঘাতময় ও সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে।

/আশিক


আইএইএ-র চোখ ফাঁকি দিয়ে রিয়াদ-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক পরমাণু চালের নেপথ্যে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৯ ১৮:০৫:০০
আইএইএ-র চোখ ফাঁকি দিয়ে রিয়াদ-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক পরমাণু চালের নেপথ্যে
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবকে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ও অনুমতি দিয়ে একটি দ্বিপাক্ষিক পারমাণবিক চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত অনুমোদন না মেলায় অত্যন্ত সংবেদনশীল এই চুক্তিটি এখন আইনি টেবিলে আটকে রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসেই এই সম্ভাব্য চুক্তির যাবতীয় কূটনৈতিক ও কারিগরি আলোচনা সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও চরম ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নথিতে সই করতে বিলম্ব করছেন। এ ছাড়া খসড়াটি মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত হলে সেখানে দেশটির প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের (ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান) তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে—এমন একটি প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক আশঙ্কাও এই বিলম্বের অন্যতম বড় কারণ।

পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নিয়মানুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটিই হলো মূলত পারমাণবিক বোমা বা মারণাস্ত্র তৈরির মূল ও প্রাথমিক অনুষঙ্গ। এই কারণে বিশ্বজুড়ে সাধারণ নিয়ম হলো, কোনো দেশ যদি সম্পূর্ণ বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে চায়, তবে তারা নিজেরা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তা প্রক্রিয়াজাত অবস্থায় আমদানি করে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছেন যে, কঠোর বিধিনিষেধ বা আন্তর্জাতিক তদারকি না থাকলে এই শিথিল চুক্তির সুযোগ নিয়ে সৌদি আরব খুব সহজেই ভবিষ্যতে নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ও পথ পেয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগে খোদ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, তাদের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান যদি কখনো পারমাণবিক বোমা তৈরি করে, তবে নিজেদের সুরক্ষায় সৌদি আরবও পরমাণু বোমা বানাতে বাধ্য হবে।

এই চুক্তির খসড়ায় সবচেয়ে বড় উদ্বেগের যে বিষয়টি সামনে এসেছে তা হলো, এতে জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা বা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র চিরাচরিত কঠোর তদারকি ও জবাবদিহির নিয়মটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে, জাতিসংঘের এই স্বাধীন সংস্থাটি চাইলেই যখন-তখন সৌদির যেকোনো সন্দেহভাজন পরমাণু কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বা সেখানে আকস্মিক পরিদর্শন চালাতে পারবে না। পুরো পারমাণবিক কর্মসূচির দেখভাল ও নিয়ন্ত্রণ কেবল ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্তানুযায়ী পরিচালিত হবে। অথচ ইতিপূর্বে ২০০৯ সালে মধ্যপ্রাচ্যেরই আরেক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের লোভ ত্যাগ করে সম্পূর্ণ কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ম ও জাতিসংঘের কড়া নজরদারি মেনে আমেরিকার সাথে চুক্তি সই করেছিল, যা বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক সুরক্ষার ইতিহাসে আজ অবধি আদর্শ নিয়ম বা ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, সৌদির মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মতো স্পর্শকাতর প্রযুক্তি হস্তান্তর করা চরম বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ রিয়াদ প্রশাসন যেকোনো সংকটের মুহূর্তে আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে এই পরমাণু কেন্দ্রগুলোর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাতারাতি নিজেদের একক সামরিক কর্তৃত্বে নিয়ে নিতে পারে। অন্যদিকে, এই চুক্তির পক্ষে ও মার্কিন প্রশাসনের যারা ওকালতি করছেন, তাদের প্রধান অর্থনৈতিক যুক্তি হলো—এই বিশাল চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকার নিজস্ব পরমাণু ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল অংকের মুনাফা অর্জনের বড় সুযোগ পাবে।

এ ছাড়া মার্কিন লবিস্টদের আরও দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি এখন সৌদিকে এই প্রযুক্তি না দেয়, তবে রিয়াদ হয়তো বিকল্প পথ হিসেবে রাশিয়া কিংবা চীনের কাছে হাত বাড়াবে; যারা কোনো কঠোর আন্তর্জাতিক শর্ত ছাড়াই আরও সহজে সৌদিকে এই পরমাণু প্রযুক্তি সরবরাহ করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে চুক্তির ঘোর বিরোধীদের স্পষ্ট কথা, ওয়াশিংটন যদি বাণিজ্যিক লাভের আশায় এভাবে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিয়ম শিথিল করে সৌদির সাথে পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন করে, তবে তা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে মারাত্মক নজির হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

সূত্র: সিএনএন।


ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মূল্য নেই, দাবি খামেনির

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৯ ১০:২২:২২
ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মূল্য নেই, দাবি খামেনির
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বলেছেন, এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। শনিবার (১৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে আনাদোলু।

খামেনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতার শর্ত যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার ভঙ্গ করেছে। তার ভাষায়, এই পুনরাবৃত্ত ঘটনাই দেখিয়ে দিয়েছে যে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর নির্ভরযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করে দাবি করেন, জবরদস্তি, একচ্ছত্র আধিপত্য এবং কঠোর শক্তি প্রয়োগের নীতি দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অংশ হয়ে আছে।

নিজের বক্তব্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বর্তমান উত্তেজনা আরও বাড়ানোর পথে এগোয়, তাহলে তাদের আরও বড় মূল্য দিতে হবে এবং আরও অপমানের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের জনগণ এবং তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ (Resistance Front) যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা দীর্ঘদিন মনে রাখবে।

খামেনি জাতীয় ঐক্যের ওপরও জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনগণ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সব স্তরের মধ্যে সংহতি বজায় রাখা। তার মতে, জাতীয় মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যোদ্ধাদের তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষের দৃঢ় অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ হয়ে থাকবে।

অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই দিনে দেওয়া এক পৃথক বার্তায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। এক্সে প্রকাশিত পোস্টে তিনি বলেন, বর্তমান ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে দেশের সাফল্যের প্রধান শর্ত হলো অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক বিভাজন ও মতবিরোধ থেকে দূরে থাকা।

এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করায় তেহরানও ওই সমঝোতার আওতায় নিজেদের অঙ্গীকার স্থগিত করেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও জটিল করে তুলছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।

-রফিক


সম্ভাব্য বৃহত্তর যুদ্ধের জন্য মিত্রদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৮ ২০:২৬:০৩
সম্ভাব্য বৃহত্তর যুদ্ধের জন্য মিত্রদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সামরিক উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য একটি বড় ধরনের ও বিস্তৃত সংঘাতের জন্য নিজেদের আঞ্চলিক সব মিত্র শক্তিকে আগাম প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে ইরান। লেবানন থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘নিদা আল-ওয়াতান’-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তেহরানের পক্ষ থেকে বিশেষ করে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহসহ পুরো ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ অক্ষের শরিক দলগুলোকে যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন। এরপর তেহরানে তার জানাজা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকগুলোতে মিত্রদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, শত্রুর বিরুদ্ধে ‘অপেক্ষার সময় এখন শেষের পথে’ এবং এই মুহূর্তে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করাই জোটের প্রধান ও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংকট এমন এক সময়ে তৈরি হলো, যখন দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, সেই সমঝোতার মাত্র এক মাস পার হতে না হতেই আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ ও সংঘাত শুরু হয়ে গেছে।

চলমান এই নতুন দফার সামরিক সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরাসরি লিপ্ত হয়নি এবং তেহরানের পক্ষ থেকেও ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে কোনো পাল্টা হামলা চালানো হয়নি। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, লেবাননের হিজবুল্লাহ যদি এই পরিস্থিতিতে আবারও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে এই অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত ও বিপজ্জনকভাবে পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে।

লেবানিজ ওই পত্রিকার প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহকে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার জন্য নিজেদের সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখার তাগিদ দিয়েছেন। ইরানি নীতি নির্ধারকদের মতে, সামনে যদি কোনো নতুন সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে, তবে তা পূর্বের যেকোনো লড়াইয়ের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত, ভয়াবহ ও মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে।

প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন সংঘাত ও হামলায় ইরান-সমর্থিত বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক গোষ্ঠী বড় ধরনের সামরিক ও সাংগঠনিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তা সত্ত্বেও তেহরান প্রশাসন এখনো লেবাননের হিজবুল্লাহকেই মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তাদের ওপরই মূল ভরসা রাখছে।

প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আকস্মিক হামলা চালিয়ে এই অঞ্চলের একটি বৃহত্তর সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছিল। এর জবাবে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী লেবানন জুড়ে ব্যাপক ও বিধ্বংসী বিমান হামলা চালায় এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে একটি বাফার জোন বা নিরাপত্তা বলয়ের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। এর আগে ২০২৪ সালের সংঘাত চলাকালেও হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশকে সুনির্দিষ্টTarget করে হত্যা করেছিল ইসরায়েল।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আরেক অন্যতম শরিক ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহীরাও এই আঞ্চলিক সংকটের শুরু থেকে একাধিকবার ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এদিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনী টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন অভ্যন্তরীন অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানকে দেওয়া এক কঠোর হুঁশিয়ারির পর মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের হামলার পরিধি ও তীব্রতা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে তারা ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতুসহ কৌশলগত অবকাঠামোগুলোকে মূল লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এই সামরিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল রুট হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে তাদের একচ্ছত্র চাপ ও নিয়ন্ত্রণ কমাতে বাধ্য করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

মার্কিন এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানও বসে নেই; তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মিত্র দেশগুলোর সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানের দিকে নতুন করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তেহরানের পক্ষ থেকে সামনে আরও বড় ধরনের ও বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, আগের রাতে তাদের চালানো বিশেষ বিমান হামলায় ওমান উপসাগরের চাবাহার বন্দরে অবস্থিত ইরানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নজরদারি টাওয়ার সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।

সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দীর্ঘদিন ধরে চাবাহার বন্দরের এই বিশেষ টাওয়ারটি ব্যবহার করে আসছিল। এই টাওয়ারের মাধ্যমে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন বাণিজ্যিক মাদার ভেসেল ও সাধারণ জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত এবং হামলার জন্য লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করত।

মার্কিন সামরিক কমান্ডের ভাষ্য, এই কৌশলগত টাওয়ারটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ফলে বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা সমন্বয় করার ক্ষেত্রে আইআরজিসির সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই পদক্ষেপটি আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে। নিজেদের দাবির সপক্ষে সেন্টকম ওই সামরিক হামলার একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ফুটেজও গণমাধ্যমের জন্য প্রকাশ করেছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


ইরানে হামলার পরিধি বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প, ইসরায়েলে ধেয়ে আসছে আরও ডজনখানেক মার্কিন যুদ্ধবিমান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৮ ১৮:২১:০২
ইরানে হামলার পরিধি বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প, ইসরায়েলে ধেয়ে আসছে আরও ডজনখানেক মার্কিন যুদ্ধবিমান
মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি কেসি-৪৬এ এরিয়াল রিফুয়েলিং ট্যাংকার। ছবি: ফ্লাশ৯০

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের পরিধি আরও ব্যাপক আকারে বিস্তৃত করার জন্য এক রক্তক্ষয়ী মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই লক্ষ্য অর্জনে ইসরায়েলের মাটিতে আরও কয়েক ডজন অত্যাধুনিক আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) যুদ্ধবিমান পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে নতুন কয়েকটি কঠোর সামরিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করার পর হোয়াইট হাউস ইরানে বিমান হামলার পরিধি বহুগুণ বাড়ানোর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। বর্তমানে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালির আশপাশের এলাকাগুলোতে যে ধরনের হামলা চলছে, নতুন এই পরিকল্পনায় তার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত ও বিধ্বংসী অভিযান চালানোর কথা রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য নতুন লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের প্রধান প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো এবং দেশটির বিতর্কিত পারমাণবিক স্থাপনাসমূহ। এ ছাড়া ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেইন’-এর গভীরে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনাতেও হামলার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে, যেখানে ইরান নতুন ও অত্যাধুনিক সামরিক অবকাঠামো গড়ে তুলছে বলে ওয়াশিংটনের জোরালো ধারণা।

অবশ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও এই প্রস্তাবিত বিস্তৃত হামলার বিষয়ে তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সবুজ সংকেত দেননি। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বড় ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সংকটে ফেলতে তিনি চলমান হামলার তীব্রতা ও পরিধি বাড়ানোর পক্ষেই অবস্থান করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো, যেকোনো মূল্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালির অবরুদ্ধ নৌপথ পুনরায় খুলে দিতে এবং দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের দেওয়া সকল কঠোর শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করা। মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই বর্ধিত হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ জারি করা হতে পারে।

এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে টানা পঞ্চম দিনের মতো হরমুজ প্রণালি ও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সামরিক স্থাপনাগুলোতে বেপরোয়া হামলা চালিয়েছে মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনী। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর আব্বাসের আশপাশের অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এই বন্দর আব্বাস শহরকে হরমুজ প্রণালি এলাকায় ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অন্যতম প্রধান ও সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অন্যদিকে মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইরান ও তাদের প্রতিরোধ যোদ্ধারাও পাল্টা প্রতিরোধ হামলা জোরদার করেছে। আইআরজিসির আনুষ্ঠানিক দাবি অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে তারা নতুন করে সফল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া সিরিয়ায় অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান, যদিও মার্কিন সামরিক সূত্র দাবি করেছে যে কয়েক মাস আগেই ওই নির্দিষ্ট ঘাঁটি থেকে তাদের সকল সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল।

বর্তমানে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০টি অত্যাধুনিক রিফুয়েলিং বিমান অবস্থান করছে। এ ছাড়া ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের নেগেভ মরুভূমি সংলগ্ন রেমন বিমানঘাঁটিতেও প্রায় একই সংখ্যক মার্কিন সামরিক বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই পেন্টাগন আরও কয়েক ডজন রিফুয়েলিং বিমান পাঠাতে পারে, যার ফলে যুদ্ধ শুরুর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যে বিপুল পরিমাণ মার্কিন যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি ছিল, সেই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে দেশটি।

মার্কিন সামরিক কমাণ্ডাররা বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরকেই তাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করছেন, কারণ তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোতে থাকা মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলো ইরানের দূরপাল্লার নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

তবে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সামরিক ও জ্বালানি বিমান বেন গুরিয়নের মতো একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে অবস্থান করায় খোদ ইসরায়েলের অভ্যন্তরেই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান অনতিবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া বা তাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর জোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই বেসামরিক প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছে, যুদ্ধের এই মোক্ষম সময়ে মার্কিন বিমানকে সরানোর কোনো সুযোগ নেই। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো এই অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক বিমানগুলো ঠিক কোথায় সুরক্ষিত রাখা হবে, সেই বিকল্প ব্যবস্থার দায়িত্ব সম্পূর্ণ ইসরায়েল সরকারকেই নিতে হবে।

/আশিক


কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলা: সীমান্তে জ্বলছে আগুন, নেপথ্যে কী?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৭ ১০:১৮:০১
কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলা: সীমান্তে জ্বলছে আগুন, নেপথ্যে কী?

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার চলমান তীব্র সামরিক সংঘাতের আঁচ এবার এসে লেগেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র কুয়েতেও। কুয়েত ও ইরাকের মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকায় একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে আকাশের দিকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাতভর ইরানের পক্ষ থেকে চালানো একটি বড় ধরণের বিমান হামলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত ৩২টি বৈরী ও শত্রুতামূলক ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত ও ইন্টারসেপ্ট করেছে। এই ড্রোনগুলো কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও তাদের সম্পদগুলোকে নিশানা করে পাঠানো হয়েছিল।

এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক মোতায়েন সাইট এবং লজিস্টিক সাপোর্ট বা রসদ সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি ও দায় স্বীকার করেছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি কর্তৃক প্রকাশিত এক সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "ইতিহাস, জনগণের সমর্থন, অভিজ্ঞতা এবং যুদ্ধপ্রস্তুতির ওপর ভরসা রেখে আমরা যেকোনো ধরনের চাপ বা হুমকির বিরুদ্ধে পূর্ণ সতর্কতা ও কর্তৃত্বের সাথে দাঁড়িয়ে আছি।" কুয়েতের মাটিতে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের এই আকস্মিক ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলেছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

পাঠকের মতামত: