যুদ্ধের পর আদালতে নেতানিয়াহু, শুরু দুর্নীতি বিচার

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার ঘোষণা। দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা এই মামলার শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে আগামী রবিবার থেকে।
ইসরাইলি আদালতের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশের জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এবং বিচারিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় এখন থেকে মামলার শুনানি নিয়মিতভাবে চলবে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আদালতের কার্যক্রম আংশিকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছিল।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জারি করা জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত আসে। ফলে রাজধানী তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে স্কুল, অফিস ও অন্যান্য কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরতে শুরু করেছে।
আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রবিবার থেকে বুধবারের মধ্যে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এটি ইসরাইলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, কারণ প্রথমবারের মতো কোনো ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীকে ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন হতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, বিশ্বাসভঙ্গ এবং জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়, যদিও তিনি এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণে তা বারবার বিলম্বিত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ-এর কাছে তাকে ক্ষমা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর ইসরাইলে নতুন করে কোনো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতিকে কিছুটা স্থিতিশীল করেছে। তবে লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকায় এই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়, যা সংঘাতের পরিসর আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
মার্কিন হামলার পর বৈশ্বিক নীতিতে বড় পরিবর্তনের হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশকে নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা ও অস্ত্র অর্জনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই।
তার দাবি, মার্কিন প্রশাসনের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মারাত্মক পারমাণবিক অস্থিতিশীলতা ও সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলার সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ‘নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আক্রমণ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শনিবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনের বরাতে রুশ সংবাদ সংস্থা তাস এই তথ্য প্রচার করে। মোহসেন রেজাই আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদস্য থাকা কিংবা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) মেনে চলার মতো পদক্ষেপগুলোও কোনো সার্বভৌম দেশকে মার্কিন আগ্রাসন থেকে সুরক্ষা দেওয়ার কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আলোচনা ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের প্রতি সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে অভিযোগ তোলেন ইরানের এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তিনি দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটন যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে তারা।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে রেজাই বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানকে তাদের সামগ্রিক সামরিক প্রস্তুতি ও বৈদেশিক কূটনৈতিক কৌশল নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তেহরানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ধরন ও কূটনৈতিক নীতিতেও বড় ধরনের সংস্কার আনা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
/আশিক
বঙ্গোপসাগরে ২৪ নাবিক নিয়ে ডুবল জাহাজ, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ২২
বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি ওশেন উইনার’ ডুবে যাওয়ার পর দুই নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে জাহাজটিতে থাকা বাকি ২২ নাবিকের এখনো সন্ধান মেলেনি। তাদের খুঁজে বের করতে ভারতীয় কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী সমন্বিতভাবে বড় পরিসরে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) ভারতের ওড়িশা রাজ্যের পারাদ্বীপ উপকূল থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে বঙ্গোপসাগরে জাহাজটি ডুবে যায়। ভারতীয় কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ওশেন উইনারে মোট ২৪ জন নাবিক ও ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে ২০ জন চীনের, তিনজন মিয়ানমারের এবং একজন বাংলাদেশের নাগরিক। তবে উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তির জাতীয়তা বা পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
জাহাজটি ওড়িশার পারাদ্বীপ বন্দর থেকে লোহার আকরিক নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে প্রায় ৭২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন আয়রন ওর ফাইনস ছিল এবং ২০ আগস্ট রাতে পারাদ্বীপ ছেড়েছিল জাহাজটি। সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর সম্ভাব্য তারিখ ছিল ২৭ আগস্ট।
শনিবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে শ্রী বিজয়পুরমের মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার বা এমআরসিসি ‘ওশেন উইনার’-এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পায়। জাহাজটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভিক্টরি স্টার গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে একই সঙ্গে অনুসন্ধান ও উদ্ধার সহায়তা চাওয়া হয়। এরপরই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক সক্রিয় করে আশপাশে থাকা জাহাজগুলোকে সতর্ক করা হয়।
ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করা বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমটি আইসোপোস’-কে গতিপথ পরিবর্তন করে নিখোঁজ জাহাজ ও সম্ভাব্য লাইফ র্যাফট খুঁজতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে শনিবার রাত প্রায় ৮টার দিকে পৃথক দুটি লাইফ র্যাফট থেকে দুই নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে জাহাজটি। এরপরও বাকি ২২ জনের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করতে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের জাহাজ ‘আইসিজিএস ভারাদ’ ও ‘আইসিজিএস আনমল’ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রী বিজয়পুরম থেকে ‘আইসিজিএস বিজিত’কে উদ্ধার অভিযানে পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীও অভিযানে যুক্ত রয়েছে এবং ওই সমুদ্রপথে চলাচলকারী অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজকে নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে সহায়তা করতে বলা হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি থাকায় ঘটনাটি বাংলাদেশের জন্যও বিশেষ উদ্বেগের। তবে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া দুই নাবিকের মধ্যে বাংলাদেশি ক্রু সদস্য রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পৃথক পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বাংলাদেশি নাবিকটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ওশেন উইনারের আইএমও নম্বর ৯১৪৫৫৩০। পানামার পতাকাবাহী পানাম্যাক্স শ্রেণির এই বাল্ক ক্যারিয়ারটি ১৯৯৮ সালে নির্মিত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২২৫ মিটার, প্রস্থ প্রায় ৩২ মিটার এবং ডেডওয়েট ধারণক্ষমতা প্রায় ৭২ হাজার ৯২৮ টন। অর্থাৎ এটি মূলত বিপুল পরিমাণ শুকনা বাল্ক পণ্য যেমন লৌহ আকরিক পরিবহনের উপযোগী একটি বড় আকারের বাণিজ্যিক জাহাজ।
জাহাজটি কেন ডুবে গেল, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষও দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি। ফলে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রতিকূল আবহাওয়া, কার্গো-সংক্রান্ত সমস্যা কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না এ পর্যায়ে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী সামুদ্রিক তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হতে পারে।
-রফিক
ট্রাম্পের হালকা চালের বক্তব্য ও ইরানের কড়া জবাব: উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ভয়াবহতাকে কার্যত গুরুত্বহীন হিসেবে উপস্থাপন করে একে ‘একটি ছোট বিচ্যুতি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র সামরিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সাউথ ক্যারোলাইনায় আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সমাবেশে ট্রাম্প তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ও হালকা মেজাজে দেওয়া বক্তব্যে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, শুক্রবারের এই রাতে তাদের হাতে যথেষ্ট অবসর সময় রয়েছে। তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রশ্ন তোলেন, তার কি এখন অন্য কোনো কাজ বাকি আছে, নাকি তার আবার গিয়ে ইরানে কিছুটা বোমা বর্ষণ করা উচিত।
সংঘাতের বিষয়টিকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে হালকাভাবে তুলে ধরলেও ইরানের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করতে বড় ধরনের প্রস্তুতির পথে এগোচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। দেশটির ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ও কঠোর কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আনুষ্ঠানিক রূপরেখা ঘোষণা করবেন বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই লাগাতার অর্থনৈতিক হুমকিকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ওয়াশিংটনের দিক থেকে আসা তথাকথিত ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বা অর্থনীতি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণাকে পুরোপুরি ‘ব্যর্থ ক্লাসিক উপনিবেশবাদে প্রত্যাবর্তনের ব্যর্থ রেসিপি’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান।
সূত্র: সিএনএন
ট্রাম্প সীমা ছাড়লে রক্ষা পাবে না ইউরোপের লক্ষ্যবস্তুও: তেহরানের বার্তা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি চলমান সংঘাতের পরিধি আরও বাড়িয়ে দেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপ মহাদেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও হামলা চালানোর চিন্তাভাবনা করছে ইরান। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
তেহরানের উচ্চপর্যায়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রগুলো ইতোমধ্যেই মূল্যায়ন করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় বুলগেরিয়ার মতো দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর নাম রয়েছে, যারা সম্প্রতি মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের জন্য নিজেদের বেজমিয়ার বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। এছাড়া সাইপ্রাসকেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে চলতি বছরের মার্চে একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
কেবল ইউরোপের সামরিক স্থাপনাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে, যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা ফাইবার-অপটিক ক্যাবলগুলোতে আঘাত হানার পরিকল্পনাও খতিয়ে দেখছে ইরানি বাহিনী।
ইরানের সংশ্লিষ্ট সূত্রটি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছে, ট্রাম্প যদি ইরানের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোতে হামলা চালানোর হুমকি কার্যকর করেন, তবে আত্মরক্ষার্থে সংঘাত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখছে তেহরান। তাদের স্পষ্ট বার্তা—যুক্তরাষ্ট্র সীমা অতিক্রম করলে আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে ইউরোপ পর্যন্ত পাল্টা আঘাত হানা হবে।
এমন এক প্রেক্ষাপটে এই তথ্য প্রকাশ্যে এলো যখন হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত থমকে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন যে, তেহরানের সঙ্গে এই মুহূর্তে কোনো আলোচনা চলছে না এবং অদূর ভবিষ্যতেও বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।
অপরদিকে ইরান আগেই ঘোষণা দিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাতে যেসব ঘাঁটি ব্যবহার করা হবে, সেগুলোকেই সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের ভাণ্ডারে রয়েছে। উল্লেখ্য, সংঘাত নিরসনে গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পারস্পরিক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে তা ভেঙে পড়ে এবং নতুন কোনো সমঝোতার পথও তৈরি হয়নি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
পাঁচ দশকের সব রেকর্ড ভাঙল হরমুজ সংকট, জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা
২০২৬ সালের মার্চে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্ব তেল সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কার সৃষ্টি হয়েছে। ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের প্রকাশিত তালিকার বরাতে ইরাকি বার্তা সংস্থা শাফাক নিউজ জানিয়েছে, এ সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হ্রাস পায়।
গত পাঁচ দশকের বড় বড় যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক সংকটের তুলনায় বর্তমান হরমুজ সংকটের মাত্রা অনেক বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭৮-৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের সময় দৈনিক সরবরাহ কমেছিল প্রায় ৫৬ লাখ ব্যারেল, যা তালিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম সংকট। এছাড়া ১৯৭৩ সালের আরব তেল অবরোধ ও ১৯৯০ সালে কুয়েতে ইরাকের হামলার সময় দৈনিক সরবরাহ কমেছিল ৪৩ লাখ ব্যারেল করে। ১৯৮০-৮১ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধে ৪১ লাখ, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধে ২৩ লাখ এবং ২০১১ সালের লিবিয়া গৃহযুদ্ধের সময় প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল দৈনিক তেল সরবরাহ হ্রাস পেয়েছিল।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর ইরানের আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। মাঝে ১৮ জুন সাময়িক সমঝোতায় নৌপথটি কিছুটা সচল হলেও সামরিক উত্তেজনা পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। তেহরান অবশ্য জোর দিয়ে দাবি করেছে, কৌশলগত এ জলপথটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতেই রয়েছে।
সূত্র: শাফাক নিউজ
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে কিম জং উনের প্রতি ট্রাম্পের বার্তা
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার নতুন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই দ্বিমুখী কূটনৈতিক অবস্থানের তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিমের প্রশংসা করার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নির্ধারিত ১১ দিনের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে সিউলের অস্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ঘোষিত ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। একই সময়ে তিনি কিমের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে ফেরার স্পষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
তবে বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা করছেন। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রবার্ট লিটওয়াক ও জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভিক্টর চা উল্লেখ করেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দ্বারপ্রান্তে থাকা ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন যখন যুদ্ধে লিপ্ত, তখন সরাসরি মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম পারমাণবিক শক্তিধর উত্তর কোরিয়ার নেতাকে তোষণের চেষ্টা করা চরম বৈপরীত্য।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাবেক কূটনীতিকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সমর্থনে সেনা পাঠানো এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া বর্তমান কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী নন। বরং ইরানের ওপর চলমান হামলা দেখে পিয়ংইয়ং এটিই বার্তা পাচ্ছে যে, আত্মরক্ষার জন্য পারমাণবিক শক্তি জোরদার করাই তাদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।
/আশিক
নেতাদের জুয়ার মূল্য নগদে শোধ করছে মার্কিন পরিবারগুলো: ইরান
ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নেওয়া বৈরী নীতির আর্থিক বোঝা ও মার্কিন নেতাদের ভুল সিদ্ধান্তের মূল্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ পরিবারগুলোকে দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির আন্তর্জাতিকবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ভূরাজনৈতিক ও আঞ্চলিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ নীতির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে কথা বলেন ভেলায়াতি। তিনি উল্লেখ করেন, একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ নিয়ে গর্ব করছেন, অন্যদিকে স্বয়ং মার্কিন সিনেটর জন কর্নিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
১৯৫৩ সালের ১৯ আগস্ট (ইরানি ক্যালেন্ডারে ২৮ মোরদাদ) ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থানের—যার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেকের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল—৭৩তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে ভেলায়াতি এ মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, সাত দশকেরও বেশি সময় পর আজ আঞ্চলিক ক্ষমতার সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেছে এবং মার্কিন নেতাদের ঝুঁকিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির আর্থিক মাশুল সাধারণ আমেরিকান নাগরিকদেরই জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সরাসরি পরিশোধ করতে হচ্ছে।
সুত্র : আইআরএনএ
অবিলম্বে সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করুক ইরান: ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে দেশটিকে কালবিলম্ব না করে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত না করে তেহরানের উচিত দ্রুত ‘আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা’ তুলে ধরা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক ভূরাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করে ট্রাম্প জানান, বিদ্যমান বাস্তবতায় সংঘাত বাড়িয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং সংকট নিরসনে তেহরানের আত্মসমর্পণের পথ বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হবে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বার্তা বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে, যা বিশ্লেষকদের মতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
বরফ গলে নতুন রুট: সুয়েজ ও হরমুজকে কি টেক্কা দিতে পারবে চীন-রাশিয়া?
সুয়েজ খাল ও হরমুজ প্রণালির ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং দীর্ঘ দূরত্বের বিকল্প হিসেবে আর্কটিক অঞ্চলের ‘নর্দার্ন সি রুট’ (এনএসআর) দিয়ে নিয়মিত বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনা শুরু করেছে চীন। বরফাচ্ছাদিত রাশিয়ার উত্তর উপকূল ঘেঁষা ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নৌপথটি চীন ও ইউরোপের মধ্যকার সমুদ্রযাত্রার সময় প্রায় অর্ধেকে কমিয়ে আনলেও এর বিপরীতে পরিবেশগত বিপর্যয় ও নানামুখী পরিচালন ঝুঁকির প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।
চীনের শিপিং প্রতিষ্ঠান ‘সি লেজেন্ড’ সম্প্রতি এই পথে নিয়মিত কনটেইনার পরিবহন শুরু করেছে। প্রচলিত সুয়েজ খাল রুটে চীনের নিংবো-ঝৌশান বন্দর থেকে যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সস্টো পৌঁছাতে যেখানে ৪০ দিনের বেশি সময় লাগে, সেখানে এই আর্কটিক রুটে সময় লাগছে মাত্র ১৮ দিন। যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত হওয়ায় এটি বিশেষ করে চীনের প্রধান রপ্তানি পণ্য—যেমন বৈদ্যুতিক যান (ইভি), লিথিয়াম ব্যাটারি ও সৌর প্যানেলের মতো তাপমাত্রাসংবেদনশীল পণ্যের দ্রুত সরবরাহে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
২০১৭ সালে ঘোষিত প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘পোলার সিল্ক রোড’ রূপরেখার অংশ হিসেবে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় থাকা রাশিয়ার সাথে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির ফলে রুটটির ব্যবহার গতি পেয়েছে। রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা 'রোসাটম' এই জলপথে জাহাজ চলাচলের অনুমতি ও পারমাণবিক শক্তিচালিত বরফভাঙা জাহাজের সহায়তা দিচ্ছে।
তবে সময় ও কার্বন নিঃসরণ কমার সুবিধার বিপরীতে পরিবেশবিদরা মারাত্মক আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। আর্কটিকের অতি সংবেদনশীল পরিবেশে কোনো জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তেল ছড়িয়ে পড়লে তা অপসারণ প্রায় অসম্ভব। ভারী জ্বালানি থেকে নির্গত কালো কার্বন বরফে জমে সূর্যের আলো শোষণ বাড়ায়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও বরফ গলার গতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
এছাড়া যথাযথ বিমা ও তদারকিহীন রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা নিষেধাজ্ঞা এড়ানো প্রায় ১০০টি জাহাজের এই রুটে চলাচল ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, উদ্ধারকাজে দীর্ঘসূত্রতা ও সীমিত মৌসুমের কারণে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—সম্ভাবনা থাকলেও এই মুহূর্তে নর্দার্ন সি রুট সুয়েজ খাল বা হরমুজ প্রণালির পূর্ণাঙ্গ বিকল্প হতে পারছে না।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
পাঠকের মতামত:
- চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান চূড়ান্ত লড়াই নয়, ছিল লড়াইয়ের মহড়া: শফিকুর রহমান
- বিপুল জনগোষ্ঠীকে মানব সম্পদে রূপান্তরের মহাপরিকল্পনা সরকারের: শিক্ষামন্ত্রী
- মার্কিন হামলার পর বৈশ্বিক নীতিতে বড় পরিবর্তনের হুঁশিয়ারি ইরানের
- গ্যাস সংকটের জন্য সরকার দায়ী নয়, যুদ্ধের প্রভাব: রিজভী
- পরিবার নিয়ে বঙ্গভবনে উঠলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌপ্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম
- এগিয়ে এলো জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা, নতুন সূচি প্রকাশ
- গার্ড অব অনারে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- গার্ড অব অনারে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হলেন আশিক চৌধুরী
- বিনামূল্যে প্রাথমিক-জরুরি চিকিৎসার অঙ্গীকার সরকারের
- আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বহু এলাকায়
- দুই দিনেই ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত
- বঙ্গোপসাগরে ২৪ নাবিক নিয়ে ডুবল জাহাজ, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ২২
- আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- উপকূলে লঘুচাপের শঙ্কা: আগামী ৫ দিনের আবহাওয়া নিয়ে পূর্বাভাস
- কোরআনের আদর্শ বাস্তব জীবনে বাস্তবায়নেই মুক্তি মিলবে: জামায়াত আমির
- ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বদলাতে হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি: AMRA গোলটেবিলে বক্তারা
- সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান জোটে ঢাকার ইতিবাচক অবস্থান, গুরুত্ব পাবে জাতীয় স্বার্থ
- রাজনীতি নিছক ক্ষমতা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পথ: সাইদুর রহমান লিটল
- মেরামতকাজের কারণে রোববার যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না
- ট্রাম্পের হালকা চালের বক্তব্য ও ইরানের কড়া জবাব: উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য
- টেস্টের প্রথম দিন শেষে লড়াইয়ে ফেরার প্রত্যয় বাংলাদেশি পেসারের
- বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু-শিখ-জৈন শরণার্থীদের নাগরিকত্বের ঘোষণা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- ভিসা বাতিলের ঝুঁকি: বিদেশি শিক্ষার্থীদের কড়া বার্তা ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের
- তীব্র গ্যাস সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে দেশ
- অবসান হচ্ছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির: নতুন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ
- আন্তর্জাতিক ফুটবলে দারুণ সুযোগ: বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ
- দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির বড় বিপ্লব: সরকারের নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ
- পদত্যাগ করলেন তথ্যমন্ত্রী স্বপন
- সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান জোটে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করল বাংলাদেশ
- ভোট না দিয়ে রুমিন ফারহানা বললেন, ‘এটা নির্বাচন নয়’
- সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে বড় খবর
- নতুন রাষ্ট্রপতিকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান চরমোনাই পীরের
- মারাকানাকে ঘিরে বিশ্বকাপের বিরল রেকর্ড, সামনে নতুন অধ্যায়
- বিপিএল নিয়ে সব ধোঁয়াশার অবসান, যা জানাল বিসিবি
- স্বামীর শেষ বিদায়ে অংশ নিয়ে আবার কারাগারে দীপু মনি
- মির্জা ফখরুলের জয়ে চীন ও যুক্তরাজ্যের অভিনন্দনবার্তা
- হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ, তেল পরিবহনে বড় পরিবর্তন
- আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়া নিয়ে নতুন পূর্বাভাস
- মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর বিএনপিতে নতুন দায়িত্ব পেলেন রিজভী
- দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে উঠে কমল স্বর্ণের দাম
- জামায়াত সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে: নুর
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি ছয় সংসদ সদস্য
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুল, অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন শফিকুর রহমান
- অলি আহমদকে হারিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী মির্জা ফখরুল
- সরকারি অনুদানের চেক গ্রহণ করলেন রেসডোর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ
- অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী টেস্টের আগে ডোনাল্ডের মূল্যায়ন
- গ্যাস সরবরাহে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয়
- ইসলাম গ্রহণের গুঞ্জনের মধ্যে কার্লোসের জন্য ড. ইয়াসির আদ-দোসারির দোয়া
- ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বদলাতে হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি: AMRA গোলটেবিলে বক্তারা
- ছয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
- টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে বাংলাদেশের সামনে যে সমীকরণ
- নেতাদের জুয়ার মূল্য নগদে শোধ করছে মার্কিন পরিবারগুলো: ইরান
- ভারত-পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের বিশ্বরেকর্ড
- অবিলম্বে সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করুক ইরান: ট্রাম্প
- জননিরাপত্তা নিশ্চিতে রায়পুরা থানায় দুটি পুলিশ ভ্যান দিলেন এমপি বকুল
- সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে চরমোনাই পীরের ৬ দফা পরামর্শ
- দুপুরের আকাশে জ্বলজ্বল করবে তারা: বিরল সূর্যগ্রহণে রেকর্ড গড়বে লুক্সর
- কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে যেসব অভ্যাস বর্জনীয়
- মধ্যরাতের মধ্যে যেসব এলাকায় ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে
- বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক ও জ্বালানি সরবরাহ পর্যালোচনার আশ্বাস ভারতের
- ট্রাম্পের মেয়াদে আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি: মার্কিন জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য
- ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে এবার বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী
- বরফ গলে নতুন রুট: সুয়েজ ও হরমুজকে কি টেক্কা দিতে পারবে চীন-রাশিয়া?








