যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের দুই ধাপের পরিকল্পনা, কী আছে এতে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৪:৪০:৪৪
যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের দুই ধাপের পরিকল্পনা, কী আছে এতে
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত থামাতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে পাকিস্তান একটি কাঠামোবদ্ধ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব সামনে এনেছে, যা কার্যকর হলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের পথ প্রশস্ত হতে পারে।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, পাকিস্তান দ্রুততার সঙ্গে একটি দুই ধাপের শান্তি পরিকল্পনা উভয় পক্ষের কাছে পাঠিয়েছে। এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি এবং দ্বিতীয় ধাপে একটি বিস্তৃত ও স্থায়ী চুক্তির রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি সমঝোতা স্মারক আকারে ইলেকট্রনিকভাবে চুক্তিটি সম্পন্ন করার প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে ইসলামাবাদ নিজেকে একমাত্র মধ্যস্থতাকারী যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

এই প্রস্তাবের সময়কালও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ৪৫ দিনের একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে, যা ধাপে ধাপে একটি স্থায়ী সমাধানের দিকে অগ্রসর হতে পারে। পাকিস্তানের প্রস্তাব সেই আলোচনাকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও ত্বরান্বিত করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও এই উদ্যোগের গুরুত্বকে তুলে ধরছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে। এই বহুমাত্রিক কূটনৈতিক যোগাযোগ সংকট নিরসনে একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা হবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’ নামে পরিচিত হতে পারে। এই সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় প্রণালিকে কেন্দ্র করে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে এখনো পর্যন্ত এই প্রস্তাবের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান। পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করা হয়নি, যা কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার ইঙ্গিত বহন করে।

ইরানের অবস্থানও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে নয়, বরং এমন একটি স্থায়ী সমঝোতায় আগ্রহী যেখানে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পুনরাবৃত্তি হবে না—এমন নিশ্চয়তা থাকতে হবে। পাশাপাশি তারা একাধিক আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা আদানপ্রদান চালিয়ে যাচ্ছে।

সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তিতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি আলোচনার অংশ হতে পারে।

তবে বাস্তবতা এখনো অনিশ্চিত। পাকিস্তানের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি, যদিও সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবাহিত হয়, ফলে এর অচলাবস্থা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সতর্ক করেছেন যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

-রাফসান


মধ্যপ্রাচ্যে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব: শান্তির পথে কি হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১২:১০:২০
মধ্যপ্রাচ্যে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব: শান্তির পথে কি হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভয়াবহ সংঘাত নিরসনে এবং যুদ্ধের নাটকীয় বিস্তার রোধে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস রবিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি শেষ পর্যন্ত এই অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং আঞ্চলিক চারটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

আলোচনাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা এখনো ক্ষীণ। তবে এই শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেই যুদ্ধের ভয়াবহতা কমানোর একমাত্র সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদি এই আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর ভয়াবহ প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের মানচিত্র বদলে দিতে পারে।

এদিকে, ইরানের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটাম বা সময়সীমা নিয়ে নতুন নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। এর আগে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হলেও, রবিবার ট্রাম্প আকস্মিকভাবে সেই সময়সীমা আরও ২০ ঘণ্টা বাড়িয়ে দেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী মঙ্গলবার রাত ৮টা (পশ্চিমা সময়) পর্যন্ত ইরানকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলো।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সময়সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মূলত পর্দার আড়ালে চলমান আলোচনার একটি অংশ হতে পারে। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এখন আপ্রাণ চেষ্টা করছে যেন এই ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির শর্তাবলিতে উভয় পক্ষ একমত হয়। এই সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হলে মধ্যপ্রাচ্য বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে পারে। অন্যথায়, মঙ্গলবার রাতের সময়সীমা পার হওয়ার পর এক অনিশ্চিত ও বিধ্বংসী সংঘাতের মুখে পড়বে বিশ্ব।

/আশিক


হুমকির শেষে আল্লাহর নাম: ট্রাম্পের বিতর্কিত পোস্ট ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১১:৪৯:০৭
হুমকির শেষে আল্লাহর নাম: ট্রাম্পের বিতর্কিত পোস্ট ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
ছবি : সংগৃহীত

ইস্টার সানডের পবিত্র দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে চরম উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ওই পোস্টে ইরানকে কঠোর সামরিক হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি শেষ লাইনে ইসলামের পবিত্র শব্দ 'আল্লাহর নাম' ব্যবহার করায় বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প তাঁর বার্তায় কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে হুঁশিয়ারি দেন এবং বার্তার একেবারে শেষে লেখেন, 'সকল প্রশংসা আল্লাহর' (Praise be to Allah)।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বিতর্কিত বার্তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম অধিকার রক্ষা সংস্থা 'কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস' (কেয়ার)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ধ্বংসাত্মক হুমকির সাথে আল্লাহর নাম ব্যবহার করে ট্রাম্প মূলত ইসলাম ধর্মকে বিদ্রূপ করেছেন। কেয়ার-এর মতে, একদিকে ইরানি বেসামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো যুদ্ধাপরাধের হুমকি দেওয়া এবং অন্যদিকে ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার করা অত্যন্ত বেপরোয়া ও বিপজ্জনক আচরণ। এটি একইসাথে মানবজীবন এবং কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি চরম অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, আরবি ভাষায় 'আল্লাহ' শব্দটি ঈশ্বর বোঝাতে ব্যবহৃত হলেও, ট্রাম্প যে প্রেক্ষাপটে এবং যে ধরনের সহিংস বার্তার শেষে এটি যুক্ত করেছেন, তা মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে। সংস্থাটির দাবি, এটি কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল নয় বরং মুসলিমদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বিদ্বেষপূর্ণ এবং নেতিবাচক প্রচারণারই একটি অংশ। সহিংসতার বার্তার সাথে ধর্মীয় পবিত্র শব্দকে জুড়ে দেওয়া একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখছে এই সংগঠনটি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ট্রাম্পের এই পোস্ট নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সাথে চলমান সামরিক উত্তেজনার মাঝে এ ধরনের সংবেদনশীল ও উসকানিমূলক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে রাজনৈতিক ও সামরিক হুমকির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় কূটনৈতিক মহলেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। ট্রাম্পের এই আচরণ মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

/আশিক


তেলের বাজারে আগুনের সংকেত: ১৯৭০-এর রেকর্ড ভাঙতে পারে বর্তমান সংকট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১১:২৭:১৫
তেলের বাজারে আগুনের সংকেত: ১৯৭০-এর রেকর্ড ভাঙতে পারে বর্তমান সংকট
ছবি : সংগৃহীত

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল দ্বন্দ্বের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এক মাস ধরে বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান সংকটের ভয়াবহতা ১৯৭০-এর দশকের ঐতিহাসিক তেল বিপর্যয়কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং মায়ের্সকের সাবেক পরিচালক লার্স জেনসেনের মতে, এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, তা গত শতাব্দীর সত্তর দশকের তুলনায় অনেক বেশি গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ-এর পরিচালক ফাতিহ বিরোল বর্তমান অবস্থাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭০-এর দশকে তেলের দামের যে উল্লম্ফন ঘটেছিল বা সাম্প্রতিক ইউক্রেন যুদ্ধের পর প্রাকৃতিক গ্যাসের যে সংকট তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়েও বেশি উদ্বেগজনক। উল্লেখ্য, এক মাস আগে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই তেহরান এই জলপথটি কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যা দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।

সত্তরের দশকের সংকটের সঙ্গে বর্তমান সময়ের পার্থক্যের কথা তুলে ধরেছেন জ্বালানি অর্থনীতিবিদ ড. ক্যারল নাখলে। তিনি জানান, ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধের সময় আরব দেশগুলো ইসরায়েলকে সমর্থনের প্রতিবাদে পরিকল্পিতভাবে তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছিল এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এর ফলে কয়েক মাসের মধ্যে তেলের দাম চার গুণ বেড়ে যায়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বিশ্ব অর্থনীতিতে। বেকারত্ব বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং সামাজিক অস্থিরতার কারণে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের পতন পর্যন্ত ঘটেছিল।

বর্তমান সংকট নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোকে সাথে নিয়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। তিনি ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়েও তৎপরতা শুরু করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞ লার্স জেনসেনের মতে, যদি আগামীকালও এই প্রণালি খুলে দেওয়া হয়, তবুও তেলের ঘাটতি সহজে মিটবে না। এই সংকটের প্রভাব পরবর্তী ছয় থেকে বারো মাস পর্যন্ত বিশ্ববাজারে স্থায়ী হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

যদিও অনেকে মনে করেন বর্তমান বিশ্ব আগের চেয়ে জ্বালানি ব্যবহারে অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও বৈচিত্র্যময়, তবুও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নাটিক্সিস সিআইবির পরিচালক জোয়েল হ্যানকক মনে করেন, সত্তরের দশকের সংকট উন্নত দেশগুলো সামলাতে পারলেও বর্তমান সংকট দরিদ্র দেশগুলোর আর্থিক সক্ষমতাকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, একমাত্র যুদ্ধের তীব্রতা কমে আসা এবং দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরে আসাই পারে পৃথিবীকে এই ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা থেকে রক্ষা করতে।

/আশিক


৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম! ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ২০:০৮:৫৮
৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম! ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে এক ভয়াবহ সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আগামী মঙ্গলবার ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ থাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দ্রুত খুলে দেওয়ার জন্যই এই চরমপত্র দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমঝোতায় না এলে ইরানকে নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে যাওয়ায় ন্যাটোভুক্ত মিত্র দেশগুলোর ওপরও সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে অংশ নেওয়ার চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধংদেহী অবস্থানে বিভক্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপ। যুক্তরাজ্য ৪১টি দেশকে নিয়ে বৈঠক করে প্রণালিটি চালুর বিষয়ে ইরানকে দায়ী করলেও, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাঁখো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন।

মাঁখো স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানে সামরিক অভিযান ইউরোপের নীতি নয় এবং তারা এতে অংশ নেবে না। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারই ইরানের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরবরাহ সেতুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে দাবি করেছে পেন্টাগন।

/আশিক


ইরানের নতুন দফার হামলা শুরু! ইসরায়েলে বাজছে সাইরেন ও হাহাকার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১৭:৪০:০৯
ইরানের নতুন দফার হামলা শুরু! ইসরায়েলে বাজছে সাইরেন ও হাহাকার
ছবি : সংগৃহীত

ইরান থেকে আবারও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) এক জরুরি বার্তায় তারা জানায়, ইরানের দিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র এখন ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে এবং ধেয়ে আসা এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটির সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে এবং জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বর্তমান সংঘাতের শুরু থেকেই ইরান কয়েক দফায় বা ‘ওয়েভ’ আকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করার কৌশল নিয়েছে।

আজকের এই নতুন দফার হামলা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত ও যুদ্ধোন্মাদ করে তুলেছে। পেন্টাগন এবং আন্তর্জাতিক মহল এই হামলার গতিপ্রকৃতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

সূত্র: আল জাজিরা


পাইলট উদ্ধারে যৌথ হামলা! ইরানের মাটিতে মার্কিন-ইসরায়েলি কমান্ডোরা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১৭:২২:০৮
পাইলট উদ্ধারে যৌথ হামলা! ইরানের মাটিতে মার্কিন-ইসরায়েলি কমান্ডোরা
ছবি : সংগৃহীত

নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই উদ্ধার অভিযান ও হামলার ঘটনায় অন্তত পাঁচ ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের সময় এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটে। কহগিলুয়েহ ও বয়ার-আহমাদ প্রদেশের গভর্নরের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রদেশটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ‘ব্ল্যাক মাউন্টেন’-এ চালানো এই হামলায় ওই পাঁচজন নিহত হন।

এর আগে গত শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন এফ-১৫ বিমানটি ভূপাতিত হয়, তবে পাইলট নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। নিখোঁজ ওই পাইলটকে শনাক্ত করার পর তাকে উদ্ধারে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডোরা ইরানি ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় বা হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া না গেলেও, এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এই অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধারের দাবি করেছেন।

/আশিক


হাসপাতালে ট্রাম্প, না কি গুজব? সত্য জানাল হোয়াইট হাউস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১৪:২৯:৩৭
হাসপাতালে ট্রাম্প, না কি গুজব? সত্য জানাল হোয়াইট হাউস
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তাকে ম্যারিল্যান্ডের Walter Reed National Military Medical Center–এ ভর্তি করা হয়েছে—এমন দাবি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

৭৯ বছর বয়সী এই নেতাকে ঘিরে ছড়ানো এই তথ্যগুলো নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হলেও, তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াইট হাউস এসব দাবিকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

শনিবার সকালে প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক সূচিতে কেবল ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ উল্লেখ থাকায় তার প্রকাশ্য উপস্থিতি না থাকাকে ঘিরে প্রথমে জল্পনার সৃষ্টি হয়। এরপর হোয়াইট হাউস থেকে ‘লিড’ ঘোষণা দেওয়া হলে—যার অর্থ সেদিন তিনি আর জনসম্মুখে আসবেন না—গুঞ্জন আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ধারাভাষ্যকার Ed Krassenstein একটি পোস্ট করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং নানা অনুমানকে উসকে দেয়। সেখানে দাবি করা হয়, ওয়াল্টার রিড হাসপাতালের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রেসিডেন্টকে সেখানে নেওয়া হয়েছে।

তবে এই দাবির পরপরই হোয়াইট হাউসের র‍্যাপিড রেসপন্স টিম সামাজিক মাধ্যমে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের বক্তব্যে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট সাময়িকভাবে গণমাধ্যমে না আসলেই কিছু মহল অযৌক্তিক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তৈরি করে। তারা স্পষ্ট করে জানায়, প্রেসিডেন্ট নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন এবং কোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয় নেই।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক Steven Cheung জানান, প্রেসিডেন্ট ইস্টার ছুটির সময়ও ওভাল অফিসে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে ওয়েস্ট উইং এলাকায় মেরিন সেন্ট্রির উপস্থিতিও নিশ্চিত করে যে, প্রেসিডেন্ট ভবনের ভেতরেই অবস্থান করছেন।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা ওয়াল্টার রিড হাসপাতালের আশপাশে কোনো অস্বাভাবিক নিরাপত্তা তৎপরতা বা প্রেসিডেন্টের বহর দেখতে পায়নি। ফলে ট্রাম্প হাসপাতালে ভর্তি এমন দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

-রাফসান


গ্রিন কার্ড বাতিল! যুক্তরাষ্ট্রে কাসেম সোলেমানির স্বজনদের গ্রেপ্তার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১১:৩০:৫৯
গ্রিন কার্ড বাতিল! যুক্তরাষ্ট্রে কাসেম সোলেমানির স্বজনদের গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসন ইরানের শীর্ষ নেতাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রয়াত কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলেমানির ভাতিজি হামিদেহ সোলেমানি আফসার এবং তার মেয়েকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল পুলিশ।

শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বাতিল করার পর শুক্রবার তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) অধীনে রয়েছেন, তবে তাদের ঠিক কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামিদেহ সোলেমানি আফসার লস অ্যাঞ্জেলেসে অত্যন্ত ‘বিলাসবহুল জীবনযাপন’ করছিলেন, যার প্রমাণ তার সম্প্রতি মুছে ফেলা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পাওয়া গেছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেও ইরানের ‘কর্তৃত্ববাদী ও সন্ত্রাসী শাসনের’ প্রকাশ্য সমর্থক ছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার প্রশংসা করেছেন এবং আইআরজিসি-র প্রতি অটল সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

এমনকি তিনি আমেরিকাকে ‘মহা শয়তান’ আখ্যা দিয়ে নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে তার ও তার মেয়ের গ্রিন কার্ড বাতিলের পাশাপাশি তার স্বামীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপরও আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশেই ড্রোন হামলায় কাসেম সোলেমানি নিহত হয়েছিলেন।

এদিকে, মার্কিন এই দাবির বিপরীতে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম। কাসেম সোলেমানির মেয়ে নারজেস সোলেমানি দাবি করেছেন যে, তাদের পরিবারের কেউ কখনও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেননি। এমনকি তার বাবার কোনো ভাতিজি নেই, বরং কেবল দুইজন ভাতিজা ছিল। তবে মার্কিন প্রশাসন তাদের অবস্থানে অনড়।

গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ইরানের আরেক শীর্ষ নেতা আলী লারিজানির মেয়ে ও জামাতারও সকল অভিবাসন মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা হচ্ছে—যারা ‘আমেরিকা-বিরোধী সন্ত্রাসী শাসকের সমর্থক’ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ, তাদের কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে না। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের চলমান কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান


আল জাজিরার লাইভ: ইরান থেকে সফলভাবে ফিরেছেন মার্কিন পাইলট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১১:১৪:৪৭
আল জাজিরার লাইভ: ইরান থেকে সফলভাবে ফিরেছেন মার্কিন পাইলট
ওই পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন বাহিনী ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করছিল

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ দ্বিতীয় পাইলটকে এক নাটকীয় ও সাহসী অভিযানের মাধ্যমে নিরাপদে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সফল উদ্ধার অভিযানের খবর নিশ্চিত করেছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসের অন্যতম এই অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান অংশ নেয়, যেগুলোতে বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক ও মরণঘাতী অস্ত্র সজ্জিত ছিল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া পাইলট একজন অত্যন্ত সম্মানিত 'কর্নেল' এবং তিনি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন, যদিও অভিযানে তিনি সামান্য আহত হয়েছেন।

গত শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর থেকেই এই ক্রু সদস্য নিখোঁজ ছিলেন। তাকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতেই ইরানি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এবং টানা ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালায়। অন্যদিকে, ইরানও ওই পাইলটকে জীবিত ধরতে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছিল এবং তাকে ধরিয়ে দিতে পারলে মোটা অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন কমান্ডোরা সফলভাবে তাকে ইরান থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘অসাধারণ’ হিসেবে অভিহিত করে মার্কিন নাগরিকদের আশ্বস্ত করেছেন যে, তাদের কর্নেল এখন সম্পূর্ণ ধরাছোঁয়ার বাইরে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: