হুমকির শেষে আল্লাহর নাম: ট্রাম্পের বিতর্কিত পোস্ট ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১১:৪৯:০৭
হুমকির শেষে আল্লাহর নাম: ট্রাম্পের বিতর্কিত পোস্ট ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
ছবি : সংগৃহীত

ইস্টার সানডের পবিত্র দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে চরম উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ওই পোস্টে ইরানকে কঠোর সামরিক হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি শেষ লাইনে ইসলামের পবিত্র শব্দ 'আল্লাহর নাম' ব্যবহার করায় বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প তাঁর বার্তায় কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে হুঁশিয়ারি দেন এবং বার্তার একেবারে শেষে লেখেন, 'সকল প্রশংসা আল্লাহর' (Praise be to Allah)।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বিতর্কিত বার্তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম অধিকার রক্ষা সংস্থা 'কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস' (কেয়ার)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ধ্বংসাত্মক হুমকির সাথে আল্লাহর নাম ব্যবহার করে ট্রাম্প মূলত ইসলাম ধর্মকে বিদ্রূপ করেছেন। কেয়ার-এর মতে, একদিকে ইরানি বেসামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো যুদ্ধাপরাধের হুমকি দেওয়া এবং অন্যদিকে ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার করা অত্যন্ত বেপরোয়া ও বিপজ্জনক আচরণ। এটি একইসাথে মানবজীবন এবং কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি চরম অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, আরবি ভাষায় 'আল্লাহ' শব্দটি ঈশ্বর বোঝাতে ব্যবহৃত হলেও, ট্রাম্প যে প্রেক্ষাপটে এবং যে ধরনের সহিংস বার্তার শেষে এটি যুক্ত করেছেন, তা মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে। সংস্থাটির দাবি, এটি কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল নয় বরং মুসলিমদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বিদ্বেষপূর্ণ এবং নেতিবাচক প্রচারণারই একটি অংশ। সহিংসতার বার্তার সাথে ধর্মীয় পবিত্র শব্দকে জুড়ে দেওয়া একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখছে এই সংগঠনটি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ট্রাম্পের এই পোস্ট নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সাথে চলমান সামরিক উত্তেজনার মাঝে এ ধরনের সংবেদনশীল ও উসকানিমূলক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে রাজনৈতিক ও সামরিক হুমকির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় কূটনৈতিক মহলেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। ট্রাম্পের এই আচরণ মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

/আশিক


তেলের বাজারে আগুনের সংকেত: ১৯৭০-এর রেকর্ড ভাঙতে পারে বর্তমান সংকট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১১:২৭:১৫
তেলের বাজারে আগুনের সংকেত: ১৯৭০-এর রেকর্ড ভাঙতে পারে বর্তমান সংকট
ছবি : সংগৃহীত

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল দ্বন্দ্বের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এক মাস ধরে বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান সংকটের ভয়াবহতা ১৯৭০-এর দশকের ঐতিহাসিক তেল বিপর্যয়কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং মায়ের্সকের সাবেক পরিচালক লার্স জেনসেনের মতে, এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, তা গত শতাব্দীর সত্তর দশকের তুলনায় অনেক বেশি গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ-এর পরিচালক ফাতিহ বিরোল বর্তমান অবস্থাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭০-এর দশকে তেলের দামের যে উল্লম্ফন ঘটেছিল বা সাম্প্রতিক ইউক্রেন যুদ্ধের পর প্রাকৃতিক গ্যাসের যে সংকট তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়েও বেশি উদ্বেগজনক। উল্লেখ্য, এক মাস আগে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই তেহরান এই জলপথটি কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যা দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।

সত্তরের দশকের সংকটের সঙ্গে বর্তমান সময়ের পার্থক্যের কথা তুলে ধরেছেন জ্বালানি অর্থনীতিবিদ ড. ক্যারল নাখলে। তিনি জানান, ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধের সময় আরব দেশগুলো ইসরায়েলকে সমর্থনের প্রতিবাদে পরিকল্পিতভাবে তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছিল এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এর ফলে কয়েক মাসের মধ্যে তেলের দাম চার গুণ বেড়ে যায়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বিশ্ব অর্থনীতিতে। বেকারত্ব বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং সামাজিক অস্থিরতার কারণে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের পতন পর্যন্ত ঘটেছিল।

বর্তমান সংকট নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোকে সাথে নিয়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। তিনি ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়েও তৎপরতা শুরু করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞ লার্স জেনসেনের মতে, যদি আগামীকালও এই প্রণালি খুলে দেওয়া হয়, তবুও তেলের ঘাটতি সহজে মিটবে না। এই সংকটের প্রভাব পরবর্তী ছয় থেকে বারো মাস পর্যন্ত বিশ্ববাজারে স্থায়ী হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

যদিও অনেকে মনে করেন বর্তমান বিশ্ব আগের চেয়ে জ্বালানি ব্যবহারে অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও বৈচিত্র্যময়, তবুও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নাটিক্সিস সিআইবির পরিচালক জোয়েল হ্যানকক মনে করেন, সত্তরের দশকের সংকট উন্নত দেশগুলো সামলাতে পারলেও বর্তমান সংকট দরিদ্র দেশগুলোর আর্থিক সক্ষমতাকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, একমাত্র যুদ্ধের তীব্রতা কমে আসা এবং দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরে আসাই পারে পৃথিবীকে এই ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা থেকে রক্ষা করতে।

/আশিক


৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম! ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ২০:০৮:৫৮
৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম! ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে এক ভয়াবহ সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আগামী মঙ্গলবার ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ থাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দ্রুত খুলে দেওয়ার জন্যই এই চরমপত্র দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমঝোতায় না এলে ইরানকে নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে যাওয়ায় ন্যাটোভুক্ত মিত্র দেশগুলোর ওপরও সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে অংশ নেওয়ার চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধংদেহী অবস্থানে বিভক্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপ। যুক্তরাজ্য ৪১টি দেশকে নিয়ে বৈঠক করে প্রণালিটি চালুর বিষয়ে ইরানকে দায়ী করলেও, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাঁখো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন।

মাঁখো স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানে সামরিক অভিযান ইউরোপের নীতি নয় এবং তারা এতে অংশ নেবে না। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারই ইরানের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরবরাহ সেতুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে দাবি করেছে পেন্টাগন।

/আশিক


ইরানের নতুন দফার হামলা শুরু! ইসরায়েলে বাজছে সাইরেন ও হাহাকার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১৭:৪০:০৯
ইরানের নতুন দফার হামলা শুরু! ইসরায়েলে বাজছে সাইরেন ও হাহাকার
ছবি : সংগৃহীত

ইরান থেকে আবারও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) এক জরুরি বার্তায় তারা জানায়, ইরানের দিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র এখন ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে এবং ধেয়ে আসা এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটির সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে এবং জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বর্তমান সংঘাতের শুরু থেকেই ইরান কয়েক দফায় বা ‘ওয়েভ’ আকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করার কৌশল নিয়েছে।

আজকের এই নতুন দফার হামলা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত ও যুদ্ধোন্মাদ করে তুলেছে। পেন্টাগন এবং আন্তর্জাতিক মহল এই হামলার গতিপ্রকৃতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

সূত্র: আল জাজিরা


পাইলট উদ্ধারে যৌথ হামলা! ইরানের মাটিতে মার্কিন-ইসরায়েলি কমান্ডোরা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১৭:২২:০৮
পাইলট উদ্ধারে যৌথ হামলা! ইরানের মাটিতে মার্কিন-ইসরায়েলি কমান্ডোরা
ছবি : সংগৃহীত

নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই উদ্ধার অভিযান ও হামলার ঘটনায় অন্তত পাঁচ ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের সময় এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটে। কহগিলুয়েহ ও বয়ার-আহমাদ প্রদেশের গভর্নরের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রদেশটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ‘ব্ল্যাক মাউন্টেন’-এ চালানো এই হামলায় ওই পাঁচজন নিহত হন।

এর আগে গত শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন এফ-১৫ বিমানটি ভূপাতিত হয়, তবে পাইলট নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। নিখোঁজ ওই পাইলটকে শনাক্ত করার পর তাকে উদ্ধারে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডোরা ইরানি ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় বা হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া না গেলেও, এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এই অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধারের দাবি করেছেন।

/আশিক


হাসপাতালে ট্রাম্প, না কি গুজব? সত্য জানাল হোয়াইট হাউস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১৪:২৯:৩৭
হাসপাতালে ট্রাম্প, না কি গুজব? সত্য জানাল হোয়াইট হাউস
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তাকে ম্যারিল্যান্ডের Walter Reed National Military Medical Center–এ ভর্তি করা হয়েছে—এমন দাবি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

৭৯ বছর বয়সী এই নেতাকে ঘিরে ছড়ানো এই তথ্যগুলো নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হলেও, তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াইট হাউস এসব দাবিকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

শনিবার সকালে প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক সূচিতে কেবল ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ উল্লেখ থাকায় তার প্রকাশ্য উপস্থিতি না থাকাকে ঘিরে প্রথমে জল্পনার সৃষ্টি হয়। এরপর হোয়াইট হাউস থেকে ‘লিড’ ঘোষণা দেওয়া হলে—যার অর্থ সেদিন তিনি আর জনসম্মুখে আসবেন না—গুঞ্জন আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ধারাভাষ্যকার Ed Krassenstein একটি পোস্ট করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং নানা অনুমানকে উসকে দেয়। সেখানে দাবি করা হয়, ওয়াল্টার রিড হাসপাতালের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রেসিডেন্টকে সেখানে নেওয়া হয়েছে।

তবে এই দাবির পরপরই হোয়াইট হাউসের র‍্যাপিড রেসপন্স টিম সামাজিক মাধ্যমে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের বক্তব্যে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট সাময়িকভাবে গণমাধ্যমে না আসলেই কিছু মহল অযৌক্তিক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তৈরি করে। তারা স্পষ্ট করে জানায়, প্রেসিডেন্ট নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন এবং কোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয় নেই।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক Steven Cheung জানান, প্রেসিডেন্ট ইস্টার ছুটির সময়ও ওভাল অফিসে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে ওয়েস্ট উইং এলাকায় মেরিন সেন্ট্রির উপস্থিতিও নিশ্চিত করে যে, প্রেসিডেন্ট ভবনের ভেতরেই অবস্থান করছেন।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা ওয়াল্টার রিড হাসপাতালের আশপাশে কোনো অস্বাভাবিক নিরাপত্তা তৎপরতা বা প্রেসিডেন্টের বহর দেখতে পায়নি। ফলে ট্রাম্প হাসপাতালে ভর্তি এমন দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

-রাফসান


গ্রিন কার্ড বাতিল! যুক্তরাষ্ট্রে কাসেম সোলেমানির স্বজনদের গ্রেপ্তার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১১:৩০:৫৯
গ্রিন কার্ড বাতিল! যুক্তরাষ্ট্রে কাসেম সোলেমানির স্বজনদের গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসন ইরানের শীর্ষ নেতাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রয়াত কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলেমানির ভাতিজি হামিদেহ সোলেমানি আফসার এবং তার মেয়েকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল পুলিশ।

শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বাতিল করার পর শুক্রবার তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) অধীনে রয়েছেন, তবে তাদের ঠিক কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামিদেহ সোলেমানি আফসার লস অ্যাঞ্জেলেসে অত্যন্ত ‘বিলাসবহুল জীবনযাপন’ করছিলেন, যার প্রমাণ তার সম্প্রতি মুছে ফেলা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পাওয়া গেছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেও ইরানের ‘কর্তৃত্ববাদী ও সন্ত্রাসী শাসনের’ প্রকাশ্য সমর্থক ছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার প্রশংসা করেছেন এবং আইআরজিসি-র প্রতি অটল সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

এমনকি তিনি আমেরিকাকে ‘মহা শয়তান’ আখ্যা দিয়ে নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে তার ও তার মেয়ের গ্রিন কার্ড বাতিলের পাশাপাশি তার স্বামীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপরও আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশেই ড্রোন হামলায় কাসেম সোলেমানি নিহত হয়েছিলেন।

এদিকে, মার্কিন এই দাবির বিপরীতে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম। কাসেম সোলেমানির মেয়ে নারজেস সোলেমানি দাবি করেছেন যে, তাদের পরিবারের কেউ কখনও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেননি। এমনকি তার বাবার কোনো ভাতিজি নেই, বরং কেবল দুইজন ভাতিজা ছিল। তবে মার্কিন প্রশাসন তাদের অবস্থানে অনড়।

গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ইরানের আরেক শীর্ষ নেতা আলী লারিজানির মেয়ে ও জামাতারও সকল অভিবাসন মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা হচ্ছে—যারা ‘আমেরিকা-বিরোধী সন্ত্রাসী শাসকের সমর্থক’ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ, তাদের কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে না। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের চলমান কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান


আল জাজিরার লাইভ: ইরান থেকে সফলভাবে ফিরেছেন মার্কিন পাইলট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১১:১৪:৪৭
আল জাজিরার লাইভ: ইরান থেকে সফলভাবে ফিরেছেন মার্কিন পাইলট
ওই পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন বাহিনী ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করছিল

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ দ্বিতীয় পাইলটকে এক নাটকীয় ও সাহসী অভিযানের মাধ্যমে নিরাপদে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সফল উদ্ধার অভিযানের খবর নিশ্চিত করেছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসের অন্যতম এই অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান অংশ নেয়, যেগুলোতে বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক ও মরণঘাতী অস্ত্র সজ্জিত ছিল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া পাইলট একজন অত্যন্ত সম্মানিত 'কর্নেল' এবং তিনি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন, যদিও অভিযানে তিনি সামান্য আহত হয়েছেন।

গত শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর থেকেই এই ক্রু সদস্য নিখোঁজ ছিলেন। তাকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতেই ইরানি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এবং টানা ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালায়। অন্যদিকে, ইরানও ওই পাইলটকে জীবিত ধরতে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছিল এবং তাকে ধরিয়ে দিতে পারলে মোটা অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন কমান্ডোরা সফলভাবে তাকে ইরান থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘অসাধারণ’ হিসেবে অভিহিত করে মার্কিন নাগরিকদের আশ্বস্ত করেছেন যে, তাদের কর্নেল এখন সম্পূর্ণ ধরাছোঁয়ার বাইরে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন।

/আশিক


মার্কিন সেনাদের সাথে ইরানে থাকছে না ইসরায়েল! ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১০:১৭:১০
মার্কিন সেনাদের সাথে ইরানে থাকছে না ইসরায়েল! ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তুত করছে মার্কিনীরা—এমন খবরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভিযানে ইসরায়েল সরাসরি অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনমনে কিছু সমালোচনা থাকলেও কৌশলগত বাস্তবতাই এর পেছনে প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শনিবার রাতে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর সীমিত পরিসরের স্থল অভিযানের পরিকল্পনা তৈরি করছে। এতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ নয় বরং কয়েক সপ্তাহ বা মাসজুড়ে কয়েক হাজার সেনা মোতায়েনের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এসব পরিকল্পনায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত আঘাত’ হানার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী বা পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো দখলের পরিকল্পনাও রয়েছে। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের নামও উঠে এসেছে। এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় খারগ দ্বীপে প্রতিরক্ষা জোরদার করছে ইরান।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি ইঙ্গিত দেন যে, শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্যে স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। তবুও সাম্প্রতিক কোনো প্রতিবেদনে ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এতে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনা তৈরি হয়েছে—বিশেষ করে এমন ধারণা থেকে যে, এই যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের ঝুঁকি বাড়ছে, অথচ এটি মূলত ইসরায়েলের স্বার্থেই পরিচালিত হচ্ছে।

এ পর্যন্ত সংঘাতে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ভূখণ্ড দখল ও ধরে রাখার চেষ্টা করলে ঝুঁকি আরও বহুগুণ বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রে জনসমর্থনও সীমিত। কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। অনেকের মতে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইসরায়েলের বেশি স্বার্থ রক্ষা করছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলকে ‘অনুপস্থিত’ মনে হলেও বাস্তবে যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্য ফোরামের নির্বাহী পরিচালক গ্রেগ রোমান বলেন, যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনে ইসরায়েলের হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেয় এবং সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য পরিস্থিতি তৈরি করে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের দ্বীপগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্যও দিয়েছে ইসরায়েল।

তবে সরাসরি স্থল যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। জিউইশ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অব আমেরিকার নীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্লেইজ মিসজটাল বলেন, ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও এবার ইসরায়েল স্থল যুদ্ধে অংশ নেবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এর পেছনে কূটনৈতিক নয় বরং সামরিক বাস্তবতা বড় কারণ।

ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হুমকির কারণে ইসরায়েলকে নিজ সীমান্তেই বড় অংশের সেনা মোতায়েন রাখতে হচ্ছে। বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর উপস্থিতি বড় উদ্বেগের কারণ। বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একাধিক ডিভিশন মোতায়েন রয়েছে। একই সঙ্গে গাজা ও পশ্চিম তীরেও তাদের অভিযান চলছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল পুরোপুরি বাইরে থাকবে—এমনও নয়।

গোপনে বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে ইরানের ভেতরে সীমিত অভিযান চালানো হতে পারে। গ্রেগ রোমানের ভাষায়, ‘ইরানের মাটিতে একজনও ইসরায়েলি সদস্য না থাকা কৌশলগত ভুল হবে।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন গোপন কার্যক্রমে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ থাকতে পারে। সব মিলিয়ে এটি ইসরায়েলের অনাগ্রহ নয় বরং যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন অভিযানে কৌশলগত দায়িত্ব বণ্টনেরই অংশ।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


নিখোঁজ মার্কিন পাইলট উদ্ধার!চলছে ইরানি বাহিনীর সাথে তুমুল লড়াই

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১০:১১:৫৬
নিখোঁজ মার্কিন পাইলট উদ্ধার!চলছে ইরানি বাহিনীর সাথে তুমুল লড়াই
ছবি : সংগৃহীত

ইরানি বাহিনীর সঙ্গে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর অবশেষে নিখোঁজ দ্বিতীয় মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির একজন সরকারি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ভূপাতিত হওয়া এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের ওই ক্রু সদস্যকে তুমুল গোলাগুলির মধ্য দিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে উদ্ধার অভিযান এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাইলটকে খুঁজে পাওয়া গেলেও তিনি এখনো ইরানি ভূখণ্ডে থাকায় নিরাপদ নন; উদ্ধারকারী স্পেশাল ফোর্সের দলকে তাকে নিয়ে সফলভাবে ইরান সীমান্ত পার হতে হবে। গত শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর থেকেই এই ক্রু সদস্যকে নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা ইরানে প্রবেশ করলে তারা ইরানি বাহিনীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে। এই উদ্ধার অভিযান চলাকালে আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং একটি হেলিকপ্টারও ইরানি হামলার শিকার হয়।

অন্যদিকে, ওই পাইলটকে জীবিত ধরতে ইরানও ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছিল এবং তাকে ধরিয়ে দিতে পারলে মোটা অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। পাইলটকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে এখন এক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মার্কিন সেনারা তাকে উদ্ধার করতে পারলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাকে এখনো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: