ইরানকে দেওয়া সময়সীমা শেষ হচ্ছে সোমবার: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ২১:৩০:০০
ইরানকে দেওয়া সময়সীমা শেষ হচ্ছে সোমবার: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এক চরম এবং চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের ওপর ‘নরক নেমে আসবে’। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই সময়সীমা বা ডেডলাইন ঘোষণা করে তেহরানকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

ট্রাম্প ইরানকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তিনি এর আগে দেশটিকে একটি চুক্তিতে আসার অথবা গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি খুলে দেওয়ার জন্য যে ১০ দিনের সময় দিয়েছিলেন, তার আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি আছে। সময় শেষ হওয়ার পরপরই ইরানের ওপর ভয়াবহ সামরিক আক্রমণ শুরু হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে দেওয়া সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করেছিলেন। সেই হিসেবে সোমবারই হচ্ছে ট্রাম্পের দেওয়া চূড়ান্ত ডেডলাইন। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প এই অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

ট্রাম্প তাঁর এই পোস্টে ‘গ্লোরি বি টু গড’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে নিজের অনড় মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের এই আল্টিমেটামকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন এবং এখন দেখার বিষয় হচ্ছে এই শেষ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তেহরান তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে কি না। অন্যথায় ওই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এখন তীব্র হয়ে উঠেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।


অনুমতি মিলতে লাগবে এক সপ্তাহ: বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ইরানের নতুন শর্তের বড় ধাক্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১২:৪৬:৫৮
অনুমতি মিলতে লাগবে এক সপ্তাহ: বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ইরানের নতুন শর্তের বড় ধাক্কা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জ্বালানি সরবরাহ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ (Strait of Hormuz) দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন, কঠোর ও নজিরবিহীন এক তদারকি এবং আগাম অনুমতি ব্যবস্থা চালু করেছে ইরান। আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও মার্কিন সামরিক হুমকির রেশ ধরে বুধবার (২০ মে) তেহরানের সংশ্লিষ্ট নৌ-কর্তৃপক্ষ নতুন এই বিশেষ নজরদারি অঞ্চলের নিখুঁত সীমানাও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে।

ইরানের হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অফিশিয়াল ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন এই কড়া নজরদারি অঞ্চলটি একদিকে ইরানের কুহ মোবারক থেকে শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) দক্ষিণ আল-ফুজাইরাহ পর্যন্ত এবং অন্যদিকে ঐতিহাসিক কেশম দ্বীপ থেকে উম্ম আল-কুয়াইন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমায় বিস্তৃত থাকবে।

নতুন জারি করা এই বিশেষ সামুদ্রিক নির্দেশনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নির্ধারিত যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় থাকা যেকোনো দেশের পণ্যবাহী বা তেলবাহী কার্গো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার ঠিক আগমুহূর্তে বাধ্যতামূলকভাবে ‘পারস্য উপসাগর জলপথ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের’ সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে অগ্রিম ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স বা অনুমতি নিতে হবে। এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের (Reuters) এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালির এই কৌশলগত জলপথ ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর ওপর ইরানের শক্তিশালী এলিট ফোর্স ‘ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC) অতিরিক্ত কিছু কঠোর শর্ত ও ডিক্রি আরোপ করেছে।

এই শর্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত ও প্রধান বিষয়টি হলো—প্রণালি পার হওয়ার আগে প্রতিটি জাহাজকে একটি বিশেষ ‘সম্পৃক্ততা বা দায়বদ্ধতা নথি’ (Affidavit Certificate) জমা দিতে হবে, যেখানে লিখিতভাবে শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট জাহাজ, ক্রু বা পণ্যের মালিকানার সাথে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্ক নেই।

রয়টার্সের ওই বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই নতুন এবং দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক অনুমোদন প্রক্রিয়ার গ্যাঁড়াকলে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথে জাহাজ চলাচলে একেকটি কোম্পানির এক সপ্তাহ পর্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব (Delay) হতে পারে। শুধু তাই নয়, বিশেষ ক্লিয়ারেন্স ও নতুন ট্যাক্স বা ফি বাবদ কিছু কিছু জাহাজের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দেড় লাখ মার্কিন ডলারের (১,৫০,০০০+) গণ্ডিও ছাড়িয়ে যাওয়ার বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পাশাপাশি, বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে ওয়াশিংটনকে চাপে রাখতে ইরান এই প্রণালিতে নিজেদের কৌশলগত মিত্র রাশিয়া এবং চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ ট্রাফিক অগ্রাধিকার (Priority) দিচ্ছে বলেও বৈশ্বিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে এই কড়াকড়ির বিষয়ে সাফাই গেয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে বলেছেন, তেহরান মূলত প্রতিবেশী দেশ ওমানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সুষ্ঠু সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করারই চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরও যোগ করেন, বহু দেশের সাথে তেহরানের কূটনৈতিক চ্যানেলে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে তাদের সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিরাপদে এই রুট পার হতে পারে; তবে একই সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেন—ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এমন কোনো পশ্চিমা কর্মকাণ্ড বা উস্কানি ইরান কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করবে না।

সূত্র: শাফাক নিউজ


আমেরিকার পর এবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১০:২৩:৩৫
আমেরিকার পর এবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক ভূরাজনীতিকে স্তম্ভিত করে দিয়ে এক নজিরবিহীন ও অবিশ্বাস্য রাজনৈতিক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদ বা কাজ শেষ করার পর তিনি মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য নির্বাচনে লড়তে চান বলে খোদ নিজেই জানিয়েছেন।

স্থানীয় সময় বুধবার (২০ মে) যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে অবস্থিত কোস্ট গার্ড একাডেমির গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে হোয়াইট হাউজের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এই বিস্ফোরক ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন। নিজের এমন অদ্ভুত দাবির সপক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তি দিয়ে বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরাইলে তেলআবিবের নাগরিকদের কাছে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভীষণ জনপ্রিয়।

সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “হোয়াইট হাউজের এই কাজ (প্রেসিডেন্সি) শেষ করার পর হয়তো আমি সরাসরি ইসরাইলে গিয়ে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে ভোটে দাঁড়াব। আজ সকালেই আমি ইসরাইলের একটি জনমত জরিপ বা সার্ভে দেখেছি, যেখানে সে দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন করেছে; যা আমার জন্য বেশ ভালো একটা সংখ্যা।” তবে ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে কোন থার্ড-পার্টি বাঅফিশিয়াল জরিপের ভিত্তিতে এই ৯৯ শতাংশ সমর্থনের কাল্পনিক দাবি করেছেন, তা স্পষ্ট বা খোলসা করেননি।

ট্রাম্পের এমন অপ্রাসঙ্গিক ও নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক মন্তব্য নিয়ে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউস বা মার্কিন প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে পারেনি। বর্তমানে ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি ১৯৯৬ সাল থেকে একাধিক মেয়াদে দেশটির ক্ষমতায় রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে চলমান তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই নেতানিয়াহুর একনিষ্ঠ ও অন্ধ সমর্থক হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত।

ইরান যুদ্ধের বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি নিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাথে কোনো গোপন আলোচনা বা কথা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সাথে নেতানিয়াহুর গভীর রসায়নের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “তিনি (নেতানিয়াহু) ভালো আছেন। তিনি আসলেই খুব ভালো একজন মানুষ। আমি হোয়াইট হাউস থেকে যা চাই, নেতানিয়াহু ঠিক তাই করবেন। আমার কাছে তিনি দারুণ ও বাধ্য একজন মানুষ।”

উল্লেখ্য, এর মাত্র একদিন আগেই ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি ইরানের পরমাণু ও সামরিক ঘাঁটির ওপর ‘আরও বড় ধরনের বিধ্বংসী হামলা’ চালানোর ছক কষছেন; যদিও তার দুদিন আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতায় অগ্রগতি হওয়ায় সাময়িকভাবে হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছিলেন। নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাগ্য নিয়ে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “বিশ্ববাসীর ভুলে গেলে চলবে না যে তিনি একজন খাঁটি যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী। আমার মতে, খোদ ইসরাইলের ভেতরেই নেতানিয়াহুকে ঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। তিনি এই ক্রান্তিকালে একটি দেশের যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী, আর আমি মনে করি না বিশ্বমঞ্চে তাঁকে যথাযথ সম্মান ও ক্রেডিট দেওয়া হচ্ছে।”

/আশিক


চুক্তি সইয়ের আগে ইরানের ওপর থেকে এক চুলও নিষেধাজ্ঞা কমাবে না যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১০:০৯:২০
চুক্তি সইয়ের আগে ইরানের ওপর থেকে এক চুলও নিষেধাজ্ঞা কমাবে না যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য ও হরমুজ প্রণালির ভূরাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এবার এক চরম ও চূড়ান্ত পারমাণবিক উত্তেজনার পারদ স্পর্শ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় ইরানকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের চলমান আলোচনায় তেহরান যদি দ্রুত সঠিক জবাব না দেয়, তবে ওয়াশিংটন যেকোনো মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ও মারাত্মক সামরিক পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

গতকাল বুধবার (২০ মে) হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দ্ব্যর্থহীন ভাষায় হুঙ্কার দেন, “আমরা এখন ইরান ইস্যুতে একদম চূড়ান্ত ও শেষ পর্যায়ে (Final Stage) আছি।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো সম্মানজনক দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা না হয়, তবে তেহরানের কপালে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন ও ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।

মার্কিন নীতিনির্ধারণী অবস্থান স্পষ্ট করে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, চূড়ান্ত কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের আগে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অবস্থাতেই ইরানের ওপর আরোপিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) প্রত্যাহার করবে না এবং তেহরানের মূল লাইফলাইন তথা আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রেও কোনো প্রকার আংশিক ছাড় বা শিথিলতা দেখাবে না।

তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “ইরানের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত উত্তর না পেলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি খুব দ্রুত মার্কিন নিয়ন্ত্রণে বদলে যাবে।” তবে পুরোপুরি যুদ্ধের পথ পরিহার করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যদি সফল হয়, তবে একটি ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি উল্লেখ করেন, নিরপরাধ মানুষের রক্তপাত ঠেকাতে প্রয়োজনে সামরিক অ্যাকশনের কিছু বড় সিদ্ধান্ত তিনি সাময়িকভাবে পিছিয়ে দিতেও প্রস্তুত আছেন।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চরম সামরিক ও অর্থনৈতিক হুমকির বিপরীতে ইরানের সর্বোচ্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রতিক্রিয়া ও শর্তসমূহ তেহরান বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মিত্র দেশ ও আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থাগুলোর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের সম্পূর্ণ বিকল্প ও নতুন একটি নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে।

মার্কিন চাপের মুখে তেহরান কোনো অবস্থাতেই মাথা নত বা আত্মসমর্পণ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি কড়া ভাষায় মার্কিন প্রশাসনকে মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “ইরান সবসময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে এবং যুদ্ধ এড়াতে সব ধরণের কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করেছে। কিন্তু স্রেফ অন্ধ চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে নতি স্বীকার করানো যাবে—ওয়াশিংটনের এমন ধারণা কেবলই একটি ঐতিহাসিক ভ্রম (Illusion)।”

তবে পেজেশকিয়ান যোগ করেন, কূটনীতিতে পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শন করা যুদ্ধের চেয়ে সবসময় বেশি নিরাপদ ও টেকসই পথ। অন্যদিকে, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এক বিস্ফোরক দাবি করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন করে বড় ধরণের সর্বাত্মক যুদ্ধের ছক ও নিখুঁত প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার সুস্পষ্ট সামরিক ইঙ্গিত তেহরানের হাতে এসেছে।

/আশিক


ইরান এখন বিশ্বমঞ্চে প্রভাবশালী পরাশক্তি: মোজতবা খামেনি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ২০:২৩:৩৫
ইরান এখন বিশ্বমঞ্চে প্রভাবশালী পরাশক্তি: মোজতবা খামেনি
ছবি : সংগৃহীত

সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল অর্জন এবং মুসলিম উম্মাহর অসাধারণ গণজাগরণের ওপর ভর করে ইরান বিশ্বমঞ্চে একটি অপ্রতিরোধ্য ও প্রভাবশালী পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি। তবে এই অর্জিত বৈশ্বিক ক্ষমতা ও প্রভাবশালী অবস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ইরানকে আরও উন্নত স্তরে নিয়ে যাওয়া সরাসরি দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের সাথে সম্পর্কিত বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

জাতীয় জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে জনসংখ্যা ও সমাজকল্যাণ বিষয়ে কর্মরত একদল সামাজিক কর্মীর পাঠানো চিঠির জবাবে দেওয়া বিশেষ বার্তায় সর্বোচ্চ নেতা ইরানের জাতীয় শক্তি ও সভ্যতার বিকাশের সাথে সন্তান জন্মদানের হার বৃদ্ধির এই কৌশলগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। আজ বুধবার (২০ মে) ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের প্রধান তথ্যকেন্দ্র থেকে এই ঐতিহাসিক বার্তার পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁর বার্তায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিকে স্রেফ অতীতের কিছু ভুল নীতির কারণে সৃষ্ট ঘাটতি বা শূন্যতা পূরণের সংকীর্ণ দৃষ্টিতে না দেখার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, একটি শক্তিশালী তরুণ প্রজন্ম ও অপরিহার্য জনসংখ্যা বৃদ্ধির নীতি যদি রাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করতে পারে, তবে মহান ইরানি জাতি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে আরও বড় ও সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা পালন করতে পারবে, অর্জন করবে অনন্য কৌশলগত অগ্রগতি।

একই সাথে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বজুড়ে একটি আধুনিক ‘ইসলামি-ইরানি সভ্যতা’ গঠনের পথে ইরান আরও বড় পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে। এই উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তিনি দেশের অভ্যন্তরে সন্তান জন্মদানের সংস্কৃতি এবং পারিবারিক মূল্যবোধ প্রচারে সামাজিক কর্মীদের আরও বেশি প্রচেষ্টার ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দেন।

বার্তার শেষাংশে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ইরানের প্রয়াত মহান শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মৃতি ও আদর্শ স্মরণ করে বলেন, জনসংখ্যা হ্রাসের এই বিষয়টি তাদের প্রয়াত নেতার অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় ছিল।

আলী খামেনি জীবিতাবস্থায় বহু রাষ্ট্রীয় বৈঠক, সেমিনার এবং ব্যক্তিগত সাক্ষাতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। মোজতবা খামেনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, আগের ধারাবাহিকতায় এখনও এটি ইরানের অন্যতম প্রধান ও শীর্ষ কৌশলগত বিষয় (Strategic Issue) হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং রাষ্ট্রের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ধরে রাখতে এই নীতি থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সূত্র: ইরনা


এক বছরের অপেক্ষা শেষ: চলতি সপ্তাহেই বাজারে আসছে ট্রাম্প ফোন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ২০:০৩:৩৯
এক বছরের অপেক্ষা শেষ: চলতি সপ্তাহেই বাজারে আসছে ট্রাম্প ফোন
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ‘ট্রাম্প মোবাইল’ অবশেষে দীর্ঘ এক বছরের ধোঁয়াশা কাটিয়ে বাজারে আসছে। ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহ থেকেই গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাতে শুরু করবে স্বর্ণখচিত এই বিশেষায়িত স্মার্টফোন।

আজ বুধবার (২০ মে) মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সম্পূর্ণ ট্রাম্প ব্র্যান্ডিং ও সোনালী অবয়বের এই ফোনটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯৯ ডলার (আনুমানিক ৬০ হাজার টাকা) এবং এর আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয়েছে ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১’ (Trump Mobile T1)। তবে ফোনটির মুক্তি মিললেও এর কার্যকারিতা, উৎপাদনস্থল এবং বিক্রয় নীতি নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে চরম ট্রোল ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ৪৯৯ ডলারের এই ‘ট্রাম্প ফোন’ আদতে সম্পূর্ণ নতুন কোনো উদ্ভাবন নয়; বরং এটি দেখতে হুবহু চীনে নির্মিত ‘টি-মোবাইল রেভেল ৭ প্রো ৫জি জিএসএম’ (T-Mobile Revel 7 Pro 5G) ফোনের মতো, যা আমেরিকার সুপারশপ ওয়ালমার্টে মাত্র ২০০ ডলারে কিনতে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ২০০ ডলারের চীনা ফোনে স্রেফ ট্রাম্পের নাম ও সোনালী রং লেপ্টে দিয়ে দ্বিগুণেরও বেশি দামে তা বিক্রি করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ফোনটির ডেলিভারি পলিসিতে। ট্রাম্প মোবাইলের ওয়েবসাইটে ‘শর্তাধীনে’ ফোন ডেলিভারির কথা বলা হয়েছে। এর মানে হলো, যারা এক বছর আগে ১০০ ডলার জামানত দিয়ে ‘প্রি-অর্ডার’ করেছিলেন, তাদের সবাই ফোনটি নাও পেতে পারেন! পরিবর্তিত অদ্ভুত শর্ত মতে, ১০০ ডলার জামানত রাখা মানেই ফোন পাওয়ার গ্যারান্টি নয়, এটি কেবল একটি ‘বিশেষ সুযোগ’ মাত্র।

অবশ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশন ফেসবুকে জানিয়েছে, গ্রাহকরা দ্রুতই ইমেইলে শিপমেন্ট আপডেট পাবেন। ট্রাম্প মোবাইলের সিইও প্যাট ও’ব্রায়েন দাবি করেছেন, কোয়ালিটি ঠিক রাখতে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার কারণে দেরি হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে ধাপে ধাপে সবাই ফোনটি পাবেন। অন্যদিকে, প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিস’-এর বিশ্লেষক ম্যাক্স ওয়েইনবাখ জানিয়েছেন, একটি নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন বাজারে আনতে সফটওয়্যার ও চুক্তি মিলিয়ে কমপক্ষে ১৮ মাস সময় লাগাটা স্বাভাবিক।

ফোনটি ঘিরে সমালোচনার এখানেই শেষ নয়। শুরুতে এর প্রচারণায় জোরগলায় ‘মেইড ইন ইউএসএ’ (Made in USA) দাবি করা হলেও আইনি ও প্রযুক্তিগত চাপের মুখে দ্রুত সেই দাবি থেকে সরে এসেছে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন। এখন তারা বলছে, এটি ‘মার্কিন মূল্যবোধ মাথায় রেখে তৈরি’। ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের (IDC) ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান রেইথ সিএনএন-কে বলেন, এ ধরনের চটকদার শব্দ মূলত গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। অ্যাপলের মতো বড় সংস্থাও ডিজাইন আমেরিকায় করলেও উৎপাদন চীন বা ভারতে করে।

ট্রাম্প ফোনের ক্ষেত্রেও নকশা মার্কিন বলা হলেও ভেতরের ছোট ছোট যন্ত্রাংশ ও প্রসেসর আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের (মূলত চীন) কাছ থেকে আনা। এছাড়া, প্রাথমিক বিজ্ঞাপনে যেসব প্রিমিয়াম ফিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, চূড়ান্ত মডেলে তার অনেক কিছুই থাকছে না; স্ক্রিন সাইজ তুলনামূলক ছোট এবং মেমোরিও বেশ কম। সবচেয়ে বড় নৈতিক প্রশ্ন উঠেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান পদবি নিয়ে।

তিনি একজন ব্যবসায়ী হলেও এই মুহূর্তে আমেরিকার রানিং প্রেসিডেন্ট। রাষ্ট্রপ্রধান পদে থেকে নিজের নাম ও ব্র্যান্ড ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করা কতটুকু নৈতিক, তা নিয়ে ওয়াশিংটনে বিতর্ক শুরু হয়েছে; যদিও এই ব্যবসার দেখভাল করছেন ট্রাম্পের দুই ছেলে এরিক ও ডোনাল্ড জুনিয়র। মজার ব্যাপার হলো, এই ফোনের ডেটা ও ভয়েস প্যাকেজের দাম ধরা হয়েছে ‘৪৭ ডলার ৪৫ সেন্ট’, যা দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও বর্তমান ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হওয়ার ঐতিহাসিক রেকর্ডকে সস্তা বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


মেলোনিকে মেলোডি চকলেট উপহার মোদির: রোমের বৈঠকের ভিডিও ভাইরাল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ১৯:৩৭:৫৩
মেলোনিকে মেলোডি চকলেট উপহার মোদির: রোমের বৈঠকের ভিডিও ভাইরাল
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে এবার এক অদ্ভুত ও হাস্যরসাত্মক ‘চকলেট ট্রোল’ বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কাঁপিয়ে সরাসরি বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (BSE) বড় ধরণের ধামাকা তৈরি করেছে। ইতালি সফরে গিয়ে দেশটির অতি জনপ্রিয় নারী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে ভারতীয় ব্র্যান্ডের এক প্যাকেট ‘মেলোডি’ (Melody) চকলেট বা টফি উপহার দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আর নেটিজেনদের তৈরি করা বহুল পরিচিত ‘মেলোডি’ জুটির এই চকলেট কূটনীতি ঘিরেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন উন্মাদনা। আজ বুধবার (২০ মে) রোমে অনুষ্ঠিত দুই শীর্ষ নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি নিজেই তাঁর অফিশিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি মজাদার ভিডিও পোস্ট করে নরেন্দ্র মোদিকে এই অভিনব উপহারের জন্য ধন্যবাদ জানান।

ভিডিওতে দেখা যায়, অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ও প্রফুল্ল চিত্তে জর্জিয়া মেলোনি বলছেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাকে একটি খুবই চমৎকার টফি উপহার দিয়েছেন— মেলোডি।” মূলত ‘মোদি’ এবং ‘মেলোনি’— এই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের নাম মিলিয়ে আন্তর্জাতিক নেটিজেনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েক বছর ধরেই ‘মেলোডি’ (Melodi) নামে একটি ব্যাপক জনপ্রিয় রোমান্টিক ট্রেন্ড ও মিম তৈরি করে আসছিল। সেই ডিজিটাল ট্রেন্ডকেই এবার বাস্তব কূটনীতিতে একধাপ এগিয়ে নিতে জেনেশুনেই ‘মেলোডি’ টফি উপহার দিয়ে বসেন মোদি।

এর আগে রোমে মোদিকে স্বাগত জানিয়ে মেলোনি এক্সে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, “রোমে স্বাগত, আমার বন্ধু!” সফরকালে দুই নেতা জমকালো নৈশভোজে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি রোমের ঐতিহাসিক ‘কলোসিয়াম’ (Colosseum) পরিদর্শন করেন। সফর নিয়ে এক্সে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, “রোমে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেওয়া এবং কলোসিয়াম পরিদর্শনের সুযোগ হয়েছে; দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আমাদের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।”

তবে এই ‘মেলোডি’ মোমেন্টের সবচেয়ে বড় পাগলামি ও নাটকীয় রূপ দেখা গেছে ভারতের শেয়ার বাজারে। জর্জিয়া মেলোনির সেই ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হওয়ার পর ভারতীয় হুজুগে বিনিয়োগকারীদের (Investors) একটি বড় অংশ বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে ‘পার্লে’ (Parle) নামের শেয়ার খুঁজতে শুরু করেন; কারণ ভারতের বিখ্যাত মেলোডি টফি তৈরি করে ‘পার্লে প্রোডাক্টস’ (Parle Products)।

কিন্তু বোকা বনে গিয়ে বা ভুল বিভ্রান্তিতে পড়ে অনেক বিনিয়োগকারী দেদারসে কিনে ফেলেন ‘পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ’ (Parle Industries)-এর শেয়ার, যার সঙ্গে চকলেট প্রস্তুতকারী পার্লে প্রোডাক্টসের দূরতম কোনো বাণিজ্যিক সম্পর্কই নেই! কারণ পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ মূলত ভারতীয় অবকাঠামো ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি পাবলিক লিমিটেড প্রতিষ্ঠান।

তবুও ভাইরালের জেরে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ভুল কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রায় ৫ শতাংশ (Upper Circuit) বেড়ে যায়, যেখানে ৪ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে শেয়ারটির দাম এক লাফে উঠে দাঁড়ায় ৫ টাকা ২৫ পয়সায়। অথচ কোম্পানিটির পক্ষ থেকে কোনো নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি বা আর্থিক আপডেট প্রকাশ করা হয়নি; স্রেফ একটি চকলেটের নাম ও মিমের চোটে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মালিকেরা।

/আশিক


ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ঘোষণা ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ১১:২০:৪১
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ঘোষণা ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘মাথার দাম’ প্রায় ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৫ কোটি ইউরো) পুরস্কার ঘোষণা করার একটি বিতর্কিত বিল নিয়ে আলোচনা করছে দেশটির পার্লামেন্ট।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা ব্যবস্থা শীর্ষক এই খসড়া বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই দেশটির মজলিসে (পার্লামেন্টে) ভোটে তোলা হতে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি এই বিল প্রস্তুত করার বিষয়টি নিশ্চিত করে সরাসরি অভিযোগ করেছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে এক ভয়াবহ হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনার পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সরাসরি জড়িত ছিলেন।

এ কারণে এই তিন শীর্ষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রাতিষ্ঠানিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের আরেক প্রভাবশালী সদস্য মাহমুদ নাবাভিয়ানও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে ‘জাহান্নামে পাঠাবে’ (হত্যা করবে), তাকে এই বিশাল অংকের অর্থ পুরস্কৃত করার আইনি প্রস্তাবে পার্লামেন্ট খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিক ভোট দেবে।

এর আগে ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘মাসাফ’ দাবি করেছিল, ‘কিল ট্রাম্প’ নামক একটি গোপন অপারেশনের জন্য ইতিমধ্যে ৫ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘হানদালা’ নামে ইরান-সমর্থিত একটি শক্তিশালী হ্যাকার ও সাইবার গোষ্ঠীও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে পৃথিবী থেকে নির্মূলের উদ্দেশ্যে ৫ কোটি ডলারের বিশেষ বাজেট বরাদ্দের দাবি তোলে। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের এই চরমপন্থী আইনি পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।

তবে সবচেয়ে নাটকীয় বিষয় হলো, একদিকে ইরানের পার্লামেন্টে এই কুখ্যাত কিলিং মিশন ও মাথার দামের বিল আনা হচ্ছে, অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের সাথে পর্দার আড়ালে নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। যদিও মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের দেওয়া নতুন শান্তি প্রস্তাবে দৃশ্যমান বা উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি বা আন্তরিকতা এখনো দেখা যায়নি।

/আশিক


ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ করার ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ১০:২৩:০৬
ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ করার ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা খুব দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ করতে যাচ্ছি।”

ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন নেতৃত্বাধীন নজিরবিহীন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ে ইরান এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্লান্ত এবং তারা খুব খারাপভাবে একটি শান্তি চুক্তি করতে চাচ্ছে। তবে সমঝোতা যাই হোক না কেন, তেহরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি ওয়াশিংটনের অনমনীয় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

হোয়াইট হাউসের এই হাই-ভোল্টেজ অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন, “ইরানের মাথায় সবসময় পারমাণবিক অস্ত্রের চিন্তা ঘোরে, আর আমরা তাদের কখনোই তা পেতে দেবো না। আমাদের প্রশাসন ও সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে দারুণ কাজ করেছে। আমার মনে হয়, খুব দ্রুতই সব জটিলতার অবসান ঘটবে; তারা পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না এবং আশা করি পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সুন্দরভাবেই সমাধান হবে।”

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে এলো, যার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত মার্কিন সিনেটে একটি ঐতিহাসিক ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজ্যুলেশন’ (যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাব) বিল পাসের পক্ষে ভোট পড়েছে। কংগ্রেসের স্পষ্ট ও আইনি অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর যে কোনো ধরণের দীর্ঘমেয়াদি অপারেশন পরিচালনা বা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাকে সরাসরি খর্ব করতেই মার্কিন আইনপ্রণেতারা এই কঠোর বিলটি পাসের পক্ষে রায় দেন।

সূত্র: আল-জাজিরা


হিজবুল্লাহর ক্রুজ ড্রোন এখন বড় হুমকি: জরুরি বৈঠক ডেকে পিছু হটলেন নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৯ ২১:৩৪:২২
হিজবুল্লাহর ক্রুজ ড্রোন এখন বড় হুমকি: জরুরি বৈঠক ডেকে পিছু হটলেন নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর অভাবনীয় ও অত্যাধুনিক ড্রোন সক্ষমতার মুখে পড়ে রণক্ষেত্রে একের পর এক সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। হিজবুল্লাহর ড্রোনের হাই-টেক নজরদারি এড়াতে ইসরায়েলি সেনারা দিনের বেলার অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করে রাতের আঁধারে হামলার কৌশল নিলেও, উন্নত প্রযুক্তির কারণে তাও ভেস্তে যাচ্ছে।

হিজবুল্লাহর এই আকাশপথের আধিপত্যকে ইসরায়েলের জন্য এক ‘বিশাল সামরিক হুমকি’ হিসেবে স্বীকার করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আজ বুধবার ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ‘কান নিউজ’ এর চাঞ্চল্যকর তথ্যের বরাতে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম প্রেস টিভি।

প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর নিখুঁত বিস্ফোরকবাহী সুইসাইড ড্রোনগুলোর কারণে দক্ষিণ লেবানন ও সীমান্ত সংলগ্ন ইসরায়েলের দখলকৃত এলাকাগুলোতে আইডিএফের স্বাভাবিক যুদ্ধ পরিচালনার স্বাধীনতা ও গতি মারাত্মকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলের পরিকল্পিত সামগ্রিক সামরিক অভিযানের প্রায় ৮০ শতাংশই হিজবুল্লাহর ড্রোনের সার্বক্ষণিক নজরদারির কারণে মাঠে গড়ানোর আগেই ভেস্তে যাচ্ছে বা ব্যাহত হচ্ছে।

পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, দিনের আলোয় হিজবুল্লাহর রাডার ফাঁকি দিতে না পেরে সব ধরণের সেনা চলাচল ও লজিস্টিকস সরবরাহ রাতের বেলায় শিফট করা হয়েছিল; কিন্তু রাতের অন্ধকারেও ড্রোন হামলার মুখে পড়ে বেশ কিছু মেগা অপারেশন পুরোপুরি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে তেল আবিব। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা গোপনে স্বীকার করেছেন, হিজবুল্লাহর এই ড্রোন হামলার তীব্রতার কারণে গত কয়েক সপ্তাহে দখলদার বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। কান নিউজ আরও বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, বর্তমানে হিজবুল্লাহর এই আকাশ-আক্রমণ ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত অত্যাধুনিক ড্রোন প্রতিরোধী সরঞ্জামের (Anti-Drone Equipment) চরম ঘাটতি রয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে। বর্তমানে এই প্রতিরোধী ব্যবস্থা প্রতিটি ইসরায়েলি সামরিক ইউনিটের কেবল সীমিত সংখ্যক সদস্যের হাতে রয়েছে, যা বিশাল ড্রোন বহর রুখতে নগণ্য।

সামরিক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, হিজবুল্লাহর এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো তাদের ব্যবহৃত সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির ‘ফাইবার-অপটিক ড্রোন’। এই ড্রোনগুলো ইসরায়েলের বিশ্ববিখ্যাত ‘আয়রন ডোম’ বা প্রচলিত জ্যামিং ও শক্তিশালী ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থাকে (Electronic Warfare) অনায়াসে ফাঁকি দিতে সক্ষম।

প্রচলিত ড্রোনের মতো রেডিও সিগন্যালের পরিবর্তে এই ড্রোনে অত্যন্ত পাতলা ও হালকা অপটিক্যাল ফাইবার কেবল ব্যবহৃত হয়, যার ফলে ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার বা সিগন্যাল ট্র্যাকারগুলো এগুলোকে আকাশে শনাক্তই করতে পারে না। বিপরীতে, দক্ষিণ লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহর প্রায় ১০০টিরও বেশি প্রশিক্ষিত ও ডেডিকেটেড ড্রোন অপারেটর ২৪ ঘণ্টা মোতায়েন রয়েছে, যারা নিখুঁতভাবে ইসরায়েলি ঘাঁটিতে আঘাত হানছে। তেল আবিবের উগ্রপন্থি কর্মকর্তারাও প্রকাশ্যে মেনে নিয়েছেন যে, হিজবুল্লাহর এই দ্রুত উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলেছে।

এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জরুরি বৈঠক ডেকে দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, লেবাননে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র প্রতিবাদের অজুহাতে গত এপ্রিল মাস থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর প্রায় ২৩০টি প্রজেক্টাইল এবং ১০০টিরও বেশি মারাত্মক বিস্ফোরক ড্রোন হামলা চালিয়ে তেল আবিবকে কাঁপিয়ে দিয়েছে হিজবুল্লাহ।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

কুরবানির চামড়া শিল্প: ন্যায্য মূল্য, বাজার কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জরুরি প্রয়োজন

কুরবানির চামড়া শিল্প: ন্যায্য মূল্য, বাজার কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জরুরি প্রয়োজন

বাংলাদেশের অর্থনীতি, গ্রামীণ জীবিকা এবং ধর্মীয়-সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো কুরবানি ঈদের চামড়া শিল্প। প্রতি বছর... বিস্তারিত