গোপনে চীন থেকে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির রাসায়নিক সরবরাহ, বিশ্লেষণে টেলিগ্রাফ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর পরপরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলি স্থাপনাগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা চালাতে থাকে, যার ফলে গোটা অঞ্চল ক্রমেই অস্থির হয়ে ওঠে।
এই সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে যখন হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুটটি অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি হয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়তে শুরু করে।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, চীন এই সংঘাতে পরোক্ষভাবে ইরানকে সহায়তা করছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, চীনা বন্দর থেকে যাত্রা করা কয়েকটি জাহাজ ইরানে পৌঁছেছে, যেগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান বহন করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Telegraph-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অন্তত চারটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ দেশটির বন্দরে নোঙর করেছে এবং আরও একটি জাহাজ উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এসব জাহাজ চীনের ঝুহাই অঞ্চলের গাওলান বন্দর থেকে রওনা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব জাহাজে বহন করা সোডিয়াম পারক্লোরেট নামের রাসায়নিকটি কঠিন জ্বালানিভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সম্ভব, যা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতে ইরান দ্রুত ক্ষয়িষ্ণু ক্ষেপণাস্ত্র মজুত পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে এবং এই আমদানি সেই কৌশলেরই অংশ। CNN-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনো অক্ষত রয়েছে, যা পূর্ববর্তী কিছু দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এতে বোঝা যায়, ইরানের সামরিক অবকাঠামো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। বরং তারা বিকল্প ও ছড়িয়ে থাকা উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এসব জাহাজ Islamic Republic of Iran Shipping Lines-এর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়াতে নানা কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাহাজের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা, ভুয়া গন্তব্য প্রদর্শন এবং নাম পরিবর্তনের মতো পদ্ধতি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলগুলো আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
সময়গত দিক থেকেও এই সরবরাহ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, চলমান যুদ্ধে ইরান ব্যাপক হারে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে এবং তাদের মজুত দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন কাঁচামাল আমদানি তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আরও কিছুদিন বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘গোলবান’ ও ‘জাইরান’ নামের দুটি জাহাজের বহনক্ষমতা বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান অতিরিক্ত প্রায় ৭৮৫টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের মতো কাঁচামাল সংগ্রহ করেছে। এর ফলে তারা অন্তত আরও এক মাস প্রতিদিন ১০ থেকে ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে।
চীনের ভূমিকা নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বেইজিং সরাসরি সামরিক সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, বিশ্লেষকদের মতে তারা বাণিজ্যিক পণ্যের আড়ালে কৌশলগত সহায়তা অব্যাহত রাখছে।
তবে এই কৌশল চীনের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ ভারসাম্যের বিষয়। কারণ, উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের বড় বিনিয়োগ রয়েছে, যা এই সংঘাতের কারণে হুমকির মুখে পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এখন কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার একটি জটিল সংকটে পরিণত হয়েছে।
সূত্র:দ্য টেলিগ্রাফ
হরমুজ প্রণালিতে নতুন পথ! ইরানের চোখ ফাঁকি দিয়ে পার হলো ভারতীয় জাহাজ?
হরমুজ প্রণালিতে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন আশার আলো জাগিয়ে এক বিকল্প ও নিরাপদ রুট ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছেছে ভারতীয় কার্গো জাহাজসহ মোট চারটি বিশালাকার বাণিজ্যিক জাহাজ। ওমানের আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জলসীমার ঝুঁকি এড়িয়ে এই জাহাজগুলো সফলভাবে প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে শনিবার (৪ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই নিরাপদ রুটটি ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের ভেতর দিয়ে গেছে, যা সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে লজিস্টিকস ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বহরে ছিল মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী তেলবাহী সুপার ট্যাংকার ‘হাবরুত’ ও ‘ধালকুট’, পানামা পতাকাবাহী এলএনজি জাহাজ ‘সোহর’ এবং ভারতীয় পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘এমএসভি কিউবা এমএনভি ২১৮৩’।
এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলের কাছ দিয়ে ওমানের জলসীমানায় প্রবেশ করার পর মুসান্দাম উপদ্বীপের কাছে তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) সিগন্যাল বন্ধ করে দেয় যাতে ইরানি রাডারে ধরা না পড়ে। পরবর্তীতে মাস্কাট উপকূল থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে সেগুলোকে পুনরায় শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ‘হাবরুত’ ও ‘ধালকুট’ জাহাজ দুটি যথাক্রমে সৌদি আরব ও আমিরাতের প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বহন করছিল। উল্লেখ্য যে, বিশ্বে মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে ইরানের হামলার ভয়ে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছিল।
অন্যদিকে, ইরানও তাদের নিজস্ব জলসীমার ভেতর দিয়ে কেশম ও লারাক দ্বীপের মাঝ দিয়ে একটি বিকল্প রুট চালু করেছে, তবে সেখানে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোকে বিশেষ অনুমতি এবং তেলের পরিমাণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট শুল্ক দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিকল্প ওমানি রুটটি ব্যবহার সফল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকটের উদ্বেগ কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
/আশিক
ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের করুণ দশা! এক সেনাকে বাঁচাতে গিয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সংঘাত এখন এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। তেহরানের ওপর পশ্চিমা আগ্রাসনের জবাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যে পাল্টা আঘাত হানছে, তাকে সামরিক বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একবিংশ শতাব্দীর ‘ডুমসডে’ বা ধ্বংসের দিনের নমুনা হিসেবে অভিহিত করছেন। বিশেষ করে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) যুদ্ধের ৩৫তম দিনে মার্কিন বিমানবাহিনীর ওপর ইরান যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তা গত কয়েক দশকের ইতিহাসে আমেরিকার জন্য সবচেয়ে কলঙ্কজনক ও ক্ষয়ক্ষতিপূর্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুই ডজন আকাশযান বিধ্বস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ই (F-15E) যুদ্ধবিমান এবং স্থল সেনাদের সহায়তায় ব্যবহৃত একটি এ-১০ ওয়ার্টহগ (A-10 Warthog) ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা। এছাড়া ইরানের মধ্যাঞ্চলে বিধ্বস্ত হওয়া এফ-১৫ বিমানের পাইলটদের উদ্ধার করতে গিয়ে দুটি মার্কিন হেলিকপ্টারও ইরানি বাহিনীর সরাসরি হামলার মুখে পড়ে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, এই একদিনেই তারা একটি এফ-১৫ই ধ্বংস, একটি এফ-১৬-এ আঘাত, দুটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি হেলিকপ্টারে আঘাত এবং তিনটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনসহ বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল ভূপাতিত করেছে। এমনকি ইরাকের আকাশে থাকা মার্কিন যুদ্ধবিমান ও স্ট্রাটোট্যাঙ্কারগুলোকেও জরুরি সংকেত 'কোড ৭৭০০' প্রেরণ করতে দেখা গেছে, যা মার্কিন বাহিনীর চরম বিপর্যয়ের প্রমাণ দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে এই ক্ষয়ক্ষতি একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম বড় ধাক্কা। এর আগে ১৯৪৪ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নরম্যান্ডি আক্রমণ কিংবা আফগান ও ইরাক যুদ্ধেও একদিনে এত বিপুল সংখ্যক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও আকাশযান হারানোর নজির খুব একটা নেই।
গত ৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ‘মিনিটম্যান-৩’ আইসিবিএম বা ‘ডুমসডে মিসাইল’ পরীক্ষা করে যে শক্তির প্রদর্শন করতে চেয়েছিল, ইরান যেন ঠিক তার পাল্টা জবাব দিল রণক্ষেত্রে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এই পরিস্থিতি বিশ্বমঞ্চে এক চরম বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর অবস্থায় পরিণত হয়েছে।
/আশিক
ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা হতাহত বাড়ছে, আহত ও নিহত যত
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩৬৫ জন, যা সংঘাতের মানবিক মূল্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
Pentagon থেকে প্রকাশিত এই তথ্য অনুযায়ী, আহত সেনাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনীর সদস্য। মোট আহতদের মধ্যে ২৪৭ জন ইউএস আর্মির সেনা, যা সামরিক অভিযানে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার মাত্রাকে তুলে ধরে।
এছাড়া আহতদের তালিকায় রয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর ৬৩ জন সদস্য, মেরিন কর্পসের ১৯ জন এবং বিমান বাহিনীর ৩৬ জন সদস্য। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে সংঘাতটি বহুমাত্রিক সামরিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে স্থল, নৌ ও আকাশ সব ক্ষেত্রেই সংঘর্ষ বিস্তৃত হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সেনাসদস্যদের এই হতাহত পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
বিমান পতন সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে আলোচনায় প্রভাব পড়বেনা: ট্রাম্প
ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে একটি জটিল অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে, যার মূল লক্ষ্য নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের সন্ধান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।
এই প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই সামরিক ঘটনা তেহরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি চললেও আলোচনা প্রক্রিয়া সমান্তরালভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব এবং সেটিই এখন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত কৌশলকে নির্দেশ করে, যেখানে একদিকে সামরিক চাপ অব্যাহত থাকে এবং অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনাও চালু রাখা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চলমান উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত জটিল এবং সক্রিয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে বিরত থাকেন। পাশাপাশি তিনি গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিতভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে যে, তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি-এর দক্ষিণাঞ্চলকে এই হামলার স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, বিমানটির ক্রু সদস্যদের আটকের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, একজন মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অপর পাইলটের অবস্থান এখনো অনিশ্চিত রয়েছে। ফলে উদ্ধার অভিযান আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি
ব্যর্থ হলো পাকিস্তানের মধ্যস্থতা! ওয়াশিংটনের সাথে সংলাপে বসতে নারাজ ইরান
শান্তি ফেরানোর সব চেষ্টাই ব্যর্থ! তেহরান সাফ জানিয়ে দিল, তারা ওয়াশিংটনের কোনো শর্তই মানবে না। মধ্যপ্রাচ্যে চলা ৩৬ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের করা মধ্যস্থতার উদ্যোগ পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মধ্যস্থতাকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে এই বিস্ফোরক তথ্য নিশ্চিত করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো ধরণের সংলাপে বসতে তারা তাদের প্রতিনিধি ইসলামাবাদে পাঠাতে আগ্রহী নয়। এছাড়া ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ওয়াশিংটন যেসব দাবি তুলেছে তা তাদের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা শুরু হয়, যা শনিবার (৪ এপ্রিল) পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনে গড়িয়েছে। এই যুদ্ধ থামাতে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পাকিস্তান মুখ্য ভূমিকা পালন করছিল। মূলত মার্কিন কর্মকর্তাদের অনুরোধেই পাকিস্তান এই মধ্যস্থতায় নামে, যেখানে পরবর্তীতে মিসর ও তুরস্কও যোগ দিয়েছিল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, এই সংলাপের জন্য হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা যাবতীয় প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এনেছিলেন। কিন্তু ইরানের এই কঠোর অবস্থানের পর পাকিস্তানের চালানো দীর্ঘদিনের কূটনীতি ও সংলাপের পথ এখন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। তেহরানের এমন বার্তায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামার পরিবর্তে পরিস্থিতি এখন আরও ভয়াবহ রূপ নিতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
/আশিক
কে আগে পৌঁছাবে, যুক্তরাষ্ট্র না ইরান? নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে নিয়ে রুদ্ধশ্বাস লড়াই
ইরানের আকাশসীমায় বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু বা সেনাকে খুঁজে বের করা এখন সময়ের সাথে এক চরম যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বিবিসিকে জানিয়েছেন যে, মার্কিন উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি ইরানও তাকে খুঁজে বের করার দৌড়ে নেমেছে, যার ফলে পুরো বিষয়টি এখন চরম উত্তেজনার কেন্দ্রে।
মার্কিন সামরিক কৌশলবিদ জেমস জেফরি এই অভিযানকে তাঁর দেখা ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক সামরিক অভিযান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সাধারণত এ ধরনের জটিল অভিযানে বিশেষায়িত হেলিকপ্টার, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং পাহারায় থাকা অন্যান্য যুদ্ধবিমানের একটি সমন্বিত বহর ব্যবহার করা হয়। গত শুক্রবার ইরান থেকে পাওয়া একটি ভিডিওতে খুজেস্তান প্রদেশের আকাশে এ ধরনের একটি উদ্ধারকারী দলের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
জেমস জেফরি আরও জানান, এই অভিযানে মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যন্ত দক্ষ এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষ অপারেশন দলের সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন, যারা ডেল্টা ফোর্স বা নেভি সিলের মতো প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে সক্ষম। যতক্ষণ সামান্যতম সম্ভাবনা থাকে, ততক্ষণ তারা কোনো পাইলট বা ক্রুকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত হাল ছাড়ে না।
অন্যদিকে, শত্রু সীমানায় বিমান বিধ্বস্ত হলে জীবন বাঁচানোর জন্য মার্কিন ক্রুদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক জেনিফার কাভানা জানান, এই প্রশিক্ষণের প্রথম লক্ষ্য থাকে বেঁচে থাকা এবং শত্রু বাহিনীর হাতে ধরা পড়া এড়িয়ে চলা। যদি তারা শারীরিকভাবে সক্ষম থাকেন, তবে তাদের প্রাথমিক কাজ হলো দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং নিজেদের এমনভাবে লুকিয়ে রাখা যেন নিরাপদ থাকা যায়।
কাভানা আরও উল্লেখ করেন যে, ক্রুদের বিভিন্ন সারভাইভাল কৌশল শেখানো হয়, যার ফলে তারা খাবার বা পানি ছাড়াই দীর্ঘ সময় কাটাতে পারেন অথবা স্থানীয় পরিবেশ থেকেই বেঁচে থাকার রসদ জোগাড় করে নিতে পারেন। বর্তমানে নিখোঁজ এই সেনাকে খুঁজে পেতে মার্কিন ড্রোন ও হেলিকপ্টারের পাশাপাশি ইরানের স্থানীয় বাহিনীও তল্লাশি চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
সূত্র: বিবিসি
ইরানের আকাশসীমায় একের পর এক মার্কিন বিমান ধ্বংস
ইরান যুদ্ধের ৩৫তম দিন, গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর জন্য এক চরম বিপর্যয়ের দিন হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো এই দিনটিকে ‘মার্কিন-ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কালো দিন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। উদ্ভূত এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ফ্লোরিডার পূর্বনির্ধারিত সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে জরুরি ভিত্তিতে হোয়াইট হাউসে অবস্থান করছেন এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির আপডেট নিচ্ছেন।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) শনিবার এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের নতুন ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর দাপট চূর্ণ করা হয়েছে। এদিন ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, পাঁচটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার পাশাপাশি দুটি সামরিক হেলিকপ্টারে সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, খোমেইন ও জানজান প্রদেশের আকাশে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইসফাহানের আকাশে দুটি ‘এমকিউ-৯’ (MQ-9) অ্যাটাক ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া বুশেহর প্রদেশের আকাশে একটি ‘হার্মিস’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুরুতে ক্ষয়ক্ষতি অস্বীকার করে সব বিমান অক্ষত থাকার দাবি করলেও, পরবর্তীতে ইরান ঘটনার অকাট্য ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে দেয়।
এর পরপরই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করে যে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘এফ-১৫ই’ (F-15E) মডেলের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটিতে থাকা দুজন ক্রুর মধ্যে পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও কো-পাইলট এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
একই দিনে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি ‘এ-১০ ওয়ার্টহগ’ (A-10 Warthog) কমব্যাট বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই বিমানেরও একজন ক্রু নিখোঁজ রয়েছেন। ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের ডিফেন্স সিস্টেমের ট্র্যাকিংয়ের মুখে পড়ে বিমানটি সাগরে আছড়ে পড়ে।
নিখোঁজ সেনাসদস্যদের উদ্ধারে যাওয়া দুটি ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার লক্ষ্য করেও ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে গুলি চালানো হয়, তবে হেলিকপ্টারগুলো বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বিস্ময়কর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে—বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটদের জীবিত ধরে দিতে পারলে সাধারণ মানুষকে বড় অংকের পুরস্কার দেওয়া হবে। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের নতুন ‘মজিদ ইনফ্রারেড-গাইডেড সিস্টেম’ ব্যবহারের ফলে ইরানের আকাশসীমা এখন শত্রুপক্ষের জন্য সাক্ষাৎ মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী উদ্ধার অভিযান সচল রাখলেও নিখোঁজ ক্রুদের ভাগ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
/আশিক
যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব সহজেই হরমুজ খুলে দিতে পারবে: ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সংকট এবং সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি। এই প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বক্তব্যে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব সহজেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের অচলাবস্থা দূর করতে সক্ষম।
নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় সময় ও কৌশলগত প্রস্তুতি থাকলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন কোনো কাজ নয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কেবল সামরিক নয়, বরং একটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, প্রণালিটি উন্মুক্ত করা গেলে সেখানে দিয়ে তেল প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং তা থেকে বিশাল অর্থনৈতিক মুনাফা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। তার ভাষায়, এই জলপথ বিশ্ববাজারে তেলের একটি বড় উৎস বা ‘গাশার’ হিসেবে কাজ করতে পারে।
বর্তমান বাস্তবতায় হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে বিবেচিত হয়। এই পথ দিয়ে বিশ্বের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবাহিত হয়, ফলে এর ওপর যেকোনো ধরনের বাধা আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য কেবল সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত অর্থনৈতিক বার্তাও বহন করে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট যে, চলমান সংকটকে তিনি সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
বর্তমানে ইরানকে ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছে, তা বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ‘অননুমোদিত যুদ্ধ’ থামাতে চীনের কড়া বার্তা

আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে চীন স্পষ্টভাবে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, অননুমোদিত সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক পর্যায়েও ‘অন্তহীন সংকট’ তৈরি করবে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই অবস্থান তুলে ধরে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সতর্ক ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে ওয়াং ই স্পষ্ট করে বলেন, চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় অস্থিতিশীল থাকবে। এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হওয়ায় এর যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো যুদ্ধবিরতির দিকে মনোযোগ দেওয়া। তিনি সতর্ক করেন, জাতিসংঘের যেকোনো পদক্ষেপ যেন সংঘাতকে আরও উসকে না দেয় এবং কোনোভাবেই অননুমোদিত সামরিক অভিযানকে বৈধতা না দেয়। তার মতে, যদি এমনটি ঘটে, তবে তার দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এর সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হবে ছোট ও মাঝারি শক্তির দেশগুলো, যারা বৈশ্বিক শক্তির দ্বন্দ্বে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে।
এর আগে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিন রাশেদ আল যায়েনির সঙ্গেও একই ধরনের বার্তা দেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সে সময় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাহরাইনের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল, যার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে এই প্রস্তাবকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মতভেদও দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, এই সংঘাতে ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। পাল্টা হিসেবে ইরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি একটি কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস সরবরাহ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান কার্যত এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে কেবল তাদের অনুগত বা ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রগুলোর জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই অবস্থান কেবল কূটনৈতিক বার্তা নয়, বরং একটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সংকেত। বেইজিং একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগ্রহী, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে একটি বিকল্প আন্তর্জাতিক অবস্থানও তুলে ধরছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে চীনের স্বার্থ সরাসরি এই অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত, ফলে হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট শুধু আঞ্চলিক শক্তির দ্বন্দ্ব নয়, বরং এটি বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি জটিল সমীকরণে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চীনের সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
পাঠকের মতামত:
- গোপনে চীন থেকে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির রাসায়নিক সরবরাহ, বিশ্লেষণে টেলিগ্রাফ
- রোববার থেকে শুরু হবে ১৮ জেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি
- বিনিময় হারে বড় চমক! ওমানি রিয়াল ও ব্রিটিশ পাউন্ডের নতুন দাম
- হরমুজ প্রণালিতে নতুন পথ! ইরানের চোখ ফাঁকি দিয়ে পার হলো ভারতীয় জাহাজ?
- বিচার বিভাগে ফিরছে পুরনো আমল! সংসদীয় কমিটির বড় সিদ্ধান্ত
- ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের করুণ দশা! এক সেনাকে বাঁচাতে গিয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতি
- দুবাই মেরিনায় ইরানের মিসাইল হামলা!
- পিএসএলে ইমনের ব্যাটিং তাণ্ডব!
- ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা হতাহত বাড়ছে, আহত ও নিহত যত
- যুদ্ধ এখন ইরানি ভূখণ্ডে! মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশে চরমে উত্তেজনা
- বিমান পতন সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে আলোচনায় প্রভাব পড়বেনা: ট্রাম্প
- ব্যর্থ হলো পাকিস্তানের মধ্যস্থতা! ওয়াশিংটনের সাথে সংলাপে বসতে নারাজ ইরান
- কে আগে পৌঁছাবে, যুক্তরাষ্ট্র না ইরান? নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে নিয়ে রুদ্ধশ্বাস লড়াই
- ইরানের ক্লাস্টার বোমায় কাঁপছে ইসরায়েল
- ৯ জেলায় তাপপ্রবাহের মরণ কামড়! ঢাকাবাসীর জন্য দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস
- ভরিপ্রতি নতুন দরে কাঁপছে সোনার বাজার
- আজ বের হওয়ার আগে সাবধান! দেখে নিন ঢাকার কোথায় কোথায় দোকান বন্ধ
- আজ ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- জেনে নিন আজকের নামাজের সঠিক সময়সূচি
- ইরানের আকাশসীমায় একের পর এক মার্কিন বিমান ধ্বংস
- কুমিল্লা আইনজীবী নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের একচেটিয়া জয়
- ভোলায় শিশুকে সংঘবদ্ধ নির্যাতনের চেষ্টা, ভর্তি হাসপাতালে
- যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব সহজেই হরমুজ খুলে দিতে পারবে: ট্রাম্প
- জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ‘অননুমোদিত যুদ্ধ’ থামাতে চীনের কড়া বার্তা
- ইরানের আকাশে আরো একটি এফ-৩৫ ধ্বংস? ছবি প্রকাশ
- ইরানের তালিকায় উপসাগরের সেতুগুলো: কোথায় আঘাত হানতে পারে তেহরান?
- নতুন নিয়মে সন্ধ্যার পর যেসব বিপণিবিতান খোলা থাকবে
- মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ ধ্বংসের দাবি ইরানের
- সপ্তাহজুড়ে কেমন ছিল শেয়ারবাজার
- আবারও স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরি ছাড়ালো যত
- জ্বালানি বাঁচাতে কয়েকটি কড়া পদক্ষেপে সরকার
- মার্কিন রিপোর্টে ইরানের সামরিক সক্ষমতার চিত্র
- ট্রাম্পের নতুন হুমকি, তেহরানের পাল্টা প্রস্তুতি ও হরমুজ ঘিরে বৈশ্বিক উদ্বেগ
- বাংলাদেশ ব্যাংক–এর সাবেক গভর্নরের দুর্নীতি
- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপছে ইসরায়েল
- আজকের খেলার সূচি, কোথায় কোন ম্যাচ
- ৩ এপ্রিল: আজকের নামাজের সময়সূচি
- ইরান যুদ্ধে দৈনিক কত ডলার ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের
- আজ কোথায় খোলা, কোথায় বন্ধ মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান
- খামেনির উত্তরসূরির চিঠি! ট্রাম্পের হুমকির মুখে নতুন মোড়
- মোস্তাফিজ কেন আইপিএল ছাড়া? অবশেষে মুখ খুললেন আইপিএল চেয়ারম্যান
- ভারতের বিপক্ষে মহাযুদ্ধ! কাল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের মেগা ফাইনাল
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রেড অ্যালার্ট! দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ
- সাংবাদিক হেনস্তা করা চান্দিনার সেই এসিল্যান্ড সিলেট বিভাগে বদলী
- আবহাওয়া অফিসের রেড অ্যালার্ট! ৪ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা
- হাসনাত আব্দুল্লাহর তোপ ও মন্ত্রীর সাফাই: জ্বালানি নিয়ে সরগরম জাতীয় সংসদ
- ইরান ইস্যুতে মিত্রদের বিচ্ছেদ! ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে সোচ্চার ফ্রান্স
- সংসদে ১৩৩ অধ্যাদেশের মহাযজ্ঞ! ৯৮টি পাস, বাতিল হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি
- আদানির চুক্তি এখন ‘গলার কাঁটা’! বড় অ্যাকশনে যাচ্ছে সরকার
- সংসদে বিচার চাইলেন রুমিন ফারহানা
- ভারতের বিপক্ষে মহাযুদ্ধ! কাল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের মেগা ফাইনাল
- সোমবারও স্বর্ণের বাজারে আগুনের উত্তাপ, রেকর্ড দামে কেনাবেচা
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরিতে বেড়েছে যত
- স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে: মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বদলে গেল সব হিসাব
- ৩১ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- চিরদিনই তুমি যে আমার খ্যাত নায়ক রাহুলের অকাল প্রয়াণ
- ইরানের পক্ষে লড়বে চেচেন যোদ্ধারা! কাদিরভ বাহিনীর ‘জিহাদ’ ঘোষণা
- ২৯ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- চীনের ৫ দফা প্রস্তাব! ইরান যুদ্ধ থামাতে বেইজিং-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক চুক্তি
- কালিগঞ্জে কাটুনিয়া রাজবাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহাব চূড়ান্ত বরখাস্ত
- শেষ ৪ মিনিটের ঝড়ে উড়ে গেল ক্রোয়েশিয়া! ব্রাজিলের বিধ্বংসী জয়
- ২৯ মার্চ ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
- ৩০ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে তিন গুণ বেশি: তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে হিমশিম প্রশাসন
- দুই দশক পর ফিরল হামের আতঙ্ক: শিশুদের সুরক্ষায় নতুন সতর্কবার্তা








