যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব সহজেই হরমুজ খুলে দিতে পারবে: ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সংকট এবং সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি। এই প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বক্তব্যে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব সহজেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের অচলাবস্থা দূর করতে সক্ষম।
নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় সময় ও কৌশলগত প্রস্তুতি থাকলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন কোনো কাজ নয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কেবল সামরিক নয়, বরং একটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, প্রণালিটি উন্মুক্ত করা গেলে সেখানে দিয়ে তেল প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং তা থেকে বিশাল অর্থনৈতিক মুনাফা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। তার ভাষায়, এই জলপথ বিশ্ববাজারে তেলের একটি বড় উৎস বা ‘গাশার’ হিসেবে কাজ করতে পারে।
বর্তমান বাস্তবতায় হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে বিবেচিত হয়। এই পথ দিয়ে বিশ্বের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবাহিত হয়, ফলে এর ওপর যেকোনো ধরনের বাধা আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য কেবল সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত অর্থনৈতিক বার্তাও বহন করে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট যে, চলমান সংকটকে তিনি সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
বর্তমানে ইরানকে ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছে, তা বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ‘অননুমোদিত যুদ্ধ’ থামাতে চীনের কড়া বার্তা

আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে চীন স্পষ্টভাবে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, অননুমোদিত সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক পর্যায়েও ‘অন্তহীন সংকট’ তৈরি করবে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই অবস্থান তুলে ধরে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সতর্ক ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে ওয়াং ই স্পষ্ট করে বলেন, চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় অস্থিতিশীল থাকবে। এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হওয়ায় এর যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো যুদ্ধবিরতির দিকে মনোযোগ দেওয়া। তিনি সতর্ক করেন, জাতিসংঘের যেকোনো পদক্ষেপ যেন সংঘাতকে আরও উসকে না দেয় এবং কোনোভাবেই অননুমোদিত সামরিক অভিযানকে বৈধতা না দেয়। তার মতে, যদি এমনটি ঘটে, তবে তার দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এর সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হবে ছোট ও মাঝারি শক্তির দেশগুলো, যারা বৈশ্বিক শক্তির দ্বন্দ্বে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে।
এর আগে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিন রাশেদ আল যায়েনির সঙ্গেও একই ধরনের বার্তা দেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সে সময় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাহরাইনের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল, যার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে এই প্রস্তাবকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মতভেদও দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, এই সংঘাতে ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। পাল্টা হিসেবে ইরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি একটি কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস সরবরাহ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান কার্যত এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে কেবল তাদের অনুগত বা ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রগুলোর জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই অবস্থান কেবল কূটনৈতিক বার্তা নয়, বরং একটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সংকেত। বেইজিং একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগ্রহী, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে একটি বিকল্প আন্তর্জাতিক অবস্থানও তুলে ধরছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে চীনের স্বার্থ সরাসরি এই অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত, ফলে হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট শুধু আঞ্চলিক শক্তির দ্বন্দ্ব নয়, বরং এটি বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি জটিল সমীকরণে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চীনের সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ইরানের আকাশে আরো একটি এফ-৩৫ ধ্বংস? ছবি প্রকাশ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যখন ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে যে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি মার্কিন স্টেলথ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। এই দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, যদিও এখনো স্বাধীনভাবে এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আইআরজিসি-নিয়ন্ত্রিত ফার্স নিউজ এজেন্সির একটি টেলিগ্রাম পোস্টে বলা হয়েছে, একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মধ্য ইরানের আকাশসীমা অতিক্রম করার সময় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে গুলি করে নামাতে সক্ষম হয়। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আঘাতের পর বিমানটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়। তবে দুর্ঘটনার পরপরই পাইলটের ভাগ্যে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি, কারণ বিমানের ক্ষয়ক্ষতি ছিল অত্যন্ত গুরুতর।
এই দাবির পক্ষে কিছু স্থিরচিত্রও প্রকাশ করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ছবিগুলোতে একটি বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের অংশবিশেষ দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
ছবি- তাসনিম নিউজে প্রকাশিত মার্কিন এফ-৩৫ এর ধ্বংসাবশেষ।
এর আগে ইরানের আরেক আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সিও একই ধরনের দাবি করে কিছু স্থিরচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত যুদ্ধবিমানের অংশবিশেষ দেখা যায়। তাসনিমের দাবি অনুযায়ী, এই বিমানটি মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের অধীন একটি স্কোয়াড্রনের, যা যুক্তরাজ্যের লেকেনহিথ ঘাঁটি থেকে মোতায়েন হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান পরিচালনা করছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, যা দাবিটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের দাবি অনেক সময় তথ্যযুদ্ধ বা মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তৈরির অংশ হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে, বিশেষ করে যখন সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে।
তবে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, যদি সত্যিই একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়ে থাকে, তাহলে এটি হবে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সামরিক ঘটনা। কারণ এফ-৩৫ বিশ্বের অন্যতম উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত, যার রাডার এড়িয়ে চলার সক্ষমতা এবং উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি এটিকে অত্যন্ত কার্যকর করে তোলে। এমন একটি বিমান যদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দ্বারা ভূপাতিত হয়, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রযুক্তির জন্য একটি বড় ধরনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধ কৌশল পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে আসতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ঘটনাটি সত্য হোক বা না হোক, এটি স্পষ্ট যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন কেবল সামরিক শক্তির লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তথ্য, প্রচার এবং বয়ান নিয়েও সমান তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। প্রতিটি পক্ষই নিজেদের সাফল্য তুলে ধরতে এবং প্রতিপক্ষকে দুর্বল হিসেবে দেখাতে সচেষ্ট, যা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে।
সব মিলিয়ে, ইরানের এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও ঘনীভূত করেছে এবং নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে আধুনিক যুদ্ধের প্রকৃতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং তথ্যযুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে।
সুত্রঃ মিডেল ইস্ট আই।
ইরানের তালিকায় উপসাগরের সেতুগুলো: কোথায় আঘাত হানতে পারে তেহরান?
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এখন এক নতুন ও উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে, যেখানে কৌশলগত অবকাঠামো সরাসরি যুদ্ধের কেন্দ্রে চলে এসেছে। ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কারাজে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম উচ্চতম সেতু আংশিকভাবে ধ্বংস হওয়ার পর তেহরান যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা এই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও অনিশ্চিত করে তুলেছে। হামলার পরপরই ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যা বিশ্লেষকদের মতে প্রতিশোধমূলক হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজের বরাতে জানা যায়, কারাজের বি১ সেতুতে ধারাবাহিক দুই দফা হামলার পর ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই তালিকা প্রকাশ করে। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কুয়েতের শেখ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহ সমুদ্র সেতু, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ জায়েদ, আল-মাকতা ও শেখ খলিফা সেতু, সৌদি আরব ও বাহরাইনকে সংযুক্ত করা কিং ফাহাদ কজওয়ে, এবং জর্ডানের কিং হুসেন, দামিয়া ও আবদুন সেতু। এসব সেতু কেবল যোগাযোগ অবকাঠামো নয়, বরং আঞ্চলিক অর্থনীতি, বাণিজ্য ও সামরিক গতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা সংঘাতের প্রকৃতি সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় কারাজে অবস্থিত নির্মাণাধীন বি১ সেতুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় ১৩৬ মিটার উচ্চতার এই সেতুটি তেহরান ও কারাজের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য নির্মাণাধীন ছিল এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম উচ্চতম সেতু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, এই হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং প্রায় ৯৫ জন আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সেতুর একটি বড় অংশ ধসে পড়তে দেখা গেছে, যা হামলার তীব্রতা সম্পর্কে ধারণা দেয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার পর সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও শেয়ার করে ইরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, যদি তেহরান আলোচনায় না আসে, তবে আরও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হবে। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, সামরিক চাপ বাড়িয়ে ইরানকে কূটনৈতিক টেবিলে বসাতে চায় ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে ইরান এই হামলাকে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, নির্মাণাধীন সেতুতে হামলা কোনোভাবেই ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারবে না; বরং এটি আক্রমণকারী পক্ষের কৌশলগত দুর্বলতা ও নৈতিক সংকটকে প্রকাশ করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বহু উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পাল্টা হিসেবে তেহরান ইতোমধ্যে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, যা সংঘাতকে ক্রমেই আঞ্চলিক থেকে বহুমাত্রিক যুদ্ধে রূপান্তরিত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং পাল্টা প্রতিশোধের তালিকা প্রকাশ করা সংঘাতের একটি নতুন ধাপের সূচনা। এটি শুধু সামরিক সক্ষমতা নয়, বরং অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ কাঠামোকেও সরাসরি ঝুঁকির মুখে ফেলছে। যদি এই ধরনের হামলা বাস্তবায়িত হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক প্রবাহ, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, কারাজের সেতুতে হামলা এবং তার পরপরই ইরানের ‘হিটলিস্ট’ প্রকাশ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক ও অনিশ্চিত এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই সংঘাত কি শুধুই সামরিক সীমায় আবদ্ধ থাকবে, নাকি এটি ধীরে ধীরে আঞ্চলিক অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সংকটে রূপ নেবে।
সূত্রঃ রয়টার্স।
মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ ধ্বংসের দাবি ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ইরানের আধা-সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর যুক্তরাষ্ট্রের একটি উন্নতমানের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে।
আইআরজিসি-নিয়ন্ত্রিত ফার্স নিউজ এজেন্সি–এর একটি টেলিগ্রাম পোস্টে বলা হয়েছে, একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মধ্য ইরানের আকাশসীমা অতিক্রম করার সময় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং সেটিকে গুলি করে নামানো হয়।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়, আঘাতের পর বিমানটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই পাইলটের অবস্থা সম্পর্কে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি, কারণ বিমানের ক্ষয়ক্ষতি ছিল অত্যন্ত গুরুতর।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন যুদ্ধবিমান ব্যবস্থার জন্য একটি বড় ধরনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হবে।
তবে এ ধরনের দাবির ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তথ্যযুদ্ধ বা প্রোপাগান্ডার অংশ হিসেবেও এ ধরনের ঘোষণা আসতে পারে।
এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
-রাফসান
মার্কিন রিপোর্টে ইরানের সামরিক সক্ষমতার চিত্র
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বাস্তব ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে হামলা চললেও ইরানের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা এখনো অক্ষত রয়েছে।
সিএনএন–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রায় অর্ধেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনও কার্যত অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশটির অস্ত্রভাণ্ডারে হাজার হাজার একমুখী আক্রমণকারী ড্রোনও এখনো সংরক্ষিত রয়েছে, যা প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।
তবে গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, কিছু লঞ্চার সরাসরি ধ্বংস না হলেও বিমান হামলার ফলে সেগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে অপ্রবেশযোগ্য হয়ে পড়েছে, যার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারের উপযোগিতা হারিয়েছে।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে ফেলেছে। এই বক্তব্য গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক।
এই বিষয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী–এর আগের দাবির সঙ্গেও পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। তারা জানিয়েছিল, ইরানের প্রায় ৪৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের মধ্যে ৬০ শতাংশ ধ্বংস বা অকার্যকর করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভিন্নতার পেছনে মূল কারণ হতে পারে ‘অক্ষত’ এবং ‘ব্যবহারযোগ্য’—এই দুই ভিন্ন শ্রেণির ব্যাখ্যা। কোনো লঞ্চার সরাসরি ধ্বংস না হলেও যদি তা কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য হয়, তাহলে সেটিকে কীভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হবে, সে বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে।
ইসরায়েলি সামরিক সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ২০০টি লঞ্চার সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে এবং আরও ৮০টি লঞ্চার আংশিকভাবে অকার্যকর হয়েছে। এসব স্থাপনা মূলত ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে সংরক্ষিত ছিল, যেখানে প্রবেশপথে হামলা চালিয়ে কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত করছে, ইরান এখনো একটি বড় আকারের প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রেখেছে। বিশেষ করে ড্রোন সক্ষমতা তাদের কৌশলগত শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একটি নিরাপত্তা সূত্র সতর্ক করে বলেছে, ইরান এখনও চাইলে পুরো অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা রাখে, যা এই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।
তবে এই গোয়েন্দা মূল্যায়নকে অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন। তাদের দাবি, এই ধরনের তথ্য ফাঁস মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের সফলতাকে খাটো করার একটি প্রচেষ্টা।
সামগ্রিকভাবে, এই ভিন্নধর্মী তথ্য ও দাবির মধ্যে পার্থক্য মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রকৃত চিত্রকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে কৌশলগত মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
-রাফসান
ট্রাম্পের নতুন হুমকি, তেহরানের পাল্টা প্রস্তুতি ও হরমুজ ঘিরে বৈশ্বিক উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমেই এমন এক জটিল ও বিস্তৃত রূপ নিচ্ছে, যেখানে সামরিক অভিযান, কৌশলগত অবকাঠামোতে হামলা, আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা—সবকিছু একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা জোরদার করার পাশাপাশি ওয়াশিংটন থেকে নতুন করে কঠোর হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।
সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের অবশিষ্ট অবকাঠামোর ওপর পূর্ণ মাত্রায় হামলা শুরুই করেনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক আঘাত হানা হবে। এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, যুদ্ধ এখনো শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়নি; বরং সামনে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তেহরানের একটি শতবর্ষী চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র, রাজধানীর নিকটবর্তী একটি সেতু এবং ইস্পাত কারখানাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই হামলাগুলো কেবল সামরিক নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে, যা ইরানের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতাকে দুর্বল করার কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা অবস্থান আরও কঠোর করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী ঘোষণা দিয়েছে যে, এই যুদ্ধ চলবে যতক্ষণ না প্রতিপক্ষ ‘অপমানিত’ ও ‘পরাজিত’ হয়। সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানের বিরুদ্ধেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সংঘাত এখন একটি সীমিত যুদ্ধের গণ্ডি পেরিয়ে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংঘর্ষে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইশরাত/২৩৫৮৬
সংঘাতের বিস্তার ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে একাধিক ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়। একই সময়ে বাহরাইনে সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং জনগণকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে যুদ্ধ এখন শুধু ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এই নৌপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের অনুমোদনের কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে এই প্রস্তাব পাস হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, বিশেষ করে চীনের বিরোধিতার কারণে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়, ফলে এর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে সামরিক ফ্রন্টেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং একাধিক স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসব ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে সংঘাত এখন প্রতিদিন নতুন নতুন মাত্রা পাচ্ছে।
অন্যদিকে ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে, যা সংঘাতকে আরও বহুমাত্রিক করে তুলেছে। একই সময়ে লেবাননভিত্তিক হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার দাবি করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট যে এই যুদ্ধ এখন প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি একটি জটিল ও বহুস্তরীয় সংঘাতের প্রতিচ্ছবি, যেখানে সামরিক শক্তি, কৌশলগত অবকাঠামো, জ্বালানি রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হুমকি, ইরানের পাল্টা অবস্থান এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা এই সংকটকে আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলছে।
বর্তমান বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই সংঘাত কি কূটনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব, নাকি এটি আরও বিস্তৃত হয়ে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক সংকটে রূপ নেবে। এখনকার পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্য এমন এক অস্থির পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে প্রতিটি নতুন হামলা আরও বড় সংঘাতের সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে আসছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপছে ইসরায়েল
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও ‘বিধ্বংসী’ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ইসরায়েলের সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ইরান তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নতুন করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর ফলে তেল আবিবসহ বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, এসব হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তারা তেল আবিব ও ইলাত অঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি ও প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে সফল হামলা চালিয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব হামলায় ইসরায়েলি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে, যদিও এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এই বার্তায় তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সামরিক পদক্ষেপ আদৌ ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।
চিঠিতে তিনি সরাসরি মার্কিন জনগণকে উদ্দেশ করে জানতে চান, এই যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের কোন বাস্তব স্বার্থ অর্জিত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনো আগ্রাসন বা উপনিবেশবাদী নীতি অনুসরণ করেনি এবং যুদ্ধ শুরু করার পক্ষেও ছিল না।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরানকে একটি বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টা মূলত আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষমতাধর গোষ্ঠীগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের অংশ। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিই এই উত্তেজনার একটি বড় কারণ।
তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলোকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং দাবি করেন, এসব পদক্ষেপ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরান যুদ্ধে দৈনিক কত ডলার ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ক্রমশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হচ্ছে, যেখানে যুদ্ধের ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সামরিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাতের বিস্তৃতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেটে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
পেন্টাগন–এর হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর মাত্র ছয় দিনের মধ্যেই প্রায় ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম দ্রুত ব্যয়বৃদ্ধির উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দৈনিক ব্যয়ের কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ায় ব্যয় তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে স্বাধীন বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, এই ধরনের ব্যয় কেবল সামরিক খাতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত বহুমাত্রিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
অন্যদিকে সামরিক পরিস্থিতিও ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরের কেশম দ্বীপের দক্ষিণে একটি ‘শত্রুপক্ষের’ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ওই বিমানটিকে সফলভাবে আঘাত করে। তবে বিমানটি কোন দেশের ছিল, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর বিমানটি হেনগাম ও কেশম দ্বীপের মধ্যবর্তী উপসাগরীয় এলাকায় গিয়ে বিধ্বস্ত হয়। এই দাবি সংঘাতের সামরিক মাত্রা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করতে পারে এবং এতে নতুন পক্ষ জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। একই সঙ্গে এটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত এখন শুধু সামরিক নয়, বরং অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও একটি জটিল সংকটে পরিণত হয়েছে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হতে পারে।
-রফিক
ইরান ইস্যুতে মিত্রদের বিচ্ছেদ! ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে সোচ্চার ফ্রান্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সামরিক অবস্থানের মুখে এবার সরাসরি বিরুদ্ধাচরণ করলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে মিত্র দেশগুলোকে শক্তি প্রয়োগের যে আহ্বান ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তাকে ‘অবাস্তব’ এবং ‘অবাস্তবসম্মত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী নীতির তীব্র সমালোচনা করেন।
ইরান হরমুজ প্রণালিকে ‘শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর’ জন্য বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতে প্রণালিটিকে ‘মুক্ত’ করতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু কোনো মিত্র দেশই এতে সাড়া না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প একপর্যায়ে বলেন, ‘নিজেদের তেল নিজেরাই জোগাড় করো।’
এর জবাবে ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করে বলেন, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে জোরপূর্বক হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার ধারণা পুরোপুরি অবাস্তব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সামরিক শক্তির বদলে ইরানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতি জরুরি।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান বিরোধী এই সংঘাতে ফ্রান্স অংশ নেবে না, কারণ এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিচালিত একটি অভিযান। তিনি আরও বলেন, কয়েক সপ্তাহের সীমিত সামরিক অভিযান দিয়ে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক ইস্যুর সমাধান সম্ভব নয়।
ট্রাম্পের অস্থির নীতির সমালোচনা করে ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমরা যখন কোনো বিষয় নিয়ে সিরিয়াস হতে চাই, তখন প্রতিদিন আগের দিনের কথার বিপরীত কথা বলা চলে না।” ম্যাক্রোঁর এই শক্ত অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে ট্রাম্পের একঘেয়েমি নীতির বিরুদ্ধে এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
পাঠকের মতামত:
- যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব সহজেই হরমুজ খুলে দিতে পারবে: ট্রাম্প
- জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ‘অননুমোদিত যুদ্ধ’ থামাতে চীনের কড়া বার্তা
- ইরানের আকাশে আরো একটি এফ-৩৫ ধ্বংস? ছবি প্রকাশ
- ইরানের তালিকায় উপসাগরের সেতুগুলো: কোথায় আঘাত হানতে পারে তেহরান?
- নতুন নিয়মে সন্ধ্যার পর যেসব বিপণিবিতান খোলা থাকবে
- মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ ধ্বংসের দাবি ইরানের
- সপ্তাহজুড়ে কেমন ছিল শেয়ারবাজার
- আবারও স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরি ছাড়ালো যত
- জ্বালানি বাঁচাতে কয়েকটি কড়া পদক্ষেপে সরকার
- মার্কিন রিপোর্টে ইরানের সামরিক সক্ষমতার চিত্র
- ট্রাম্পের নতুন হুমকি, তেহরানের পাল্টা প্রস্তুতি ও হরমুজ ঘিরে বৈশ্বিক উদ্বেগ
- বাংলাদেশ ব্যাংক–এর সাবেক গভর্নরের দুর্নীতি
- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপছে ইসরায়েল
- আজকের খেলার সূচি, কোথায় কোন ম্যাচ
- ৩ এপ্রিল: আজকের নামাজের সময়সূচি
- ইরান যুদ্ধে দৈনিক কত ডলার ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের
- আজ কোথায় খোলা, কোথায় বন্ধ মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান
- খামেনির উত্তরসূরির চিঠি! ট্রাম্পের হুমকির মুখে নতুন মোড়
- মোস্তাফিজ কেন আইপিএল ছাড়া? অবশেষে মুখ খুললেন আইপিএল চেয়ারম্যান
- ভারতের বিপক্ষে মহাযুদ্ধ! কাল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের মেগা ফাইনাল
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রেড অ্যালার্ট! দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ
- সাংবাদিক হেনস্তা করা চান্দিনার সেই এসিল্যান্ড সিলেট বিভাগে বদলী
- আবহাওয়া অফিসের রেড অ্যালার্ট! ৪ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা
- হাসনাত আব্দুল্লাহর তোপ ও মন্ত্রীর সাফাই: জ্বালানি নিয়ে সরগরম জাতীয় সংসদ
- ইরান ইস্যুতে মিত্রদের বিচ্ছেদ! ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে সোচ্চার ফ্রান্স
- সংসদে ১৩৩ অধ্যাদেশের মহাযজ্ঞ! ৯৮টি পাস, বাতিল হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি
- আদানির চুক্তি এখন ‘গলার কাঁটা’! বড় অ্যাকশনে যাচ্ছে সরকার
- সংসদে বিচার চাইলেন রুমিন ফারহানা
- কালিগঞ্জে কাটুনিয়া রাজবাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহাব চূড়ান্ত বরখাস্ত
- ট্রাম্পের হুমকির পর যুদ্ধ থামাতে চীনের জরুরি আহ্বান
- ০২ এপ্রিল ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ০২ এপ্রিল ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
- ০২ এপ্রিল ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- টাকার বিপরীতে আজকের ডলার-ইউরো-পাউন্ড রেট, কী বাড়ল
- ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন বর্ষণ
- মার্কেট বন্ধের নতুন সময়সূচি! আন্তর্জাতিক সংকটে দেশের বাজারে নতুন নিয়ম
- বিশ্বজুড়ে মহাযুদ্ধের দামামা! ট্রাম্পের হুমকির পর তেহরানের চরম আলটিমেটাম
- ৪৪ ঘণ্টার রেড অ্যালার্ট! ইরাকের মার্কিন দূতাবাস ঘিরে উত্তেজনার পারদ
- বিস্ফোরণে কাঁপছে বুরুন্ডি! সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
- যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের
- ঢাকার আবহাওয়া আপডেট, কী থাকবে দিনের চিত্র
- মুমিনের সেরা হাতিয়ার! এই এক শব্দেই ভেঙে পড়ে শয়তানের সব ষড়যন্ত্র
- ক্যানসার দমনে নিমের অবিশ্বাস্য শক্তি! গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
- ট্রাম্পের দাবি বনাম গোয়েন্দা তথ্য: ইরান কি সত্যিই আমেরিকায় হামলা করতে সক্ষম?
- সিলেটে সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ, বাড়ছে উদ্বেগ
- সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
- জ্বালানি সংকটের মেঘ কাটছে! কালই চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে ডিজেলের বিশাল চালান
- গরমে ঘামাচির জ্বালায় অতিষ্ঠ? জেনে নিন নিমিষেই মুক্তির ৯টি ঘরোয়া উপায়
- স্মার্ট কৃষি কার্ড পেতে কী কী লাগবে? জেনে নিন নিবন্ধনের সহজ ধাপ
- সোমবারও স্বর্ণের বাজারে আগুনের উত্তাপ, রেকর্ড দামে কেনাবেচা
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরিতে বেড়েছে যত
- সোনার বাজারে বড় ধস: দেশের সব জুয়েলারি দোকানে নতুন দাম কার্যকর
- ভারতের বিপক্ষে মহাযুদ্ধ! কাল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের মেগা ফাইনাল
- স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে: মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বদলে গেল সব হিসাব
- ৩১ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- চিরদিনই তুমি যে আমার খ্যাত নায়ক রাহুলের অকাল প্রয়াণ
- কালিগঞ্জের রতনপুরে জমি বিরোধের জেরে নৃশংস হামলা, গুরুতর আহত ১ জন
- তাসের ঘরের মতো বিধ্বস্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা: মধ্যপ্রাচ্যের সব ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইরানের
- ২৯ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ডাক: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাজপথে নামছে লাখো মানুষ
- ২৮ মার্চ ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়
- ইরানের পক্ষে লড়বে চেচেন যোদ্ধারা! কাদিরভ বাহিনীর ‘জিহাদ’ ঘোষণা
- চীনের ৫ দফা প্রস্তাব! ইরান যুদ্ধ থামাতে বেইজিং-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক চুক্তি
- কালিগঞ্জে কাটুনিয়া রাজবাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহাব চূড়ান্ত বরখাস্ত








