ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপছে ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও ‘বিধ্বংসী’ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ইসরায়েলের সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ইরান তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নতুন করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর ফলে তেল আবিবসহ বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, এসব হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তারা তেল আবিব ও ইলাত অঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি ও প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে সফল হামলা চালিয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব হামলায় ইসরায়েলি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে, যদিও এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এই বার্তায় তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সামরিক পদক্ষেপ আদৌ ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।
চিঠিতে তিনি সরাসরি মার্কিন জনগণকে উদ্দেশ করে জানতে চান, এই যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের কোন বাস্তব স্বার্থ অর্জিত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনো আগ্রাসন বা উপনিবেশবাদী নীতি অনুসরণ করেনি এবং যুদ্ধ শুরু করার পক্ষেও ছিল না।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরানকে একটি বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টা মূলত আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষমতাধর গোষ্ঠীগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের অংশ। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিই এই উত্তেজনার একটি বড় কারণ।
তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলোকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং দাবি করেন, এসব পদক্ষেপ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরান যুদ্ধে দৈনিক কত ডলার ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ক্রমশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হচ্ছে, যেখানে যুদ্ধের ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সামরিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাতের বিস্তৃতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেটে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
পেন্টাগন–এর হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর মাত্র ছয় দিনের মধ্যেই প্রায় ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম দ্রুত ব্যয়বৃদ্ধির উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দৈনিক ব্যয়ের কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ায় ব্যয় তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে স্বাধীন বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, এই ধরনের ব্যয় কেবল সামরিক খাতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত বহুমাত্রিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
অন্যদিকে সামরিক পরিস্থিতিও ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরের কেশম দ্বীপের দক্ষিণে একটি ‘শত্রুপক্ষের’ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ওই বিমানটিকে সফলভাবে আঘাত করে। তবে বিমানটি কোন দেশের ছিল, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর বিমানটি হেনগাম ও কেশম দ্বীপের মধ্যবর্তী উপসাগরীয় এলাকায় গিয়ে বিধ্বস্ত হয়। এই দাবি সংঘাতের সামরিক মাত্রা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করতে পারে এবং এতে নতুন পক্ষ জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। একই সঙ্গে এটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত এখন শুধু সামরিক নয়, বরং অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও একটি জটিল সংকটে পরিণত হয়েছে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হতে পারে।
-রফিক
ইরান ইস্যুতে মিত্রদের বিচ্ছেদ! ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে সোচ্চার ফ্রান্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সামরিক অবস্থানের মুখে এবার সরাসরি বিরুদ্ধাচরণ করলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে মিত্র দেশগুলোকে শক্তি প্রয়োগের যে আহ্বান ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তাকে ‘অবাস্তব’ এবং ‘অবাস্তবসম্মত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী নীতির তীব্র সমালোচনা করেন।
ইরান হরমুজ প্রণালিকে ‘শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর’ জন্য বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতে প্রণালিটিকে ‘মুক্ত’ করতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু কোনো মিত্র দেশই এতে সাড়া না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প একপর্যায়ে বলেন, ‘নিজেদের তেল নিজেরাই জোগাড় করো।’
এর জবাবে ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করে বলেন, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে জোরপূর্বক হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার ধারণা পুরোপুরি অবাস্তব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সামরিক শক্তির বদলে ইরানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতি জরুরি।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান বিরোধী এই সংঘাতে ফ্রান্স অংশ নেবে না, কারণ এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিচালিত একটি অভিযান। তিনি আরও বলেন, কয়েক সপ্তাহের সীমিত সামরিক অভিযান দিয়ে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক ইস্যুর সমাধান সম্ভব নয়।
ট্রাম্পের অস্থির নীতির সমালোচনা করে ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমরা যখন কোনো বিষয় নিয়ে সিরিয়াস হতে চাই, তখন প্রতিদিন আগের দিনের কথার বিপরীত কথা বলা চলে না।” ম্যাক্রোঁর এই শক্ত অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে ট্রাম্পের একঘেয়েমি নীতির বিরুদ্ধে এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
ট্রাম্পের হুমকির পর যুদ্ধ থামাতে চীনের জরুরি আহ্বান
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে চীন, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বড় শক্তিগুলোর অবস্থান সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না। বরং এ ধরনের সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তোলে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দ্রুত সামরিক অভিযান বন্ধ করে সংলাপে ফেরার আহ্বান জানান।
এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর ভাষায় হুমকি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে দেওয়া ভাষণে তিনি সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তার এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজিত করে তোলে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই ইরানের সামরিক অপারেশনাল কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত সংঘাত অব্যাহত থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আরও তীব্র হামলার মুখোমুখি হতে হবে।
এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ট্রাম্পের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান দুই দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত চারটি হামলার ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি বহুমাত্রিক আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যেখানে বড় শক্তিগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততা বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোকেও প্রভাবিত করবে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কৌশলগত জলপথগুলো এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারে।
চীনের এই আহ্বান মূলত একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান, যা সংঘাত নিরসনে আলোচনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়। তবে বাস্তবতা হলো, মাঠের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
-রাফসান
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে, যেখানে এবার জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। এই ঘটনার মাধ্যমে আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পার্বত্য অঞ্চলের আড়ালে থাকা একটি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এটি জর্ডানের ভূখণ্ডে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। তবে ভিডিওটির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, যা ঘটনাটিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।
এই হামলার প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অপারেশন এপিক ফিউরি, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। এই অভিযানের পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ওই অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর আঘাত হানা হয়েছে, যার মধ্যে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এসব তথ্য স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, তবুও এই দাবি সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।
কৌশলগতভাবে জর্ডান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির আকাশপথ ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে হামলা চালানো ইরানের সামরিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি ছাড়াও বাহরাইন, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত একাধিক ঘাঁটি এই হামলার আওতায় এসেছে।
এর মধ্যে গত ২৭ মার্চের একটি হামলায় একটি মার্কিন নজরদারি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর আগেও জ্বালানি সরবরাহকারী কয়েকটি বিমান ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল, যা এই সংঘাতের ব্যাপ্তি ও কৌশলগত গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।
-রাফসান
ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন বর্ষণ
দক্ষিণ লেবাননকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা লাভ করেছে, যেখানে স্থল অভিযানের জবাবে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে হিজবুল্লাহ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া হামলায় সীমান্তবর্তী এলাকা ছাড়িয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও আঘাত হানা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি অধিকৃত অঞ্চলের গভীরে এবং সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় ব্যাপক রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে হাইফার নিকটবর্তী কিরিয়াত আতা এলাকায় সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বড় আকারের রকেট বর্ষণ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহরে অগ্রসরমান ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর তারা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক যুদ্ধকৌশল হিসেবে ড্রোন স্বার্ম ব্যবহার করে ইভেন মেনাখেম বসতিতেও আঘাত হানা হয়েছে। এর আগে ওই এলাকাটি সামরিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে বেসামরিকদের সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।
সংগঠনটি জানিয়েছে, বুধবার থেকে শুরু হওয়া অভিযানে তারা প্রায় ৬০টি সফল সামরিক অপারেশন পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের অত্যাধুনিক মেরকাভা ট্যাংক ধ্বংসের দাবি, সামরিক বিমানের বিরুদ্ধে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার এবং দীর্ঘপাল্লার ট্যাকটিক্যাল মিসাইল হামলা।
এই হামলার বিস্তার শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকেনি; গাজার নিকটবর্তী আশদোদ শহর পর্যন্ত হামলার প্রভাব পৌঁছেছে বলে জানা গেছে, যেখানে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকেই মালকিয়া, মেতুলা এবং আইনাতা অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনা সমাবেশকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে রকেট হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে জেনায়জেল ও ঘদামতা উচ্চভূমিতে সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে গোলন্দাজ আক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।
সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন–এর বরাতে জানা যায়, এসব হামলায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। যদিও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবুও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সংঘর্ষের তীব্রতা স্বীকার করেছে।
সূত্র: আল মায়াদিন
বিশ্বজুড়ে মহাযুদ্ধের দামামা! ট্রাম্পের হুমকির পর তেহরানের চরম আলটিমেটাম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চূড়ান্ত যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুমকির পর ইরানও পাল্টা ‘চূর্ণবিচূর্ণ’ হামলা চালানোর অঙ্গীকার করেছে। ইরানের সামরিক অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরাজয় এবং নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই লড়াই চলবে। তারা আরও কঠোর ও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এর আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, গত চার সপ্তাহের যুদ্ধে ইরানের নৌ, বিমান ও ড্রোন সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর হামলা চালানো হবে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদেশ সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন।
অন্যদিকে, ইরান এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা যেকোনো মার্কিন বা ইসরাইলি হামলার জবাবে আরও বড় আকারের পাল্টা আঘাত হানবে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য প্রায় অর্জিত এবং যুদ্ধ শেষের পথে, কিন্তু ইরানের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বরং বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল
৪৪ ঘণ্টার রেড অ্যালার্ট! ইরাকের মার্কিন দূতাবাস ঘিরে উত্তেজনার পারদ
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভয়াবহ হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন দূতাবাস। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো বাগদাদের কেন্দ্রীয় এলাকায় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে।
এই সতর্কবার্তায় মার্কিন নাগরিক, কূটনৈতিক স্থাপনা, বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামোসহ যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট যেকোনো স্থানকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি সম্প্রতি এক মার্কিন সাংবাদিক অপহরণের ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, একই দিনে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও মহাকাশ গবেষণা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। ভাষণের শুরুতেই তিনি নাসার আর্টেমিস-II মিশনের সফল উৎক্ষেপণের প্রশংসা করেন। এরপর ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, গত এক মাসের লড়াইয়ে ইরানের নৌ ও বিমান শক্তি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা নিহত হয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা এখন নগণ্য।
ভাষণে ট্রাম্প ইসরায়েল ও উপসাগরীয় মিত্রদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সাফ জানিয়ে দেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। এছাড়া ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনাদের হাতে আটকের ঘটনাকে তিনি বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য এক বড় বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন।
কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর নেওয়া পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ‘সফল বিনিয়োগ’ এবং এর ফলে মার্কিন নাগরিকরা এখন অনেক বেশি নিরাপদ।
/আশিক
বিস্ফোরণে কাঁপছে বুরুন্ডি! সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
পূর্ব আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডির রাজধানী বুজুমবুরার উপকণ্ঠে মুসাগা এলাকায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (AP) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ঘাঁটির একটি গোলাবারুদের গুদামে আগুন লাগার পর এই বিপর্যয় ঘটে। বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৫৭ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র গ্যাসপার্ড বারুতোজা জানান, গুদামে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়লে সেখানে থাকা বিস্ফোরক দ্রব্যে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে, যার শব্দ ও আগুনের লেলিহান শিখা বহুদূর থেকেও দেখা যাচ্ছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতায় গোলাবারুদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যান। আহতদের মধ্যে তিনজন সেনাসদস্য রয়েছেন, তবে নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অ্যালোইস এনডাইকেঙ্গুরুকিয়ে স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, কেউ যেন ছড়িয়ে পড়া অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ বা সন্দেহজনক বস্তু স্পর্শ না করে এবং দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানায়। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা নয় বরং একটি দুর্ঘটনা। অগ্নিকাণ্ডের ফলে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আতঙ্কে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুদের আপাতত বোহাঙ্গা ক্যাথোলিক প্যারিসে রাখা হয়েছে এবং অভিভাবকদের সেখানে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
/আশিক
যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, যেখানে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দখলদার ইসরায়েলের দিকে যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ইরান প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চল। হামলার পরপরই তেল আবিবসহ শেফেলা অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ বিভিন্ন এলাকায় শোনা গেছে এবং কিছু জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র বা তার ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমে আরও দাবি করা হয়েছে, এই হামলায় একটি ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ ব্যবহার করা হতে পারে, যা আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে একাধিক ক্ষুদ্র বোমা ছড়িয়ে দেয়। এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
অন্যদিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক আকারে হামলা শুরু করেছে। এই হামলাকে ‘বিস্তৃত ও পরিকল্পিত সামরিক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ইরানের ভেতরে চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, এসব হামলায় প্রায় ১ হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছেন, যদিও এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের মধ্যে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি উঠেছে।
এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, বরং জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি থাকা দেশগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
সূত্র:আনাদোলু এজেন্সি
পাঠকের মতামত:
- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপছে ইসরায়েল
- আজকের খেলার সূচি, কোথায় কোন ম্যাচ
- ৩ এপ্রিল: আজকের নামাজের সময়সূচি
- ইরান যুদ্ধে দৈনিক কত ডলার ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের
- আজ কোথায় খোলা, কোথায় বন্ধ মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান
- খামেনির উত্তরসূরির চিঠি! ট্রাম্পের হুমকির মুখে নতুন মোড়
- মোস্তাফিজ কেন আইপিএল ছাড়া? অবশেষে মুখ খুললেন আইপিএল চেয়ারম্যান
- ভারতের বিপক্ষে মহাযুদ্ধ! কাল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের মেগা ফাইনাল
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রেড অ্যালার্ট! দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ
- সাংবাদিক হেনস্তা করা চান্দিনার সেই এসিল্যান্ড সিলেট বিভাগে বদলী
- আবহাওয়া অফিসের রেড অ্যালার্ট! ৪ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা
- হাসনাত আব্দুল্লাহর তোপ ও মন্ত্রীর সাফাই: জ্বালানি নিয়ে সরগরম জাতীয় সংসদ
- ইরান ইস্যুতে মিত্রদের বিচ্ছেদ! ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে সোচ্চার ফ্রান্স
- সংসদে ১৩৩ অধ্যাদেশের মহাযজ্ঞ! ৯৮টি পাস, বাতিল হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি
- আদানির চুক্তি এখন ‘গলার কাঁটা’! বড় অ্যাকশনে যাচ্ছে সরকার
- সংসদে বিচার চাইলেন রুমিন ফারহানা
- কালিগঞ্জে কাটুনিয়া রাজবাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহাব চূড়ান্ত বরখাস্ত
- ট্রাম্পের হুমকির পর যুদ্ধ থামাতে চীনের জরুরি আহ্বান
- ০২ এপ্রিল ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ০২ এপ্রিল ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
- ০২ এপ্রিল ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- টাকার বিপরীতে আজকের ডলার-ইউরো-পাউন্ড রেট, কী বাড়ল
- ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন বর্ষণ
- মার্কেট বন্ধের নতুন সময়সূচি! আন্তর্জাতিক সংকটে দেশের বাজারে নতুন নিয়ম
- বিশ্বজুড়ে মহাযুদ্ধের দামামা! ট্রাম্পের হুমকির পর তেহরানের চরম আলটিমেটাম
- ৪৪ ঘণ্টার রেড অ্যালার্ট! ইরাকের মার্কিন দূতাবাস ঘিরে উত্তেজনার পারদ
- বিস্ফোরণে কাঁপছে বুরুন্ডি! সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
- যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের
- ঢাকার আবহাওয়া আপডেট, কী থাকবে দিনের চিত্র
- মুমিনের সেরা হাতিয়ার! এই এক শব্দেই ভেঙে পড়ে শয়তানের সব ষড়যন্ত্র
- ক্যানসার দমনে নিমের অবিশ্বাস্য শক্তি! গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
- ট্রাম্পের দাবি বনাম গোয়েন্দা তথ্য: ইরান কি সত্যিই আমেরিকায় হামলা করতে সক্ষম?
- সিলেটে সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ, বাড়ছে উদ্বেগ
- সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
- জ্বালানি সংকটের মেঘ কাটছে! কালই চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে ডিজেলের বিশাল চালান
- গরমে ঘামাচির জ্বালায় অতিষ্ঠ? জেনে নিন নিমিষেই মুক্তির ৯টি ঘরোয়া উপায়
- স্মার্ট কৃষি কার্ড পেতে কী কী লাগবে? জেনে নিন নিবন্ধনের সহজ ধাপ
- ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হতেই ইরানের মিসাইল তান্ডব! কাঁপছে ইসরায়েল
- আজ বৃহস্পতিবার: ঢাকার কোন কোন এলাকার মার্কেট বন্ধ? জেনে নিন তালিকা
- আইনের তোয়াক্কা নেই! ড. ইউনূসের বিশ্ববিদ্যালয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
- ১০টি শক্তিশালী মিসাইল! ইসরায়েলের বুক কাঁপিয়ে দিল ইরান
- দেশের ৯ জেলায় কালবৈশাখীর আঘাত! ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা
- এক লাফে ভরিতে বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা: স্বর্ণের বাজারে আগুন
- চাঁদ জয়ের মহাযাত্রা শুরু! সফলভাবে উড্ডয়ন করল নাসার আর্টেমিস ২
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আপডেট
- “খুব শিগগির শেষ হবে যুদ্ধ”: ট্রাম্পের দাবি, ইরানে মার্কিন সামরিক লক্ষ্য প্রায় অর্জিত
- ইরানের খোলা চিঠি: আমেরিকানদের উদ্দেশে কৌশলগত বার্তা
- হরমুজ প্রণালীর চাবিকাঠি কার হাতে: ট্রাম্পের শর্ত নাকি ইরানের হুঙ্কার?
- আন্দোলন ছাড়া আর পথ নেই: সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির
- সোমবারও স্বর্ণের বাজারে আগুনের উত্তাপ, রেকর্ড দামে কেনাবেচা
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরিতে বেড়েছে যত
- সোনার বাজারে বড় ধস: দেশের সব জুয়েলারি দোকানে নতুন দাম কার্যকর
- রেকর্ড পতন, মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজারে পাচ্ছেন ১ ভরি সোনা
- স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে: মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বদলে গেল সব হিসাব
- ৩১ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- চিরদিনই তুমি যে আমার খ্যাত নায়ক রাহুলের অকাল প্রয়াণ
- ১০ হাজার টন ডিজেল ও জেট ফুয়েল নিয়ে নতুন জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে
- কালিগঞ্জের রতনপুরে জমি বিরোধের জেরে নৃশংস হামলা, গুরুতর আহত ১ জন
- ২৯ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- তাসের ঘরের মতো বিধ্বস্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা: মধ্যপ্রাচ্যের সব ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইরানের
- যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ডাক: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাজপথে নামছে লাখো মানুষ
- ২৮ মার্চ ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়
- চীনের ৫ দফা প্রস্তাব! ইরান যুদ্ধ থামাতে বেইজিং-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক চুক্তি
- ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার গোপন সহায়তার নতুন তথ্য








