আবহাওয়া অফিসের রেড অ্যালার্ট! ৪ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

ঢাকা শহরসহ দেশের ৪টি জেলায় আজ দিবাগত রাতে ৮০০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অফিস। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, পাবনা, ঢাকা, ফরিদপুর ও কুমিল্লা জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই প্রবল ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই চার জেলার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া আবহাওয়ার অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগে আগামী দুই দিন এই বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
/আশিক
ফ্যাসিবাদ ও মৌলবাদকে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য যৌথ হুমকি: আইনমন্ত্রী
দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য ফ্যাসিবাদ এবং মৌলবাদ—উভয়ই সমান হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এই দুই অপশক্তির অশুভ তৎপরতার বিষয়ে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র) আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশের একদিকে ফ্যাসিবাদ আমাদের কষ্টার্জিত সার্বভৌমত্ব হরণের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠীও নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠছে। এই দুই চরমপন্থী শক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে জনগণকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকতে হবে।’’
জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের রোডম্যাপ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেখানো পথই মূলত জুলাইয়ের স্বপ্ন ও চেতনা বাস্তবায়নের একমাত্র পথ। সেই পথ অনুসরণ করেই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলছে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রতিটি অপরাধীর সুষ্ঠু বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে এই সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর।’’
আলোচিত ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান স্পষ্ট করে বলেন, সরকার এই ঐতিহাসিক সনদের প্রতিটি অনুচ্ছেদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এর মাঝেই একটি বিশেষ মহল তথাকথিত গণভোটের আড়ালে এমন কিছু বিতর্কিত দাবি উত্থাপন করছে, যা মূল জুলাই সনদের চেতনার সাথে বিন্দুমাত্র সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জুলাইয়ের মূল চেতনা ও সনদকে সুরক্ষিত রাখতে যেকোনো ধরণের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি রুখে দিতে হবে। কোনো একক ভাবাবেগে না ভেসে দলীয় নেতৃত্বের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও শৃঙ্খলা অনুসরণ করেই জুলাইয়ের প্রকৃত লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
/আশিক
ট্রাম্পের ‘বাস্তববাদী নেতৃত্ব’ ও দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৌরবময় ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৪ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি একটি বিশেষ চিঠি লিখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘‘বাংলাদেশের সরকার, জনগণ ও আমার নিজের পক্ষ থেকে আপনাকে এবং আপনার মহান দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উপলক্ষে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমরা আশাবাদী যে, আপনার বাস্তববাদী নেতৃত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামী দশকগুলোতে আরও মহানতার পথে এগিয়ে যাবে।’’
আমেরিকার ঐতিহাসিক এই মাইলফলককে বিশ্ববাসীর জন্য অনুপ্রেরণা আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে বলেন, ‘‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন এই গৌরবময় উপলক্ষটি সারা দেশে উদযাপন করছে, তখন ‘আমেরিকা ২৫০’ আমেরিকান স্বপ্ন, ত্যাগ, স্বাধীনতা, মূল্যবোধ, ঐতিহ্য, নৈতিকতা এবং বাকি বিশ্বে আমেরিকার অবদান থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে মানুষের সেবা করছে।’’
স্বাধীনতার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও উন্নয়ন যাত্রায় একটি মূল্যবান বন্ধু এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লিখেছেন, ‘‘গত পাঁচ দশক ধরে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং মানুষে মানুষে বিস্তৃত যোগাযোগকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি শক্তিশালী ও বহুমুখী অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে।
বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই ২০২৬ বছরের শুরু থেকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মাধ্যমে আমরা আমাদের সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছি।’’ চিঠিতে তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থন ও উদারতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ভবিষ্যতে অভিন্ন স্বার্থের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্বকে আরও জোরদার ও গভীর করতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চিঠির শেষাংশে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও অব্যাহত সাফল্য কামনার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুভাবাপন্ন জনগণের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ কামনা করেন।
/আশিক
ভঙ্গুর অর্থনীতি মেরামতের মাঝেই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মেগা লক্ষ্যের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
বাংলাদেশ খুব দ্রুত ১ ট্রিলিয়ন ডলারের এক বিশাল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ যেভাবে আকৃষ্ট করা হচ্ছে, তাতে এই লক্ষ্য অর্জন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সফরে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক করিডোর ও একটি আন্তর্জাতিক লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের মেগা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘চট্টগ্রামে সমুদ্রবন্দরের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নদীর ওপারে আনোয়ারায় ৬০০ একর জমিতে একটি ফ্রি জোন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি চট্টগ্রামে একযোগে কয়েকটি নতুন বন্দর নির্মাণ করা হবে।’’ একই সাথে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্গো ও প্যাসেঞ্জার হাব হিসেবে রূপান্তর এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে লাকসাম অংশের উন্নয়নের মাধ্যমে যাতায়াতের সময় আরও দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার রোডম্যাপ এবারের বাজেটে রয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামে একটি বিশেষ চাইনিজ ইকোনমিক জোন স্থাপন এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে বড় ধরনের মেগা প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন করা নিশ্চিতভাবেই একটি কঠিন কাজ। বর্তমান সরকার বিগত সরকারের কাছ থেকে একটি সম্পূর্ণ ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, যার সাথে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। আমাদের প্রথম কাজ হলো এই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে বের হয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা। সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছর থেকে দেশে প্রকৃত সমৃদ্ধির ধারা শুরু হবে এবং অর্থনীতি পুরোদমে ঘুরে দাঁড়াবে।’’
শাহ আমানত বিমানবন্দরে অর্থমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এম এ আজিজসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
/আশিক
দেশে ৯০ দিনের তেল মজুত, বড় পরিকল্পনা সরকারের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। শিল্প, কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং বিমান চলাচলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন করে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশের কৌশলগত জ্বালানি মজুত বাড়ানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই আমদানির আওতায় মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল (গ্যাস অয়েল) এবং ৯০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এই জ্বালানি সংগ্রহ করছে। দরপত্র মূল্যায়নের পর সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেডকে সরবরাহকারী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। পুরো আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬২ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার সমান। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য এবং ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে চূড়ান্ত ব্যয়ে কিছুটা তারতম্য হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ইতোমধ্যেই এ প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, প্রশাসনিক ছাড়পত্র বিপিসির কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (NOA) ইস্যু করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর খুব দ্রুতই জ্বালানি তেল দেশে আসা শুরু হবে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখতেই এই দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশে অন্তত ৯০ দিনের জ্বালানি তেলের মজুত নিশ্চিত করা। বর্তমানে প্রায় ৬০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। নতুন চালান দেশে পৌঁছালে সেই সক্ষমতা আরও বাড়বে। প্রতিবছর সাধারণত ছয় মাস অন্তর দেশের চাহিদা বিবেচনায় ডিজেল ও জেট ফুয়েল আমদানির পরিকল্পনা করা হয়। এবারও জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের সম্ভাব্য চাহিদা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বিবেচনায় আগাম এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববাজারে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি, বিকল্প সমুদ্রপথ ব্যবহার, জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি এবং যুদ্ধঝুঁকির বিমা প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যও ব্যাপক ওঠানামা করছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে ডিজেলের আন্তর্জাতিক মূল্য তুলনামূলক কম থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে আগাম মজুত বাড়ানোকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
বিপিসির কর্মকর্তাদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিতিশীলতা থাকলেও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য মূল্যে জ্বালানি সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমান বাস্তবতায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই আমদানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদন, কৃষি কার্যক্রম, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিমান পরিবহন যাতে কোনো ধরনের জ্বালানি সংকটে না পড়ে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ আশ্বস্ত করেছে যে বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। ডলার সংকটের মধ্যেও জ্বালানি আমদানিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার কাজও এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই আমদানি সম্পন্ন হলে শুধু স্বল্পমেয়াদি চাহিদাই পূরণ হবে না, বরং সম্ভাব্য বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতিও আরও শক্তিশালী হবে।
-রফিক
১ আগস্ট থেকে অনলাইনে বয়স্ক-প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন, জানুন নিয়ম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নতুন উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির আবেদন আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে গ্রহণ করা হবে। এ উপলক্ষে পুরো জুলাই মাসজুড়ে দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদফতর।
সমাজসেবা অধিদফতরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা থেকে ৩০ জুন জারি করা এক প্রশাসনিক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। নির্দেশনাটি দেশের আটটি বিভাগ—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহের বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে, যাতে মাঠপর্যায়ে আবেদন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলোর যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় শর্ত সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা পরিচালনা করা হবে। এরপর ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম dss.bhata.gov.bd/online-application-এর মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে।
সমাজসেবা অধিদফতর জানিয়েছে, আবেদনকারীদের অবশ্যই নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানার ভিত্তিতে আবেদন করতে হবে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ভাতার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নামে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে নিবন্ধিত একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর, ব্যক্তিগত মোবাইল আর্থিক সেবার (MFS) হিসাব অথবা নিজস্ব ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রদান করতে হবে। ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করলে যোগাযোগের জন্য একটি কার্যকর মোবাইল নম্বরও যুক্ত করতে হবে।
অধিদফতর আরও স্পষ্ট করেছে, বর্তমানে যারা অন্য কোনো নিয়মিত সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন, তারা নতুন করে এই কর্মসূচিগুলোর জন্য নির্বাচনের সুযোগ পাবেন না। একই সঙ্গে যারা পূর্ববর্তী সময়ে অনলাইনে আবেদন করে অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন, তাদের পুনরায় আবেদন করার প্রয়োজন হবে না; আগের আবেদনই বিবেচনায় থাকবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে আবেদন ও বাছাই প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হচ্ছে। এর ফলে আবেদন গ্রহণ, তথ্য যাচাই, উপকারভোগী নির্বাচন এবং ভাতা বিতরণ—সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা জালিয়াতি, দ্বৈত আবেদন ও অনিয়ম কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি সহায়তা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
-রফিক
জুলাই-আগস্টে বড় বন্যার শঙ্কা, সতর্ক এফএফডব্লিউসি
বর্ষা মৌসুমের মধ্যভাগে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, উজানের অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত এবং দেশের প্রধান নদীগুলোতে প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি জুলাই ও আগস্ট মাসে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে বড় ধরনের বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উজানের অতিবৃষ্টির প্রবণতা বেড়েছে, ফলে চলতি বর্ষায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান জানান, বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবে জুলাই ও আগস্ট মাসই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময় হিমালয় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা এবং অন্যান্য প্রধান নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। যদি একই সময়ে একাধিক নদী অববাহিকায় উচ্চ প্রবাহ সৃষ্টি হয়, তাহলে নিম্নাঞ্চলে বড় ধরনের প্লাবনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, জলবায়ুগত পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টির ধরণও বদলে যাচ্ছে। স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টির প্রবণতা বাড়ায় নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও আগের তুলনায় বেশি হচ্ছে। এ কারণেই চলতি বর্ষা মৌসুমে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে এফএফডব্লিউসি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ভয়াবহ বন্যার ইতিহাসেও জুলাই-আগস্ট মাসই সবচেয়ে সংকটপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায় এবং প্রায় ৮২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। একইভাবে ১৯৯৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যা টানা দুই মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী হয়ে দেশের কোটি কোটি মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে এবং এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
এছাড়া ২০০৪ সালে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর উচ্চ প্রবাহ একই সময়ে মিলিত হওয়ায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে ২০২২ সালের সিলেট অঞ্চলের বন্যা এবং ২০২৪ সালের বড় বন্যায় সম্মিলিতভাবে এক কোটিরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব অভিজ্ঞতা থেকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চলতি মৌসুমেও উজানের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে এফএফডব্লিউসি জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার কয়েকটি নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হতে শুরু করেছে। যদিও আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল থাকতে পারে। অন্যদিকে, আপাতত মেঘনা অববাহিকায় বড় ধরনের পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। তবে উজানে নতুন করে ভারী বর্ষণ শুরু হলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীগুলোর জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। উপকূলীয় নদ-নদীর ক্ষেত্রে প্রায় তিন দিন আগে সম্ভাব্য পরিস্থিতির পূর্বাভাস দেওয়া যায়। উন্নত প্রযুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে আবহাওয়ার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বঙ্গোপসাগরে চলতি মাসে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যদি সেটি শক্তিশালী হয়, তাহলে উপকূলীয় জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক জলাবদ্ধতা ও স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই উপকূলীয় জনগণকে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ এবং আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিন নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সর্বশেষ বন্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী ব্যবস্থার পানি কিছুটা কমলেও আগামী চার দিনের মধ্যে আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানিও বাড়তে পারে, যদিও তা আপাতত বিপৎসীমার নিচেই থাকবে।
অন্যদিকে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া, লালমনিরহাটের তিস্তার তারাপুর পয়েন্ট, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, সুনামগঞ্জের মারকুলি এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় কয়েকটি নদীর পানি ইতোমধ্যে নিজ নিজ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে পরিস্থিতির প্রতি সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
-রফিক
২০০৬ সালের ভিসানীতিতে বড় সংস্কার
বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ আকর্ষণ এবং পর্যটন শিল্পকে আরও গতিশীল করতে প্রায় দুই দশক পুরোনো ভিসা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। ২০০৬ সালের বিদ্যমান ভিসা নীতিমালার পরিবর্তে একটি আধুনিক, বিনিয়োগবান্ধব ও সেবাকেন্দ্রিক ভিসানীতি-২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদেশিদের প্রবেশ, অবস্থান ও প্রস্থানের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন ভিসানীতির খসড়া উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে নীতিমালাটি আরও পরিমার্জনের জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির কার্যক্রমে প্রশাসনিক ও কারিগরি সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত নীতিমালা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, নতুন নীতিমালার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক ব্যবসা, পর্যটন, শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনশক্তির জন্য আরও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করা। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করা হবে এই নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসানীতি-২০২৬ কেবল বিদেশিদের জন্য প্রবেশ প্রক্রিয়া সহজ করার নথি নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত নীতিমালাও। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশমুখী করা, আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগমন বাড়ানো এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তরকে উৎসাহিত করার বিষয়গুলো এতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশ মূলত ‘পারস্পরিকতার নীতি’ বা রেসিপ্রোসিটি অনুসরণ করে ভিসা প্রদান করত। অর্থাৎ কোনো দেশ বাংলাদেশের নাগরিকদের যেভাবে ভিসা দিত, বাংলাদেশও প্রায় একই ধরনের নীতি অনুসরণ করত। তবে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় শুধু পারস্পরিকতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে অনেক ক্ষেত্রেই দেশের সম্ভাবনা সীমিত হয়ে পড়ে। তাই নতুন নীতিতে অর্থনৈতিক স্বার্থ ও জাতীয় উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তার ভাষায়, কোনো দেশের একজন বিনিয়োগকারী বা উদ্যোক্তা বাংলাদেশে এলে সেটি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় ভিসা ব্যবস্থাকে আরও নমনীয় ও বিনিয়োগ-সহায়ক করার দিকেই অগ্রসর হচ্ছে সরকার। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন ভিসানীতিতে মোট ৩৪টি পৃথক ভিসা ক্যাটাগরি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, পর্যটন, শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা, প্রযুক্তি, কূটনৈতিক সফর, স্বল্পমেয়াদি পেশাগত কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আগত বিদেশিদের জন্য আলাদা ক্যাটাগরি থাকবে। যদিও প্রতিটি ক্যাটাগরির বিস্তারিত শর্ত, মেয়াদ ও যোগ্যতা চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর প্রকাশ করা হবে।
-রাফসান
পে স্কেলের গেজেট কবে? যা জানা গেল
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার নীতিগতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও প্রশাসনিক বিষয় পর্যালোচনার কাজ এখনও চলছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলের খসড়া প্রায় চূড়ান্ত। বর্তমানে এর আর্থিক প্রভাব, সরকারি ব্যয়ের সক্ষমতা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং বেতন ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়গুলো নিয়ে শেষ মুহূর্তের মূল্যায়ন চলছে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জুলাই মাসের মাঝামাঝি অথবা শেষ সপ্তাহে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার পে স্কেল একবারে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এটি কতটি ধাপে কার্যকর হবে, কোন গ্রেডে কত শতাংশ বা কত টাকা বেতন বৃদ্ধি পাবে এবং বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার সময় রাজস্ব ব্যয়, সরকারি আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি, কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি বাজেট ব্যবস্থাপনা—এসব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ফলে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের আগে একাধিক দফায় অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চলছে।
এদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ইতিবাচক খবর হলো, গেজেট প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হলেও নতুন পে স্কেলের কার্যকারিতা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে গণনা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গেজেট প্রকাশের পর সংশোধিত হারে বকেয়াসহ বেতন-ভাতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। যদিও বিষয়টি এখনও সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর মতে, বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পাশাপাশি হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা, ই-জিপিএফ, ট্রেজারি সফটওয়্যার এবং সরকারি বেতন ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোও নতুন স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে হালনাগাদ করা হচ্ছে, যাতে বাস্তবায়নের সময় কোনো প্রশাসনিক জটিলতা না তৈরি হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা মোকাবিলা এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি সরকারের রাজস্ব ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। ফলে বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ সরকারি পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠনও দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে স্কেল ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে।
তবে এ পর্যন্ত সরকার নতুন পে স্কেলের গ্রেডভিত্তিক বেতন, ইনক্রিমেন্ট, বাস্তবায়নের ধাপ কিংবা গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। ফলে এসব বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্যের পরিবর্তে সরকারি গেজেট ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
-রফিক
২০০৬ সালের পুরোনো আইন ভেঙে নতুন ‘ভিসানীতি-২০২৬’ অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা
দেশে বিদেশি বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান ২০০৬ সালের ভিসা নীতিমালা সংশোধন করে নতুন ‘ভিসানীতি-২০২৬’ অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক উত্থাপিত এই নতুন নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। তিনি জানান, নীতিমালাটিকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক ও কার্যকর করতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ভিসা নীতি সহজ করার মূল প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘‘আগে আমাদের নীতি ছিল পুরোপুরি পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে। অর্থাৎ, অন্য একটি দেশ আমাদের নাগরিকদের যত দিনের বা মেয়াদের ভিসা দিত, আমরাও তাদের নাগরিকদের ঠিক তত দিনের জন্যই ভিসা দিতাম। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের কিছু জায়গায় নিজেদের প্রয়োজনেই উদার হওয়া দরকার। একজন বিদেশি ব্যবসায়ী যদি বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আসেন, তা আমাদের দেশের জন্যই সুবিধা। বর্তমান সরকার চাচ্ছে দেশে একটা ইকোনমিক থ্রাস্ট (অর্থনৈতিক গতিশীলতা) আসুক।’’
তিনি আরও জানান, দেশে পুঁজির সংকট কাটাতে বাইরের উদ্বৃত্ত বা সারপ্লাস পুঁজি দেশে টানার লক্ষ্যেই ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার এই বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিমালায় বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নতুন এই নীতিমালায় ভিসার ক্যাটাগরি বা শ্রেণী বিন্যাস করে মোট ৩৪টি টাইপ (ধরণ) করা হয়েছে।
গঠিত উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মূলত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বা সিকিউরিটি ইস্যুগুলো দেখবে। এছাড়া বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ও এই কমিটিতে রয়েছে, যাতে তারা নিজ নিজ খাতের স্বার্থ ও চাহিদার প্রতিফলন ঘটিয়ে এই পলিসিটাকে চূড়ান্ত রূপ দিতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করা, বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে পারস্পরিকতার ভিত্তিতে একটি আধুনিক আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা সম্ভব হবে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’: সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার শিক্ষা
- দাফন চলাকালীন হামলার চেষ্টা হলে আমেরিকা-ইসরায়েলকে ধ্বংস করার হুমকি তেহরানের
- ইতিহাসে আর্জেন্টিনার জন্য সুখবর, ব্রাজিল শিবিরে তাড়া করছে জয়হীন দুঃসংবাদ
- ফ্যাসিবাদ ও মৌলবাদকে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য যৌথ হুমকি: আইনমন্ত্রী
- জাতিসংঘের অকাট্য প্রমাণের পরও গাজা গণহত্যা আর কতদিন চেপে রাখবে পশ্চিমা বিশ্ব ?
- খামেনিকে শেষ বিদায় দিতে প্রার্থনাকক্ষের বাইরে রাতভর অবস্থান হাজারো ইরানির
- মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের এক সিদ্ধান্তেই আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে বড় ধসের শঙ্কা
- ট্রাম্পের ‘বাস্তববাদী নেতৃত্ব’ ও দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
- নরওয়ে ম্যাচের আগে নেইমারের ফিটনেস নিয়ে কার্লো আনচেলত্তির মেগা আপডেট
- গোল উদযাপনে মাঠ ছেড়ে সোজা গ্যালারির দিকে দৌড়, কে এই নারী যাকে জড়িয়ে ধরলেন ক্যাব্রাল
- ৪০ বছরের বুড়ো হাড়ে মেসির আক্রমণ ঠেকিয়ে দেওয়া ভোজিনিয়ার অবিশ্বাস্য রূপকথা
- আমরা দয়ালু বলেই খামেনির দাফনের জন্য এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছি: ট্রাম্প
- ভঙ্গুর অর্থনীতি মেরামতের মাঝেই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মেগা লক্ষ্যের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
- ঘণ্টায় ২৭৮ কিমি গতির সুপার টাইফুন ‘বাভি’ ধেয়ে আসার পূর্বাভাস
- স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির শাস্তি বদলি নয়, সরাসরি চাকরিচ্যুতির নতুন নিয়ম মন্ত্রীর
- বর্তমান সরকারকে বিগত ফ্যাসিবাদের আয়না বলে জি এম কাদেরের কড়া সমালোচনা
- ‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প
- দেশে ৯০ দিনের তেল মজুত, বড় পরিকল্পনা সরকারের
- ডেঙ্গু শনাক্তে কোন পরীক্ষা কখন করবেন? পূর্ণ গাইড
- ৯ জেলায় সন্ধ্যার আগে ঝড়ের সতর্কতা, ১ নম্বর সংকেত
- ১ আগস্ট থেকে অনলাইনে বয়স্ক-প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন, জানুন নিয়ম
- আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
- আজ দুই মহারণ, আজকের জমজমাট ক্রীড়া সূচি জেনে নিন
- নরওয়ের বিপক্ষে কি একাদশে ফিরছেন নেইমার?
- আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় জেনে নিন
- শনিবারের মার্কেট বন্ধের তালিকা প্রকাশ
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি
- জীর্ণ ও ছেঁড়া আল-কোরআন অপসারণের শরিয়তসম্মত বিধান: অবমাননা রোধে কী করণীয়?
- জুলাই-আগস্টে বড় বন্যার শঙ্কা, সতর্ক এফএফডব্লিউসি
- খামেনির ৬ দিনের রাষ্ট্রীয় বিদায়ে থাকছে যেসব আনুষ্ঠানিকতা
- ২০০৬ সালের ভিসানীতিতে বড় সংস্কার
- যে ৮ জেলায় সন্ধ্যার আগে ঝড়ের সতর্কবার্তা
- স্থানীয় নির্বাচনে একক পথে হাঁটতে চায় এনসিপি
- আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
- পে স্কেলের গেজেট কবে? যা জানা গেল
- রোনালদোর ম্যাচসেরা পুরস্কার ঘিরে তুমুল বিতর্ক
- সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে গতি, সূচকে শক্তিশালী উত্থান
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান
- আজকের খেলার সূচি, মাঠে নামছে মেসির আর্জেন্টিনা
- আজ শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ
- আজ শুক্রবারের নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন
- শীর্ষ দলগুলোর ওলটপালট, বিশ্বকাপের মাঝেই সিংহাসন হারাল আর্জেন্টিনা
- ২০০৬ সালের পুরোনো আইন ভেঙে নতুন ‘ভিসানীতি-২০২৬’ অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা
- ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় নানিয়ারচর সেনা জোনের আর্থিক সহায়তা প্রদান
- কুমিল্লা বোর্ডে এইচএসি শুরু আজ: পরীক্ষার্থী ৯৫ হাজার ৭০২ জন
- দিবাগত রাত ১টার মধ্যেই ১৪ অঞ্চলে ঝড়ের তণ্ডব ও সতর্কসংকেত জারি
- নতুন নেতার অধীনেই ওয়াশিংটনকে রুখতে তেহরানের রণপ্রস্তুতি
- তীব্র লোডশেডিংয়ের মাঝেই বিদ্যুৎ বিভাগের নতুন পদক্ষেপ
- সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে বড় ধাক্কা? জেনে নিন সঞ্চয়পত্রের নতুন নিয়ম
- ‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প
- আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
- এলপিজির নতুন দর নিয়ে বড় ঘোষণা আজ
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন মূল্য
- দোহায় আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, দাবি ট্রাম্পের
- রোনালদোর ম্যাচসেরা পুরস্কার ঘিরে তুমুল বিতর্ক
- দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের খবর নাকচ ইরানের
- খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
- সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে গতি, সূচকে শক্তিশালী উত্থান
- ২০০৬ সালের ভিসানীতিতে বড় সংস্কার
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- স্বর্ণের পর এবার কমল রুপার দাম, প্রকাশ নতুন তালিকা








