ভিনগ্রহে প্রাণের সন্ধান: গোল্ডিলক্স জোনে মিলল পৃথিবীর মতো ৪৫টি গ্রহ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ২১:১৫:৩৩
ভিনগ্রহে প্রাণের সন্ধান: গোল্ডিলক্স জোনে মিলল পৃথিবীর মতো ৪৫টি গ্রহ
ছবি : সংগৃহীত

অসীম মহাকাশে কি আমরা সত্যিই একা? মানুষের এই চিরন্তন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা এক চমকপ্রদ মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তারা সৌরজগতের বাইরে এমন ৪৫টি গ্রহের তালিকা তৈরি করেছেন, যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার মতো উপযুক্ত পরিবেশ থাকতে পারে। মহাকাশ বিজ্ঞানের ভাষায় এই আবিষ্কার এলিয়েন লাইফ বা ভিনগ্রহের প্রাণের সন্ধানে এক বিশাল অগ্রগতি।

বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত আমাদের সৌরজগতের বাইরে প্রায় ৬ হাজারের বেশি ‘এক্সোপ্ল্যানেট’ বা বহির্গ্রহ আবিষ্কার করেছেন। তবে সব গ্রহ প্রাণের জন্য অনুকূল নয়। এই নতুন গবেষণায় মূলত পাথুরে গ্রহগুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, কারণ এগুলোতে পানি থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আর পানি থাকা মানেই সেখানে জীবনের প্রাথমিক উপাদান থাকার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হওয়া। তালিকায় থাকা গ্রহগুলোর মধ্যে প্রোক্সিমা সেন্টরি বি, ট্রাপিস্ট-১এফ এবং কেপলার-১৮৬এফ-এর মতো পরিচিত গ্রহের পাশাপাশি টিওআই-৭১৫ বি-র মতো নতুন কিছু গ্রহের নাম উঠে এসেছে।

এই গ্রহগুলোর বিশেষত্ব হলো এগুলো তাদের নক্ষত্রের ‘গোল্ডিলক্স জোন’ বা বাসযোগ্য অঞ্চলে অবস্থিত। সহজ কথায়, এই অঞ্চলের তাপমাত্রা খুব বেশি গরম বা খুব বেশি ঠান্ডা নয়, যার ফলে পানি তরল অবস্থায় থাকতে পারে। ইউরোপের গাইয়া মিশন এবং নাসার এক্সোপ্ল্যানেট আর্কাইভের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই ৪৫টি গ্রহ তাদের নক্ষত্র থেকে প্রায় পৃথিবীর সমান শক্তি বা তাপ পায়।

বিশেষ করে পৃথিবী থেকে ৪০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ‘ট্রাপিস্ট-১’ সিস্টেমে এমন চারটি গ্রহ রয়েছে যা বিজ্ঞানীদের বিশেষভাবে আশাবাদী করে তুলেছে। এছাড়া এলএইচএস ১১৪০ বি নামক গ্রহে প্রচুর পানি এবং নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ বায়ুমণ্ডলের সংকেত পাওয়া গেছে।

গবেষণায় আরও ২৪টি গ্রহ শনাক্ত করা হয়েছে যেগুলো উপবৃত্তাকার পথে ঘোরার কারণে মাঝেমধ্যে বাসযোগ্য অঞ্চলের ভেতরে প্রবেশ করে। এসব গ্রহ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে বোঝা যাবে ঠিক কতটা বিকিরণ বা তাপ সহ্য করেও একটি গ্রহ প্রাণের অনুকূলে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই তালিকা ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণার নতুন পথ দেখাবে এবং হয়তো খুব শীঘ্রই আমরা জানতে পারব—মহাজগতের বিশালতায় পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথাও প্রাণের স্পন্দন আছে কি না।

/আশিক


নতুন চাঁদের আলোহীন রাতে আজ দেখা মিলবে পারসিড উল্কাবৃষ্টির

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১২ ২১:২১:০১
নতুন চাঁদের আলোহীন রাতে আজ দেখা মিলবে পারসিড উল্কাবৃষ্টির
ছবি : সংগৃহীত

অমানিশার অন্ধকার রাতের কল্যাণে এবার আকাশপ্রেমীদের জন্য এসেছে এক অপূর্ব সুযোগ। নতুন চাঁদের কারণে আকাশে আলো না থাকায় আজ বুধবার (১২ আগস্ট) রাত থেকেই দেখা মিলতে যাচ্ছে বছরের অন্যতম উজ্জ্বল মহাজাগতিক ঘটনা 'পারসিড উল্কাবৃষ্টি'। বাংলাদেশের আকাশেও এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সরাসরি উপভোগ করা যাবে বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতে মধ্যরাতের পর থেকে ভোর পর্যন্ত উল্কাবৃষ্টি দেখার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। বিশেষ করে রাত ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে আকাশে উল্কার উজ্জ্বলতম ঝলক দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। অনুকুল আবহাওয়া ও পরিষ্কার আকাশ থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত উল্কা ভেসে উঠতে পারে।

পারসিড উল্কাবৃষ্টি মূলত দ্রুতগতির ও অত্যন্ত উজ্জ্বল আলোর রেখার জন্য বিখ্যাত, যা কখনো কখনো বিকট আলোর 'ফায়ারবল' তৈরি করে। ১০৯পি/সুইফট-টাটল নামক ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও ধসে পড়া অংশ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫৯ কিলোমিটার প্রচণ্ড গতিতে প্রবেশ করে ঘর্ষণের ফলে বাষ্পীভূত হয়ে এই মহাজাগতিক আলোর খেলা ফুটিয়ে তোলে। পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় উল্কাগুলো পারসিয়াস নক্ষত্রমণ্ডল থেকে বের হচ্ছে, যা থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে পারসিড।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিয়েছেন, চমৎকার এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে কৃত্রিম আলো ও শহরের কোলাহলমুক্ত খোলা কোনো জায়গা বেছে নিতে হবে। চোখের দৃষ্টি অন্ধকারের সাথে মানিয়ে নিতে মোবাইল স্ক্রিন এড়িয়ে প্রায় ৩০ মিনিট অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

/আশিক


দিনেই নামবে আঁধার, মহাজাগতিক দৃশ্য ঘিরে বিজ্ঞানী মহলে তোলপাড়

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৯ ১৮:৩০:০৩
দিনেই নামবে আঁধার, মহাজাগতিক দৃশ্য ঘিরে বিজ্ঞানী মহলে তোলপাড়
ছবি : সংগৃহীত

আকাশে দেখা মিলবে এক বিরল ও রোমাঞ্চকর মহাজাগতিক দৃশ্যের। আগামী বুধবার (১২ আগস্ট) চাঁদের আড়ালে সূর্য পুরোপুরি ঢাকা পড়ে দিনেই নেমে আসবে রাতের মতো অন্ধকার। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই বিশেষ সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করা যাবে। এর মধ্যে স্পেন, পর্তুগাল, আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড ও উত্তর রাশিয়ার সুনির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল থেকে দেখা যাবে এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।

মহাকাশ গবেষকদের মতে, চাঁদ যখন আবর্তনের সময় ঠিক পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চলে আসে এবং সূর্যের আলোকে পুরোপুরি আড়াল করে দেয়, তখন তাকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলা হয়। এর ফলে দিনের বেলাতেও চারপাশ হঠাৎ আঁধারে ঢেকে যায় এবং দৃশ্যমান হয় তারামণ্ডল।

ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ইএসএ) তথ্য অনুযায়ী, স্পেনের মূল ভূখণ্ডে ১৯০৫ সালের পর অর্থাৎ দীর্ঘ ১২১ বছর পর এবারই প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। দেশটির লিওন শহরের আকাশে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৮ মিনিটে এই দৃশ্য তৈরি হবে, যা প্রায় দুই মিনিট স্থায়ী হতে পারে।

ইউরোপ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ মিলবে। আলাস্কা থেকে শুরু করে নর্থ ক্যারোলিনা পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে এটি দৃশ্যমান হবে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার হিসাব অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ডিসিতে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে এই আংশিক সূর্যগ্রহণ শুরু হবে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে এই মহাজাগতিক ঘটনা গবেষণার এক নতুন দুয়ার খুলে দেয়। নাসা জানিয়েছে, গ্রহণের সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আলোর পরিবর্তনের প্রভাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে বিশেষ উচ্চ-উচ্চতার জেট বিমান ও বায়ুমণ্ডলীয় বেলুন ব্যবহার করা হবে।

নাসার হেলিওফিজিক্স বিভাগের কর্মকর্তা কেলি করেক জানান, পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় পৃথিবী থেকে সূর্যের অত্যন্ত উত্তপ্ত ও রহস্যময় বাইরের বায়ুমণ্ডল অর্থাৎ ‘করোনা’ স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণের দুর্লভ সুযোগ তৈরি হয়। মহাবিশ্বের অন্য কোনো প্রান্ত থেকে সৌরজগতের এমন নিখুঁত দৃশ্য অবলোকন করা সম্ভব নয়।

মহাকাশপ্রেমীদের জন্য এই বিরল দৃশ্যের পর পরবর্তী সূর্যগ্রহণের জন্যও বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না। আগামী ২০২৭ সালের ২ আগস্ট আরেকটি সূর্যগ্রহণ ঘটবে, যা স্পেনসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিস্তৃত অঞ্চল থেকে অবলোকন করা যাবে।

সূত্র: এনপিআর


এক ক্লিকেই ফোন-ল্যাপটপের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে হ্যাকাররা, পপ-আপ আপডেট নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ১৮:২৪:৪৯
এক ক্লিকেই ফোন-ল্যাপটপের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে হ্যাকাররা, পপ-আপ আপডেট নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ভ্রমণে গিয়ে হোটেলের দেওয়া বিনামূল্যে পাওয়া ওয়াই-ফাই সংযোগ ব্যবহার করছেন? অসাবধানতাবশত একটি ভুল ক্লিকেই হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে আপনার গোপনীয় ব্যক্তিগত নানা তথ্য। শুধু তা-ই নয়, হ্যাকারদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে আপনার ব্যবহৃত স্মার্টফোন কিংবা ল্যাপটপটি।

সম্প্রতি উদ্ভাবিত নতুন ধাঁচের এক বিপজ্জনক সাইবার হামলা সম্পর্কিত সতর্কবার্তা জারি করে সাধারণ ব্যবহারকারীদের বাড়তি সচেতনতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট।

মাইক্রোসফটের থ্রেট ইন্টেলিজেন্স শাখার অনুসন্ধানী তথ্যানুযায়ী, হ্যাকারদের একটি দল 'ক্যাপটিভক্রাঞ্চ' নামের বিশেষ সাইবার অভিযানের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে হোটেল ও পর্যটন খাতের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কগুলোতে বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ করছে। চলতি বছরের মে মাস থেকে এই সন্দেহজনক কার্যক্রম নজরদারিতে রেখেছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক অনুমান, এই জটিল সাইবার হামলার পেছনে রাশিয়ার হ্যাকার চক্রের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ থাকতে পারে।

মাইক্রোসফট সতর্ক করে বলেছে, হোটেল বা রিসোর্টের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে ডিভাইস যুক্ত করার সাথে সাথেই ব্যবহারকারীদের স্ক্রিনে একটি ভুয়া পপ-আপ বার্তা দৃশ্যমান হয়। আপাতদৃষ্টিতে এসব পপ-আপকে ডিভাইসের জরুরি সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেমের আপডেট মেসেজ হিসেবে মনে হলেও, আদতে এগুলো ক্ষতিকর মালওয়্যার ডাউনলোডের এক চতুর ফাঁদ।

অসাবধানতাবশত কেউ যদি সেই পপ-আপে ক্লিক করে ক্ষতিকর সফটওয়্যারটি ডিভাইসে ইনস্টল করে ফেলে, তবে সাথে সাথেই হ্যাকাররা ডিভাইসটির দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণ হাতিয়ে নেয়। এরপর তারা খুব সহজেই ব্যবহারকারীর পর্দার স্ক্রিনশট সংগ্রহ, কিবোর্ডে চাপ দেওয়া প্রতিটি তথ্যের ওপর নজরদারি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয় পাসওয়ার্ড ও ব্যাংক সংক্রান্ত আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার মতো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে হোটেলের নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকার সময় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পপ-আপ বার্তা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে মাইক্রোসফট। বিশেষ করে ওয়াই-ফাই সংযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই যদি কোনো আপডেট বা ইনস্টলেশনের বার্তা ফুটে ওঠে, তবে সেটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে গণ্য করতে বলা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ভ্রমণের সময় যথাসম্ভব পাবলিক ওয়াই-ফাই এড়িয়ে ব্যক্তিগত মোবাইল হটস্পট বা এনক্রিপ্টেড নিরাপদ ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছেন।

সূত্র: ম্যাশেবল


যেসব দেশে দিনদুপুরে নেমে আসবে রাতের অন্ধকার!

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ২১:৫৭:৩৫
যেসব দেশে দিনদুপুরে নেমে আসবে রাতের অন্ধকার!
ছবি : সংগৃহীত

দুই বছরের দীর্ঘ বিরতির পর আবারও আকাশে দেখা মিলবে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের। আগামী ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে অবস্থান নেবে, তখন কিছু সময়ের জন্য সূর্যের আলো পুরোপুরি ঢেকে যাবে। ফলে নির্দিষ্ট কিছু ভৌগোলিক অঞ্চলে দিনের আলো হারিয়ে গিয়ে নেমে আসবে রাতের মতো অন্ধকার।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুসারে, এবারের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ সবচেয়ে স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর স্পেন এবং উত্তর-পূর্ব পর্তুগালের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা থেকে। এসব স্থানে কয়েক সেকেন্ড থেকে শুরু করে দুই মিনিটেরও বেশি সময় ধরে সূর্য পুরোপুরি চাঁদের ছায়ায় আবৃত থাকবে। এছাড়া ইউরোপ, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার বেশ কিছু অঞ্চল থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে, যেখানে সূর্যের কেবল একটি অংশ চাঁদের ছায়ায় ঢাকা পড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপ মহাদেশের মূল ভূখণ্ডে ২০০৬ সালের পর আর কোনো পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যায়নি। অন্যদিকে স্পেনের ক্ষেত্রে এই ঘটনার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ; ১৯০৫ সালের পর এই প্রথম দেশটি কোনো পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষের কাছে এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

নাসা জানিয়েছে, এবারের পূর্ণ সূর্যগ্রহণের গতিপথ বা ‘পাথ অব টোটালিটি’ প্রায় ৮ হাজার ৩০০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত থাকবে। আর্কটিক অঞ্চল থেকে যাত্রা শুরু করে উত্তর মেরু, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও পর্তুগাল হয়ে এটি উত্তর স্পেনের ওপর দিয়ে শেষ হবে। গ্রিনল্যান্ডে এর স্থায়ীত্ব হবে প্রায় দুই মিনিট, আর স্পেনের উত্তরাঞ্চলে এটি দেখা যাবে প্রায় ২০ সেকেন্ডের জন্য। তবে পুরো দৃশ্যটি দেখার বিষয় নির্ভর করবে মেঘমুক্ত পরিচ্ছন্ন আকাশের ওপর।

বিশ্বে এরপরের পূর্ণ সূর্যগ্রহণটি অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ২ আগস্ট, যা দক্ষিণ স্পেন, উত্তর আফ্রিকা, সৌদি আরব ও ইয়েমেন অঞ্চল থেকে দেখা যাবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ২০৩৩ সালে কেবল আলাস্কা থেকে এবং ২০৪৪ সালে মূল ভূখণ্ড থেকে পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ মিলবে।

সূত্র: নাসা


যে ভুলের কারণে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ হতে পারে আপনার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ২১:৫৯:৩০
যে ভুলের কারণে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ হতে পারে আপনার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট
ছবি : সংগৃহীত

অন্যের সম্মতি ছাড়া গোপনে ভিডিও ধারণ করে ‘প্র্যাঙ্ক’ বা বিনোদনের নামে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করলে এখন থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে মেটা। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট জানিয়েছে, এ ধরনের হয়রানিমূলক বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনকারী কনটেন্ট পোস্ট করলে সংশ্লিষ্ট ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ (ব্যান) করা হতে পারে।

প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, মানুষের অজান্তে তাদের প্রতিক্রিয়া ধারণ করে প্রকাশ করা বা কাউকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা ভিডিও প্ল্যাটফর্মে আর অনুমোদন দেওয়া হবে না। বিশেষ করে ‘পিকআপ লাইন’ বা এ জাতীয় কনটেন্ট, যেখানে অপর পক্ষের সম্মতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করা হয়, সেগুলো শনাক্ত হওয়া মাত্রই দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে।

সম্প্রতি অনেক কনটেন্ট নির্মাতা মেটার স্মার্ট চশমা ও অন্যান্য পরিধানযোগ্য (ওয়্যারেবল) ক্যামেরা ব্যবহার করে পথচারী, সেবাকর্মী বা সাধারণ মানুষের অজান্তে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। বিষয়টি সাধারণ ব্যবহারকারীদের মাঝে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, যা মেটার তৈরি পণ্যগুলোর ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিজনেস ইনসাইডারের তথ্য অনুযায়ী, নারীদের অজান্তে নিয়মিত ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের গুরুতর অভিযোগে ইতোমধ্যে দুটি আলোচিত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে, স্মার্ট চশমায় ধারণ করা হয়রানিমূলক কনটেন্ট প্রকাশের কারণেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া স্মার্ট চশমার অপব্যবহার রোধ করতে নতুন একটি সফটওয়্যার আপডেটও নিয়ে এসেছে মেটা। এখন থেকে ভিডিও ধারণের সময় ক্যামেরার এলইডি নির্দেশক আলো (ইন্ডিকেটর লাইট) কোনোভাবে ঢাকা বা বন্ধ করার চেষ্টা করলে ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে।

/আশিক


নম্বর লুকিয়ে প্রোফাইল শেয়ারের ফিচার আনল হোয়াটসঅ্যাপ: নাম বুকিং শুরু আজই

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ১৯:৩৯:৪৭
নম্বর লুকিয়ে প্রোফাইল শেয়ারের ফিচার আনল হোয়াটসঅ্যাপ: নাম বুকিং শুরু আজই
ছবি : সংগৃহীত

গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মোবাইল নম্বর গোপন রেখে প্রোফাইল শেয়ার করার নতুন ফিচার নিয়ে এলো বিশ্বের জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। এখন থেকে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই একে অপরের সঙ্গে নিরাপদ যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন। হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলার বা প্রাথমিক নিবন্ধনের জন্য একটি সক্রিয় ফোন নম্বর বাধ্যতামূলক থাকলেও, অন্যদের সঙ্গে চ্যাট বা যুক্ত হওয়ার জন্য এখন থেকে ফোন নম্বরের পরিবর্তে শুধু ‘ইউজারনেম’ ব্যবহার করা যাবে। বিগত কয়েক বছর ধরে এই ফিচারটি নিয়ে অত্যন্ত গোপনে কাজ করার পর, অবশেষে এর বিস্তারিত কার্যপ্রণালী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।

আজ থেকেই নাম নিবন্ধনের সুযোগ

আজ থেকে বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দের ইউজারনেম আগেভাগে বুকিং বা রিজার্ভ করার বিশেষ সুযোগ পাবেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের শেষভাগের দিকে এই ফিচারটি বিশ্বের সব সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য পুরোদমে চালু করা হবে। হোয়াটসঅ্যাপের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একটি বৈধ ইউজারনেম সর্বনিম্ন ৩টি থেকে সর্বোচ্চ ৩৫টি ক্যারেক্টারের (অক্ষর, বিশেষ চিহ্ন বা সংখ্যা) মধ্যে হতে পারবে।

যেসব অ্যাকাউন্ট অগ্রাধিকার পাবে

প্রাথমিক পর্যায়ে নাম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সেলিব্রিটি, পাবলিক ফিগার এবং বিভিন্ন নামী আন্তর্জাতিক সংস্থাকে তাদের নিজস্ব নামের সুরক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীরাও প্ল্যাটফর্মের মূল নীতিমালা মেনে যেকোনো ইউনিক ইউজারনেম নিজের জন্য বেছে নিতে পারবেন। এছাড়া বিভিন্ন নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটররা চাইলে তাদের মেটা অ্যাকাউন্টের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিদ্যমান ইউজারনেমের সঙ্গে হুবহু মিল রেখে হোয়াটসঅ্যাপের ইউজারনেম সেট করার সুবিধা পাবেন।

যেভাবে কাজ করবে এই ফিচার

ফিচারটি কোনো নির্দিষ্ট দেশে রোল-আউট বা চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহারকারীরা অ্যাপের ভেতর একটি পপ-আপ নোটিফিকেশন পাবেন। এরপর অ্যাপের Settings > Account > Username অপশনে গিয়ে নিজের পছন্দের নাম বুক করা যাবে। এছাড়াও সুরক্ষার খাতিরে একটি অতিরিক্ত ‘ইউজারনেম কি’ (Username Key) তৈরির অনন্য সুবিধা থাকবে, যা ছাড়া অন্য কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি প্রথমবার আপনার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করতে পারবে না।

অনবদ্য নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা

বিশ্বজুড়ে হোয়াটসঅ্যাপের ৩ বিলিয়নেরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে। এই বিশাল গ্রাহক তালিকায় যাতে নামের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পুনরাবৃত্তি বা জালিয়াতি না হয়, সেজন্যই এই অগ্রিম রিজার্ভেশন সিস্টেম চালু করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই ইউজারনেমগুলো পাবলিকলি সার্চ করা যাবে না। অর্থাৎ, কোনো ব্যবহারকারীর হুবহু ইউজারনেমটি সঠিকভাবে জানা না থাকলে সার্চ বারে লিখে তাকে খুঁজে পাওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব। তবে ব্যবহারকারী চাইলে যেকোনো সময় এই ইউজারনেম ফিচারটি পরিবর্তন বা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে রাখার স্বাধীন ক্ষমতা পাবেন।

এই বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং হেড অব প্রোডাক্ট অ্যালিস নিউটন-রেক্স বলেন, ‘এই ফিচারটি মূলত ব্যবহারকারীদের তাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্যের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ এবং সর্বোচ্চ প্রাইভেসি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা হয়েছে।’

কিছু সীমাবদ্ধতা

নিরাপত্তার স্বার্থে এই ফিচারে কিছু সীমাবদ্ধতাও রাখা হয়েছে। বর্তমানে এই ইউজারনেমটি মুখে বলে কিংবা সরাসরি টেক্সট মেসেজের মাধ্যমেই একে অপরের সাথে শেয়ার করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে কিউআর কোড (QR Code) স্ক্যান করার মাধ্যমে ইউজারনেম শেয়ার করার কোনো টেকনিক্যাল সুবিধা মেটা রাখছে না। উল্লেখ্য, হোয়াটসঅ্যাপের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম, সিগন্যাল এবং ওয়্যার বেশ কয়েক বছর ধরেই ইউজারনেম-ভিত্তিক এই যোগাযোগ ব্যবস্থা সাপোর্ট করে আসছে। হোয়াটসঅ্যাপের মাদার কোম্পানি মেটা তাদের শীর্ষ নেতৃত্বে বেশ কিছু কাঠামোগত পরিবর্তনের পর অবশেষে এই বহুল প্রতীক্ষিত ফিচারটি বাজারে নিয়ে এলো।

সূত্র: সামা টিভি


চাঁদ ও মঙ্গলে মানুষের স্থায়ী বসতি: ৩৭টি বেসরকারি সংস্থাকে নিয়ে নাসার মেগা প্রজেক্ট

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৭ ২১:৫৯:৪০
চাঁদ ও মঙ্গলে মানুষের স্থায়ী বসতি: ৩৭টি বেসরকারি সংস্থাকে নিয়ে নাসার মেগা প্রজেক্ট
ছবি : সংগৃহীত

চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব বসতি স্থাপন এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব মিশন পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে মহাকাশ প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩৭টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের অংশীদার হিসেবে নির্বাচন করেছে সংস্থাটি।

নাসা জানিয়েছে, নির্বাচিত এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো মহাকাশ প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, চাঁদের পৃষ্ঠে মানুষের কাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ মহাকাশ অবকাঠামো নির্মাণের মতো অত্যন্ত জটিল ও দূরদর্শী প্রকল্পগুলোতে নাসার সাথে সরাসরি কাজ করবে।

নাসার উন্নত গবেষণা ও প্রযুক্তি বিভাগের পরিচালক গ্রেগ স্টোভার এই অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বাণিজ্যিক খাতের উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও গতিকে কাজে লাগিয়ে আমরা চাঁদ, মঙ্গল এবং তার চেয়েও দূরবর্তী গভীর মহাকাশ অভিযানের প্রযুক্তি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তৈরি করতে চাই। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের মহাকাশভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হবে।”

নাসা স্পষ্ট করেছে যে, এই কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তির আওতায় প্রাথমিকভাবে কোনো আর্থিক লেনদেন বা ফান্ডিং করা হবে না। তবে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো নাসার বিশ্বমানের গবেষণাগার, অত্যাধুনিক সফটওয়্যার, মহাকাশ যন্ত্রপাতি এবং নাসার বিজ্ঞানীদের সরাসরি প্রযুক্তিগত সহায়তা ব্যবহারের এক অনন্য সুযোগ পাবে। অংশীদারিত্বের আওতায় প্রতিটি প্রকল্পের মেয়াদ সাধারণত ১২ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্বাচিত ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল অঞ্চলেরই পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান জায়গা করে নিয়েছে। এগুলো হলো—অ্যারোজেট রকেটডাইন, জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন, স্টারক্লাউড, স্টোক স্পেস এবং জেনো পাওয়ার সিস্টেমস। এই প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত মহাকাশযানের চালনা শক্তি (প্রোপালশন সিস্টেম), অত্যাধুনিক চন্দ্রযান, পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট, মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার এবং পারমাণবিক ব্যাটারির মতো জটিল ও যুগান্তকারী প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।

সিয়াটলের এই পাঁচ প্রতিষ্ঠান ছাড়াও নাসার এই তালিকায় নাম রয়েছে লকহিড মার্টিন, অ্যাক্সিওম স্পেস, অ্যাস্ট্রোবোটিক টেকনোলজি, মেড ইন স্পেস, ম্যাক্স স্পেস, অরবিটাল কম্পোজিটস এবং টেলিডাইন এনার্জি সিস্টেমসের মতো আরও ৩২টি বিশ্বখ্যাত মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের।

নাসার নীতিনির্ধারকদের মতে, সরকারি গবেষণা এবং বেসরকারি প্রযুক্তি খাতের এই সমন্বিত মেলবন্ধনের মাধ্যমে চাঁদ ও মঙ্গলে ভবিষ্যতের মানব মিশনকে আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ীভাবে বাস্তবায়ন করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

/আশিক


ভূমিকম্পের আগেই ফোনে সতর্কবার্তা, যেভাবে চালু করবেন এই ফিচার

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৬ ১৪:৩২:৫৫
ভূমিকম্পের আগেই ফোনে সতর্কবার্তা, যেভাবে চালু করবেন এই ফিচার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে ভূমিকম্প এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যার সুনির্দিষ্ট সময় ও স্থান এখনো শতভাগ নির্ভুলভাবে আগাম জানানো সম্ভব হয়নি। তবে আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক দশ সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অল্প সময়ও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে প্রাণহানি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং বাংলাদেশসহ আশপাশের এলাকায় অনুভূত একাধিক মৃদু কম্পনের পর ভূমিকম্প প্রস্তুতি নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা চাইলে গুগলের Earthquake Alerts System চালু রেখে সম্ভাব্য ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা পেতে পারেন।

গুগলের এই বিশেষ ব্যবস্থা বিশ্বের কোটি কোটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে থাকা অ্যাক্সিলেরোমিটার সেন্সরের তথ্য ব্যবহার করে কাজ করে। কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় একাধিক স্মার্টফোন একই ধরনের ভূকম্পন শনাক্ত করলে সেই তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। বিশ্লেষণে সেটি ভূমিকম্প হিসেবে নিশ্চিত হলে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে কিছুটা দূরে অবস্থানকারী মানুষ সাধারণত কয়েক সেকেন্ড সময় পান। যদিও সময়টি খুবই অল্প, তবুও এই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া, গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে দূরে সরে আসা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ত্যাগ করা সম্ভব হতে পারে।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এই সুবিধা চালু করতে প্রথমে Settings-এ প্রবেশ করতে হবে। এরপর Safety & Emergency অপশনে গিয়ে Earthquake Alerts নির্বাচন করতে হবে। সেখানে ফিচারটি বন্ধ থাকলে Turn On বা Enable করে দিলেই এটি সক্রিয় হবে। কিছু স্মার্টফোনে এই অপশন Location, Advanced Settings কিংবা Security & Emergency মেনুতেও থাকতে পারে।

তবে এই সুবিধা ব্যবহারের জন্য কয়েকটি শর্ত পূরণ থাকা জরুরি। ফোনে অবশ্যই সক্রিয় ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। পাশাপাশি লোকেশন সার্ভিস (GPS) চালু রাখতে হবে এবং সর্বশেষ Google Play Services ইনস্টল থাকতে হবে। এছাড়া ডিভাইসটি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম সমর্থিত হতে হবে।

গুগল সাধারণত দুই ধরনের ভূমিকম্প সতর্কবার্তা পাঠায়। Be Aware Alert তুলনামূলক কম মাত্রার কম্পনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে সতর্ক থাকতে বলে। অন্যদিকে Take Action Alert শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা দেখা দিলে পুরো স্ক্রিনজুড়ে জরুরি বার্তা প্রদর্শন করে এবং উচ্চ শব্দে অ্যালার্ম বাজিয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশনা দেয়।

আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য গুগলের এই নির্দিষ্ট ব্যবস্থা চালু না থাকলেও তারা স্থানীয় সরকারি জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার নোটিফিকেশন অথবা নির্ভরযোগ্য তৃতীয় পক্ষের ভূমিকম্প সতর্কতা অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিরাপদ সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের ভেতরে থাকলে মজবুত টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নেওয়া উচিত। জানালা, কাচ, বুকশেলফ কিংবা ভারী আসবাবপত্র থেকে দূরে থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই লিফট ব্যবহার করা যাবে না। বাইরে থাকলে খোলা জায়গায় চলে যেতে হবে এবং গাড়িতে থাকলে নিরাপদ স্থানে থামিয়ে গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করা উচিত।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে আগাম সতর্কতা, সচেতনতা, নিরাপদ ভবন নির্মাণ এবং নিয়মিত দুর্যোগ প্রস্তুতির মাধ্যমে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহার করলে এখনই একবার দেখে নেওয়া উচিত Earthquake Alerts ফিচারটি সক্রিয় আছে কি না। জরুরি মুহূর্তে এই অল্প কয়েক সেকেন্ডই হতে পারে জীবন রক্ষার সবচেয়ে মূল্যবান সময়।

-রফিক


অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটারের নির্মাণকাজ শুরু

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২০ ২১:৫১:৫৭
অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটারের নির্মাণকাজ শুরু
ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের মোরেটন বে এলাকায় বাস্তব বিশ্বের সবচেয়ে জটিল ও দুরূহ সমস্যা সমাধানে সক্ষম একটি বিশেষায়িত কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মতো ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম এই প্রযুক্তি অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বপ্রযুক্তির শীর্ষ নেতৃত্বে নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বিজ্ঞানবিষয়ক মন্ত্রী এই উদ্যোগকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘জাতীয় বিনিয়োগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, এই প্রকল্প দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রচুর উচ্চমানের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। উন্নত এই প্রযুক্তি তৈরির দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ‘সাইকোয়ান্টাম’-এর অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী ভিক্টর পেং বলেন, বাস্তবমুখী এবং ত্রুটিমুক্ত কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করা বর্তমান যুগের অন্যতম বড় প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ। তবে মোরেটন বে এলাকার বিদ্যমান আধুনিক অবকাঠামো এবং অনুকূল পরিবেশ এই প্রকল্পকে দ্রুত এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

বিজ্ঞানীদের মতে, জনসংখ্যা বা আয়তনের দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া তুলনামূলক ছোট দেশ হলেও, বিশ্বমানের কোয়ান্টাম পদার্থবিদের সংখ্যার দিক থেকে দেশটি অনেক এগিয়ে। এই বিশেষ যোগ্যতার কারণেই অস্ট্রেলিয়াকে এই মেগা প্রকল্পের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নে অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এবং কুইন্সল্যান্ড রাজ্য সরকার যৌথভাবে প্রায় ৯৪ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার (প্রায় ৯৪০ মিলিয়ন AUD) বিনিয়োগ করছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: