রাজনীতিতে সৌজন্যের নতুন নজির: বিরোধীদলীয় নেতাকে এগিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৮:১২:১৫
রাজনীতিতে সৌজন্যের নতুন নজির: বিরোধীদলীয় নেতাকে এগিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সাক্ষাৎ। ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় রাজনীতিতে সৌজন্য ও শিষ্টাচারের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সংসদ সচিবালয়ে দুই নেতার এই সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বেলা ১২টায়, যখন জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী দিলার হাফিজের জানাজা নামাজে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে অংশগ্রহণ করেন। জানাজা শেষে সংসদ ভবনের দিকে ফেরার পথে বিরোধীদলীয় নেতা কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করলে প্রধানমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ তাঁকে নিজ কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দুই নেতার মধ্যে প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী এই সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। তবে সবচেয়ে নজরকাড়া মুহূর্তটি ছিল সাক্ষাতের শেষে। আলাপ শেষে প্রধানমন্ত্রী নিজে বিরোধীদলীয় নেতাকে তাঁর কার্যালয়ের পথ পর্যন্ত খানিকটা এগিয়ে দেন। ক্ষমতার শীর্ষপদে থেকেও এমন বিনয় ও সৌজন্য প্রদর্শন উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করেছে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবরই সবাইকে যথাযথ সম্মান ও শিষ্টাচার প্রদর্শনে বিশ্বাসী। নির্বাচনের আগে এবং সরকার গঠনের পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর এই অমায়িক ব্যবহার সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। আজকের এই ঘটনাটি ছিল তাঁর সেই স্বাভাবিক সৌজন্যবোধেরই একটি উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ।

/আশিক


সংসদে হাসির রোল: হাসনাত আবদুল্লাহর বয়স শুনে প্রাণখুলে হাসলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৭:৩৮:০১
সংসদে হাসির রোল: হাসনাত আবদুল্লাহর বয়স শুনে প্রাণখুলে হাসলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে সোমবার (৩০ মার্চ) বাজেট ও পুলিশের বরাদ্দ নিয়ে আলোচনার সময় এক হাস্যরসাত্মক ও প্রাণবন্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত এনসিপি সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর রসিকতাপূর্ণ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে উপস্থিত সকলেই, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রাণখুলে হাসেন।

আলোচনার এক পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আমার বর্তমান বয়স সাড়ে ২৭ বছর। আপনি যখন ১৯৯১ সালে প্রথম এই সংসদে পা রাখেন, আমার জন্ম তখনো হয়নি; আমার জন্ম ১৯৯৮ সালে। তাই প্রবীণ ও নবীন এই ব্যবধানে সম্বোধনের ক্ষেত্রে যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে আমি আগাম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।"

তরুণ এই সংসদ সদস্যের এমন বিনয়ী ও কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য শুনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাসিতে ফেটে পড়েন এবং পুরো সংসদ কক্ষেই এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। হাসনাত আরও যোগ করেন, কোনো ভুল হলে যেন তাদের নোটিশের মাধ্যমে জানানো হয়, যা তারা সানন্দে সংশোধন করবেন।

হাস্যরসের বাইরেও হাসনাত আবদুল্লাহ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, পুলিশকে যখন কোনো মামলার তদন্ত বা বিশেষ অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন তাদের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ থাকে না। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে অনেক সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের স্থানীয় ব্যবসায়ী বা অন্যদের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়, যা দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করে।

হাসনাত আবদুল্লাহর মতে, পুলিশের জন্য সরকারি বরাদ্দ পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়ালে তাদের আর কারো কাছে হাত পাততে হবে না। এতে পুলিশ বাহিনী তাদের নিজস্ব মহিমায় এবং পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে কাজ করতে পারবে। তিনি বিশ্বাস করেন, আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে পুলিশে দুর্নীতি কমবে এবং জনসেবায় আরও গতি আসবে।

/আশিক


এক-এগারোর কুশীলবদের তথ্যে ফেঁসে গেলেন ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১২:৪২:১৪
এক-এগারোর কুশীলবদের তথ্যে ফেঁসে গেলেন ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক 
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) গ্রেপ্তার করেছে। রোববার (২৯ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস-এর একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডিবির সূত্রমতে, এক-এগারোর অন্যতম প্রধান কুশীলব হিসেবে পরিচিত সাবেক সেনাসদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং ডিজিএফআই-এর সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আফজাল নাছেরের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মজিরখিল এলাকায়। তিনি ১৯৮৪ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইতে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এক-এগারোর সময় বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের নির্যাতনে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। এছাড়া রাজধানীর ভাটারা থানায় গত জুলাই মাসে দায়ের করা একটি হত্যা মামলাতেও তিনি অন্যতম আসামি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত সোমবার রাতে সাবেক সেনাসদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে তাঁর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় দফায় ডিবির রিমান্ডে রয়েছেন। গত বুধবার ডিজিএফআই-এর সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদকেও একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি। এই উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


অবৈধ তেল মজুতকারীদের ধরতে ১ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১২:৩৩:৪০
অবৈধ তেল মজুতকারীদের ধরতে ১ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সরকার নতুন একটি কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে। অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তথ্য প্রদানকারীদের জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কা থেকেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, তথ্যদাতাদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে অবৈধ মজুত ও পাচার কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যারা জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ, গুদামজাতকরণ বা পাচারের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করবেন, তাদের সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কৃত করা হবে। এতে সাধারণ জনগণকে নজরদারি ব্যবস্থার একটি সক্রিয় অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সদস্যদের সমন্বয়ে বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। এসব দল জ্বালানি তেলের ডিপো, ফিলিং স্টেশন, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং সরবরাহ চেইনের বিভিন্ন স্তরে নিবিড় তদারকি চালাবে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে তেল মজুত করার চেষ্টা করতে পারে এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে সরকার আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে সরকার জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, জরিমানা এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে এসব পদক্ষেপ প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ায় এবার তথ্যভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

-রফিক


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ঘোষণা: রাতেই মিটছে ১৩৩ অধ্যাদেশের ভাগ্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ২০:৫৪:৪৫
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ঘোষণা: রাতেই মিটছে ১৩৩ অধ্যাদেশের ভাগ্য
ছবি : সংগৃহীত

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে আজ রাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে সরকারি দলের সংসদীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির একটি বৈঠক আজ রাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে এই বিপুল সংখ্যক অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

এদিকে, সংসদীয় বিশেষ কমিটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য দিয়েছেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২৪টি অধ্যাদেশের বিষয়ে এখনো সব পক্ষের মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য বা একমত হওয়া সম্ভব হয়নি। আজকের বিশেষ কমিটির বৈঠকে মূলত এই বিতর্কিত বা অমীমাংসিত ২৪টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এবং একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক এসব পদক্ষেপের আইনি বৈধতা ও ধারাবাহিকতা রক্ষায় এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

/আশিক


ফ্যামিলি কার্ডে বড় পরিবর্তন: এখন ঘরে বসেই পাবেন সব সুবিধা?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১৭:৫৯:১৬
ফ্যামিলি কার্ডে বড় পরিবর্তন: এখন ঘরে বসেই পাবেন সব সুবিধা?
ছবি : সংগৃহীত

নারীদের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে বড় ধরনের সুখবর দিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

রবিবার (২৯ মার্চ ২০২৬) সচিবালয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আগামী চার বছরের মধ্যে এই কার্যক্রমকে ‘ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ডে’ রূপান্তর করা হবে। এর ফলে দেশের প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে একটি করে কার্ড ইস্যু করা হবে, যা নাগরিক হিসেবে তাঁদের এক অনন্য ও সম্মানজনক স্বীকৃতি দেবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চলছে। মন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারের নারী প্রধানের নামে এই কার্ড ইস্যু করা হয়েছে এবং প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জঁ পেম (Jean Pesme) সরকারের এই উদ্যোগকে সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এই কার্যক্রমের টেকসই বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

সাক্ষাৎকালে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ সামাজিক নিরাপত্তা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে তা কেবল দরিদ্র পরিবার নয়, বরং সমাজের সব স্তরের নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


আট বছর টিকা দেয়নি কোনো সরকার; স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক তথ্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১৭:৪৪:৩৬
আট বছর টিকা দেয়নি কোনো সরকার; স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

দেশে দীর্ঘ ৮ বছর হামের (মিজেলস) টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। রোববার (২৯ মার্চ ২০২৬) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক ওষুধশিল্প মেলার উদ্বোধন শেষে তিনি জানান, দেশে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার নতুন করে টিকা সংগ্রহের জন্য ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং দ্রুতই দেশজুড়ে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সর্বশেষ আট বছর আগে হামের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল, এরপর আর কোনো সরকার এই কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। বর্তমানে ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং পারচেজ কমিটির অনুমোদনও পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী শিশুদের ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন এই স্থবিরতার কারণে চলতি বছরের শুরু থেকেই কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও রাজধানীর বস্তি এলাকাগুলোতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে বর্তমানে ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি হাম আক্রান্ত শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সংক্রমণ মোকাবিলায় ডিএনসিসির ওয়ার্ডগুলো প্রস্তুত করার পাশাপাশি ঢাকা মেডিকেল, শিশু হাসপাতাল ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।

সম্প্রতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজে আইসিইউ সংকটে শিশুমৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষাপটে সরকার নতুন ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করছে। মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে পাঁচটি ভেন্টিলেটর পাওয়া গেছে যার চারটি রাজশাহীতে পাঠানো হচ্ছে এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আরও ১২টির বেশি ভেন্টিলেটর দ্রুতই সরবরাহ করা হবে।

/আশিক


গুম ও ফাঁসির মঞ্চ পেরিয়ে আসা সদস্যদের সংসদ বিশ্বে বিরল: ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১৭:২৩:২৩
গুম ও ফাঁসির মঞ্চ পেরিয়ে আসা সদস্যদের সংসদ বিশ্বে বিরল: ডেপুটি স্পিকার
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠকে এক আবেগঘন ও ঐতিহাসিক বক্তব্য রেখেছেন নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রবিবার (২৯ মার্চ ২০২৬) বিকেলে সংসদ ভবনের অধিবেশনে সভাপতিত্বকালে তিনি মন্তব্য করেন যে, গুম ও ফাঁসির মঞ্চ পেরিয়ে এই সংসদে আসা সদস্যদের উপস্থিতি বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। তিনি বলেন, এই সংসদ হবে জাতির দর্পণ, যেখানে জেল-জুলুম ও দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে আসা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের গণতন্ত্রের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।

বক্তব্যের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীসহ সকল সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনা-১ আসনের জনগণের কথা স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং 'মাদার অব ডেমোক্রেসি' খ্যাত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বৈরাচারবিরোধী ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেন। কায়সার কামাল উল্লেখ করেন, ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই সংসদে অনেক সদস্য এসেছেন কারাগার ও নির্যাতনের পথ পাড়ি দিয়ে, যা এই সংসদকে এক অনন্য মর্যাদা দিয়েছে।

চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানকে গণতন্ত্রের নতুন দ্বার হিসেবে অভিহিত করে তিনি শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম ও মুগ্ধসহ সকল বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের প্রকৃত ভিত্তি। দীর্ঘ ১৩ দিনের বিরতি শেষে শুরু হওয়া এই অধিবেশনে তিনি ফ্যাসিবাদের পতন পরবর্তী সংসদীয় গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং যারা আন্দোলনে আহত হয়ে কষ্টকর জীবনযাপন করছেন তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

/আশিক


পে স্কেলসহ ১০ দফা দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১৪:২৭:৩২
পে স্কেলসহ ১০ দফা দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের দাবিতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। এ লক্ষ্যে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, রাষ্ট্র পরিচালনা, নীতি বাস্তবায়ন এবং জনসেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সত্ত্বেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবিগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পদোন্নতি বঞ্চনা এবং ব্লক পোস্ট সমস্যার কারণে কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে। এতে প্রশাসনিক কার্যকারিতাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, গত ১১ বছরে অন্তত দুটি পে স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটি নতুন পে স্কেলও বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বিশেষ করে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এই প্রেক্ষাপটে সংগঠনটি প্রশাসনের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও কর্মোদ্যম বৃদ্ধির জন্য ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছে, যা নিম্নরূপ

উত্থাপিত ১০ দফা দাবি

১. অবিলম্বে নবম পে স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়ন

২. সার্ভিস বেনিফিটসহ টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল

৩. ব্লক পোস্ট সমস্যা সমাধান করে পদোন্নতির পথ উন্মুক্ত করা

৪. কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা

৫. কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও মানসিক কল্যাণ বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ

৬. প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে অযাচিত পোস্টিং ও পদোন্নতির বাধা দূর করা

৭. কার্যকর ও দ্রুত সমন্বিত অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু করা

৮. কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নাগরিকদের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবনমান নিশ্চিত করা

৯. প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কর্মসূচি জোরদার করে মানবসম্পদ উন্নয়ন

১০. স্থানান্তর ও পোস্টিং নীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা

সংগঠনটি মনে করছে, এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি প্রশাসনের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মচারীদের মনোবলও পুনরুদ্ধার হবে।

-রফিক


নয়াপল্টনে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর: তারেক রহমানকে ঘিরে উৎসবের আমেজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ২১:০০:৪৫
নয়াপল্টনে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর: তারেক রহমানকে ঘিরে উৎসবের আমেজ
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছালে সেখানে এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নয়াপল্টন এলাকায় হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ৭টার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে গাড়ির ভেতর থেকেই হাত নেড়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। তাঁর আগমনে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে এলাকা মুখরিত করে তোলেন। নেতাকর্মীদের হাতে ছিল রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফরকে কেন্দ্র করে পুরানা পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সড়কের ডিভাইডারের ওপর দাঁড়িয়েও অনেককে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

নেতাকর্মীদের এই বিশাল জমায়েতের কারণে নয়াপল্টন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং যানবাহন চলাচল কার্যত এক লাইনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। নতুন সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমের ব্যস্ততার মাঝেও নিজ দলীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনে কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: