ইসরায়েলের দুটি ট্যাংকে হামলার দাবি হিজবুল্লাহর

দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্রতা পেয়েছে, যেখানে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে তাদের যোদ্ধারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি দুটি যুদ্ধ ট্যাংক সফলভাবে আঘাত করেছে। ঘটনাটি মারজায়ুন জেলার কান্তারা এলাকার কাছে সংঘটিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুধু দুটি ট্যাংক নয়, একই দিনে ওই এলাকায় মোট সাতটি ইসরায়েলি ট্যাংককে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সংঘর্ষের মাত্রা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান জোরদার করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী লিতানি নদীর দক্ষিণাংশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলটিতে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ থেকে টোল নিচ্ছে না ইরান: ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী কোনো বাণিজ্যিক বা পণ্যবাহী জাহাজ থেকে ইরান কোনো ধরনের টোল বা মাশুল আদায় করছে না বলে ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তেহরানের দেওয়া এই আশ্বাস যদি কোনোভাবে মিথ্যা বা কাল্পনিক প্রমাণিত হয়, তবে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
নিজের পোস্টে সম্পূর্ণ বড় হাতের অক্ষরে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় কোনো জাহাজের কাছ থেকেই ইরান কোনো ধরনের টোল, বিমা খরচ কিংবা অন্য কোনো প্রকার অতিরিক্ত চার্জ দাবি করছে না এবং গ্রহণও করছে না। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার কোনো ধরনের গোপন বা সরাসরি আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে কোনো নগদ অর্থ দেওয়া হয়নি বা তাদের কোনো অর্থ নতুন করে অবমুক্তও করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করা তহবিলের কিছু অংশ মার্কিন কৃষক ও খামারিদের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে। এই নির্দিষ্ট অর্থ দিয়ে মার্কিন কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ভুট্টা, গম ও সয়াবিনের মতো বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য কেনা হবে।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের শেষ অংশে ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইরানে বর্তমানে খাদ্যের তীব্র সংকট ও জরুরি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। আর সেই মানবিক কারণেই দেশটির অবরুদ্ধ অর্থের একটি অংশ দিয়ে এই খাদ্যসামগ্রী কেনা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই খাদ্যশস্য একচেটিয়াভাবে কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকেই কেনা হবে বলে দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প।
সূত্র: আল-জাজিরা।
খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ইরানের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক প্রকাশ ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ভারতীয় গণমাধ্যম উইয়ন নিউজ (WION News) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে তেহরানের এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে শীর্ষপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধি যোগ দেবেন কি না, তা এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সমবেদনা জানাতে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসে গিয়েছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিসরি। সেখানে তিনি শোকবইয়ে স্বাক্ষর করে ভারতের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন।
নয়াদিল্লি সর্বদা ইরানকে তাদের বর্ধিত প্রতিবেশী অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক ৪০ দিনব্যাপী চলাকালীন সংঘাতের সময়েও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একাধিকবার ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
অস্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি চলার মধ্যেই ব্রিকস (BRICS) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বিশেষ বৈঠকে যোগ দিতে ভারতের নয়াদিল্লি সফর করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সেই সফরকালে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠক করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
/আশিক
ইরান যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করল সিনেট
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি সীমিত করতে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান দ্রুত বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে মার্কিন সিনেট। এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৫০-৪৮ ভোটের ব্যবধানে বিলটি অনুমোদন পায়। এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই একই প্রস্তাব মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে পাস হয়েছিল। ফলে প্রথমবারের মতো যুদ্ধসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সমর্থন লাভ করল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট শুধু একটি আইন প্রণয়নের প্রচেষ্টা নয়; বরং এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরুদ্ধে নিজ দলের ভেতরে বাড়তে থাকা অস্বস্তি ও রাজনৈতিক বিভাজনেরও প্রতিফলন।
সিনেটে রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে থাকলেও দলের কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, দীর্ঘায়িত সংঘাত এবং এর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিলটির পক্ষে ভোট দেওয়া রিপাবলিকান সিনেটরদের মধ্যে রয়েছেন লুইসিয়ানার বিল কাসিডি, আলাস্কার লিসা মুরকোস্কি, মেইনের সুসান কলিন্স এবং কেনটাকির র্যান্ড পল। অন্যদিকে, অধিকাংশ ডেমোক্র্যাট সদস্য এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন।
তবে কেনটাকির সাবেক সিনেট নেতা মিচ ম্যাককনেল এবং পেনসিলভেনিয়ার ডেভ ম্যাককরমিক ভোটদানে অংশ নেননি, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি মূলত কংগ্রেসের সাংবিধানিক ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি প্রচেষ্টা। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রেসিডেন্টরা নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছেন।
ইরান ইস্যুতে সেই প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে। সমালোচকদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পর্যাপ্ত কংগ্রেসীয় অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছেন, যা সাংবিধানিক বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।
তবে বিলটি পাস হলেও সেটি কার্যকর হওয়ার বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশ মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিলে ভেটো প্রয়োগ করতে পারেন।
যদি ট্রাম্প ভেটো দেন, তাহলে বিলটি কার্যকর করতে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জনমতও দ্রুত বদলাচ্ছে। যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্র: আলজাজিরা
ইরানের বুকে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের আগে মার্কিন পাইলটের রহস্যময় দাবি
ইরানের আকাশসীমায় গত এপ্রিল মাসে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের এক পাইলট উদ্ধার হওয়ার পর এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তিনি আকাশে একসঙ্গে সুবিন্যস্ত অবস্থায় একাধিক ইরানি ড্রোন উড়তে দেখেছিলেন, যার সামগ্রিক অবয়ব বা বিন্যাস দেখতে অনেকটা সমুদ্রের ‘জেলিফিশ’-এর মতো ছিল।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই পাইলট মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে এই জেলিফিশ-সদৃশ ড্রোন নেটওয়ার্কের বিবরণ দেওয়ার পর থেকেই পেন্টাগন এবং মার্কিন গোয়েন্দা মহলে ব্যাপক তোলপাড় ও চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
পাইলটের বিবরণ অনুযায়ী, আকাশে একটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট জ্যামিতিক বিন্যাসে ড্রোনগুলো অবস্থান করছিল। সেখানে বড় আকৃতির ড্রোনগুলোর ঠিক নিচে ছোট ড্রোনগুলো এমন নিখুঁতভাবে সারিবদ্ধ ছিল, যেন দূর থেকে দেখলে মনে হবে একটি জেলিফিশের পা বা শুঁড়গুলো ঝুলছে। শুধু তাই নয়, পুরো গঠনটি একটি একক সত্তার মতো অত্যন্ত সমন্বিতভাবে একসঙ্গে দিক পরিবর্তন ও চলাচল করছিল। ঘটনার বিষয়ে অবগত একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র সিএনএনকে জানায়, ড্রোনগুলো পরস্পরের সঙ্গে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিল এবং বড় ড্রোনের নিচে ছোটগুলো যেভাবে ঝুলছিল, তা দেখতে অবিশ্বাস্য লাগছিল। এছাড়া পাইলট আকাশে ‘ড্রোনের মাইনফিল্ড’ বা ফাঁদ দেখার কথাও উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের এই অত্যাধুনিক ড্রোন নেটওয়ার্ক কোনোভাবে তাদের স্থলভিত্তিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এই সমন্বিত প্রযুক্তির সাহায্যেই মার্কিন অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটিকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ভূপাতিত করা হয়। উল্লেখ্য, ভূপাতিত ওই বিমানে দুজন আরোহী ছিলেন। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মূল পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও, অপর ক্রু সদস্য প্রায় একদিনের বেশি সময় ধরে ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করে থাকার পর উদ্ধার হন। তবে ওই দ্বিতীয় ক্রু সদস্যও আকাশে একই দৃশ্য দেখেছিলেন কি না, তা এখনো পরিষ্কার করা হয়নি। এছাড়া ওই একই উদ্ধার অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনীর একটি এ-১০ যুদ্ধবিমানও ইরানের গোলার আঘাতে ভূপাতিত হয়েছিল, তবে তার পাইলট নিরাপদে ইরানের আকাশসীমার বাইরে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন।
সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে সামরিক বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পাইলট আকাশে যে প্রযুক্তির বর্ণনা দিয়েছেন, সামরিক পরিভাষায় তাকে 'ওয়ান-টু-ম্যানি মেশড নেটওয়ার্কিং' (One-to-Many Meshed Networking) বলা হয়। এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে একজন মাত্র অপারেটর বা একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড স্টেশন থেকে একই সময়ে শত শত ড্রোনের ঝাঁক নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং ড্রোনগুলো জিপিএস বা স্যাটেলাইট ছাড়াই নিজেদের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য আদান-প্রদান করে নিখুঁতভাবে হামলা বা প্রতিরক্ষার কাজ করতে পারে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পূর্ববর্তী কোনো মূল্যায়নেই ইরানের কাছে এমন স্বয়ংক্রিয় ‘সোয়ার্ম ড্রোন’ বা মেশড নেটওয়ার্কিং সক্ষমতা থাকার কথা স্বীকার করা হয়নি। তবে ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা মহলের একাংশের দাবি, ড্রোন প্রযুক্তির এই অভাবনীয় উন্নয়নে ইরান মূলত চীন ও রাশিয়ার কাছ থেকে বড় ধরনের কারিগরি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সহায়তা পেয়ে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইলটের এই দাবি যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য এক নজিরবিহীন ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
অবশ্য মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ এই ‘জেলিফিশ ড্রোন’-এর তত্ত্বটি এখনই শতভাগ মেনে নিতে রাজি নন। তারা বিষয়টিকে বেশ সতর্কতার সঙ্গে দেখছেন। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বিমানটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হওয়ার সময় পাইলট মাথায় বেশ গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন। এছাড়া যুদ্ধ চলাকালীন এর আগেও তিনি একবার ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ (নিজেদের বাহিনীর ভুল হামলা) এর শিকার হয়ে বিমান থেকে ছিটকে পড়েছিলেন। ফলে তিনি বাস্তবে আসলেই ইরানের কোনো গোপন ও পরীক্ষামূলক ড্রোন প্রযুক্তির মুখোমুখি হয়েছিলেন, নাকি তীব্র মানসিক চাপ ও মাথায় আঘাতজনিত কারণে এটি তার কোনো চাক্ষুষ বিভ্রম (Hallucination) ছিল—তা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থায় তীব্র মতভেদ ও বিতর্ক রয়েই গেছে।
/আশিক
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর ইরানি প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট: মধ্যপ্রাচ্য শান্তিতে নতুন সংকট
দীর্ঘদিন ধরে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে শুরু হওয়া বহুল আলোচিত শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কড়া ও হুমকিমূলক বক্তব্যের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে সুইজারল্যান্ডের আলোচনাস্থল সাময়িকভাবে ত্যাগ করেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে যখন দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি কড়া বার্তা দেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরান যদি তার মিত্র সংগঠন হিজবুল্লাহকে লজিস্টিক ও সামরিক সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখে, তবে তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে ওয়াশিংটন। এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এর কিছুক্ষণ পরেই আলোচনার টেবিল থেকে ওয়াকআউট করেন ইরানি প্রতিনিধিরা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এই নাটকীয় খবরটি নিশ্চিত করেছে।
আইআরএনএ-এর বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠক শেষ করার পরপরই ইরানি প্রতিনিধি দল আলোচনার মূল ভেন্যু ছেড়ে চলে যায়। প্রায় একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে আরেকটি পোস্ট করেন। তবে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক মহলের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান এখনই এই শান্তি আলোচনা পুরোপুরি বয়কট বা বন্ধ করেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কূটনীতিক জানান, ইরানি প্রতিনিধি দল এখনো সুইজারল্যান্ডেই অবস্থান করছে এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা জারি রেখেছে; তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপ ত্যাগের কোনো চূড়ান্ত ইঙ্গিত দেয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির জবাবে অত্যন্ত কড়া ভাষায় পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেন, মার্কিন প্রশাসনের নিজেদের বক্তব্যের বিষয়ে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সতর্ক হওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং প্রয়োজন হলে সামরিক উপায়ে ভিন্নভাবে জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তারা বাইরে যা-ই বলুক না কেন, মাঠের কাজ ইরান নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ীই করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে দশকের পর দশক ধরে চলা এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে শুরু হওয়া এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সফল হলে, পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে কয়েক যুগের অমীমাংসিত পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো বড় বড় ইস্যুগুলো নিয়ে একটি বিস্তৃত ও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পথ খুলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু এই অগ্রগতির পথে এখনো লেবাননে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং উভয় পক্ষের অনমনীয় অবস্থান বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এরই মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ দমনে ইসরায়েলি সেনারা ‘যতদিন প্রয়োজন’ ততদিন অবস্থান করবে এবং তারা কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না। অপরদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, প্রথম দফার দীর্ঘ আলোচনার শুরুর ৮০ মিনিটে পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি টেবিল জুড়েই আসেনি। বরং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন এবং লেবাননের জ্বলন্ত পরিস্থিতিই ছিল দুই পক্ষের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
এই সংলাপকে অত্যন্ত ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বেশ কিছু কৌশলগত প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে কি দুই দেশের মধ্যে শত্রুতার অবসান ঘটে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে? মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক কি চিরতরে বদলে দেওয়া সম্ভব, নাকি পরিস্থিতি আবার পুরোনো সংঘাতের পথেই ফিরে যাবে? বর্তমানে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার ভয়াবহ যুদ্ধ যখন পুরো অঞ্চলকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলেছে, ঠিক তখনই এই মার্কিন-ইরান সংলাপ চলছে। তবে তেহরান ইতোমধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবানন সীমান্তে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো অসম্ভব।
সূত্র: দ্য স্ট্রেট টাইমস, দ্য হিন্দু
চুক্তি ভাঙলে ব্যবস্থা, ইরানকে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সমঝোতার পরও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বরং চুক্তি বাস্তবায়ন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক শর্ত নিয়ে নতুন করে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দ্বিধা করবে না।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইরানের আচরণই ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার রক্ষা করা তেহরানের দায়িত্ব। অন্যথায়, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, ইরানের জন্য যেসব অর্থ অবমুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো মূলত খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানির মতো মানবিক খাতে ব্যয় করার উদ্দেশ্যেই দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অর্থের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতে ফিরে আসবে, কারণ ইরান এখনও নিজস্ব খাদ্য চাহিদা পূরণে পুরোপুরি সক্ষম নয়।
ট্রাম্প বলেন, প্রায় ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশ হিসেবে ইরানের খাদ্য নিরাপত্তা এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাই অবমুক্ত অর্থ খাদ্য আমদানিতে ব্যবহৃত হলে তা দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে তেহরান। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দোলনাসের হেম্মাতি জানিয়েছেন, বর্তমান সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য বা কৃষি উপকরণ কেনার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
তিনি বলেন, ইরান নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক প্রয়োজন বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে এবং অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাইরের কোনো একক শর্ত মেনে চলতে বাধ্য নয়।
এদিকে সংঘাত-পরবর্তী নতুন বাস্তবতায় হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়েও শক্ত অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং আলোচনায় নেতৃত্বদানকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দেশে ফিরে ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে এবং এটি আর কখনও যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না।
গালিবাফ বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এই কৌশলগত জলপথের তত্ত্বাবধান অব্যাহত রাখবে। তার মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইরানের ভূমিকা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
-রফিক
সুইজারল্যান্ডে সফল বৈঠক: হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচলে রাজি ইরান
দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে ইরানের তেল বিক্রির ওপর সাময়িক ছাড় দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) এ লক্ষ্যে ৬০ দিনের জন্য একটি বিশেষ সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে। নতুন এই নির্দেশনার ফলে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়াম এবং পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য উৎপাদন, সরবরাহসহ আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করার আইনি বৈধতা সচল থাকবে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে দুই দেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক আলোচনা চলছে। সেই আলোচনার সূত্র ধরেই ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক ও সাধারণ নৌ-চলাচল সম্পূর্ণ অবাধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর পাশাপাশি তেহরান তাদের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক তদারকি জোরদার করতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের সে দেশে প্রবেশ ও পরিদর্শনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। ইরানের এই ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রশাসন তেল রপ্তানির ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত নেয়।
মার্কিন অর্থ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্মকর্তা স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান প্রশাসন বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সুইজারল্যান্ডে চলমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার অংশ হিসেবেই ট্রেজারি বিভাগ ইরানি তেলের উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণনের পথ সুগম করতে ৬০ দিনের এই অস্থায়ী লাইসেন্স ইস্যু করেছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে ও একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই এই অন্তর্বর্তীকালীন অর্থনৈতিক ছাড় দেওয়া হলো।
সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে সম্পাদিত প্রাথমিক সমঝোতা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথম দফার এই বৈঠকটি ইতিবাচকভাবে শেষ হয়েছে। দুই পক্ষের আলোচনার মূল ভিত্তির মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা ও তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ৬০ দিনের এই নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মার্কিন প্রশাসন ইরানের ব্যাপারে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেবে কিংবা এই লাইসেন্সের মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
সূত্র : আল জাজিরা
ঝটিকা সফরে পাকিস্তান যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার আবহেই হঠাৎ করে একদিনের সফরে আগামীকাল (২৩ জুন) পাকিস্তানে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পর এটিই প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের প্রথম বিদেশ সফর।
সোমবার (২২ জুন) ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের জনসংযোগ মহাপরিচালক হাবিব আব্বাসী দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সফরটি সংক্ষিপ্ত এবং সম্ভবত একদিনের হবে।
হাবিব আব্বাসী আরও জানান, পাকিস্তান সফরে মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হবেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। এর আগে গত বছরের আগস্টেও ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানে দ্বিপাক্ষিক সফরে গিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডে ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের কূটনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে এই ঝটিকা পাকিস্তান সফর আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি,সিএনএন।
তীব্র চাপের মুখে বিদায় নিলেন স্টারমার, কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অবশেষে সেই অবধারিত ঘটনাই ঘটল। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা, দলের অভ্যন্তরীণ প্রবল চাপ এবং দেশজুড়ে কমতে থাকা জনপ্রিয়তার মুখে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তার এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে লেবার পার্টির নেতৃত্বে এবং দেশের শাসনভারে এক বড় ধরনের পালাবদলের পথ প্রশস্ত হলো। আর এই দৌড়ে ডাউনিং স্ট্রিটের পরবর্তী বাসিন্দা হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম, যাকে এখন ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রায় নিশ্চিত ধরে নেওয়া হচ্ছে।
স্টারমারের এই বিদায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই তার সরকারের প্রতি জনসমর্থনে ধস নামতে শুরু করে। নির্বাচনী প্রচারণায় এড়িয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকটগুলো সামনে এনে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার যখন কর বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের মতো অজনপ্রিয় নীতি গ্রহণ করে, তখন থেকেই ভোটাররা ক্ষুব্ধ হতে শুরু করেন।
তবে তার সরকারের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকা হয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। জেফরি এপস্টেইনের বিতর্কিত বন্ধু পিটার ম্যান্ডেলসনকে আমেরিকায় ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে গোটা দেশে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে, যেখানে লেবার পার্টি এক ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। ফলস্বরূপ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং-সহ দলের প্রায় ১০০ জন এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি তোলেন।
স্টারমারের পদত্যাগের ফলে এখন লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রেডিকশন মার্কেট বা বেটিং বাজারগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ডি বার্নহামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা এখন রেকর্ড ৯৫ শতাংশ। লেবার পার্টির ‘কিং অব দ্য নর্থ’ খ্যাত বার্নহাম সম্প্রতি তার রাজনৈতিক সক্ষমতার এক বিশাল প্রমাণ দিয়েছেন। গত ১৮ জুন মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে তিনি এক দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে আনেন। স্থানীয় নির্বাচনে এই আসনটিতে ডানপন্থী পপুলিস্ট দল ‘রিফর্ম ইউকে’ একচেটিয়া জয় পেলেও, উপ-নির্বাচনে বার্নহাম ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তাদের সহজেই পরাজিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমেই তিনি পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন এবং দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি যোগ্যতা অর্জন করেন।
নেতৃত্ব নির্বাচনের এই লড়াইয়ে বার্নহামের পাশাপাশি ওয়েস স্ট্রিটিং বা সাবেক সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নসের মতো নেতারাও মাঠে নামতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্ট্রিটিংয়ের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশ। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন নেতা হতে হলে প্রার্থীদের লেবার পার্টির ৪০৩ জন এমপির মধ্যে অন্তত ৮১ জনের সমর্থন নিশ্চিত করে মনোনয়ন পেতে হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের সাধারণ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সদস্যদের সরাসরি ভোটে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ বলছে, সাধারণ দলের সদস্যদের মাঝে বার্নহাম বিপুল ব্যবধানে জনপ্রিয় এবং তিনি অনায়াসেই এই নির্বাচনে জয়লাভ করবেন।
তবে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের চাবি হাতে পেলেও অ্যান্ডি বার্নহামের সামনের পথ কুসুমাস্তীর্ণ হবে না। ইউগভের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মে থেকে জুনের মধ্যে সাধারণ ব্রিটিশ নাগরিকদের কাছে বার্নহামের প্রতি অনীহার হার ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা তার জন্য একটি সতর্কবার্তা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাকে এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
একদিকে যেমন দেশের অভ্যন্তরে স্থবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে চাঙ্গা করার কঠিন কাজ তার কাঁধে পড়বে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে—বিশেষ করে একজন খামখেয়ালি আমেরিকান প্রেসিডেন্টের সাথে ব্রিটেনের কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার মতো অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতিও তাকে অত্যন্ত সাবধানে সামলাতে হবে। দেশ পরিচালনার এই নতুন অধ্যায়ে বার্নহাম কতটুকু সফল হবেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা যুক্তরাজ্য।
সূত্র: দ্য ইকোনোমিস্ট।
পাঠকের মতামত:
- বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ‘সবুজ পাতায়’ যুক্ত হচ্ছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু প্রকল্প
- ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, তা নিয়ে মুখ খুললেন লিওনেল মেসি
- করের নতুন নিয়ম ১ জুলাই থেকে, যেসব ফিতে বাড়ছে ২০ শতাংশ টিডিএস
- হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ থেকে টোল নিচ্ছে না ইরান: ট্রাম্প
- খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ইরানের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ
- ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ভ্যাটের আওতায় আসছে নতুন ১৬ ব্যবসা খাত: অর্থমন্ত্রী
- চীনের ডালিয়ান থেকে বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী
- ২৪ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ২৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- চরভদ্রাসনে বিএনপির মৌন মিছিল, শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনীতির প্রতিবাদ
- ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ নাজিরপুরে মাদক নির্মূলে মানববন্ধন
- বিশ্বকাপ থেকে আরও ৫ দলের বিদায়
- আজ থেকেই নতুন দর, কত টাকায় মিলবে এক ভরি সোনা
- কোন বয়সী শিশুরা পাবে ভিটামিন ‘এ’? জেনে নিন কবে থেকে শুরু
- চীনে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিলেন তারেক রহমান
- ভ্যাটসহ সোনার নতুন দাম প্রকাশ, কত বাড়ল-কমল
- আজ রাতের বিশ্বকাপ সূচিতে চার হাইভোল্টেজ ম্যাচ, জানুন পূর্ণ সূচি
- আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, জেনে নিন সব সময়
- বুধবার বন্ধ থাকবে যমুনা ফিউচার পার্কসহ যেসব মার্কেট
- সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকবে এসব এলাকা
- বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন মোড়, হতে পারে ১৭ চুক্তি
- ইরান যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করল সিনেট
- জলবায়ু ‘ক্ষয়ক্ষতি তহবিল’ দ্রুত কার্যকরের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- লন্ডনে সিলেট-চট্টগ্রাম উৎসব ইউকে ২০২৬ আয়োজনে প্রথম সভা ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠিত
- দেবিদ্বারে বিএনপি সরকারের উন্নয়ন: শেষ হচ্ছে বল্লভপুর-উজানী কান্দি-মধু মুরা সড়কের কাজ
- নানিয়ারচর জোন কর্তৃক দরিদ্র পরিবারের মাঝে পানির ট্যাংকি বিতরণ
- বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২: দ্বিতীয় রাউন্ডে যাদের বিপক্ষে খেলতে পারে আর্জেন্টিনা
- বিএনপি ফ্যাসিবাদের রাজপথ ধরে হাঁটছে: জামায়াত আমির
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ
- ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর
- দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনা নিয়ে মুখ খুলল ভারত
- রাফিনিয়ার জায়গায় একাদশে নেইমার, তবে প্রথাগত উইঙ্গার নয় খেলবেন নতুন ভূমিকায়!
- ইরানের বুকে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের আগে মার্কিন পাইলটের রহস্যময় দাবি
- হ্যারি কেইনকে রুখতে ঘানার ‘কালো জাদু’! ব্রিটিশ মিডিয়ার রিপোর্টে তোলপাড় বিশ্ব ফুটবল
- আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে: তথ্য উপদেষ্টা
- ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর ইরানি প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট: মধ্যপ্রাচ্য শান্তিতে নতুন সংকট
- বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন সুপ্রিম কোর্টের ১৭ সরকারি আইনজীবী
- ২৩ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ২৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- এক ম্যাচে মেসির ৪ নতুন রেকর্ড, কাঁপছে বিশ্বকাপ ইতিহাস
- মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান-পেট্রোনাস বৈঠক, বাড়ছে জ্বালানি সহযোগিতা
- চুক্তি ভাঙলে ব্যবস্থা, ইরানকে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি
- পতিত শক্তিকে আর ফিরতে দেওয়া হবে না: রিজভী
- বাজারে অস্থিরতা, আবারও বাড়ল স্বর্ণের মূল্য
- ২৩ জুন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় জানুন এক নজরে
- ৪ মাস পর হরমুজ পাড়ি দিল এমভি বাংলার জয়যাত্রা
- মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- বিশ্বকাপসহ আজ কোন ম্যাচ কখন? ফুটবল-ক্রিকেটের পূর্ণ সূচি
- শিক্ষকের মর্যাদা ও প্রশাসনিক সংস্কৃতির সীমারেখা
- আজকের খেলার সূচি: বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে ওভাল টেস্ট
- ইরান চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তোপ
- হরমুজে টোল নিলে যুক্তরাষ্ট্রই আদায় করবে: ট্রাম্প
- স্পেন-সৌদি আরবসহ আজ বিশ্বকাপের বড় ছয় লড়াই, এক নজরে পূর্ণ সূচি
- বিশ্বকাপে গোলযুদ্ধে ব্রাজিল-জার্মানির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
- ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬: টিভি ও মোবাইলে দেখার উপায়
- রেকর্ড ভেঙে স্বর্ণের নতুন লাফ: দুদিনের মাথায় দামের এই রেকর্ড লাফের পেছনের রহস্য কী?
- ১৮ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য যেসব সুবিধা বাড়ানো হয়েছে
- ১৮ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর ও বেইজিং—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেগা সফরে যা কিছু থাকছে
- ২১ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- অবসরের ১১ বছর পর ফুটবল মাঠে ফিরছেন কিংবদন্তি রোনালদিনহো
- রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত








