জনপ্রিয়তায় ধস ট্রাম্পের: ইরান যুদ্ধ ও তেলের দামে দিশেহারা মার্কিন জনতা

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর জনপ্রিয়তার চরম সংকটে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে তাঁর জনসমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ৩৬ শতাংশে। রয়টার্স ও ইপসোস-এর সাম্প্রতিক এক যৌথ জনমত জরিপে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার (২৩ মার্চ ২০২৬) শেষ হওয়া চার দিনব্যাপী এই জরিপে দেখা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ট্রাম্পের প্রতি সন্তুষ্টির হার ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রল ও গ্যাসোলিনের দাম আকাশচুম্বী হতে শুরু করে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ মার্কিনিদের জীবনযাত্রায়।
জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকাকে সমর্থন করছেন। অথচ ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই ইস্যুটিই ছিল তাঁর তুরুপের তাস। এছাড়া দেশের অর্থনীতি পরিচালনায় তাঁর ওপর আস্থা রাখছেন মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ, যা তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেনের আমলের যেকোনো সময়ের চেয়েও কম।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘অহেতুক যুদ্ধে’ জড়াবেন না—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু করাটাই ট্রাম্পের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে হামলার বিপক্ষে মত দিয়েছেন।
যদিও ট্রাম্প দাবি করছেন যুদ্ধ শীঘ্রই শেষ হবে, তবে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম প্রায় এক ডলার বাড়ায় বর্তমানে ৬৩ শতাংশ মার্কিনি দেশের অর্থনীতিকে অত্যন্ত দুর্বল বলে মনে করছেন। রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে তাঁর অবস্থান এখনো শক্তিশালী থাকলেও, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে নিজ দলের সমর্থকদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে।
/আশিক
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর ইরানি প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট: মধ্যপ্রাচ্য শান্তিতে নতুন সংকট
দীর্ঘদিন ধরে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে শুরু হওয়া বহুল আলোচিত শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কড়া ও হুমকিমূলক বক্তব্যের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে সুইজারল্যান্ডের আলোচনাস্থল সাময়িকভাবে ত্যাগ করেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে যখন দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি কড়া বার্তা দেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরান যদি তার মিত্র সংগঠন হিজবুল্লাহকে লজিস্টিক ও সামরিক সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখে, তবে তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে ওয়াশিংটন। এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এর কিছুক্ষণ পরেই আলোচনার টেবিল থেকে ওয়াকআউট করেন ইরানি প্রতিনিধিরা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এই নাটকীয় খবরটি নিশ্চিত করেছে।
আইআরএনএ-এর বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠক শেষ করার পরপরই ইরানি প্রতিনিধি দল আলোচনার মূল ভেন্যু ছেড়ে চলে যায়। প্রায় একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে আরেকটি পোস্ট করেন। তবে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক মহলের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান এখনই এই শান্তি আলোচনা পুরোপুরি বয়কট বা বন্ধ করেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কূটনীতিক জানান, ইরানি প্রতিনিধি দল এখনো সুইজারল্যান্ডেই অবস্থান করছে এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা জারি রেখেছে; তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপ ত্যাগের কোনো চূড়ান্ত ইঙ্গিত দেয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির জবাবে অত্যন্ত কড়া ভাষায় পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেন, মার্কিন প্রশাসনের নিজেদের বক্তব্যের বিষয়ে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সতর্ক হওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং প্রয়োজন হলে সামরিক উপায়ে ভিন্নভাবে জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তারা বাইরে যা-ই বলুক না কেন, মাঠের কাজ ইরান নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ীই করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে দশকের পর দশক ধরে চলা এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে শুরু হওয়া এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সফল হলে, পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে কয়েক যুগের অমীমাংসিত পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো বড় বড় ইস্যুগুলো নিয়ে একটি বিস্তৃত ও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পথ খুলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু এই অগ্রগতির পথে এখনো লেবাননে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং উভয় পক্ষের অনমনীয় অবস্থান বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এরই মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ দমনে ইসরায়েলি সেনারা ‘যতদিন প্রয়োজন’ ততদিন অবস্থান করবে এবং তারা কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না। অপরদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, প্রথম দফার দীর্ঘ আলোচনার শুরুর ৮০ মিনিটে পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি টেবিল জুড়েই আসেনি। বরং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন এবং লেবাননের জ্বলন্ত পরিস্থিতিই ছিল দুই পক্ষের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
এই সংলাপকে অত্যন্ত ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বেশ কিছু কৌশলগত প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে কি দুই দেশের মধ্যে শত্রুতার অবসান ঘটে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে? মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক কি চিরতরে বদলে দেওয়া সম্ভব, নাকি পরিস্থিতি আবার পুরোনো সংঘাতের পথেই ফিরে যাবে? বর্তমানে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার ভয়াবহ যুদ্ধ যখন পুরো অঞ্চলকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলেছে, ঠিক তখনই এই মার্কিন-ইরান সংলাপ চলছে। তবে তেহরান ইতোমধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবানন সীমান্তে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো অসম্ভব।
সূত্র: দ্য স্ট্রেট টাইমস, দ্য হিন্দু
চুক্তি ভাঙলে ব্যবস্থা, ইরানকে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সমঝোতার পরও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বরং চুক্তি বাস্তবায়ন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক শর্ত নিয়ে নতুন করে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দ্বিধা করবে না।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইরানের আচরণই ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার রক্ষা করা তেহরানের দায়িত্ব। অন্যথায়, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, ইরানের জন্য যেসব অর্থ অবমুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো মূলত খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানির মতো মানবিক খাতে ব্যয় করার উদ্দেশ্যেই দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অর্থের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতে ফিরে আসবে, কারণ ইরান এখনও নিজস্ব খাদ্য চাহিদা পূরণে পুরোপুরি সক্ষম নয়।
ট্রাম্প বলেন, প্রায় ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশ হিসেবে ইরানের খাদ্য নিরাপত্তা এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাই অবমুক্ত অর্থ খাদ্য আমদানিতে ব্যবহৃত হলে তা দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে তেহরান। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দোলনাসের হেম্মাতি জানিয়েছেন, বর্তমান সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য বা কৃষি উপকরণ কেনার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
তিনি বলেন, ইরান নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক প্রয়োজন বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে এবং অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাইরের কোনো একক শর্ত মেনে চলতে বাধ্য নয়।
এদিকে সংঘাত-পরবর্তী নতুন বাস্তবতায় হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়েও শক্ত অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং আলোচনায় নেতৃত্বদানকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দেশে ফিরে ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে এবং এটি আর কখনও যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না।
গালিবাফ বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এই কৌশলগত জলপথের তত্ত্বাবধান অব্যাহত রাখবে। তার মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইরানের ভূমিকা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
-রফিক
সুইজারল্যান্ডে সফল বৈঠক: হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচলে রাজি ইরান
দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে ইরানের তেল বিক্রির ওপর সাময়িক ছাড় দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) এ লক্ষ্যে ৬০ দিনের জন্য একটি বিশেষ সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে। নতুন এই নির্দেশনার ফলে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়াম এবং পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য উৎপাদন, সরবরাহসহ আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করার আইনি বৈধতা সচল থাকবে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে দুই দেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক আলোচনা চলছে। সেই আলোচনার সূত্র ধরেই ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক ও সাধারণ নৌ-চলাচল সম্পূর্ণ অবাধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর পাশাপাশি তেহরান তাদের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক তদারকি জোরদার করতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের সে দেশে প্রবেশ ও পরিদর্শনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। ইরানের এই ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রশাসন তেল রপ্তানির ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত নেয়।
মার্কিন অর্থ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্মকর্তা স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান প্রশাসন বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সুইজারল্যান্ডে চলমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার অংশ হিসেবেই ট্রেজারি বিভাগ ইরানি তেলের উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণনের পথ সুগম করতে ৬০ দিনের এই অস্থায়ী লাইসেন্স ইস্যু করেছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে ও একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই এই অন্তর্বর্তীকালীন অর্থনৈতিক ছাড় দেওয়া হলো।
সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে সম্পাদিত প্রাথমিক সমঝোতা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথম দফার এই বৈঠকটি ইতিবাচকভাবে শেষ হয়েছে। দুই পক্ষের আলোচনার মূল ভিত্তির মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা ও তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ৬০ দিনের এই নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মার্কিন প্রশাসন ইরানের ব্যাপারে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেবে কিংবা এই লাইসেন্সের মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
সূত্র : আল জাজিরা
ঝটিকা সফরে পাকিস্তান যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার আবহেই হঠাৎ করে একদিনের সফরে আগামীকাল (২৩ জুন) পাকিস্তানে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পর এটিই প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের প্রথম বিদেশ সফর।
সোমবার (২২ জুন) ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের জনসংযোগ মহাপরিচালক হাবিব আব্বাসী দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সফরটি সংক্ষিপ্ত এবং সম্ভবত একদিনের হবে।
হাবিব আব্বাসী আরও জানান, পাকিস্তান সফরে মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হবেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। এর আগে গত বছরের আগস্টেও ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানে দ্বিপাক্ষিক সফরে গিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডে ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের কূটনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে এই ঝটিকা পাকিস্তান সফর আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি,সিএনএন।
তীব্র চাপের মুখে বিদায় নিলেন স্টারমার, কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অবশেষে সেই অবধারিত ঘটনাই ঘটল। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা, দলের অভ্যন্তরীণ প্রবল চাপ এবং দেশজুড়ে কমতে থাকা জনপ্রিয়তার মুখে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তার এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে লেবার পার্টির নেতৃত্বে এবং দেশের শাসনভারে এক বড় ধরনের পালাবদলের পথ প্রশস্ত হলো। আর এই দৌড়ে ডাউনিং স্ট্রিটের পরবর্তী বাসিন্দা হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম, যাকে এখন ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রায় নিশ্চিত ধরে নেওয়া হচ্ছে।
স্টারমারের এই বিদায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই তার সরকারের প্রতি জনসমর্থনে ধস নামতে শুরু করে। নির্বাচনী প্রচারণায় এড়িয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকটগুলো সামনে এনে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার যখন কর বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের মতো অজনপ্রিয় নীতি গ্রহণ করে, তখন থেকেই ভোটাররা ক্ষুব্ধ হতে শুরু করেন।
তবে তার সরকারের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকা হয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। জেফরি এপস্টেইনের বিতর্কিত বন্ধু পিটার ম্যান্ডেলসনকে আমেরিকায় ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে গোটা দেশে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে, যেখানে লেবার পার্টি এক ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। ফলস্বরূপ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং-সহ দলের প্রায় ১০০ জন এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি তোলেন।
স্টারমারের পদত্যাগের ফলে এখন লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রেডিকশন মার্কেট বা বেটিং বাজারগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ডি বার্নহামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা এখন রেকর্ড ৯৫ শতাংশ। লেবার পার্টির ‘কিং অব দ্য নর্থ’ খ্যাত বার্নহাম সম্প্রতি তার রাজনৈতিক সক্ষমতার এক বিশাল প্রমাণ দিয়েছেন। গত ১৮ জুন মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে তিনি এক দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে আনেন। স্থানীয় নির্বাচনে এই আসনটিতে ডানপন্থী পপুলিস্ট দল ‘রিফর্ম ইউকে’ একচেটিয়া জয় পেলেও, উপ-নির্বাচনে বার্নহাম ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তাদের সহজেই পরাজিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমেই তিনি পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন এবং দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি যোগ্যতা অর্জন করেন।
নেতৃত্ব নির্বাচনের এই লড়াইয়ে বার্নহামের পাশাপাশি ওয়েস স্ট্রিটিং বা সাবেক সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নসের মতো নেতারাও মাঠে নামতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্ট্রিটিংয়ের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশ। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন নেতা হতে হলে প্রার্থীদের লেবার পার্টির ৪০৩ জন এমপির মধ্যে অন্তত ৮১ জনের সমর্থন নিশ্চিত করে মনোনয়ন পেতে হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের সাধারণ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সদস্যদের সরাসরি ভোটে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ বলছে, সাধারণ দলের সদস্যদের মাঝে বার্নহাম বিপুল ব্যবধানে জনপ্রিয় এবং তিনি অনায়াসেই এই নির্বাচনে জয়লাভ করবেন।
তবে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের চাবি হাতে পেলেও অ্যান্ডি বার্নহামের সামনের পথ কুসুমাস্তীর্ণ হবে না। ইউগভের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মে থেকে জুনের মধ্যে সাধারণ ব্রিটিশ নাগরিকদের কাছে বার্নহামের প্রতি অনীহার হার ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা তার জন্য একটি সতর্কবার্তা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাকে এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
একদিকে যেমন দেশের অভ্যন্তরে স্থবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে চাঙ্গা করার কঠিন কাজ তার কাঁধে পড়বে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে—বিশেষ করে একজন খামখেয়ালি আমেরিকান প্রেসিডেন্টের সাথে ব্রিটেনের কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার মতো অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতিও তাকে অত্যন্ত সাবধানে সামলাতে হবে। দেশ পরিচালনার এই নতুন অধ্যায়ে বার্নহাম কতটুকু সফল হবেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা যুক্তরাজ্য।
সূত্র: দ্য ইকোনোমিস্ট।
মার্কিন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পাল্টা জবাব? হরমুজ প্রণালিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন স্নায়ুযুদ্ধ
হরমুজ প্রণালিতে চলমান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদে কোনো ধরনের নৌ-টোল বা ফি আরোপ করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ব্যয় মেটাতে ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন নিজেই এই নৌপথে ফি বা ট্যাক্স আরোপ করতে পারে বলে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২০ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কোনো টোল থাকবে না। যদি না তা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আরোপ করা হয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৬০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন সময় শেষ হওয়ার পরও যদি কোনো স্থায়ী সমাধান বা চূড়ান্ত চুক্তি না হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিভাবকসুলভ ভূমিকা পালন করে আসছে, তার ব্যয় আদায়ের জন্য এই টোল বা ফি আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হতে পারে।
ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের একটি সাম্প্রতিক ঘোষণার পরই ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দিলেন। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে এবং লেবাননে ইসরায়েল কর্তৃক যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের কারণে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে।
তবে ইরানের এই দাবিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুক্তির সব শর্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সেন্টকম সতর্ক ও সক্রিয় রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স ইরানকে ইঙ্গিত করে সাফ জানিয়ে দেন, “হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে নেই।”
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জ্বালানি পরিবহন রুট। বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বিশাল অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই নৌপথকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বা অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ: ট্রাম্প-নেতানিয়াহু জোটে ফাটল ধরাতে লেবাননকে অস্ত্র বানাচ্ছে ইরান
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের চলমান সামরিক হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক জটিল কৌশলগত খেলা শুরু হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তেহরান মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অবিচ্ছেদ্য ও কৌশলগত জোটে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে। ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের মধ্যকার নীতিগত দূরত্ব তৈরি করতে ইরান লেবানন সংকটকে একটি প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
অস্ট্রিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুশতাই আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান বর্তমানে লেবানন পরিস্থিতিকে এমন একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে, যার লক্ষ্য ইসরাইলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যকার ফাটলকে আরও চওড়া করা। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) নিয়ে ইসরাইলি প্রশাসনের ক্ষোভ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বিঘ্নিত করার যে কোনো চেষ্টাই এই ফাটলকে স্পষ্ট করছে।
আপাতদৃষ্টিতে তেহরানের উদ্দেশ্য দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন সম্পূর্ণ বন্ধ করা মনে হলেও, পর্দার আড়ালের বাস্তবতা ভিন্ন। তেহরান, বৈরুত, হিজবুল্লাহ এবং খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও জানেন যে ইসরাইলি আক্রমণ পুরোপুরি থামানো এই মুহূর্তে বাস্তবসম্মত নয়। কারণ নিজেদের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়লে ইসরাইল অবশ্যই পাল্টা আঘাত করবে। তবে বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ ও কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখতে ইসরাইল সাময়িকভাবে শান্ত থাকার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু যেকোনো উসকানির মুখে তারা প্রতিশোধ নিতে দ্বিধা করবে না। এই জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক পরিস্থিতিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দুর্বল করার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে ইরান, যার মূল লক্ষ্য দুই পরম মিত্রের সামরিক ও রাজনৈতিক জোটে স্থায়ী চির ধরানো।
/আশিক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার পরমাণু আলোচনা সুইজারল্যান্ডে শুরু
কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার কূটনৈতিক আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে আলোচনায় অংশ নিতে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে পৌঁছায়।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, এই বৈঠকগুলো সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU)-এ অন্তর্ভুক্ত সমস্ত বিষয়কে কার্যকর করে একটি সর্বাত্মক ও স্থায়ী চুক্তি অর্জনের পথ সুগম করবে। বিবৃতিতে বলা হয়, "আমরা আশা করছি, এই বৈঠকগুলো সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত সমস্ত বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ব্যাপক ও স্থায়ী চুক্তি সম্পাদনের দিকে এগিয়ে যাবে।"
এর আগে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। ওই সমঝোতায় সব ফ্রন্টে পারস্পরিক শত্রুতা বন্ধ করা, ধাপে ধাপে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের এই নতুন দফার বৈঠককে সেই সমঝোতা বাস্তবায়ন এবং একটি চূড়ান্ত ও দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র : আল জাজিরা
ইরান চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তোপ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বহু দশকের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক নতুন এক পরীক্ষার মুখে পড়েছে। ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নজিরবিহীন মতপার্থক্য প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বিশেষ করে ইসরাইলি রাজনৈতিক মহল, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত একাধিক সম্পাদকীয়তে ট্রাম্পকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি ইসরাইলকে তার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি একা ফেলে দিয়েছেন এবং যুদ্ধের মাঝপথে অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।
দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী দৈনিক ইসরাইল হায়োম ট্রাম্পের সমালোচনায় অত্যন্ত কড়া ভাষা ব্যবহার করেছে। পত্রিকাটির এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন এবং এমন একটি সমঝোতায় গিয়েছেন, যা ইসরাইলের নিরাপত্তা উদ্বেগকে উপেক্ষা করেছে।
ওই সম্পাদকীয়তে আরও দাবি করা হয়, এই সমঝোতা একটি নতুন আঞ্চলিক সংকটের বীজ বপন করেছে এবং এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হলো ‘বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি’। দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে দেখে আসা ইসরাইলি জনগণের একাংশ এখন সেই অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদদের মতে, কিছুদিন আগেও ট্রাম্প ইসরাইলের অন্যতম জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তবে ইরান চুক্তির পর তার জনপ্রিয়তায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বর্তমান সংকট শুধু একটি চুক্তিকে কেন্দ্র করে নয়; বরং এটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে দেশটির প্রধান মিত্র হিসেবে কাজ করেছে। সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তায় ওয়াশিংটন সব সময়ই তেল আবিবের পাশে থেকেছে। তবে সাম্প্রতিক এই মতবিরোধকে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বড় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। পাশাপাশি হিজবুল্লাহসহ ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়েও তেল আবিবের উদ্বেগ রয়েছে।
কিন্তু নতুন সমঝোতার আওতায় যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এই অংশটিই সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে ফেলেছে ইসরাইলি নেতৃত্বকে।
সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১১ শতাংশ ইসরাইলি মনে করেন যে তারা এই সংঘাতে সফল হয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ৭১ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ভবিষ্যতে ইসরাইলের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারবে বলে তারা আর বিশ্বাস করেন না।
ইসরাইল সরকারের ভেতরেও মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি, তার মন্ত্রিসভার কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেছেন।
বিশেষ করে কট্টরপন্থি রাজনৈতিক নেতারা এই চুক্তিকে দুর্বল অবস্থান হিসেবে বর্ণনা করছেন। তাদের দাবি, এটি ভবিষ্যতে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনও ইসরাইলের এই প্রতিক্রিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, নেতানিয়াহু লেবানন ইস্যুতে ‘অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ’ হয়ে পড়েছেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সরাসরি ইসরাইলি নেতাদের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে থাকা ইসরাইলের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থানে থাকা একমাত্র বড় শক্তি এখনো যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র: আল-জাজিরা
পাঠকের মতামত:
- আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে: তথ্য উপদেষ্টা
- ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর ইরানি প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট: মধ্যপ্রাচ্য শান্তিতে নতুন সংকট
- বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন সুপ্রিম কোর্টের ১৭ সরকারি আইনজীবী
- ২৩ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ২৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- এক ম্যাচে মেসির ৪ নতুন রেকর্ড, কাঁপছে বিশ্বকাপ ইতিহাস
- মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান-পেট্রোনাস বৈঠক, বাড়ছে জ্বালানি সহযোগিতা
- চুক্তি ভাঙলে ব্যবস্থা, ইরানকে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি
- পতিত শক্তিকে আর ফিরতে দেওয়া হবে না: রিজভী
- বাজারে অস্থিরতা, আবারও বাড়ল স্বর্ণের মূল্য
- ২৩ জুন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় জানুন এক নজরে
- ৪ মাস পর হরমুজ পাড়ি দিল এমভি বাংলার জয়যাত্রা
- মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- বিশ্বকাপসহ আজ কোন ম্যাচ কখন? ফুটবল-ক্রিকেটের পূর্ণ সূচি
- মেসির হাই-ফাইভে ভাইরাল আর্জেন্টাইন সাংবাদিক কিন্তু কেন
- আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া: মুখোমুখি লড়াইয়ে কার পাল্লা ভারী, কী বলছে পরিসংখ্যান?
- সোমবার রাত থেকে আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ নিয়ে ‘দুঃসংবাদ’ দিল তিতাস
- রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত
- বিশ্বকাপে নেইমার যুগান্তকারী প্রত্যাবর্তন: সম্পন্ন করলেন প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন
- আজ ২২ জুন: ১৯৮৬ সালের এই দিনেই ফুটবল বিশ্ব দেখেছিল ম্যারাডোনার ঈশ্বরের হাত
- পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক তোলপাড়: মমতাকে সরিয়ে তৃণমূলের নতুন চেয়ারম্যান অরূপ রায়
- সুইজারল্যান্ডে সফল বৈঠক: হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচলে রাজি ইরান
- স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ: নতুন যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন
- নাম না নিয়ে সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপির সংসদ সদস্য
- আজ রাতে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা, মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে
- ঝটিকা সফরে পাকিস্তান যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
- লাল-সবুজ খাতায় নাম রাখছি, কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারক ও আইনজীবীদের হুমকি ইনুর
- ঝিনাইদহে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা: মাত্র ৭ কার্যদিবসে ঘাতকের মৃত্যুদণ্ড
- তীব্র চাপের মুখে বিদায় নিলেন স্টারমার, কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী
- মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- রেকর্ড ভেঙে স্বর্ণের নতুন লাফ: দুদিনের মাথায় দামের এই রেকর্ড লাফের পেছনের রহস্য কী?
- মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ নতুন সমীকরণ: পুত্রাজায়ার রুদ্ধদ্বার বৈঠক কি ঘুচাবে শ্রমবাজারের দীর্ঘদিনের সংকট?
- আর্জেন্টিনা নাকি অস্ট্রিয়া, কার জয়ের সম্ভাবনা কত? জানাল অপ্টা
- দেবিদ্বারে ইয়াবা সেবন: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪ জনের ২ মাসের জেল
- মুরাদনগরে নিখোঁজ অটোরিকশাচালকের লাশ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১
- প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অসত্য বক্তব্যের অভিযোগ, সংসদে মির্জা ফখরুল-নাহিদের বাগ্বিতণ্ডা
- এক হলুদ কার্ডেই ভাঙতে পারে বিশ্বকাপের স্বপ্ন; ফিফার নতুন টাইব্রেকার নিয়মে যা জানা গেল
- মার্কিন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পাল্টা জবাব? হরমুজ প্রণালিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন স্নায়ুযুদ্ধ
- সংসদ অধিবেশনে হঠাৎ উত্তাপ, হান্নান মাসুদের আচরণে ডেপুটি স্পিকারের কড়া হুঁশিয়ারি
- আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গুম করলাম: ট্রাইব্যুনালে সাবেক বডিগার্ডের চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য
- কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান
- মেসি বনাম নেইমার বিতর্ক: বার্সা তারকা ইয়ামালের চোখে কে সেরা, কে আদর্শ?
- রাশেদ খাঁনকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ গরুর সাথে গল্পের পরামর্শ এমপি হানজালার
- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ: ট্রাম্প-নেতানিয়াহু জোটে ফাটল ধরাতে লেবাননকে অস্ত্র বানাচ্ছে ইরান
- নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: সারা দেশে পুলিশ ও র্যাবের সর্বোচ্চ সতর্কতা
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার পরমাণু আলোচনা সুইজারল্যান্ডে শুরু
- কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: সিলেটের কানাইঘাটের ৫ প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত
- নানিয়ারচরে সেনা অভিযানে ১৩ লাখ টাকার সেগুন কাঠ উদ্ধার
- ২১ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- শিক্ষকের মর্যাদা ও প্রশাসনিক সংস্কৃতির সীমারেখা
- আজকের খেলার সূচি: বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে ওভাল টেস্ট
- ইরান চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তোপ
- হরমুজে টোল নিলে যুক্তরাষ্ট্রই আদায় করবে: ট্রাম্প
- বিশ্বকাপে গোলযুদ্ধে ব্রাজিল-জার্মানির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
- স্পেন-সৌদি আরবসহ আজ বিশ্বকাপের বড় ছয় লড়াই, এক নজরে পূর্ণ সূচি
- ১৭ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- রেকর্ড ভেঙে স্বর্ণের নতুন লাফ: দুদিনের মাথায় দামের এই রেকর্ড লাফের পেছনের রহস্য কী?
- ১৮ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬: টিভি ও মোবাইলে দেখার উপায়
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য যেসব সুবিধা বাড়ানো হয়েছে
- ১৮ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর ও বেইজিং—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেগা সফরে যা কিছু থাকছে
- ২১ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- অবসরের ১১ বছর পর ফুটবল মাঠে ফিরছেন কিংবদন্তি রোনালদিনহো








