স্বাধীনতা দিবসে যেসব সড়ক এড়িয়ে চলবেন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১৭:৩০:৩৫
স্বাধীনতা দিবসে যেসব সড়ক এড়িয়ে চলবেন
ছবি: সংগৃহীত

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। এ উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ এবং বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার নাগরিকদের যাতায়াত পরিকল্পনায় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।

ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় প্যারেড স্কয়ারকে ঘিরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে আগারগাঁও লাইট ক্রসিং থেকে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত বেগম রোকেয়া সরণি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংলগ্ন বীর উত্তম মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান সড়ক, শিশুমেলা ক্রসিং থেকে আগারগাঁও ক্রসিং পর্যন্ত সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ সড়ক এবং পুরাতন গণভবন এলাকা থেকে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত সংযোগ সড়ক।

একইভাবে বঙ্গভবনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলের বেশ কয়েকটি সড়কেও যান চলাচল সীমিত বা বন্ধ রাখা হবে। এর মধ্যে জিরোপয়েন্ট থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত আবরার ফাহাদ এভিনিউ, গুলিস্তান থেকে রাজউক পর্যন্ত ডিআইটি রোড, দৈনিক বাংলা মোড় থেকে রাজউক ক্রসিং, ফজলে রাব্বি সড়কের নির্দিষ্ট অংশ এবং দিলকুশা এলাকার বিভিন্ন সংযোগপথ অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে আয়োজিত কনসার্টকে ঘিরেও অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে এই এলাকায়ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প পথ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ডিএমপি বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। জাহাঙ্গীরগেট থেকে আগারগাঁও বা বিআইসিসি অভিমুখে চলাচলকারী যানবাহনকে বিজয় সরণি হয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিং ও লেক রোড ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। একইভাবে মিরপুর-১০ থেকে মহাখালী বা ফার্মগেটমুখী যানবাহনকে শিশুমেলা হয়ে মিরপুর রোড ব্যবহার করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফার্মগেট ও বিজয় সরণি এলাকা থেকে আগত যানবাহনের জন্য খেজুরবাগান হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে চলাচলের বিকল্প পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। ধানমণ্ডি থেকে মিরপুরমুখী যানবাহনকে রোকেয়া সরণি এড়িয়ে মিরপুর রোড ও টেকনিক্যাল মোড় হয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

একইভাবে মিরপুর, শ্যামলী ও শিশুমেলা এলাকা থেকে মহাখালীগামী যানবাহনকে বীর উত্তম আজিজুর রহমান সড়ক ব্যবহার না করে মানিক মিয়া এভিনিউ ও ফার্মগেট হয়ে বিকল্প পথে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

-রাফসান


জলবায়ু ‘ক্ষয়ক্ষতি তহবিল’ দ্রুত কার্যকরের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ২১:৫০:১৩
জলবায়ু ‘ক্ষয়ক্ষতি তহবিল’ দ্রুত কার্যকরের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

চীনের ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন অ্যা শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক সেশনে অংশ নিয়ে তিনি জলবায়ু ‘ক্ষয়ক্ষতি তহবিল’ (Loss and Damage Fund)-কে শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নকে আরও সহজলভ্য, শর্তহীন করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর জোর দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জলবায়ু সহনশীলতা তৈরিতে অর্থায়ন, প্রযুক্তি এবং যৌথ অঙ্গীকারের পাশাপাশি ‘সবুজ জলবায়ু তহবিল’ (Green Climate Fund)-কে কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কেবল প্রশমন (Mitigation) নয়, বরং অভিযোজনও (Adaptation) সমানভাবে অপরিহার্য। সম্মেলনস্থলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান এবং তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ডব্লিউইএফ-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। উল্লেখ্য, ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত চলমান ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’ প্রতিপাদ্যের এই সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ২০:১০:৫০
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ
ছবি : সংগৃহীত

চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান জভিংগি। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ডব্লিউইএফ-এর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা ডেল্টা রাষ্ট্র ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সহযোগিতায় ফোরামকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি জলবায়ু রক্ষায় বাংলাদেশের নেওয়া বিভিন্ন দূরদর্শী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫০ মিলিয়ন বৃক্ষরোপণের বিশাল উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ চলছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহ দিতে সৌরবিদ্যুতে কর-সুবিধা প্রদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশের এসব পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে আলোইস জভিংগি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগকে বৈশ্বিক পরিসরে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্ট আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের এই জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করবে। বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে তিনি ফোরামের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনা নিয়ে মুখ খুলল ভারত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ১৯:৪৮:০৯
দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনা নিয়ে মুখ খুলল ভারত
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে আটকে রাখা এবং অভিবাসন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনার প্রায় ৯ দিন পর অবশেষে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২৩ জুন) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেন যে, ডা. জাহেদকে শেষ পর্যন্ত ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তবে তিনি নিজেই আর প্রবেশ না করে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, গত ১৪ জুন ডা. জাহেদ উর রহমান একটি ব্যক্তিগত পাসপোর্ট এবং সার্ক (SAARC) ভিসা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারতে পৌঁছান। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (IORA) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ২৮তম বৈঠকে অংশ নেওয়া। তবে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেশটির অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) কর্মকর্তারা তাকে আটকে দেন এবং বেশ কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

রণধীর জয়সওয়াল আরও জানান, মূলত ভারতের একটি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ নজরদারি তালিকায় (Watchlist) ডা. জাহেদের নাম থাকায় অভিবাসন কর্মকর্তারা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে সাময়িকভাবে আটকে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে তার সফরের উদ্দেশ্য এবং পরিচয় পুনঃনিশ্চিত হওয়ার পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে দেশে প্রবেশের পূর্ণ অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিমানবন্দরে দীর্ঘক্ষণ আপত্তিকর আচরণের শিকার হওয়ার পর ক্ষুব্ধ ডা. জাহেদ নিজ সিদ্ধান্তেই আর ভারত সফর না বাড়িয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের একজন উচ্চপদস্থ সরকারি উপদেষ্টাকে দিল্লির বিমানবন্দরে এভাবে আটকে রাখার ঘটনায় ঢাকার কূটনৈতিক মহলে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। এই ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। সেই কূটনৈতিক প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটেই ঘটনার ৯ দিন পর ভারত সরকার এই আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ দিলো।

/আশিক


আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে: তথ্য উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ১৮:২৯:২২
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি : সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত দেশের আদালত তথা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিচার সম্পন্ন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সরকারের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সদ্য সমাপ্ত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও তৎপরতা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো মূলত একটি প্রতীকী কারণে মাঠে অবস্থান করছে। কারিগরি বা আইনি দিক থেকে বলতে গেলে, আওয়ামী লীগ চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ কি না, তা আদালতের রায়ের পর নির্ধারিত হবে। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগগুলো বিচারের মুখোমুখি রয়েছে। এই বিচারাধীন সময়ে দলটির যেকোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইন ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হবে। আর এমনটি ঘটলে সরকার আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, এখানে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠে নামার কোনো প্রয়োজন নেই।

আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনসমক্ষে আসার মতো কোনো নৈতিক সাহস দলটির নেতা-কর্মীদের নেই। যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের জন্য ন্যূনতম যে নৈতিক শক্তির প্রয়োজন হয়, তা তাদের হারিয়ে গেছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, দেশের মানুষের স্মৃতিভ্রম বা ডিমেনশিয়া না হওয়া পর্যন্ত এই দলের পক্ষে বড় গলায় কথা বলা সম্ভব নয়। অতীত কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি টেনে তিনি মন্তব্য করেন, কিছু চিহ্নিত লুটপাটকারী, মাফিয়া ও দুর্নীতিবাজদের পক্ষে কোনো রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

ব্রিফিংয়ের অপর এক অংশে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকালীন দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অচলাবস্থা কাটিয়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কার্গো জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’র (আইএমও: ৯৭৯৩৮২০) সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার খবর নিশ্চিত করেন তথ্য উপদেষ্টা। গত ১১৫ দিন ধরে পারস্য উপসাগরের চরম ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমায় আটকে থাকা বাংলাদেশি পতাকাবাহী এই জাহাজটির নিরাপদে মুক্ত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক রুট অতিক্রমের ঘটনাকে বিশ্ব নৌ-ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক বলে অভিহিত করেন তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান এই সফল অভিযানকে বিশ্ব মেরিটাইম ইতিহাসের অন্যতম সেরা ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট’ বা সংকট ব্যবস্থাপনার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সীমাহীন সাহসিকতা, সুনিপুণ নৌ-কৌশল এবং বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সার্বক্ষণিক কূটনৈতিক তৎপরতা ও দিকনির্দেশনার কারণেই এই চরম সংকটময় পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। জাহাজটির নিরাপদ প্রত্যাবর্তন দেশের সমুদ্র বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।

/আশিক


মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান-পেট্রোনাস বৈঠক, বাড়ছে জ্বালানি সহযোগিতা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ১১:১২:২২
মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান-পেট্রোনাস বৈঠক, বাড়ছে জ্বালানি সহযোগিতা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট মহল এই বৈঠককে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের একটি কৌশলগত অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।

সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি-লা হোটেলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অংশ নেন পেট্রোনাস গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডাতুক সাজালি হামজা। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের প্রথম মালয়েশিয়া সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

উচ্চপর্যায়ের এ আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ এবং একটি টেকসই অংশীদারত্ব কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি।

বৈঠকে পেট্রোনাসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে বাংলাদেশের দ্রুত শিল্পায়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের নীতিগত সংস্কার, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং জ্বালানি খাতের আধুনিকায়ন কার্যক্রমের বিষয়েও বিস্তারিত অবহিত করেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হলে বাংলাদেশের জন্য বহুমাত্রিক সুবিধা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে এলএনজি আমদানি, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি সংরক্ষণ অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রগুলোতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানির চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলাকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

-রফিক


পতিত শক্তিকে আর ফিরতে দেওয়া হবে না: রিজভী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ১০:৫৩:৫২
পতিত শক্তিকে আর ফিরতে দেওয়া হবে না: রিজভী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক প্রতিবাদ মিছিল থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তি নতুন করে সংগঠিত হয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এসব তৎপরতার মোকাবিলা করা হবে।

মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে বিএনপি এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মিছিলে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি নয়াপল্টন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নাইটিংগেল মোড় ঘুরে আবারও দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

রিজভী তার বক্তব্যে বলেন, দেশবিরোধী শক্তি বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ ব্যবহার করে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ব্যবহার করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে এবং এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে বাংলাদেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার কোনো সুযোগ নেই। জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের স্বাধীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর বাইরের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা অতীতেও ছিল এবং এখনও কিছু শক্তি সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তবে জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণে বাংলাদেশকে আর কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাববলয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও তারা নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবেন। পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করে যেকোনো সহিংসতা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তারা জানিয়েছেন।

-রফিক


৪ মাস পর হরমুজ পাড়ি দিল এমভি বাংলার জয়যাত্রা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ০৯:১৬:৪৭
৪ মাস পর হরমুজ পাড়ি দিল এমভি বাংলার জয়যাত্রা
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে আটকে থাকার পর অবশেষে স্বস্তির খবর পেল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে।

সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে জাহাজটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিরাপদে অতিক্রম করে। এর মাধ্যমে কয়েক মাস ধরে চলা অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংকটের একটি বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহের পর জাহাজটি পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু সদস্য সবাই নিরাপদ, সুস্থ এবং স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে অবস্থান করলেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

জাহাজটির এই যাত্রাপথের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এক সংকটময় অধ্যায়। ভারত থেকে পণ্য পরিবহন শেষে গত ফেব্রুয়ারিতে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। পরবর্তীতে কাতার থেকে স্টিল কয়েল সংগ্রহ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি।

কিন্তু ঠিক সেই সময় মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জাহাজটির নির্ধারিত রুটে চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।

পরবর্তীতে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের উদ্দেশ্যে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বহনের দায়িত্ব দেওয়া হলেও পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জাহাজটি সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে বাধ্য হয়।

একাধিকবার যাত্রার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা অনুমোদন না পাওয়ায় জাহাজটি গন্তব্যে রওনা হতে পারেনি। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম, সময়সূচি এবং পরিচালন ব্যয়ের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।

এ সময় বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র দপ্তর, নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সমন্বিত কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়।

পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এর ফলেই হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ তৈরি হয়।

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।

-রফিক


স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ: নতুন যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২২ ২০:০৬:০৫
স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ: নতুন যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন
ছবি : সংগৃহীত

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা জোরদার এবং শ্রমবাজারের আধুনিকায়নসহ বহুমুখী ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য জোট আরসিইপিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক সংগঠন আসিয়ানের সঙ্গে ঢাকার সম্পৃক্ততা বাড়াতে কুয়ালালামপুর পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সে দেশে সরকারি সফরকালে দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম মালয়েশিয়া যাত্রা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতা পারস্পরিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা দলিল ও প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি বিনিময় সম্পন্ন হয়। বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। এই সফরের অন্যতম প্রধান সাফল্য হলো প্রস্তাবিত মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) সংক্রান্ত আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের প্রতিশ্রুতি। উভয় পক্ষ ২০২৭ সালের মধ্যে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

দুই দেশের শীর্ষ নেতা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি বর্তমানের চেয়ে আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বৈঠকে উল্লেখ করা হয় যে, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হলো বাংলাদেশ। এই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে উভয় দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগের জন্য ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল’ (জেবিসি) গঠনের অগ্রগতির প্রশংসা করা হয়। বৈঠকে মূলত টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা, হালাল পণ্য শিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর খাত এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংসহ বিভিন্ন উদীয়মান খাতে যৌথ বিনিয়োগের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়।

কূটনৈতিক ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিশ্বের বৃহত্তম আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য জোট আরসিইপি (রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ)-এ যোগদানের জন্য বাংলাদেশের যে আগ্রহ ও আবেদন রয়েছে, তার প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছে মালয়েশিয়া। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে কুয়ালালামপুর জানিয়েছে, এই জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইনকে আরও মজবুত করবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এই জোরালো সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে সদস্যপদ লাভের জন্য প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে আসিয়ান জোটে বাংলাদেশের সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে কুয়ালালামপুর ঢাকার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।

উভয় প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি এবং শ্রমবাজারের বিদ্যমান পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায়। মালয়েশিয়ার জাতীয় অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের কথা দুই নেতাই ইতিবাচকভাবে স্বীকার করেন। কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া নতুন প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া জানিয়েছে, তাদের বর্তমান অভ্যন্তরীণ কোটা নীতি অনুসরণ করে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়া বর্তমান সময়ের বাস্তবতা ও চাহিদা বিবেচনা করে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান জনশক্তি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পরিমার্জন ও হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে একটি বিশেষ ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ (জেডব্লিউজি) গঠন করা হবে, যা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে নির্ভরযোগ্য এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া তদারকি করবে।

আধুনিক প্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফিনটেক, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের মতো ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই লক্ষ্যে দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা সংস্থার মধ্যে প্রযুক্তি ও জ্ঞান আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করা হবে। বাংলাদেশ তার হাইটেক পার্ক ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে মালয়েশীয় বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং ও টেস্টিং খাতে মালয়েশিয়ার যে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের প্রকৌশলবিদ্যার স্নাতকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের হালাল খাতের প্রসারে মালয়েশিয়ার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট বিভাগ (জাকিম) এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে যৌথ সনদ প্রদান, উদ্ভাবন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।

উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও পর্যটন খাতের উন্নয়নেও দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষারত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কথা উল্লেখ করে দুই প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অংশীদারিত্ব ও যৌথ গবেষণার পরিধি বাড়ানোর তাগিদ দেন। দুই দেশের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং শ্রমবাজারের উপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়নের বিষয়েও তারা একমত হন। এছাড়া মালয়েশিয়ার জাতীয় পর্যটন কর্মসূচি ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ এবং ‘মেডিকেল ট্যুরিজম ২০২৬’ এর আলোকেই দুই দেশের পর্যটন শিল্প ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়াতে যৌথ প্রচারণার বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করা হয়।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ সংক্রান্ত বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। বাংলাদেশ পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ার সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও অনাবিষ্কৃত খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সম্পূর্ণ কার্যকর করার অঙ্গীকার করা হয়। সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের উদ্দেশ্যে খুব শীঘ্রই ‘প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক যৌথ কমিটি’ (জেসিডিসি)-র বৈঠক আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন, যৌথ সামরিক মহড়া এবং আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও উগ্রবাদ দমনে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে দুই নেতা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এই সংকটের নিরাপদ ও স্থায়ী সমাধানের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশও আসিয়ান, ওআইসি এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বিশ্বমঞ্চে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালয়েশিয়ার অবিচল অবস্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধিকার রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশ আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে একযোগে কাজ করার এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সরকার ও প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

সূত্র: বাসস


মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২২ ১৮:১২:৪৮
মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় সফল সফর শেষে চীনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। দালিয়ান হয়ে বেইজিংয়ে শুরু হবে তার চীন সফরের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে চীনের দালিয়ানে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি দুই দিন অবস্থান করে বিশ্ব আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন। দালিয়ানের কর্মসূচি শেষে তিনি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে যাবেন, যেখানে তার সরকারি সফরের মূল কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায় কমপ্লেক্সের এক্সক্লুসিভ ভিআইপি টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলফিকলি হাসান ও তার সহধর্মিণী। এ সময় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম এবং ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার চার মাস পর এটি তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মালয়েশিয়ায় ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে সফর করলেও, চীন সফরে এই বহরে আরও একজন নতুন সদস্য যোগ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: