যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৫ কঠিন শর্ত: মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণে এবার তেহরানের পাল্টা চাল

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে মাসব্যাপী চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামনে পাঁচটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। সোমবার (২৩ মার্চ ২০২৬) হিব্রু সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া এই বিধ্বংসী যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের এই ‘পাল্টা চাল’ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবেই এই দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তাদের উত্থাপিত ৫টি দাবি পূরণ ছাড়া তারা যুদ্ধ বন্ধ করবে না। ইরানের এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—
প্রথমত, কেবল সাময়িক বিরতি নয়, বরং যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে।
তৃতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে তেহরান। চতুর্থত, যুদ্ধের ফলে ইরানের অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
পঞ্চমত, ইরান বিরোধী অপপ্রচারে লিপ্ত সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাদের ইরানের হাতে তুলে দেওয়ার শর্তারোপ করা হয়েছে।
এর আগে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে নিবিড় আলোচনায় লিপ্ত রয়েছে এবং ইরান বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে। তবে ইরানের এই ‘পাঁচ কঠিন শর্ত’ ওয়াশিংটন ও তেল আবিব কতটা মেনে নেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের সংশয় ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহারের মতো দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন এই পাঁচ শর্তের টেবিল আর রণক্ষেত্রের বাস্তবতার মাঝে দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে।
/আশিক
সৌদি ও কুয়েতে একের পর এক ড্রোন হামলা: উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থা
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) সকাল পর্যন্ত ইরান ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে সৌদি আরব, কুয়েত, ইসরায়েল এবং বাহরাইন লক্ষ্য করে একযোগে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে অগ্নিকাণ্ড এবং সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার ঘটনায় পুরো অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। হামলার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, কুয়েতে এক রাতেই সর্বোচ্চ ১৩ বার সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বেজেছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের পূর্বাঞ্চলে তারা কয়েক ডজন ড্রোন ও একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, কুয়েত ন্যাশনাল গার্ড অন্তত পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেও বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে ড্রোন আঘাত হানায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। একই সময়ে জর্ডানের রাজধানী আম্মানের দক্ষিণ উপকণ্ঠে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। বাহরাইনেও আকস্মিক হামলার সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল ও তেল আবিব এলাকাতেও হিজবুল্লাহ ও ইরানের বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ছে। লেবানন সীমান্ত থেকে ছোড়া প্রজেক্টাইলে কিরিয়াত শমোনা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলায় উত্তর ইসরায়েলে একজন নিহত এবং তেল আবিবের নিকটবর্তী এলাকায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমুখী সংঘাত এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র : আলজাজিরা
যুদ্ধবিরতিতে ইরানের ৫ কঠোর শর্ত
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর শর্ত উত্থাপন করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। হিব্রু ভাষার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়, যা আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার নতুন দিক নির্দেশ করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরান তার অবস্থান স্পষ্ট করে একটি আনুষ্ঠানিক দাবিপত্র উপস্থাপন করেছে। এই দাবিগুলো শুধু তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির বিষয় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক প্রভাব নিশ্চিত করার কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো যুদ্ধ বন্ধ হলে তা যেন পুনরায় শুরু না হয়, এ বিষয়ে একটি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা থাকতে হবে। তেহরান মনে করছে, অতীতের অভিজ্ঞতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের নজির থাকায় এই নিশ্চয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছে ইরান, যেখানে এই কৌশলগত জলপথের ওপর কার্যত তাদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত থাকবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়।
ইরানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো বা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা। তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই এই ঘাঁটিগুলোকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার উৎস হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।
যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং মানবিক ক্ষয়ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করাও ইরানের শর্তগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দাবির মাধ্যমে তারা যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন ব্যয় বহনে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করতে চাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বিতর্কিত শর্তগুলোর একটি হলো ইরানের বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ বা ‘প্রচারণামূলক’ কর্মকাণ্ডে জড়িত সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। ইরান চাইছে, এসব ব্যক্তিকে হয় তাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক অথবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।
এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইরান এই আলোচনায় ‘গুরুত্বসহকারে অংশ নিচ্ছে’। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের আলোচনার ব্যাপারে ভিন্ন অবস্থানও দেখা গেছে, যা কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। ফলে সংঘাত এখন একটি বহুমাত্রিক আঞ্চলিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর ও মিডল ইস্ট আই
আমরা এই যুদ্ধে জিতে গেছি; ওভাল অফিসে ট্রাম্পের বিজয় ঘোষণা
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে 'বিজয়' ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, গত কয়েক সপ্তাহের বিশেষ অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে তিনি এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছেন, চলমান শান্তি আলোচনা যদি সফল না হয়, তবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের মতে, কেবল ‘ফেক নিউজ’ মিডিয়াগুলোই এই যুদ্ধকে জিইয়ে রাখতে চাইছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন যে, বর্তমানে ইরানের কোনো নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী অবশিষ্ট নেই যা মার্কিন শক্তিকে রুখতে পারে। তিনি বলেন, "আমাদের বিমানগুলো এখন তেহরানসহ পুরো ইরানের আকাশে অনায়াসেই উড়ছে।
আমি যদি তাদের বিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ধ্বংস করতে চাই, তবে সেটি ঠেকানোর ক্ষমতা তাদের নেই।" যদিও গত ৯ মার্চ তিনি যুদ্ধকে ‘প্রায় সম্পন্ন’ বলেছিলেন এবং গত সপ্তাহান্তেও সোমবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে বিদ্যুৎকেন্দ্র নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিয়েছিলেন, তবে সোমবার সকালে তিনি তাঁর সুর কিছুটা নরম করেন। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র খাতিরে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও পাঁচ দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরান ইতোমধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি হয়েছে।
তবে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ঘনঘন সুর পরিবর্তন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি আসলে আলোচনার টেবিলে ইরানকে নমনীয় করার একটি সুপরিকল্পিত ‘মনস্তাত্ত্বিক চাপ’ বা কৌশল। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই স্নায়ুযুদ্ধ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা আগামী পাঁচ দিনের আল্টিমেটাম শেষে স্পষ্ট হবে।
/আশিক
ইসরায়েলের আকাশ অরক্ষিত, এখনই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক কৌশলের নতুন ধাপের ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে এখন পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময় এসে গেছে।
কালিবাফ তার বক্তব্যে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, যদি ইসরায়েল তার উচ্চ-সুরক্ষিত অঞ্চলগুলোতেও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা কেবল সামরিক দুর্বলতার ইঙ্গিত নয়; বরং এটি পুরো যুদ্ধের গতিপথে একটি মৌলিক পরিবর্তনের সূচক হতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কৌশলগত পুনর্বিন্যাস অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান এখন এমন একটি অবস্থানে রয়েছে, যেখানে পূর্বপ্রস্তুত পরিকল্পনাগুলো কার্যকর করার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে আরও বড় চাপে ফেলা সম্ভব।
এই বক্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব, সামরিক কমান্ডার এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা তারা ‘অঘোষিত ও বিনা উস্কানির যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করছে।
ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো বিমান হামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন, তবুও এই ঘটনাগুলো আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী একাধিক ধাপে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযানে অধিকৃত অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনা, পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত এই হামলাগুলো সংঘাতকে আরও বিস্তৃত মাত্রায় নিয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কালিবাফের এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক বার্তা নয়; বরং এটি একটি কৌশলগত সংকেত, যা ইরানের ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা তুলে ধরে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে ইরান প্রতিপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
তারা আরও মনে করছেন, যদি এই সংঘাত আরও তীব্র হয়, তবে এটি কেবল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারেও পড়বে।
সামগ্রিকভাবে, ইরানের এই বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র:তাসনিম নিউজ
মধ্যপ্রাচ্যে হার মানছে যুক্তরাষ্ট্র? ইরানের কাছে ১৫ দফার গোপন শান্তি প্রস্তাব
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে সুর নরম করতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ওয়াশিংটন কার্যত পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি গোপন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। যদিও এই পরিকল্পনার প্রতিটি দফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে আনা হয়নি।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই শান্তি প্রস্তাব তেহরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে পাকিস্তান নিজেই এই দুই বৈরী দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর তথ্যমতে, মার্কিন এই শান্তি প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং একে একটি ‘মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন।
বিনিময়ে ইরানকে দেওয়া বড় ধরনের সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এই খসড়া প্রস্তাবে। খবরে দাবি করা হয়েছে, তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এই ১৫টি শর্ত মেনে নেয়, তবে দেশটির ওপর দীর্ঘ সময় ধরে আরোপিত সব ধরনের কঠোর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কোনো দাপ্তরিক নথিপত্র দেখেনি এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই শান্তি প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
/আশিক
ইসরায়েলের হৃদপিণ্ডে আঘাত: বিমানবন্দরের জ্বালানি বিমানে ড্রোন হামলা চালাল ইরান
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ ও কৌশলগত রূপ ধারণ করেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ইরানের সেনাবাহিনীর বরাতে জানিয়েছে যে, তারা ইসরায়েলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর এবং হাইফা এলাকার প্রধান অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।
বিশেষ করে তেহরান দাবি করেছে যে, মঙ্গলবার ভোর থেকেই ড্রোন ব্যবহার করে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে থাকা জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানগুলোর ওপর সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হচ্ছে, যাতে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর অভিযান ব্যাহত করা যায়।
ইরানি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, কেবল বেসামরিক বিমানবন্দর নয়, তারা বিমানবন্দরের নিকটবর্তী সামরিক ও মহাকাশ শিল্প স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। এছাড়া উত্তর ইসরায়েলের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বন্দর নগরী হাইফাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এই হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়া। বেন গুরিয়নের মতো স্পর্শকাতর স্থানে ড্রোন হামলার এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ না দিলেও বিমানবন্দরের চারপাশে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই কৌশলগত ড্রোন হামলা ইসরায়েলের ‘আয়রণ ডোম’ ও অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
হাইফা ও তেল আবিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে একের পর এক হামলার ফলে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো ওই অঞ্চলে তাদের ফ্লাইট কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে।
/আশিক
ইলন মাস্কের স্টারলিংক-এর বিকল্প আনছে রাশিয়া: ৯০০ স্যাটেলাইটের মেগা প্রজেক্ট
মহাকাশ প্রযুক্তিতে নিজেদের সক্ষমতা জানান দিতে এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠান 'স্টারলিংক'-এর একাধিপত্য ভাঙতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) রাশিয়ার বেসরকারি মহাকাশ কোম্পানি ‘ব্যুরো-১৪৪০’ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, তারা মহাকাশে নতুন করে ১৬টি নিম্ন-কক্ষপথের (Low-Earth Orbit) স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) একটি মহাকাশযানের মাধ্যমে এই স্যাটেলাইটগুলোকে সফলভাবে রেফারেন্স কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে। মূলত ইলন মাস্কের স্টারলিংক-এর বিকল্প হিসেবে একটি শক্তিশালী রুশ বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ১৬টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে তারা পরীক্ষামূলক ধাপ পেরিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক যোগাযোগ সেবা গড়ে তোলার পথে এগিয়ে গেছে। রাশিয়ার লক্ষ্য হলো পৃথিবীর যেকোনো দুর্গম প্রান্ত থেকে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা। ‘রাশসভেত’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৭ সালের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তখন কক্ষপথে রাশিয়ার ২৫০টির বেশি স্যাটেলাইট অবস্থান করবে। রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে এই স্যাটেলাইটের সংখ্যা ৯০০-তে পৌঁছাতে পারে।
বর্তমানে ‘ব্যুরো-১৪৪০’-এর ছয়টি পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট কক্ষপথে সক্রিয় রয়েছে। নতুন ১৬টি স্যাটেলাইট যুক্ত হওয়ার ফলে রাশিয়ার মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবস্থার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনবোর্ড সিস্টেম চালু করার পর এগুলো নির্ধারিত কক্ষপথে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করবে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মাঝেও রাশিয়ার এই মহাকাশ সাফল্য বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিবিদদের নজর কেড়েছে, যা অদূর ভবিষ্যতে বৈশ্বিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে বড় ধরনের প্রতিযোগিতার আভাস দিচ্ছে।
/আশিক
যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতি স্বীকার নয়: ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ না হওয়া পর্যন্ত লড়বে ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেই একটু ও পিছু না হটার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, 'পূর্ণাঙ্গ বিজয়' অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তারা এই লড়াই চালিয়ে যাবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় দেশটির সামরিক বাহিনীর 'খাতাম-আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স'-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আলী আবদুল্লাহি আলিয়াবাদি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
জেনারেল আলিয়াবাদি তার বক্তব্যে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, "ইরানের অখণ্ডতা রক্ষায় আমাদের সশস্ত্র বাহিনী গর্বিত এবং অবিচল। বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই পথচলা থামবে না।" যদিও তিনি 'পূর্ণ বিজয়' বলতে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেননি, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস বা আলোচনায় ইরানের সামরিক বাহিনী যে সহজে নতি স্বীকার করবে না, এটি তারই একটি আগাম সতর্কবার্তা। বিশেষ করে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের পর ইরানের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের এই অনড় মনোভাবের ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা এখন চরমে। একদিকে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা বাড়িয়েই চলেছে, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক শক্তি দিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এই নতুন ঘোষণায় স্পষ্ট যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক লড়াই অদূর ভবিষ্যতে থামার কোনো লক্ষণ নেই। এই ঘোষণা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপরও নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
/আশিক
১০ ঘণ্টায় ইরানের ৭ দফা হামলা: তেল আবিব ও ডিমোনায় মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এখন এক চরম উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) প্রকাশিত আল-জাজিরা ও সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মধ্যরাত থেকে মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে ইসরায়েলের ওপর অন্তত ৭ দফা শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। এবারের হামলায় ইসরায়েলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিব ছাড়াও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিমোনা শহরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ডিমোনায় হামলার সময় সাইরেন বেজে উঠলে স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটতে থাকেন।
তেল আবিবে হওয়া হামলার বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে কয়েকটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখান থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। তবে ইরান কেবল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রই নয়, বরং গুচ্ছ বোমা (ক্লাস্টার ওয়ারহেড) সমৃদ্ধ উন্নত প্রযুক্তির মিসাইল ব্যবহার করছে বলে দাবি করছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েলও ইরানে তাদের বিমান হামলা জোরদার করেছে। আইডিএফ জানিয়েছে, গত এক রাতেই তারা ইরানের অভ্যন্তরে ৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের ৩ হাজারের বেশি সামরিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েল। তবে তারা জোর দিয়ে বলছে যে, তাদের মূল লক্ষ্য কেবল সামরিক কাঠামো এবং তারা কোনো বেসামরিক এলাকায় হামলা করছে না। মধ্যপ্রাচ্যের দুই শক্তিশালী দেশের এই বিধ্বংসী পাল্টাপাল্টি হামলা এখন এক দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৫ কঠিন শর্ত: মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণে এবার তেহরানের পাল্টা চাল
- সৌদি ও কুয়েতে একের পর এক ড্রোন হামলা: উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থা
- সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক
- যুদ্ধবিরতিতে ইরানের ৫ কঠোর শর্ত
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন, ক্রেতাদের মুখে হাসি
- ঈদ পরবর্তী বাজারে সোনার বড় ধস: ভরিতে বড় ছাড় দিয়ে সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ
- বুধবার দিনভর যেসব কর্মসূচিতে সরগরম থাকবে রাজধানী
- আমরা এই যুদ্ধে জিতে গেছি; ওভাল অফিসে ট্রাম্পের বিজয় ঘোষণা
- ইসরায়েলের আকাশ অরক্ষিত, এখনই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়
- ওয়াশিংটনে বিশ্বনেতাদের মাঝে ডা. জুবাইদা রহমান: শিশুদের সুরক্ষায় বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক
- ঈদের সরকারি বরাদ্দের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
- ঢাকায় দুপুরে বজ্রবৃষ্টি ও কালবৈশাখীর পূর্বাভাস: কাঁপতে পারে ৬ বিভাগ
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৫ মার্চ ২০২৬-এর পূর্ণাঙ্গ আপডেট
- মধ্যপ্রাচ্যে হার মানছে যুক্তরাষ্ট্র? ইরানের কাছে ১৫ দফার গোপন শান্তি প্রস্তাব
- এক-এগারোর দাপুটে কর্মকর্তা এখন রিমান্ডে: মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলার পাহাড়
- জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই বাস্তবায়িত হবে মার্কিন চুক্তি: শামা ওবায়েদ
- ইসরায়েলের হৃদপিণ্ডে আঘাত: বিমানবন্দরের জ্বালানি বিমানে ড্রোন হামলা চালাল ইরান
- ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর মেগা প্ল্যান: ১২০ সিগন্যাল হচ্ছে অটোমেশন
- যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া রোনানের কাঁধে চড়ে জয়: সাফে বাংলাদেশের দাপুটে পারফরম্যান্স
- নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে পিএসএল মাতাতে ঢাকা ছাড়লেন তানজিদ-রিশাদ
- সামাজিক কুসংস্কার ছাপিয়ে গবেষণায় পিরিয়ড: জরায়ুর ক্যানসার প্রতিরোধে নতুন হাতিয়ার
- খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া আইআরজিসি: ৭ রাউন্ডের হামলায় তছনছ ইসরায়েল
- আকাশচুম্বী দামে বিক্রি হল রাজস্থান রয়্যালস
- ধন্যবাদ বিএনপি সরকারকে: আসিফ নজরুল
- আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস, দেশে কমলো কত
- ইলন মাস্কের স্টারলিংক-এর বিকল্প আনছে রাশিয়া: ৯০০ স্যাটেলাইটের মেগা প্রজেক্ট
- যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতি স্বীকার নয়: ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ না হওয়া পর্যন্ত লড়বে ইরান
- ঢাকার যানজট নিরসনে নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- ১০ ঘণ্টায় ইরানের ৭ দফা হামলা: তেল আবিব ও ডিমোনায় মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র
- ২৪ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২৪ মার্চ ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
- ২৪ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- সাকিবকে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত পেতে চান হাবিবুল বাশার: শুরু হলো নতুন মিশন
- শত কেজি বিস্ফোরকের সফল আঘাত: ইসরায়েলের হৃদপিণ্ডে ক্ষত সৃষ্টি করল ইরান
- জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিচ্ছে সরকার: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বড় ঘোষণা
- বিমানের জ্বালানিতে রেকর্ড লাফ: এক ঝটকায় ৮০% দাম বাড়াল সরকার
- লেবানন-গাজায় হামলা হলে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের
- ইরান যুদ্ধে কোন দেশে কতজন মানুষ নিহত হয়েছে?
- ইরানের ‘নতুন চমক’ আসছে, দাবি আইআরজিসির
- যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় বিধ্বস্ত ইরান: নিহত ৬, আহত ৯
- ‘ইরানের অপরাধমূলক আগ্রাসনের কারণে স্থাপনায় আগুন লেগেছে’- বাহরাইন
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় রাষ্ট্র পরিচালনার ঘোষণা
- ২৫ মার্চ: ১০:৩০–১০:৩১, থমকে যাবে পুরো দেশ
- ২৫ দিনে ইরান যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার সর্বশেষ চিত্র
- বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হলেও দ্রুত পুনর্গঠনের দাবি ইরানের
- পাকিস্তানে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?
- আজকের বৈদেশিক মুদ্রার রেট কত, জানুন সর্বশেষ আপডেট
- ইরান যুদ্ধ থেকে মার্কিন রণতরি ‘ফোর্ড’ সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
- সক্ষমতার বাইরে সেবা দিলে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল
- শাওয়ালের ৬ রোজা: ফজিলত ও করণীয় জানুন
- স্বর্ণের বাজারে বড় ধস: গত বছরের রেকর্ড ভাঙছে ২০২৬-এর স্বর্ণের বাজার
- ট্রাম্পের যুদ্ধ স্থগিতের ঘোষণায় সোনার বাজারে ধস: ১০ শতাংশ কমল দাম
- সৌদিতে আজ কি দেখা যাবে ঈদের চাঁদ? সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে
- তেজাবি স্বর্ণের বাজারে ধস: ঈদের কেনাকাটায় স্বস্তি নিয়ে এল নতুন দাম
- ঈদ কি তবে শুক্রবার? সৌদি আরবের চাঁদ দেখা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল!
- কালিগঞ্জের পল্লীতে ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে জখম, টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
- ইরানকে সৌদি আরবের শেষ হুঁশিয়ারি: এবার কি শুরু হচ্ছে সরাসরি যুদ্ধ?
- নিজের রক্ষকই যখন ভক্ষক: বাহরাইনে মার্কিন প্যাট্রিয়ট বিপর্যয়ের গোপন খবর ফাঁস
- ‘আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে’: ইরানকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী
- ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা পেরিয়ে ঈদের ছুটিতে কুবি শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার আনন্দ
- অমাবস্যা পেরিয়ে প্রতিপদ শুরু: আজ চাঁদ দেখার সম্ভাবনা নিয়ে যা জানালো জ্যোতির্বিজ্ঞান
- ইসরায়েলের আকাশ এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণে? যুদ্ধবিরতিতে ৬ কঠিন শর্ত তেহরানের
- দুই দফায় কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি মিলবে মাত্র ২ লাখ ২ হাজার টাকায়
- ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে চরম দুর্ভিক্ষ? ডব্লিউএফপির ভয়াবহ সতর্কবার্তা
- ওয়াশিংটনের সাথে সব বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করল মালয়েশিয়া








