যুদ্ধবিরতিতে ইরানের ৫ কঠোর শর্ত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১০:৫৭:৫২
যুদ্ধবিরতিতে ইরানের ৫ কঠোর শর্ত
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর শর্ত উত্থাপন করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। হিব্রু ভাষার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়, যা আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার নতুন দিক নির্দেশ করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরান তার অবস্থান স্পষ্ট করে একটি আনুষ্ঠানিক দাবিপত্র উপস্থাপন করেছে। এই দাবিগুলো শুধু তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির বিষয় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক প্রভাব নিশ্চিত করার কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো যুদ্ধ বন্ধ হলে তা যেন পুনরায় শুরু না হয়, এ বিষয়ে একটি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা থাকতে হবে। তেহরান মনে করছে, অতীতের অভিজ্ঞতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের নজির থাকায় এই নিশ্চয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছে ইরান, যেখানে এই কৌশলগত জলপথের ওপর কার্যত তাদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত থাকবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়।

ইরানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো বা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা। তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই এই ঘাঁটিগুলোকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার উৎস হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।

যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং মানবিক ক্ষয়ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করাও ইরানের শর্তগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দাবির মাধ্যমে তারা যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন ব্যয় বহনে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করতে চাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বিতর্কিত শর্তগুলোর একটি হলো ইরানের বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ বা ‘প্রচারণামূলক’ কর্মকাণ্ডে জড়িত সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। ইরান চাইছে, এসব ব্যক্তিকে হয় তাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক অথবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইরান এই আলোচনায় ‘গুরুত্বসহকারে অংশ নিচ্ছে’। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের আলোচনার ব্যাপারে ভিন্ন অবস্থানও দেখা গেছে, যা কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। ফলে সংঘাত এখন একটি বহুমাত্রিক আঞ্চলিক সংকটে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর ও মিডল ইস্ট আই


ইরানের বুকে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের আগে মার্কিন পাইলটের রহস্যময় দাবি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ১৮:৪২:৫৮
ইরানের বুকে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের আগে মার্কিন পাইলটের রহস্যময় দাবি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের আকাশসীমায় গত এপ্রিল মাসে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের এক পাইলট উদ্ধার হওয়ার পর এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তিনি আকাশে একসঙ্গে সুবিন্যস্ত অবস্থায় একাধিক ইরানি ড্রোন উড়তে দেখেছিলেন, যার সামগ্রিক অবয়ব বা বিন্যাস দেখতে অনেকটা সমুদ্রের ‘জেলিফিশ’-এর মতো ছিল।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই পাইলট মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে এই জেলিফিশ-সদৃশ ড্রোন নেটওয়ার্কের বিবরণ দেওয়ার পর থেকেই পেন্টাগন এবং মার্কিন গোয়েন্দা মহলে ব্যাপক তোলপাড় ও চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

পাইলটের বিবরণ অনুযায়ী, আকাশে একটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট জ্যামিতিক বিন্যাসে ড্রোনগুলো অবস্থান করছিল। সেখানে বড় আকৃতির ড্রোনগুলোর ঠিক নিচে ছোট ড্রোনগুলো এমন নিখুঁতভাবে সারিবদ্ধ ছিল, যেন দূর থেকে দেখলে মনে হবে একটি জেলিফিশের পা বা শুঁড়গুলো ঝুলছে। শুধু তাই নয়, পুরো গঠনটি একটি একক সত্তার মতো অত্যন্ত সমন্বিতভাবে একসঙ্গে দিক পরিবর্তন ও চলাচল করছিল। ঘটনার বিষয়ে অবগত একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র সিএনএনকে জানায়, ড্রোনগুলো পরস্পরের সঙ্গে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিল এবং বড় ড্রোনের নিচে ছোটগুলো যেভাবে ঝুলছিল, তা দেখতে অবিশ্বাস্য লাগছিল। এছাড়া পাইলট আকাশে ‘ড্রোনের মাইনফিল্ড’ বা ফাঁদ দেখার কথাও উল্লেখ করেছেন।

মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের এই অত্যাধুনিক ড্রোন নেটওয়ার্ক কোনোভাবে তাদের স্থলভিত্তিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এই সমন্বিত প্রযুক্তির সাহায্যেই মার্কিন অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটিকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ভূপাতিত করা হয়। উল্লেখ্য, ভূপাতিত ওই বিমানে দুজন আরোহী ছিলেন। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মূল পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও, অপর ক্রু সদস্য প্রায় একদিনের বেশি সময় ধরে ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করে থাকার পর উদ্ধার হন। তবে ওই দ্বিতীয় ক্রু সদস্যও আকাশে একই দৃশ্য দেখেছিলেন কি না, তা এখনো পরিষ্কার করা হয়নি। এছাড়া ওই একই উদ্ধার অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনীর একটি এ-১০ যুদ্ধবিমানও ইরানের গোলার আঘাতে ভূপাতিত হয়েছিল, তবে তার পাইলট নিরাপদে ইরানের আকাশসীমার বাইরে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন।

সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে সামরিক বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পাইলট আকাশে যে প্রযুক্তির বর্ণনা দিয়েছেন, সামরিক পরিভাষায় তাকে 'ওয়ান-টু-ম্যানি মেশড নেটওয়ার্কিং' (One-to-Many Meshed Networking) বলা হয়। এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে একজন মাত্র অপারেটর বা একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড স্টেশন থেকে একই সময়ে শত শত ড্রোনের ঝাঁক নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং ড্রোনগুলো জিপিএস বা স্যাটেলাইট ছাড়াই নিজেদের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য আদান-প্রদান করে নিখুঁতভাবে হামলা বা প্রতিরক্ষার কাজ করতে পারে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পূর্ববর্তী কোনো মূল্যায়নেই ইরানের কাছে এমন স্বয়ংক্রিয় ‘সোয়ার্ম ড্রোন’ বা মেশড নেটওয়ার্কিং সক্ষমতা থাকার কথা স্বীকার করা হয়নি। তবে ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা মহলের একাংশের দাবি, ড্রোন প্রযুক্তির এই অভাবনীয় উন্নয়নে ইরান মূলত চীন ও রাশিয়ার কাছ থেকে বড় ধরনের কারিগরি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সহায়তা পেয়ে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইলটের এই দাবি যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য এক নজিরবিহীন ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

অবশ্য মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ এই ‘জেলিফিশ ড্রোন’-এর তত্ত্বটি এখনই শতভাগ মেনে নিতে রাজি নন। তারা বিষয়টিকে বেশ সতর্কতার সঙ্গে দেখছেন। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বিমানটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হওয়ার সময় পাইলট মাথায় বেশ গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন। এছাড়া যুদ্ধ চলাকালীন এর আগেও তিনি একবার ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ (নিজেদের বাহিনীর ভুল হামলা) এর শিকার হয়ে বিমান থেকে ছিটকে পড়েছিলেন। ফলে তিনি বাস্তবে আসলেই ইরানের কোনো গোপন ও পরীক্ষামূলক ড্রোন প্রযুক্তির মুখোমুখি হয়েছিলেন, নাকি তীব্র মানসিক চাপ ও মাথায় আঘাতজনিত কারণে এটি তার কোনো চাক্ষুষ বিভ্রম (Hallucination) ছিল—তা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থায় তীব্র মতভেদ ও বিতর্ক রয়েই গেছে।

/আশিক


ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর ইরানি প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট: মধ্যপ্রাচ্য শান্তিতে নতুন সংকট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ১৮:১৪:২৬
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর ইরানি প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট: মধ্যপ্রাচ্য শান্তিতে নতুন সংকট
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে শুরু হওয়া বহুল আলোচিত শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কড়া ও হুমকিমূলক বক্তব্যের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে সুইজারল্যান্ডের আলোচনাস্থল সাময়িকভাবে ত্যাগ করেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে যখন দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি কড়া বার্তা দেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরান যদি তার মিত্র সংগঠন হিজবুল্লাহকে লজিস্টিক ও সামরিক সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখে, তবে তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে ওয়াশিংটন। এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এর কিছুক্ষণ পরেই আলোচনার টেবিল থেকে ওয়াকআউট করেন ইরানি প্রতিনিধিরা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এই নাটকীয় খবরটি নিশ্চিত করেছে।

আইআরএনএ-এর বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠক শেষ করার পরপরই ইরানি প্রতিনিধি দল আলোচনার মূল ভেন্যু ছেড়ে চলে যায়। প্রায় একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে আরেকটি পোস্ট করেন। তবে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক মহলের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান এখনই এই শান্তি আলোচনা পুরোপুরি বয়কট বা বন্ধ করেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কূটনীতিক জানান, ইরানি প্রতিনিধি দল এখনো সুইজারল্যান্ডেই অবস্থান করছে এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা জারি রেখেছে; তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপ ত্যাগের কোনো চূড়ান্ত ইঙ্গিত দেয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির জবাবে অত্যন্ত কড়া ভাষায় পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেন, মার্কিন প্রশাসনের নিজেদের বক্তব্যের বিষয়ে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সতর্ক হওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং প্রয়োজন হলে সামরিক উপায়ে ভিন্নভাবে জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তারা বাইরে যা-ই বলুক না কেন, মাঠের কাজ ইরান নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ীই করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে দশকের পর দশক ধরে চলা এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে শুরু হওয়া এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সফল হলে, পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে কয়েক যুগের অমীমাংসিত পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো বড় বড় ইস্যুগুলো নিয়ে একটি বিস্তৃত ও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পথ খুলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু এই অগ্রগতির পথে এখনো লেবাননে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং উভয় পক্ষের অনমনীয় অবস্থান বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এরই মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ দমনে ইসরায়েলি সেনারা ‘যতদিন প্রয়োজন’ ততদিন অবস্থান করবে এবং তারা কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না। অপরদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, প্রথম দফার দীর্ঘ আলোচনার শুরুর ৮০ মিনিটে পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি টেবিল জুড়েই আসেনি। বরং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন এবং লেবাননের জ্বলন্ত পরিস্থিতিই ছিল দুই পক্ষের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।

এই সংলাপকে অত্যন্ত ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বেশ কিছু কৌশলগত প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে কি দুই দেশের মধ্যে শত্রুতার অবসান ঘটে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে? মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক কি চিরতরে বদলে দেওয়া সম্ভব, নাকি পরিস্থিতি আবার পুরোনো সংঘাতের পথেই ফিরে যাবে? বর্তমানে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার ভয়াবহ যুদ্ধ যখন পুরো অঞ্চলকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলেছে, ঠিক তখনই এই মার্কিন-ইরান সংলাপ চলছে। তবে তেহরান ইতোমধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবানন সীমান্তে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো অসম্ভব।

সূত্র: দ্য স্ট্রেট টাইমস, দ্য হিন্দু


চুক্তি ভাঙলে ব্যবস্থা, ইরানকে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ১১:০২:০৩
চুক্তি ভাঙলে ব্যবস্থা, ইরানকে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সমঝোতার পরও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বরং চুক্তি বাস্তবায়ন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক শর্ত নিয়ে নতুন করে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দ্বিধা করবে না।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইরানের আচরণই ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার রক্ষা করা তেহরানের দায়িত্ব। অন্যথায়, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, ইরানের জন্য যেসব অর্থ অবমুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো মূলত খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানির মতো মানবিক খাতে ব্যয় করার উদ্দেশ্যেই দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অর্থের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতে ফিরে আসবে, কারণ ইরান এখনও নিজস্ব খাদ্য চাহিদা পূরণে পুরোপুরি সক্ষম নয়।

ট্রাম্প বলেন, প্রায় ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশ হিসেবে ইরানের খাদ্য নিরাপত্তা এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাই অবমুক্ত অর্থ খাদ্য আমদানিতে ব্যবহৃত হলে তা দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে তেহরান। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দোলনাসের হেম্মাতি জানিয়েছেন, বর্তমান সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য বা কৃষি উপকরণ কেনার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

তিনি বলেন, ইরান নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক প্রয়োজন বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে এবং অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাইরের কোনো একক শর্ত মেনে চলতে বাধ্য নয়।

এদিকে সংঘাত-পরবর্তী নতুন বাস্তবতায় হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়েও শক্ত অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং আলোচনায় নেতৃত্বদানকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দেশে ফিরে ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে এবং এটি আর কখনও যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না।

গালিবাফ বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এই কৌশলগত জলপথের তত্ত্বাবধান অব্যাহত রাখবে। তার মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইরানের ভূমিকা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

-রফিক


সুইজারল্যান্ডে সফল বৈঠক: হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচলে রাজি ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২২ ২০:১৫:২৫
সুইজারল্যান্ডে সফল বৈঠক: হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচলে রাজি ইরান
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে ইরানের তেল বিক্রির ওপর সাময়িক ছাড় দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) এ লক্ষ্যে ৬০ দিনের জন্য একটি বিশেষ সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে। নতুন এই নির্দেশনার ফলে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়াম এবং পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য উৎপাদন, সরবরাহসহ আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করার আইনি বৈধতা সচল থাকবে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে দুই দেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক আলোচনা চলছে। সেই আলোচনার সূত্র ধরেই ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক ও সাধারণ নৌ-চলাচল সম্পূর্ণ অবাধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর পাশাপাশি তেহরান তাদের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক তদারকি জোরদার করতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের সে দেশে প্রবেশ ও পরিদর্শনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। ইরানের এই ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রশাসন তেল রপ্তানির ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত নেয়।

মার্কিন অর্থ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্মকর্তা স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান প্রশাসন বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সুইজারল্যান্ডে চলমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার অংশ হিসেবেই ট্রেজারি বিভাগ ইরানি তেলের উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণনের পথ সুগম করতে ৬০ দিনের এই অস্থায়ী লাইসেন্স ইস্যু করেছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে ও একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই এই অন্তর্বর্তীকালীন অর্থনৈতিক ছাড় দেওয়া হলো।

সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে সম্পাদিত প্রাথমিক সমঝোতা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথম দফার এই বৈঠকটি ইতিবাচকভাবে শেষ হয়েছে। দুই পক্ষের আলোচনার মূল ভিত্তির মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা ও তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ৬০ দিনের এই নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মার্কিন প্রশাসন ইরানের ব্যাপারে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেবে কিংবা এই লাইসেন্সের মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

সূত্র : আল জাজিরা


ঝটিকা সফরে পাকিস্তান যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২২ ১৮:৪০:৪৮
ঝটিকা সফরে পাকিস্তান যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
ছবি : সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার আবহেই হঠাৎ করে একদিনের সফরে আগামীকাল (২৩ জুন) পাকিস্তানে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পর এটিই প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের প্রথম বিদেশ সফর।

সোমবার (২২ জুন) ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের জনসংযোগ মহাপরিচালক হাবিব আব্বাসী দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সফরটি সংক্ষিপ্ত এবং সম্ভবত একদিনের হবে।

হাবিব আব্বাসী আরও জানান, পাকিস্তান সফরে মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হবেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। এর আগে গত বছরের আগস্টেও ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানে দ্বিপাক্ষিক সফরে গিয়েছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডে ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের কূটনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে এই ঝটিকা পাকিস্তান সফর আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি,সিএনএন।


তীব্র চাপের মুখে বিদায় নিলেন স্টারমার, কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২২ ১৮:১৯:৫১
তীব্র চাপের মুখে বিদায় নিলেন স্টারমার, কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অবশেষে সেই অবধারিত ঘটনাই ঘটল। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা, দলের অভ্যন্তরীণ প্রবল চাপ এবং দেশজুড়ে কমতে থাকা জনপ্রিয়তার মুখে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তার এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে লেবার পার্টির নেতৃত্বে এবং দেশের শাসনভারে এক বড় ধরনের পালাবদলের পথ প্রশস্ত হলো। আর এই দৌড়ে ডাউনিং স্ট্রিটের পরবর্তী বাসিন্দা হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম, যাকে এখন ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রায় নিশ্চিত ধরে নেওয়া হচ্ছে।

স্টারমারের এই বিদায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই তার সরকারের প্রতি জনসমর্থনে ধস নামতে শুরু করে। নির্বাচনী প্রচারণায় এড়িয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকটগুলো সামনে এনে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার যখন কর বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের মতো অজনপ্রিয় নীতি গ্রহণ করে, তখন থেকেই ভোটাররা ক্ষুব্ধ হতে শুরু করেন।

তবে তার সরকারের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকা হয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। জেফরি এপস্টেইনের বিতর্কিত বন্ধু পিটার ম্যান্ডেলসনকে আমেরিকায় ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে গোটা দেশে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে, যেখানে লেবার পার্টি এক ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। ফলস্বরূপ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং-সহ দলের প্রায় ১০০ জন এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি তোলেন।

স্টারমারের পদত্যাগের ফলে এখন লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রেডিকশন মার্কেট বা বেটিং বাজারগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ডি বার্নহামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা এখন রেকর্ড ৯৫ শতাংশ। লেবার পার্টির ‘কিং অব দ্য নর্থ’ খ্যাত বার্নহাম সম্প্রতি তার রাজনৈতিক সক্ষমতার এক বিশাল প্রমাণ দিয়েছেন। গত ১৮ জুন মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে তিনি এক দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে আনেন। স্থানীয় নির্বাচনে এই আসনটিতে ডানপন্থী পপুলিস্ট দল ‘রিফর্ম ইউকে’ একচেটিয়া জয় পেলেও, উপ-নির্বাচনে বার্নহাম ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তাদের সহজেই পরাজিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমেই তিনি পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন এবং দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি যোগ্যতা অর্জন করেন।

নেতৃত্ব নির্বাচনের এই লড়াইয়ে বার্নহামের পাশাপাশি ওয়েস স্ট্রিটিং বা সাবেক সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নসের মতো নেতারাও মাঠে নামতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্ট্রিটিংয়ের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশ। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন নেতা হতে হলে প্রার্থীদের লেবার পার্টির ৪০৩ জন এমপির মধ্যে অন্তত ৮১ জনের সমর্থন নিশ্চিত করে মনোনয়ন পেতে হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের সাধারণ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সদস্যদের সরাসরি ভোটে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ বলছে, সাধারণ দলের সদস্যদের মাঝে বার্নহাম বিপুল ব্যবধানে জনপ্রিয় এবং তিনি অনায়াসেই এই নির্বাচনে জয়লাভ করবেন।

তবে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের চাবি হাতে পেলেও অ্যান্ডি বার্নহামের সামনের পথ কুসুমাস্তীর্ণ হবে না। ইউগভের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মে থেকে জুনের মধ্যে সাধারণ ব্রিটিশ নাগরিকদের কাছে বার্নহামের প্রতি অনীহার হার ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা তার জন্য একটি সতর্কবার্তা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাকে এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

একদিকে যেমন দেশের অভ্যন্তরে স্থবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে চাঙ্গা করার কঠিন কাজ তার কাঁধে পড়বে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে—বিশেষ করে একজন খামখেয়ালি আমেরিকান প্রেসিডেন্টের সাথে ব্রিটেনের কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার মতো অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতিও তাকে অত্যন্ত সাবধানে সামলাতে হবে। দেশ পরিচালনার এই নতুন অধ্যায়ে বার্নহাম কতটুকু সফল হবেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা যুক্তরাজ্য।

সূত্র: দ্য ইকোনোমিস্ট।


মার্কিন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পাল্টা জবাব? হরমুজ প্রণালিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন স্নায়ুযুদ্ধ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২১ ১৯:৫৫:২২
মার্কিন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পাল্টা জবাব? হরমুজ প্রণালিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন স্নায়ুযুদ্ধ
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে চলমান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদে কোনো ধরনের নৌ-টোল বা ফি আরোপ করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ব্যয় মেটাতে ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন নিজেই এই নৌপথে ফি বা ট্যাক্স আরোপ করতে পারে বলে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২০ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কোনো টোল থাকবে না। যদি না তা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আরোপ করা হয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৬০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন সময় শেষ হওয়ার পরও যদি কোনো স্থায়ী সমাধান বা চূড়ান্ত চুক্তি না হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিভাবকসুলভ ভূমিকা পালন করে আসছে, তার ব্যয় আদায়ের জন্য এই টোল বা ফি আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হতে পারে।

ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের একটি সাম্প্রতিক ঘোষণার পরই ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দিলেন। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে এবং লেবাননে ইসরায়েল কর্তৃক যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের কারণে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে।

তবে ইরানের এই দাবিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুক্তির সব শর্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সেন্টকম সতর্ক ও সক্রিয় রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স ইরানকে ইঙ্গিত করে সাফ জানিয়ে দেন, “হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে নেই।”

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জ্বালানি পরিবহন রুট। বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বিশাল অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই নৌপথকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বা অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি


মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ: ট্রাম্প-নেতানিয়াহু জোটে ফাটল ধরাতে লেবাননকে অস্ত্র বানাচ্ছে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২১ ১৮:৩৪:০৩
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ: ট্রাম্প-নেতানিয়াহু জোটে ফাটল ধরাতে লেবাননকে অস্ত্র বানাচ্ছে ইরান
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের চলমান সামরিক হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক জটিল কৌশলগত খেলা শুরু হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তেহরান মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অবিচ্ছেদ্য ও কৌশলগত জোটে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে। ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের মধ্যকার নীতিগত দূরত্ব তৈরি করতে ইরান লেবানন সংকটকে একটি প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

অস্ট্রিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুশতাই আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান বর্তমানে লেবানন পরিস্থিতিকে এমন একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে, যার লক্ষ্য ইসরাইলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যকার ফাটলকে আরও চওড়া করা। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) নিয়ে ইসরাইলি প্রশাসনের ক্ষোভ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বিঘ্নিত করার যে কোনো চেষ্টাই এই ফাটলকে স্পষ্ট করছে।

আপাতদৃষ্টিতে তেহরানের উদ্দেশ্য দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন সম্পূর্ণ বন্ধ করা মনে হলেও, পর্দার আড়ালের বাস্তবতা ভিন্ন। তেহরান, বৈরুত, হিজবুল্লাহ এবং খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও জানেন যে ইসরাইলি আক্রমণ পুরোপুরি থামানো এই মুহূর্তে বাস্তবসম্মত নয়। কারণ নিজেদের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়লে ইসরাইল অবশ্যই পাল্টা আঘাত করবে। তবে বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ ও কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখতে ইসরাইল সাময়িকভাবে শান্ত থাকার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু যেকোনো উসকানির মুখে তারা প্রতিশোধ নিতে দ্বিধা করবে না। এই জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক পরিস্থিতিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দুর্বল করার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে ইরান, যার মূল লক্ষ্য দুই পরম মিত্রের সামরিক ও রাজনৈতিক জোটে স্থায়ী চির ধরানো।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার পরমাণু আলোচনা সুইজারল্যান্ডে শুরু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২১ ১৮:২৩:৩৩
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার পরমাণু আলোচনা সুইজারল্যান্ডে শুরু
ছবি : সংগৃহীত

কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার কূটনৈতিক আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে আলোচনায় অংশ নিতে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে পৌঁছায়।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, এই বৈঠকগুলো সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU)-এ অন্তর্ভুক্ত সমস্ত বিষয়কে কার্যকর করে একটি সর্বাত্মক ও স্থায়ী চুক্তি অর্জনের পথ সুগম করবে। বিবৃতিতে বলা হয়, "আমরা আশা করছি, এই বৈঠকগুলো সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত সমস্ত বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ব্যাপক ও স্থায়ী চুক্তি সম্পাদনের দিকে এগিয়ে যাবে।"

এর আগে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। ওই সমঝোতায় সব ফ্রন্টে পারস্পরিক শত্রুতা বন্ধ করা, ধাপে ধাপে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের এই নতুন দফার বৈঠককে সেই সমঝোতা বাস্তবায়ন এবং একটি চূড়ান্ত ও দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র : আল জাজিরা

পাঠকের মতামত: