যুদ্ধবিরতিতে ইরানের ৫ কঠোর শর্ত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১০:৫৭:৫২
যুদ্ধবিরতিতে ইরানের ৫ কঠোর শর্ত
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর শর্ত উত্থাপন করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। হিব্রু ভাষার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়, যা আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার নতুন দিক নির্দেশ করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরান তার অবস্থান স্পষ্ট করে একটি আনুষ্ঠানিক দাবিপত্র উপস্থাপন করেছে। এই দাবিগুলো শুধু তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির বিষয় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক প্রভাব নিশ্চিত করার কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো যুদ্ধ বন্ধ হলে তা যেন পুনরায় শুরু না হয়, এ বিষয়ে একটি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা থাকতে হবে। তেহরান মনে করছে, অতীতের অভিজ্ঞতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের নজির থাকায় এই নিশ্চয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছে ইরান, যেখানে এই কৌশলগত জলপথের ওপর কার্যত তাদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত থাকবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়।

ইরানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো বা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা। তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই এই ঘাঁটিগুলোকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার উৎস হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।

যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং মানবিক ক্ষয়ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করাও ইরানের শর্তগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দাবির মাধ্যমে তারা যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন ব্যয় বহনে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করতে চাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বিতর্কিত শর্তগুলোর একটি হলো ইরানের বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ বা ‘প্রচারণামূলক’ কর্মকাণ্ডে জড়িত সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। ইরান চাইছে, এসব ব্যক্তিকে হয় তাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক অথবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইরান এই আলোচনায় ‘গুরুত্বসহকারে অংশ নিচ্ছে’। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের আলোচনার ব্যাপারে ভিন্ন অবস্থানও দেখা গেছে, যা কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। ফলে সংঘাত এখন একটি বহুমাত্রিক আঞ্চলিক সংকটে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর ও মিডল ইস্ট আই


তেহরানের আকাশে রহস্যময় আলোর পিণ্ড: নতুন করে জল্পনা শুরু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ২১:৪৫:১৬
তেহরানের আকাশে রহস্যময় আলোর পিণ্ড: নতুন করে জল্পনা শুরু
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে ২০ সেপ্টেম্বর রাতে উজ্জ্বল ও বহুরঙা আলোযুক্ত একটি রহস্যময় উড়ন্ত বস্তু দেখা যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এক্স প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনুযায়ী ঘটনাটি আজাদেগান এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকায় ঘটেছে বলে দাবি করা হলেও, এর সত্যতা কিংবা বস্তুটির প্রকৃত পরিচয় এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ইরান সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা নতুন চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একই দিনে ইরানের সামরিক বাহিনী মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ভ্রমণ সতর্কতা জারি করায় বিষয়টি নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বস্তুটিকে সামরিক ড্রোন, একাধিক ড্রোনের বহর কিংবা এলইডি আলোযুক্ত ঘুড়ি হিসেবে অনুমান করা হলেও নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য মেলেনি। সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি অনেকের মনে ১৯৭৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাতের আলোচিত তেহরান ইউএফও ঘটনার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে, সে সময়ও আকাশে অস্বাভাবিক বস্তু দেখে এফ-৪ যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছিল এবং যার দাপ্তরিক নথিপত্র মার্কিন সংস্থাসমূহের আর্কাইভে রয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহের এই আলোর সঙ্গে ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক ঘটনার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। স্বাধীন কোনো সংস্থা ভিডিওগুলোর সত্যতা নিশ্চিত না করায় এটি ড্রোন, অন্য কোনো আকাশযান নাকি ভিন্ন কিছু—সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।

সূত্র: এনডিটিভি


নতুন সামরিক সক্ষমতা দেখে বিশ্ব চমকে যাবে: আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ২১:৩৮:১১
নতুন সামরিক সক্ষমতা দেখে বিশ্ব চমকে যাবে: আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় হামলা চালালে দেশটির বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নতুন সামরিক কৌশল এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাঠে নামার হুশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি জানান, সম্ভাব্য মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি বাড়ানো হবে এবং এমন কিছু নতুন অস্ত্র ব্যবহার করা হবে যা দেখে বিশ্ব অবাক হয়ে যাবে। এছাড়া ইরানের পরবর্তী আঘাতের লক্ষ্যস্থল হিসেবে আগের স্থানগুলোর বাইরে সম্পূর্ণ নতুন কিছু এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকারে মোহেব্বি দাবি করেন যে সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র একটি ঐতিহাসিক ও অপমানজনক পরাজয়ের মুখে পড়েছে, যা ওয়াশিংটন স্বীকার করতে সাহস পাচ্ছে না। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকা এবং পারস্য উপসাগরীয় এলাকা ও উত্তর ইরাকে অবস্থিত মার্কিন গোয়েন্দা ঘাঁটিতে সফল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানা মার্কিন ব্যর্থতারই বড় প্রমাণ বলে দাবি করেন তিনি। তবে আইআরজিসির এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই চলমান উত্তেজনা প্রশমিত করতে কাতার উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি ব্লুমবার্গকে নিশ্চিত করেছেন।

/আশিক


আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনার মধ্যেই রাশিয়ার নির্বাচন সম্পন্ন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ১৯:৩৭:০৩
আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনার মধ্যেই রাশিয়ার নির্বাচন সম্পন্ন
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষমতাসীন দল ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’ ঐতিহাসিক ও নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। উল্লেখযোগ্য কোনো জোরালো বিরোধিতা ছাড়াই অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী এই নির্বাচনে দেশটির ৪৫০টি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৫৫টিতেই জয়লাভ করেছে দলটি। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান এলা পামফিলোভা প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করে এই বিশাল জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে পার্লামেন্টে পুতিনের দলের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং তারা তাদের আগের ৩৪৩ আসনের রেকর্ডও ভেঙে ফেলল।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং এর ফলাফল প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষ প্রেসিডেন্ট পুতিনের নীতি ও নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা বজায় রেখেছে। গত আড়াই দশক ধরে রাশিয়ার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণকারী দলটির এই সুপারমাজোরিটি বা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনের একক ক্ষমতা প্রদান করছে। ৫৯ শতাংশের বেশি ভোটারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে যুদ্ধবিরোধী একমাত্র দলটিকে আগেই প্রার্থিতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং ভোটের শেষ দিনে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হলেও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

ফলাফল অনুযায়ী, কমিউনিস্ট পার্টি ৪০টি, জাতীয়তাবাদী এলডিপিআর ২৫টি এবং নিউ পিপল পার্টি ২০টি আসনে জয়ী হয়েছে। এছাড়া চেচনিয়ায় আঞ্চলিক প্রধান রমজান কাদিরভ ৯৯.৮৫ শতাংশ ভোট পেয়ে পুনরায় বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের লোকদেখানো প্রহসন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

সূত্র: এএফপি


যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য বিশ্বাস করে না বিশ্ব, মন্তব্য ইরানি মুখপাত্রের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ২১:৩৪:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য বিশ্বাস করে না বিশ্ব, মন্তব্য ইরানি মুখপাত্রের
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো বক্তব্য অন্ধভাবে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি ওয়াশিংটনের নীতিকে সরল ও ভণ্ডামিপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বাঘাইয়ের মতে, ওয়াশিংটন এখনো এমন একটি মানসিকতায় আটকে রয়েছে যেখানে তারা মনে করে বিশ্বের অন্যান্য দেশের স্মৃতিশক্তি বা বিশ্লেষণ করার কোনো ক্ষমতা নেই। তারা ধরে নিয়েছে যে সবাই অন্ধভাবে তাদের কথা বিশ্বাস করবে এবং কোনো প্রশ্ন ছাড়াই তা মেনে নেবে।

একদিকে ইরানের সাধারণ মানুষকে চরম অর্থনৈতিক সংকটে ফেলতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা যাতে মার্কিন পাইকারি কোনো দোকান থেকে কেনাকাটা করতে না পারেন—এমন কূটনৈতিক পদক্ষেপকে বড় করে দেখানো হচ্ছে। পুরো একটি জাতির জীবিকা ধ্বংসের মতো কঠোর নিষেধাজ্ঞাকে উদযাপনের পাশাপাশি সাধারণ দোকানের সদস্যপদ কার্ড নিয়ে বড় বড় কথা বলা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিচারিতা ও নীতির চরম অসংগতিকেই স্পষ্ট করে তোলে। ওয়াশিংটনের এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের নেওয়া নীতির চিন্তাগত সীমাবদ্ধতাও ফুটে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

/আশিক


ধারণাকেও ছাড়িয়ে গেল খরচ! ইরান যুদ্ধে কত ব্যয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৯:২০:০০
ধারণাকেও ছাড়িয়ে গেল খরচ! ইরান যুদ্ধে কত ব্যয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৫১০ কোটি (৪৫.১ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন কংগ্রেসের কাছে দেওয়া পেন্টাগনের সাম্প্রতিক হিসাবের বরাতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন। সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিযানের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার; এর সঙ্গে অতিরিক্ত জ্বালানি বাবদ আরও ১৫০ কোটি ডলার যোগ হয়ে মোট ব্যয়ের অঙ্ক ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

তবে প্রতিরক্ষা ও বাজেট বিশ্লেষকদের মতে, পেন্টাগনের দেওয়া এই পরিসংখ্যান যুদ্ধের প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির সম্পূর্ণ চিত্র নয়। কারণ এই হিসাবে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও আঞ্চলিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের খরচ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরোক্ষ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পেন্টাগনের বর্তমান এই হিসাব কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) পূর্বানুমানকেও ছাড়িয়ে গেছে।

সিবিও পূর্বাভাস দিয়েছিল যে আগস্টের পর যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলার খরচ হতে পারে, যা সংঘাত বাড়লে আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে। একই সঙ্গে এই বিপুল খরচের ধাক্কায় ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সিবিও।

সূত্র: সিএনএন


২৭ সেপ্টেম্বরের মিছিল ঘিরে পাকিস্তানে চরম উত্তেজনা, গ্রেপ্তার ইমরান খানের বোন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৯:০৬:৩৮
২৭ সেপ্টেম্বরের মিছিল ঘিরে পাকিস্তানে চরম উত্তেজনা, গ্রেপ্তার ইমরান খানের বোন
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে লাহোরে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিলের আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এ গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে বলে রয়টার্সের বরাতে নিশ্চিত করেছেন পিটিআই পাঞ্জাবের এক মুখপাত্র।

গ্রেপ্তারের পর লাহোর জেলা প্রশাসনের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে আলিমা খানকে ৩০ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে আটক করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, যেকোনো জনসমাগমে তাঁর উপস্থিতি জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করতে পারে।

কারাবন্দি ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আগামী সপ্তাহে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে গণমিছিলের ডাক দিয়েছে পিটিআই। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এর আগেই স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে এই কর্মসূচি প্রতিহত করতে প্রশাসন সম্ভাব্য সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেবে। এদিকে ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী জুলফি বুখারি এই আটকের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের আসন্ন গণবিক্ষোভ ঘিরে সরকার কতটা শঙ্কিত ও উদ্বেগে রয়েছে, আলিমা খানকে গ্রেপ্তারের ঘটনাই তার প্রমাণ।

সূত্র : রয়টার্স


রাজধানী রিয়াদের আকাশে আগুনের শিখা! কী ঘটেছে আরামকো ও বিমানবন্দরে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৭:০৬:২১
রাজধানী রিয়াদের আকাশে আগুনের শিখা! কী ঘটেছে আরামকো ও বিমানবন্দরে?
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকা থেকে তীব্র আগুনের শিখা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী প্রত্যক্ষ করার কয়েক ঘণ্টা পর এ হামলার আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার করে গোষ্ঠীটি। রয়টার্সের প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে বিমানবন্দর মহাসড়কের পাশে জ্বালানি ট্যাংকের কাছে আগুন ও ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

হুতিদের দাবি অনুযায়ী, রিয়াদের পাশাপাশি লোহিত সাগরের তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী ইয়ানবুতে অবস্থিত সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনাতেও তারা যৌথ আক্রমণ চালিয়েছে। ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এ আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করে। তবে রিয়াদের সুনির্দিষ্ট কোন কোন স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি গোষ্ঠীটি। উল্লেখ্য, চলমান সংঘাত শুরুর পর এটিই রিয়াদে হুতিদের প্রথম হামলার দাবি।

অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করেছে, শনিবার ভোররাতে রিয়াদের আকাশসীমায় হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বিশ ও ফারাসান, পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েফ এবং ইয়ানবু লক্ষ্য করে চালানো হামলার অপচেষ্টাও রুখে দেওয়া হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রিয়াদে দুই দফা নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হলে বাসিন্দারা দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান, যা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিরোধমূলক বিস্ফোরণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

/আশিক


ইরান যুদ্ধে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা, তথ্য ফাঁসে ট্রাম্পের তীব্র ক্ষোভ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ২১:৪৭:৫১
ইরান যুদ্ধে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা, তথ্য ফাঁসে ট্রাম্পের তীব্র ক্ষোভ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৩৬০ কোটি (৪৩.৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো হালনাগাদ হিসাব অনুসারে, এই বিপুল খরচের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই চলে যাচ্ছে ব্যবহৃত সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণ করতে। হিসাব অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরাসরি সামরিক অভিযানে পেন্টাগনের ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১২০ কোটি ডলার। এর বাইরে অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনঃস্থাপনে প্রায় ২ হাজার ৮১০ কোটি ডলার এবং ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে আরও ৪৩০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত ক্ষতির আর্থিক অঙ্ক আরও ব্যাপক হতে পারে, কারণ হামলায় ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের ব্যয় সেন্টকমের এই হিসাবে আসেনি। পেন্টাগনের ইনস্পেক্টর জেনারেলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শত শত ভবন, উন্নত রাডার ব্যবস্থা এবং বেশ কিছু যুদ্ধবিমান ও নজরদারি আকাশযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর বিশ্লেষণমতে, প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ইরানি আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশটির সামগ্রিক প্রতিরক্ষা শিল্পের পুনঃসরবরাহের দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক মজুতের ঘাটতি ও ব্যয় সংক্রান্ত ফাঁস হওয়া এসব প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে নস্যাৎ করেছেন।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস


তিব্বত-নেপালে বরফ ধস ও পাহাড়ি ঢল: চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ আট দেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ২১:৩১:৩০
তিব্বত-নেপালে বরফ ধস ও পাহাড়ি ঢল: চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ আট দেশ
ছবি : সংগৃহীত

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক আকস্মিক বরফ ধস ও সর্বনাশা পাহাড়ি ঢল কেবল একটি বিচ্ছিন্ন বা স্থানীয় দুর্যোগ নয়, বরং এটি সমগ্র হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ ব্যবস্থার ওপর নেমে আসা এক মারাত্মক অশনিসংকেত। হিমালয়ের পানির ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভর করে টিকে থাকা বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের আটটি দেশের জন্য এই বিপর্যয় এক তীব্র সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমালয়ের হিমবাহগুলো আশঙ্কাজনক গতিতে গলতে থাকায় এ ধরনের চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির পৌনঃপুনিক ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

বিশেষ করে ভৌগোলিকভাবে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার ভাটির প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় উজানের পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ (GLOF) কিংবা বরফ ধসের সরাসরি প্রভাব এসে পড়ে বাংলাদেশের ওপর। জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনের কারণে নদীভাঙন, অসময়ে তীব্র পাহাড়ি ঢল এবং পূর্বাভাসবিহীন প্রলয়ঙ্করী বন্যার তীব্র ঝুঁকি আরও গভীর হচ্ছে।

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে এ ধরনের বিপর্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব নয় বলে একমত হয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। বিপর্যয় কমাতে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট আটটি দেশের মধ্যে অবিলম্বে একটি সমন্বিত আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উজানের পাহাড়ি আবহাওয়ার পূর্বাভাস, নদ-নদীর প্রবাহ এবং পানি বৃদ্ধির রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদানে যৌথ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে যথাসময়ে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বহুলাংশে কমিয়ে আনা যাবে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস ।

পাঠকের মতামত: