শত কেজি বিস্ফোরকের সফল আঘাত: ইসরায়েলের হৃদপিণ্ডে ক্ষত সৃষ্টি করল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৭:৩৭:০২
শত কেজি বিস্ফোরকের সফল আঘাত: ইসরায়েলের হৃদপিণ্ডে ক্ষত সৃষ্টি করল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আবিবের একটি অভিজাত এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) তেল আবিবের মেয়র রন হুলদাই নিশ্চিত করেছেন যে, একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের ‘সরাসরি আঘাতে’ শহরের একটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা ও বার্তা সংস্থা এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরের উত্তরাঞ্চলের একটি পুরনো তিনতলা ভবন এই হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলি পুলিশ ও আর্মি রেডিওর ধারণা, কোনো রকেট লঞ্চার থেকে ছোড়া প্রায় ১০০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক সমৃদ্ধ ৩-৪টি ওয়ারহেড এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।

ইসরায়েলের জরুরি সেবা বিভাগ এই ধ্বংসলীলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে বিস্ফোরণের ভয়াবহতা এবং ভবনের ধসে পড়া অংশ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মেয়র রন হুলদাই জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ৪ জন সামান্য আহত হয়েছেন। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। আহতদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো। মূলত উত্তর তেল আবিবের অভিজাত আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করেই এই শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের এই সরাসরি আঘাত ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। হাইফা এবং জেরুজালেমের পর তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে এই ধরনের বিধ্বংসী বিস্ফোরণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা ওয়ারহেডগুলোর প্রকৃতি পরীক্ষা করে দেখছেন। শহরজুড়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


লেবানন-গাজায় হামলা হলে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৫:৩৪:০১
লেবানন-গাজায় হামলা হলে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েল লেবানন ও ফিলিস্তিনের বিভিন্ন অঞ্চলে বেসামরিক জনগণের ওপর ‘ব্যাপক যুদ্ধাপরাধ’ চালাচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইসরায়েলের এই ধরনের হামলা কেবল সামরিক অভিযান নয়; বরং এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। বিশেষ করে লেবানন ও গাজা উপত্যকার বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলাকে তারা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যদি বেসামরিক জনগণের ওপর এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকে, তবে ইরান আর সংযম প্রদর্শন করবে না। সে ক্ষেত্রে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল এবং গাজা সংলগ্ন এলাকাগুলোতে অবস্থানরত সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হবে।

আইআরজিসি আরও সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে এই প্রতিক্রিয়া হবে ‘নির্বিচার ও সীমাহীন’, যা সংঘাতকে আরও তীব্র পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। এই ধরনের অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধকে একটি নতুন মাত্রায় উন্নীত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিবৃতি কেবল সামরিক হুমকি নয়; বরং এটি একটি কৌশলগত বার্তা, যার মাধ্যমে ইরান প্রতিপক্ষকে চাপের মধ্যে রাখতে চাইছে এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নিজের অবস্থানকে দৃঢ় করতে চাইছে।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যেই বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ও গাজা ইস্যুকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে সংঘাতটি কেবল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে জড়িয়ে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

-রাফসান


ইরান যুদ্ধে কোন দেশে কতজন মানুষ নিহত হয়েছে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৫:২২:২৪
ইরান যুদ্ধে কোন দেশে কতজন মানুষ নিহত হয়েছে?
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত এক গভীর মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণহানি ও আহতের দীর্ঘ তালিকা। যুদ্ধের মাত্র ২৫ দিনের মধ্যেই নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছেছে এবং আহতের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি, যা এই সংঘাতের তীব্রতা ও বিস্তৃতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। সেখানে অন্তত ১,৫০০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৮ হাজার ৫৫১ জনেরও বেশি। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে দেশটির অভ্যন্তরে সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে ব্যাপক এবং গভীর।

লেবাননেও পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে অন্তত ১,০০১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২,৫৮৩ জন। বিশেষ করে ইসরায়েলি হামলা ও স্থল অভিযানের ফলে বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইরাকেও এই সংঘাতের প্রভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। সেখানে অন্তত ৬১ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। একইভাবে ইসরায়েলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং প্রায় ৪,৬৯৭ জন আহত হয়েছেন।

মার্কিন সামরিক বাহিনীও এই সংঘাতে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন, যা যুদ্ধের বহুমাত্রিকতা ও ঝুঁকির মাত্রা নির্দেশ করে।

প্যালেস্টাইন ও সিরিয়ায় তুলনামূলক কম হলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে প্রতিটি দেশে অন্তত চারজন করে নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতেও প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে, যা সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তারকে আরও স্পষ্ট করে।

কুয়েতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। বাহরাইনে অন্তত দুইজন নিহত এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত আটজন নিহত এবং ১৬০ জন আহত হয়েছেন। ওমানে তিনজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। সৌদি আরবে অন্তত দুইজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

জর্ডান ও কাতারেও এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে, যদিও সেখানে প্রাণহানি না হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন। জর্ডানে অন্তত ২৮ জন এবং কাতারে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ এখন একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে, যেখানে কেবল সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া দেশগুলোই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যই এর প্রভাবের মধ্যে পড়ে গেছে। বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি, যা মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে এবং বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা একটি বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


ইরানের ‘নতুন চমক’ আসছে, দাবি আইআরজিসির

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৪:৩০:০৪
ইরানের ‘নতুন চমক’ আসছে, দাবি আইআরজিসির
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘আগ্রাসী শক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করে ইরান নতুন কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আসন্ন দিনগুলোতে যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম এমন ‘নতুন চমক’ প্রস্তুত করছে তেহরান।

ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরান ইতোমধ্যেই এমন কিছু পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে, যা বাস্তবায়িত হলে চলমান সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করতে পারে। তার ভাষায়, এই পদক্ষেপগুলো কেবল সামরিক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং বৃহত্তর কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের অংশ, যার লক্ষ্য যুদ্ধের ফলাফলকে আরও স্পষ্ট করে তোলা।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে তার সব সামরিক বিকল্পের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন। ফলে তিনি সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের বদলে রাজনৈতিক ও যোগাযোগভিত্তিক কৌশলের দিকে ঝুঁকছেন, যা ইরানের দৃষ্টিতে দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে।

আইআরজিসির ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, মার্কিন প্রশাসন এখন কার্যত একটি অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে, যেখানে তারা না সামরিকভাবে স্পষ্ট সাফল্য অর্জন করতে পারছে, না কূটনৈতিকভাবে দ্রুত সমাধানে পৌঁছাতে পারছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সীমাবদ্ধতা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামরিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতার ঘাটতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘বক্তব্যের যুদ্ধ’ বা তথ্যযুদ্ধে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় অবস্থান নেওয়ার বিষয়টিকে তিনি বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের চাপ এড়ানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরেন।

আইআরজিসি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কেবল প্রতিরক্ষামূলক নয়; বরং এতে আক্রমণাত্মক সক্ষমতারও প্রতিফলন থাকবে, যা শত্রুপক্ষের কৌশলগত হিসাবকে ভেঙে দিতে পারে। তিনি দাবি করেন, এই নতুন পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে সংঘাতের ভারসাম্য ইরানের পক্ষে ঝুঁকতে পারে।

একই সঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে কটাক্ষ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার উচিত যুদ্ধসংক্রান্ত প্রচারণা থেকে দূরে থেকে বাস্তব অর্থনৈতিক সূচক, যেমন শেয়ারবাজার ও তেলের মূল্য পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া।

সূত্র:তাসনিম নিউজ এজেন্সি


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় বিধ্বস্ত ইরান: নিহত ৬, আহত ৯

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৪:২০:৫৭
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় বিধ্বস্ত ইরান: নিহত ৬, আহত ৯
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাবরিজে রাতভর পরিচালিত বিমান হামলায় উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শহরের একাধিক আবাসিক এলাকা সরাসরি আঘাতের শিকার হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে, যা হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি করেছে।

তাসনিমের তথ্য অনুযায়ী, হামলার ফলে তাবরিজের কয়েকটি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো আশঙ্কা করছে, ফলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন ইতোমধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের হামলাগুলোতে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যা সংঘাতের চরিত্রে একটি উদ্বেগজনক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, তাবরিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে এই ধরনের হামলা কেবল সামরিক কৌশল নয়; বরং এটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বেসামরিক এলাকায় হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে এনেছে। তারা এই ধরনের হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

এদিকে, এই হামলার ফলে ইরানের অভ্যন্তরে মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবাসিক এলাকা ধ্বংস হওয়ায় বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন, যা ইতোমধ্যেই যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে নতুন সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


‘ইরানের অপরাধমূলক আগ্রাসনের কারণে স্থাপনায় আগুন লেগেছে’- বাহরাইন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৪:০৯:৩১
‘ইরানের অপরাধমূলক আগ্রাসনের কারণে স্থাপনায় আগুন লেগেছে’- বাহরাইন
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে বাহরাইনে একটি বাণিজ্যিক স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে ইরানের ‘অপরাধমূলক আগ্রাসনের’ কারণে, যা চলমান আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন স্থাপনায় আগুন লাগে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। তবে দেশটির সিভিল ডিফেন্স ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সফলভাবে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে এই ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের কোনো তথ্য এখনো নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও ঘটনাটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

এই ঘটনার পর বাহরাইন ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেছে, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ, যেখানে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

: আল জাজিরা


২৫ দিনে ইরান যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার সর্বশেষ চিত্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৩:২৯:০৯
২৫ দিনে ইরান যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার সর্বশেষ চিত্র
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের ২৫তম দিনে এসে সংঘাত একটি পূর্ণাঙ্গ বহুমাত্রিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে, যেখানে আঞ্চলিক সামরিক সংঘর্ষ ধীরে ধীরে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। এই সংঘাত এখন আর কেবল ইরানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত সামরিক অভিযান নয়; বরং এটি জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সামরিক ভারসাম্য এবং কূটনৈতিক কৌশলের এক জটিল সমন্বয়।

সংঘাতের এই পর্যায়ে সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, সামরিক বাস্তবতা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা চলছে বলে দাবি করছেন, অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী একই সময়ে ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় আঘাত অব্যাহত রেখেছে। এই দ্বৈত অবস্থানকে অনেক বিশ্লেষক ‘ক্যালিব্রেটেড এস্কেলেশন’ বা নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

তেহরান এই কূটনৈতিক বার্তাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এটিকে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ’ হিসেবে দেখছে। ইরানের দৃষ্টিতে, এই ধরনের আলোচনার ইঙ্গিত মূলত সময়ক্ষেপণ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও আর্থিক বাজারকে প্রভাবিত করার একটি প্রচেষ্টা। বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক শক্তি মোতায়েন করছে, তখন এই বার্তাকে তারা কৌশলগত বিভ্রান্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।

সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন হরমুজ প্রণালী, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি প্রধান শিরা হিসেবে পরিচিত। এই জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপর, যেখানে শিল্প উৎপাদন ও জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

গালফ অঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করেছে। কুয়েত, সৌদি আরব ও বাহরাইন একাধিকবার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করতে বাধ্য হয়েছে। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলো বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য একটি বড় উদ্বেগ।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোও সরাসরি সম্পৃক্ত হতে শুরু করেছে, যারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের মাধ্যমে গালফ অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করছে। এটি সংঘাতের আন্তর্জাতিকীকরণকে আরও ত্বরান্বিত করছে।

ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও যুদ্ধ একটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে, যা প্রযুক্তিগত দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। একই সময়ে ইসরায়েল লেবানন, সিরিয়া ও গাজা সংলগ্ন অঞ্চলে তাদের সামরিক অভিযান বিস্তৃত করেছে।

লেবানন ও ইরাক এই সংঘাতের ‘সেকেন্ডারি ব্যাটলগ্রাউন্ড’-এ পরিণত হয়েছে। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যভিত্তিক হামলা এবং ইসরায়েলের স্থল অভিযান এই অঞ্চলগুলোতে মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করেছে। অবকাঠামো ধ্বংস, বাস্তুচ্যুতি এবং খাদ্য সংকট এখন বড় আকার ধারণ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এই যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসন একটি সম্ভাব্য ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ খুঁজছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

অন্যদিকে, ইরান অভ্যন্তরীণভাবে একটি ‘প্রতিরোধের বর্ণনা’ তৈরি করছে। বড় আকারের জনসমাবেশ, রাষ্ট্রীয় প্রচার এবং সামরিক সাফল্যের প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা জনগণের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

কূটনৈতিক অঙ্গনেও উল্লেখযোগ্য তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিসর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে। ইসলামাবাদে সম্ভাব্য বৈঠকের গুঞ্জন এই সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে, যদিও এখনো তা নিশ্চিত নয়।

এই পুরো পরিস্থিতিকে বিশ্লেষকরা একটি ‘মাল্টি-লেয়ারড কনফ্লিক্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন, যেখানে সামরিক, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক স্তরগুলো একে অপরের সঙ্গে জটিলভাবে যুক্ত। ফলে সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই তিনটি স্তরের পারস্পরিক গতিশীলতার ওপর।

সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট বিশ্ব রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করছে। এটি শুধু আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির গতিপথকেও পুনর্নির্ধারণ করতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হলেও দ্রুত পুনর্গঠনের দাবি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৩:১৪:২০
বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হলেও দ্রুত পুনর্গঠনের দাবি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখন ইরান সরকার তাদের বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা নিয়ে আশাবাদী বার্তা দিয়েছে। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী আব্বাস আলিয়াবাদি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা দ্রুত পুনর্গঠন এবং আধুনিকায়ন করা সম্ভব হবে।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, জনগণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। ইরান ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে এমনভাবে সাজিয়েছে, যাতে কোনো নির্দিষ্ট স্থাপনায় আঘাত এলেও সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত না হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিকেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ উৎপাদন কাঠামো আধুনিক জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে করে একক বৃহৎ কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমে যায় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে বিকল্প উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হয়, যা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে।

আলিয়াবাদি আরও উল্লেখ করেন, যদি কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র হামলার শিকার হয়, তাহলে তা শুধু পুনর্গঠনই নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে আরও আধুনিক করে তোলা হবে। অর্থাৎ প্রতিটি ক্ষয়ক্ষতিকে ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে তেহরান।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় জ্বালানি অবকাঠামো কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলক্ষেত্র এবং গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলার ঝুঁকি বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের এই বক্তব্য দেশটির প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির একটি ইঙ্গিত বহন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বার্তা কেবল অভ্যন্তরীণ জনগণকে আশ্বস্ত করার জন্য নয়; বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একটি কৌশলগত সংকেত, যা প্রতিপক্ষকে জানিয়ে দেয় যে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা করলেও কাঙ্ক্ষিত কৌশলগত সুবিধা পাওয়া কঠিন হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ইরানের জ্বালানি খাতের এই অবস্থান বর্তমান সংঘাতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে সামরিক সংঘর্ষের পাশাপাশি অবকাঠামোগত স্থিতিশীলতা এবং পুনর্গঠন সক্ষমতাও একটি বড় কৌশলগত উপাদান হিসেবে উঠে আসছে।

সূত্র: আল জাজিরা


পাকিস্তানে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১২:৪৮:২৬
পাকিস্তানে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য গত প্রায় এক মাস ধরে এক অভূতপূর্ব সামরিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরানের ধারাবাহিক পাল্টা আঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন টানা ২৫ দিনে পৌঁছেছে এবং পুরো অঞ্চল কার্যত একটি অস্থিতিশীল নিরাপত্তা সংকটে নিমজ্জিত।

ইরানের পাল্টা হামলা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছে, কারণ দেশটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে এবং ইসরায়েলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ধারাবাহিক আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে করে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

এই সামরিক উত্তেজনার মাঝেই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্ভাব্য একটি আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের নাম উঠে এসেছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষই এই বৈঠক নিশ্চিত করেনি, তবুও একাধিক কূটনৈতিক সূত্র বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি আলোচনার আগে ইতোমধ্যে ‘ব্যাক-চ্যানেল’ বা পরোক্ষ যোগাযোগ শুরু হয়েছে। মিসর, তুরস্ক এবং পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে। এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সংঘাতের তীব্রতা কমানোর একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই; বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেও পরবর্তীতে তার অবস্থানে পরিবর্তন আনেন। তিনি ঘোষণা করেন, ইরানের বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোতে অন্তত পাঁচ দিন কোনো হামলা চালানো হবে না এবং একই সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। তবে তেহরান এই দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না।

তবে ইউরোপীয় কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরাসরি না হলেও পরোক্ষ যোগাযোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তি এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। পাকিস্তান এই প্রক্রিয়ায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে ইসলামাবাদকে সম্ভাব্য আলোচনার স্থান হিসেবে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সম্ভাব্য বৈঠকে কারা অংশ নিতে পারেন, তা নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, একইভাবে ইরানের পক্ষ থেকেও শীর্ষ নেতৃত্ব অংশ নিতে পারেন।

সূত্র:রয়টার্স,ফিনান্সিয়াল টাইমস


ইরান যুদ্ধ থেকে মার্কিন রণতরি ‘ফোর্ড’ সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১২:২৯:১৯
ইরান যুদ্ধ থেকে মার্কিন রণতরি ‘ফোর্ড’ সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও অত্যাধুনিক মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড সংশ্লিষ্ট যুদ্ধ অভিযানের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এটি গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে অবস্থিত একটি নৌঘাঁটিতে নোঙর করেছে।

সোমবার রণতরিটির সৌদা বে ঘাঁটিতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি মাসে এই একই ঘাঁটি থেকে জাহাজটি খাদ্য, জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছিল, যা চলমান অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে রণতরিটির এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে শুধুমাত্র কৌশলগত পুনর্বিন্যাসই নয়, বরং কিছু অভ্যন্তরীণ ঘটনাও ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ১২ মার্চ জাহাজটির একটি লন্ড্রি ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যেখানে দুইজন নাবিক আহত হন এবং অন্তত ১০০টি শয্যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনা জাহাজটির কার্যক্ষমতা ও অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ছাড়াও ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নামের আরেকটি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরি অংশ নেয়। উভয় জাহাজেই আধুনিক যুদ্ধবিমানসমৃদ্ধ ‘এয়ার উইং’ ছিল, যা আকাশপথে হামলা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ফোর্ডকে অপারেশনাল এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রণতরির অনুপস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিতে একটি দৃশ্যমান শূন্যতা তৈরি হতে পারে, যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে একই সঙ্গে এটিও মনে করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তাদের সামরিক অবস্থান পুনর্গঠন বা পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। নৌবাহিনীর চলমান অভিযানে রণতরির রোটেশন বা পুনরায় প্রস্তুতির জন্য এ ধরনের প্রত্যাহার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও হতে পারে।

সূত্র: এএফপি

পাঠকের মতামত: