বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হলেও দ্রুত পুনর্গঠনের দাবি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৩:১৪:২০
বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হলেও দ্রুত পুনর্গঠনের দাবি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখন ইরান সরকার তাদের বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা নিয়ে আশাবাদী বার্তা দিয়েছে। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী আব্বাস আলিয়াবাদি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা দ্রুত পুনর্গঠন এবং আধুনিকায়ন করা সম্ভব হবে।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, জনগণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। ইরান ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে এমনভাবে সাজিয়েছে, যাতে কোনো নির্দিষ্ট স্থাপনায় আঘাত এলেও সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত না হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিকেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ উৎপাদন কাঠামো আধুনিক জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে করে একক বৃহৎ কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমে যায় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে বিকল্প উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হয়, যা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে।

আলিয়াবাদি আরও উল্লেখ করেন, যদি কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র হামলার শিকার হয়, তাহলে তা শুধু পুনর্গঠনই নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে আরও আধুনিক করে তোলা হবে। অর্থাৎ প্রতিটি ক্ষয়ক্ষতিকে ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে তেহরান।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় জ্বালানি অবকাঠামো কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলক্ষেত্র এবং গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলার ঝুঁকি বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের এই বক্তব্য দেশটির প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির একটি ইঙ্গিত বহন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বার্তা কেবল অভ্যন্তরীণ জনগণকে আশ্বস্ত করার জন্য নয়; বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একটি কৌশলগত সংকেত, যা প্রতিপক্ষকে জানিয়ে দেয় যে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা করলেও কাঙ্ক্ষিত কৌশলগত সুবিধা পাওয়া কঠিন হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ইরানের জ্বালানি খাতের এই অবস্থান বর্তমান সংঘাতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে সামরিক সংঘর্ষের পাশাপাশি অবকাঠামোগত স্থিতিশীলতা এবং পুনর্গঠন সক্ষমতাও একটি বড় কৌশলগত উপাদান হিসেবে উঠে আসছে।

সূত্র: আল জাজিরা


পাকিস্তানে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১২:৪৮:২৬
পাকিস্তানে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য গত প্রায় এক মাস ধরে এক অভূতপূর্ব সামরিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরানের ধারাবাহিক পাল্টা আঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন টানা ২৫ দিনে পৌঁছেছে এবং পুরো অঞ্চল কার্যত একটি অস্থিতিশীল নিরাপত্তা সংকটে নিমজ্জিত।

ইরানের পাল্টা হামলা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছে, কারণ দেশটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে এবং ইসরায়েলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ধারাবাহিক আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে করে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

এই সামরিক উত্তেজনার মাঝেই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্ভাব্য একটি আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের নাম উঠে এসেছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষই এই বৈঠক নিশ্চিত করেনি, তবুও একাধিক কূটনৈতিক সূত্র বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি আলোচনার আগে ইতোমধ্যে ‘ব্যাক-চ্যানেল’ বা পরোক্ষ যোগাযোগ শুরু হয়েছে। মিসর, তুরস্ক এবং পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে। এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সংঘাতের তীব্রতা কমানোর একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই; বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেও পরবর্তীতে তার অবস্থানে পরিবর্তন আনেন। তিনি ঘোষণা করেন, ইরানের বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোতে অন্তত পাঁচ দিন কোনো হামলা চালানো হবে না এবং একই সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। তবে তেহরান এই দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না।

তবে ইউরোপীয় কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরাসরি না হলেও পরোক্ষ যোগাযোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তি এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। পাকিস্তান এই প্রক্রিয়ায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে ইসলামাবাদকে সম্ভাব্য আলোচনার স্থান হিসেবে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সম্ভাব্য বৈঠকে কারা অংশ নিতে পারেন, তা নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, একইভাবে ইরানের পক্ষ থেকেও শীর্ষ নেতৃত্ব অংশ নিতে পারেন।

সূত্র:রয়টার্স,ফিনান্সিয়াল টাইমস


ইরান যুদ্ধ থেকে মার্কিন রণতরি ‘ফোর্ড’ সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১২:২৯:১৯
ইরান যুদ্ধ থেকে মার্কিন রণতরি ‘ফোর্ড’ সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও অত্যাধুনিক মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড সংশ্লিষ্ট যুদ্ধ অভিযানের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এটি গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে অবস্থিত একটি নৌঘাঁটিতে নোঙর করেছে।

সোমবার রণতরিটির সৌদা বে ঘাঁটিতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি মাসে এই একই ঘাঁটি থেকে জাহাজটি খাদ্য, জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছিল, যা চলমান অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে রণতরিটির এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে শুধুমাত্র কৌশলগত পুনর্বিন্যাসই নয়, বরং কিছু অভ্যন্তরীণ ঘটনাও ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ১২ মার্চ জাহাজটির একটি লন্ড্রি ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যেখানে দুইজন নাবিক আহত হন এবং অন্তত ১০০টি শয্যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনা জাহাজটির কার্যক্ষমতা ও অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ছাড়াও ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নামের আরেকটি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরি অংশ নেয়। উভয় জাহাজেই আধুনিক যুদ্ধবিমানসমৃদ্ধ ‘এয়ার উইং’ ছিল, যা আকাশপথে হামলা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ফোর্ডকে অপারেশনাল এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রণতরির অনুপস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিতে একটি দৃশ্যমান শূন্যতা তৈরি হতে পারে, যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে একই সঙ্গে এটিও মনে করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তাদের সামরিক অবস্থান পুনর্গঠন বা পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। নৌবাহিনীর চলমান অভিযানে রণতরির রোটেশন বা পুনরায় প্রস্তুতির জন্য এ ধরনের প্রত্যাহার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও হতে পারে।

সূত্র: এএফপি


ইরানিদের পাশে কাশ্মীরি জনতা: নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারের সাথে দান করছেন পশুও

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১২:০৪:২৬
ইরানিদের পাশে কাশ্মীরি জনতা: নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারের সাথে দান করছেন পশুও
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানিদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারত-শাসিত কাশ্মীরের বাসিন্দারা। সোমবার (২৩ মার্চ ২০২৬) আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, শিয়া ও সুন্নি নির্বিশেষে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, এমনকি নিজেদের গৃহপালিত পশুও দান করছেন ইরানিদের সহায়তায়। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের টানেই তারা এই মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস কাশ্মীরিদের এই সহমর্মিতার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। দূতাবাস থেকে বলা হয়েছে, “আপনাদের দয়া ও মানবতা আমরা কখনো ভুলব না। ধন্যবাদ, ভারত।

” গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই কাশ্মীরে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ বিরাজ করছিল। এবার সেই আবেগকে সংহতিতে রূপ দিয়ে তারা সোনা, তামার বাসনপত্র ও নগদ অনুদান সংগ্রহ করছেন। এমনকি যাদের কাছে অর্থ নেই, তারা নিজেদের ভেড়া বা ছাগল দান করে ইরানি ভাইদের পাশে থাকার প্রমাণ দিচ্ছেন।

ঐতিহাসিকভাবেই হিমালয় অঞ্চলের এই জনপদে ইসলাম প্রচারে ইরানি পণ্ডিতদের বিশেষ ভূমিকা ছিল। ২৯ বছর বয়সী ছাত্রী আইমান জেহরা জানান, এটি কেবল শিয়াদের উদ্যোগ নয়, সুন্নি সম্প্রদায়ও এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে।

কাশ্মীরের এই মানবিক উদ্যোগ এমন এক সময়ে এলো যখন ভারত সরকার আন্তর্জাতিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। একদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক মিত্রতা—এই দুইয়ের মাঝে কাশ্মীরিদের এই প্রকাশ্য সমর্থন বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


ইরানের সঙ্গে আলোচনার দাবি ট্রাম্পের, অস্বীকার তেহরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১১:৪৭:৫১
ইরানের সঙ্গে আলোচনার দাবি ট্রাম্পের, অস্বীকার তেহরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক ও সামরিক বার্তার মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি বিস্তৃত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং ইরান এবার সত্যিকার অর্থেই সমঝোতায় আগ্রহী। তার ভাষায়, ইরান শান্তির পথেই এগোতে চায়।

তবে এই দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার যে দাবি করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ‘ফেক নিউজ’। তার মতে, এই ধরনের বক্তব্য মূলত আন্তর্জাতিক আর্থিক ও জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে।

এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের মধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১১ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে কূটনৈতিক সম্ভাবনার কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্রে সামরিক অভিযান থেমে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিকভাবে আঘাত হানছে। একই সময়ে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে বাহরাইন, সৌদি আরব ও কুয়েতের মতো দেশগুলো।

এই সংঘাতের বিস্তার লেবানন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হামলায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার আহত হয়েছেন।

সূত্র: আল জাজিরা


ক্লাস্টার মিসাইলে কাঁপছে উত্তর ইসরাইল: আহতদের উদ্ধারে রেড ক্রিসেন্ট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১১:৩৩:১৬
ক্লাস্টার মিসাইলে কাঁপছে উত্তর ইসরাইল: আহতদের উদ্ধারে রেড ক্রিসেন্ট
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) সকালে ইসরাইলের ওপর তাদের ৭৮তম দফার প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এবং ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার ইসরাইলের হাইফা শহরে সরাসরি আঘাত হেনেছে ইরানের শক্তিশালী 'কদর' ক্ষেপণাস্ত্র, যা গুচ্ছ বোমা বা ক্লাস্টার ওয়ারহেডে সজ্জিত ছিল। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তারা ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভাঙতে এই উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। হামলার পর উত্তর ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইসরাইলের জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডম (MADA) জানিয়েছে, হাইফা শহরে একটি বাড়িতে গুচ্ছ বোমা আঘাত হানলেও এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের ওপর পা দিয়ে ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় এক নারী আঘাত পেয়েছেন। এছাড়া বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়া বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত চলা এই দীর্ঘ হামলায় জেরুজালেম, হাইফা, তেল আবিব এবং পশ্চিম গ্যালিলি এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের সংকেত পাওয়ার পরপরই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। কিছুক্ষণ আগে ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও সেটি খোলা জায়গায় পড়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে তেল আবিব এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিস্তীর্ণ এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠায় জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। হোম ফ্রন্ট কমান্ড থেকে নাগরিকদের মোবাইল ফোনে সরাসরি সতর্কবার্তা পাঠিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

সূত্র: জেরুসালেম পোস্ট ও আল জাজিরা।


যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: আকাশজুড়ে কালো ধোঁয়া

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১১:২১:৫২
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: আকাশজুড়ে কালো ধোঁয়া
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের পোর্ট আর্থার শহরে অবস্থিত ভ্যালেরো তেল শোধনাগারে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৩ মার্চ ২০২৬) বিকেলে এই বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং আকাশ ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আশপাশের বাড়িঘর ও যানবাহন পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। জেফারসন কাউন্টির শেরিফ জিনা স্টিফেন্সের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, শোধনাগারের একটি হিটিং ইউনিটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

বিস্ফোরণের পরপরই পুরো এলাকায় পচা ডিমের মতো তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, যা বাতাসে ক্ষতিকারক সালফারের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শহর কর্তৃপক্ষ পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করার (Shelter-in-place) নির্দেশ দিয়েছে। ভ্যালেরো এনার্জি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শোধনাগারের প্রায় ৭৭০ জন কর্মীর সবাই নিরাপদ আছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ধোঁয়ার কারণে বায়ুমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই ভ্যালেরো শোধনাগারটি প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার ব্যারেল পেট্রোল, ডিজেল ও জেট জ্বালানি উৎপাদন করে। এমন বড় একটি জ্বালানি কেন্দ্রে বিস্ফোরণের ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত শহর খালি না করায় স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে, ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস কেবল শোধনাগার এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট


জেরুজালেমে বিকট বিস্ফোরণ; ইরান থেকে ধেয়ে আসছে একের পর এক মিসাইল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১০:১৯:৩৮
জেরুজালেমে বিকট বিস্ফোরণ; ইরান থেকে ধেয়ে আসছে একের পর এক মিসাইল
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) জেরুজালেম শহর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি শনাক্ত করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাদের সংবাদকর্মীরা এই শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই ‘হুমকি প্রতিহতের চেষ্টা’ করছে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।

এই সংঘাতের আঁচ শুধু ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ নেই, পার্শ্ববর্তী দেশ কুয়েতেও হামলার চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এক ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে কুয়েতজুড়ে দুইবার সাইরেন বেজে উঠেছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রুভাবাপন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা’ প্রতিহত করতে কাজ করছে। মাঝআকাশে এসব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার কারণেই মূলত কুয়েতের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কুয়েত কর্তৃপক্ষ তাদের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং সরকারি সব নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং আকাশপথে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের আতঙ্ক তৈরি করেছে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে।

তথ্যসূত্র : আলজাজিরা


সৌদি আরবের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি ও ইরান প্রেম: ভারসাম্যের রাজনীতিতে শেহবাজ শরিফ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ০৯:৫৮:৫১
সৌদি আরবের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি ও ইরান প্রেম: ভারসাম্যের রাজনীতিতে শেহবাজ শরিফ
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সোমবার (২৩ মার্চ ২০২৬) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে অংশ নিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তান সব ধরনের সহায়তা করবে বলে ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শেহবাজ শরিফ জানান, দুই নেতা উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুতর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনসহ কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

গত এক মাসে এই দুই নেতার মধ্যে এটি বেশ কয়েকবার আলাপচারিতার অংশ। রমজান ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি তারা চলমান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়েও নিজেদের প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে পাকিস্তান বর্তমানে নিজেই প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতে লিপ্ত থাকায় কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এবং সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের বিদ্যমান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে ইসলামাবাদের জন্য এই ভারসাম্য বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক তৎপরতার পেছনে বড় অর্থনৈতিক কারণও রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে পাকিস্তানের জ্বালানি খাতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে দেশটি আশঙ্কা করছে। একদিকে ইরানের সঙ্গে সীমান্ত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে সৌদি আরবের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এড়াতে আলোচনার ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। শেহবাজ শরিফের এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা পাকিস্তানের জ্বালানি ও কৌশলগত নিরাপত্তা রক্ষার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

সূত্র: সিনহুয়া


ইসরায়েলে ইরানের মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: জেরুজালেম-তেল আবিবে মহ আতঙ্ক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ০৯:৩৯:১৯
ইসরায়েলে ইরানের মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: জেরুজালেম-তেল আবিবে মহ আতঙ্ক
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এবং দ্য হিন্দু-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে কয়েক দফায় ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা তেল আবিব, নেতানিয়া এবং ঋষভ লেজিয়নসহ দেশটির মধ্যাঞ্চলে ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা শনাক্ত করেছে। এর ফলে জেরুজালেমসহ বেশ কিছু শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং উত্তর ইসরায়েলের একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সংঘাতের আঁচ লেগেছে পার্শ্ববর্তী দেশ কুয়েতেও। এক ঘণ্টার ব্যবধানে কুয়েতজুড়ে দুইবার সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বেজে উঠেছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'শত্রুভাবাপন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন' প্রতিহত করতে সক্রিয় রয়েছে। আকাশেই এসব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার কারণে কুয়েতের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কুয়েত সরকার নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সাথে 'ইতিবাচক আলোচনা' হয়েছে এবং তিনি হামলা ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখছেন। তবে ইরান সেই আলোচনার দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েলের ওপর এই নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করল। এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতা এখন এক আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: