শাওয়ালের ৬ রোজা: ফজিলত ও করণীয় জানুন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১১:৫০:০৭
শাওয়ালের ৬ রোজা: ফজিলত ও করণীয় জানুন
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী জীবনব্যবস্থায় ইবাদতের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণা। পবিত্র রমজান মাস শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই মনে করেন ইবাদতের বিশেষ সময় শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রমজানের পরবর্তী মাস শাওয়ালই মুসলমানদের জন্য সেই ইবাদতচর্চাকে আরও গভীর ও স্থায়ী করার একটি অনন্য সুযোগ এনে দেয়। এই মাসে শাওয়ালের ছয়টি রোজা পালন সেই ধারাবাহিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

‘শাওয়াল’ হিজরি বর্ষপঞ্জির দশম মাস। রমজানের পরপরই এই মাসের আগমন ঘটে এবং ঈদুল ফিতরের আনন্দের মধ্য দিয়েই এর সূচনা হয়। ইসলামী শিক্ষায় এই মাস কেবল উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, নফল ইবাদত এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত।

শাওয়ালের ছয়টি রোজা সম্পর্কে সহিহ হাদিসে স্পষ্টভাবে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা পূর্ণ করে এবং তার সঙ্গে শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখে, সে যেন পুরো বছর রোজা রাখার সমতুল্য সওয়াব লাভ করে। এই বক্তব্য ইসলামে নফল ইবাদতের গুরুত্ব এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সওয়াবের বহুগুণ বৃদ্ধির ধারণাকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

এই হাদিসের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ গাণিতিক ও আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। কোরআনের একটি মৌলিক নীতিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান দশগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। সেই হিসেবে রমজানের ৩০ দিনের রোজা দশগুণে ৩০০ দিন এবং শাওয়ালের ৬ দিনের রোজা দশগুণে ৬০ দিন—মোট ৩৬০ দিন, যা একটি পূর্ণ বছরের ইবাদতের সমান। এই ব্যাখ্যা মুসলমানদের জন্য শাওয়ালের রোজার গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করে।

ফিকহবিদদের মধ্যে শাওয়ালের রোজা পালনের পদ্ধতি নিয়ে কিছু মতভেদ থাকলেও মূল কাঠামো একই। অধিকাংশ আলেমের মতে, ঈদের দিন ছাড়া শাওয়াল মাসের যেকোনো ছয় দিন এই রোজা রাখা বৈধ। এটি ধারাবাহিকভাবে রাখা যেতে পারে, আবার বিরতি দিয়েও পালন করা যায়। তবে যত দ্রুত সম্ভব এই রোজাগুলো আদায় করা উত্তম, কারণ ইসলামে ভালো কাজে অগ্রগামী হওয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব প্রশ্ন হলো—যাদের রমজানের কাজা রোজা বাকি রয়েছে, তারা আগে কোনটি আদায় করবেন? অধিকাংশ আলেমের মতে, কাজা রোজা আগে পূর্ণ করা জরুরি, কারণ রমজানের ফরজ ইবাদত সম্পন্ন না হলে তার পূর্ণতা অর্জিত হয় না। এরপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখলে হাদিসে বর্ণিত পূর্ণ সওয়াব লাভ করা সম্ভব হয়। তবে কিছু আলেমের মতে, যদি কাজার পরিমাণ বেশি হয় এবং শাওয়াল মাস শেষ হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে আগে ছয়টি রোজা রেখে পরে কাজা আদায় করলেও সমস্যা নেই।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শাওয়ালের রোজা কেবল সওয়াব অর্জনের একটি মাধ্যম নয়; বরং এটি একজন মুমিনের আত্মিক উন্নয়ন এবং ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি প্রতীক। রমজানের পরপরই এই রোজা পালন করা মানে হলো, একজন মুসলমান তার আধ্যাত্মিক যাত্রা অব্যাহত রাখছেন এবং আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করছেন।

ইসলামে নফল ইবাদতের গুরুত্ব অপরিসীম। সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক বিভিন্ন নফল রোজার মাধ্যমে একজন মুমিন তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে পারেন। শাওয়ালের ছয়টি রোজা এই ধারাবাহিক ইবাদতের একটি সুসংগঠিত অংশ, যা রমজানের শিক্ষা ও অনুশীলনকে বছরের অন্যান্য সময়েও বহমান রাখে।

সামগ্রিকভাবে, শাওয়ালের ছয়টি রোজা মুসলিম জীবনে একটি গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করে। এটি কেবল একটি নফল আমল নয়, বরং একটি জীবনদর্শন যেখানে ইবাদত, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে বছরের প্রতিটি সময়ে।


আজকের নামাজের সময়সূচি; ২৪ মার্চ ২০২৬-এর পূর্ণাঙ্গ গাইড

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ০৯:৩২:২১
আজকের নামাজের সময়সূচি; ২৪ মার্চ ২০২৬-এর পূর্ণাঙ্গ গাইড
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বাসের পর নামাজের স্থান সবার উপরে এবং কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজ থাকলেও ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুমিনের জন্য অপরিহার্য। আজ মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬ ইংরেজি (১০ চৈত্র ১৪৩২ বাংলা, ৪ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি)। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি এবং বিভাগীয় শহরের সময়ের তারতম্য বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

আজ ঢাকায় জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ৮ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ২৮ মিনিটে।

মাগরিবের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ১৪ মিনিটে এবং এশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৭টা ২৮ মিনিটে।

আগামীকাল বুধবার ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ৪৬ মিনিটে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ১১ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৫৭ মিনিটে।

বিভাগীয় শহরের ক্ষেত্রে ঢাকার সময়ের সঙ্গে কিছু সময় যোগ বা বিয়োগ করতে হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগের ক্ষেত্রে ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেট বিভাগের ক্ষেত্রে ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগের ক্ষেত্রে ১ মিনিট, খুলনা বিভাগের ক্ষেত্রে ৩ মিনিট, রাজশাহী বিভাগের ক্ষেত্রে ৭ মিনিট এবং রংপুর বিভাগের ক্ষেত্রে ৮ মিনিট যোগ করে নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

/আশিক


আজকের নামাজের সময়সূচি ২৩ মার্চ: জেনে নিন ৫ ওয়াক্তের সঠিক সময়

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৩ ০৮:৫৪:১৯
আজকের নামাজের সময়সূচি ২৩ মার্চ: জেনে নিন ৫ ওয়াক্তের সঠিক সময়
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি রুকন বা স্তম্ভের মধ্যে নামাজ অন্যতম এবং ইমানের পর এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেবেন। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অপরিহার্য দায়িত্ব।

আজ সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ ইংরেজি, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বাংলা এবং ৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি। রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে জোহর দুপুর ১২টা ৯ মিনিটে, আসর বিকেল ৪টা ২৮ মিনিটে, মাগরিব সন্ধ্যা ৬টা ১৪ মিনিটে এবং এশা রাত ৭টা ২৮ মিনিটে।

আগামীকাল মঙ্গলবার ভোরে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ৪টা ৪৭ মিনিটে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে এবং আগামীকাল মঙ্গলবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে।

ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। সে অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দাদের ৫ মিনিট এবং সিলেট বিভাগের জন্য ৬ মিনিট সময় বিয়োগ করতে হবে।

অন্যদিকে বরিশাল বিভাগের জন্য ১ মিনিট, খুলনা বিভাগের জন্য ৩ মিনিট, রাজশাহী বিভাগের জন্য ৭ মিনিট এবং রংপুর বিভাগের জন্য ৮ মিনিট সময় যোগ করে নামাজের সঠিক ওয়াক্ত নির্ধারণ করতে হবে।

/আশিক


রমজানের পর কেন রাখবেন শাওয়ালের ৬ রোজা? হাদিসের আলোকে বিশেষ ফজিলত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১৭:৫৭:২১
রমজানের পর কেন রাখবেন শাওয়ালের ৬ রোজা? হাদিসের আলোকে বিশেষ ফজিলত
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাস বিদায় নিয়ে শুরু হয়েছে আরবি দশম মাস শাওয়াল। রমজানের পূর্ণ এক মাস সিয়াম সাধনার পর এই শাওয়াল মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে হাদিসে। সাধারণ মানুষের কাছে এটি ‘সাক্ষী রোজা’ হিসেবে পরিচিত হলেও ইসলামি বিধান অনুযায়ী এর গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, শাওয়ালের এই ছয়টি রোজা রাখলে সারা বছর রোজা রাখার সমান সওয়াব পাওয়া যায়।

হাদিস শরিফে এসেছে, আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমজান মাসের রোজা পালন করলো, তারপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখলো, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখলো।” (সহিহ মুসলিম ও সুনান আত তিরমিজি)।

শাওয়ালের এই রোজা কবে থেকে রাখতে হবে, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও আলেমদের মতে, ঈদের পর থেকে পুরো শাওয়াল মাসের যেকোনো সময় এই রোজা রাখা বৈধ। দেশবরেণ্য ইসলামিক স্কলার মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী ও শায়খ আহমাদুল্লাহসহ বিশিষ্ট আলেমরাও বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন যে, এই ছয়টি রোজা একটানা রাখতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সুবিধাজনক সময়ে ভেঙে ভেঙে বা বিরতি দিয়েও এই রোজাগুলো রাখা যাবে। তবে শর্ত হলো, অবশ্যই শাওয়াল মাসের মধ্যেই এই ছয়টি রোজা সম্পন্ন করতে হবে।

/আশিক


২২ মার্চ ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ০৯:৪১:৫৫
২২ মার্চ ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে দ্বিতীয় এবং ইমান বা বিশ্বাসের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ। কিয়ামতের ময়দানে মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দার আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম এই নামাজেরই হিসাব নেবেন। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বাইরেও ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজ রয়েছে, তবে শত ব্যস্ততার মাঝেও সময়মতো ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অপরিহার্য।

আজ রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬ ইংরেজি (৮ চৈত্র ১৪৩২ বাংলা, ২ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি)। রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সর্বশেষ সময়সূচি হলো

আজকের জোহর নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২:০৬ মিনিটে।

এরপর আসর নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৪:২৯ মিনিটে।

দিনের শেষভাগে মাগরিব নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬:১১ মিনিটে এবং রাতের ইশা নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৭:২৬ মিনিটে।

এছাড়া আগামীকাল সোমবারের (২৩ মার্চ) ফজর নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪:৪৬ মিনিটে।

বিভাগীয় শহরের জন্য সময়ের কিছুটা তারতম্য রয়েছে। ঢাকার সময়ের চেয়ে সিলেট বিভাগে ৬ মিনিট এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ মিনিট বিয়োগ করতে হবে।

অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগে ১ মিনিট, খুলনা বিভাগে ৩ মিনিট, রাজশাহী বিভাগে ৭ মিনিট এবং রংপুর বিভাগে ৮ মিনিট যোগ করে নামাজের সঠিক সময় নির্ধারণ করতে হবে।

/আশিক


জুমাতুল বিদা: ফজিলত, দোয়া ও করণীয় জানুন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ১২:১১:৩০
জুমাতুল বিদা: ফজিলত, দোয়া ও করণীয় জানুন
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বর্ষপঞ্জির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাস রমজানের শেষ শুক্রবারকে মুসলিম সমাজে ‘জুমাতুল বিদা’ নামে অভিহিত করা হয়। ‘জুমুআ’ শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত, যার অর্থ শুক্রবার; আর ‘বিদা’ শব্দের অর্থ বিদায় বা শেষ। এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে ‘জুমাতুল বিদা’ বলতে রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে বোঝানো হয়। যদিও এই পরিভাষাটি কোরআন বা হাদিসে সরাসরি উল্লেখিত নয়, তবুও ঐতিহ্যগতভাবে এটি মুসলমানদের কাছে একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত।

রমজান নিজেই ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাস। এর সঙ্গে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন জুমা মিলিত হলে দিনটির আধ্যাত্মিক গুরুত্ব আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। ফলে মুসলমানরা এই দিনটিকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেন এবং ইবাদত-বন্দেগিতে অধিক মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

হাদিসের বর্ণনায় রমজানের ফজিলত অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি সহিহ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, বনি আদমের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান দশগুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়, তবে রোজা এর ব্যতিক্রম; এটি আল্লাহর জন্য এবং এর প্রতিদান আল্লাহ নিজেই প্রদান করবেন। একইসঙ্গে রোজাদারের মর্যাদা ও তার আমলের বিশেষ গুরুত্বও এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে, জুমার দিনের মর্যাদা সম্পর্কেও হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূর্য উদয়ের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমা। এই দিনে হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং পৃথিবীতে অবতরণ করানো হয়। এছাড়া জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন বান্দা যদি নামাজরত অবস্থায় দোয়া করে, তা আল্লাহ তাআলা কবুল করেন।

এই দুইটি মহিমাময় উপাদান রমজান এবং জুমা একত্রে মিলিত হওয়ায় জুমাতুল বিদা মুসলমানদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে। অনেকেই এটিকে রমজানের শেষ জুমা হিসেবে আত্মশুদ্ধির চূড়ান্ত সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করেন, যেখানে ইবাদত, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা হয়।

এই দিনে কিছু সুন্নত আমলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে পবিত্রতা অর্জনের জন্য গোসল করা, পরিষ্কার ও উত্তম পোশাক পরিধান, সুগন্ধি ব্যবহার, সময়ের আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়া, পায়ে হেঁটে যাওয়া, ইমামের নিকটবর্তী স্থানে বসা এবং খুতবা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা। পাশাপাশি দরুদ শরিফ বেশি বেশি পাঠ করা এবং অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হজরত আওস ইবনে আওস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল করে, আগে আগে মসজিদে যায়, মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনে এবং কোনো অনর্থক কাজে লিপ্ত হয় না, তাকে প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের নফল নামাজ ও রোজার সমপরিমাণ সওয়াব প্রদান করা হয়।

সূত্র: আপন দেশ


২০ মার্চ ঢাকার নামাজের পূর্ণ সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ১০:০৯:৪৪
২০ মার্চ ঢাকার নামাজের পূর্ণ সময়সূচি
ছবি: সংগৃহীত

আজ শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ; বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ৬ চৈত্র ১৪৩২ এবং ইসলামি হিজরি সনের ৩০ রমজান ১৪৪৭। রমজানের শেষ দিনে মুসল্লিদের জন্য নামাজের নির্ধারিত সময়সূচি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ দিনটি ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

ঢাকা ও আশপাশের এলাকার জন্য নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, আজ জুমার নামাজ শুরু হবে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে। মুসল্লিদের জন্য এটি সপ্তাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জামাত, যেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ একত্রে নামাজ আদায় করে থাকেন।

বিকেলের আসরের নামাজ শুরু হবে ৪টা ২৭ মিনিটে, যা দিনের শেষভাগে ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এরপর সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে মাগরিবের নামাজের সময় নির্ধারিত হয়েছে সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে। উল্লেখ্য, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ঘটবে সন্ধ্যা ৬টা ০৮ মিনিটে, যা ইফতারের সময় নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রাতের এশার নামাজ শুরু হবে ৭টা ২৬ মিনিটে, যা রমজানের শেষ রাতে তারাবিহ ও অন্যান্য নফল ইবাদতের প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়।

অন্যদিকে, আগামী দিনের সূচনা নির্দেশ করে ফজরের নামাজ, যা আগামীকাল ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে শুরু হবে। একই সঙ্গে আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ০৫ মিনিটে, যা দিনের সময়চক্র নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, নামাজের নির্ধারিত সময় যথাযথভাবে অনুসরণ করা ইসলামী জীবনব্যবস্থার একটি মৌলিক অংশ। বিশেষ করে রমজানের শেষ দিনগুলোতে সময়ানুবর্তিতা ও ইবাদতে মনোযোগ মুসলমানদের জন্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।


চাঁদ দেখার পর যে দোয়া পড়তেন নবী (সা.)

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ০৫:২০:৩৯
চাঁদ দেখার পর যে দোয়া পড়তেন নবী (সা.)
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বর্ষপঞ্জি বা হিজরি ক্যালেন্ডার একটি চন্দ্রনির্ভর সময় গণনা পদ্ধতি, যেখানে প্রতিটি মাসের শুরু ও সমাপ্তি নির্ধারিত হয় আকাশে নতুন চাঁদ দেখার মাধ্যমে। ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতসমূহ—বিশেষ করে রমজানের রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতো বড় ধর্মীয় আয়োজন—সবকিছুই এই চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল।

এই কারণেই ইসলাম ধর্মে চাঁদ দেখার মুহূর্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেও নতুন চাঁদ দেখা গেলে আল্লাহর কাছে কল্যাণ, নিরাপত্তা ও ঈমানের জন্য বিশেষ দোয়া করতেন। এটি কেবল একটি আচার নয়, বরং মানবজীবনের সার্বিক শান্তি ও সাফল্যের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল।

নতুন চাঁদ দেখার সময় তিনি যে দোয়া পাঠ করতেন, তা হাদিসে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে—

আরবি দোয়া:اَللهُ أَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلاَمَةِ وَالْإِسْلاَمِ وَالتَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَتَرْضَى، رَبِّىْ وَرَبُّكَ اللهُ

উচ্চারণ:আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।

অর্থ:হে আল্লাহ! এই চাঁদকে আমাদের জন্য উদিত করুন নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের কল্যাণসহ। (হে চাঁদ) আমার এবং তোমার প্রতিপালক আল্লাহ।

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, সাহাবি তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে জানা যায়, রাসুল (সা.) যখনই নতুন চাঁদ দেখতেন, তখন তিনি এই দোয়াটি পাঠ করতেন। এই দোয়ার মধ্যে শুধু আধ্যাত্মিক আবেদনই নয়, বরং ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের শান্তি, নিরাপত্তা এবং সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার জন্য একটি গভীর বার্তা নিহিত রয়েছে।


এক বছরে দুই রমজান ও তিন ঈদের অপেক্ষায় মুসলিম উম্মাহ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ২০:০০:১৭
এক বছরে দুই রমজান ও তিন ঈদের অপেক্ষায় মুসলিম উম্মাহ
ছবি : সংগৃহীত

ভবিষ্যতের ক্যালেন্ডার এবং মহাকাশ বিজ্ঞানের এক অদ্ভুত সমীকরণ নিয়ে সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন দুবাই অ্যাস্ট্রোনমি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী হাসান আহমেদ আল হারিরি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ এবং ২০৩৩ সালে মুসলিম উম্মাহর জন্য অপেক্ষা করছে এক বিরল অভিজ্ঞতা।

ইংরেজি ক্যালেন্ডার এবং হিজরি চন্দ্র বছরের মধ্যে সময়ের পার্থক্যের কারণে ২০৩০ সালে মুসলিমদের মোট ৩৬টি রোজা রাখতে হতে পারে। সাধারণত চন্দ্র বছর ইংরেজি বছরের চেয়ে প্রায় ১১ দিন ছোট হওয়ায় প্রতি বছর রমজান মাস এগিয়ে আসে, যার ফলে এই ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সৌদি আরবের কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের জলবায়ু অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মুসনাদ বিষয়টিকে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, ২০৩০ সালের ৫ জানুয়ারি ১৪৫১ হিজরির রমজান মাস শুরু হবে যা ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখে শেষ হবে (৩০টি রোজা)। এরপর একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে ১৪৫২ হিজরির রমজান মাস।

অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই বছর আরও ৬টি রোজা পালন করতে হবে, যার ফলে ২০৩০ সালে মোট রোজার সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৬টিতে। গ্লোবাল ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০৩৩ সালেও এই চক্রের প্রভাবে দুবার পূর্ণ রমজান মাস আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে সে বছর মুসলমানরা তিনটি ঈদ (দুটি ঈদুল ফিতর ও একটি ঈদুল আজহা) উদযাপন করতে পারেন।

/আশিক


আজ ১৯ মার্চ ২০২৬: ঢাকার নামাজের সঠিক সময়সূচি জেনে নিন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ০৯:০৫:২১
আজ ১৯ মার্চ ২০২৬: ঢাকার নামাজের সঠিক সময়সূচি জেনে নিন
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে নামাজ অন্যতম এবং ইমানের পর এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পরকালে মহান আল্লাহর দরবারে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও নির্ধারিত ওয়াক্তে ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য আবশ্যক। আজ বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ ইংরেজি (৫ চৈত্র ১৪৩২ বাংলা, ২৯ রমজান ১৪৪৭ হিজরি)। ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সঠিক সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো।

আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৭ মিনিটে এবং শেষ হবে বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে।

আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে ৪টা ২৮ মিনিটে এবং শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টা ০৯ মিনিটে।

মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিটে এবং শেষ হবে ৭টা ২৩ মিনিটে।

এশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৭টা ২৪ মিনিটে এবং শেষ হবে রাত ৪টা ৪৩ মিনিটে।

এছাড়া আগামীকাল শুক্রবার ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ৪৯ মিনিটে এবং শেষ হবে সকাল ৬টা ০৩ মিনিটে।

বিভাগীয় শহরভেদে সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার সময়ের সাথে চট্টগ্রামের জন্য ৫ মিনিট এবং সিলেটের জন্য ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে।

অন্যদিকে, খুলনার জন্য ৩ মিনিট, রাজশাহীর জন্য ৭ মিনিট, রংপুরের জন্য ৮ মিনিট এবং বরিশালের জন্য ১ মিনিট যোগ করে নিতে হবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: