আল জাজিরার প্রতিবেদন
ইরানে হামলা: মসাদের সক্ষমতা নাকি মার্কিন গোয়েন্দা ছাতার ওপর নির্ভরতা

ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলা এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো হত্যাকাণ্ড ঘিরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক প্রচারণা যেভাবে এসব অভিযানের কৃতিত্ব মসাদের গোয়েন্দা দক্ষতার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে, অনেক বিশেষজ্ঞের মতে বাস্তব চিত্রটি তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। তাদের মতে, এসব অভিযানের পেছনে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নজরদারি ব্যবস্থা এবং ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ২০২৪ সালে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহর ওপর হামলাও বিশ্লেষকদের মতে একই ধরনের গোয়েন্দা সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ফল।
ওয়াশিংটনের প্রযুক্তিগত ছায়া
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মসাদের অভিযানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (IISS)-এর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো অভিযানে সিআইএর সংগৃহীত লক্ষ্যভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য এবং রিয়েল-টাইম নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছিল।
এই অভিযানে মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির উপস্থিতিও ছিল স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের MQ-9 Reaper ড্রোন তেহরান ও শিরাজের আকাশে নজরদারি চালিয়ে লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে। অন্যদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ধ্বংসে ব্যবহৃত হয় টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং B-52 বোমারু বিমান।
একই ধরনের কৌশল দেখা যায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ হত্যার ঘটনাতেও। সে সময় ইসরাইলি বিমানবাহিনী ৯০৭ কেজি ওজনের মার্কিন নির্মিত বাঙ্কার-বাস্টার বোমা ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টার ধ্বংস করে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, খামেনির গতিবিধি নিয়ে কয়েক মাস ধরে সিআইএ নজরদারি চালায়। তেহরানের নেতৃত্ব কমপ্লেক্সে তিনি কখন উপস্থিত থাকবেন সেই তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই হামলার সময় রাত থেকে দিনের দিকে পরিবর্তন করা হয়।
ইসরাইলি বিষয়ক বিশ্লেষক মামুন আবু আমের আল জাজিরাকে বলেন, এসব অভিযান কেবল ইসরাইলের একক সাফল্য নয়; বরং এতে সিআইএ এবং যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা MI6-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা ছিল।
তার মতে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিজের কৌশলগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে টেনে আনতে তিনি সফল হয়েছেন।
তেহরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা
বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলা শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ফল নয়; বরং ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামাসের রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়াহ তেহরানের একটি আইআরজিসি অতিথিশালায় নিহত হওয়ার ঘটনা এই দুর্বলতার একটি বড় উদাহরণ। তদন্তে জানা যায়, বিস্ফোরকটি তার কক্ষে আগেই স্থাপন করা হয়েছিল, যা স্থানীয় সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল না।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা যায়, ইসরাইলি গোয়েন্দারা দীর্ঘ সময় ধরে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা হ্যাক করে খামেনির নিরাপত্তা বাহিনীর দৈনন্দিন চলাচলের ধরন বিশ্লেষণ করেছিল। হামলার ঠিক আগে স্থানীয় মোবাইল টাওয়ারগুলো জ্যাম করে দেওয়া হয়, যাতে নিরাপত্তা বাহিনী কোনো সতর্কবার্তা না পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মসাদ অনেক সময় সরাসরি নিজস্ব এজেন্ট ব্যবহার না করে দ্বৈত নাগরিকত্বধারী বিদেশি নাগরিক বা স্থানীয় বিরোধী গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে থাকে। এতে সন্দেহ কম সৃষ্টি হয় এবং গোপন অনুপ্রবেশ সহজ হয়।
সরবরাহ শৃঙ্খলে অনুপ্রবেশ
ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার আরেকটি কৌশল হলো বাণিজ্যিক সরবরাহ শৃঙ্খলে অনুপ্রবেশ। ২০২৪ সালে লেবাননে পেজার বিস্ফোরণের ঘটনায় ইউরোপভিত্তিক শেল কোম্পানির মাধ্যমে সরঞ্জাম সরবরাহে অনুপ্রবেশ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
এছাড়া ইসরাইলি গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০ স্মার্টফোন হ্যাকিং নিয়ে গুজব ছড়িয়ে হিজবুল্লাহকে পেজার ব্যবহারে বাধ্য করে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। পরে সেই পেজারগুলোতেই বিস্ফোরক স্থাপন করা হয়েছিল।
ইসরাইলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা
তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইসরাইল নিজেও নিরাপত্তা দুর্বলতা থেকে মুক্ত নয়। ২০২৪ সালের এপ্রিল নাগাদ ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ৩০ জনের বেশি নাগরিককে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত করে।
এই গুপ্তচর নেটওয়ার্কের সদস্যরা টেলিগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ পেত এবং পেপ্যালের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করত। তারা নেভাতিম বিমানঘাঁটি, হাইফা বন্দর এবং গ্লিলট সামরিক গোয়েন্দা সদর দপ্তরের মতো সংবেদনশীল স্থানের ভিডিও ধারণ করেছিল।
পরবর্তীতে এসব তথ্য ব্যবহার করে ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে ধারণা করা হয়।
মানবিক ও পরিবেশগত সংকট
সাম্প্রতিক যৌথ মার্কিন-ইসরাইলি হামলার ফলে ইরানে পরিবেশগত ও মানবিক সংকটও তৈরি হয়েছে। তেহরানের তেল শোধনাগারসহ বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার ফলে বিষাক্ত ধোঁয়া ও দূষণের মাত্রা বেড়ে গেছে।
স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলা শুধু সামরিক নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড স্বল্পমেয়াদে কৌশলগত সাফল্য আনতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না।
তাদের মতে, অতীতে ১৯৭৩ সালের লিলেহামার হত্যাকাণ্ড, ১৯৯৭ সালে জর্ডানে খালেদ মেশালকে বিষ প্রয়োগের ব্যর্থ চেষ্টা এবং ২০১০ সালে দুবাইয়ে মসাদ এজেন্টদের পরিচয় ফাঁস হওয়ার মতো ঘটনাগুলোও দেখিয়েছে যে গোয়েন্দা অভিযান সবসময় কৌশলগত সাফল্য নিশ্চিত করে না।
মামুন আবু আমেরের মতে, গোয়েন্দা হত্যাকাণ্ড সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তন করতে পারে না। বরং এসব অভিযান কখনও কখনও এমন সংঘাত সৃষ্টি করে যা কোনো একক রাষ্ট্রের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
সূত্র: আল জাজিরা
৩ ইরানি ট্যাংকারে আঘাতের পর মার্কিন ড্রোন জাহাজে হামলার দাবি তেহরানের
হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করা একটি মার্কিন ড্রোন জাহাজে (চালকবিহীন জাহাজ) হামলার দাবি করেছে ইরান। তবে ইরানের এই দাবিকে পুরোপুরি ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এর মাত্র এক দিন আগেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার জবাবে তিনটি ইরানি তেলের ট্যাংকারে আঘাত হেনেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে দুই দেশের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত জুনে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছালেও আলোচনা থমকে যাওয়ায় তা টেকসই হয়নি। এক মাস কিছুটা শান্ত থাকার পর সম্প্রতি সংঘাত আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে; সপ্তাহের শুরুতেই দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ইরানের অর্থ লেনদেনকারী আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও চাপ জোরদার করেছে।
বিপরীতে ইরানের নেতৃত্বও নতি স্বীকার না করে ‘ডার্ক ফ্লিট’ বা গোপন নৌবহরের মাধ্যমে তেল বিক্রি সচল রেখে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার চেষ্টা করছে। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলো (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি) যখন দেশটিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব খাটিয়েই কৌশলগত চাপ তৈরি করে চলেছে তেহরান।
/আশিক
আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও ফেলেছি: আই২৪ নিউজে নেতানিয়াহুর দম্ভোক্তি
গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কাতারে সরাসরি বিমান ও বোমা হামলা চালানোর কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘আই২৪ নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত দম্ভভরে বলেন, ‘আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমা হামলাও চালিয়েছি। যুদ্ধের সময় তাদের ওপর হামলা করেছি। আর তারাও আমার ওপর হামলা করেছে।’ শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাক্ষাৎকারটির ভিডিও প্রকাশ করে কাতারকে একটি ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র হিসেবেও আখ্যা দেন তিনি। নেতানিয়াহু দাবি করেন, যুদ্ধ চলাকালে তেল আবিবের নীতি ও সিদ্ধান্তে কাতার কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে বৈঠকে বসা হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। ওই হামলায় হামাসের পাঁচ নেতাসহ কাতারের একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। হামলার প্রথম বার্ষিকীর মাত্র কয়েক দিন আগে নেতানিয়াহুর এই স্বীকারোক্তিমূলক সাক্ষাৎকার প্রকাশ নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকট সমাধানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে কাতার; এমনকি ২০১২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই দেশটিতে হামাসের রাজনৈতিক দপ্তর পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে দোহার দাবি। গত বছর পরিচালিত ইসরায়েলি হামলাকে কাতারের পক্ষ থেকে ‘কাপুরুষোচিত’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ ইরান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও জর্ডানের মতো দেশগুলোও তখন কাতারের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের কঠোর নিন্দা জানিয়েছিল।
সূত্র: আলজাজিরা
চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ বিপর্যয়: গিরং বন্দরে চলছে জটিল উদ্ধার তৎপরতা
হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় চীন ও নেপাল সীমান্তের গিরং স্থলবন্দর কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দুর্যোগের পর রোববার প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকর্মীদের তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত সীমান্ত এলাকাটি পরিদর্শনের অনুমতি দেয় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যস্ত এই বন্দরের প্রধান পাঁচতলা কাস্টমস ভবনটি পানির তোড়ে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে; পূর্বের বহু স্থাপনার মধ্যে কেবল একটি পানির ট্যাংকের ধ্বংসাবশেষ অবশিষ্ট রয়েছে। একসময়কার ২০ মিটার উঁচু প্রবেশদ্বারে এখন চীনের জাতীয় পতাকা টানিয়ে রাখা হয়েছে এবং চারপাশে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়ে উদ্ধারকর্মীরা ভারী খননযন্ত্র ও বেলচা নিয়ে নিখোঁজদের অনুসন্ধানে কাজ চালাচ্ছেন।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত গিরং স্থলবন্দর এলাকায় কাদামাটির পুরু স্তর, নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকি এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে তল্লাশি অভিযান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাটিতে প্রবেশের একমাত্র স্থলপথটি সম্প্রতি চালু হওয়ার পর অস্থায়ী খুঁটি দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর চেষ্টা চলছে। চীনা কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটিকে সাতটি জোনে ভাগ করে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে, যার মধ্যে চারটি অংশের কাজ শেষ হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট সংঘটিত এই প্রলয়ংকরী বন্যায় চীন ও নেপাল মিলিয়ে প্রাণহানি ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৫ হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে তিব্বত অংশে ৩১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নিখোঁজ ৫৩১ জনের মধ্যে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।
তিব্বত ও নেপালের মধ্যকার এই সীমান্ত পথটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছাড়াও হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কৈলাস পর্বত তীর্থযাত্রার প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। বেইজিংয়ের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, তিব্বত অংশে নিখোঁজ বিদেশিদের একটি বড় অংশই ছিলেন ভারতীয় হিন্দু তীর্থযাত্রী। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৯ জন ভারতীয়ের শনাক্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে, যাদের সন্ধানে পরিবারগুলো উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
/আশিক
অস্ত্রের ঘাটতির তথ্য ফাঁস: পেন্টাগনের ৫০ শীর্ষ কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দেওয়ার সংবেদনশীল তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে ওয়াশিংটনে। এই গোপন তথ্য ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ ৫০ জন কর্মকর্তার ওপর পলিগ্রাফ (মিথ্যা শনাক্তকরণ) পরীক্ষা চালিয়েছে পেন্টাগন। প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত আগস্ট মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের ধারাবাহিকভাবে এই লাই ডিটেক্টর পরীক্ষার মুখোমুখি করা হয়। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়ার তথ্য জনসমক্ষে চলে আসায় অভ্যন্তরীণ তদন্ত জোরদার ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কঠোর বার্তা দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য। এ বিষয়ে পেন্টাগনের মুখপাত্র শিন পারনেল স্পষ্ট জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য ফাঁসকে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে।
এদিকে অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে তথ্য ফাঁসে জড়িতদের ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমান সংঘাত বা ভবিষ্যতের যেকোনো যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রায় সীমাহীন অস্ত্রের মজুদ রয়েছে এবং দেশটির প্রতিরক্ষা কারখানাগুলো এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ গতিতে নতুন গোলাবারুদ ও সমরাস্ত্র প্রস্তুত করছে।
/আশিক
ওয়াশিংটনকে ‘যন্ত্রণাদায়ক জবাবের’ নতুন হুঁশিয়ারি শীর্ষ নেতার
ইরানের সার্বভৌম স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও দ্রুত, কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক জবাব দেওয়া হবে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ (কালিবাফ)। রোববার পার্লামেন্টের আনুষ্ঠানিক অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইরানের পক্ষ থেকে শত্রুর আঘাতের পরিমাপে কেবল ‘সমানুপাতিক জবাব’ দেওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে তেহরানের চালানো অভিযানকে তিনি সম্ভাব্য বৃহত্তর পদক্ষেপের কেবল সূচনা বলে উল্লেখ করেন।
গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জেনে রাখা উচিত যে যেকোনো নতুন আগ্রাসনের ক্ষেত্রে ইরান এখন আর আত্মরক্ষার প্রচলিত সীমায় আটকে থাকবে না; বরং আরও অনেক বেশি বিধ্বংসী ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাবে। তিনি দাবি করেন, মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সফল হামলা ওয়াশিংটনকে কৌশলগতভাবে কোণঠাসা ও চাপে ফেলেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের দুর্বলতা ও বাস্তব ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আড়াল করতে যুক্তরাষ্ট্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে বিভ্রান্তিকর ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি করে বিশ্বজুড়ে অপতথ্য ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়, যার প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন স্থাপনায় উপর্যুপরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পরবর্তী সময়ে জুন মাসে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও উভয় পক্ষই চুক্তি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আনে। ফলে হরমুজ প্রণালির নৌ-নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া থমকে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই বৈরী শক্তির মধ্যে তীব্র সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে তেল আবিবের বড় লক্ষ্য প্রকাশ
ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা উৎখাত করাই ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য এবং এই লক্ষ্য এখন তাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তেল আবিবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) জেনারেল স্টাফ ফোরামের সঙ্গে রোশ হাশানার এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন বলে জানিয়েছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল। নেতানিয়াহুর মতে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব ক্রমাগত সামরিক চাপে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং এখন কেবল টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিরতরে এই হুমকি দূর করার সক্ষমতা তেল আবিবের রয়েছে এবং তেহরানের সরকার পতন ঘটানো এখন কোনো অসম্ভব বিষয় নয়, বরং পুরোপুরি বাস্তবসম্মত। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে পরিচালিত সামরিক অভিযানের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি শত্রুদের সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে যেন কেউ সংঘাতে না জড়ায়। এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও একই সুরে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ইসরায়েলে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে ইরানের শাসনব্যবস্থার সব অবকাঠামো এবং জ্বালানি স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানা হবে।
অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননের আলি তাহের রিজ এলাকায় হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করেছে আইডিএফ, যার প্রতিক্রিয়ায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর পাল্টা জবাবের হুমকি দিয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, আসন্ন ইহুদি ধর্মীয় উৎসব ও ৭ অক্টোবরের তৃতীয় বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বিদেশে অবস্থানরত ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর হামলার ছক কষছে ইরানের কুদস ফোর্স ও হামাস। তেহরান সরাসরি লড়াইয়ের বাইরে গিয়ে অন্য কোনো ময়দানে বড় ধরনের আঘাত হেনে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে মনে করছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা নেতৃত্ব।
সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা
আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে ইরান আকস্মিক কোনো সামরিক বা কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিউনিশিয়ায় দায়িত্ব পালন করা সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোয়ি হুড। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে জানান, আগামী নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই সময়ের মধ্যে তেহরান যেকোনো বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত আঘাত হানতে পারে।
জোয়ি হুড উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টদের নির্বাচনী সময়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ইরানের। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের শাসনামল থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি নির্বাচনের আবহেই ইরান এ ধরনের চাপ তৈরির নজির তৈরি করেছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে; আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়ে ইরান মার্কিন অর্থনীতিতে আঘাত হানতে পারে। কারণ মার্কিন সাধারণ ভোটাররা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না জানিয়ে সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, উভয় দেশের মধ্যে চরম কূটনৈতিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এ অচলাবস্থা কাটাতে তৃতীয় কোনো মধ্যস্থতাকারী দেশের পক্ষ থেকে বড় ধরনের জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এ সংকট উত্তরণে মক্কা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মত দেন। উপসাগর ও উত্তর আরব সাগরে ওই দেশগুলোর নৌবহর পাঠিয়ে হরমুজ প্রণালির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া গেলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা রোখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নৌ-অবরোধের ওপর নির্ভরতাও বহুলাংশে কমে আসবে।
সূত্র: আল জাজিরা
লিপজিগে ড্রোন হামলা: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ অভিযোগ জার্মানির
লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে জার্মানির আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পর ইউরোপজুড়ে হাইব্রিড যুদ্ধ ও ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত ৪ আগস্ট লিপজিগের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কার্গো ঘাঁটিতে ইউক্রেনের আন্তোনভ পরিবহন বিমান লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন উপস্থিতি ও সংঘর্ষের ঘটনার তদন্ত শেষে বার্লিন মস্কোকে সরাসরি দায়ী করেছে। এর জবাবে বার্লিনে রাশিয়ান হাউস ও বনে রুশ কনস্যুলেট বন্ধসহ নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জার্মানি। পাল্টা পদক্ষেপে মস্কোও জার্মানির গ্যেটে ইনস্টিটিউটের একাধিক শাখা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট দাবি করেছেন, ড্রোনের কারিগরি কাঠামো ও বিস্ফোরক রাশিয়ার ‘হাইব্রিড অপারেশনের’ সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং জার্মানি এখন নিয়মিতভাবে হাইব্রিড যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ অস্বীকার করে একে সাজানো এবং অভ্যন্তরীণ সংকট ঢাকার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী কোনো এক সদস্যের ওপর হামলা যৌথ আক্রমণ হিসেবে গণ্য হলেও, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় করার মতো সরাসরি সামরিক সংঘাত বা যুদ্ধ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি যুদ্ধের বদলে সাইবার হামলা, অবকাঠামোতে নাশকতা এবং অপতথ্য ছড়ানোর মতো অপ্রচলিত হাইব্রিড যুদ্ধের কৌশলেই রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমাদের এই ছায়া-সংঘাত রূপ নিচ্ছে।
এদিকে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নির্বাচনের প্রাক্কালে কট্টর ডানপন্থী দল এএফডির উত্থান এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই এই সংঘাতের মাত্রা বাড়ল। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস দায়ীদের চড়া মূল্য দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যার সঙ্গে সুর মিলিয়ে দ্রুত ও কার্যকর জবাব দেওয়ার বার্তা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সামরিক জোট ন্যাটো।
/আশিক
মধ্যপ্রাচ্যে সেনা নিরাপত্তা জোরদারে পেন্টাগনের নতুন পদক্ষেপ
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন সামরিক সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করে হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় নিজস্ব ফোন ও কম্পিউটারে সব ধরনের বিজ্ঞাপন ট্র্যাকার বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সিনেটর রন ওয়াইডেনের প্রকাশ করা চিঠি ও রয়টার্সকে দেওয়া সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ডেটা ব্রোকারদের কাছে বিক্রি হওয়া অবস্থানের তথ্য ব্যবহার করে শত্রুপক্ষ মার্কিন সেনাদের গতিবিধি নজরদারি ও নিশানা করতে পারে—এমন গভীর উদ্বেগের মুখেই এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন বিমানবাহিনী সিনেটর ওয়াইডেনকে জানিয়েছে, প্রায় দুই মাস আগেই তাদের ব্যবহৃত কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনে বিজ্ঞাপন ট্র্যাকার সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ইউএস স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডও পৃথক বার্তায় উইন্ডোজ ডিভাইসে ট্র্যাকার বন্ধের তথ্য নিশ্চিত করেছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের উইন্ডোজ কম্পিউটারে ২০২১ সালের আগে থেকেই ট্র্যাকার বন্ধ ছিল এবং অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপল ডিভাইসে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
নৌবাহিনীও সামরিক ডিভাইসে ট্র্যাকার নিষ্ক্রিয় করার কথা জানালেও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা প্রকাশ করেনি। মূলত ‘মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং আইডি’ (এমএআইডি) ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ডেটা ব্রোকাররা ব্যবহারকারীর অবস্থান ও কার্যক্রমের তথ্য কেনাবেচা করে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
তবে সামরিক বাহিনীর এই পদক্ষেপকে হুমকি মোকাবিলায় এখনও পর্যাপ্ত মনে করছেন না মার্কিন আইনপ্রণেতারা। সিনেটর রন ওয়াইডেন ও রিপাবলিকান প্রতিনিধি প্যাট হ্যারিগান শুক্রবার পেন্টাগনের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। হ্যারিগান মন্তব্য করেন, ক্রেডিট কার্ড দিয়ে তথ্য কিনে শত্রুরা মার্কিন সেনাদের নিশানা করবে—এমন সুযোগ থাকা উচিত নয়।
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত সেনাদের মোবাইল ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরও কঠোর করার বিষয়টি ভাবছে ওয়াশিংটন। এমনকি ব্যক্তিগত ভিডিওর মাধ্যমে যাতে ইরানের মতো প্রতিপক্ষ মার্কিন ঘাঁটির অবস্থান শনাক্ত করতে না পারে, সেজন্য সেনাদের ফোন জমা রাখার নির্দেশনা দেওয়ার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এমএআইডি নিষ্ক্রিয় করা ইতিবাচক হলেও নেটওয়ার্ক ও ডিভাইসের অন্যান্য কারিগরি তথ্য মিলিয়ে নজরদারির ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি।
সূত্র : রয়টার্স
পাঠকের মতামত:
- বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর বিরোধীদলীয় নেতাকে স্পিকারের ধন্যবাদ
- আইপিএলের ধাক্কা এড়াতে পিএসএলের সূচিতে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব
- ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে রেখে আইসিসির বহুজাতিক সিরিজের পরিকল্পনা
- সন্তান ফ্ল্যাটে যাবে আর বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রমে এটা মেনে নেওয়া যায় না: রুমিন ফারহানা
- ৩ ইরানি ট্যাংকারে আঘাতের পর মার্কিন ড্রোন জাহাজে হামলার দাবি তেহরানের
- লংমার্চে পথচারীদের ভোগান্তি: দেশবাসীর কাছে জামায়াত জোটের দুঃখ প্রকাশ
- আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও ফেলেছি: আই২৪ নিউজে নেতানিয়াহুর দম্ভোক্তি
- আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতি টানলেও ক্লাবে নতুন কীর্তি মহাতারকার
- ছেঁড়া-ফাটা টাকা বদল স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ: সংসদে অর্থমন্ত্রী
- ‘সংঘাত-প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার সমাজ চাই’: মির্জা ফখরুল
- আওয়ামী লীগ নেতার গাড়িতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর লংড্রাইভ: রাশেদ খাঁনের দাবি
- ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন: বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে আবেদন
- চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ বিপর্যয়: গিরং বন্দরে চলছে জটিল উদ্ধার তৎপরতা
- বিপিএল না হওয়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- অস্ত্রের ঘাটতির তথ্য ফাঁস: পেন্টাগনের ৫০ শীর্ষ কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা
- বাংলাদেশ ব্যাংক এখন চাঁদের মতো, দেখা যায় কিন্তু যাওয়া যায় না: এমপি মনিরুল
- ওয়াশিংটনকে ‘যন্ত্রণাদায়ক জবাবের’ নতুন হুঁশিয়ারি শীর্ষ নেতার
- জাতীয় সংসদে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের হিসাব তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্র
- গুপ্তদের আড়ালে স্বৈরাচার ফেরার শঙ্কা, অরাজকতা নিয়ে সতর্ক করলেন তারেক রহমান
- মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে তেল আবিবের বড় লক্ষ্য প্রকাশ
- রাতে রাজধানীর আবহাওয়া নিয়ে নতুন পূর্বাভাস
- আর্জেন্টিনার জার্সিতে আবারও দেখা যেতে পারে মেসিকে
- শেখ হাসিনার বক্তব্য ইস্যুতে ‘নো কমেন্ট’, তারেক রহমানের সফর নিয়ে যা বলল ভারত
- দেবিদ্বারে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল বল্লভপুর শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন
- নরসিংদীতে ছেলের হাতে বাবা খুন, আহত মা-ভাই
- নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা
- বিনা মূল্যে ২ লাখ টাকার আইটি প্রশিক্ষণ, রয়েছে চাকরির সুযোগ
- ‘চিকেনস নেক’-এ সমান্তরাল মহাসড়ক এনএইচ-৩২৭ বানাচ্ছে ভারত
- দলবদলের বাজারে নতুন চমক, ইউরোপ ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যে তরুণ উইঙ্গার
- লিপজিগে ড্রোন হামলা: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ অভিযোগ জার্মানির
- কারণ ছাড়া ওজন কমছে বা ক্লান্ত লাগছে? ক্যানসারের ৫ সংকেত জানাল জনস হপকিন্স
- সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি
- ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২৪ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখল: এস আলমের শেয়ার অবরুদ্ধ
- মধ্যপ্রাচ্যে সেনা নিরাপত্তা জোরদারে পেন্টাগনের নতুন পদক্ষেপ
- নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ
- আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে গ্যাস-বিদ্যুতের বিকল্প পরিকল্পনা দিন: রিজভী
- সব সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন
- মামলার ৮ দিন পর মাদরাসায় অভিযান, কেন হয়নি কেউ গ্রেপ্তার
- তিন দফা পতনের পর স্বর্ণের দামে বড় লাফ
- অস্ত্রের মজুদ ফাঁকা হওয়ার খবর ‘শতভাগ ভুল’: ট্রাম্পের হুঙ্কার
- র্যাব বিলুপ্তির পথে, সংসদে নতুন বিল উত্থাপন
- জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার আর্থিক প্যাকেজ চালু
- ‘জি এম তো নাই’: স্পিকারের রসিকতায় সংসদে হাসির রোল
- সাত মাসে নিখোঁজ ১৫ হাজার শিশু: পুলিশ সদরদপ্তর
- লন্ডনের ইলফোর্ডে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র মিলনমেলা অনুষ্ঠিত
- সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহের রহস্য উন্মোচনে বড় মাইলফলকের সামনে বিজ্ঞানীরা
- নতুন সামরিক হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ল ইরানে
- সৌদিতে সর্বোচ্চ রেড অ্যালার্ট জারি
- হতাশাজনক হারে এশিয়ান কাপ বাছাই থেকে বিদায় নিশ্চিত বাংলাদেশের
- টানা পতনের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন
- একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
- ভূগর্ভস্থ টানেলে আটকা শত শত প্রাণ, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান
- ইরানকে ‘ব্যর্থ ও মৃত রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান, নতুন বেতন কাঠামোয় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত
- ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ৭ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে ঝোড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে সতর্কতা
- পেট ফাঁপা ও বদহজম রোধে হেঁশেলের প্রাচীন উপায়ের কার্যকারিতা
- অস্ত্রের মজুদ ফাঁকা হওয়ার খবর ‘শতভাগ ভুল’: ট্রাম্পের হুঙ্কার
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় আরও ৬-৭টি দেশ: পাকিস্তান
- বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বাড়াবে আইপিইউ: শামা ওবায়েদ
- হতাশাজনক হারে এশিয়ান কাপ বাছাই থেকে বিদায় নিশ্চিত বাংলাদেশের
- এক ঐতিহাসিক যুগের সমাপ্তি, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মহাতারকা
- মেসিকে ছাড়া বিশ্বকাপ আগের মতো থাকবে না: জোসে মরিনিও








