আল জাজিরার প্রতিবেদন

ইরানে হামলা: মসাদের সক্ষমতা নাকি মার্কিন গোয়েন্দা ছাতার ওপর নির্ভরতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১১:১০:২৪
ইরানে হামলা: মসাদের সক্ষমতা নাকি মার্কিন গোয়েন্দা ছাতার ওপর নির্ভরতা
২০১১ সালের জানুয়ারিতে ইরানি পারমাণবিক বিজ্ঞানী মাসুদ আলি-মোহাম্মদির হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মসাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযুক্ত ইরানি এজেন্টদের কাছ থেকে জব্দ করা গুপ্তচরবৃত্তির বিভিন্ন সরঞ্জাম আদালতে প্রদর্শিত হচ্ছে। [আবেদি

ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলা এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো হত্যাকাণ্ড ঘিরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক প্রচারণা যেভাবে এসব অভিযানের কৃতিত্ব মসাদের গোয়েন্দা দক্ষতার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে, অনেক বিশেষজ্ঞের মতে বাস্তব চিত্রটি তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। তাদের মতে, এসব অভিযানের পেছনে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নজরদারি ব্যবস্থা এবং ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ২০২৪ সালে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহর ওপর হামলাও বিশ্লেষকদের মতে একই ধরনের গোয়েন্দা সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ফল।

ওয়াশিংটনের প্রযুক্তিগত ছায়া

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মসাদের অভিযানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (IISS)-এর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো অভিযানে সিআইএর সংগৃহীত লক্ষ্যভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য এবং রিয়েল-টাইম নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছিল।

এই অভিযানে মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির উপস্থিতিও ছিল স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের MQ-9 Reaper ড্রোন তেহরান ও শিরাজের আকাশে নজরদারি চালিয়ে লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে। অন্যদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ধ্বংসে ব্যবহৃত হয় টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং B-52 বোমারু বিমান।

একই ধরনের কৌশল দেখা যায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ হত্যার ঘটনাতেও। সে সময় ইসরাইলি বিমানবাহিনী ৯০৭ কেজি ওজনের মার্কিন নির্মিত বাঙ্কার-বাস্টার বোমা ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টার ধ্বংস করে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, খামেনির গতিবিধি নিয়ে কয়েক মাস ধরে সিআইএ নজরদারি চালায়। তেহরানের নেতৃত্ব কমপ্লেক্সে তিনি কখন উপস্থিত থাকবেন সেই তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই হামলার সময় রাত থেকে দিনের দিকে পরিবর্তন করা হয়।

ইসরাইলি বিষয়ক বিশ্লেষক মামুন আবু আমের আল জাজিরাকে বলেন, এসব অভিযান কেবল ইসরাইলের একক সাফল্য নয়; বরং এতে সিআইএ এবং যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা MI6-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা ছিল।

তার মতে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিজের কৌশলগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে টেনে আনতে তিনি সফল হয়েছেন।

তেহরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা

বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলা শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ফল নয়; বরং ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামাসের রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়াহ তেহরানের একটি আইআরজিসি অতিথিশালায় নিহত হওয়ার ঘটনা এই দুর্বলতার একটি বড় উদাহরণ। তদন্তে জানা যায়, বিস্ফোরকটি তার কক্ষে আগেই স্থাপন করা হয়েছিল, যা স্থানীয় সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল না।

গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা যায়, ইসরাইলি গোয়েন্দারা দীর্ঘ সময় ধরে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা হ্যাক করে খামেনির নিরাপত্তা বাহিনীর দৈনন্দিন চলাচলের ধরন বিশ্লেষণ করেছিল। হামলার ঠিক আগে স্থানীয় মোবাইল টাওয়ারগুলো জ্যাম করে দেওয়া হয়, যাতে নিরাপত্তা বাহিনী কোনো সতর্কবার্তা না পায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মসাদ অনেক সময় সরাসরি নিজস্ব এজেন্ট ব্যবহার না করে দ্বৈত নাগরিকত্বধারী বিদেশি নাগরিক বা স্থানীয় বিরোধী গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে থাকে। এতে সন্দেহ কম সৃষ্টি হয় এবং গোপন অনুপ্রবেশ সহজ হয়।

সরবরাহ শৃঙ্খলে অনুপ্রবেশ

ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার আরেকটি কৌশল হলো বাণিজ্যিক সরবরাহ শৃঙ্খলে অনুপ্রবেশ। ২০২৪ সালে লেবাননে পেজার বিস্ফোরণের ঘটনায় ইউরোপভিত্তিক শেল কোম্পানির মাধ্যমে সরঞ্জাম সরবরাহে অনুপ্রবেশ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

এছাড়া ইসরাইলি গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০ স্মার্টফোন হ্যাকিং নিয়ে গুজব ছড়িয়ে হিজবুল্লাহকে পেজার ব্যবহারে বাধ্য করে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। পরে সেই পেজারগুলোতেই বিস্ফোরক স্থাপন করা হয়েছিল।

ইসরাইলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা

তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইসরাইল নিজেও নিরাপত্তা দুর্বলতা থেকে মুক্ত নয়। ২০২৪ সালের এপ্রিল নাগাদ ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ৩০ জনের বেশি নাগরিককে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত করে।

এই গুপ্তচর নেটওয়ার্কের সদস্যরা টেলিগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ পেত এবং পেপ্যালের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করত। তারা নেভাতিম বিমানঘাঁটি, হাইফা বন্দর এবং গ্লিলট সামরিক গোয়েন্দা সদর দপ্তরের মতো সংবেদনশীল স্থানের ভিডিও ধারণ করেছিল।

পরবর্তীতে এসব তথ্য ব্যবহার করে ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে ধারণা করা হয়।

মানবিক ও পরিবেশগত সংকট

সাম্প্রতিক যৌথ মার্কিন-ইসরাইলি হামলার ফলে ইরানে পরিবেশগত ও মানবিক সংকটও তৈরি হয়েছে। তেহরানের তেল শোধনাগারসহ বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার ফলে বিষাক্ত ধোঁয়া ও দূষণের মাত্রা বেড়ে গেছে।

স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলা শুধু সামরিক নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড স্বল্পমেয়াদে কৌশলগত সাফল্য আনতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না।

তাদের মতে, অতীতে ১৯৭৩ সালের লিলেহামার হত্যাকাণ্ড, ১৯৯৭ সালে জর্ডানে খালেদ মেশালকে বিষ প্রয়োগের ব্যর্থ চেষ্টা এবং ২০১০ সালে দুবাইয়ে মসাদ এজেন্টদের পরিচয় ফাঁস হওয়ার মতো ঘটনাগুলোও দেখিয়েছে যে গোয়েন্দা অভিযান সবসময় কৌশলগত সাফল্য নিশ্চিত করে না।

মামুন আবু আমেরের মতে, গোয়েন্দা হত্যাকাণ্ড সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তন করতে পারে না। বরং এসব অভিযান কখনও কখনও এমন সংঘাত সৃষ্টি করে যা কোনো একক রাষ্ট্রের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সূত্র: আল জাজিরা


ইরানে বড় হামলার পরিকল্পনা ইসরায়েলের: মাঝপথে রুখে দিলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২১ ২০:০২:১৩
ইরানে বড় হামলার পরিকল্পনা ইসরায়েলের: মাঝপথে রুখে দিলেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

চলতি মাসের শুরুতে ইরানে আবারও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনের আগে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের ঝুঁকি এড়াতে এই পরিকল্পনায় বাধা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক বিশেষ প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ১০ অক্টোবর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সরকারি দপ্তর ও শাসনব্যবস্থার সংবেদনশীল অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ একাধিক বেসামরিক জায়গায় বড় ধরনের হামলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেটোর মুখে শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে বাধ্য হন নেতানিয়াহু।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভোটের ঠিক আগে নতুন কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে রাজি ছিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলেও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নিজের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিল সমীকরণ ও ক্ষমতার টানাপোড়েনের মাঝেই ইরানের ওপর হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

সূত্রগুলোর মতে, ট্রাম্প সবুজ সংকেত দিলে এই হামলার ব্যাপ্তি গত ফেব্রুয়ারির সামরিক সংঘাতকেও ছাড়িয়ে যেত। তবে এতে মার্কিন বাহিনী সরাসরি অংশ নিত নাকি ইসরায়েল এককভাবে অভিযান পরিচালনা করত, সে বিষয়টি এখনো অস্পষ্টই রয়েছে।

/আশিক


ফরাসি রাজপথে ‘বিসমিল্লাহ’ যুক্ত বিশেষ স্লোগান ঘিরে নতুন তোলপাড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২১ ১৮:৫০:১৩
ফরাসি রাজপথে ‘বিসমিল্লাহ’ যুক্ত বিশেষ স্লোগান ঘিরে নতুন তোলপাড়
ছবি : সংগৃহীত

গত সপ্তাহে ফ্রান্সে পর্যাপ্ত শিক্ষা সরঞ্জামের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে সমর্থন জানিয়ে রাজপথে নেমে আসেন লাখ লাখ মানুষ। এই আন্দোলনের মিছিলে বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে একটি বিশেষ স্লোগান নজর কাড়ছে—‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’। আরবি শব্দ ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে শুরু) এবং ফরাসি বাক্যাংশ ‘সে লে তেনেব্র’ (এটি অন্ধকার)—এ দুটি ভাষার মিশ্রণে তৈরি স্লোগানটি এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে আন্দোলনের প্রতীক ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফরাসি শিক্ষার্থীদের একটি গোপন স্ন্যাপচ্যাট গ্রুপে আন্দোলনের পরিকল্পনার সুযোগ নিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা একটি রহস্যময় বার্তা থেকে এই বাক্যাংশের উৎপত্তি। মামাদৌ বা আবদুল্লাহর মতো ছদ্মনাম ও আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি ব্যবহার করে বলা হয়েছিল, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র... আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলব।’ সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্রুত ধরে ফেলেন যে বার্তাটি কোনো সত্যিকারের তরুণের নয়; বরং আন্দোলন দমন ও নজরদারির উদ্দেশ্যে ফরাসি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আনাড়িভাবে তরুণ ও আরব-কৃষ্ণাঙ্গদের ভাষা নকল করার চেষ্টা করেছেন। পুলিশে কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব-ফরাসিদের যেভাবে অপরাধী হিসেবে তুলে ধরা হয়, এই ঘটনাকে শিক্ষার্থীরা সেই বৈষম্য ও অন্ধবিশ্বাসের বড় উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করে আন্দোলনকে জোরদার করেন।

শিক্ষার্থীরা এখন এই হাস্যকর বাক্যটিকে নিজেদের স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করে এটিই বুঝাচ্ছেন যে, সরকারের নজরদারি বা অনুপ্রবেশ তারা ধরে ফেলেছেন এবং এ সবে তারা ভীত নন। বর্তমানে কেবল ফ্রান্সেই নয়, বেলজিয়াম, জার্মানি এমনকি পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গের সংহতি বার্তাতেও ব্যবহৃত হয়ে এই স্লোগানটি আন্তর্জাতিক প্রভাবে রূপ নিয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের ধার আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

/আশিক


১৫ বছর ধরে নিখোঁজ স্ত্রীকে সাগরের গভীরে খুঁজছেন এক স্বামী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২১ ১৮:৪০:১০
১৫ বছর ধরে নিখোঁজ স্ত্রীকে সাগরের গভীরে খুঁজছেন এক স্বামী
ছবি : সংগৃহীত

২০১১ সালের ভয়াবহ সুনামিতে নিখোঁজ হন স্ত্রী ইউকো। ঘটনার পর দীর্ঘ ১৫ বছর কেটে গেলেও স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার শেষ আশাটুকু পুরোপুরি ছেড়ে দেননি জাপানের ইয়াসুও তাকামাতসু। তার দৃঢ় বিশ্বাস, সমুদ্রের গভীর তলদেশে কোথাও না কোথাও হয়তো আজও তার স্ত্রী তার জন্য অপেক্ষা করছেন। তাই স্ত্রীকে খোঁজার তাগিদে প্রতি মাসে নিয়মিত দুবার করে গভীর সাগরে ডুব দেন এই অনুগত স্বামী।

জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মিয়াগি প্রিফেকচারের ওনাগাওয়া বন্দর থেকে ছোট একটি মাছ ধরার নৌকায় চেপে সাগরের উদ্দেশে রওনা হন ইয়াসুও। উপকূল থেকে কয়েক কিলোমিটার গভীরে গিয়ে ডাইভিং মাস্ক, অক্সিজেন ট্যাংক ও ওজনযুক্ত বেল্ট পরিধান করে নেমে পড়েন হিমশীতল পানিতে। এভাবে গত ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি অব্যাহত রেখেছেন এই অনুসন্ধান। ২০১১ সালের ১১ মার্চ আঘাত হানা সেই প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্প ও সুনামি মিয়াগির বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে ইউকোকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। সেদিন সকালে স্ত্রীকে কর্মস্থলে পৌঁছে দেওয়ার পর রাতের খাবার নিয়ে কথা হয়েছিল তাদের; আর সুনামির ঠিক মুহূর্তে স্ত্রী শেষ বার্তা পাঠিয়েছিলেন—'তুমি কি নিরাপদে আছ? আমি বাড়ি যেতে চাই।' সেটিই ছিল তাদের শেষ যোগাযোগ।

পরদিন আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে স্ত্রীকে না পেয়ে ভেঙে পড়েন ইয়াসুও। দীর্ঘ দিন ধরে উপকূলরক্ষী বাহিনীর অনুসন্ধান দেখার পর, স্ত্রীর দেহাবশেষের খোঁজে তিনি নিজেই ডুব দেওয়া শেখার সিদ্ধান্ত নেন। এ পর্যন্ত তিনি মোট ৭৬৩ বার সমুদ্রের গভীরে নেমেছেন। প্রচলিত কবর না থাকায় গভীর সাগরে ডুব দেওয়াটাই এখন ইয়াসুওর জন্য স্ত্রীকে স্মরণ করার এবং তার কাছাকাছি পৌঁছানোর একান্ত ব্যক্তিগত উপায়। পানির প্রায় ৫০ মিটার গভীরে সুনামির ভগ্নাবশেষের মধ্য দিয়েই তিনি খুঁজে ফেরেন স্মৃতির আবেশ। ১৫ বছরের পুরনো শোক আর বার্ধক্যকে সঙ্গী করেই স্ত্রীর ভালোবাসার টানে সাগরের নীল জলে নিজের এই আত্মনিবেদন চালিয়ে যাচ্ছেন ইয়াসুও তাকামাতসু।

/আশিক


মার্কিন ডিভি লটারি ফিরছে: সুযোগ কি পাচ্ছেন বাংলাদেশিরা?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২১ ১৮:১৯:১৫
মার্কিন ডিভি লটারি ফিরছে: সুযোগ কি পাচ্ছেন বাংলাদেশিরা?
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত 'ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা' (ডিভি) লটারি চালু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে ডিভি লটারি বন্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা এক মামলায় গত ১৯ অক্টোবর দেশটির একটি ফেডারেল আদালত কর্মসূচিটি পুনরায় চালুর পক্ষে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন বলে মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ফোর্বসের প্রকাশিত তথ্যমতে, আদালত নির্দেশিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ডিভি লটারির আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং ১ নভেম্বর থেকে অনলাইন আবেদন পোর্টাল চালুর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া অন্তত ৩০ দিন খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে এবং লটারিতে নির্বাচিত আবেদনকারীদের ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নোটিশ দেওয়ার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

তবে নতুন এই সুসংবাদের মাঝেও বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। মার্কিন অভিবাসন আইন অনুযায়ী, বিগত পাঁচ বছরে কোনো দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ স্থায়ীভাবে অভিবাসিত হলে সেই দেশকে ডিভি লটারির বাইরে রাখা হয়। এই নিয়মেই ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ এই কর্মসূচিতে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে, যা ডিভি-২০২৬-এর সরকারি নীতিমালায়ও বলবৎ ছিল। তাই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বাংলাদেশের ভাগ্যে এবার সুযোগ মিলবে কি না।

প্রতিবছর এই কর্মসূচির অধীনে বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার মার্কিন অভিবাসী ভিসা প্রদান করা হয়ে থাকে। ইচ্ছুক আবেদনকারীদের প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে—লটারির পূর্ণাঙ্গ নিয়ম ও যোগ্যতা নিশ্চিত না হয়ে কোথাও ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি মনে রাখা জরুরি, ডিভি লটারির নিবন্ধনে কোনো ফি লাগে না; ফলে টাকার বিনিময়ে ডিভি লটারিতে নাম কাটিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো প্রতারক চক্র থেকে সবাইকে সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে।

আবেদনের সরকারি ওয়েবসাইট: dvprogram.state.gov


ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আন্তর্জাতিক উত্তাপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২১ ১৮:০৫:২৬
ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আন্তর্জাতিক উত্তাপ
ছবি : সংগৃহীত

ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে সংঘটিত বিক্ষোভ ও সহিংসতাকে কেন্দ্র করে মন্তব্য করা বিশ্বনেতাদের কড়া সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। এসব বক্তব্যকে 'বোকামিপূর্ণ মন্তব্য' হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি পরোক্ষ কটাক্ষ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে কাতারের দোহায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাখোঁ বলেন, নিজ নিজ দেশের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরাসি পরিস্থিতি নিয়ে মনগড়া রাজনীতি করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া ভিডিও দ্বারা প্রভাবিত হয়েই বিদেশি নেতারা ফরাসি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করেছেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ রূপ নেয় সহিংসতায়। মাখোঁ সরাসরি কারো নাম না নিলেও আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন ও ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় থাকা বিশ্বনেতারা যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রযুক্তিনির্ভর ভুয়া তথ্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন।

এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন যে ফ্রান্স উগ্র ইসলামপন্থিদের আগ্রাসনের মুখোমুখি। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফরাসি অস্থিরতার পেছনে অভিবাসীদের দায়ী করে দেশটির কট্টর ডানপন্থি নেত্রী মেরিন লো পেনের প্রশংসা করেন।

এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ফ্রান্স অভিবাসী কিংবা ইসলামপন্থিদের আক্রমণের শিকার হয়েছে বলে যা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কারসাজিমূলক। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতেই মূলত প্রকাশ পায় কারা প্রকৃতপক্ষে ফ্রান্সের বন্ধু আর কারা শত্রুম ভাবাপন্ন।

/আশিক


টাইগার শ্রফকে হত্যাচেষ্টা মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২০ ২০:০৮:০৫
টাইগার শ্রফকে হত্যাচেষ্টা মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়
ছবি : সংগৃহীত

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তদন্তে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাকারীদের মূল টার্গেট টাইগার ছিলেন না; মূলত অন্য এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে তারা মুম্বাইয়ে প্রবেশ করেছিল।

পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্যে জানা যায়, বিহারের ২২ বছর বয়সী হৃতিক ওরফে রোশন এবং হরিয়ানার ১৮ বছর বয়সী রেহান ও ফুল সিং নামের তিন তরুণ গত রোববার সন্ধ্যায় জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়িতে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ফুটবল খেলে ফেরার পথে অভিনেতার গাড়ি লক্ষ্য করে এই হামলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, প্রধান টার্গেটের নাগাল না পাওয়ায় এবং ইনস্টাগ্রাম রিল ও ভক্তদের ভিডিওর মাধ্যমে টাইগার শ্রফের চলাফেরার তথ্য ও পুলিশি নিরাপত্তার অভাব দেখে তারা তাকেই সহজ লক্ষ্যবস্তু বানায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অভিনেতাকে হত্যা করে বলিউডে ত্রাস সৃষ্টি করা।

হামলার সময় টাইগার ও তার গাড়িচালককে লক্ষ্য করে মোট সাত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। তবে অস্ত্রের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হামলাকারীরা পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি এবং আহত অবস্থাতেই অভিনেতা নিরাপদে স্থান ত্যাগ করেন।

এদিকে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য অনিল পণ্ডিতের পাঠানো একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে এই ঘটনার দায় স্বীকার করা হয়। ওই বার্তায় দাবি করা হয়, সালমান খানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে নিষেধ করা হলেও টাইগার তা না মানায় তাকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পে সালমান খানের সঙ্গে কাজ চালিয়ে গেলে বা তাদের নির্দেশনা অমান্য করলে পরিণাম যে কী হতে পারে, তার চূড়ান্ত হুশিয়ারিও দেওয়া হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, এই মিশনে অংশ নেওয়ার জন্য হামলাকারীদের অগ্রিম ৫০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল এবং কাজ শেষে আরও অর্থের পাশাপাশি বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। অপারেশন শেষে তারা তাদের মূল নিয়ন্ত্রকদের মিশন সফল হওয়ার খবরও জানায়। এদিকে ঘটনার পর গত সোমবার টাইগার শ্রফের বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মুম্বাইয়ে কোনো ধরনের গুণ্ডামি বরদাস্ত করা হবে না এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/আশিক


সৌদি আরবের সুরক্ষায় এবার যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২০ ১৯:৫৭:৫৯
সৌদি আরবের সুরক্ষায় এবার যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আরবের নগরী এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় যুক্তরাজ্য রাজকীয় বিমানবাহিনীর টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ব্রিটিশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, রয়্যাল এয়ারফোর্সের এই টাইফুন ফাইটার জেটগুলো কেবল সৌদি আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কাজেই ব্যবহৃত হবে। ইয়েমেনের ভেতরে গিয়ে কোনো আক্রমণাত্মক হামলায় এসব বিমান অংশ নেবে না। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হুথিদের হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য তার পূর্ব বিদ্যমান আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ বাড়ালো।

গত জুলাই মাস থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করে, যখন সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের এক ফ্লাইট অবতরণের সময় সৌদি জোট হামলা চালায়। এর জবাবে হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধের হুমকি দেয়ার পাশাপাশি সৌদি ভূখণ্ডে হামলার পরিধি বাড়ায়। একদিকে সমুদ্রপথে অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে হুথিদের এই আক্রমণাত্বক অবস্থান, অন্যদিকে ইয়েমেনের ভেতরে স্থানীয় সরকারি বাহিনীর সাথে হুথিদের ভূখণ্ড দখলের তীব্র লড়াই—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে সংঘাত এখন আরও জটিল রূপ নিয়েছে।

সূত্র: সিএনএন


ফ্রান্সের মতো ঋণসংকটে কি পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? উদ্বেগে বিশ্ব অর্থনীতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২০ ১৮:৩৮:১৪
ফ্রান্সের মতো ঋণসংকটে কি পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? উদ্বেগে বিশ্ব অর্থনীতি
ছবি : সংগৃহীত

ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ, চড়া সুদের হার এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি ফ্রান্স। জিডিপির প্রায় ১১৯ শতাংশে পৌঁছানো ঋণ ও ৫.৪ শতাংশ বাজেট ঘাটতি কাটাতে দেশটির অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার অক্ষমতা যখন পুরো পশ্চিমা বিশ্বকে ভাবিয়ে তুলছে, ঠিক তখনই প্রশ্ন উঠেছে—বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রও কি একই ধরনের ভয়াবহ ঋণসংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে?

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জি৭ ভুক্ত দেশগুলোর সরকারি বন্ডের সুদের হার দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং চলতি দশকের শেষে তাদের সম্মিলিত ঋণ জিডিপিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ইতিমধ্যেই ৩২ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছেছে এবং বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ কোটি ডলারে, যেখানে কর রাজস্বের প্রতি ৭ ডলারের ১ ডলারই চলে যাচ্ছে ঋণের সুদ মেটাতে। তবুও মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সি বা রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে আধিপত্য, শক্তিশালী আইনি কাঠামো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের নজিরবিহীন প্রবৃদ্ধির বদৌলতে যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্সের চেয়ে তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

তবে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত সরাসরি সংকট এড়িয়ে চললেও দেশটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আগামী বছর ঋণসীমা (Debt Ceiling) বাড়ানো নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও কংগ্রেসের সম্ভাব্য মতবিরোধ নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডির মতে, ঋণসীমা সময়মতো না বাড়ানো হলে অর্থ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম ঋণখেলাপির মতো মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে ফ্রান্সের বাজেট সংকট যেমন ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত ঋণবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন অর্থনীতির স্থিতিশীলতাও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

সূত্র: সিএনএন


ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর জেরে নতুন বিতর্ক, মুখ খুলল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২০ ১৮:২১:২১
ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর জেরে নতুন বিতর্ক, মুখ খুলল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার সিঁথির দণ্ড কার্যকরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে মক্কার পবিত্র কাবার হাজরে আসওয়াত (কালো পাথর) চুম্বনের সময় এক পুরুষকে এক নারীর মাথায় ধাক্কা দিতে দেখা যায় এবং দাবি করা হয় যে এটিই সেই দণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির অপরাধের দৃশ্য। তবে এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে সৌদির দুই পবিত্র মসজিদ (মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী) পরিচালনা কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুই পবিত্র মসজিদ কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় স্পষ্ট জানানো হয়, সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সংবলিত তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এটি ওই বাংলাদেশিদের মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত সংবাদের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত বা কোনো ধরনের প্রামাণ্য দলিল নয়। এর আগে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে মসজিদের ভেতর ‘অনৈতিক কাজ’ করার অভিযোগে তাদের দণ্ড কার্যকরের তথ্য জানালেও, ঠিক কোন স্থানে কিংবা কবে এই ঘটনা ঘটেছিল—সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

এদিকে দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি থাকা নজরুলের পরিবারের অভিযোগ, প্রতি সপ্তাহে একদিন পরিবারকে ফোন করার সুযোগ পেলেও বিচারের সঠিক ধাপ কিংবা ফাঁসির আগাম কোনো তথ্য তাঁদের জানানো হয়নি। আকস্মিকভাবে দণ্ড কার্যকরের খবরে পরিবারটি শোকাহত হলেও, ইন্টারনেটে ভুয়া ও অপপ্রচারের মাধ্যমে ছবি-ভিডিও ছড়ানোর ফলে প্রবাসীদের প্রকৃত আইনি পরিস্থিতি ও সত্যতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র: খালিজ টাইমস

পাঠকের মতামত: