আমি যা বলি তা-ই করি, আর আমি রাগী: রুমিন ফারহানা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ৩১ ১১:১৮:২৫
আমি যা বলি তা-ই করি, আর আমি রাগী: রুমিন ফারহানা
ছবি : সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক বিএনপি নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নিজের স্বভাবের দুটি বিশেষ দিক বা ‘দোষের’ কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার তেলিকান্দি গ্রামে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, তিনি যা বলেন তা-ই করেন এবং তিনি কিছুটা রাগী স্বভাবের।

জনসভায় রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার দুটো দোষ আছে। এক হলো, আমি যা বলি আমি তাই করি। মানুষ মিষ্টি কথা শুনতে চায়, কিন্তু আমি মিথ্যে মিষ্টি কথা বলতে পারি না। আর দুই হলো, আমি একটু রাগী মানুষ। আসলে এই দেশে কাজ করতে হলে রাগী না হয়ে উপায় নেই।’ সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারণার সময় এক কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর বাগবিতণ্ডার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেদিন যদি ধমক না দিতাম, তবে আমার কর্মীদের সঙ্গে অন্যায় করা হতো। আমি শুধু বুঝিয়ে দিয়েছি যে প্রয়োজনে আমি কতটা কঠোর হতে পারি।’

সংরক্ষিত আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘আমি চাইলে আবারও মহিলা কোটায় এমপি হতে পারতাম। কিন্তু সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলে এলাকার জন্য অনেক বেশি কাজ করা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই আমি এই কঠিন লড়াইয়ে নেমেছি।’

এর আগে জয়ধর কান্দি এলাকার অন্য একটি সভায় তিনি ভোটারদের মার্কা বা প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘মার্কা ভালো হতে পারে, কিন্তু প্রার্থী যদি সাহসী ও সৎ না হয় তবে সে একা লড়াই করে আপনাদের অধিকার আদায় করতে পারবে না।’

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি জোটের শরিক দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নেতা জুনায়েদ আল হাবিবকে মনোনয়ন দেওয়ায় রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়ান। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বিএনপি তাঁকে বহিষ্কার করেছে। বর্তমানে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।


ভয় দেখালে আস্ত রাখব না: রুমিন ফারহানা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ২১:৪৭:০৪
ভয় দেখালে আস্ত রাখব না: রুমিন ফারহানা
ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনী মাঠে তাঁকে নানাভাবে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা গ্রামে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই গুরুতর অভিযোগ আনেন।

জনসভায় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমি হুমকিতে এতটুকু টলার মানুষ না। আমি কাউকে হুমকি দিই না, তবে কেউ যদি আমার নেতাকর্মী বা আমাকে ভয় দেখানোর দুঃসাহস করে, তাকে আমি আস্ত রাখি না।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা থাকা সত্ত্বেও লড়াই করে তিনি বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

স্থানীয় ভোটারদের সাহস জুগিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, এই নির্বাচন সাধারণ মানুষের মুক্তির লড়াই। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৮ মাসে এলাকায় ব্যাপক হারে মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং মানুষকে জিম্মি করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। তিনি অঙ্গীকার করেন যে, বিজয়ী হলে এসব অরাজকতা থেকে জনগণকে মুক্তি দেবেন এবং যারা মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তাঁদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন। একই সাথে ভোটকেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মাঠ না ছাড়ার কড়া নির্দেশ দেন এই স্বতন্ত্র প্রার্থী।


পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে কে এগিয়ে? সোচ্চারের জরিপে চমক!

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১৯:০২:৩৩
পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে কে এগিয়ে? সোচ্চারের জরিপে চমক!
তারেক রহমান, ডা. শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলাম/ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ও পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে জনমনে যখন প্রবল কৌতূহল, ঠিক তখনই এক চাঞ্চল্যকর জনমত জরিপের ফল প্রকাশ করেছে বেসরকারি সংস্থা ‘সোচ্চার’। জরিপে উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য—দেশের সিংহভাগ ভোটার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। তবে তাঁর ঠিক পরেই জনপ্রিয়তার দৌড়ে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই জরিপের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। জরিপটি পরিচালনার জন্য ঢাকার চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা—ঢাকা-১৭, ঢাকা-১৫, ঢাকা-১১ ও ঢাকা-১৩ আসনের মোট ২ হাজার ২৪১ জন ভোটারের সরাসরি মতামত নেওয়া হয়। ভোটারদের কাছে প্রশ্ন ছিল, “আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সরকারে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনি কাকে দেখতে চান?”

জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৪২ দশমিক ১ শতাংশ সরাসরি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বলে বিশ্বাস করেন ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার। জরিপের এই ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পরবর্তী সরকার প্রধান নির্বাচনের ক্ষেত্রে তারেক রহমান এবং ডা. শফিকের মধ্যে একটি বড় ধরনের জনপ্রিয়তার লড়াই দৃশ্যমান।

অন্যান্যদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ। তবে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অর্থাৎ ১৬ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি এবং ৪ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তারেক রহমানের প্রতি পুরুষ ভোটারদের সমর্থন ৪২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নারী ভোটারদের সমর্থন ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে, ডা. শফিকুর রহমানের প্রতি পুরুষদের সমর্থন ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ হলেও নারীদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা কিছুটা বেশি (৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ)। বিশ্লেষকদের মতে, এই জরিপের ফলাফল আসন্ন নির্বাচনে বড় দলগুলোর ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।


দাঁড়িপাল্লার এক পাল্লায় আমেরিকা, অন্য পাল্লায় ভারত: চরমোনাই পীর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১৮:৫০:১৪
দাঁড়িপাল্লার এক পাল্লায় আমেরিকা, অন্য পাল্লায় ভারত: চরমোনাই পীর
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোট ও প্রতীকের রাজনীতি নিয়ে এক তীক্ষ্ণ ও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে পটুয়াখালীর বাউফল ও জেলা শহরের পৃথক দুটি নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, বর্তমান রাজনীতির সমীকরণে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের এক পাল্লায় আমেরিকা এবং অন্য পাল্লায় ভারত অবস্থান করছে।

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি আব্দুল মালেক আনোয়ারীর সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় চরমোনাই পীর জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র সমালোচনা করে বলেন, “তারা বলেন দাঁড়িপাল্লা ইনসাফের প্রতীক, ন্যায়ের প্রতীক। এ কোন ইনসাফ? এখন তো দেখি দাঁড়িপাল্লার এক পাল্লায় গোপনে আমেরিকা, আরেক পাল্লায় গোপনে ভারত।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আমেরিকা বা ভারতের ইনসাফ দেখতে চায় না, তারা চায় ‘ইসলামের ইনসাফ’।

রাষ্ট্র পরিচালনা ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রেজাউল করীম বলেন, বিগত ৫৪ বছর ধরে প্রচলিত আইন দিয়ে দেশ চললেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং এক দল ক্ষমতায় আসলে অন্য দল দেশ ছেড়ে পালানোর সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় আসলে কোনো নিরপরাধ মানুষকে দেশ ছেড়ে পালাতে হবে না।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী আকাঙ্ক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষ জুলুম ও নির্যাতনমুক্ত একটি সোনার দেশ চেয়েছিল, কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহলের নীল-নকশার কারণে সেই আশা ভেস্তে যেতে বসেছে। এ সময় তিনি হাতপাখা প্রতীকে ভোট চেয়ে বলেন, প্রতিটি ভোট ইসলামের শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। বাউফল উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক মুফতি আব্দুল মালেক আনোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।


বংশানুক্রমিক রাজার ছেলে রাজা হওয়ার প্রথা বদলাতে চাই: জামায়াত আমির 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১৭:৫৪:২৬
বংশানুক্রমিক রাজার ছেলে রাজা হওয়ার প্রথা বদলাতে চাই: জামায়াত আমির 
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন যে, জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনগণের সম্পদের পাহারাদার হিসেবে কাজ করবে এবং জনগণের তহবিলের কোনো অপব্যবহার হতে দেবে না। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জামায়াতের প্রত্যেক সংসদ সদস্য প্রতি বছর নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব দিতে বাধ্য থাকবেন।

জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান এক ব্যতিক্রমী রাজনীতির রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, “আমরা ক্ষমতায় গেলে সরকারি প্লট কিংবা ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ির সুবিধা গ্রহণ করব না; প্রয়োজনে রিকশায় চড়ব অথবা পায়ে হেঁটে জনগণের সেবা করব।” রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নয় বরং পবিত্র কর্তব্য হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা রাজনীতিকে পেশা বানিয়েছে তারাই দেশে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুণ্ঠন চালিয়েছে। বিগত ১৫ বছরে দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বিপুল অর্থের প্রকৃত মালিক এ দেশের সাধারণ মানুষ।

দুর্নীতি ও দুঃশাসনের জন্য বিগত শাসকগোষ্ঠীকে দায়ী করে জামায়াত আমির বলেন, অসৎ নেতৃত্বের কারণেই এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী সুবাতাস উপভোগ করতে অনেকে ‘বসন্তের কোকিল’ সেজে জনগণের কাছে পীর-দরবেশের মতো হাজির হন এবং উন্নয়নের মিথ্যা আশ্বাস দেন, কিন্তু ভোট শেষ হলে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। জামায়াত এই ‘বংশানুক্রমিক রাজা হওয়ার’ প্রথা পরিবর্তন করে যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াত ক্ষমতায় আসলে ব্যবসায়ীদের রাতের ঘুম হারাম হবে না এবং ফুটপাতের হকারদেরও আর চোখের পানি ফেলতে হবে না।

জেলা জামায়াতের আমির মখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, কাজী মহসিন আহমেদ ও ড. আহমদ আব্দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।


ক্ষমতায় এলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বিএনপি: তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১৭:২৪:৪৩
ক্ষমতায় এলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বিএনপি: তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নীলফামারীতে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা আড়াইটার দিকে নীলফামারী পৌরসভা মাঠে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে নীলফামারী জেলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে ব্যাপক কলকারখানা স্থাপন করা হবে যাতে স্থানীয় তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এছাড়া বেকার যুবকদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে বিশেষ ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন এবং কৃষকদের ভাগ্য বদলে ‘কৃষি কার্ড’সহ নানামুখী ভর্তুকি ও সহায়তার পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ কিংবা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—কোথাও কোনো ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ছিল না। তাই আগামী দিনের বাংলাদেশেও কোনো বিভাজন থাকবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আগামী দিনের রাজনীতি হবে দেশ গঠনের; যেখানে দল-মত নির্বিশেষে সবাই মিলে একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।” তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে ভোটারদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং যারা এসব অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত, তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বক্তব্য শেষে তারেক রহমান নীলফামারী জেলার ৪টি আসনের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এরা হলেন: নীলফামারী-১ আসনের জোটের প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল আলম আফেন্দী (জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম), নীলফামারী-২ আসনের প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন (বিএনপি), নীলফামারী-৩ আসনের সৈয়দ আলী (বিএনপি) এবং নীলফামারী-৪ আসনের আব্দুল গফুর সরকার (বিএনপি)। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন।


শিল্প, কৃষি ও আইটি হাব গড়ার ঘোষণা তারেক রহমানের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১৩:১৬:২০
শিল্প, কৃষি ও আইটি হাব গড়ার ঘোষণা তারেক রহমানের
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের দ্বারপ্রান্তে দেশ দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর ভাষায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কেবল একটি নির্বাচন নয়; এটি রাষ্ট্রকে নতুন করে গড়ে তোলার এবং হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, অতীতের তিনটি নির্বাচনে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আবারও প্রকৃত অর্থে প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ পেতে যাচ্ছে, যা দেশ পুনর্গঠনের ভিত্তি তৈরি করবে।

তারেক রহমান জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে প্রান্তিক পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি, যার মাধ্যমে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে পারবেন। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, এতে স্বল্পসুদে ঋণ, সার ও উন্নত বীজ পাওয়া সহজ হবে।

তিনি আরও ঘোষণা দেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ বিজয়ী হলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। তাঁর মতে, কৃষি শক্তিশালী না হলে জাতীয় অর্থনীতি টেকসই হতে পারে না।

আঞ্চলিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ঠাকুরগাঁও ও আশপাশের এলাকায় বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলসহ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার নির্মাণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আইটি হাব গড়ে তোলা এবং ঠাকুরগাঁওয়ে একটি ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার চেষ্টার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি সরকার গঠনের পর যত দ্রুত সম্ভব এই অঞ্চলের বিমানবন্দর চালুর আশ্বাস দেন।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপির রাষ্ট্রদর্শনে ধর্ম নয়, যোগ্যতা ও মেধাই হবে বিচার্যের প্রধান মানদণ্ড। সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করবে, এটাই দলের অঙ্গীকার।

সমাবেশে উপস্থিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধ্বংসস্তূপে পরিণত রাষ্ট্রকে পুনরুদ্ধারে দেশবাসী আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে। তাঁর মতে, এই সংকটময় সময়ে দলীয় ও জাতীয় স্বার্থে তারেক রহমানকে সর্বাত্মক সমর্থন দেওয়া জরুরি।

-রাফসান


আজকের বাংলাদেশ দেখলে শহীদ ভাইরা মুক্তিযুদ্ধে যেত না: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১২:৫৬:৩৭
আজকের বাংলাদেশ দেখলে শহীদ ভাইরা মুক্তিযুদ্ধে যেত না: জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের যে স্বপ্ন ছিল, স্বাধীনতার এত বছর পরও তার বাস্তব প্রতিফলন জাতি দেখতে পায়নি। তিনি জানান, নিজেও একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে গভীর বেদনা নিয়ে বলতে চান আজকের বাংলাদেশের বাস্তবতা যদি তাঁর শহীদ ভাই দেখতেন, তাহলে হয়তো সেদিন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলতেন।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় হবিগঞ্জ নিউ ফিল্ড মাঠে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কাজী মুখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং হবিগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী কাজী মহসিন আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে জেলার চারটি সংসদীয় আসনে জোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা জীবন বাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করেছেন, জাতি তাদের কাছে চিরঋণী। কিন্তু প্রশ্ন হলো রাষ্ট্র, রাজনীতি ও নেতৃত্ব কি সেই ঋণের যথাযথ মর্যাদা দিতে পেরেছে। শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন সমাজ, যেখানে অর্থনৈতিক মুক্তি থাকবে, সন্তানরা পাবে মানসম্মত শিক্ষা। বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন আজও অপূর্ণ রয়ে গেছে। এর দায় সাধারণ মানুষের নয়; দায় রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা নেতৃত্বের।

তিনি বলেন, বারবার যারা ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, ভালো কাজ করলে সেটিও তাদের কৃতিত্ব, আবার ব্যর্থতা ও অপকর্মের দায়ও তাদেরই নিতে হবে। অথচ যে দেশের মানুষের শ্রমে বিদেশে সমৃদ্ধি আসে, সেই দেশের মানুষ নিজ দেশে নিরাপত্তা ও স্বস্তি পায় না এটি নেতৃত্বের নৈতিক ব্যর্থতারই প্রমাণ।

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে দাঁড়াতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। উদাহরণ হিসেবে তিনি ভিয়েতনামের কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতা ও গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে দেশটি আজ আঞ্চলিক উন্নয়নের মডেল। অথচ বাংলাদেশে এখনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মামলাবাজি ও সর্বগ্রাসী দুর্নীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে অস্থির করে রেখেছে। নারী নিরাপত্তাহীন, পরিবার আতঙ্কগ্রস্ত এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে অনৈতিকতা ছড়িয়ে পড়েছে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় আমির ও হবিগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, মহাসচিব ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী ড. আহমদ আব্দুল কাদের বাচ্চু, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়েরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা সবাই ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, জবাবদিহিমূলক রাজনীতি এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

-রাফসান


রাজনীতি যারা পেশা বানিয়েছে, তারাই আজ দেশ লুট করছে: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১১:৫৮:২৭
রাজনীতি যারা পেশা বানিয়েছে, তারাই আজ দেশ লুট করছে: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনীতিকে পেশা নয়, বরং পবিত্র কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে হবিগঞ্জের নিউ ফিল্ড মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে, তারাই মূলত দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মামলাবাজি ও লুণ্ঠনের সাথে জড়িত।

জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান দলীয় নেতা-কর্মীদের জন্য একগুচ্ছ নৈতিক নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দলের কোনো সংসদ সদস্য (এমপি) সরকারি বিনা ট্যাক্সের গাড়ি সুবিধা গ্রহণ করবেন না। বিলাসবহুল গাড়ির বদলে প্রয়োজনে রিকশায় চড়ে জনগণের সেবা করার অঙ্গীকার করেন তিনি। এছাড়া সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত স্বল্পমূল্যের ফ্ল্যাট সুবিধাও দলের কেউ গ্রহণ করবেন না। যার নিজস্ব সামর্থ্য আছে, তিনি পূর্ণ বাজারমূল্যে গাড়ি বা ফ্ল্যাট ক্রয় করবেন, কিন্তু জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কোনো বিশেষ সুবিধা নেওয়া হবে না।

দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় গেলে দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হবে। কেউ যদি জনগণের আমানত বা সম্পদে হাত দেয়, তবে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিতে দেশ বর্তমানে ছেয়ে গেছে এবং এর দায়ভার বিগত শাসনকর্তাদের নিতে হবে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে ভোটের সময় বড় বড় কথা বললেও পরে ভুলে যান, কিন্তু জামায়াত কর্মমুখী ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে বদ্ধপরিকর। চাঁদাবাজদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, কেউ চাঁদা নিতে আসলে তার হাত ভেঙে দেওয়া হবে এবং দেশকে সম্পূর্ণ চাঁদাবাজমুক্ত করা হবে।


পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ লীগমুক্ত করতে হবে: সাদিক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১১:৫২:২৬
পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ লীগমুক্ত করতে হবে: সাদিক
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে ‘লীগমুক্ত’ করার দাবি জানিয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী মাজার মোড় এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, জনবান্ধব প্রশাসন গড়তে পুলিশের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগের দোসরদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে ডাকসু ভিপি বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী এখনো প্রশাসনকে ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোটাধিকার নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, স্বাধীনতার পর থেকে বারবার সংসদ সদস্য পরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হয়নি। জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

শোষণমুক্ত দেশ ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে আবু সাদিক কায়েম ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়যুক্ত হওয়া মানেই প্রকৃত আজাদী বা স্বাধীনতা।" এছাড়া তিনি বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদের পক্ষে সমর্থন চেয়ে বলেন, রাহাদ নির্বাচিত হলে তিনি শাসক নন, বরং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবেন। বাগেরহাট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ইউনুস শেখের সঞ্চালনায় সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মতামত: