নির্বাচন ৩০ জুন ২০২৬-এর পরে যাবে না: প্রেস সচিব শফিকুর আলম

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ মে ২৬ ০৮:১৩:৫৬
 নির্বাচন ৩০ জুন ২০২৬-এর পরে যাবে না: প্রেস সচিব শফিকুর আলম

দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের সর্বোচ্চ সময়সীমা হিসেবে ২০২৬ সালের ৩০ জুন নির্ধারণ করেছেন। এ সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। বৈঠক শেষে রোববার (২৫ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুর আলম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, নির্বাচন ৩০ জুন ২০২৬-এর পরে যাবে না। এই সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলো এই অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।”

বৈঠকে অংশ নেওয়া দলগুলোর নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সংস্কার, বিচার কার্যক্রম এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সমর্থন জানানোর পাশাপাশি বর্তমান সরকারের সঙ্গে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বলে জানান শফিকুর আলম।

নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, “স্যার ডেডলাইন দিয়েছেন — সেটা বারবার বলছি। তিনি এক কথার মানুষ। তাকে বিশ্বাস করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “যখন সময় হবে, তখনই রোডম্যাপ ও নির্বাচন শিডিউল ঘোষণা করা হবে। সঠিক সময়ে সব কিছু স্পষ্ট হবে।”

রোববারের বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে যে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি কীভাবে এগোচ্ছে, সে বিষয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, বৈঠকে অংশ নেওয়া দলগুলো এই প্রক্রিয়াকে "গঠনমূলক অগ্রগতি" বলে অভিহিত করেছে এবং নির্বাচন ঘিরে একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে এই প্রতিশ্রুতি দেশজুড়ে আস্থা ফেরাতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। তবে তারা মনে করছেন, বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকর প্রস্তুতি ছাড়া এই প্রতিশ্রুতি বাস্তব রূপ পাবে না।

- ইসরাত, নিজস্ব প্রতিবেদক


নুরের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার হবে, আশ্বাস দিলেন উপদেষ্টা আসিফ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩১ ১৮:৫৮:৪৯
নুরের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার হবে, আশ্বাস দিলেন উপদেষ্টা আসিফ
ছবি: সংগৃহীত

নুরের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার হবে: আশ্বাস দিলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদজাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় গুরুতর আহত গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের শারীরিক খোঁজ নিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। রোববার (৩১ আগস্ট) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুরকে দেখে এসে তিনি এই হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, “ফ্যাসিবাদের পক্ষের শক্তিদের আশ্রয় দিতেই একটি পক্ষ গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের টার্গেট করছে।” তিনি জাতীয় পার্টিকে চিহ্নিত ফ্যাসিবাদী শক্তি বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, জাতীয় পার্টি তাদের ভেতর দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই নুরুল হকের ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলা করেছে।

তিনি আরও বলেন, এই হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে এবং নুরুল হকের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩১ ১৮:০২:১১
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা (পিআর) পদ্ধতিতে করার দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রবিবার (৩১ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশন বরাবর রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ও ই-মেইলে এই নোটিশটি পাঠান।

নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে আয়োজনের জন্য সরকারকে অবিলম্বে সংবিধান সংশোধন এবং নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও বিধান জারি করতে হবে, যাতে রাজনৈতিক দলগুলো সময়মতো প্রস্তুতি নিতে পারে। নোটিশে আরও বলা হয়, আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এই বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হবে।

নোটিশে বলা হয়, বর্তমান নির্বাচনব্যবস্থায় জনগণের ভোট সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কমসংখ্যক ভোট পেয়েও প্রার্থীরা নির্বাচিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, বিপুলসংখ্যক ভোট কোনোভাবেই সংসদে প্রতিফলিত হচ্ছে না। এতে জনগণের ভোটের মর্যাদা লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সংসদে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটছে না।

পিআর পদ্ধতি সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো অনেক উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে সফলভাবে চালু আছে।

/আশিক


নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩১ ১৪:২০:২২
নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে এবং করবে। তাদের প্রতিহত করতে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে কোর কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল, জাতির বৃহত্তর স্বার্থে তা ধরে রাখতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ঐক্যে ফাটল ধরলে ‘দোসররা’ নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আছে। তবে এ জন্য রাজনৈতিক দলসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং দেশের সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ রোববার (৩১ আগস্ট) বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বৈঠক করবেন।

শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, “বিকেল ৩টার সময় বিএনপির সঙ্গে, সাড়ে ৪টায় জামায়াত এবং সন্ধ্যা ৬টায় এনসিপির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি এবং নির্বাচন নিয়ে আলাপ আলোচনা হবে।”

/আশিক


জুলাই সনদ নিয়ে মতভেদ চরমে, আজ তিন দলের সঙ্গে বৈঠক অন্তর্বর্তী সরকারের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩১ ১০:৩৯:৩৮
জুলাই সনদ নিয়ে মতভেদ চরমে, আজ তিন দলের সঙ্গে বৈঠক অন্তর্বর্তী সরকারের

জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলমান মতভিন্নতার পাশাপাশি নুরুল হকের ওপর হামলার ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন হঠাৎ করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ রবিবার আলাদাভাবে বৈঠক করবেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গে। বৈঠকগুলো প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতে, যখন জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা লাঠিপেটা চালায় এবং এতে গুরুতর আহত হন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলই বিবৃতি দিয়েছে, আর অন্তর্বর্তী সরকারও দ্রুত বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বৈঠকের সময়সূচি ইতিমধ্যেই নির্ধারণ করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে চারটায় জামায়াতে ইসলামী, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং রাত সাড়ে সাতটায় বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসবেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, আমন্ত্রণ তাঁরা গ্রহণ করেছেন। তবে একই সময়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান থাকায় সময় সমন্বয়ের অনুরোধ জানানো হতে পারে। অন্যদিকে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, তাঁদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিয়েই মূলত আলোচনা হবে। জামায়াতে ইসলামী থেকেও বৈঠকে উপস্থিতির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, যদিও আলোচনার নির্দিষ্ট এজেন্ডা সম্পর্কে তাঁরা মুখ খুলতে চাননি।

এদিকে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে, আলোচনায় জাতীয় পার্টির (জাপা) ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও আলাপ হতে পারে। সমালোচকদের মতে, জাপা একদিকে অতীতে সামরিক শাসনের সহযোগী ছিল, অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। গণ অধিকার পরিষদ ইতোমধ্যেই দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এ বিষয়ে আইনগত পর্যালোচনা চলছে।

রাজনৈতিক সঙ্কটের পাশাপাশি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সময়মতো— অর্থাৎ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে— অনুষ্ঠিত হবে কি না। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, একটি গোষ্ঠী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে এবং জনগণের ইচ্ছার বিপরীতে কোনো শক্তিকে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় বাধা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে জুলাই সনদের সংস্কার নিয়ে ঐকমত্য গঠনের প্রচেষ্টা জটিল হয়ে পড়েছে। বিএনপি চায় সাংবিধানিক সংস্কারগুলো নির্বাচনের পরবর্তী সংসদে কার্যকর হোক। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি চাইছে নির্বাচনের আগেই সংস্কার কার্যকর করা হোক এবং সেই ভিত্তিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কমিশনের নেপথ্য আলোচনায়ও স্পষ্ট হয়েছে, এই মতভেদই ঐকমত্য তৈরির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আজকের বৈঠক তিন দলের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার দরজা খুললেও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলতা ও সমঝোতার মনোভাবই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ।


কড়া বার্তা অন্তর্বর্তী সরকারের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ১৭:১৮:৪৪
কড়া বার্তা অন্তর্বর্তী সরকারের
ছবিঃ সংগৃহীত

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শনিবার (৩০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে এবং জড়িত কোনো ব্যক্তি প্রভাব কিংবা পদমর্যাদা দেখিয়ে জবাবদিহিতা থেকে রেহাই পাবে না।

বিবৃতিতে নূরকে কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবেই নয়, বরং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম অগ্রণী মুখ, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের জন্য সাহসী সংগ্রামী এবং জনগণের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। নূরের ওপর এই হামলাকে শুধু একজন রাজনীতিবিদের ওপর আঘাত নয়, বরং ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও জনগণের মুক্তির সংগ্রামে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মর্মভূমির ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচনা করে অন্তর্বর্তী সরকার।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, নৃশংস এই ঘটনার তদন্ত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পন্ন করা হবে। সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা হলো—স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা ও দ্রুততার সঙ্গে এর বিচার নিশ্চিত করা হবে, এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক, সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় কোনোভাবেই বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারবে না।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, নূর ও তার দলের আহত সহযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে একটি বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে পাঠানো হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতিতে নূরের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, ২০১৮ সালে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নূর ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। একজন নির্ভীক ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি তরুণদের সংগঠিত করেছিলেন, বিভক্ত মত ও কণ্ঠকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অকুতোভয় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং হেফাজতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এসব অভিজ্ঞতা তাকে জনগণের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের লড়াইয়ে এক অবিচল প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমান সংকটময় সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। জনগণের আন্দোলনের অর্জন রক্ষা করতে, জনবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণকে সুরক্ষিত করতে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।

অবশেষে বিবৃতিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার যেকোনো ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করতে সরকার এবং গণতন্ত্রপ্রেমী জনগণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ, এবং কোনো অশুভ শক্তিকে গণতন্ত্রের পথে দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া হবে না।

-রফিক


নাকের হাড় ভেঙেছে নুরের, অবস্থা স্থিতিশীল: ঢামেক পরিচালক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ১১:২৪:৪৬
নাকের হাড় ভেঙেছে নুরের, অবস্থা স্থিতিশীল: ঢামেক পরিচালক
ছবি: সংগৃহীত

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নাকের হাড় ভেঙে গেছে। তার চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে একটি উচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এই তথ্য জানান।

ঢামেক পরিচালক জানান, সংঘর্ষে নুরের নাকের হাড় ভেঙে গেছে। এছাড়াও তার চোখের ওপরে আঘাত রয়েছে এবং মাথায় সামান্য রক্তক্ষরণ হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে রাতে হাসপাতালে আনা হলে প্রথমে ক্যাজুয়ালটি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে দেখেন। পরে রাতেই তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রাতেই পাঁচ বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী নুরকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, নুরের বর্তমান অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে ৪৮ ঘণ্টা না যাওয়া পর্যন্ত তাকে শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। তার মস্তিষ্কে যে রক্তক্ষরণ হয়েছে, তা ওষুধেই সেরে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নুরুল হক নুরের চিকিৎসায় গঠিত ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ডে ঢামেকের পরিচালকসহ অ্যানেস্থেশিয়া, ক্যাজুয়ালটি, নাক-কান-গলা, নিউরোসার্জারি ও চক্ষু বিভাগের একজন করে চিকিৎসক রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জাপার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণ অধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় এই সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

/আশিক


ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা আনতে কঠোর আইন: অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিলেই কারাদণ্ড

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ২৩:৩৮:৫২
ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা আনতে কঠোর আইন: অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিলেই কারাদণ্ড

বাংলাদেশে দ্রুত প্রসারমান ই-কমার্স খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে এবং ক্রেতাদের অধিকার সুরক্ষায় কঠোর আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নতুনভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে ‘ডিজিটাল বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ’, যেখানে অনলাইন বিক্রেতাদের প্রতারণা ও অনিয়ম ঠেকাতে কড়া শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পণ্য বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড এবং অনাদায়ে ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য বা সেবা সরবরাহ না করলে মূল্যের কয়েক গুণ জরিমানা আরোপ করা হবে। নিষিদ্ধ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২১–২২ সালে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতারণার কারণে হাজার হাজার গ্রাহক পণ্য না পেয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন। তখন টাকা ফেরতের দাবিতে মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ পর্যন্ত হয়েছিল। এসব ঘটনা বিবেচনায় নিয়েই নতুন আইন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রিসভায় এ খসড়ার অনুমোদন হয়েছিল। তবে সরকার পতনের পর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। এখন অন্তর্বর্তী সরকার খসড়াটি নতুন করে সামনে এনেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রণীত খসড়া অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে তা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। এরপর যাবে ‘আইনের খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক মতামত প্রদান কমিটি’র বৈঠকে। যদিও বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, বিষয়টি এখনো তার নজরে আসেনি, তবে তিনি খোঁজ নিচ্ছেন।

খসড়ায় বলা হয়েছে, যেকোনো ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইনে পণ্য ও সেবা কেনাবেচাকে ‘ডিজিটাল বাণিজ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। নিবন্ধিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যারা নিজস্ব নামে ওয়েবসাইট, মার্কেটপ্লেস বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে অনলাইনে পণ্য বা সেবা বিক্রি বা প্রদর্শন করবে, তাদেরই ‘ডিজিটাল বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে গণ্য করা হবে। অনুমতি ছাড়া গিফট কার্ড, ওয়ালেট, ক্যাশ ভাউচার বা ডিজিটাল ভাউচার চালু করলে জরিমানা করা হবে। অনলাইন লটারির আয়োজন করলেও বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হবে। প্রতিটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স ও ডিজিটাল বিজনেস আইডেনটিটি (ডিবিআইডি) নিবন্ধন নিতে হবে। প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলে কর্তৃপক্ষ তাদের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।

অধ্যাদেশ পাস হলে গঠিত হবে ডিজিটাল বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ, যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান দায়িত্ব হবে ডিজিটাল বাণিজ্যের প্রসার ও শৃঙ্খলা রক্ষা, বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তি, প্রতারণা ও অপরাধ প্রতিরোধ, অনলাইন কার্যক্রম পরিদর্শন, ভুয়া বিজ্ঞাপন ও নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি ঠেকানো এবং ভোক্তা প্রতারণা রোধে তদারকি। এই কর্তৃপক্ষের কাঠামোতে থাকবেন একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাণিজ্যমন্ত্রী বা বাণিজ্য উপদেষ্টা প্রধান করে গঠন করা হবে উপদেষ্টা পরিষদ।

অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অনলাইন ব্যাংকিং, আর্থিক সেবা, মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম, অনলাইন জুয়া, লটারি, যৌন উত্তেজক দ্রব্য বা অনলাইন এসকর্ট সেবা এ আইনের আওতার বাইরে থাকবে। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) তথ্যমতে, দেশে ই-কমার্স কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯৯ সালে, তবে পূর্ণাঙ্গ যাত্রা শুরু হয় ২০০৯ সালে এবং ২০১৪ সালের পর থেকে খাতটির উল্লেখযোগ্য বিকাশ ঘটে। ২০১৮ সালে প্রণয়ন করা হয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা, যা ২০২০ সালে বিদেশি বিনিয়োগ উন্মুক্ত করে সংশোধন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগের অধ্যাপক সুবর্ণ বড়ুয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, ই-কমার্স খাতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা ও অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো কর্তৃপক্ষ না থাকায় সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই একটি শক্তিশালী আইন এবং কর্তৃপক্ষ গঠন এখন অত্যন্ত জরুরি, যা কার্যকর হলে অনলাইন কেনাবেচার নানা সমস্যা সমাধানে বাস্তব অগ্রগতি হবে।


সবজির পর এবার অন্য যেসব খাতে আগুন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১১:৩৪:১০
সবজির পর এবার অন্য যেসব খাতে আগুন
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই সবজির দাম চড়া অবস্থায় থাকলেও নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে আটা, ময়দা ও মসুর ডালের মতো মুদি পণ্যের দাম। এর পাশাপাশি মুরগি, ডিম ও পেঁয়াজের উচ্চমূল্যও ভোক্তাদের কষ্ট আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, কয়েকদিনের মধ্যেই খুচরা পর্যায়ে আলুর দামও বাড়তে পারে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়— তিন-চার দিন আগেও কোম্পানিভেদে এক কেজি প্যাকেটজাত আটা ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। খোলা আটার দামও কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে বর্তমানে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ময়দার দাম কোম্পানিভেদে কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়ে এখন ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় পৌঁছেছে। খোলা ময়দার দামও বেড়ে কেজিতে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা হয়েছে।

ভালো মানের মসুর ডাল যেখানে এক সপ্তাহ আগে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় উঠেছে। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। বড় দানার মসুর ডালের দামও একই সময়ে ১১৫-১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১২৫-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারে আগের চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। বেগুন এখনো কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকা, করলা ৯০-১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০-১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৭০-৮০ টাকা, কচুর মুখি ৮০-৯০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা এবং চিচিংগা-ঝিঙ্গা ৯০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম আরও বেশি; বর্তমানে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের ক্ষেত্রে আমদানি বাড়লেও দাম কমেনি উল্লেখযোগ্যভাবে। খুচরায় এখনো প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৮০-৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তালতলা বাজারের ব্যবসায়ী বুলু মিয়া বলেন, “ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজও দেশি পেঁয়াজের সমান দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে আমদানি থাকা সত্ত্বেও দামের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি।” কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকা কেজিতে, যেখানে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭২ টাকায়।

এছাড়া ডিম ও মুরগির দামও উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০-১৮০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ৩২০-৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও অপরিবর্তিত আছে— প্রতি ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা।

এদিকে, আলুর বাজারেও দাম বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘদিন লোকসানে আলু বিক্রি করার অভিযোগের পর কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবির ভিত্তিতে সরকার সম্প্রতি হিমাগার পর্যায়ে আলুর ন্যূনতম দাম ২২ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর আগে দীর্ঘদিন হিমাগারে আলু ১২-১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। এখন হিমাগারে প্রতি কেজির দাম ৭-১০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব খুব শিগগিরই খুচরা বাজারে পড়বে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।

বর্তমানে খুচরায় আলু ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হলেও আগামী দিনে তা ৩৫-৪০ টাকায় উঠতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন। কারওয়ান বাজারের আলুর আড়তদার জাহাঙ্গীর বলেন, “হিমাগারে ২২ টাকায় আলু কিনলে আমাদের পাইকারি বিক্রি করতে হবে অন্তত ২৪ টাকায়। অন্যান্য খরচ যোগ করলে খুচরায় ২৭-২৮ টাকা দাঁড়াবে। তখন স্বাভাবিকভাবেই ভোক্তার দামে এর প্রভাব পড়বে।”

গত ২৭ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ের নীতি শাখা থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে আলুর ন্যূনতম হিমাগার মূল্য নির্ধারণ করা হলেও খুচরা বিক্রির সর্বোচ্চ মূল্য ঠিক করা হয়নি। ফলে বাজারে চাহিদা ও যোগানের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত দাম নির্ধারিত হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার যদি সরবরাহ চেইন মনিটরিংয়ে শক্ত ভূমিকা রাখে, তবে খুচরা পর্যায়ে হঠাৎ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।

রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, আপাতত আলুর দাম বাড়েনি। তবে সবজির স্থায়ী উচ্চমূল্য, মুদি পণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আসন্ন আলুর দামের চাপ সব মিলিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের দৈনন্দিন খরচ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

-রাফসান


আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের অভূতপূর্ব মন্তব্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১১:২৪:০৭
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের অভূতপূর্ব মন্তব্য
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সাম্প্রতিক অস্থিরতা বিবেচনা করলে স্পষ্ট হয় যে এবারকার নির্বাচন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সংকট একসঙ্গে মিলে নির্বাচনী পরিবেশকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

নির্বাচন কমিশনারের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা একটি বড় পরীক্ষা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের আস্থা নিশ্চিত করাই হবে নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব। তবে তিনি একইসঙ্গে স্বীকার করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক আস্থার সংকট, মাঠপর্যায়ে সহিংসতার ঝুঁকি এবং বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তাকে কঠিন করে তুলতে পারে।

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার মনে করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পূর্ণ সমন্বয় অপরিহার্য। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকে সহনশীলতা প্রদর্শন করতে হবে এবং সহিংসতা পরিহার করে গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার এবং পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।

তাঁর ভাষায়, “এবারের নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক ইভেন্ট নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তাই ঝুঁকি থাকলেও আমাদের দায়িত্ব এটি সফলভাবে সম্পন্ন করা।”

-রফিক

পাঠকের মতামত: