পরমাণু যুগে বাংলাদেশ! রূপপুরে ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের কাজ সফলভাবে শুরু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১৯:৩৪:০১
পরমাণু যুগে বাংলাদেশ! রূপপুরে ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের কাজ সফলভাবে শুরু
ছবি : সংগৃহীত

এক দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অভিজাত ক্লাবে রাজকীয়ভাবে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে জ্বালানি লোডিং বা পরমাণু চুল্লিতে ইউরেনিয়াম প্রবেশের ঐতিহাসিক কার্যক্রম। করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক নানা প্রতিবন্ধকতা জয় করে এই মাহেন্দ্রক্ষণ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ইতিহাসে এক নতুন স্বর্ণাক্ষরে লেখা মাইলফলক হয়ে থাকবে।

বিকেলে আয়োজিত এই বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। যদিও পূর্ব নির্ধারিত ব্যস্ততার কারণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে তাঁরা ভার্চুয়ালি এই ঐতিহাসিক সাফল্যকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

গত ১৬ এপ্রিল চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পাওয়ার পর আজ চূড়ান্তভাবে ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের কাজ শুরু হলো। এই কার্যক্রমটি পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) অধীনে অপারেটিং লাইসেন্স লাভ করেছেন, যা দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার এক অনন্য প্রমাণ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ইউনিটে সম্পূর্ণ জ্বালানি লোড করতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী জুলাই মাসের শেষ দিকে বা আগস্টের শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই প্রথম ইউনিটটি তার পূর্ণ সক্ষমতায় অর্থাৎ ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে।

ঈশ্বরদীতে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পের দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করবে। ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর ব্যবহারের মাধ্যমে এই কেন্দ্রটি পৃথিবীর অন্যতম নিরাপদ পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে গণ্য হবে।

/আশিক


অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে সরকার: শামা ওবায়েদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ২২:০৯:১৬
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে সরকার: শামা ওবায়েদ
ছবি : সংগৃহীত

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে তা পুনরুদ্ধারে সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। রোববার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ জানান, ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার অর্থনীতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ দেশে নিয়ে আসতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। তিনি মন্তব্য করেন, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে দেশের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, যা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া এখন চলমান। এ কারণেই বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি জানান, এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর দেশের অর্থনীতিতে যাতে নতুন করে কোনো সংকট বা স্থবিরতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান সুদৃঢ় করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার একাধিক কৌশলগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আগ্রহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক ও দেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করে সেখানে কাজের পরিবেশ উন্নত করছে সরকার।

তিনি আরও জানান, দেশে নতুন বিনিয়োগের জন্য তৈরি পোশাক, কৃষি ও ক্রীড়া খাতকে অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।

/আশিক


পুলিশকে জনবান্ধব করতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি বহাল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ২২:০০:২০
পুলিশকে জনবান্ধব করতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি বহাল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন
ছবি : সংগৃহীত

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীকে একটি সেবামুখী, পেশাদার ও জনবান্ধব সংগঠন হিসেবে পুনর্গঠন করতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি কঠোরভাবে বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, সততা, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারীদের উপযুক্ত মূল্যায়ন ও পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে যারা আইন লঙ্ঘন করে নাগরিক সেবা ব্যাহত করবেন বা অনিয়মে জড়াবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি তিরস্কারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠান শেষে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে উদ্ধার হওয়া ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) সংক্রান্ত প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় উৎসব বা রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে—এমন ধারণার ভিত্তি নেই এবং এটি স্রেফ কাকতালীয়। ইতোমধ্যে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সফলভাবে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী নিশ্চিত করেন, তাঁর পদত্যাগপত্র সংবিধানের বিধান মেনে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া ও গৃহীত হয়েছে। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী পদাধিকার বলে তিনি যে বিশেষ ইমিউনিটি ও আইনি সুরক্ষা পান, তা বলবৎ থাকবে। এছাড়া আইনানুগভাবে তাঁকে এসএসএফ, পিজিআর ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সপ্তাহে পদক প্রদান না হওয়া নিয়ে মন্ত্রী ব্যাখ্যা দেন, তাড়াহুড়ো করে তৈরি প্রাথমিক তালিকায় কিছু কারিগরি ত্রুটি ও অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় পুরো তালিকা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুততম সময়ে যোগ্যদের মাঝে বিশুদ্ধ তালিকা অনুযায়ী পদক প্রদান করা হবে।

অনুষ্ঠানে দুই ভিন্ন কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য মোট নয়জন পুলিশ সদস্যকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৯৯৯ ও ঢাকা রেলওয়ে থানার যৌথ পদক্ষেপে মাত্র ৩০ মিনিটে এক প্রবাসীর হারিয়ে যাওয়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাতজন এবং জীবন বাজি রেখে ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের জন্য ডিএমপি ট্রাফিকের দুজন সার্জেন্ট এই পুরস্কার পান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ও ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


দেশের ২৬টি টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক, ইএসডিওর গবেষণায় উদ্বেগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ২১:৫৬:৩৫
দেশের ২৬টি টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক, ইএসডিওর গবেষণায় উদ্বেগ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬টিতেই ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পেয়েছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। তাদের সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে শুরু করে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের এই মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবেলায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সুনির্দিষ্ট জাতীয় মানদণ্ড নির্ধারণ ও কঠোর তদারকির দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় নিজেদের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক এই গবেষণার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।

ইএসডিও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা ও পাইকারি বাজার থেকে ১৯টি ব্র্যান্ডের মোট ৩৪টি দেশি-বিদেশি টুথপেস্টের নমুনা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের 'এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি' (ইএইচই) গবেষণাগারে নমুনাগুলো সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে তৈরি। দেখা গেছে, চার দেশে উৎপাদিত পণেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টি, ভারতের ৫টির মধ্যে ১টি, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে ১টি এবং ভিয়েতনামের ২টি নমুনার দুটিতেই এই ক্ষতিকর কণা মিলেছে।

প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে কণার ঘনত্বের নিরিখে মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেলে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ক্লোজ আপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি করে; কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা-স্ট্রবেরিতে ১৪০টি; সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি; পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি করে; সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি; পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট, হোয়াইট প্লাস রেড, হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল, মেরিল বেবি-স্ট্রবেরি, সিগন্যাল হোয়াইটেনিং ও মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলায় ৬০টি করে কণা পাওয়া যায়।

অন্যদিকে এএম.পিএম. হার্বাল, মেডিপ্লাস ডিএস, পেপসোডেন্ট জার্মিচেক প্লাস, মেরিল বেবি-অরেঞ্জ, ম্যাজিক হার্বাল, মেসবাক ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশেতে ৪০টি করে এবং ডেন্টিন জেল, পেপসোডেন্ট কিডস-অরেঞ্জ, ক্লোজ আপ লেমন সি সল্ট, ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল ও হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভে ২০টি করে কণা শনাক্ত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি পরিষ্কার করেছে যে, কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডকে কাঠগড়ায় তোলা এই গবেষণার উদ্দেশ্য নয়। দেশে প্রসাধন ও হাইজিন পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের কোনো গ্রহণযোগ্য সীমা, মানদণ্ড বা লেবেলে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা না থাকায় জনস্বার্থেই এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশে পরীক্ষাগারের সক্ষমতার ঘাটতি এবং তদারকির অভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ জন্য বিদ্যমান ভোক্তা অধিকার ও বিএসটিআই মানদণ্ডের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক ইস্যুটি যুক্ত করা জরুরি। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিজ্ঞানভিত্তিক জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং পণ্যের প্যাকেজিংয়ে উপাদানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জোর তাগিদ দিয়েছে।

/আশিক


জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ১৯:৪৮:১৫
জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

একটি সুস্থ, মেধাবী, সুশৃঙ্খল ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই লক্ষ্য অর্জনে খেলাধুলাকে শুধু শরীরচর্চা বা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে রূপ দিতে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে ক্রীড়াকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ স্ট্যাটাসে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তির সমন্বিত অগ্রগতিই বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি। সরকার ক্রীড়াকে মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় সংহতি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি জানান, দেশের একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে উদীয়মান ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানামুখী ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫–২০২৬' কর্মসূচি দেশজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে এই আয়োজনের প্রথম আসরের জাকজমকপূর্ণ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, ক্রীড়াচর্চা শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, অধ্যবসায়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহিষ্ণুতা এবং দেশপ্রেমের মতো মানবিক গুণাবলি অর্জনে সাহায্য করে। ফলে দেশের দূরদূরান্তের প্রান্তিক অঞ্চল থেকে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণে 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস' একটি কার্যকর জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, পরবর্তী 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬–২০২৭' মৌসুমে নতুন করে টেবিল টেনিস ও ভলিবল অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যার ফলে মোট ইভেন্টের সংখ্যা ১০-এ উন্নীত হবে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বয়সসীমা ১০ থেকে ১৪ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে অধিক সংখ্যক প্রতিভাবান শিশু-কিশোর এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস'-এর এই উঠতি খুদে অ্যাথলেটরাই আগামী দিনে বিশ্বক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের জন্য গৌরবময় সাফল্য বয়ে নিয়ে আসবে।

স্ট্যাটাসের শেষ অংশে তিনি 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫–২০২৬'-এর প্রথম আসরে সম্পৃক্ত সব খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, বিচারক, আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং সমাপনী অনুষ্ঠানের সর্বাঙ্গীন সাফল্য প্রার্থনা করেন।

/আশিক


শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে লন্ডনে যাওয়া লাগে না, ঢাকাতেই সম্ভব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ১৮:১৯:৩১
শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে লন্ডনে যাওয়া লাগে না, ঢাকাতেই সম্ভব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন লন্ডনে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, বিষয়টি তিনি কেবল সংবাদপত্রে দেখেছেন, তবে সরকারের কাছে এ সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে যোগাযোগ করার জন্য সশরীরে লন্ডনে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, দেশ থেকেই তা করা সম্ভব।

যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতির ফোনালাপের অভিযোগ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি কেবল বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদটি প্রত্যক্ষ করেছেন। কী তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ওই সংবাদটি প্রকাশিত হলো, তা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কাছেই জানতে চাওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। সরকারের আনুষ্ঠানিক রেকর্ডে এ ধরনের কোনো কথোপকথনের অস্তিত্ব নেই বলে জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিরোধীদের পক্ষ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের জোর দাবির ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী জানান, বিরোধী দলগুলো কেন রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি করছে, সে প্রশ্ন তাদেরই করা উচিত। তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে যারা বিরূপ মন্তব্য করছেন, সে অধিকার তাদের রয়েছে।’ গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী গণতান্ত্রিক পরিবেশে মানুষের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ এবং প্রতিবাদ জানানোর পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির অতীত ভূমিকা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী আমলের শেষভাগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান সরকারের আমলে সংবিধান ও নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনেই মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সরকার তাঁর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি বিশেষ দায়মুক্তি বা প্রিভিলেজ পান, যার ফলে পদে থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো ফৌজদারি মামলা করার সুযোগ নেই। এর বাইরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেউ বক্তব্য দিলে তা তাঁদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে দেখা যায়, তবে তা আইনত আমলে নেওয়ার মতো কিছু নয়।

রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়ার আগের অভিযোগগুলোর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, তৎকালীন সময়ের কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই পরিচালিত হবে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর প্রাপ্য সুবিধার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ নিশ্চিত করেন, আইন অনুযায়ী একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির যা পাওয়ার কথা, তা তিনি পাবেন। তাঁর নিরাপত্তার খাতিরে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টসহ (পিজিআর) অন্যান্য বিশেষ সুবিধা আগামী ছয় মাসের জন্য বলবৎ থাকবে। এর পাশাপাশি পুলিশি নিরাপত্তাসহ অপরাপর সুযোগ-সুবিধাও তাঁকে প্রদান করা হবে।

/আশিক


সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের অতীত কর্মকাণ্ডের তদন্ত চলছে: আইনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ১৮:১৪:৩০
সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের অতীত কর্মকাণ্ডের তদন্ত চলছে: আইনমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অতীত কর্মকাণ্ড ও তার বিরুদ্ধে ওঠা নানাবিধ অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তদন্তের সুনির্দিষ্ট ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মো. আসাদুজ্জামান জানান, দেশবাসীর তীব্র দাবি এবং সংগৃহীত অভিযোগগুলোর আলোকেই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ও ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালীন সময়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক ভূমিকা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার কাউকেই অন্যায়ভাবে হয়রানি বা কষ্ট দিতে চায় না। তবে যাবতীয় অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সংবিধান প্রদত্ত আইনি কাঠামো অনুসরণ করেই সরকার পদক্ষেপ নেবে। এ ব্যাপারে দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণের পাশাপাশি সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে সাবেক সরকারের সময়কার বেপরোয়া দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের খতিয়ান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং রুট ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় অন্তত ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা বর্তমান সময়ে দেশের দুই থেকে তিনটি পুরো জাতীয় বাজেটের সমপরিমাণ। বিখ্যাত আন্তর্জাতিক সাময়িকী 'টাইম ম্যাগাজিন'-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সময়ে বছরে গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে।

উন্নয়ন খাতের অর্থ আত্মসাতের চিত্র তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, খুলনায় পৌনে চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি রাস্তা নির্মাণে বিপুল পরিমাণে ২৮০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ বাস্তবে এক ইঞ্চি সড়কও না বানিয়ে পুরোপুরি কাগজপত্রে দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের ছদ্মবেশে রাষ্ট্রীয় তহবিল লুট করে বিদেশে পাচার করায় দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত বিচারাধীন মামলা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী নিশ্চিত করেন, এসব মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমানে ভিত্তিহীন বা মিথ্যা মামলার হার অনেক কমে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আগত নবীন আইনজীবীদের পেশাগত সততা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আইন পেশায় সফল হওয়ার কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই। অহেতুক অর্থের পেছনে না ছুটে সাধারণ মানুষের সেবা ও সঠিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মুখ্য উদ্দেশ্য। নিজ রাজনৈতিক দল বা মতের কেউ দুর্নীতিতে জড়ালেও আইনজীবীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য তুলে ধরেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন এবং সম্পূর্ণ কার্যক্রমটি সঞ্চালনা করেন সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

/আশিক


আগের অবস্থান থেকে সরেনি বিচার বিভাগ: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ২১:৫৭:০৩
আগের অবস্থান থেকে সরেনি বিচার বিভাগ: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে দেশের বিচার বিভাগ এখনো সরে আসতে পারেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে মোমবাতি জ্বেলে রাজনৈতিক বিচার সম্পন্ন করা ব্যক্তিদের বদলির প্রস্তাব পাঠালে সুপ্রিম কোর্ট থেকে ৭০ শতাংশই অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বেসরকারি সংস্থা 'অধিকার' আয়োজিত ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা জানান।

পরামর্শ সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অধিকারের প্রেসিডেন্ট তাসনিম সিদ্দিকী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটির সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংস্থাটির সমন্বয়ক কোরবান আলী।

বক্তব্যকালে আইনমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইন বর্তমানে চূড়ান্ত পাসের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাত জেগে সাজা দেওয়া বিচারকদের বিরুদ্ধে সঠিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বিচার বিভাগের সচিবালয়কে ফ্যাসিস্টদের আখড়া হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বাসভবনে আক্রমণের ঘটনায় যেমন একজন নাগরিক হিসেবে ব্যথিত হতে হয়, তেমনি কেন এই আক্রমণ হলো সেই পেছনের কারণগুলোও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা দরকার।

তিনি জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নিম্ন আদালতের প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন বিচারককে রুটিন বদলি করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে যারা অতীতে বিতর্কিত রায় দিয়ে পুরস্কৃত হয়েছিলেন, তাদের বদলির প্রশাসনিক উদ্যোগ সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে আটকে যাচ্ছে বলে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, কেবল কাগজে-কলমে স্বাধীন হলে চলবে না। যখন দলীয় লোকদের বসিয়ে দেওয়া হয় এবং বিচারক মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারেন না, তখনই পুরো ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ে। একমাত্র স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত স্বাধীন বিচার বিভাগ পাওয়া সম্ভব। গত ১৬-১৭ বছরে সুপ্রিম কোর্ট জনগণের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দায়েরকৃত হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ধর্ষণ মামলা কোনোভাবেই প্রত্যাহার হবে না এবং মাদকের মামলাগুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

পরশেষে বৈশ্বিক রাজনীতি নিয়ে আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেন, দেশের মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে আধিপত্যবাদী শক্তি। বর্তমান সরকারকে একদিকে যেমন জাতীয়তাবাদের পক্ষে অবস্থান নিতে হচ্ছে, অন্যদিকে আধিপত্যবাদ, ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশ, সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদের মতো একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

/আশিক


মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ১৮:০২:৪১
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন কোনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের আলোকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার সামলাবেন।

প্রজ্ঞাপনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব হস্তান্তরের এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগ করার পর সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে বীর শহীদদের পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাবেন। একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি শেরেবাংলা নগরে গিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জিয়ারত করবেন।

/আশিক


নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অটল সরকার: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৪ ১১:১৭:২৭
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অটল সরকার: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যেসব অঙ্গীকার করেছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোট ও প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধ এবং নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সাম্প্রতিক সময়েও তিনি বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারের কথা একাধিকবার তুলে ধরেছেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সরকারের জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মূল্যবোধ বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাঁর দল সবসময় গণতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাস করে এবং জনগণের মতামতকেই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। সরকারের কর্মকাণ্ডেও জনগণের প্রতি সেই দায়বদ্ধতা প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। এর আগে সরকারকে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতির কথাও তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার শুধু রাজনৈতিক সংস্কার নয়, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে তুলে ধরা বৃহত্তর কর্মসূচিগুলোও বাস্তবায়ন করতে চায়। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, বিএনপির প্রস্তাবিত ৩১ দফা কর্মসূচির বাস্তবায়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। পাশাপাশি জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে, সেটিও সংসদ ও রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক সংঘাত অর্থনীতি এবং রাজনীতিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রভাব বাণিজ্য, জ্বালানি, বিনিয়োগ, সরবরাহব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়ছে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনায় জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক বলয়ের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে পারস্পরিক সম্মান, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বলেও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। এর আগেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন মির্জা ফখরুল।

সরকারের সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনৈতিক বক্তব্যেও অর্থনৈতিক স্বার্থকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সম্প্রতি বলেছেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রবাসী আয় ও বিদেশে কর্মসংস্থানের মতো অর্থনৈতিক বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। ওই অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুলও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

-রফিক

পাঠকের মতামত: