তেলের খনি দখলে নিতে মরিয়া ট্রাম্প! ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে উড়াল দিল হাজারো মার্কিন সেনা

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অন্যতম দুর্ধর্ষ এবং অভিজাত ইউনিট ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার প্যারাট্রুপার মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ হিসেবে সরাসরি স্থল অভিযানের পথ প্রশস্ত করতেই এই বিশাল সেনা সমাবেশের গতি বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে আসা এই প্যারাট্রুপাররা মূলত ওই অঞ্চলে আগে থেকে অবস্থানরত হাজার হাজার মেরিন, নাবিক এবং স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। গত সপ্তাহান্তেই প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেরিন সেনা সেখানে পৌঁছেছেন।
যদিও এই সেনারা ঠিক কোথায় অবস্থান নেবেন তা গোপন রাখা হয়েছে, তবে এই বহরে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, লজিস্টিক সাপোর্ট টিম এবং একটি শক্তিশালী ব্রিগেড কমব্যাট টিম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েনের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের তেল রপ্তানির প্রাণকেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখলের মতো কৌশলগত মিশনে প্যারাট্রুপারদের ব্যবহার করা।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হওয়ার মাথায় মার্কিন এই সামরিক উপস্থিতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও আগ্রাসী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খার্গ দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো দখল করা গেলে তেহরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।
যদিও ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন যে তিনি দ্রুত চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের ইতি টানতে চান, কিন্তু বাস্তবে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের মতো একটি আক্রমণাত্মক ইউনিটের অন্তর্ভুক্তি মূলত ইরানি ভূখণ্ডে সরাসরি হস্তক্ষেপ বা বড় ধরনের স্থল অভিযানেরই অশুভ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই সেনা সমাবেশের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এখন চরম সংকটের মুখে। প্রতিবেশী দেশগুলো এবং বিশ্ব সম্প্রদায় এখন গভীর উদ্বেগের সাথে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে। যদি এই হাজার হাজার প্যারাট্রুপার শেষ পর্যন্ত ইরানের ভেতরে কোনো অভিযানে অংশ নেয়, তবে এই যুদ্ধ এক ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন রূপ নিতে পারে, যা পুরো বিশ্ব অর্থনীতি ও শান্তিতে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল
যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইরানি জনগণের ‘বিশাল বিজয়’: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিটিকে দেশের সর্বস্তরের জনগণের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও ‘বিশাল বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার কোম সফরকালে দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ শোবেইরি জানজানির সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাতকালে তিনি ঘোষণা করেন, এই নতুন চুক্তির সুবাদে ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর দীর্ঘদিন ধরে থাকা কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে কাতারের ব্যাংকে জব্দ হয়ে থাকা ৬০০ কোটি ডলারের ইরানি তহবিল অবমুক্ত করে তা দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রপতি জানান, বর্তমানে যে অর্থটি অবমুক্ত হচ্ছে তা কাতারে আটকে থাকা মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের একটি অংশ মাত্র। তহবিলের বাকি অর্থও যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, সেজন্য ইতিমধ্যে পরবর্তী আইনি ও কূটনৈতিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিশাল তহবিল মুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণের বিষয়টি মূলত সুইজারল্যান্ড আলোচনা এবং ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে দুই পক্ষের সম্মত হওয়া দ্বিপক্ষীয় কাঠামোরই একটি সফল অংশ।
বিগত দিনের যুদ্ধ ও চরম বৈরী পরিস্থিতির মুখে ইরানি জনগণের অভূতপূর্ব সহনশীলতা ও দৃঢ়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, দেশের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, সামরিক কমান্ডার, সমাজের অভিজাত বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে কোমলমতি স্কুলছাত্রদের নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরও দেশের সাধারণ মানুষ, সশস্ত্র বাহিনী এবং সরকার রাষ্ট্র রক্ষায় ইস্পাতকঠিন ঐক্য নিয়ে দাঁড়িয়েছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানকে অভ্যন্তরীণভাবে অস্থিতিশীল করতে এবং একের পর এক অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে দেশটির পতন ঘটাতে তাদের সমস্ত সামরিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা ব্যবহার করেছিল। কিন্তু ইরানি জনগণের অদম্য শক্তি ও আত্মত্যাগের কারণে শত্রুপক্ষের সেই সব ষড়যন্ত্র ও হিসাব সম্পূর্ণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য পরিষ্কার করে রাষ্ট্রপতি পেজেশকিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না এবং ভবিষ্যতেও এর কোনো পরিকল্পনা নেই। এটি তাদের পূর্ববর্তী শহীদ নেতার ঘোষিত একটি সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী নীতি এবং বর্তমান সরকারও এই অবস্থানে পুরোপুরি অনড় রয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু ও প্রতিরক্ষা খাতের পরবর্তী সকল পদক্ষেপ কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ আত্মরক্ষা ও প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং তা পূর্বঘোষিত নীতিমালার কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
পেজেশকিয়ান আরও উল্লেখ করেন, চরম অনিচ্ছা ও আপত্তি থাকা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলকে এই আন্তর্জাতিক চুক্তিটি মেনে নিতে বাধ্য করেছে। অবশ্য ইসরায়েল প্রশাসন এবং কিছু চরমপন্থী বিরোধী গোষ্ঠী এখনো পর্দার আড়াল থেকে এই চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা ও বাধা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চুক্তি-পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান সরকার ইতিমধ্যে বসে নেই। দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের কাজ দ্রুত শুরু করা হয়েছে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সাধারণ জনগণের স্বস্তির জন্য খাদ্য ভর্তুকির পরিধি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা পুরোদমে চালু করা হয়েছে।
মেহের নিউজ
ইরান থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের ধাক্কায় কাঁপছে মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েল
লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং তার জবাবে ইরানের উপর্যুপরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন পুরোপুরি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আজ সোমবার (৮ দিন ২০২৬) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে ছোঁড়া এক ঝাঁক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে রাজধানী তেল আবিব এবং পবিত্র জেরুজালেমসহ মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে উচ্চশব্দে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠেছে। আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান থেকে ধেয়ে আসা এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাডারে শনাক্ত করার পরপরই দেশের ‘অ্যারো’ ও ‘ডেভিডস স্লিং’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং সেগুলো মাঝআকাশেই ধ্বংস করার জোর চেষ্টা চলছে।
তেল আবিব ও জেরুজালেম ব্যুরো থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কেবল মূল ইসরায়েলই নয়, বরং অবরুদ্ধ পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীরের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়েও অনবরত বিপৎসংকেতের সাইরেন শোনা গেছে। ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধেয়ে আসা ইরানি মিসাইলগুলো আকাশে ধ্বংস করার চেষ্টা করার সময় বাতাসের উচ্চ স্তরে বেশ কয়েকটি বিকট ও কানফাটানো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যার ফলে পুরো উপত্যকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মূলত এর আগে কার্যকর থাকা একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দাহিয়েহ জেলায় বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ওই হামলার পর ইরানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা কঠোর ও বিধ্বংসী প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং তারই প্রত্যক্ষ জের ধরে এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হলো।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, গতকাল রাত থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তিন দফায় ইরান থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে প্রায় ১০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার কারণে উত্তর ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি শহরেও অনবরত সাইরেন বাজছিল। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের রামাট ডেভিড বিমানঘাঁটিসহ একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীও আজ সকাল থেকে ইরানের পশ্চিমা ও মধ্যাঞ্চলীয় সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে—বিশেষ করে তেহরান, তাবরিজ ও ইসফাহানে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। দুই দেশের এই মুখোমুখি ও সরাসরি যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ইরানের রাস্তায় গান কিওস্ক: নারীদের দেওয়া হচ্ছে একে-৪৭ রাইফেল চালনার ট্রেনিং
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে সামরিক হামলা ও চরম আলটিমেটামের পর ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির প্রধান প্রধান শহরগুলোতে যুদ্ধ উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে তেহরানের বিস্তৃত নগরজুড়ে এবং আলবোরজ পর্বতমালার বরফঢাকা চূড়াগুলোর পেছনে অন্ধকার নেমে এলে হাজার হাজার মানুষ নিয়মিতভাবে রাস্তায় নেমে আসছেন। দেশজুড়ে গত তিন মাস ধরে চলা রাষ্ট্রীয় সমর্থনের এই সমাবেশগুলোকে বলা হচ্ছে ‘নাইট গ্যাদারিংস’, যেখানে মূলত সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রবল যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব চাঙ্গা করার চেষ্টা চলছে।
তেহরানের অভিজাত এলাকা তাজরিশ স্কয়ারের কেন্দ্রস্থলে এখন প্রতিদিনের মতোই বজ্রকণ্ঠে শোনা যাচ্ছে ‘যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক’ স্লোগান। ইরানের জাতীয় পতাকার সমুদ্রে ভাসতে থাকা জনতার ভিড়ে উৎসাহী বিক্রেতারা চা, স্মারক সামগ্রী, দেশপ্রেমমূলক ক্যাপ ও ব্যাজ বিক্রি করছেন। ইরানের পতাকার রঙে সাজানো চশমা পরা তিয়ানা নামে এক ইরানি তরুণী রণহুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘আমি আমার দেশ ও জনগণের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। আমাদের সেনাবাহিনী ও সব কমান্ডার—সবাই নিজেদের জীবন দিতে এবং পূর্ণ মন-প্রাণ দিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত।’
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর দেওয়া হুমকিকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তারা (আমেরিকা) দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে তাদের জন্যই আসলে মধ্যপ্রাচ্যে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’ উল্লেখ্য, ট্রাম্প তাঁর পোস্টে হুমকি দিয়েছিলেন যে—ইরানকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অন্যথায় মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, যা চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
তাজরিশ স্কয়ারে উপস্থিত এক প্রবীণ ব্যক্তি হাতে লেখা একটি পোস্টার উঁচিয়ে ধরে বলেন, ‘পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি আমাদের সীমান্তের মতোই গুরুত্বপূর্ণ, আমরা তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করব। তবে আমাদের পারমাণবিক বোমা দরকার নেই, আমাদের দরকার পরিচ্ছন্ন শক্তি ও বিদ্যুৎ।’ তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পও জানেন ইরানের কাছে পারমাণবিক বোমা নেই, তবুও তিনি কেবল চাপের রাজনীতি করছেন।
তবে ইরানজুড়ে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হতে পারে—এমন জল্পনা ও গভীর উদ্বেগ ক্রমশ সাধারণ মানুষের মনে দানা বাঁধছে। লন্ডন ও দুবাইয়ে বড় হওয়া ফাতিমা নামের এক নারী বলেন, ‘আমরা জানি এই যুদ্ধ শেষ হয়নি। ট্রাম্প আসলে আলোচনা বা কূটনৈতিক উপায়ে বিশ্বাস করেন না। তিনি হয়তো বলবেন—তোমরা আমি যা বলি তাই করো, না হলে আমি তোমাদের হত্যা করব।’
উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়েছে যে, তেহরানের ভানাক স্কয়ারসহ বিভিন্ন জনাকীর্ণ স্থানে এখন ‘গান কিওস্ক’ বা অস্ত্র ব্যবহারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে সাধারণ নাগরিকদের, বিশেষ করে নারীদের একে-৪৭ (AK-47) রাইফেল সচল করা ও তা খুলে আবার জোড়া লাগানোর সামরিক শিক্ষা দিচ্ছেন মুখোশধারী ইরানি সেনারা। এমনকি ছোট শিশুদেরও খালি কালাশনিকভ হাতে মহড়া দিতে দেখা যাচ্ছে।
এই যুদ্ধংদেহী ভাব এখন গ্রাস করেছে দেশটির মিডিয়াকেও। ইরানের রাষ্ট্রীয় চ্যানেল ‘অফোগ’-এর পুরুষ উপস্থাপক হোসেইন হোসেইনি সরাসরি সম্প্রচার চলাকালীন স্টুডিওর ছাদের দিকে গুলি ছুঁড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। অন্যদিকে চ্যানেল-৩-এর নারী উপস্থাপক মোবিনা নাসিরিও লাইভ শো-তে রাইফেল হাতে দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভানাক স্কয়ার থেকে আমাকে একটি অস্ত্র পাঠানো হয়েছে, যাতে আমি আপনাদের মতোই এটি ব্যবহার শিখতে পারি এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে পারি।’
সূত্র: সিএনএন
আড়াই মাস পর খুলল হরমুজ প্রণালি
দীর্ঘ আড়াই মাস অবরুদ্ধ থাকার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালির দুয়ার খুলল ইরান। তবে কৌশলগত এই সিদ্ধান্তে আপাতত কেবল চীনের জাহাজগুলোই চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। বুধবার (১৩ মে) রাত থেকে ইরানি নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চীনা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর যাতায়াত শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান এই রুট দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল। দীর্ঘ উত্তেজনার পর বেইজিংয়ের বিশেষ অনুরোধে এবং একটি নির্দিষ্ট ‘ট্রানজিট প্রোটোকল’ চুক্তির অধীনে জাহাজ চলাচলের এই অনুমতি দেয় তেহরান। মূলত চীনের জ্বালানি চাহিদার একটি বিশাল অংশ এই রুট দিয়ে সরবরাহ করা হয় বলেই ইরানের এই নমনীয় অবস্থান।
এই সিদ্ধান্তের সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বেইজিংয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ইরান এই ঘোষণা দিল। শি জিনপিংয়ের সাথে ট্রাম্পের আলোচনায় হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান এই অনুমতির মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে বার্তা দিতে চাইল যে, তেহরানের ওপর বেইজিংয়ের বিশেষ প্রভাব রয়েছে এবং জ্বালানি কূটনীতিতে ইরান এখনো চালকের আসনে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। গত আড়াই মাস এই রুট বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল। চীনের জন্য রুটটি আংশিক খুলে দেওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকটে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে অন্যান্য দেশের জাহাজের জন্য এই পথ কবে নাগাদ উন্মুক্ত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
/আশিক
আলোচনায় ফেরার জন্য মার্কিনীদের সামনে ইরানের ৫ শর্ত: তেহরানের অনড় অবস্থান
জেনেভা আলোচনা চলাকালে শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলা এবং শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরমে। যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনের ১৪ দফা প্রস্তাবের বিপরীতে এবার শক্ত অবস্থান নিল তেহরান। ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসার জন্য পাঁচটি কড়া শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান।
ইরানের পাঁচ শর্ত
১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
২. ইরানের ওপর আরোপিত সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।
৩. বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জব্দ করা ইরানি অর্থ ও সম্পদ অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে।
৪. যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
৫. হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক ও সার্বভৌম অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চলা সত্ত্বেও আরব সাগর ও ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত থাকায় তেহরানের মনে চরম অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান এই বার্তা দিয়েছে যে, অবরোধ বহাল রেখে আলোচনার পরিবেশ তৈরি সম্ভব নয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহতের ঘটনার পর প্রতিশোধ হিসেবে ইসরাইল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৭ এপ্রিল ট্রাম্পের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এবং ১১ এপ্রিলের ইসলামাবাদ বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় নৌ-অবরোধ শুরু হয়। গত রোববার ইরান তাদের এই পাঁচ শর্ত পাঠালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখে।
/আশিক
ইরানের ভেতরে সৌদির গোপন হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এবার সরাসরি সামরিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিজেদের ভূখণ্ডে হামলার প্রতিশোধ নিতে এবার ইরানের ভেতরে ঢুকে গোপনে একাধিক সামরিক অভিযান চালিয়েছে সৌদি আরব। পশ্চিমা ও ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত এই তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তায় এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চের শেষ দিকে সৌদি বিমানবাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে এসব বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। দুইজন পশ্চিমা কর্মকর্তার দাবি, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জাবাবেই এই ‘কাউন্টার অ্যাটাক’ বা পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইরানের ঠিক কোন কোন স্থানে বা স্থাপনায় এই হামলা হয়েছে, তা কৌশলগত কারণেই এখনো গোপন রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি আরবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো স্বীকৃতি না দিলেও হামলা অস্বীকারও করেনি। অন্যদিকে, তেহরানও এই স্পর্শকাতর বিষয়ে এখনো নিশ্চুপ রয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই গোপন হামলা সৌদি আরবের কয়েক দশকের পুরনো নিরাপত্তানীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সংকেত। এতদিন রিয়াদ তাদের নিরাপত্তার জন্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ছাতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু গত ১০ সপ্তাহ ধরে চলা আঞ্চলিক যুদ্ধে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা বলয়ে সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হওয়ার পর, সৌদি আরব এখন ‘অফেন্সিভ’ বা আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নিয়েছে। অর্থাৎ, অন্যের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি শত্রুর ডেরায় আঘাত করার সক্ষমতা ও সদিচ্ছা প্রদর্শন করছে দেশটি।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই দুই আঞ্চলিক শক্তির প্রক্সি যুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাতে রূপ নেওয়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা এবং সরাসরি সীমান্ত লঙ্ঘনের এই ঘটনাগুলো কেবল বৈশ্বিক তেলের বাজারকেই অস্থিতিশীল করছে না, বরং একটি বৃহত্তর যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করছে। সৌদি আরবের এই সাহসী ও আক্রমণাত্মক অবস্থান তেহরানকে নতুন করে রণকৌশল সাজাতে বাধ্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
/আশিক
বিশ্বের ২০% জ্বালানি এখন ইরানের কবজায়? হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন ‘যুদ্ধ’ শুরু
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের উত্তাপ এবার আছড়ে পড়ল বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে। সোমবার (১১ মে) শিপিং জার্নাল ‘লয়েডস লিস্ট’ জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিতে কঠোর বিধিনিষেধ ও নতুন ‘টোল’ বা ফি আরোপ করেছে ইরান। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের ২০ শতাংশই এই সরু পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় তেহরানের এই সিদ্ধান্তে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরানের নতুন গঠিত ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ (পিজিএসএ) জানিয়েছে, এখন থেকে এই প্রণালি অতিক্রম করতে হলে সব জাহাজকে আগাম অনুমতি নিতে হবে। এজন্য ‘ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন’ নামে একটি ফর্মে ৪০টিরও বেশি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে জাহাজের মালিকানা, বিমা, নাবিকদের বিস্তারিত তথ্য এমনকি কার্গোর ধরন ও রুট সম্পর্কেও নিখুঁত তথ্য তেহরানকে জানাতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সেনাবাহিনী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবে, তারা এই পথ ব্যবহারে চরম সংকটে পড়বে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পতাকাবাহী বা সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ এই রুট ব্যবহারের অনুমতি পাবে না বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ ও ‘শক্তিশালী ইরান’ গড়তে তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে।
নতুন এই সংকটের মুখে ভারত ও পাকিস্তান তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন জাহাজগুলোকে এই ‘টোল’ না দেওয়ার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। বাহরাইনের সাথে মিলে জাতিসংঘে প্রস্তাব তোলার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন, তবে রাশিয়া তাতে ভেটো দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ঘিরে বিশ্ববাজারকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি।
মার্কিন প্রস্তাব অযৌক্তিক, ট্রাম্পের জবাব অগ্রহণযোগ্য: ইরান
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি আলোচনা নতুন করে অচলাবস্থার মুখে পড়েছে। সোমবার (১১ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘একপেশে’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। পাল্টা জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের শর্তগুলোকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকেই সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তারা পাকিস্তানের মাধ্যমে তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব ওয়াশিংটনকে পাঠিয়েছেন। ইরানের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—পুরো অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ বন্ধ করা, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা।
বাকেই জোর দিয়ে বলেন, "আমরা কোনো বাড়তি সুবিধা চাইছি না। আমাদের দাবিগুলো সম্পূর্ণ বৈধ—অবরোধ প্রত্যাহার, জলদস্যুতামূলক আচরণ বন্ধ এবং জব্দ করা সম্পদ ফেরত পাওয়া।" এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করাকেও তাদের প্রস্তাবের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজের প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ইরানের প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে লিখেছেন, "আমি ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের জবাব পড়েছি। এটি আমার পছন্দ হয়নি। এই প্রস্তাব পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য!" যদিও ট্রাম্পের প্রস্তাবে কী ছিল বা ইরানের কোন শর্তে তিনি ক্ষুব্ধ, তার বিস্তারিত কোনো পক্ষই এখনো প্রকাশ করেনি।
রোমের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির বিশ্লেষক আন্দ্রেয়া দেসি এই পরিস্থিতিকে ‘মোটেও ইতিবাচক নয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। যার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে টানাপোড়েন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
/আশিক
বিশ্বজুড়ে ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সৌদি আরবের সরকারি ক্যালেন্ডার ‘উম আল কুরা’ অনুযায়ী, আগামী ২৭ মে দেশটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হতে পারে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তানের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাও বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ শেষে ২৭ মে ঈদ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
সৌদি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, জিলকদ মাস ৩০ দিন পূর্ণ করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সে হিসেবে হজ বা আরাফাতের দিন পড়বে ২৬ মে এবং পরের দিন ২৭ মে উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের মুসলিম জীবনবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ‘হাইফেন অনলাইন’ জানিয়েছে, সেখানে নতুন চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৭ অথবা ২৮ মে ঈদ শুরু হতে পারে।
বাংলাদেশে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর ঈদ পালিত হয়। সেই রীতি অনুযায়ী, আগামী ২৮ মে বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জিলকদ মাস যদি ২৯ দিনে শেষ হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশেও ২৭ মে ঈদ হতে পারে।
অবশ্য চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করছে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ওপর। ইসলামী বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০ তারিখে এই উৎসব পালিত হয়। বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি যথাসময়ে চাঁদ পর্যালোচনার মাধ্যমে পবিত্র ঈদুল আজহার সঠিক তারিখ ঘোষণা করবে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- আর থাকবে না দীর্ঘ লোডশেডিং, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টার ঘোষণা
- ২ গোলের লিড হারিয়েও হারের ক্ষত বুকে নিয়ে জাপানের মুখোমুখি হচ্ছে সেলেসাওরা
- সংসদে অর্থমন্ত্রীর আশ্বাসের বাণী: দেশ ও জনগণের ক্ষতি হয় এমন কোনো চুক্তি নয়
- জুনে ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ: পাঁচ মাস মিলিয়ে যা ছিল, এক মাসেই তার দ্বিগুণের বেশি মৃত্যু
- একাদশ গোপন রেখে জাপানের বিরুদ্ধে রহস্য জিইয়ে রাখলেন ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি
- যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইরানি জনগণের ‘বিশাল বিজয়’: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
- তরুণরা নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, চাকরির জন্য বছর পার করতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী
- ষষ্ঠ বিশ্বকাপের স্বপ্নে আজ বড় পরীক্ষায় ব্রাজিল
- সৌদিতে প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা
- সংসদে অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
- আজ ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- সেমিনার, সম্মেলনসহ আজকের গুরুত্বপূর্ণ সব কর্মসূচি
- নেইমারকে নিয়ে সুখবর দিলেন আনচেলত্তি
- প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে সবুজায়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা
- আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় জানুন এক নজরে
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে
- বাংলাদেশ টেস্টসহ আজকের সব খেলার পূর্ণ সূচি
- হামলা থামাতে রাজি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, দোহায় বৈঠক
- ফাইনালের পথে সহজ সমীকরণ: আর্জেন্টিনার সামনে কি টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার হাতছানি?
- নাহিদ ইসলাম কোনো ব্যক্তি নয়, একটি ইতিহাস: ড. ইউনূস
- ঢাকাসহ দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের আসল কারণ সংসদে জানালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের 'মাস্টারমাইন্ড' কে? জাতীয় সংসদে বিএনপি-জামায়াতের তুমুল বিতর্ক
- দীর্ঘ ১০ বছরের লিভ-ইন সম্পর্কের পর অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
- দিনে-রাতে ২০ থেকে ৩০ বার লোডশেডিং, তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত
- দুই দফার বিদেশি হামলার ক্ষতিপূরণে হাজারো আইনি মামলা করার ডাক দিল ইরান
- টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত জাপান কি পারবে ব্রাজিলের জয়রথ থামাতে?
- ১৩তম থেকে সরাসরি ৯ম গ্রেড! প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য সংসদে বড় সুখবর
- পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনে বড় বদল: বাড়ছে শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানার পরিমাণ
- ই-চালান ও ভ্যাট সংস্কারে কি মিটবে রাজস্ব ঘাটতি? সংসদে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর বড় আশ্বাস
- সিরিক দ্বীপে মার্কিন বোমাবর্ষণ বনাম উপসাগরীয় ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন: কোন পথে মধ্যপ্রাচ্য?
- 'এ বছরই দেশে ফিরব' এনডিটিভি সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার বিস্ফোরক ঘোষণা
- ৪৮ দল থেকে টিকে রইল ৩২: দেখে নিন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের সম্পূর্ণ সূচি
- অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান: ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ
- ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ নাকচ করলেন নেতানিয়াহু
- হরমুজ ঘিরে নতুন উত্তেজনা, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির
- স্বর্ণের দাম ফের বাড়ল, ভরি এখন যত টাকায়
- রোববার ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ
- আজ কোথায় কী, দিনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি জানুন
- মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা
- ভারতে সোনার বাজারে নতুন সংকট, কেন বাড়ছে চোরাচালান?
- যুদ্ধবিরতি ঝুঁকিতে, ইরানে ফের মার্কিন হামলা
- মেসিকে বিশ্রাম দিয়ে কি বড় রেকর্ড হাতছাড়া করছে আর্জেন্টিনা? জর্ডান ম্যাচে নতুন ছক
- সমঝোতা ভাঙলেই 'দ্রুত ও চূড়ান্ত' জবাব: ওয়াশিংটনকে মোহসেন রেজাইয়ের কড়া আলটিমেটাম
- চাঁদ ও মঙ্গলে মানুষের স্থায়ী বসতি: ৩৭টি বেসরকারি সংস্থাকে নিয়ে নাসার মেগা প্রজেক্ট
- বুয়েটে ‘আবরার ফাহাদ’ হলের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী
- কুমিল্লা হোমনার লটিয়া গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি ৪টি কবরে দাফন
- জাপানের কাছে হারবে ব্রাজিল, কোয়ার্টারে বিদায় আর্জেন্টিনার! ‘বিশ্বকাপ গুরু’র নতুন বোমা
- এটি একটি বিপর্যস্ত বিশ্বকাপ ফিফা ও ইনফান্তিনোকে ধুয়ে দিলেন ইরানি অধিনায়ক
- বাংলাদেশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছে ভারত: চরমোনাই পীর
- নকআউটে ব্রাজিল, কবে-কোথায় ম্যাচ? প্রতিপক্ষ কারা
- বুধবার বন্ধ থাকবে যমুনা ফিউচার পার্কসহ যেসব মার্কেট
- ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ নাজিরপুরে মাদক নির্মূলে মানববন্ধন
- সোনার বাজারে ধ্বস, ১ লাখ ৮২ হাজার টাকায় মিলবে ভরি
- রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত
- ভূমিকম্পের আগেই ফোনে সতর্কবার্তা, যেভাবে চালু করবেন এই ফিচার
- মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা
- আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, জেনে নিন সব সময়
- মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আশুরার রোজা কেন এত ফজিলতপূর্ণ? জেনে নিন
- সৌদিতে যেতে পারবেন না ৩ দেশের ভ্রমণকারীরা
- ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ নাকচ করলেন নেতানিয়াহু
- হরমুজ ঘিরে নতুন উত্তেজনা, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির
- বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২: দ্বিতীয় রাউন্ডে যাদের বিপক্ষে খেলতে পারে আর্জেন্টিনা
- বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন গতি, বেইজিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক








