দায়িত্বের এক মাসেই একাধিক সিদ্ধান্তে আলোচনায় তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১০:৪৬:৫৭
দায়িত্বের এক মাসেই একাধিক সিদ্ধান্তে আলোচনায় তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেই সরকারের নেতৃত্বে আসেন। দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

সরকারের প্রথম দিককার উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় নেতাদের জন্য সরকারি সম্মানি চালু করা। গত ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের উপাসনালয়ের সেবকদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রদানের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এর ফলে দেশের হাজার হাজার মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের পাশাপাশি মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধ বিহারের সেবকরাও প্রথমবারের মতো সরকারি সহায়তার আওতায় আসেন। সরকার এটিকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যেও সরকার বড় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সরকারের আরেকটি আলোচিত কর্মসূচি হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’। নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তা ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেন। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও ঘোষণার পর অনেকের মতে এটি সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

কৃষি খাতকে সহায়তা দেওয়ার জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আগামী পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে পরীক্ষামূলকভাবে আটটি জেলার নয়টি উপজেলায় এই কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২৫ হাজার কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও কিছু নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে দলটির কোনো সংসদ সদস্য শুল্কমুক্ত গাড়ি বা সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নিজেও ভিআইপি প্রটোকল কমিয়ে সাধারণ ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেন। রাজধানীতে জনভোগান্তি কমানোর উদ্দেশ্যে তার গাড়িবহরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।

এ ছাড়া জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের শীর্ষ আলেম, ইসলামি অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যারা জাকাত ব্যবস্থাপনার আধুনিক কাঠামো নিয়ে কাজ করবে। সরকার মনে করছে, কার্যকর জাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আচরণও আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক তাকে ‘মাননীয়’ সম্বোধন করলে তিনি বিনয়ের সঙ্গে এই শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি প্রশাসনে সরলতা ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত বহন করে।

এদিকে পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক বার্তায় তিনি বলেন, এই মহিমান্বিত রাত মানবজাতির জন্য রহমত, ক্ষমা ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে আসে এবং দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও অগ্রগতির জন্য দোয়া করেন।

খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আজ দিনাজপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকায় ১২ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ উদ্বোধন করবেন এবং ভার্চুয়ালি দেশের ৫৩টি জেলার খাল পুনঃখনন কর্মসূচির সূচনা করবেন। সফরকালে তিনি দিনাজপুর শহরে পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে আত্মীয়স্বজনদের কবর জিয়ারত করবেন এবং স্থানীয় সুধীজন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। সৈয়দপুরসহ আশপাশের এলাকায় তাকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি খালের পাড় সংরক্ষণ, বাঁধ নির্মাণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত হয় এবং কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয়।

-রফিক


তারেক রহমানকে নিয়ে সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৮:৫২:৪৫
তারেক রহমানকে নিয়ে সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

জাপান সফরে আমজনতা পার্টির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানকে সফরসঙ্গী করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে জাপানের টোকিওতে হোটেল নিউ ওতানির হলরুমে বাংলাদেশ কমিউনিটি জাপান আয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা না করে কেবল একজন ব্যক্তিকে ঘিরে সমালোচনার বিষয়ে সরকারপ্রধান তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গত দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা কথা বলা হচ্ছে এবং তার কোনো অবদান নেই কিংবা সরকারি অর্থ অপচয় হয়েছে বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা অত্যন্ত আশ্চর্যজনক।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে আমজনতা পার্টির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, একটি মহল তাকে হেয় করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রীয় সম্মানপ্রাপ্তি সহ্য করতে পারছে না।

বুধবারের সভায় দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় প্রবাসীদের বিদেশের মাটিতে দেশের একেকজন মূল প্রতিনিধি হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, জাপান সফরকালে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব, সরকার ও ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। তবে এই বিনিয়োগ দ্রুত দেশে নিয়ে আসতে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জাপানি ভাষা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিশেষে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে দেশের প্রতিটি শিশুর সুশিক্ষা, চিকিৎসা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, স্বাবলম্বী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রবাসীদের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন তিনি। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রী-উপদেষ্টাগণ, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জাপান বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৮:২৩:১৭
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলেছে এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দেশটিতে কর্মী পাঠানো শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর। বুধবার (২৮ অক্টোবর) উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘অনিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং সাব-এজেন্টের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক অভিবাসন সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারি জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে এবং ১ নভেম্বর থেকে তালিকাভুক্ত কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কর্মীরা মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ৩৩৮টি বড় লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে এবং তাদের চাহিদাপত্র এফডব্লিউসিএমএস ও বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সত্যায়ন করা হচ্ছে। দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া কোনো চাহিদাপত্র গ্রহণ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। বোয়েসেলের মাধ্যমে প্রথম ধাপে পাঠানো ১০ হাজার কর্মীর ক্ষেত্রে বিমান ভাড়া, মেডিকেল ও সার্ভিস চার্জ মিলিয়ে মোট ব্যয় ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে। অন্যদিকে, বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে পাঠানোর খরচ সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি থাকবে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত তালিকার বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করাতে এবং আর্থিক লেনদেনের পূর্বে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করার জন্য কর্মীদের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


বাংলাদেশের ৫ খাতে জাপানি বিনিয়োগের বড় প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৭:৪৪:৫৪
বাংলাদেশের ৫ খাতে জাপানি বিনিয়োগের বড় প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

টোকিওর জেট্রো হলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম ডায়ালগ’-এ প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর অন্যতম ছিল জাপান এবং বিগত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে। পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাপান সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুদৃঢ় হওয়ার কথা স্মরণ করে তিনি দুই দেশের এই ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি কাজ করলেও দেশটিতে জাপানের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ এখনও ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের নিচে রয়েছে। গত অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রফতানি ১.৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং জাপান থেকে আমদানি ২.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল উল্লেখ করে তিনি এই সম্পর্ককে কেবল উন্নয়ন সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি, দুই দেশ সম্প্রতি একটি ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে, যা বাংলাদেশের জন্য কোনো দেশের সাথে স্বাক্ষরিত প্রথম এ ধরনের চুক্তি। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৭,৩৭৯টি পণ্য জাপানে এবং স্টিল, অটোমোটিভ পার্টস ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশের ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাজার, গড় বয়স ২৭ বছরের তরুণ জনশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে বড় সুবিধা হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ভোক্তা অর্থনীতির একটিতে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে তিনি অটোমোটিভ উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ—এই মূল পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক খাতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় আকারের বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন। অটোমোটিভ খাতে বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের বিষয়ে টয়োটার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন।

জ্বালানি খাতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাপানের ‘জেরা’র সাথে কাজ করছে। প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতার বিষয়ে তিনি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিক্স এবং ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিংকে গুরুত্ব দিয়ে একটি ‘বাংলাদেশ-জাপান টেকনোলজি পার্ক’ এবং উদ্ভাবন-কেন্দ্রিক আইটি পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান। সেই সাথে জাপান স্পেস সায়েন্স ও স্যাটেলাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মহাকাশ সক্ষমতা জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

রেল ও লজিস্টিকস খাতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালসহ প্রধান শহরগুলোকে যুক্ত করে আধুনিক ও দ্রুতগতির উন্নত রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনায় জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হবে বলে জানান তিনি। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে সুমিতোমো কর্পোরেশন দ্বারা জাপানি মানে উন্নত আড়াইহাজারের ‘বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন’-এ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জাপানি কোম্পানিগুলোর নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, দক্ষ অবকাঠামো এবং সহজ কাস্টমস ও কর ব্যবস্থার উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এসব সমাধানে কাজ করছে এবং ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শেখানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দক্ষ পেশাদার গড়ে তোলার মাধ্যমে উভয় দেশের কর্মসংস্থানের চাহিদা মেটানোর কথা তিনি জানান।

যৌথভাবে এই ফোরামের আয়োজন করে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (জেবিসিসিইসি) এবং জাপানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। অনুষ্ঠানে জেট্রো সভাপতি সুসুমু কাতাওকা সূচনা বক্তব্য দেন এবং জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি ভাইস-মিনিস্টার শিনজি ওয়াকায়ামা অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানির ঢাকা শাখার জেনারেল ম্যানেজার কেনইচিরো কাওয়ামোতো, ওয়াইকেকে কর্পোরেশনের গ্লোবাল সেলসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেইসুকে আরাতানি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য ও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

/আশিক


বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জাপানের জোরালো সমর্থনের ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ২৩:৪৩:৩৪
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জাপানের জোরালো সমর্থনের ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে টোকিওতে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বাংলাদেশের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধে বিশ্বাসী বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে অভিহিত করে তাকাইচি বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্তকারী কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ জাপানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

টোকিওতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী তার অফিসিয়াল ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানান এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের জাতি গঠনমূলক উদ্যোগগুলোর প্রতি জাপানের জোরালো সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে উভয় নেতা পারস্পরিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়াতে ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। এই উদ্যোগটিকে পরবর্তীতে ‘শেয়ারিং প্রসপারিটি বিগ-বি’ নামক একটি নতুন কৌশলগত সহযোগিতা কাঠামোয় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ১৭ কোটি মানুষের বিশাল ও তরুণ জনগোষ্ঠীর বাজার হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও বৈঠকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে দেশটির প্রতি জাপানের অবিচল সমর্থন ও বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে জাপানি অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধি বজায় রাখতে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করে যাবেন।

/আশিক


ক্রসফায়ার বা কাস্টডিয়াল ডেথ সরকার সহ্য করবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ২০:৪৪:২৮
ক্রসফায়ার বা কাস্টডিয়াল ডেথ সরকার সহ্য করবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’সংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয়ে তাকে সরাসরি নাকচ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন যে আইজিপির এ ধরনের মন্তব্য করা একদমই ঠিক হয়নি এবং উচিত হয়নি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির একজন সহজ-সরল মানুষ এবং মূলত আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয় বোঝাতে গিয়ে তিনি অসতর্কতাবশত ওই কথাটি বলে ফেলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ারের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। সরকার কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (কাস্টডিয়াল ডেথ) বরদাশত করবে না এবং এ বিষয়ে প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুদৃঢ় উন্নয়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন যে, এখন পর্যন্ত দেশে ক্রসফায়ার বা হেফাজতে মৃত্যুর মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে অপরাধ দমন এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত সোমবার রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির মন্তব্য করেছিলেন যে, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। তিনি সে সময় আরও বলেন যে পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ তাদের ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে ‘দুর্বল’ বলে আখ্যায়িত করে, তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে।

আইজিপির এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গন ও মানবাধিকার মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী যুবদলের এক অনুষ্ঠানে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন যে, দীর্ঘকাল গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা দলের সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে পুলিশপ্রধানের মুখে এমন বক্তব্য অত্যন্ত বিব্রতকর ও ভাবনার বিষয়।

পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। তীব্র সমালোচনার মুখে গত সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকেও একটি আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সেই ব্যাখ্যায় দাবি করা হয়েছিল যে, আইজিপি মূলত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি; বরং অপরাধ দমনে আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়টি বোঝাতেই তিনি রূপক অর্থে শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।

সূত্র: প্রথম আলো


গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ২০:২৯:৫৫
গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন
ছবি : সংগৃহীত

গ্রিড বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক অফিসিয়াল বার্তার মাধ্যমে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটি।

গঠিত এই কমিটির প্রধান বা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের সঞ্চালন-২ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলী। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে মূলত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মূল নেপথ্য কারণগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সফলভাবে প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে রাজধানী ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের একাংশে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যার ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে চরম ভোগান্তি ও বিদ্যুৎ বিঘ্ন ঘটে। এই ঘটনার পরপরই দ্রুত জাতীয় গ্রিডের জরুরি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিরলস প্রচেষ্টার পর একই দিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জাতীয় গ্রিডের সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার কাজ সফলভাবে শেষ হয়। এরপর গ্রিড লাইন ও উপকেন্দ্রগুলো সচল রেখেই ধাপে ধাপে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক করে আনা হয়।

/আশিক


পর্যটকদের জন্য বড় স্বস্তি: সেন্টমার্টিনে রাতে থাকতে আর বাধা নেই

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ২০:২১:১৭
পর্যটকদের জন্য বড় স্বস্তি: সেন্টমার্টিনে রাতে থাকতে আর বাধা নেই
ছবি : সংগৃহীত

সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের রাতযাপন এবং ভ্রমণসংক্রান্ত আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করেছে সরকার। নতুন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু করে আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন দ্বীপটিতে ভ্রমণের পাশাপাশি রাতেও নিরাপদে থাকতে পারবেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই সংশোধিত নির্দেশনা জারি করা হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান যে, নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে সেন্ট মার্টিনে রাত্রিযাপন নিয়ে পূর্বে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা আনুষ্ঠানিকভাবে সংশোধন করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ওই পুরো সময়জুড়েই পর্যটকেরা দ্বীপে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত রোববার মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় যে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছিল, তাতে গত বছরের ২২ অক্টোবর জারি করা পুরোনো প্রজ্ঞাপনের নিয়ম বহাল রাখা হয়েছিল। ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা কেবল দিনের বেলা সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করে একই দিনে ফিরে আসতে পারবেন এবং কেবল ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দ্বীপে রাতে থাকার অনুমতি থাকবে—এমন বিধান থাকায় পর্যটক, হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ী এবং জাহাজমালিকদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরবর্তীতে গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং সরকারের নজরে আসার পর এই সংশোধিত সিদ্ধান্ত এল।

নতুন সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পর্যটকদের জন্য অন্যান্য যেসব নিয়ম বহাল থাকছে তার মধ্যে রয়েছে

আগের নিয়মের মতোই কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকেই পর্যটকবাহী জাহাজগুলো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

দ্বীপের পরিবেশ রক্ষার্থে এবার পর্যটক যাতায়াতের দৈনিক সর্বোচ্চ সীমা বা কোটা বাড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণকারী প্রতিটি পর্যটককে বাধ্যতামূলকভাবে ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি প্রদান করতে হবে।

দ্বীপে যাতায়াতের জন্য আগের মতো এবারও পর্যটকদের নির্দিষ্ট ‘ট্রাভেল পাস’ সংগ্রহ করতে হবে।

/আশিক


ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার দুই নেতার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১৮:০৪:২৩
ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার দুই নেতার
ছবি : সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারে নিহিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’-এ দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে তিনি এই কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্নে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং এই সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপ চালুর আহ্বান জানান। পাশাপাশি, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপান যে সহযোগিতা প্রদান করে আসছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

উভয় নেতার বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও বেশি সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথমসারির স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর অন্যতম। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে অবিরাম ভূমিকা পালন করে আসছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন ভিত্তির ওপর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুই দফা জাপান সফর এবং তাঁর মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে জাপানে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

/আশিক


স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা চাইলেন ডা. জুবাইদা রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১৭:৫৮:৪৮
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা চাইলেন ডা. জুবাইদা রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য গবেষণা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামোর উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে স্থানীয় সময় বিকেলে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক স্বাস্থ্যবিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

ডা. জুবাইদা রহমান তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষাকে তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে। দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, সরকারি খাতের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা, নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা করা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ আরও প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে বর্তমান প্রশাসন নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তার, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার সুযোগ বৃদ্ধি, পরিবারভিত্তিক সামাজিক সহায়তা প্রদান এবং ফ্যামিলি কার্ড চালুর মতো যুগান্তকারী উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবাকে নিজের পেশাগত ও ব্যক্তিগত আগ্রহের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। বাংলাদেশ ও জাপানের ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দিন দিন আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। দুই দেশের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা, অর্জিত জ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতের সমসাময়িক নানা নতুন চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করার অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের সঠিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ এবং জাপান উভয় রাষ্ট্রই গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই মহৎ লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি টেকসই সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, শক্তিশালী অর্থনীতি নির্মাণ, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং মানুষকে দারিদ্র্য ও সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাপী আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধির বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য কূটনীতির অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য কূটনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। বাংলাদেশে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং জনকল্যাণমূলক ফাউন্ডেশনগুলোর অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশে একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজের দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সঠিক ও সময়োপযোগী স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্য খাতের গবেষণার অগ্রগতি এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। শিশুসহ দেশের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন যে প্রশংসনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি এবং বাংলাদেশে এই সংস্থার কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলায় আরও বেশি অর্থায়ন এবং সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানান।

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, মানুষের সুস্বাস্থ্য রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত যেকোনো ইতিবাচক পদক্ষেপে বাংলাদেশ সরকার পূর্ণ আন্তরিকতা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

উল্লেখ্য, জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়াসহ বাংলাদেশ ও জাপানের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: